ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৪৭তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা

পর্ব ৪৭

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

ডেইগোর লাইভ স্ট্রিমিং কেটে যাওয়ার পর থেকেই পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড জুড়ে এক অভূতপূর্ব তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। রিভেনের একনিষ্ঠ আদেশে সাইলাস আর মার্কো যেন এক একটি হিং'স্র প'শুরে রূপ । তারা পা'গ'লের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড ডেন থেকে শুরু করে ইতালির প্রতিটি গোপন আস্তানা চ'ষে ফেলছে ।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো মোরালেসদের কোনো হদিসই তাড়া পাচ্ছে না । সাইলাসের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সে অনবরত তার হ্যাকার নেটওয়ার্ক নিয়ে ডেইগোর এনক্রিপ্টেড লিংকের আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ডেইগো মোরালেসের মতো এক ধূর্ত, সা'ইকো'প্যা'থিক শ'য়তা'নের চাল ধরা কোনো সাধারণ মানুষের কাজ নয়। প্রতিটি লিংক, প্রতিটি সার্ভার এক একটি গোলকধাঁধার মতো তাদের বারবার শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে।

রিভেনের বুকের ভেতর এক ভয়াবহ ক'রা'ত চলছে। এনজো কেবল তার ডান হাত নয়, কেবল এক বিশ্বস্ত লোক নয় , কতবছর ধরে এনজো তার পাশে আছে । কত মিশনে রিভেনকে বাচাঁতে গু'লি'র সামনে নিজেকে সপেঁ দিয়েছিল। সে রিভেনের ভাই, তার পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই ভাইয়ের শ'রী'র থেকে আজ ডেইগো র'ক্ত ঝ'রাচ্ছে, তার ন'খ উ'প'ড়ে ফেলছে এই সত্যটা রিভেনের লোহা কঠিন হৃ'দপিণ্ডে ত'প্ত সি'সা'র ম'তো বিঁ'ধছে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুটি অংশ আজ এক চরম সংকটের মুখে।

একদিকে এনজোর এই বী'ভ'ৎস পরিণতি তাকে তাড়া করে ফিরছে, অন্যদিকে ওপরের তলার সেই আলো-আঁধারি ঘরে শুয়ে থাকা তার স্ত্রী । রোজেলিয়ার ও'ষু'ধের তী'ব্র পা'র্শ্বপ্র'তি'ক্রিয়া, সারাক্ষণ মাথা ঘোরা আর ট্র'মা এখনো কাটেনি। সামান্য কোনো উচ্চ শব্দ হলেই মেয়েটা আ'ত'ঙ্কে চিৎকার করে উঠছে। এই অবস্থায় রিভেন রোজেলিয়াকে এনজোর ব্যাপারে কিছু জানায়নি যতটুকু সম্ভব তার সামনে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। এমনিতেই মেয়েটি অপরাধবোধের আ'গু'নে পু'ড়ে খা'ক হয়ে যাচ্ছে, তার ওপর যদি সে জানতে পারে যে নিনার পর এবার এনজোও তার জন্য মাশুল দিচ্ছে, তবে রোজেলিয়ার অবশিষ্ট মা'ন'সিক ভারসাম্যটুকুও এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

রিভেন রুমের দরজাটি নিঃশব্দে খুলে ভেতরে প্রবেশ করল। আভা তখন রোজেলিয়ার কপালে জলপট্টি দিচ্ছিল। রোজেলিয়া বিছানায় শুয়ে অ'বশ চোখে ছাদের দিকে চেয়ে আছে, তার ফ্যাকাশে ঠোঁট দুটো ওষুধের ঘোরে কাঁপছে।

রিভেন আভার হাত থেকে বাটিটা নিয়ে তাকে বাইরে যাওয়ার ইশারা করল। সে বিছানার কিনারে বসে রোজেলিয়ার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল। তার অন্য হাতটি পরম মমতায় রোজেলিয়ার কপালে চুলগুলো সরিয়ে দিল।

"রোজ..." রিভেন অত্যন্ত নিচু, মখমলের মতো নরম স্বরে ডাকল।

"কোনো ভয় নেই। আমি আছি তো।"

রোজেলিয়া তার ঘোর-লাগা চোখ দুটো রিভেনের দিকে ফেরাল।

"তুমি... তুমি কোথাও যাচ্ছ না তো রিভেন? বাইরে... বাইরে কিসের এত শব্দ?"

রিভেন তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মিথ্যে সান্ত্বনার হাসি ফুটিয়ে রোজেলিয়ার হাতের তালুতে নিজের ওষ্ঠাধর চেপে ধরল। সে ফিসফিস করে বলল,

"কোথাও যাচ্ছি না, আমার রোজ পেটাল। তোমার এই রিভেন তোমার পাশেই আছে। তুমি শুধু চোখ বন্ধ করো..ঘুমালে মাথা ব্যথা কমে যাবে"

রোজেলিয়া এক গভীর আশ্বাসে চোখ বন্ধ করল, কিন্তু রিভেনের ভেতরের সেই ঘু'মন্ত সিং'হ যেন তখন ডেইগোর র'ক্ত পা'নে'র জন্য ছটফট করছে।

_____________

মার্কো, সাইলাস, লরেঞ্জো আর জ্যাক আজ এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি। এনজোর গোঙানির শব্দ এখনো যেন তাদের কানে বাজছে।

মার্কো দুই হাতে টেবিলের ওপর ভর দিয়ে এক হিং'স্র প'শুর মতো ফুঁসছিল। তার চোখের মণি দুটো লাল হয়ে উঠেছে, গলার শিরাগুলো টানটান। সে টেবিল চাপড়ে গর্জে উঠল,

"যেভাবেই হোক, যে কোনো মূল্যে আমাদের এনজোকে ফিরিয়ে আনতে হবে! ডেইগো মোরালেস ওর চা'ম'ড়া ছিঁ'ড়ে ফেলছে প্রতি মুহূর্তে! আমি আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারছি না, সাইলাস!"

সাইলাস কিবোর্ডের ওপর থেকে চোখ না সরিয়েই দাঁতে দাঁত চাপল,

"আমি আমার পুরো হ্যাকার নেটওয়ার্ক লেলিয়ে দিয়েছি, মার্কো। কিন্তু ওই সা'ই'কো'প্যাথ ডেইগোর প্রক্সি সার্ভারগুলো এমন কেন বুঝতে পারছি না"

টেবিলের একদম মাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন লরেঞ্জো। এই চারজনের মধ্যে বয়সে সে অনেকটাই বড়, তাঁর মুখে এক অভিজ্ঞ মাফিয়ার কঠোর গাম্ভীর্য।

" ডেইগো যদি মনে করে এনজোকে জি'ম্মি করে ও কারুসো বংশকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দেবে, তবে ও ভুল করছে। যেভাবেই হোক... আমাদের প্রতিটি ড্রপ র'ক্ত বাজি রেখে হলেও এনজোকে জ্যা'ন্ত উদ্ধার করতে হবে।"

জ্যাক রা'ইফে'ল পরিষ্কার করতে করতে বলল,

"উদ্ধারের প্ল্যান তো হবে। কিন্তু... এরিকার কী হবে? তোমরা কেউ কি একবারও ওই মেয়েটার কথা ভেবেছো?"

মার্কো একটা গভীর, য'ন্ত্র'ণাদায়ক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

" ও তো এখনও কিচ্ছু জানে না। ও ভাবছে ওর ভাইয়া ইতালির কোনো ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত। কিন্তু মেয়েটা কতক্ষণ একা থাকবে? আমাদের এরিকাকে জানাতে হবে। ওর অধিকার আছে সত্যটা জানার।"

"না! একদম না!"

সাইলাস হাত নাড়ল।

"পা'গ'ল হয়েছিস মার্কো? এরিকা এই অন্ধকার দুনিয়ার কিচ্ছু চেনে না! এনজো ওকে সবসময় এক কাঁচের আবরণে আগলে রেখেছে। ও যদি জানতে পারে ডেইগো ওর ভাইকে এভাবে ট'র্চার করছে, মেয়েটা হা'র্ট অ্যা'টা'ক করবে! ও এই ট্র'মা সহ্য করতে পারবে না।"

লরেঞ্জোও সাইলাসের কথায় সায় দিয়ে মাথা নাড়লেন,

"সাইলাস ভুল বলেনি। এই মুহূর্তে এরিকাকে সত্য জানানো মানে ওর জীবনটাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলা। ডেইগোর কি'লা'ররা নিশ্চয়ই ইতালিতে এরিকার ওপর নজর রাখছে। ও যদি একটুও টের পায়, ও সোজা ফাঁদে পা দেবে।"

জ্যাক টেবিলের ওপর ঝুঁকে এসে সবার চোখের দিকে তাকাল। তার কন্ঠস্বরে এক অমোঘ চাণক্যনীতি। সে নিচু স্বরে বলল,

"আমিও বলছি না ওকে এখনই সব সত্য বলে দাও। ডেইগোর লোক যদি এনজোকে ভাঙার জন্য এবার ওর বোনের দিকে হাত বাড়ায়? তাই আমার প্রস্তাব... এরিকাকে এখনই একটা কোনো মিথ্যে বাহানা দিয়ে এনজোর বাড়ির নিচের সুরক্ষিত, গোপন আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হোক। ও এখানেই থাকবে, একদম নিরাপদে।"

জ্যাকের এই বাস্তবসম্মত প্রস্তাব শুনে মার্কো আর লরেঞ্জো একে অপরের দিকে তাকালো।

জ্যাক আবার বলতে লাগল,

"ওকে বলো এনজোর কোনো স্পেশাল প্রজেক্টের কারণে ওকে এখানে কদিন থাকতে হবে। ও যখন এই অভেদ্য দুর্গের ভেতর থাকবে, তখন আমাদের বাইরের ফ্র'ন্টে ল'ড়াই করতে কোনো দ্বিধা থাকবে না। এনজোকে মুক্ত করার আগে ওর শেষ দুর্বলতাটুকুও আমাদের ডেইগোর নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে হবে।"

লরেঞ্জো টেবিল চাপড়ে বললেন,

"সেটাই হোক। মার্কো,তুমি আজকেই সব ব্যবস্থা করবে। এরিকাকে কোনো সন্দেহ না জাগিয়ে গোপন আস্তানায় নিয়ে যাও ।আর সাইলা-"

হঠাৎ সাইলাস কিবোর্ডের ওপর থেকে হাত দুটো সরিয়ে টেবিলের উপর থাবা বসালো। তার চোখের কোণ দিয়ে এক তীব্র ক্লান্তি আর অসহায়ত্ব ঝরে পড়ছে। সে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হিসহিসিয়ে উঠল,

"কোথায়... কোথায় লুকিয়ে থাকতে পারে এই ডেইগো মোরালেস? এনজো কাল রাতে ভিল্টোরে গ্রামে গিয়েছিল, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ও ডেইগো তাকে কিডন্যাপ করলো । এর মানে খুব পরিষ্কার,ডেইগো এই মুহূর্তে ইতালিতেই আছে। কিন্তু এই শ'য়তা'নটাকে খুঁজে পাওয়া এতটা কঠিন কীভাবে হচ্ছে? ব্ল্যাক প্যান্থার টিম থেকে ওদের লা'থি মে'রে বের করে দেওয়া হয়েছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডে ওদের অফিশিয়াল কোনো সাপোর্ট নেই... তাহলে এত পাওয়ার, এত সিক্রেট শেল্টার এই মোরালেসদের আসে কোথা থেকে? জেইডান আলভারেজ...কোনোভাবে আড়াল থেকে ওদের হেল্প করছে না তো?"

"না সাইলাস, তুমি ভুল ট্র্যাকে যাচ্ছো," জ্যাক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বলল।

"এটার ব্যাপারে আমি নিজে পার্সোনালি খোঁজ নিয়েছি। জেইডান আর আলভারেজদের সাথে মোরালেসদের এখন কোনো সম্পর্কই নেই। উল্টো আলভারেজরা সুযোগ খুঁজছে সুযোগ পেলেই ওরা ডেইগো আর ফ্র্যাঙ্ককে জ্যা'ন্ত টু'ক'রো টু'ক'রো করে কু'কু'রের মুখে ছু'ড়ে দেবে। ওদের ওপর ভরসা করার মতো বোকামি ডেইগো অন্তত করবে না।"

মার্কো দাতেঁ দাঁত চেপে জ্যাকের দিকে চেয়ে বলল,

"তুমি শিওর, জ্যাক?"

"নাইনটি এইট পার্সেন্ট শিওর।"

টেবিলের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রবীণ লরেঞ্জো তাঁর হাত দুটো বুকের ওপর বাঁধলেন।

"প্যান্থাররা বড্ড চালাক লোক, জ্যাক। তারপরও তুমি যেহেতু এত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছো, আমি তোমার তথ্য বিশ্বাস করলাম। কিন্তু আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই নোংরা খেলায় এতটা শিওর হয়ে বসে থাকাটাও এক ধরণের আত্মঘাতী বোকামি। কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।"

লরেঞ্জোর কথা শেষ হতে না হতেই মার্কোর ভেতরের সেই অবরুদ্ধ ধৈর্য যেন এক প্র'ল'য়ংকরী আ'গ্নে'য়গিরির মতো ফেটে পড়ল,

"গড! আই অ্যাম লুজিং মাই পেশেন্স! ওই ডেইগো মোরালেসকে যদি আমি একবার নিজের হাতের নাগালে পাই... খোদার কসম, আমি ওর জ্যা'ন্ত চা'ম'ড়া টে'নে ছিঁ'ড়ে ফেলব! আমি ওকে কু'চি কু'চি করে কা'ট'ব!"

মার্কোর সেই গগনবিদারী চিৎকার ঘরের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। তার পুরো শরীর রাগে আর আতঙ্কে কাঁপছিল। সাইলাস আর জ্যাক দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে দুই দিক থেকে চেপে ধরল।

"শান্ত হও মার্কো! জাস্ট শান্ত হও! নিজেকে এভাবে শে'ষ করলে আমরা এনজোকে কোনোদিন জ্যা'ন্ত ফিরে পাব না!"

সাইলাস তাকে সোফায় বসানোর চেষ্টা করতে করতে বলল।মার্কো মাঝে মাঝেই এমন উ'ন্মা'দের মতো আচরণ করছে । মার্কোর ভেতরের এই উ'ন্মা'দনা থামার মতোও নয়। এই পুরো টিমের মধ্যে এনজো আর মার্কোর বন্ডিংটা ছিল এক অন্য উচ্চতার, অন্য এক র'ক্তে'র সম্পর্কের মতো। তাদের এই পুরো টিমটার প্রাণ হলো এনজো আর মার্কো। আজ সেই বন্ধুর শ'রী'র থেকে ডেইগো মোরালেস মাং'স খুবলে নিচ্ছে, আর মার্কো এখানে হাত গুটিয়ে বসে আছে এই অপরাধবোধ তাকে প্রতি মুহূর্তে পা'গ'ল করে তুলছে। সে সোফায় বসে নিজের দুই হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে উঠল।

______________

বেজমেন্টের স্যাঁতসেঁতে কালকুঠুরিতে মৃ'ত্যু'র হিমশীতল নীরবতা যেন এক বি'ষা'ক্ত সা'পের মতো এনজোর র'ক্তা'ক্ত শ'রী'রটাকে পেঁ'চি'য়ে ধরেছে। সিলিং থেকে ঝুলে থাকা একটিমাত্র হলুদ আলো তার ফ্যাকাশে কপালে এসে আ'ছড়ে পড়ছে। এনজোর একসময়ের সুদৃঢ়, মুখাবয়ব এখন এক ফ্যাকাশে, বিবর্ণ পাণ্ডুর কায়ার মতো দেখাচ্ছে।

তার বাম চোখটি সম্পূর্ণ বুজে গেছে। ডেইগোর আ'ঘা'তে চোখের চারপাশের চা'ম'ড়া কা'লো হয়ে ফু'লে উঠেছে। প্রতিটি নিঃশ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে তার পাঁ'জ'রের ভেতরের হা'ড়গুলো যেন ম'টম'ট করে উঠছে, যেন বুকের ভেতর এক হাজার জ্ব'ল'ন্ত সুঁ'ই একসাথে গেঁ'থে দেওয়া হয়েছে। সারা শ'রী'রে এক অবর্ণনীয়, পৈ'শা'চি'ক যন্ত্রণা।

এনজো তার ডান চোখের পাতাটা অনেক কষ্টে, অত্যন্ত ধীর গতিতে একটুখানি মেলল। সেই টিমটিমে আলোয় সে আবছা চোখে চারদিকের অন্ধকার দেওয়ালগুলো দেখার চেষ্টা করল। তার ঠোঁ'টের কোণে র'ক্ত শুকিয়ে আছে। দ'ড়ির বাঁ'ধ'নগুলো তার কবজির চা'ম'ড়া কে'টে মাং'সের ভেতর ব'সে গেছে। কিন্তু এই চরম শা'রী'রিক য'ন্ত্র'ণার মাঝেও তার অ'ব'শ মস্তিষ্কে এখন কেবল একটা চিন্তাই হা'তু'ড়ি পিটছে তাকে এখান থেকে বের হতেই হবে।

স্ক্রিনের ওপাশে রিভেন আর মার্কোর সেই র'ক্তা'ক্ত চোখগুলো সে দেখতে পেয়েছিল। সে জানে ডেইগো তাকে কাজে লাগিয়ে রিভেনকে শে'ষ করতে চাইছে। আর সবচেয়ে বড় ভয়... তার ছোট বোন এরিকা। লুইসের মুখ থেকে সে শুনেছে যে ওরা ইতালির ভিলা চেনে। এরিকা এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত।

সে এক দুর্দান্ত মাফিয়া শট-কি'লা'র রিভেনের ডান হাত। শ'রী'র ভে'ঙে চু'রমা'র হতে পারে, কিন্তু তার ভেতরের সেই চাণক্য বুদ্ধি ডেইগোর চা'বু'কও কেড়ে নিতে পারেনি।আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই অন্ধকার জীবনে এনজো একটা বিশেষ কৌশল শিখেছিল 'শোল্ডার অ্যান্ড রিস্ট ডিসলোকেশন' বা নিজের হাড়ের জ'য়ে'ন্টকে সাময়িকভাবে স্থা'নচ্যু'ত করা। এটি এক চরম আ'ত্মঘা'তী এবং অবিশ্বাস্য রকমের য'ন্ত্র'ণাদায়ক প্রক্রিয়া। এনজো তার দাঁতে দাঁত চেপে, নিজের ফু'সফু'সের সমস্ত বা'তাস আ'টকে রেখে, এক তী'ব্র ঝ'ট'কায় তার ডান হাতের কবজি আর কনুইয়ের হাড়ের জ'য়েন্টটাকে নিজের ইচ্ছায় ম'ট'কে দিল। যাতে কবজির ঘেরটা ছোট হয়ে যায়।

"উফফ..." এক সুগভীর, অবরুদ্ধ গোঙানি তার ক'ণ্ঠনা'লী চিরে বেরিয়ে এল, কিন্তু সে কোনো চি'ৎকা'র করল না। হা'ড়ের জয়েন্ট সরে যাওয়ার সাথে সাথে তার হাতটি এক মুহূর্তের জন্য নমনীয় হয়ে গেল এবং মাং'স কাঁপিয়ে সে দড়ির ফাঁক দিয়ে নিজের র'ক্তা'ক্ত হাতটি বের করে আনল। কিন্তু হাত বের হলেও হা'ড়ে'র তী'ব্র য'ন্ত্র'ণায় সে প্রায় অ'ন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।সে এই র'ক্তা'ক্ত হাত দিয়ে কোনো মতে দড়ি হালকা করে তার অন্য হাতটিও বের করে আনলো।ব্য'থায় তার হাত টনটন করছে আর যেন তা হৃ'দপি'ণ্ডে গিয়ে বি'ধছে ।না চাইতেও তার মুখ থেকে গো'ঙা'নি বের হয়।

এই অল্প শব্দ পেতেই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল ডেইগোর লোক। তার হাতে একটি স্বয়ংক্রিয় রা'ই'ফেল, কোমরে ঝুলছে একগুচ্ছ চাবি আর একটা ছু'রি।সে ডুকতেই এনজো তাড়াতাড়ি হাত পিছনে নিয়ে মাথাটা জুলিয়ে রাখলো চোখদুটো বন্ধ করে ।

লোকটা এনজোর নিস্পন্দ দেহটার দিকে তাকিয়ে এক তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। ডেইগোর কড়া নির্দেশ বন্দি যেন ম'রে না যায়, তাকে জ্যা'ন্ত রেখে তিলে তিলে শে'ষ করতে হবে।লোকটি এনজোর একদম সামনে এসে দাঁড়াল। এনজো তার মাথাটা এমনভাবে বুকের ওপর ঝুলিয়ে রাখল, যেন সে সম্পূর্ণ সংজ্ঞাহীন, মৃ'ত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।

"এই S*n of b*tch, ম'রলি নাকি?"

লোকটি এনজোর চিবুক লক্ষ্য করে বুট দিয়ে একটা হালকা লা'থি মা'রল।এনজো কোনো সাড়া দিল না, শুধু তার বুকটা এক অদ্ভুত, অসম ছন্দে কাঁ'পতে লাগল। সে তার পেটের ভেতরের সমস্ত বাতাস এক লহমায় অবরুদ্ধ করে ফেলল। মাফিয়া আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক অত্যন্ত গোপন ও প্রাচীন ট্রিক, যার মাধ্যমে ক্ষ'ণিকের জন্য হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসের গতিকে এমন এক স্তরে নামিয়ে আনা যায়, যা দেখে যে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরও মনে হবে মানুষটি মৃ'ত। এনজোর শ'রী'রটা এক ঝটকায় ধ'নু'কের মতো বেঁকে গিয়ে আবার একদম নি'থ'র হয়ে গেল। তার খোলা ডান চোখটি স্থির,

"হেই! মা'দা'রফা'কা'র! উঠ!"

লোকটি চটজলদি চাউনিতে এবার কিছুটা ভয়ের ছায়া পড়ল। ডেইগো যদি জানতে পারে এনজো মা'রা গেছে, তবে তাকে জ্যা'ন্ত পু'ড়ি'য়ে মা'রবে।

সে তড়িঘড়ি করে তার রা'ইফে'লটা দেওয়ালে হেলান দিয়ে রেখে এনজোর সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। তার হাতটা এনজোর গলার ক্যারোটিড আর্টারির ওপর রাখল পা'লস চেক করার জন্য।

ঠিক এই মারাত্মক, অবধারিত মুহূর্তটির জন্যই এনজো তার জীবনের শেষ শক্তিটুকু সঞ্চয় করে অপেক্ষা করছিল।যখনই লোকটির মুখটা এনজোর মুখের মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরত্বে এল, এনজো তার ডান চোখ মেললো। লোকটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই, এনজো তার সমস্ত য'ন্ত্রণাকে একপাশে ঠেলে লোকটার মাথা দুহাত দিয়ে চে'পে ধ'রে নিজের মা'থাটা এক প্র'লয়ংকরী শ'ক্তিতে সামনের দিকে আ'ছড়ে ফেলল।

এক সুগভীর, ভয়ংকর হা'ড় ভা'ঙা'র শব্দ। এনজোর শ'ক্ত কপালটা সজোরে গিয়ে আ'ঘা'ত করল লোকটির নাকের ডাঁটায়। সেই তীব্র হেডবাটের আ'ঘা'তে লোকটির নাকের হা'ড় ভে'ঙে ম'গ'জের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার উপক্রম হলো।

চোখ ফে'টে র'ক্ত বেরিয়ে এল তার। সে য'ন্ত্র'ণায় চি'ৎকা'র করতে চাইল, কিন্তু তার আগেই এনজো তার আসল মাস্টারমাইন্ড চালটি চালল।

সে লোকটির কোমরে থাকা সেই ধা'রা'লো ছু'রিটা এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে হাত দিয়ে হেঁ'চ'কা টানে বের করে নিয়ে এলো। ডান হাত দিয়ে লোকটির মু'খ চে'পে ধরে, পেছনের হাত দিয়ে ছু'রি'টা ঘুরিয়ে সে সোজা গেঁ'থে দিল লোকটির গলার শ্বা'স'না'লীতে।

গ'লা চি'রে তা'জা র'ক্তে'র এক উষ্ণ ফো'য়ারা ছি'টকে এসে লাগল এনজোর ফ্যাকাশে মুখে। লোকটির চো'খ দুটো উ'ল্টে গেল, কোনো শব্দ করার সুযোগ পেল না সে। এনজো তার মুক্ত হাত দিয়ে লোকটির নি'থ'র দে'হের পকেট থেকে চাবির গোছাটা ছিনিয়ে নিল।

পরবর্তী দশ সেকেন্ডের মধ্যে সে নিজের পায়ের বাঁধন খুলে মেঝের ওপর ধ'সে পড়ল। তার স্থা'নচ্যু'ত বুড়ো আঙুলটা তখনো ঝু'লছে, সারা শ'রী'র থেকে ঘা'ম আর র'ক্তে'র স্রো'ত বইছে। কিন্তু এনজোর ঠোঁটের কোণে তখন ফুটে উঠেছে এক বিজয়ী ক্রুর হাসি।

সে লোকটির জ্যাকেটের ওপর নিজের র'ক্ত'মা'খা হাতটা মুছে দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখা রা'ইফে'লটা তুলে নিল।

লোহার দরজাটা পেরোনোর সময় এনজোর মনে হলো তার নিজের শ'রী'রটাই যেন এক টু'ক'রো গ'লি'ত সি'সা। ডেইগোর রডের আ'ঘা'তে পিঠের চা'ম'ড়া ছিঁ'ড়ে মাং'স লে'প্টে গেছে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে পাঁ'জ'রের ভা'ঙা হা'ড়গুলো ফু'সফু'সের দেওয়ালে ক'রা'তের মতো বিঁ'ধ'ছে। কিন্তু সবচেয়ে পৈ'শা'চিক য'ন্ত্র'ণাটা হচ্ছিল তার ডান হাতে। মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে নিজের ইচ্ছায় হাড় ডি'সলো'কেট করে দ'ড়ির খাঁ'চা ভে'ঙেছে সে মেঝের উপর চা'প দিয়ে হা'ড়'টা জয়েন্টে ফিরিয়ে আনলেও ভেতরের লিগামেন্ট আর পেশিগুলো তখনো এক তী'ব্র, অবর্ণনীয় অ'ব'শ য'ন্ত্র'ণায় কাঁ'প'ছে। ভা'ঙা ন'খ উ'প'ড়া'নো আঙুলগুলো দিয়ে রা'ই'ফে'লটা চে'পে ধরতেই তার চোখের সামনে এক মুহূর্তের জন্য ঘো'র অন্ধকার নেমে এল। সে দাঁতে দাঁত চেপে নিজের ওষ্ঠাধর কা'ম'ড়ে ধরল, যাতে মুখ চিরে একটাও দুর্বলতার গো'ঙা'নি বেরিয়ে না আসে।

বেসমেন্টের সেই স্যাঁতসেঁতে, আলো-আঁধারি করিডোরটা পেরিয়ে এনজো সামনে একটা সরু, খাড়া কাঠের সিঁড়ি দেখতে পেল। প্রতিটি ধাপে পা রাখামাত্রই তার শ'রী'রের ব্য'থা আরো তীব্র হচ্ছে । তার ডান হাতটা রা'ইফে'লের ভারে অ'ব'শ হয়ে আসছিল, হা'ড়ে'র ভেতরের সেই দ'গদ'গে ব্য'থা তার ম'গ'জের প্রতিটি শি'রা'কে অ'ব'শ করে দিতে চাইছে।

সিঁড়ির শে'ষ মাথায় থাকা ছোট কাঠের দরজাটি সে অত্যন্ত সাবধানে, নিঃশব্দে এক ইঞ্চি পরিমাণ ঠেলে খুলল। বাইরের মৃদু ভোরের আলো আর ঠান্ডা বাতাস তার র'ক্তা'ক্ত মুখে এসে লাগল। জায়গাটা একদম নির্জন, সম্ভবত মোরালেসদের এই গোপন সেফের পেছনের কোনো পরিত্যক্ত বে'জমে'ন্ট।

এবার তার চোখ গেল মাত্র বিশ গজ দূরে থাকা আরেকটি লোহার কোলাপসিবল গেটের দিকে। গেটের ওপাশে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ডেইগোর আরও দুজন স'শ'স্ত্র পাহারাদার। তারা নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলায় ব্যস্ত।

এনজো জানত, এই অবস্থায় সামনাসামনি লড়াইয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক স'ক্ষ'মতা তার নেই। তার ডান হাতের কবজি যেকোনো মুহূর্তে রাইফেলের রিকয়েল সহ্য করতে না পেরে আবার ম'চ'কে যেতে পারে। তাকে এক শটেই খেলা খতম করতে হবে।

সে দেওয়ালের আড়ালে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত দক্ষ মাফিয়া কি'লা'রের মতো রা'ই'ফেলের ম্যা'গা'জিন রিলিজের ছোট লি'ভারটা বুড়ো আঙুল দিয়ে সামান্য চাপল। অত্যন্ত ধীর গতিতে, স্প্রিংয়ের কোনো শব্দ না করে সে ম্যাগাজিনটা একটুখানি নিচে নামিয়ে আনল। ভোরের সেই ম্লান আলোয় সে দেখে নিল ভেতরের স্প্রিংয়ের ওপর চকচকে ব্রাসের বু'লে'টগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে ম্যাগাজিন ফুল। এরপর কোনো ধাতব শব্দ না করে, অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে সে ম্যাগাজিনটা আবার রা'ইফে'লের বডিতে পুশ করে লক করে দিল। পুরো প্রক্রিয়াটায় একটুও শব্দ হলো না, যা কেবল এনজোর মতো কোনো মাস্টারমাইন্ডেরই সাধ্য।

এবার রা'ইফে'লটা তা'ক করার জন্য তাকে তার সেই ক্ষ'তবি'ক্ষ'ত ডান হাতটাই ব্যবহার করতে হবে। এনজো রাইফেলটা তুলে কাঁধে ঠেকাতেই তার ডান হাতের জয়েন্ট থেকে এক তী'ব্র, অ'ব'শ করে দেওয়া য'ন্ত্র'ণার ঢেউ তার মে'রুদ'ণ্ড বেয়ে নেমে গেল। তার আঙুলগুলো কাঁ'প'ছিল, কপাল বেয়ে ঠাণ্ডা ঘা'ম ঝরঝর করে ঝরছিল। সে তার বা হাত দিয়ে রা'ইফে'লের ব্যারেলটা শক্ত করে চেপে ধরল এবং ডান হাতের সেই হা'ড়ের তীব্রতম ব্যা'থাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিজের সমস্ত মনোযোগ এনে দাঁড় করাল রা'ইফে'লের সাইটের ওপর।

সে একটা দীর্ঘ শ্বাস নিল, পাঁ'জ'রের ব্য'থাটাকে এক মুহূর্তের জন্য মন থেকে মুছে দিল।সাইলেন্সার লাগানো রা'ইফে'ল থেকে পরপর দুটি বু'লেট কুয়াশা চিরে ছিটকে বের হলো।এক চুলও নি'শা'না লড়ল না। প্রথম বুলেটটি পেছনের লোকটার মা'থা'র ভে'তর ভে'দ করে গিয়ে নি'স্পন্দ করে দিল। দ্বিতীয় গার্ডটি কিছু বুঝে ওঠার জন্য ঘোরার আগেই আরেকটি বু'লে'ট তার কন্ঠনালী চি'রে বেরিয়ে গেল। একটি আর্তনাদ করার সুযোগও পেল না তারা। ভারী বুটজোড়া মেঝের বালিতে এক কর্কশ ঘষা খেয়ে দুজনের নি'থর দেহ ছি'টকে পড়ল মে'ঝের ওপর। তাদের হাতের অ'স্ত্রগু'লো ধা'তব শব্দ করে ছড়িয়ে গেল চারপাশে।

এনজো রা'ইফে'লটা নামিয়ে এক বুক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার ডান হাতটা এবার পুরোপুরি অ'ব'শ হয়ে ঝু'ল'তে শুরু করেছে।গার্ড দুটোর নি'থর দে'হ পেরিয়ে সে ধীর কদমে সামনের দিকে এগিয়ে গেল।গেইট পার হতেই ভোরের হিমশীতল হাওয়া তার পিঠের ক্ষ'তে'র ওপর চা'বু'কের মতো বিঁ'ধছিল। কিন্তু যতই এগোচ্ছিল, তার অ'বশ মগজের কোণে এক অদ্ভুত, বিজাতীয় চেনা অনুভূতির জন্ম নিচ্ছিল। এই জায়গাটা তার চেনা চেনা লাগছে ।

সে আরও কয়েক কদম এগোতেই এক চরম বিস্ময়ে থমকে দাঁড়াল। সামনের বাড়িটি তার খুব চেনা। এনজো এবার বুঝতে পারলে মোরালেসরা আসলে কার সাথে হাত মিলিয়েছে ।রা'গে আর ক্রো'ধে তার বাম হাতটা একটু মু'ষ্টিব'দ্ধ হয়ে গেল।

তারপর সে প্রধান গেইটের দিকে পা বাড়াল। কিন্তু মাত্র চার কদম যাওয়ার পরই তার ম'স্তিষ্ক এক সতর্কবার্তা পাঠাল। সে কী করছে? এই তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় আর হা'ড় স্থা'নচ্যু'তির অ'সহ্য ব্য'থায় তার ম'গজ কি বি'কল হয়ে গেছে? ডেইগো যদি তাকে এই বাড়িতে বন্দি করে থাকে, তবে মেইন গেট কখনোই ফাঁকা থাকবে না।

সেখানে নি'র্ঘা'ত সা'পে'রা ও'ত পেতে আছে।

এনজো চটজলদি সিদ্ধান্ত নিল। সে গেটের দিক থেকে নিজের অভিমুখ ঘুরিয়ে বাড়ির এক কোণে থাকা ঘন পাইন ও সাইপ্রেস গাছের অন্ধকারের দিকে এগিয়ে গেল। সেখানে বাউন্ডারি ওয়ালের উচ্চতা কিছুটা কম। ভা'ঙা নখ আর অ'ব'শ হয়ে যাওয়া ডান হাতটা দিয়ে সে পাথুরে দেওয়ালের খাঁজগুলো আঁ'ক'ড়ে ধরল। পাঁজরের ভা'ঙা হা'ড়গু'লো যেন তী'ব্র চি'ৎকারে জানান দিচ্ছিল তার অক্ষমতা, কিন্তু পালানোর আদিম তাগিদ তাকে দেওয়ালে টেনে তুলল। আর মাত্র এক ইঞ্চি... দেওয়ালের ওপাশেই স্বা'ধী'নতা'র উ'ন্মু'ক্ত বাতাস। সে যখন প্রায় দেওয়াল টপকে ওপারে লাফ দিতে যাবে।

তখনই হঠাৎ কুয়াশা চিরে একটা সা'ইলে'ন্সার লাগানো পি'স্ত'লের বু'লে'ট এসে নিখুঁত নিশানায় এনজোর ডান পায়ের কাফ মাসেল চি'রে হা'ড়ের ভেতর সেঁধিয়ে গেল।

"আহহহহ!"

এক সুগভীর, পৈ'শা'চি'ক য'ন্ত্র'ণার আ'র্ত'নাদ চি'রে গেল ভোরের নিস্তব্ধতা। এনজো দেওয়ালে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে নিচে আ'চড়ে পড়লো। তার পায়ের ক্ষ'ত থেকে তা'জা, ফি'নকি দেওয়া গরম র'ক্ত মুহূর্তেই ঘাসের ডগাগুলোকে লা'ল করে তুলল। হাত থেকে রা'ইফে'লটা ছিট'কে গেল বহুদূরে। সে য'ন্ত্র'ণায় মাটিতে গ'ড়াগ'ড়ি খেতে খেতে নিজের পা চেপে ধরল, তার চোখ তখন য'ন্ত্র'ণার তী'ব্রতায় উ'ল্টে যাওয়ার উপক্রম।

তার দিকে এগিয়ে এল এক দীর্ঘ অবয়ব। তার ঠোঁটের কোণে ঝুলছে এক পৈ'শা'চিক, বিজয়ী অট্টহাসি। ডেইগো মোরালেস। তার ডান হাতে চকচক করছে একটা খোদাই করা গ্ল'ক পি'স্ত'ল, যার ব্যা'রেল থেকে তখনো হালকা নীল ধোঁয়া উড়ছে।

ডেইগো এনজোর র'ক্তা'ক্ত, নি'স্পন্দ প্রায় শ'রী'রের সামনে এসে দাঁড়াল। সে তার বুট দিয়ে এনজোর ছি'টকে যাওয়া রা'ইফে'লটাকে লা'থি মে'রে অনেক দূরে ফেলে দিল। তারপর অত্যন্ত নিচু, হিসহিসিয়ে ওঠা সা'ইকো'প্যা'থিক সুরে বলতে শুরু করল,

"প্রথমবার আমি আমার ডলের ক্ষেত্রে যে বোকামিটা করেছিলাম... একই বোকামি আমি আর দ্বিতীয়বার করব না, এনজো ভ্যালেন্টিনো।"

ডেইগো একটু নিচু হলো। তার চোখ দুটোতে তখন এক খাঁটি শ'য়'তানের উ'ল্লাস। সে এনজোর চুলের মুঠিটা স'জোরে টেনে ধরে তার মাথাটা পেছনের দিকে হেলে দিল, যাতে এনজো বাধ্য হয় তার দিকে তাকাতে। তারপর তার সেই পি'স্ত'লের ঠান্ডা, ই'স্পাতকঠিন ব্যা'রেলটা সোজা চেপে ধরল এনজোর ক'পালে, ঠিক দুই ভ্রুর মাঝখানে।

কপালে চে'পে বসা পি'স্ত'লের হিমশীতল, ইস্পাতকঠিন স্পর্শে এনজোর অ'ব'শ স্না'য়ুগুলো এক মুহূর্তের জন্য নি'স্পন্দ হয়ে গেল। তার ডান পায়ের ক্ষ'ত থেকে ফি'ন'কি দিয়ে বের হওয়া র'ক্ত তখন ঘাসের উপর জমাট বাঁধছে। সে বুঝল, তার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছে।তার জীবনপ্রদীপ আজ এই কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের আলোয় নি'ভে যেতে চলেছে।

কিন্তু আরওয়াইনদের বী'রেরা তো এভাবে নতজানু হয়ে হার মানতে শেখেনি। মৃ'ত্যুর শেষ সীমানায় দাঁড়িয়েও তাদের র'ক্তে প'রাজয়ের গ্লা'নি মেশে না।ডেইগো মোরালেস যখন তার ঠোঁ'টের কোণে সেই পৈ'শা'চিক, বিজয়ী হাসি ফুটিয়ে এনজোর শেষ গো'ঙানি শোনার জন্য কিছুটা নিচু হলো, ঠিক সেই অসতর্ক মুহূর্তেই এনজোর ভেতরের ঘু'ম'ন্ত সিংহ শেষবারের মতো গ'র্জে উঠল। শরীরের সমস্ত ক্ষ'ত, পাঁ'জরের ভা'ঙা হা'ড়ের ম'রণকা'মড় আর পায়ের তীব্র য'ন্ত্র'ণাকে এক অলৌকিক আ'ক্রোশে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এনজো তার সর্বশক্তি দিয়ে ডেইগোর কলার খা'ম'চে ধরল।

এক প্রচণ্ড হ্যাঁচকা টা'নে সে ডেইগোর ভারসাম্যলীন শ'রী'রটাকে নিজের গায়ের ওপর টেনে নিয়ে সজোরে আ'ছ'ড়ে ফেলল।ডেইগোর হাত থেকে মুহুর্তেই পি'স্ত'লটা ছিটকে ঘাসের ওপর পড়ে গেল। এনজোর এই আকস্মিক, অবিশ্বাস্য প্রত্যাঘাতে ডেইগো এক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এনজোর শরীর তখন এক ভা'ঙা ক'ঙ্কা'লের মতো দু'র্ব'ল। দীর্ঘ ট'র্চা'রের ধকল তার পেশিগুলোকে অ'বশ করে দিচ্ছিল। তবুও, সেই র'ক্তা'ক্ত ঘাসের ওপর দুজনের মাঝে কয়েক সেকেন্ডের এক তীব্র, দো'স্তাদো'স্তি শুরু হলো।

ডেইগো তার সর্বশক্তি দিয়ে এনজোকে নিজের ওপর থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল, আর এনজো এক আদিম আক্রোশে তাকে চেপে ধরে রেখেছিল। তখন দূর থেকে ডেইগোর বাকি রক্ষীদের চিৎকার কুয়াশা চিরে ধেয়ে আসতে লাগল। তারা খুব কাছে চলে এসেছে।

এনজো ঝাপসা চোখে চারদিকে তাকাল। তার রা'ইফে'ল আর ডেইগোর পি'স্ত'ল দুটোই তার নাগালের অনেক বাইরে পড়ে আছে। তার বুকের ভেতর তখন ডেইগোর প্রতি এক অবর্ণনীয়, জ্ব'ল'ন্ত ক্ষো'ভে'র দা'বান'ল। এই সা'ইকো'প্যা'থটা তার বোনকে জি'ম্মি করার হুমকি দিয়েছে, তার আত্মাকে ক্ষ'তবি'ক্ষ'ত করেছে।রিভেনকে শেষ করতে চেয়েছে ।

ডেইগো প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর এসে তার ডান হাতের ন'খ'গুলো প্লা'য়ার্স দিয়ে উ'প'ড়ে ফেলেছিল, কিন্তু তার বাম হাতের দ্বিতীয় আঙুলের নখটা এখনো অ'ক্ষুণ্ন রয়েছে। এই হাতের ন'খ উ'পড়া'নোর সময় এখনো ডেইগোর হয়ে ওঠেনি।নখটা তুলনামূলক বড় আর ধা'রা'লো।

এনজো তার বাম হাতটা ওপরে তুলল এবং নিজের সমস্ত পুঞ্জীভূত আ'ক্রোশ এক বিন্দুতে এনে ডেইগোর ডা'ন চো'খের ভে'তর সোজা গেঁ'থে দিল।

"আহহহহহ! মাই আই! আমার চোখ!"

ডেইগোর কণ্ঠ চিরে এক গ'গ'নবিদারী, পৈ'শা'চিক আ'র্ত'নাদ বেরিয়ে এল। এনজোর ধা'রা'লো ন'খ ডেইগোর ডান চোখের মণিটা এক নিমেষে এ'ফোঁ'ড়-ও'ফোঁ'ড় করে দিয়েছে।এনজো এবার তার হাতে সমস্ত শক্তি দিয়ে ডেইগোর ডান চোখের মধ্যে জোরে জোরে কয়েকটা ঘু'ষি দিল। ডেইগোর চোখের কোটর থেকে তা'জা, গরম র'ক্ত লা'ভা'র মতো ছিটকে বের হয়। ডেইগো য'ন্ত্র'ণায় উ'ন্ম'ত্তের মতো ছটফট করতে করতে এনজোকে এক প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল এবং নিজের চো'খ চে'পে ধরে মাটিতে লু'টিয়ে পড়ল। তার আঙুলের ফাঁ'ক দিয়ে তখন র'ক্তে'র ধারা ঘাসের ওপর বইছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢুকল ডেইগোর এক ডজন সশস্ত্র রক্ষী। তাদের ঠিক পেছনেই এগিয়ে এলেন ডেইগোর বাবা ফ্র্যাঙ্ক মোরালেস এবং তাঁর পাশে থাকা আরেক দীর্ঘকায়, রহস্যময় পুরুষ।ফ্র্যাঙ্ক মোরালেস সাথে সাথে চি'ৎকা'র করে ডেইগোর কাছে গেলেন ।

এনজো মাটিতে পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে হাঁপাচ্ছিল, তার চোখ তখনো ডেইগোর র'ক্তে'র স্বাদে উ'ন্ম'ত্ত। কিন্তু ফ্র্যাঙ্কের সাথে আসা দ্বিতীয় লোকটার অবয়ব ভোরের আলোয় স্পষ্ট হতেই এনজোর চোখ দুটো এক পরম বি'স্ময়ে আর ঘৃ'ণায় কুঁ'চকে গেল। সে চিনতে পেরেছে এই মুখ। বাড়ি দেখেও চিনতে পেরেছিল। তবে এর সাথেই মোরালেসরা শেষ পর্যন্ত হাত মিলিয়েছে।কিন্তু সেই সত্যটা রিভেনকে আর জানানোর সুযোগ এনজোর নেই।

লোকটি এক চুলও সময় নষ্ট করল না। ডেইগোর সেই র'ক্তা'ক্ত আ'র্ত'নাদের মাঝে সে অত্যন্ত শীতল, অনুভূতিহীন চোখে এনজোর দিকে তাকাল। তার কোটের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল এক রু'পো'লি সা'ইলে'ন্সার লাগানো রি'ভ'লবার। সে ধীর পায়ে এনজোর র'ক্তা'ক্ত নিস্পন্দ প্রায় শরীরের একদম শিয়রে এসে দাঁড়াল।

লোকটা ঠান্ডা মাথায় রি'ভ'লবা'রের নলাটি সোজা তা'ক করল এনজোর ক'পাল বরাবর ।ঠিক দুই ভ্রুর মাঝখানে, যেখানে এতক্ষণ মৃ'ত্যুর প'রোয়ানা লিখা ছিল।

এনজো তার ডান চোখটি মেলে শেষবারের মতো ভোরের সেই ধূসর আকাশের দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে তখনো ডেইগোর চোখ উ'প'ড়ে নেওয়ার এক বিজয়ী, অহংকারী হাসি।

কুয়াশার মাঝে সা'ইলে'ন্সারের এক মৃদু শব্দ হলো। একটি ত'প্ত বু'লে'ট এনজোর কপাল চি'রে সো'জা ম'গজে সেঁ'ধি'য়ে গেল। এনজোর সুদৃঢ় শরীরটা শেষবারের মতো কেঁপে উঠে চি'রত'রে নি'স্প'ন্দ হয়ে গেল। তার চোখের মণি দু'টো স্থি'র হয়ে আকাশের দিকে চেয়ে রইল।

To be continue,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন