#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা
পর্ব ৩৯
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
মিলানের পিচঢালা রাজপথের ওপর দিয়ে এখন বসন্তের হালকা হিমেল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। ক্যাফেগুলোর সামনে রাখা ছোট ছোট টেবিলগুলোতে ভিড় বাড়ছে, কফির ধোঁয়া আর মানুষের গুঞ্জনে শহরটা আবার তার চেনা ছন্দে ফিরেছে। কিন্তু এই ব্যস্ত জনস্রোতের আড়ালে কোথাও যেন এক বিশাল শূন্যতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। এক সময়কার সেই উত্তাল অস্থিরতা পুলিশের সাইরেনের আর্তনাদ আর মাফিয়া মহলে চলা সেই রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি এখন অনেকটা স্তিমিত।
মানুষের স্মৃতি বড়ই স্বল্পায়ু। সংবাদপত্রগুলোর পাতা এক সময় যার নিখোঁজ সংবাদের হেডলাইনে সয়লাব ছিল সেই কাগজগুলো এখন রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে ম্যাগাজিন স্ট্যান্ডের এক কোণায় পড়ে আছে। কিন্তু যারা এই ধ্বংসলীলার সাক্ষী ছিল, তাদের জন্য সময় যেন সেই এক জায়গায় থমকে আছে। কারুসো ম্যানশনের সেই রাজকীয় ফটক আজ নিস্পৃহ।
বাগানের রোজ গার্ডেন আজ অযত্নে বিবর্ণ, শুষ্ক ডালপালাগুলো যেন কোনো এক প্রিয়তমার বিরহে নুয়ে পড়েছে। জানালার কাঁচগুলোতে ধুলোর গাঢ় আস্তরণ ঠিক যেমন আস্তরণ জমেছে রিভেনের হৃদয়ে। রিভেন আরওয়াইন কারুসো এখন এক অদৃশ্য ছায়া সে যেন নিজের তৈরি এক অন্ধকার প্রাসাদে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে গেছে।
মেহেরিন কারুসো তাঁর ছেলের এই ধ্বং'সাত্ম'ক নিঃসঙ্গতা দেখে ভেতরে ভেতরে গুমরে ম'রছেন।
রিভেন যেহেতু এখন এই বাড়িতে থাকছে না মাঝে মাঝে সে রিভেনের কাছে যায়। রিভেনের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়। চারিদিকে গোয়েন্দা আর ইনফর্মাররা জাল বিছিয়ে রেখেছে। প্রতিদিন অসংখ্য তথ্যের টুকরো রিভেনের টেবিলে জমা হয় ব্যর্থতা, গুজব আর রহস্যময় সংকেত। রিভেন সেই পাজলগুলো মেলাতে মেলাতে ক্লান্ত, কেবল আসল লোকেশনটাই যেন এক কুহকী মরীচিকা হয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সাইলাস এখন আর তার নিজ বাড়িতে থাকে না। ইতালির আইন অনুযায়ী, কোনো মৃ'ত বা নি'রুদ্দেশ ব্যক্তির সম্পত্তির যদি কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তা সরকারি হেফাজতে চলে যায়। সাইলাস তার সমস্ত প্রভাব আর অর্থ খাটিয়ে সরকারের কাছ থেকে নাইলার সেই পুরনো বাড়িটি নিজের নামে করে নিয়েছে। এক মাস হতে চলল, অথচ সেই রাতের নাইলার অ'ন্তিম ঝাঁ'পের দৃশ্যটা এখনো সাইলাসকে প্রতিনিয়ত ছি'ন্নভি'ন্ন করে।
সাইলাসের চোখে এখন আর ঘুম নেই। বড়জোর তিন ঘণ্টার এক তন্দ্রাচ্ছন্ন আচ্ছন্নতা তাকে গ্রাস করে, বাকি সময় সে এক জী'ব'ন্ত লা'শের মতো এই বাড়ির প্রতিটি কোণায় নাইলার অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ায়। নাইলার ফেলে যাওয়া ডায়েরিগুলো এখন সাইলাসের একমাত্র সঙ্গী। সেই ডায়েরির পাতা থেকেই সে জেনেছে নাইলার হাইস্কুলের বিষাদময় প্রেমকাহিনি।
নাইলার দিয়ে যাওয়া বিয়ের আংটিটি এখন সাইলাসের গলার চেইনে ঝুলছে। প্রতিটি হৃদস্পন্দনের সাথে সেটি তার বুকের চামড়ায় বিঁধে থাকে তার স্ত্রীর দেওয়া একমাত্র আমানত। ডায়েরি থেকে সে আরও জেনেছে, নাইলার প্রিয় ফুল ছিলো পার্পল অ্যাস্টার। রুক্ষ ও কঠোর সাইলাস, যে কোনোদিন সুন্দরের আরাধনা করেনি, সে আজ মালির সাহায্যে বাড়ির আঙিনায় সারিবদ্ধভাবে বেগুনি রঙের অ্যাস্টার গাছ লাগিয়েছে। গভীর রাতে যখন বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে, সে সেই বাগানে গিয়ে একাকী বসে থাকে।
বাড়ির বেজমেন্ট পরিষ্কার করতে গিয়ে সে নাইলার ছোটবেলার অনেক ছবি খুঁজে পেয়েছে। কিছু ছবি অত্যন্ত হাস্যকর । সাইলাস ছবিগুলো দেখে মনে মনে বলে এগুলো দেখিয়ে তাকে কতটা ক্ষেপানো যেত অথচ এই বাড়িতে এখন কেবল গভীর নীরবতা। তার ঝগড়াটে মেশিনের বকবকানি শোনার জন্য সাইলাসের কান দুটো আজ তৃষ্ণার্ত।
এনজো আর মার্কো এখন মিশনের কাজে ব্যস্ত। সাইলাস আর রিভেন দুজনেই আজ এক অদ্ভুত মৌনতায় আচ্ছন্ন। এনজো আর মার্কো মাঝে মাঝে সাইলাসের কাছে আসে তারা তিনজনে আড্ডা দেয়।
________
নিশীথ রাতের সেই থমথমে নিস্তব্ধতা চিরে ড্রয়িংরুমের বিশাল মেহগনি দরজাটা সশব্দে খুলে গেল। বাইরের ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টির ঝাপটার সাথে সাথে ভেতরে প্রবেশ করল পাঁচটি দীর্ঘকায় ছায়া। এনজো রিভেনের পাশে এসে অত্যন্ত সতর্ক স্বরে বিড়বিড় করল,
"বস, তারা এসে গেছে।"
রিভেন সোফায় হেলান দিয়ে বসে ছিল। একে একে পাঁচজন পুরুষ ঘরে ঢুকল। রাফায়েল, রাউল,আইভান আর রেক্স।প্রত্যেকের অবয়বে এক আদিম কাঠিন্য। আর সবশেষে প্রবেশ করল জেইডান আলভারেজ। ব্ল্যাক প্যান্থার গ্রুপের এই সর্বকনিষ্ঠ নেতা। তার পরনে কুচকুচে কালো ওভারকোট, চোখেমুখে এক ধরণের পৈশাচিক আভিজাত্য। জেইডান আলভারেজ সোফায় এসে আরাম করে বসলো। রিভেনের মতোই তার চোখের মণি দুটো হ্যাজেল বর্ণের, যেখানে এখন প্র'লয়ংকরী এক স্থিরতা বিরাজ করছে।
রিভেন এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে জেইডানের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। বাতাসের প্রতিটি অণু তখন এক অদৃশ্য উত্তেজনায় কাঁপছে। রিভেন অত্যন্ত গম্ভীর আর পাথুরে স্বরে বলল,
"ফ্যালকন গ্রুপের নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে সকল গোপন সুড়ঙ্গের খবর আমার চাই জেইডান।আই নো ব্রাতভার পুরনো বিষাক্ত শেকড়গুলো এখনো তোমার নখদর্পণে। ফ্র্যাঙ্ক মোরালেস ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছে, তা তোমার অজানা থাকার কথা নয়।"
জেইডান আলভারেজের ঠোঁটের কোণে এক বিষাক্ত নিষ্ঠুর হাসি ফুটিয়ে তুলল। সে তার লম্বা আঙুল দিয়ে সোফার হাতলে তাল দিতে দিতে বলল,
"ফ্র্যাঙ্ক মোরালেস... নামটা ব্রাতভার ইতিহাসে এক ক'লঙ্ক। একসময় আমাদের দলেই ছিল, কিন্তু তার সেই মারাত্মক ভুলের জন্য তাকে দল থেকে কু'কুরের মতো তা'ড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ সে কোথায় বসে ফ্যালকন নাম দিয়ে নিজের সাম্রাজ্য গড়তে চাইছে এটা আমাদের জন্য কেবল এক তামাশা রিভেন।"
রিভেনের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। সে সামনের দিকে ঝুঁকে এসে বলল,
"আমাকে লোকেশন দাও।"
জেইডান এবার তার চোখ দুটো রিভেনের চোখের ওপর স্থির করল। সে অত্যন্ত শীতল ও অবজ্ঞাভরে বলল,
"লোকেশন? আমাদের নীতি এত সস্তা নয়। এই লড়াইটা তোমার আর আমরা তোমাকে শিকার করার হদিস দেব না। যদি তুমি নিজেকে একজন ক্ষমতাধর শাসক মনে করো, তবে নিজের সামর্থ্য দিয়ে নিজেই অন্ধকার গর্ত থেকে ফ্যালকনকে খুঁজে বের করো। আমি এসেছি কেবল তোমার অসহায়ত্ব দেখতে, সাহায্য করতে নয়।"
রিভেনের র'ক্তে তখন অ'গ্নিকু'ণ্ড জ্ব'লে উঠল। সে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে টেবিলের ওপর রাখা দামী ক্রিস্টাল গ্লাসটা আ'ছাড় মে'রে চূ'র্ণবিচূ'র্ণ করে দিল। চু'রমার হওয়া কাঁচের টুকরোগুলো হিরে কণার মতো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল। সে গর্জনে ফেটে পড়ে বলল,
"জেইডান আলভারেজ! Don’t try to play with my patience ।যদি তাদের লোকেশন না বলো তবে তোমাদের সাথে আমার দীর্ঘদিনের এই সখ্যতা আজই এই মুহূর্তেই ছা'ই হয়ে যাবে"
জেইডান একটুও বিচলিত হলো না বরং তার সেই নিষ্ঠুর হাসিটা আরও গভীর হলো। সে ধীরলয়ে উঠে দাঁড়িয়ে রিভেনের একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। দুজনের উচ্চতা আর ব্যক্তিত্বের সংঘাত তখন ঘরটাকে এক শ্বাসরুদ্ধকর কারাগারে পরিণত করেছে। জেইডান ফিসফিস করে বলল,
"Don’t get angry mr.arwain। ঘৃণা আর ক্রো'ধকে জমিয়ে রাখো ফ্যালকনের জন্য। আমাদের জগতের নিয়ম বড় নিষ্ঠুর নিজের সাম্রাজ্য বাঁচাতে হলে নিজের হাতেই র'ক্ত ঝ'রাতে হয়। আমি তোমাকে কোনো হদিস দেব না কারণ আমি দেখতে চাই তুমি কতটা নিচে নামতে পারো তোমার ভালোবাসার জন্য "
ড্রয়িংরুমের সেই হলুদ আলোয় দুই শক্তিমান শাসকের ছায়া দেয়ালে এক দা'নবীয় রূপ নিল।
রিভেনের গগনবিদারী গ'র্জনের পরেও জেইডানের চেহারায় কোনো ভয়ের রেখা ফুটল না বরং এক ধরণের বি'কৃত আ'মোদ তার দৃষ্টিতে খেলা করতে লাগল। সে শান্তভাবে নিজের সিল্কের কোটটা ঠিক করে নিয়ে অত্যন্ত নিস্পৃহ স্বরে বলল,
"লুক আমি এখানে এসেছি আমার দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ব্যবসায়িক চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করতে। ফ্যালকন বা তোমার ওই নিখোঁজ মেয়েটির জন্য আমার মূল্যবান সময় নষ্ট করার বিলাসিতা আমার নেই"
জেইডানের এই চূড়ান্ত অবজ্ঞা রিভেনের ভেতরের সেই ঘু'মন্ত দা'নবটাকে জাগিয়ে তুলল। রিভেন ক্ষি'প্ত হয়ে জেইডানের কলার চেপে ধরার জন্য হাত বাড়াতেই এক গম্ভীর ও বজ্রকঠিন কণ্ঠস্বর পুরো হলরুমটাকে স্তব্ধ করে দিল।
"যথেষ্ট হয়েছে! থামো তোমরা!"
রাফায়েল আলভারেজ এতক্ষণ সব লক্ষ্য করছিলেন, তিনি ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে এলেন। রাফায়েলের ব্যক্তিত্ব অন্য চার ভাইয়ের চেয়ে আলাদা এক পাহাড়সম গা'ম্ভীর্য আর হিমশীতল স্থিতপ্রজ্ঞতা তাঁর চারদিকে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল তৈরি করে রাখে। তাঁর চোখের চাউনি এতটাই ধা'রালো যে উত্তেজিত রিভেন আর উদ্ধত জেইডান দুজনেই থমকে যেতে বাধ্য হলো।
রাফায়েল রিভেনের কাঁধে হাত রাখলেন। তিনি রিভেনের চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত নিচু ও স্থির স্বরে বললেন,
" ক্রোধ মানুষকে অন্ধ করে দেয় রিভেন আর অন্ধ মানুষ কোনোদিন তার লক্ষ্য খুঁজে পায় না। জেইডান ঠিকই বলেছে ল'ড়াইটা তোমার, তাই এটার শেষ তোমাকেই করতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা তোমাদের এই বিপদে কেবল দর্শক হয়ে থাকব।"
এরপর তিনি জেইডানের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন। তাঁর সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সামনে জেইডানের পৈ'শাচিক হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। রাফায়েল অত্যন্ত কঠোর স্বরে বললেন,
"ইউ আর ক্রসিং ইউর লিমিট টুডে জেইডান। রিভেন আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্র। বন্ধু যখন আ'গুনের ওপর দিয়ে হাঁটে তখন ব্যবসায়িক চু'ক্তি নিয়ে আলাপ করাটা কেবল অসভ্যতা নয় বোকামিও বটে। ব্রাতভা ক্ষমতার জন্য পরিচিত অমানবিকতার জন্য নয়।"
রাফায়েলের এই অকাট্য নির্দেশের পর ঘরে এক পিনপতন নীরবতা নেমে এল। জেইডান কাঁধ ঝাঁকিয়ে একটু দূরে সরে দাঁড়াল, তার চোখে তখনো সেই অবাধ্যতার রেশ। রাফায়েল আবার রিভেনের দিকে ফিরলেন।
"রিভেন ফ্যালকন গ্রূপের ফ্র্যাঙ্ক মোরালেস যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন তাকে খুজে পাওয়াটা অসম্ভব কিছু না। আমরা তোমাকে সরাসরি কোনো লোকেশন দেব না ঠিকই কিন্তু আজ রাতেই ফ্যালকনের সাপ্লাই চেইনের একটা দুর্বল লিঙ্ক তোমার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। বাকিটা তোমার মেধা আর তোমার অ'স্ত্রের ওপর নির্ভর করছে।"
রাফায়েলের এই মধ্যস্থতা যেন এক উত্তাল সমুদ্রকে শান্ত করে দিল। রিভেন তার হাতের মুষ্টি শিথিল করল কিন্তু তার চোখের সেই প্র'লয়ংকরী আ'গুন নেভেনি। ড্রয়িংরুমের সেই ভারী পর্দার আড়ালে তখন বাতাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
রাফায়েলের দীর্ঘ অবয়বটি ড্রয়িংরুমের ছায়াঘেরা দেয়ালের সাথে একাকার হয়ে আছে। তিনি রিভেনের দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে শান্ত অথচ গম্ভীর স্বরে বললেন,
" যে বিশেষ কার্যসিদ্ধির জন্য আমাদের এই মিলান সফর ছিল তা প্রায় শেষ। এ শহরে আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে তাই আজই আমরা ফিরে যাচ্ছি। নিয়তি যদি চায়, তবে হয়তো আবার কোনো এক র'ক্তা'ক্ত মোড়ে আমাদের সাক্ষাৎ হবে।"
কথাটি শেষ করেই রাফায়েল ধীরপদে দরজার দিকে পা বাড়ালেন। তাঁর নির্দেশে বাকি ভাইরা রাউল, আইভান আর রেক্স পিছন পিছন তাঁর অনুগামী হলো। কিন্তু জেইডান আলভারেজ দরজার চৌকাঠ পেরিয়েও একবার থামল। সে ঘাড় ঘুরিয়ে রিভেনের দিকে তাকাল। জানালার ওপাশে তখন বিজলি চমকাচ্ছে, আর সেই ক্ষণিক আলোয় জেইডানের চোখ দুটো এক পৈ'শাচিক উজ্জ্বলতায় জ্বলে উঠল। সে এক বাঁকা হাসি হেসে রিভেনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"As you are getting so desperate ,বিদায়বেলায় তোমাকে দুটো ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছি"
রিভেন নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, তার প্রতিটি ইন্দ্রিয় তখন জেইডানের পরবর্তী শব্দগুলো শোনার জন্য উ'ন্মুখ। জেইডান তার কণ্ঠস্বর একটু নিচু করে প্রথম ইঙ্গিতটি দিল,
"প্রথমত যাদেরকে খুঁজছ,তারা এখন এমন এক উপদ্বীপের আশ্রয়ে আছে যেখানে বিকেলের রোদ জলপাই বাগানের উপর পড়ে । যেখানে ষাঁ'ড়ের লড়াইয়ের ধুলো আর গিটারের করুণ সুর বাতাসে ভাসে। ফ্যালকন এখন সেই ত'প্ত মাটিতে ডানা গুটিয়ে বসে আছে"
রিভেনের ধমনীতে র'ক্তের গতি বেড়ে গেল। স্পেনের সেই পরিচিত বর্ণনা তার বুঝতে বাকি রইল না। জেইডান এবার একটু এগিয়ে এসে দ্বিতীয় এবং সবচাইতে রহস্যময় ইঙ্গিতটি দিল,
"আর দ্বিতীয়ত..." জেইডান এক মুহূর্ত থামল, তার চা'উনি এখন সূঁ'চের মতো ধারালো।
"তোমার আর আমার মধ্যে বিশেষ মিলটা কী জানো রিভেন? আমাদের দুজনেরই চোখই হ্যাজেল। তফাত শুধু এটুকুই তোমার চোখে আলো আর আমার চোখে অমাবস্যা। তবে মজার ব্যাপার হলো, আমাদের এই হ্যাজেল চোখের উত্তরাধিকার কিন্তু আরও আছে। ইভানো কারুসোর চোখও হ্যাজেল সেটা নিশ্চয়ই তুমি জানো? কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো... চতুর্থ এক ব্যক্তির চোখেও ঠিক আমাদের মতোই এই একই বর্ণের মণি জ্বলজ্বল করছে।যদিও সেটা খুব কম মানুষেরায় দেখে"
কথাগুলো শেষ করে জেইডান আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। এক পৈশাচিক অট্টহাসি করিডোরের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত করে সে অন্ধকারের চাদরে বিলীন হয়ে গেল।
___________
জেইডানের রহস্যময় বার্তার পর রিভেনের ভেতরকার ঘুমন্ত সিংহ যেন সহস্র বছরের ক্ষু'ধা নিয়ে গর্জে উঠল। তার চোখে যে অ'গ্নিকু'ণ্ড জ্ব'লছে তা যেকোনো কিছুকেই পু'ড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। রিভেন আর শান্ত হয়ে বসে থাকার পাত্র নয় তার নির্দেশে মিলান যেন মুহূর্তেই এক র'ণক্ষেত্রে পরিণত হলো।
রিভেন কালক্ষেপণ না করে তার সবচাইতে বিশ্বস্ত বাহিনীকে স্পেনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার নির্দেশ দিল। সাইলাস ও মার্কো আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কের অন্ধকার সুড়ঙ্গগুলো উন্মুক্ত করে দিল।স্পেনের খোজ জানার পর খুব সহজে ব্ল্যা'ক মা'র্কেটের গোপন কন্ট্রাক্ট থেকে শুরু করে মাফিয়া জগতের সেই নিষিদ্ধ ডা'র্ক ও'য়েব সবকিছু এখন রিভেনের মোটামোটা আয়ওে আছে।
তারা ডা'র্ক ও'য়েবের সব নোড হ্যাক করে ফ্যালকন গ্রুপের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খুঁজতে শুরু করল। মিলানের আন্ডারগ্রাউন্ড বার, ক্যা'সিনো আর ড্রা'গ ডেনগুলোতে রিভেনের ইনফরমাররা হা'য়েনার মতো ছড়িয়ে পড়ল। তথ্য না দিলে মৃ'ত্যু এই ছিল রিভেনের একমাত্র নীতি।
বাড়ির ভেতর এখন এক দা'নবীয় তা'ণ্ডব শুরু হয়েছে। রিভেন ম্যাপের ওপর ঝুঁকে পড়ে একের পর এক নির্দেশ দিচ্ছে। তার গলার শিরাগুলো ফুলে উঠেছে, প্রতিটি শব্দে ঝরছে বিষাক্ত আ'ক্রোশ। সে তার ডেস্কে থাকা ল্যাপটপটা এক ঝটকায় আ'ছাড় মে'রে মেঝেতে ফেলে দিল যখন প্রাথমিক ট্র্যাকিং ব্যর্থ হলো। রিভেন হুংকার দিয়ে উঠল,
"যদি স্পেনের সবকিছু পু'ড়িয়ে ছা'ই করতে হয় আমি তাই করব কিন্তু ওই মা'দা'রফা'কার গুলোকে আমি খুঁজে বের করবোই"
মাত্র চার ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর সাইলাস এসে খবর দিল ফ্যালকন গ্রুপের একটি বিশাল ড্রা'গ শি'পমেন্ট ভূমধ্যসাগরের বুক চিরে স্পেনের দিকে এগোচ্ছে। রিভেন এক পৈশাচিক হাসি হাসল। সে নির্দেশ দিল ওই জাহাজের প্রতিটি গতিবিধি ট্র্যাক করতে এবং সেটি স্পেনের ঠিক কোন বন্দরে নোঙর ফেলবে তার মানচিত্র বের করতে।
পরবর্তী দুই ঘণ্টা ছিল নিরেট নিস্তব্ধতার মাঝে এক ভয়াবহ প্রস্তুতি। রিভেনের লোকেরা তাদের অ'স্ত্রাগা'র উন্মুক্ত করল। আধুনিক এ'মফোর রা'ইফে'ল, সা'ইলেন্সার লাগানো গ্ল'ক পি'স্তল আর ট্যা'কটি'ক্যাল গি'য়ারে সজ্জিত হয়ে তারা এক অজেয় বাহিনীতে রূপান্তরিত হলো। রিভেন নিজে তার কালো ট্যা'কটি'ক্যাল ভে'স্টটা পরে নিল, হো'লস্টারে গুঁ'জে নিল তার প্রিয় বা'রাটা।
সঠিক লোকেশনটি পাওয়ার সাথে সাথেই রিভেন গর্জে উঠল,
"বোর্ড দ্য জেটস। এখনই!"
মিলানের একটি ব্যক্তিগত এয়ারস্ট্রিপে তখন প্রলয়ংকারী গ'র্জন তুলছে রিভেনের প্রাইভেট জেট এবং তার বাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা বিশাল কার্গো ফ্লাইট। শত শত প্রশিক্ষিত ঘা'তক, যারা কেবল রিভেনের ইশারায় ম'রতে বা মা'রতে জানে, তারা একে একে বিমানে উঠতে শুরু করল।
অবশেষে স্পেনের তপ্ত মাটির বু'কে রিভেনের ব্যক্তিগত জেটটি অবতরণ করল।
মানচিত্রের ওপর ঝুঁকে পড়ে রিভেনের চাউনি আরও ধারালো হয়ে উঠল। বাড়িটি স্পেনের এক দুর্ভেদ্য অরণ্যের গভীরে লুকানো। পাথুরে দেয়াল আর আধুনিক ইলেকট্রনিক সে'ন্সরে ঘেরা । রিভেন তার ট্যা'কটি'ক্যাল গ্লাভসটা টেনে পরে নিয়ে আদেশ দিল,
"কাউকে বন্দি নয়। যারা বাধা দেবে, তাদের খু'লি আজ উড়িয়ে দিবে।But remember one thing... ভেতরের একটি ফুলের যেন পাপড়িও না ঝরে।"
অরণ্যের সেই নিস্তব্ধতা চিরে রিভেনের ঘা'তক বাহিনী যখন এগিয়ে চলল তখন চারপাশটা যেন এক শ্ম'শানপু'রীতে পরিণত হলো। রিভেন নিজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল। হাইসিকিউরিটি জোনে পা রাখতেই শুরু হলো সেই আদিম তা'ণ্ডব।
শত্রুপক্ষের স্নাইপাররা যখন গুলি চালানো শুরু করল রিভেন ক্ষি'প্র গতিতে একটি পাথরের আড়ালে পজিশন নিয়ে তার এ'মফোর রা'ইফেল থেকে গু'লির বৃ'ষ্টি ঝড়ালো। একের পর এক দে'হ মা'টিতে লু'টিয়ে পড়ছে, র'ক্তের গ'ন্ধে অরণ্যের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
বাড়ির ভেতরের কয়েকটা সিসিটিভি ক্যামেরা রিভেনের গ্রে'নে'ড হা'মলা'য় চূ'র্ণবি'চূর্ণ হয়ে গেল।রিভেনকে আজ ভয়ানক লাগছে সে যেন কোনো র'ক্তপি'পাসু দানব, যার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সবকটা প্রাণ আজ কেবল একটি তুচ্ছ সংখ্যা। এনজো আর সাইলাসও লড়াই করছিল তাদের শরীরে তখন শত্রুর গু'লির ক্ষ'ত কিন্তু রিভেনের সেই উ'ন্মাদ'তার সামনে নিজেদের ব্য'থা যেন তুচ্ছ হয়ে গেছে। রিভেন নিজে কাঁধে একটি বু'লেটে'র আঁ'চড় খেয়েও থামল না তার চোখ দুটো তখন কেবল তার রোজ পেটালকে খুজছে।
ভেতরে ঢোকার করিডোর এখন লা'শের পা'হাড়ে ঢাকা। রিভেনের লোকেরা যখন একে একে আহত হয়ে মেঝেতে ধুঁকছিল রিভেন তখন র'ক্তমা'খা হাতে একের পর এক শত্রুর ঘা'ড় ভে'ঙে দিচ্ছিল। তার বুকের ভেতরটা তখন ধকপক করছে ।ভয় আর উত্তেজনার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণে। সে যেন অনুভব করতে পারছে, রোজেলিয়া কোনো দেয়ালের ওপাশেই আছে। তার হৃদপিণ্ড যেন পাঁ'জরের দেয়াল ভে'ঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে তার প্রিয়তমাকে একবার দেখার জন্য।
শেষ কক্ষটির বিশাল ভারী ওক কাঠের দরজাটা রিভেন এক লা'থিতে ভে'ঙে ফেলল।কিন্তু ভেতরে খালি।
এক নিরেট, হা'ড়কাঁ'পানো শূন্যতা তাকে গ্রাস করতে চাইল। সে উ'ন্মাদের মতো একের পর এক কক্ষের কপাট ভাঙতে লাগল প্রতিটি করিডোর, প্রতিটি কোণ সে তন্নতন্ন করে খুঁজল, যেন এক তৃ'ষ্ণা'র্ত শি'কারি তার শেষ সম্বলটুকু খুঁজছে।
অবশেষে করিডোরের শেষ প্রান্তে এক বিশাল কক্ষের সামনে এসে সে থামল। কক্ষটির ভেতরে ঘনীভূত অন্ধকার আর ল্যাভেন্ডারের এক মৃদু সুবাস । সে ঝড়ের বেগে ভেতরে প্রবেশ করতেই হঠাৎ এক ছায়াময় অবয়ব তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। রিভেন টাল সামলাতে না পেরে কয়েক পা পিছিয়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে কক্ষের আলো জ্বলে উঠল।
আলোর তীব্রতায় রিভেনের চোখ ধাঁধিয়ে গেল কিন্তু যখন সে দৃষ্টি স্থির করল তার হৃদপিণ্ড যেন এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে গেল।তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার রোজ পেটাল। তার রোজেলিয়া।
রোজেলিয়ার সেই রেশমকোমল লম্বা চুলগুলো আজ তার কনুই অবধি ছড়িয়ে আছে, যেন এক বিষণ্ণ জলপ্রপাত। তার মুখচ্ছবি সেই আগের মতোই স্বর্গীয় যেন কোনো দক্ষ ভাস্করের নিপুণ সৃষ্টি। কিন্তু তার সেই চোখে আজ রিভেনের জন্য কোনো মায়া নেই, কোনো পরিচিতি নেই। সেখানে জ্বলছে এক আদিম ঘৃণা আর প্রতিশোধের আগুন।
রোজেলিয়ার ডান হাতে থাকা রুপালি গ্ল'ক পি'স্ত'লটি এখন সরাসরি রিভেনের কপালে তা'ক করা। স্থির অচঞ্চল। রিভেন পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার শরীরের র'ক্ত যেন বরফ হয়ে জমে গেল। যে মেয়েটির জন্য সে পুরো স্পেনে র'ক্তগ'ঙ্গা বইয়ে দিয়েছে, যার একটি চুলের আ'ঘাতের ভয়ে সে সারা রাত বিনিদ্র কাটিয়েছে আজ সেই মেয়েটিই তার কপালে ব'ন্ধুক তা'ক করছে?।
রিভেন আর সহ্য করতে পারল না। তার সমস্ত শক্তি যেন এক নিমেষে উবে গেল। সে হাঁটু গেড়ে মেঝের ওপর বসে পড়ল। তার র'ক্তমা'খা হাত দুটি রোজেলিয়ার দিকে বাড়িয়ে এক অস্ফুট, কম্পিত স্বরে ডাকল,
"রোজ... আমার রোজ পেটাল... আমি এসেছি..."
রোজেলিয়া এক চুলও নড়ল না। তার আঙুল ট্রি'গারের ওপর আরও শক্ত হলো। সে তীক্ষ্ণ, বরফশীতল স্বরে গর্জে উঠল,
"এক পা ও এগোবে না, ওই নোংরা হাত দিয়ে আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করো না, খু'নি"
রিভেনের চেতনার সমস্ত জগৎ যেন এক নিমেষে ধূ'লিসাৎ হয়ে গেল। তার কপালে ঠে'কে থাকা সেই রুপালি ন'লের শীতলতা আজ তাকে যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে এক ভয়াবহ বি'চ্ছেদের কথা। সে কেবল শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রোজেলিয়ার ওই পাথুরে চোখের দিকে।খু'নি? বাবা-মাকে কেড়ে নেওয়া? এই শব্দগুলো রিভেনের মস্তিষ্কের কোষে কোষে তী'ব্র য'ন্ত্রণা'র বি'ষ ছড়াচ্ছে। তার প্রতিটি পেশি অ'বশ হয়ে আসছে, হৃদপিণ্ডের ধকপকানি যেন এক স্তব্ধ আর্তনাদ।
"রোজ... তুমি এসব কী বলছো? আমি খুনি? আমি তোমার বাবা-মাকে মে'রেছি? এই মিথ্যা বি'ষ তোমার কানে কে ঢেলেছে রোজ? দেখো আমি তোমার রিভেন ।আমি এসেছি দেখো
কেউ কী তোমাকে ভয় দেখাচ্ছে বলো?"
রিভেনের কণ্ঠস্বর কান্নায় বুজে এল। সে বুঝতে পারছে না কেন তার প্রিয়তমা তাকে এক ঘৃণিত শ'ত্রুর মতো দেখছে। কেন সেই মায়াবী চোখ দুটোতে আজ কেবল মৃ'ত্যুর প'রোয়া'না? সে য'ন্ত্রণা'য় চিৎকার করতে চাইলো কিন্তু রোজেলিয়ার চোখের ওই হিমশীতল ঘৃণা তার প্রতিটি শব্দকে গলার কাছে আটকে দিচ্ছে।
রোজেলিয়া পি'স্ত'লের গ্রি'প আরও শক্ত করল। তার চিবুক কাঁপছে কিন্তু চোখে সেই একই রকম প্র'লয়ংক'রী আ'গুন। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"একদম মিথ্যে নাটক করবে না।ডেইগো আমাকে সব বলেছে। আমার বাবা-মাকে তুমিই কেড়ে নিয়েছ। তুমিই আমার জীবন ধ্বং'স করেছ।ডেইগো আমাকে তোমার ন'রক থেকে বাঁচিয়ে এনেছে। আজ তোমার এই পা'পের শেষ আমি নিজের হাতে করব"
রিভেন এবার সত্যিই ভেঙে পড়ল। ডেইগো? কে এই ডেইগো ? সে অনুভব করতে পারল, তার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। রোজেলিয়া তার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন সে কোনো এক তুচ্ছ কীট। রিভেনের চোখ দুটো আজ প্লাবিত, তার র'ক্তমা'খা হাতগুলো থরথর করে কাঁপছে। সে বুঝতে পারছে না সে কি কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছে?
সে বুক চেরা এক আর্তনাদ করে মেঝের ওপর আরও লুটিয়ে পড়ল। তার মাথার ভেতরে সহস্র ড্রাম একসাথে বাজছে। সে ধরা গলায় শুধু বলতে পারল,
"রোজ, আমি জানি না ডেইগো কে, জানি না সে তোমাকে কী বলেছে... কিন্তু তোমার এই চাহনি আমার ক'লিজা'টা ছিঁ'ড়ে ফেলছে। তুমি কি আমায় চিনতে পারছো না? আমি তোমার রিভেন...তোমার ভালোবাসা। যদি তুমি আমায় মারতে চাও, তবে মারো... কিন্তু এই ঘৃণা নিয়ে তাকাবে না রোজ। এই ঘৃণা আমার সহ্য হচ্ছে না"
সময় যেন সেই কক্ষের ভেতর থমকে দাঁড়িয়েছে। রিভেন কিছুই বুঝতে পারছে না সে শুধু জানে রোজেলিয়া যদি আজ ট্রি'গার টিপে দেয় তবে তার আত্মা শান্তি পাবে। কারণ রোজেলিয়ার হাতে মৃ'ত্যুও তার কাছে এক পরম পুরস্কার। সে চোখ বন্ধ করে রোজেলিয়ার অস্ত্রের নলের সামনে মাথা নিচু করে বিড়বিড় করল,
"যদি আমার র'ক্তে তোমার এই মিথ্যে য'ন্ত্রণার উপশম হয় রোজ... তবে চালাও গু'লি। আমি ম'রেও সুখী হব যে শেষবারের মতো আমার মুক্তি তোমার হাতেই লেখা ছিল।"
রোজেলিয়ার হাতটি সামান্য কাঁপল, কিন্তু তার চোখের সেই কৃত্রিম ঘৃণার আড়ালে থাকা এক অদ্ভুত শূন্যতা যেন কক্ষের প্রতিটি কোণকে ভারী করে তুলল।
To be continue,,,,,