ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৩৮তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা

পর্ব ৩৮

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

রাতের নিস্তব্ধতা যখন মিলান শহরের প্রতিটি ধূলিকণাকে গ্রাস করেছে, ঘড়ির কাঁটা তখন একটার ঘরে। আকাশের বুক চিরে এক ফালি বিবর্ণ চাঁদ মেঘের আড়ালে মুখ লুকিয়ে আছে, যেন এই অকাল দ'হনের সাক্ষী হতে তার বড্ড অনীহা। সাইলাস অত্যন্ত চতুরতায় ম্যানশনের গার্ডদের মনোযোগ সরিয়ে নাইলাকে সেই গুমোট বেজমেন্টের থেকে বের করে এনেছে।

নাইলার অ'বশ শরীরে এখন এক অলৌকিক স্পন্দন তার পাংশুটে মুখে অন্ধকারের চাদর ফুঁ'ড়ে এক ক্ষীণ আশার আলো ঝিকমিক করছে। তবে কি এই ধ্বং'সস্তূ'পের মাঝেও জীবনের কোনো নতুন অধ্যায় অঙ্কুরিত হতে যাচ্ছে?

তারা দুজন মিলে প্রাচীন সেই গথিক চার্চের প্রাঙ্গণে পা রাখল। চার্চের বিশাল মেহগনি দরজাটা খুলে যেতেই ভেতর থেকে ধূপ আর মোমের ঘ্রাণ নাইলার নাসারন্ধ্রে এসে আঘাত করল। দীর্ঘ ও সরু করিডোরের দু-পাশে জ্বলতে থাকা মোমের আলোগুলো থরথর করে কাঁপছে।

বেদীর সামনে জরাজীর্ণ পোশাকে যাজক আগে থেকেই দাড়িয়ে ছিলেন। তাঁর গভীর চোখের কোটরে যেন হাজার বছরের ইতিহাস জমাটবদ্ধ। সাইলাস আর নাইলা ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তির নিচে গিয়ে দাঁড়াল।

যাজক তাঁর ভারী আর গম্ভীর স্বরে বিয়ের পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করলেন। লাতিন শব্দের সেই গম্ভীর প্রতিধ্বনি চার্চের উঁচু সিলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছিল। নাইলার হাত দুটো সাইলাসের শক্ত মুঠোয় বন্দি ।সেই স্পর্শ আজ এক আদিম আশ্রয়ের মতো উষ্ণ।

যাজক বাইবেলে হাত রেখে সেই অমোঘ ঘোষণাটি করলেন,

"In the presence of God, I join you in holy matrimony. Do you promise to love and cherish each other, in sickness and in health, in joy and in sorrow, until death do you apart?"

সাইলাস কোনো দ্বিধা ছাড়াই স্থির চোখে নাইলার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,

"I do."

নাইলার কণ্ঠনালীতে এক দলা কান্না আটকে ছিল, সে কোনোমতে বিড়বিড় করে উঠল,

"I do."

যাজক তাঁর হাত উত্তোলিত করে বললেন,

"By the power vested in me, I now pronounce you husband and wife. You may kiss the bride."

সাইলাস ধীরে ধীরে নাইলার দিকে ঝুঁকে এল। চারদিকের মোমবাতিগুলো যেন এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। নাইলা চোখ বন্ধ করল। সে এক অদ্ভুত আচ্ছন্নতায় অপেক্ষা করছিল সেই অন্তিম মোহরের জন্য। সাইলাস তার ত'প্ত ঠোঁট নাইলার ও'ষ্ঠাধ'রে নয় বরং তার কপালে স্পর্শ করল। সেই চুম্বনে কোনো কামনার লালসা ছিল না বরং ছিল এক রক্তাক্ত অঙ্গীকার। এক বি'শ্বাসঘাতক আর এক ঘা'তকের আত্মা আজ এই পবিত্র বেদীর সামনে এক সুতোয় গেঁথে গেল।

__________

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সমুদ্রের বিশাল বুক চিরে তাদের ইয়াটটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আদিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি যেন এক রহস্যময় আয়নার মতো আকাশের অন্ধকারকে বুকে ধরে রেখেছে। আজ মার্কো ইয়াটটি নিয়ন্ত্রণ করছে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর দিকনির্ণয়ে এই দলেও সেই সবচাইতে পারদর্শী তাদের মধ্যে মার্কোই শুধু ইয়াট নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতক্ষণ সাইলাস নিচতলায় মার্কোর পাশেই ছিল, তাদের মধ্যে অতি সংক্ষেপে কিছু প্রয়োজনীয় কথা হয়েছে। নিঃশব্দে সিড়ি বেয়ে সাইলাস এবার ইয়াটের উপরিভাগের ডেকে উঠে এল।

সেখানে নাইলা দাঁড়িয়ে আছে। সমুদ্রের বাতাসে তার অবিন্যস্ত চুলগুলো দুলছে । নাইলার পরনে বিবর্ণ পোশাক থাকলেও তার চেহারায় এখন স্তব্ধতা। সাইলাস অত্যন্ত ধীর পায়ে তার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল এবং অতি সন্তর্পণে নাইলার কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের বুকের উষ্ণতায় টেনে নিল। নাইলা এক মুহূর্তের জন্য চমকে উঠল, তার হৃৎপিণ্ডটা সজোরে একটা ধাক্কা খেল কিন্তু পরক্ষণেই সে নিজেকে শান্ত করল।

নাইলার কাছে এই মুহূর্তটি এখনো এক বিভ্রম বলে মনে হচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে তার মনে বারবার এক সংশয় জেগে উঠছে এটা কি কোনো সুখস্বপ্ন? সে কি তবে কোনো আচ্ছন্নতায় সেই গুমোট বেজমেন্টের ধুলোবালির মধ্যেই পড়ে আছে?

গুমোট সেই অন্ধকূপ থেকে এই মুক্ত সমুদ্রের নীল নোনা বাতাস সবকিছুই যেন তার কাছে এক অলৌকিক প্রহেলিকা। সে ভয় পাচ্ছে, পাছে চোখ মেললেই এই মায়াবী দৃশ্যপট চুরমার হয়ে যায় এবং সে নিজেকে আবার সেই শি'কলব'ন্দি অবস্থায় দেখতে পায়।

সাইলাস নাইলার কাঁধের ওপর মাথা রাখল। নাইলার ঘাড়ের সাদা চামড়ায় সাইলাসের তপ্ত নিশ্বাস আ'ছড়ে পড়ছে। হঠাৎ সাইলাস নাইলার গ্রীবায় এক অত্যন্ত কোমল ও নিবিড় চু'ম্বন এঁকে দিল। সেই অতর্কিত স্পর্শে নাইলা শিউরে উঠল। তার শরীরের প্রতিটি কোষে এক অজানা শিহরণের ঢেউ বয়ে গেল। এই মমতা এই নিবিড় অধিকারবোধ তার কাছে বড় অপরিচিত।

সাইলাস অত্যন্ত নিবিড় স্বরে নীরবতা ভাঙল। তার কণ্ঠস্বর যেন রাতের বাতাসের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেল।

"এত বিষণ্ণ দেখাচ্ছে কেন তোমায়?"

নাইলা দীর্ঘক্ষণ উত্তাল জলরাশির দিকে তাকিয়ে থেকে অস্ফুট স্বরে উত্তর দিল,

"কেন যেন মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি সাইলাস। এই মুক্তি এই তুমি সবই যেন ভোরের আলো ফুটলে মিলিয়ে যাবে।"

সাইলাস নাইলার গালে আরও একবার ঠোঁট ছুঁইয়ে গাঢ় স্বরে বলল,

"এটা বাস্তব। লিটল ফিয়েরা।"

নামটা শুনেই নাইলা চট করে ঘুরে সাইলাসের মুখোমুখি দাঁড়াল। সে ভ্রু কুঁচকে বলল,

"মিথ্যুক!"

সাইলাস একটু অবাক হলো। নাইলা ম্লান হেসে বুঝিয়ে দিল,

"লিটল ফিয়েরা মানে তো ব'ন্য পশু , তাই না?"

সাইলাস এবার মৃদু হাসল, যা তার মতো কঠোর মানুষের মুখে সচরাচর দেখা যায় না। সে নাইলার চিবুক স্পর্শ করে বলল,

"হুম। ওইটা সবার জন্য এক অর্থ হতে পারে কিন্তু আমার ডিকশনারিতে এটার মানে আলাদা। আমার কাছে লিটল ফিয়েরা মানে আমার সেই ছোট্ট বাঘিনী, যে বুনো চপলতায় আমার সমস্ত পৃথিবী ওলটপালট করে দিতে পারে।"

নাইলার ওষ্ঠাধরে আবারও সেই মায়াবী হাসির রেখা ফুটে উঠল। সাইলাস তার চোয়াল আলতো করে ধরল, দুজোড়া চোখ এক অদ্ভুত মায়ার বাঁধনে আটকে গেল কয়েক মুহূর্তের জন্য। নাইলা লক্ষ্য করল, সাইলাসের ধূসর চোখে এক গভীর বি'ষণ্ণতা খেলা করছে, যার তল পাওয়া তার সাধ্যের বাইরে। সাইলাস হঠাৎ দৃষ্টি সরিয়ে আকাশের অগণিত তারার দিকে তাকিয়ে কী যেন মনে করার চেষ্টা করল।

"সেদিন কী যেন বলছিলে?" সাইলাস জিজ্ঞেস করল।

নাইলা একটু অবাক হয়ে তাকাল। "কী?"

"ওই যে বৃষ্টির ঘটনার দিন। একটা গানের কথা বলছিলে।"

নাইলা একটু ভেবেই স্মৃতির পাতা হাতড়ে পেল।

"ও আচ্ছা, মনে পড়েছে! তুমি কি শুনতে চাও?"

সাইলাস নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। নাইলা সাইলাসকে ইয়াটের ডেক এর ওপর বসতে বলল। মাথার ওপর অনন্ত নক্ষত্রখচিত আকাশ, আর নিচে উত্তাল নীল সমুদ্র এমন এক পরিবেশে নাইলা সাইলাসের ফোনে তার প্রিয় গানটি প্লে করে তাদের মাঝখানে রেখে দিল। নাইলা একবার সাইলাসকে বলেছিল, এই গানটি সে যখনই শুনত, কল্পনা করত কোনো এক তারাবরা আকাশের নিচে বসে সে তার প্রিয় মানুষের সাথে এটি শুনছে। আজ সেই কল্পনা বাস্তব হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে।

গানের সুর লহরী শুরু হলো, আর সেই সুর যেন অন্ধকার সমুদ্রের বুকে এক অলৌকিক মাদকতা ছড়িয়ে দিল। তারা দুজনেই গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগল,

You know I want you

It's not a secret I try to hide

I know you want me

So don't keep sayin' our hands are tied

গানের প্রতিটি শব্দ যেন তাদের দুজনের হৃদয়ের না বলা কথাগুলোই বলে দিচ্ছিল। নাইলা নিঃশব্দে সাইলাসের কাঁধের ওপর মাথা রেখে একটু ঝুঁকে এল। তাদের দুটি হৃদপিণ্ড যেন একই ছন্দে স্পন্দিত হচ্ছে।

What if we rewrite the stars?

Say you were made to be mine

Nothing could keep us apart

You'd be the one I was meant to find

বাতাসের ঝাপটায় নাইলার চোখের কোণ ভিজে এল। এই গানের সুর যেন তাদের এই নিষিদ্ধ ভালোবাসাকে এক পূর্ণতা দিচ্ছিল।

All I want is to fly with you

All I want is to fall with you

ঠিক এই লাইনটির মাঝপথেই হঠাৎ সাইলাস যেন এক বৈ'দ্যুতি'ক শ'ক খেয়ে সজাগ হয়ে উঠল। তার শরীর আ'ড়ষ্ট হয়ে গেল। নাইলা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাইলাস ঝট করে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। কোনো কথা না বলে, কোনো দিকে না তাকিয়ে সে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচের কেবিনের দিকে নেমে গেল।

নাইলা স্তব্ধ হয়ে সেই দিকে চেয়ে রইল। তার শরীরের রক্ত যেন এক মুহূর্তে হিম হয়ে গেল। এই মাত্র কী হলো?

মুহূর্তকাল পরেই সিঁড়িতে বুটের কর্কশ শব্দ শোনা গেল। নাইলা দেখল সাইলাস আবার ওপরে উঠে আসছে, কিন্তু এবার তার ডান হাতে ধরা একটি পি'স্ত'ল। নাইলা উঠে দাঁড়াল। সাইলাসের চোখ দুটো র'ক্তব'র্ণ হয়ে আছে, ল'লাটের শিরাগুলো উ'ত্তেজ'নায় ফু'লে উঠেছে। তার প্রতিটি নিশ্বাস কোনো এক আ'হত প'শুর মতো তপ্ত। নাইলা চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো। সে কেবল অপলক দৃষ্টিতে সাইলাসের এই রূপের দিকে তাকিয়ে রইল। ইয়াটের ডেকে সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে এক বী'ভৎ'স নিস্তব্ধতা নেমে এল।

সাইলাস ফুঁ'সতে ফুঁ'সতে নাইলার একদম সামনে এসে দাঁড়াল। তার হাতের পি'স্ত'লটি কাঁপছে। সে আ'র্তনা'দের মতো স্বরে বলতে শুরু করল,

"বস... বস সেদিন আমাকে আনুগত্য আর ভালোবাসার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলেছিলেন। আমি এক মুহূর্ত দেরি না করে বসের চরণে আমার আনুগত্য বি'সর্জ'ন দিয়েছি। তিনি যখন জিজ্ঞেস করলেন তোমার আর তাঁর মধ্যে আমি কাকে বেছে নেব, আমি বলেছি অবশ্যই তাঁকে"

নাইলার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। পাঁ'জরের হা'ড়গুলো যেন গুঁ'ড়ি'য়ে যাচ্ছে। সাইলাসের চোখের মণি দুটোতে এখন প্রল'য়ংক'রী আ'গুন। সে উ'ন্মত্তের মতো চিৎকার করে উঠল,

"রিভেন আরওয়াইনের জন্য আমি ন'রকের অ'গ্নিকু'ণ্ডে ঝাঁ'প দিতে পারি। তিনি আমাকে এই জগত চিনিয়েছেন, আমাকে ক্ষমতা দিয়েছেন। ছোটবেলায় আমি কত লা'ঞ্ছনা, কত অপমানের শি'কার হয়েছি তা তুমি জানো না নাইলা। কিন্তু তিনি আমার হাতে অ'স্ত্র তুলে দেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পায়নি"

সাইলাস থামল। তার হৃ'দপিণ্ডের ধকপকানি যেন ইয়াটের ইঞ্জিনকেও হার মানাচ্ছে। সে দাঁতে দাঁত চেপে আবার বলল,

"তোমার সাথে আমার পরিচয় মাত্র কয়েক মাসের। আমি এমনকি জানিও না তোমার প্রতি এই যে এক স'র্বনা'শা টান আমি অনুভব করি, তার নাম কী? তুমি আমার কাছে এক ধাঁধা নাইলা অ্যাশফোর্ড!"

নাইলার দুচোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। সে কম্পিত স্বরে প্রশ্ন করল,

"তবে... তবে আমাকে বিয়ে করেছিলে কেন সাইলাস? কেন এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করলে?"

কথাটা শুনেই সাইলাস এক উ'ন্মাদ প'শুর মতো আচরণ শুরু করল। সে তার বাঁ হাত দিয়ে নিজের অবিন্যস্ত চুলগুলো খা'মচে ধরল, তার চেহারায় এক চরম হতাশা আর য'ন্ত্রণার ছাপ। সে আ'র্তনাদ করে বলতে লাগল,

"গড! আমি জানি না নাইলা! আমি সত্যিই জানি না কেন আমি নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছি"

সে উ'ন্মাদের মতো আচরণ করতে করতে হাটু গেড়ে বসে পড়লো ।সাইলাসের হাত থেকে পি'স্ত'লটা সশব্দে মেঝের ওপর পড়ে গেল। সাইলাসের সেই র'ক্তাভ চোখ থেকে এবার বাঁধভাঙ্গা অশ্রুর প্লাবন নেমে এল এক দু'র্ধর্ষ ঘা'তকের এই অসহায়ত্ব যেন ওই অন্ধকার সমুদ্রের চেয়েও গভীর।

"সব ওলটপালট করে দিয়েছো তুমি নাইলা। আমার সুশৃঙ্খল, র'ক্তমা'খা জীবনটাকে এক নিমেষে ছা'রখা'র করে দিয়েছো!"

সাইলাস চিৎকার করে উঠল, তার কণ্ঠে এক আদিম আর্তি। সে টলতে টলতে এগিয়ে গিয়ে নাইলার দুবাহু এমনভাবে চেপে ধরল যে নাইলার মনে হলো তার হা'ড়গুলো এখনই গুঁ'ড়ি'য়ে যাবে।

"একটা বুলেট... তোমাকে শেষ করার জন্য আমার বা'রাটা'র একটা বুলেটই যথেষ্ট ছিল। ব'ন্দু'কটা তাক করে তোমার ওই ক'পালে একটা ট্রি'গার চা'পলেই আমার আনুগত্য রক্ষা পেত। কিন্তু আমি পারলাম না। আমার আঙুলগুলো আজ আমার অবাধ্য হয়ে গেছে"

সাইলাস নাইলার কাঁ'ধ ধরে প্রচণ্ড জোরে ঝাঁ'কুনি দিতে লাগল। তার চেহারায় এক পৈ'শাচিক ঘৃ'ণা আর অপ্রতিরোধ্য প্রেমের এক প্রতিচ্ছবি।

"তোমার জন্য । শুধু তোমার জন্য আজ আমি নিজের আয়নার সামনে দাঁড়ানোর যোগ্যতা হারিয়েছি। বিশ্বাস করেছিলাম তোমাকে, নাইলা। ভেবেছিলাম এই অন্ধকার জগতে তুমিই হয়তো একমাত্র ধ্রুবতারা।বলেছিলে ভালোবাসো আমাকে তাহলে পিছু হটলে না কেন ?"

নাইলা ফুঁ'পিয়ে কেঁদে উঠল। তার কান্নার শব্দ সমুদ্রের গর্জনের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেল। সে তাকাতে পারছে না কেবল সাইলাসের সেই ইস্পাতকঠিন হাতের মুঠোয় বন্দি হয়ে নিজের সবটুকু শ'ক্তি হা'রিয়েছে। নাইলা কাঁপতে কাঁপতে অস্ফুট স্বরে বলল,

"আমি... আমি জানতাম না সাইলাস। আমি জানতাম না যে প্র'তিশো'ধের আ'গু'নে ঝাঁ'প দিতে গিয়ে আমি এমন এক হৃদয়ের দেখা পাব যেখানে আমার নিজের অস্তিত্বই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। আমি তোমাকে ভালোবাসার কথা বলেছিলাম, কারণ ওটাই ছিল আমার জীবনের একমাত্র সত্য।আমি পিছু হটতে চেয়েছিলাম, বহুবার চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি ওই মুখোশধারী লোকগুলো... তারা আমাকে এক অদৃশ্য ম'রণফাঁ'দে বেঁ'ধে রেখেছিল। তারা রোজেলিয়াকে চেয়েছিল, আর আমি... আমি চেয়েছিলাম প্রতিশোধ ।আমি যে র'ক্তে'র ঋ'ণে আটকা পড়েছিলাম"

নাইলার অ'শ্রুসিক্ত কণ্ঠস্বর সাইলাসের বুকের ভেতরের সেই জমাটবদ্ধ পাথরটাকে যেন গলিয়ে দিচ্ছে। সাইলাস তাকে আর একটু জোরে ঝাঁ'কুনি দিয়ে গর্জে উঠল,

"র'ক্তে'র ঋ'ণ? আর আমার এই বিশ্বাসের ঋণের কী হবে নাইলা? যে সাইলাস কোনোদিন কোনো নারীর সামনে মাথা নোয়ায়নি, সেই সাইলাসকে তুমি এক তুড়ি মেরে নিজের হাতের পুতুল বানিয়ে দিলে। বস যদি আজ জানতে পারেন আমি তাঁর আমানতের সাথে বেইমানি করে তোমায় বিয়ে করেছি, তবে ওনার চোখে আমি আর কোনোদিন তাকাতে পারব না। তুমি আমাকে এক জী'ব'ন্ত লা'শে পরিণত করেছ"

সাইলাস এবার নাইলার বাহু ছেড়ে দিয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। তার পা দুলে উঠছে। সে মেঝেতে পড়ে থাকা পি'স্ত'লটার দিকে একবার তাকাল, তারপর তাকাল আকাশের অগণিত তারার দিকে। তার চোখের সেই র'ক্তিম আভা এখন এক গভীর ক্লান্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সে আকাশের দিকে হাত তুলে এক বুক আর্তনাদ করে বলল,

" আমাদের জগতের আইন বলে যে বি'শ্বাসঘা'তককে ক্ষমা করে সে নিজেই একজন বি'শ্বাসঘা'তক।আজ আমি বসের কাছে একজন বি'শ্বাসঘা'তক, আর নিজের কাছে এক ঘৃ'ণিত অপরাধী। অথচ এই মুহূর্তেই আমি তোমাকে শেষ করে দিতে পারি, র'ক্তে রা'ঙিয়ে দিতে পারি এই সমুদ্র... কিন্তু আমার আঙুল ট্রি'গার ছোঁ'য়ার আগেই আমার ক'লিজা'টা যেন ছিঁ'ড়ে বে'রিয়ে আসছে"

নাইলা এবার সাইলাসের দিকে এগিয়ে এলো।

সে সাইলাসের হাতের ওপর নিজের কাঁপা হাত দুটো রাখল। সাইলাসের আঙুলগুলো বরফের মতো শীতল। নাইলা হাহাকার করে বলল,

"আমাকে মেরে ফেলো সাইলাস ।এই অনিশ্চয়তা এই ভালোবাসার নামে তিলে তিলে জ্ব'লে যাওয়ার চেয়ে একটি বু'লে'টের আ'ঘাত অনেক বেশি দয়ালু। কেন আমাকে বাঁচিয়ে রেখে নিজের আনুগত্যকে ক'লঙ্কি'ত করছ? মারো আমাকে"

সাইলাস নিজের হাতের গ্রিপ আরও শক্ত করল, তার ললাট দিয়ে ঘাম চুইয়ে পড়ছে। সে দাঁতে দাঁত চেপে, অত্যন্ত য'ন্ত্রণা'কা'তর এক জা'ন্তব স্বরে বিড়বিড় করে উঠল,

"আমি পারছি না নাইলা। এই প্রথম সাইলাসের হাত কাঁ'পছে। রিভেন আরওয়াইনের দেওয়া এই হাত কোনোদিন ল'ক্ষভ্রষ্ট হয়নি, কিন্তু আজ তোমার চোখের জল আমার প্রতিটি স্না'য়ুকে অ'সাড় করে দিচ্ছে। আমি তোমাকে ঘৃণা করতে চেয়েছিলাম, চেয়েছিলাম তোমার র'ক্তে এই সমুদ্রের জলকে লা'ল করে দিতে।বাট... গড

I can't"

সাইলাস এক ঝটকায় নাইলার কাঁধ ছেড়ে দিয়ে নিজের পি'স্ত'লটি তুলে নিয়ে দূরে সমুদ্রের অতলে ছুড়ে মারল। অস্ত্রটি জলে তলিয়ে যাওয়ার শব্দ ছাপিয়ে সাইলাসের আর্তনাদ ইয়াটের ডেকে প্রতিধ্বনিত হলো।

নাইলার বুকের ভেতরটা য'ন্ত্রণার এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। সে ঝাপসা চোখে সাইলাসের এই বি'ধ্বস্ত রূপ দেখছে আর নিজের পা'পিষ্ঠা সত্তাকে ধি'ক্কার দিচ্ছে। নাইলা বুঝতে পারল, তার নিজের ভালোবাসা হয়তো মলিন হয়তো তার শুরুটা ছিল ছলনায় ঘেরা কিন্তু সাইলাসের এই যে দ'হন এই যে হাহাকার এটাই হলো পৃথিবীর শুদ্ধতম ভালোবাসা। এক ঘা'তকে'র হৃ'দয়ে যখন প্রেম জন্ম নেয় তখন তা কোনো সাধারণ প্রেম নয় তা এক ম'রণঘা'তী উপাখ্যান।

সাইলাস নাইলার মুখটা নিজের দুই হাতের তালুতে শক্ত করে চেপে ধরে রাখল। তার র'ক্তাভ চোখ থেকে নোনা জল গড়িয়ে পড়ে নাইলার গালে মিশে যাচ্ছে। সাইলাস ধরা গলায় প্রায় ফিসফিস করে বলল,

"মারতে পারব না তোমায় নাইলা। কোনোদিন না। এমনকি অন্য কাউকে দিয়ে তোমাকে শেষ করার কথা ভাবলে আমার ম'স্তিষ্ক বি'কল হয়ে যাচ্ছে। কারণ যে তোমার গায়ে হাত দেবে, তাকে ছিঁ'ড়ে ফেলার জন্য আমি নিজেই আবার অ'স্ত্র ধরব। আর এভাবেই আমি বসের সাথে প্রতিটি মুহূর্তে বি'শ্বাসঘা'তকতা করব।"

সাইলাস এক মুহূর্ত থামল, তার চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় জল ঝরছে। সে আ'র্তনাদ করে বলল,

"তার চেয়ে নাইলা, তুমি দূরে চলে যাও। অনেক দূরে। এমন কোনো নিভৃত কোণে যেখানে কোনো রিভেন আরওয়াইন নেই, কোনো সাইলাস নেই, কোনো ষ'ড়য'ন্ত্র নেই। পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে গিয়ে তুমি নতুন করে বাঁচো। চলে যাও নাইলা... প্লিজ"

নাইলার মনে হলো তার হৃ'দপি'ণ্ডটা কেউ জী'ব'ন্ত অবস্থায় ছিঁ'ড়ে ফেলছে। সে ডুকরে কেঁদে উঠল। সাইলাসের আঙুলগুলো খামচে ধরে সে আর্তনাদ করে উঠল,

"পারব না সাইলাস। আমি পারব না তোমার থেকে দূরে যেতে। চার্চের সেই জরাজীর্ণ বেদীর সামনে যাজক কী বলেছিলেন মনে নেই? আনটিল ডেথ ডু ইউ অ্যাপার্ট। মৃ'ত্যু ছাড়া আর কিছুই আমাদের আলাদা করতে পারবে না সাইলাস। তোমার এই লিটল ফিয়েরা আজীবন তোমার এই খাঁ'চাতে'ই ব'ন্দি থাকতে চায়। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না সাইলাস... আমি নি'শ্বাস নিতে পারব না"

নাইলা কাঁ'পতে কাঁ'পতে সাইলাসের মুখটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল। সাইলাসের গালে গজিয়ে ওঠা ছোট ছোট দাড়িগুলো নাইলার তালুতে বিঁধছে, সেই কর্কশ স্পর্শ আজ নাইলার কাছে সবচাইতে প্রিয়। সে সাইলাসের শান্ত অথচ প্র'লয়ংক'রী মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে রইল।কী সুন্দর এই মুখশ্রী ।

নাইলা তার কপাল সাইলাসের ললাটে ঠেকিয়ে কান্নায় বুজে আসা স্বরে বলল,

"দুটো আবদার করব তোমার কাছে সাইলাস। রাখবে?"

সাইলাস প্রথমে পাথরের মতো নিথর হয়ে থাকলেও নাইলার স্পর্শে তার ভেতরের কাঠিন্য ধূ'লিসা'ৎ হয়ে গেল। সে অতি ধীরলয়ে, অসহায়ভাবে মাথা নাড়ল। নাইলার ত'প্ত নিশ্বাস সাইলাসের ঠোঁটে আ'ছড়ে পড়ছে। নাইলা হাহাকার করে বলল,

"একবার... শুধু একবার বলো যে তুমি আমায় ভালোবাসো। তোমার অজানা ওই অনুভুতিই হলো ভালোবাসা । আমি আজ তোমার মুখ থেকে তা শুনতে চাই। আর দ্বিতীয়ত..."

নাইলা আরেকটু ঝুঁকে আসে,

" ক্যান ইউ কি'স মি সাইলাস? কিস মি লাইক ফরএভার... ঠিক যেন এটাই আমাদের জীবনের শেষ রাত"

সমুদ্রের উ'ত্তাল গর্জন আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। সাইলাস নাইলার চোখের গভীরে এক অনন্ত শূন্যতা আর তৃ'ষ্ণা দেখল। সে তার সমস্ত জড়তা, সমস্ত আনুগত্য আর সমস্ত ভ'য়কে বিসর্জন দিয়ে নাইলার ওষ্ঠাধরের খুব কাছে মুখ নিয়ে এল। সাইলাসের ত'প্ত নিশ্বাস আর নাইলার অ'শ্রুসিক্ত ঠোঁ'ট এক হয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সাইলাস এক অতিপ্রাকৃত, গভীর স্বরে বিড়বিড় করে উঠল,

"আই লাভ ইউ নাইলা আশফোর্ড .মাই .ওয়াইফ... আই লাভ ইউ মোর দ্যান মাই লাইফ, মোর দ্যান মাই ওন সোল।"

আর পরক্ষণেই সাইলাস নাইলার ঠোঁটে তার সেই আ'জন্ম লা'লিত তৃ'ষ্ণা নিয়ে আছড়ে পড়ল। সেই চু'ম্বন ছিল এক প্র'লয়ংক'রী ধ্বংসের মতো।

সমুদ্রের সেই উত্তাল গর্জন আর নোনা বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের মাঝে সময়টা যেন এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। সাইলাসের সেই প্র'লয়ংকরী চু'ম্বন আর নাইলার অশ্রুসিক্ত সমর্পণ সব মিলিয়ে ডেক এর ওপর তখন এক বি'ষাদম'য় আবহ। যখন তারা একে অপরের থেকে কিছুটা আলাদা হলো, সাইলাসের ত'প্ত নিশ্বাস তখনো নাইলার মুখের ওপর আ'ছড়ে পড়ছে। তাদের কপাল একে অপরের সাথে ঠেকানো, দুজনের চোখের মণি যেন একে অপরের আত্মার অতল গহ্বরকে স্পর্শ করার চেষ্টা করছে।

নাইলা অতি সন্তর্পণে সাইলাসের হাতটি নিজের হাতের মুঠোয় নিল। তার আঙুলগুলো কাঁপছে। সাইলাসের চোখের সামনেই সে তার আঙুল থেকে সেই ওয়েডিং রিংটা খুলে ফেলল। সাইলাস স্তম্ভিত হয়ে সেই আংটিটির দিকে তাকিয়ে রইল তার মস্তিষ্ক তখনো অবশ, সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। নাইলার চোখের কোণ দিয়ে আবারও দুটি ত'প্ত অ'শ্রু গড়িয়ে পড়ল। সে সাইলাসের কপালে এক গভীর দীর্ঘ আর গাঢ় চু'ম্বন এঁকে দিয়ে অত্যন্ত নিচু ও হাহাকার ভরা স্বরে বলল,

"পরকালে হয়তো আমাদের আর কোনোদিন দেখা হবে না সাইলাস। মৃত্যুর আগে তোমার এই মু'খশ্রীটুকু মনের কোঠায় বন্দি করে নিয়ে মরতে চাই। তুমিই আমার দেখা প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা।"

সাইলাস পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নাইলার প্রতিটি কথা যেন এক একটি বি'দায়ী সুরের মতো তার কানে বাজছে। নাইলা সাইলাসের দিকে তাকিয়ে এক মায়াবী হাসি হাসল। তার সেই অ্যাম্বার চোখ দুটোতে তখন এক অদ্ভুত মুক্তি। সে ফিসফিস করে বলল,

"যতদিন বেঁচে থাকবে সাইলাস, আমাকে নিজের হৃদয় থেকে মুছে ফেলো না প্লিজ। ভবিষ্যতে তুমি যাকে নিয়েই ঘর বাঁধো না কেন, এই বি'শ্বাসঘা'তকের নামটা তোমার হৃদয়ের কোনো এক অন্ধকার কোণায় একটু স্থান দিও। শুধু মনে রেখো, তোমার এই লিটল ফিয়েরা তোমাকে জীবন দিয়ে ভালোবেসেছিল।"

সাইলাস যখন নাইলার কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বোঝার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই নাইলা এক প্রচণ্ড শক্তিতে সাইলাসকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। সাইলাস ছিটকে গিয়ে ডেক এর রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা খেল। মুহূর্তের মাঝেই সাইলাস কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখল নাইলা ইয়াট এর কিনারায় গিয়ে দাঁড়াল। তার চুলগুলো বাতাসে উড়ছে।

সাইলাস কিছু বলে ওঠার আগেই নাইলা এক নিমেষে সমুদ্রের সেই কৃষ্ণবর্ণ উত্তাল জলরাশির অতল গ'হ্বরে ঝাঁ'পিয়ে পড়ল।

একটি প্রচণ্ড শব্দ হলো আর তার পরেই সব নিঃঝুম। ইয়াট এর ইঞ্জিনের একঘেয়ে আওয়াজ আর সমুদ্রের হিং'স্র ঢেউয়ের শব্দ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না। সাইলাস উ'ন্মাদের মতো ইয়াট এর কিনারায় ছুটে গেল। সে অন্ধকারের সেই ফেনিল জলরাশির দিকে অপলক তাকিয়ে রইলো কিন্তু সেই নোনা জল নাইলার চি'হ্নটুকুও রাখেনি।

"নাইলা! নাইলাআআ"

সাইলাসের সেই বু'কফাঁ'টা চিৎকার সমুদ্রের বিশালতায় হারিয়ে গেল। সে ডেক এর ওপর হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তার ডান হাতে তখনো নাইলার দিয়ে যাওয়া বিয়ের আংটিটা ধরা। যে দু'র্ধ'র্ষ ঘা'তক কোনোদিন মৃ'ত্যুর সামনে মাথা নত করেনি, আজ সে এক অতল অন্ধকারের সামনে পরাজিত। নাইলা তার কথা রেখেছে আনটিল ডেথ ডু আস অ্যাপার্ট। মৃ'ত্যু ছাড়া তাদের আলাদা করার সাধ্য কারো ছিল না তাই নাইলা আজ সেই মৃ'ত্যুকে আ'লিঙ্গন করেই সাইলাসের প্রতি নিজের সর্বনাশা ভালোবাসাকে অমর করে দিয়ে গেল।

সাইলাস আকাশের সেই অগণিত তারার দিকে তাকিয়ে এক বুক আ'র্তনাদ করে উঠল। সমুদ্রের জল আজ নাইলাকে কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু সাইলাসের হৃদয়ে যে ক্ষতের সৃষ্টি হলো তা হয়তো অনন্তকাল ধরে চু'ইয়ে চু'ইয়ে র'ক্ত ঝরাবে।

___________

রিভেন তখন তার বিশাল স্টাডি রুমের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। বাইরের নিকষ কালো আকাশটা যেন তার ভেতরের গুমোট দহনের প্রতিচ্ছবি। তার হাতে থাকা আ'ধপো'ড়া সি'গারেট থেকে ছা'ইগুলো কার্পেটের ওপর ঝরে পড়ছে কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। ঘরের ভেতরটা তা'মাক আর বি'ষাদমাখা এক গুমোট গন্ধে আচ্ছন্ন।

ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় নক না করেই একজন গার্ড হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করল। তার চোখেমুখে এক তী'ব্র উ'ত্তেজনা আর কিছুটা ভয়ের ছাপ। রিভেন ধীরলয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তার র'ক্তা'ভ চোখ দুটো গার্ডের ওপর স্থির করল। সেই চাউনিতে এক অমানবিক শীতলতা, যা দেখে গার্ডের মেরুদণ্ড দিয়ে এক হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল।

সে মাথা নিচু করে অত্যন্ত সতর্ক স্বরে বলল,

"বস... একটা ইনফরমেশন পাওয়া গেছে।

To be continue,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন