ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৪০তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা

পর্ব ৪০

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

"হাউ ইজ দিস পসিবল? হাউ?"

রিভেনের কণ্ঠে এক পৈ'শাচিক হাহাকার। সেদিনের সেই মুহূর্তটি তার চোখের সামনে বারবার ফিরে আসছে রোজেলিয়ার সেই হিমশীতল ঘৃ'ণাভরা চোখ তার ক'পালে তা'ক করা পি'স্তল। রিভেন কিছুতেই মেলাতে পারছে না কীভাবে তার রোজ পেটাল তাকে 'খু'নি' বলে সম্বোধন করল। এনজো আর মার্কো যখন তাকে সেখান থেকে টেনে আনছিল, রিভেনের দে'হটা ছিল নি'থর, কিন্তু তার চোখ দুটো স্থির হয়ে আটকে ছিল কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা রোজেলিয়ার অবয়বে।

সাইলাস ঘরের এক কোণায় পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। তার সূক্ষ্ম ঘাতক মস্তিষ্ক তখন থেকেই প্রতিটি ঘটনার যোগসূত্র মেলাতে ব্যস্ত। তার কাছে পুরো বিষয়টি এক অতিপ্রাকৃত জালের মতো মনে হচ্ছে।রিভেনের অস্থিরতা দেখে এনজো পাশ থেকে ধীর স্বরে বলে উঠল,

"বস, পুরো ঘটনাটাই একটা সুপরিকল্পিত ফাঁদ বলে মনে হচ্ছে। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন? রোজেলিয়া ম্যামের চোখের সেই শূন্যতা কোনো সাধারণ ব্যাপার ছিল না। ওটা ছিল এক কৃত্রিম বিস্মৃতি। মার্কো আর আমি যখন কক্ষের বাইরে থেকে দেখছিলাম তখনই আমাদের খটকা লেগেছে। আমার মতে যে লোকটার কথা ম্যাম বলছিল নিশ্চয়ই সে ম্যামকে কিছু করেছে"

এনজো এক মুহূর্ত থামল, রিভেনের র'ক্তিম চোখের দিকে তাকিয়ে সে আরও স্পষ্ট করে বলল,

"হয়তো ডেইগো তাকে কোনো শক্তিশালী নি'উরো ড্রা'গ দিয়ে ম্যা'নিপু'লেট করেছে। সে রোজেলিয়া ম্যামকে বিশ্বাস করিয়েছে যে আপনিই তাঁর শ'ত্রু। আপনার প্রতি তাঁর এই ঘৃণা আসলে তাঁর নিজের নয় বস ওটা ডেইগোর শিখিয়ে দেওয়া এক মিথ্যে চিত্রনাট্য।"

রিভেন স্তব্ধ হয়ে গেল। তার চোয়াল পাথরের মতো শক্ত হয়ে এল।রিভেন দাঁতে দাঁত চেপে এক জা'ন্তব স্বরে গর্জে উঠল,

"কে এই ডেইগো? কার এত বড় সাহস যে আমার আমানতে হাত দিয়ে তাকে আমারই বিরুদ্ধে বি'ষিয়ে দেয়?"

এনজো মাথা নিচু করে অত্যন্ত সতর্ক স্বরে উত্তর দিল,

"বস, ফ্র্যাঙ্ক মোরালেস ব্রাতভা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর থেকেই সবসময় আড়ালে থাকত। তার ছেলে ডেইগোর অস্তিত্বের কথা আ'ন্ডারগ্রা'উন্ডের কেউই জানত না। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে সেই হলো ফ্যালকন গ্রুপের অদৃশ্য ম'গজ। আফসার চৌধুরী বলেছিলেন ফ্র্যাঙ্ক তার ছেলের সাথেই ম্যামের বিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ডেইগো কোনো সাধারণ মাফিয়া নয় বস সে একজন অদৃশ্য শয়তান। তার কোনো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট নেই আর কোনো রেকর্ড নেই।"

সাইলাস এতক্ষণ জানালার পাশে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে ধীর পায়ে রিভেনের সামনে এসে দাঁড়াল,

"বস, নাইলা বলেছিল তাদের লিডারের চোখের মণি ডার্ক ব্রাউন। কিন্তু জেইডান আলভারেজ যাওয়ার সময় সে বলেছে চতুর্থ এক ব্যক্তির চোখ হ্যাজেল"

এনজো এবার একটু ঝুঁকে এসে প্রস্তাব দিল,

"বস, আমার মনে হয় জেইডানের সাথে আপনার আবার কথা বলা উচিত ।উনিই একমাত্র সঠিক তথ্য দিতে পারবে "

রিভেন এক ঝটকায় সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল।

"ওই বা'স্টার্ড আলভারেজ আমাকে কোনো তথ্য দেবে না এনজো । সে আমাকে কোনো সোজা পথ দেখাবে না ।আমি কাউর কাছে তথ্য ভিক্ষা চাইবো না "

রিভেন তার টেবিলের ওপর রাখা ক্রি'স্টাল পেপারওয়েটটা সজোরে দেয়ালে ছু'ড়ে মারল। চূ'র্ণবি'চূর্ণ কাঁচের টু'ক'রোগুলো রিভেনের পায়ের কাছে ছড়িয়ে পড়ল।

"সবাইকে একসাথে জড়ো করো ।জিনিসটা নিয়ে আমাদের আরো ভাবা দরকার ।আমি আমার ওয়াইফের এতোটা কাছে গিয়ে তাকে হারাতে পারবো না। এনজো, আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ডের সকল ল্যাবরেটরি আর ডার্ক ক্লি'নিক ত'ছন'ছ করে দাও। ফ্র্যাঙ্ক মোরালেসের তথাকথিত ম'গজ ডেইগোকে আমি খুজে বের করবোই । সে যদি রোজেলিয়ার ম'স্তিষ্ক নিয়ে খে'লে থাকে তবে আমি তার প্রতিটি শি'রা ছিঁ'ড়ে নিজের হাতে ক'লম বানাব"

সাইলাস এবার প্রশ্ন করল,

"আমাদের আর কোনো পদক্ষেপ বস?"

রিভেন এক বাঁকা হাসি হাসল। সে তার বা'রা'টা পি'স্ত'লটা লোড করে কোমরে গুঁজে নিতে নিতে বলল,

"আমরা সরাসরি ওই বাড়িতে অ্যাটাক করবো না। আমাদের আগে সব তথ্য জানতে হবে ।ওই বাড়িতে কিছু সিক্রেট এজেন্ট পাঠাও ।টাকার মাধ্যমে সবই কেনা যায় সো তাদের কিছু লোককে হাত করার চেষ্টা করো।আর তাদের কিছু রু'টে আ'গুন ধরিয়ে দাও । ডেইগো যদি অদৃশ্য শয়তান হয়, তবে তাকে দৃশ্যমান করার জন্য আমি প্রয়োজনে স্পেনকে এক ন'রকা'গ্নিতে পু'ড়িয়ে ছা'ই করে দেব।"

রিভেনের ঘরে তখন এক আদিম উত্তেজনার পারদ চড়তে লাগল। এনজো আর সাইলাস বুঝতে পারল এতদিনের সিং'হটি এবার কেবল গ'র্জন করবে না, সে এবার তার সাম্রাজ্যের প্রতিটি ইঞ্চি রক্তে রাঙিয়ে দিতে প্রস্তুত।

রিভেন জানালার কাঁচের ওপাশে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"অপেক্ষা করো রোজ... তোমার এই খু'নি স্বামী আসছে তার পাওনা বুঝে নিতে। ডেইগোর সাজানো সব মিথ্যেকে আমি তার র'ক্ত দিয়ে মুছে দেব।"

__________

পুরনো কাস্টিলিয়ান স্টাইলের সেই বিশাল হলরুম। চারদিকে অদ্ভূত এক নিস্তব্ধতা কেবল মাঝেমধ্যে দেয়ালঘড়ির টিকটিক শব্দ সেই নীরবতাকে বিদ্ধ করছে। ঘরের এক কোণে একটি হাইব্যাক চেয়ারে মূ'র্তির মতো বসে আছে রোজেলিয়া। তার পরনে তুষারশুভ্র একটি ভিক্টোরিয়ান গাউন যা ডেইগোর ভীষণ পছন্দ।

কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে ডেইগো। তার সামনে একটি পেডেস্টাল তাতে ক্লে দিয়ে সে গড়ে তুলছে রোজেলিয়ার একটি অ'বয়ব। ডেইগোর আঙুলগুলো দতপরভাবে কাদার ওপর খেলছে কিন্তু তার মনোযোগ কেবল সেই মূ'র্তিতে নয় বরং তার সামনে বসে থাকা জী'বন্ত মেয়েটির ওপর। শরীরের নিখুঁত খাঁজগুলো সে ফুটিয়ে তুলেছে কিন্তু মুখচ্ছবি গড়তে গিয়েই সে বারবার থমকে যাচ্ছে। চোয়ালের সেই তীক্ষ্ণ বাঁক, ঠোঁটের সেই মায়াবী কোণ কিছুতেই যেন জী'বন্ত রোজেলিয়াকে মা'টির ছাঁচে ধ'রা যাচ্ছে না।

হঠাৎ করেই এক তী'ব্র বি'রক্তি ডেইগোকে গ্রাস করল। সে হাতের কাদা মাখা অবস্থাতেই এগিয়ে এল রোজেলিয়ার দিকে। তার অপরিচ্ছন্ন কর্দমাক্ত হাতদুটো দিয়ে সে রোজেলিয়ার দুধে আলতা গালদুটো শক্ত করে চেপে ধরল।

"এত চেষ্টার পরও পারফেক্ট হচ্ছে না রোজ... তুমি বড্ড বেশি সুন্দর। আসল তুমিই সেরা। আসলের কাছে নকল সবসময়ই ফ্যাকাশে।"

ডেইগোর কণ্ঠে এক ধরণের অধিকারবোধ মেশানো বি'ষাক্ত তৃ'প্তি।রোজেলিয়া নড়াচড়া করল না। তার চোখে এক বি'ষাদমা'খা ক্লান্তি। সে কোনোমতে ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল,

"আবার চেষ্টা করে দেখো ডেইগো, হয়ে যাবে।"

ডেইগো উত্তর দিল না। সে রোজেলিয়ার চোখের মণি দুটোর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। যেন সেই চোখের গভীরে সে কোনো চো'রাবা'লি খুঁজছে।

"মুখটা এত বি'ষণ্ণ লাগছে কেন, ডল?"

ডেইগোর প্রশ্নটা চা'বুকের মতো শোনালরোজেলিয়া চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল,

"কিছু না... একটু মাথা ব্যথা করছে।"

ডেইগো আরও একটু ঝুঁকে এল। তার গায়ের সেই চড়া পারফিউম আর মাটির গন্ধ রোজেলিয়ার নাসারন্ধ্রে এসে ধাক্কা দিচ্ছে।

"Nope. ডোন্ট ট্রাই টু লাই। আই ক্যান রিড ইওর ফেস। বলো, কী ভাবছ?"

রোজেলিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার অবচেতন মন থেকে সেই হাজার হাজার ভো'ল্টের একটি স্মৃ'তি তাকে তা'ড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সে অস্ফুট স্বরে বলল,

"ওই যে ওই লোকটা... রিভেন। তার চোখের মণিগুলো একদম তোমার মতো?"

রিভেন নামটা উচ্চারিত হতেই ডেইগোর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার অন্য হাতটি মু'ষ্টিবদ্ধ হয়ে উঠল। এক মুহূর্তের জন্য তার সেই শান্ত রূপ বদলে গিয়ে এক হিং'স্র প'শুর ছায়া দেখা দিল। সে রোজেলিয়ার দিকে আরও ঘনিষ্ট হয়ে এল।

"তোমার কল্পনার ওই চোখগুলো আমার রোজেলিয়া। তোমার দুঃস্বপ্ন... ইমাজিনেশনের চোখগুলো কেবল আমার। ওই হ্যাজেল আইজ কেবল আমার। তাকাও আমার দিকে। লুক অ্যাট মি ডল!"

ডেইগোর কণ্ঠস্বর এখন নিচু আর প্র'লয়'ঙ্করী। সে রোজেলিয়ার চিবুক আরও জোরে চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল,

"স্মৃতি হারানোর আগে তুমি আমার এই চোখেরই প্রেমে পড়েছিলে। আজও ভুলতে পারছ না। ইউ সি? দ্যাটস কলড কানেকশন। তোমার র'ক্তে তোমার নিশ্বাসে কেবল আমারই রাজত্ব।"

রোজেলিয়া চুপ করে রইল। তার ভেতরে এক ধরণের দোলাচল। স্মৃতিগুলো সব কুয়াশার মতো ঝাপসা কেবল সেই হ্যাজেল চোখের চাউনি তাকে অস্থির করে তোলে। ডেইগো একটু শান্ত হলো। তার দৃষ্টি এবার রোজেলিয়ার কাঁধ ছাপিয়ে নেমে যাওয়া চুলের ওপর পড়ল।

সে চুলের একটা গোছা আঙুলে জড়িয়ে টেনে ধরল। সামান্য ব্য'থায় রোজেলিয়ার মুখ দিয়ে একটা শব্দ বেরোল।

"তোমার চুল একটু বেশিই লম্বা হয়ে গেছে রোজ। ওগুলো কা'টতে হবে।"

ডেইগোর প্রতিটি নির্দেশ যেন এক একটি অমোঘ আইন। সে রোজেলিয়াকে তার নিজের মতো করে গড়ে তুলছে।একই ধরণের পোশাক, একই চুলের স্টাইল, একই রকম চালচলন। রোজেলিয়া যেন এখন আর কোনো র'ক্ত'মাং'সের মানুষ নয় সে ডেইগোর সেই গথিক মিউজিয়ামের একটি শ্রেষ্ঠ সংগ্রহ তার পারফেক্ট লি'ভিং ড'ল।

_________

অন্ধকার করিডোরের নিস্তব্ধতা চিরে হঠাৎ একটি আ'র্তনাদ প্র'তিধ্বনিত হলো। ডেইগোর উ'ন্মত্ত'তা আজ যেন নি'য়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সে নার্স নিনার চুলের মু'ঠি শ'ক্ত করে ধরে তাকে দেয়ালের সাথে স'জোরে আ'ছাড় মা'রল। নিনার ক'পাল ফে'টে এক ফা'লি র'ক্ত গ'ড়িয়ে পড়ল মেঝের ওপর।

"D'ose বাড়াতে বলেছি না তোকে? আমার আদেশের অবাধ্য হওয়ার সাহস কোত্থেকে পেলি?"

ডেইগোর কণ্ঠস্বর কোনো মানুষের নয় যেন কোনো আ'দিম প'শুর গ'র্জন।

নিনা কাঁপতে কাঁপতে কোনোমতে বলল,

"স্যার... এর চেয়ে বেশি ডো'জ দিলে ওর ম'স্তি'ষ্কের স্না'য়ু চি'রত'রে বি'কল হয়ে যাবে। She might d'ie or go into a c'oma! আর রোজেলিয়ার স্মৃ'তি ফে'রার কোনো ভয় নেই ড্রা'গস ওর ব্রে'ইন সে'ল অলরেডি ড্যা'মেজ করে দিয়েছে.."

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ডেইগো নিনার গ'লায় হা'ত দিয়ে তাকে দেয়ালের সাথে চে'পে ধরল। তার চো'খের মণি দুটো এখন আ'গুনের মতো জ্ব'লছে।

"I don't care about the r'isk! I want her to f'orget everything, even her own name! কেবল আমি থাকব তার ম'গজে... শুধু আমি"

ডেইগো নিনার চু'লের মু'ঠি ধ'রে তাকে হেঁ'চড়ে টে'নে নিয়ে যেতে লাগল। হলরুম পেরিয়ে তারা পেছনের বিশাল ইনডোর সু'ইমিং পুলের এলাকায় এসে পৌঁছাল। জায়গাটা বড় রহস্যময় আর ভ'য়ানক। পুলের চারপাশটা উঁচু দেয়ালে ঘেরা আর মাঝখানে গভীর নীল জলরাশি। পুলের এক কোণে পানির নিচে একটি বিশাল লোহার খাঁচা অর্ধেকটা ডোবানো। আর সেই খাঁচার ভেতর স্থির হয়ে আছে এক বিভীষিকা।একটি বিশালকার ক্ষু'ধার্ত কুমির। অন্ধকারের মাঝে কুমিরটির চোখ দুটো যেন জ্বলজ্বল করছে।

ডেইগো নিনাকে পুলের একেবারে কি'নারায় নিয়ে গেল। কুমিরটি খাঁ'চার ভেতর অস্থির হয়ে নড়াচড়া শুরু করল যেন সে খাবারের গ'ন্ধ পেয়েছে।

"তাকা এটার দিকে নিনা," ডেইগো ফিসফিস করে বলল, কিন্তু সেই স্বর শীতল তুষারের মতো নিনার মেরুদণ্ড দিয়ে নেমে গেল।

"যদি কোনো চালকি করার চেষ্টা করিস,তবে মনে রাখিস ।আমার এই পো'ষা প্রাণীটি অনেক দিন ধরে জ্যা'ন্ত মা'নুষ খা'য়নি। তোর হা'ড়ের ম'টম'ট শ'ব্দ শুনতে আমার ম'ন্দ লাগবে না।"

ডেইগো এক ঝ'টকায় নিনাকে মে'ঝেতে ছু'ড়ে ফে'লল। নিনা হাঁ'পাতে হাঁ'পাতে মেঝেতে পড়ে রইল, তার চোখে তখন মৃ'ত্যুর হিমশীতল আতঙ্ক। ডেইগো তার ওভারকোটের হাতা ঠিক করতে করতে শীতল হেসে বলল,

"Go back to your work. আর শোন..

আমার ডল যেন আজ রাতে শান্তিতে ঘুমায়। কাল সকাল থেকে ডো'জ ডা'বল হবে।"

পুলের সেই বদ্ধ বাতাসে কুমিরের লেজের ঝাপটার শব্দ আর ডেইগোর পৈশাচিক আভিজাত্য মিলেমিশে এক হা'ড়কাঁ'পানো পরিবেশ তৈরি করল।

নিনা র'ক্তা'ক্ত অবস্থায় কোনোমতে টলতে টলতে সেখান থেকে সরে পড়ল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ডেইগোর প্রধান দেহরক্ষী লুইস ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতেই পরিবেশের তা'পমাত্রা যেন হি'মাঙ্কের নিচে নেমে গেল। ডেইগোর ভেতরের সেই দা'উদা'উ করে জ্ব'লতে থাকা অ'গ্নিগি'রি এবার বিষ্ফোরিত হলো।

লুইস কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডেইগো চি'তার মতো ক্ষি'প্রতা'য় তার কলার চেপে ধরল। কোনো সুযোগ না দিয়েই লুইসের চো'য়াল ল'ক্ষ্য করে স'জোরে একটা ঘু'ষি ব'সিয়ে দিল সে। হা'ড়ের ম'টমট শব্দ আর র'ক্তের ছিটে ডেইগোর গায়ে এসে লাগলো।

"You s'on of b'itch! তোর তবে সামনে আসার সাহস হয়েছে?"

ডেইগোর কণ্ঠস্বর এখন এক উন্মা'দ ঘা'তকের মতো। সে লুইসের শার্টের কলার আরও জো'রে মু'চড়ে ধরে তার মুখের একদম কাছে নিয়ে এল।

"তোর বুদ্ধিতেই সেদিন রোজেলিয়াকে রিভেনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলাম। আর এখন? এখন ওর মাথায় হাজারটা প্রশ্নের ঝড় উঠছে। এখন ওই মা'দারফা'কারের হ্যাজেল চোখ আর তার কণ্ঠস্বর রোজেলিয়ার ম'গজে বারবার ফিরে আসছে। সে প্রশ্ন করছে লুইস। ও মাই গড, সে আমাকে প্রশ্ন করছে"

লুইস মুখ দিয়ে র'ক্ত থু'তু করে ফেলে কোনোমতে তোতলাতে তোতলাতে বলল,

"বস... আই সোয়্যার... আমি জানতাম না এমন হবে। কিন্তু বস উনিতো রিভেনকে ঘৃনা করে এটাতো ভালো"

লুইসের কথা শেষ হওয়ার আগেই ডেইগো তার পে'টে আর একটা স'জোরে লা'থি মারল। লুইস ছি'টকে গিয়ে পুলের দে'য়ালের সাথে ধা'ক্কা খেল। ডেইগো ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে এল, তার চোখে তখন এক পৈ'শাচিক অন্ধকার।

"ভালো? ওটা ভালো?!" ডেইগো লুইসের চু'লের মু'ঠি ধরে তার মা'থাটা পানির দিকে ঝুঁ'কিয়ে ধ'রল। নিচে সেই ক্ষু'ধার্ত কুমিরটা তখন পানির ওপর মা'থা তুলে লুইসের র'ক্তের গ'ন্ধে অস্থির হয়ে উঠছে।

"তোদের মতো পোষা কুকুরদের আমি এই জন্যই পালি যে তোরা শুধু আমার নির্দেশ মানবি ।মাথা খাটাবি না। রিভেন আরওয়াইনকে সামনাসামনি দেখে রোজেলিয়ার অবচেতন মন সাড়া দিচ্ছে।ওর ড্রা'গের কু'য়াশা কে'টে যাচ্ছে"

ডেইগো লুইসের গলার ন'লিটা চে'পে ধ'রল। লুইসের চো'খ দুটো উ'ল্টে যা'ওয়ার উ'পক্রম। ডেইগো ফিসফিস করে লুইসের কানের কাছে বলল,

"যদি এবার কোনো ভুল হয় লুইস, তবে তোর এই র'ক্তা'ক্ত শ'রীরটা আমি নি'জে হা'তে ওই খাঁ'চার ভে'তর টু'করো টু'করো করে ফে'লব"

ডেইগো এক ঝটকায় লুইসকে দূরে ছু'ড়ে মা'রল। লুইস মেঝের ওপর পড়ে কয়েকবার কে'শে র'ক্ত উ'গড়ে দিল। ডেইগো উন্মাদের মতো পায়চারি করতে করতে বলতে লাগল,

"ঐদিন ওই রিভেন হাতের নাগালে থাকার পরও রোজেলিয়া ট্রি'গার চা'পতে পারল না। এক সপ্তাহ ধরে আমি নিজে ওকে গ্লা'ভস পরিয়ে শ্যু'টিং শিখিয়েছি। আঙুলের ছাপ থেকে শুরু করে টা'র্গেট লক করা সব আমি নিজের হাতে ট্রেনিং দিয়েছি। কিন্তু তোদের এই ফালতু বুদ্ধির জন্য আমার সব মেহনত জলে গেল"

ডেইগো এবার লুইসের সামনে নিচু হয়ে বসল। তার কণ্ঠস্বর এখন হা'ড়কাঁ'পানো শীতল। সে লুইসের ক'পালে নিজের তর্জনী দিয়ে টোকা দিয়ে বলল,

"তোর ওই বুদ্ধির জোরেই হয়তো কোনোদিন আমার ডল আমার নিজের ক'পালেই ব'ন্দুক ঠে'কিয়ে দেবে। সেদিন তোকে আগে ওই কু'মিরের পে'টে পা'ঠাব, তারপর নিজে ম'রব। মনে থাকে যেন।নাউ গেট আউট অফ মাই সাইট!"

__________

সাইলাস আর এনজো ফুটপাত ধরে ধীরপায়ে হাঁটছে।গভীর রাতে সে এনজোকে নিয়ে বেরিয়েছে এক পুরনো স্মৃতির সন্ধানে।

তারা জনমানবহীন এক রাজপথ দিয়ে হাঁটছে। সাইলাস বারবার চারপাশটা দেখছে, কিন্তু তার চেনা সেই ধুলোমাখা অলিগলি আজ বহুতল ভবনের নিচে চাপা পড়ে গেছে। আধুনিক স্থাপত্যের জাঁকজমকে তার শৈশবের সেই জীর্ণ কুটিরটি যেন মানচিত্র থেকেই মুছে গেছে।

এনজো সাইলাসের এই অস্থিরতা লক্ষ্য করছিল। সে পকেট থেকে লাইটার বের করে একটা সিগারেট ধরিয়ে শান্ত স্বরে বলল,

"চিনতে পারছিস?"

সাইলাস একবার থামল। সামনের একটা বিশাল কাঁচের শপিং মলের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। তার কণ্ঠে এক ধরণের হা'ড়কাঁ'পানো নির্লিপ্ততা।

"না। সব বদলে গেছে।বড় বড় দালানগুলো যেন আমার সব স্মৃতি গিলে ফেলেছে"

এনজো এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে বলল,

"অতীত খুঁজে লাভ নেই সাইলাস। মাটি খুঁড়লে এখন কেবল কংক্রিটই বেরোবে।"

সাইলাস আবার হাঁটতে শুরু করল। তার বুটের শব্দে এক ধরণের ছন্দ আছে। সে অস্ফুট স্বরে বলল,

"মাটি খুঁড়লে হয়তো কংক্রিট বেরোবে, কিন্তু আমার নাকে এখনো সেই পুরনো গন্ধটা লাগে। পোড়া কয়লা আর ঘামের গন্ধ"

এনজো একটু অবাক হয়ে তাকাল। সাইলাস সচরাচর নিজের ব্যাপারে কথা বলে না। সে জিজ্ঞেস করল,

"পুরো ঘটনাটা যেনো কী ঘটেছিল অনেক আগে বলেছিলিতো ভুলে গেছি?"

সাইলাস আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার স্মৃতিতে কয়েক বছর আগের এক অভিশপ্ত বিকেল ভেসে উঠল।

"বাবা আর মা দুজনেই ছিল দিনমজুর,"

সাইলাস বলতে শুরু করল।

"ওই যে দূরে যে বড় স্টিল ফ্যাক্টরিটা দেখছিস ওটার ভিত্তিপ্রস্তর যখন স্থাপিত হচ্ছিল, তখন তারা সেখানেই কাজ করত। আমি তখন বড়জোর ছয় বা সাত। প্রতিদিন বিকেলে আমি কারখানার গেটে গিয়ে বসে থাকতাম।"

সাইলাস একটু থামল। তার গলার স্বর এবার আরও গম্ভীর হয়ে গেল।

"সেদিন যখন সেখানে গিয়ে নিচে বসে আনমনে খেলা করছিলাম হঠাৎ একটা প্রচণ্ড শব্দ হলো। কারখানার বিশাল চিমনিটা আর বয়লারটা একসাথে ফে'টে গি'য়েছিল। আমি চোখের সামনে দেখলাম আ'গুনের একটা লে'লিহান শিখা পুরো আ'কাশটা গ্রা'স করে নিল। চারদিকে কেবল মানুষের চি'ৎকার।"

এনজো স্তব্ধ হয়ে শুনছে। সাইলাস বলতে লাগল,

"মা আর বাবা তখন বয়লারের একদম কাছেই কাজ করছিল। ধ্বং'সস্তূ'পের নিচ থেকে যখন তাদের বের করা হলো... আমি চিনতেই পারিনি। তাদের শ'রীরগুলো আর শ'রীর ছিল না, কেবল ক'য়লার মতো কা'লো দু'টো অ'বয়ব পড়ে ছিল। সেই আ'গুনের উ'ত্তাপ আজও আমার পিঠে মাঝে মাঝে জ্বা'লা ধ'রায়।"

এনজো চুপ করে থাকে। সাইলাস একটা নিষ্ঠুর হাসি হাসল।

"সেই আ'গুনের পর আমার ঘর বলতে আর কিছু ছিল না । বস যখন আমাকে প্রথমবার অ'স্ত্র ধ'রতে শিখিয়েছিলেন, সেদিন আমার মনে হয়েছিল আ'গুনে পু'ড়ে ম'রার চেয়ে আ'গুন হয়ে জ্ব'লে ওঠা অনেক ভালো।"

"জানিস এনজো..."

সাইলাসের কণ্ঠস্বর হঠাৎ অনেক বেশি ভারী হয়ে উঠল,

"নাইলা একবার আমাকে বলেছিল যে আপনজন হারানোর কষ্ট আমি নাকি কোনোদিনই বুঝব না। তার ধারণা ছিল আমি এক পাথুরে ঘা'তক যার বুকে কোনো হাহাকার নেই। সে বলেছিল, যে হারায় কষ্ট নাকি কেবল সেই বোঝে।"

সাইলাস এক মুহূর্ত থামল। তার চোয়ালের হাড়গুলো শক্ত হয়ে ফুটে উঠল। বাতাসের ঝাপটায় তার ওভারকোটের প্রান্তগুলো উড়ছে। সে একটা নিষ্ঠুর ও বি'ষাদমাখা হাসি হাসল।

"আমি কি সত্যিই বুঝি না এনজো? যে ছেলেটা মাত্র ছয় বছর বয়সে নিজের চোখের সামনে আ'গুনের লে'লিহান শিখায় মা-বাবাকে ক'য়লা হয়ে যেতে দেখেছে, সে বোঝে না হারাবার যন্ত্রণা কী? আমি তো সেদিন শুধু মা-বাবাকে হারাইনি, আমি আমার অস্তিত্বকেও ওই ব'য়লারের আ'গুনে আ'হুতি দিয়ে এসেছিলাম। যখন তাদের সেই বি'বর্ণ আর বি'কৃত লা'শগু'লোর সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন আমার কান্নার শব্দও কারখানার ইঞ্জিনের গর্জনে চা'পা প'ড়ে গিয়েছিল।"

এনজো সাইলাসের কাঁধে হাত রাখল। সে অনুভব করতে পারছিল সাইলাসের শরীরটা বরফের মতো ঠান্ডা হলেও তার ভেতরের দ'হনটা কতটা প্র'লয়ং'করী। সাইলাস মাথা নিচু করে ম্লান স্বরে বিড়বিড় করল,

"নাইলা চলে গেছে... সেও আমাকে একরাশ আ'গুনের মাঝে ফেলে রেখে চলে গেল। হয়তো এটাই আমার নিয়তি"

এনজো এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাইলাসের দিকে তাকাল। তার চোখে তখন কোনো করুণা নেই, আছে এক আজন্ম ভ্রাতৃত্বের ছাপ।

"আমরা সবাই এভাবে জ্ব'লতে জ্ব'লতে এতদূর এসেছি সাইলাস,"

এনজো অত্যন্ত নিচু ও ভারী স্বরে বলতে শুরু করল।

"কেউ আ'গুনের লে'লিহান শি'খায় পু'ড়েছি, কেউবা পে'টের ক্ষু'ধার তা'ড়না'য় নিজের আ'ত্মাকে বিক্রি করেছি। এই মাফিয়া ওয়ার্ল্ডের র'ক্তমা'খা গলিগুলোতে আমরা শখ করে আসিনি।"

এনজো এক মুহূর্ত থামল। সে এবার ম্লান হেসে বলল,

"অভাবের সেই তীব্র ক'ষাঘা'ত যখন সইতে পারছিলাম না, তখন এরিকাকে একটা সুন্দর আর নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম আমার ছোট্ট বোনটা যেন রাজকন্যার মতো বাঁচে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এই অ'ন্ধকারে পা রাখা। তবে জানিস... বসের পাশে দাঁড়ানোর পর থেকে প্রথমবার মনে হয়েছিল যে আমি অনাথ নই। মনে হয়েছিল আমরা একটা পরিবার পেয়েছি"

হঠাৎ রাতের বাতাসে এক হিমশীতল শিহরণ বয়ে গেল। এনজোর গলার স্বরে এক ধরণের অজানা শ'ঙ্কা ফুটে উঠল। সে সাইলাসের চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে বলল,

"কিন্তু আমার সব সময় এক ভয় কাজ করে সাইলাস। এরিকা... আমার ছোট্ট একটা ফুলের মতো বোন। এই র'ক্তের খেলায় কখন যে কে তাকে টা'র্গেট করে বসে, সেই দু'শ্চিন্তা আমার রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। আমার জীবনটা পুরোপরি অ'নিশ্চ'য়তায় ভরা। আজ আছি, কাল হয়তো কোনো এক ড্রে'ন বা ন'র্দমায় আমার লা'শ প'ড়ে থাকবে।"

সাইলাস স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে শুনছিল। এনজো এবার সাইলাসের হাতের ওপর নিজের শক্ত হাতটা রাখল। তার চোখে তখন এক অমোঘ আর্তি।

"সাইলাস, একটা কথা বলি। কখন আমাদের কী হয়ে যায় আমরা কেউ জানি না। এই ব'ন্দুকে'র ন'লের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা প্রতি মুহূর্তে মৃ'ত্যুকে আ'লি'ঙ্গন করে চলি। কিন্তু ধর... কোনোদিন যদি এই ল'ড়াইয়ের ময়দানে আমার কিছু হয়ে যায়... যদি আমি আর ফিরে না আসি... তবে আমার বোনটাকে একটু দেখে রাখিস, বল? ওকে আগলে রাখার মতো আমি ছাড়া আর কেউ নেই।"

সাইলাসের হৃ'দয়টা যেন এক মুহূর্তের জন্য কেঁ'পে উঠল। এই অন্ধকার জগতে কেউ কারো জন্য প্র'তিশ্রুতি দেয় না কিন্তু এনজোর এই হা'হাকার ছিল এক ভাই থেকে অন্য ভাইয়ের প্রতি এক চরম অ'ঙ্গীকার। সাইলাস এনজোর চোখের দিকে তাকিয়ে কেবল নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। তার সেই নীরব সম্মতির মাঝে ছিল এক বিশ্বস্ততা।

To be continue,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন