#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা
পর্ব ৪৯
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
এনজো মা'রা গেছে আজ তিন দিন হয়ে গেল।এই তিনটি দিন কারুসো সাম্রাজ্যের প্রতিটি অলিতে-গলিতে, প্রতিটি ডেরায় এবং মূল টেরিটরির প্রতিটি উঁচুতম ভবনের চূড়ায় কেবল একটি কালো শোকের পতাকা নি'থর হয়ে বাতাসে উড়ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডে আছে কেবল এক সুগভীর, দমবন্ধ করা নীরবতা। পুরো সাম্রাজ্য যেন এক অখণ্ড, পৈ'শা'চি'ক আঁধারে নিমজ্জিত হয়ে আছে।
সেই শোকের আড়ালে রিভেন আরওয়াইনের হোম অফিস পরিণত হয়েছিল এক জীবন্ত যুদ্ধের কন্ট্রোল রুমে। ডেইগো মোরালেসকে খুঁজে বের করার জন্য রিভেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেটওয়ার্ক এবং আদিম হিং'স্র'তা একবিন্দুতে এনে ঢেলে দিয়েছিল।
পরের ৪৮ ঘণ্টায় পুরো ইতালি এবং স্পেনের মাফিয়া করিডোরে এক অভূতপূর্ব তোলপাড় শুরু হলো। যে ট্রাকে করে এনজোর লা'শ ফেরত পাঠানো হয়েছিল,রিভেনের হিটস্কোয়াড ট্রাকের চালক এবং হেল্পারকে তুলে নিয়ে আসে ম্যানশনের ভূগর্ভস্থ ট'র্চা'র সেলে। রিভেনের বরফশীতল চোখের সামনে তাদের ওপর চলে নৃ'শং'সতম জিজ্ঞাসাবাদ। কিন্তু চা'বুক আর র'ডের নিচে চা'ম'ড়া ছিঁ'ড়ে হা'ড্ডি বেরিয়ে এলেও তারা একই আ'র্তনাদ করে গেল তারা কিচ্ছু জানে না।
রোমের এক নির্জন হাইওয়ের ধারের ধাবা থেকে এক বেনামী ফোন কলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই পার্সেলটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের।লোকগুলো আন্ডারওয়ার্ল্ডের কেউ নয়, সাধারণ দিনমজুর ডেইগো নিজের কোনো চিহ্ন রাখেনি।
রিভেনের নির্দেশে সাইলাস রাতভর জাগতিক সমস্ত হ্যাকিং প্রোটোকল ভে'ঙে সেই হাইওয়ের এবং আশেপাশের সমস্ত অঞ্চলের সরকারি সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট ফুটেজ ডাম্প করতে শুরু করে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে দেখা গেল, ঠিক যে সময়ে পার্সেলটি ট্রাকে লোড করা হয়েছিল, সেই নির্দিষ্ট ৩০ মিনিটের জন্য ওই রুটের পুরো লোকাল গ্রিডের পাওয়ার সাপ্লাই এবং সার্ভার সম্পূর্ণ বিকল বা ব্ল্যাকআউট করে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশ ও স্টেট ইন্টেলিজেন্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে রিভেনের এক চরম পার্সোনাল সং'ঘা'ত ও ঝামেলা তৈরি হয়। রিভেন তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ডিপার্টমেন্টের ওপর চড়াও হলেও, পুলিশের নথিতেও ওই সময়ের কোনো ক্লু ছিল না।
বিষয়টা এমন নয় যে রিভেন আরওয়াইন ব্যর্থ হচ্ছিল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই সর্বাধিনায়ককে ব্যর্থ করার ক্ষমতা ডেইগো মোরালেসের মতো এক চুনোপুঁটির নেই। আসলে, পুরো খেলাটার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক অন্য মাস্টারমাইন্ডের অদৃশ্য হাত। রিভেনের তীক্ষ্ণ মাফিয়া চোখ সেই সত্যটা ধরতে এক সেকেন্ডও ভুল করেনি। এই নিখুঁত পাওয়ার ব্ল্যাকআউট, সরকারি সার্ভার হ্যাক করে ৩০ মিনিটের জন্য পুরো অঞ্চলের ট্র্যাকিং ডিলিট করে দেওয়া এসব ডেইগোর মতো এক উ'ন্মা'দের একার বুদ্ধিতে হওয়া অসম্ভব।
কেউ আড়াল থেকে ডেইগোকে এই স্টেট লেভেল ব্যাকআপ দিচ্ছিল।এদিকে, আরওয়াইন ম্যানশনের ভেতরের অন্দরমহল তখন এক গভীর ন'রককু'ণ্ডে পরিণত হয়েছিল। এরিকার ঘরের দরজাটা কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্ধ।মেয়েটাকে বুঝালে একটু বুঝে আবার উ'ন্মা'দের মতো আচরণ করে উঠে । তার মায়াবী চেহারায় এখন কেবলই এক আ'ত্মঘা'তী হিং'স্র'তা। সে বিছানার চাদর ছিঁ'ড়ে ফেলছে, কাঁচের গ্লাস ওয়ালে আ'ছড়ে ভা'ঙছে। তার একটাই আর্তনাদ সে তাদের বাড়িতে ফিরে যাবে, তার ভাইয়া নাকি সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছে। এই চরম সত্যটা তার অ'ব'শ ম'স্তি'ষ্ক কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।
আভা আর রোজেলিয়া মিলে যখন তাকে আর সামলাতে পারছিল না, তারা মার্কোকে খবর দিলো।মার্কো আর সাইলাস সোজা এরিকার ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল। ভেতর থেকে তখনো এরিকার ফুঁপিয়ে কান্নার আর জিনিসপত্র ভা'ঙা'র আওয়াজ আসছিল। মার্কো দরজায় হাত রাখতেই আভা ভেতর থেকে দরজাটা খুলে দিল। আভার নিজের চোখ দুটোও কান্নায় লাল হয়ে আছে। সে মার্কোকে দেখে ফিসফিসিয়ে বলল,
"ও কোনো ওষুধ কাজ করতে দিচ্ছে না, মার্কো। একটু শান্ত হলেই আবার এনজোর নাম ধরে চিৎকার করছে।"
মার্কো ঘরের ভেতর ঢুকল। মেঝের ওপর কার্পেটে বসে হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁপছিল এরিকা। তার অবিন্যস্ত চুলগুলো মুখের ওপর ছড়িয়ে আছে, আর সেই চুল ভেদ করে দেখা যাচ্ছে তার গালের ওপর নিজের নখের সেই শুকিয়ে যাওয়া র'ক্তে'র দা'গ।
মার্কো এরিকার সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। সে অত্যন্ত পরম মমতায় এরিকার দুই কাঁধে হাত দিতেই এরিকা মাথা তুলল। তার চোখ দুটোতে এক মুহূর্তের জন্য মার্কো যেন এনজোকেই দেখতে পেল।
"মার্কো..."
এরিকা এক আকুল আর্তনাদে মার্কোর শার্টের কলার খা'ম'চে ধরল।
"ওরা সবাই মিথ্যা বলছে, তাই না? তুমি তো ভাইয়ার সবচেয়ে ভালো বন্ধু, তুমি বলো ও বেঁচে আছে! ও আমাকে কানাডা নিয়ে যাবে বলেছিল... আমাকে ওই কাঠের বাক্সে ওটা কার লা'শ দেখিয়েছে ওরা? ওটা আমার ভাইয়া না! আমাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে চলো, প্লিজ!"
এরিকার এই বু'কচে'রা আকুতিতে মার্কোর বুকের ভেতরটা আবার চূ'র্ণ হয়ে যেতে চাইল। কিন্তু সে এবার ভাঙল না। সে এরিকার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরল। তার কণ্ঠস্বর আজ অদ্ভুত রকমের শান্ত এবং ইস্পাতের মতো দৃঢ়।
"এরিকা," মার্কো সোজা তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল।
"এনজো আমাদের ছেড়ে কোথাও যায়নি। ও এখানেই আছে... এই আমাদের ভেতরে। ও তোমাকে এভাবে নিজের মুখ ক্ষ'তবিক্ষ'ত করতে দেখার জন্য নিজের জীবনটা দেয়নি। ও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছে তোমার সুরক্ষার জন্য। তুমি যদি এভাবে নিজেকে শেষ করে দাও, তাহলে এনজোর ওই আত্মত্যাগটা যে বৃথা হয়ে যাবে বোন।"
এরিকা ছটফটানিটা আস্তে আস্তে কমে এল। এই তিনদিনে এরিকা মাঝে মাঝে শান্ত হয়ে যায় । আবারও তার কষ্ট বেড়ে যায়,
"খুব কষ্ট হচ্ছে আমার ।বু'কটা যেন ফে'টে যাচ্ছে ।কী করবো বলো ?"
মার্কো এরিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় ,
"আমি জানি কষ্ট হচ্ছে ।আজ তিনদিন হয়ে গেল এরিকা নিজেকে সামলাও । তুমি আমাদের কাছে এনজোর রেখে যাওয়া শেষ আমানত। তোমাকে ভালো রাখার দায়িত্ব এখন আমাদের। তুমি কি চাও না তোমার ভাইয়ার খু'নিদের চা'ম'ড়া আমি নিজের হাতে টে'নে ছিঁ'ড়ে ফেলি? চাও না ও শান্তিতে ঘুমাক?"
এরিকা কোনো কথা বলল না। সে শুধু বড় বড় চোখ করে মার্কোর দিকে তাকিয়ে রইল, তার চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু ঝরতে লাগল। কিন্তু তার ভেতরের সেই আ'ত্মঘা'তী উ'ন্মাদ'নাটা এবার এক শান্ত, গভীর শোকে রূপ নিল। সে মার্কোর বুকের ওপর মাথাটা এলিয়ে দিয়ে নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল। মার্কো তাকে জড়িয়ে ধরে ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা সাইলাসের দিকে চাইল।
_____________
বিশাল মেহগনি টেবিলটার চারপাশে আজ জড়ো হয়েছ মার্কো, সাইলাস, লরেঞ্জো, জ্যাকসহ মেইন স্কোয়াডের প্রত্যেকে। সবার পরনে কুচকুচে কালো স্যুট, চোখে ঠান্ডা হিং'স্র'তা।
"আজ পর্যন্ত এই আন্ডারওয়ার্ল্ডের এমন কোনো মিশন আছে, যা আরওয়াইন স্কোয়াড কমপ্লিট করতে পারেনি? এমন কোনো শত্রু আছে, যে আমাদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েছে? তাহলে ডেইগো মোরালেসের ক্ষেত্রে এসে তোরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিস কেন?! আমাকে জবাব দে!"
রিভেনের এই আকস্মিক গর্জনে পুরো রুমের রক্ষীরা পর্যন্ত কেঁপে উঠল। মার্কো আর সাইলাস মাথা নিচু করে রইল, তাদের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। রিভেনের ক্রো'ধ তখন চা'বু'কের মতো আ'ছড়ে পড়ছে তাদের ওপর।
"আমার টিম কি এভাবে ভেতরে ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়ছে?!"
রিভেন টেবিলের ওপর এক প্রচণ্ড ঘু'ষি মারল।
"এনজো চলে গেছে বলে তোদের হাতের নিশানা কি লড়তে শুরু করেছে? মোরালেসদের একেকটা আস্তানায় তোরা রেইড দিচ্ছিস, আর ওখান থেকে তোদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে! ডেইগো প্রতিবার আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ধোঁয়া হয়ে উড়ে যাচ্ছে। আরওয়াইনদের এই অক্ষমতা আমি আর এক সেকেন্ডও বরদাশত করব না।"
সে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার সেই তীক্ষ্ণ চোখ দুটো সাইলাসের ওপর স্থির করল।
"এখন থেকে মাথা খাটিয়ে, বুদ্ধি করে কাজ করতে হবে। পুরো শহর খুঁজে, ওদের ছোটখাটো আস্তানায় হা'ম'লা করে কোনো লাভ নেই। ডেইগো ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে থেকে আমাদের ওপর নজর রাখছে। আমাদের এখন সোজা ওর মেইন ডেরায় আ'ঘা'ত করতে হবে।"
" সো পুট অল ইয়োর রিসোর্সেস অন দিস, সাইলাস। মোরালেসদের মেইন হেডকোয়ার্টার, যেখানে বসে ডেইগো আর তার বাবা কারুসোদের ধ্বংসের ব্লু-প্রিন্ট বানাচ্ছে, সেই মেইন জায়গাটাই আমাদের ট্র্যাক করতে হবে"
রিভেন এবার আরও কয়েকজন গার্ডকে ডেকে কড়া গলায় বলবে,
"আর শোন, আমার বেডরুমের পাশে যে গেস্ট রুমটা আছে—"
তখনই রিভেনের ফোনের হাই-ভলিউম রিংটোনটা পুরো হলের নিস্তব্ধতা চিরে বেজে উঠবে। স্ক্রিনে একটা আননোন নাম্বার চকচক করছে। রিভেন ভ্রু কুঁচকে কলটা রিসিভ করে কানের কাছে নিতেই ওপাশ থেকে ইভানো কারুসোর কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো,
"রিভেন,রিভেন তোর-"
রিভেন ওপাশের কথা শেষ হওয়ার কোনো সুযোগ না দিয়েই খপ করে কলটা কেটে দেবে। পুরো হলরুম আবার স্তব্ধ হয়ে যাবে। রিভেন কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নিজের ভেতরের ক্ষো'ভটাকে শান্ত করবে, তারপর আবার গার্ডদের দিকে ফিরে তার অসম্পূর্ণ অর্ডারটা শেষ করে বলবে,
"আমার বেডরুমের পাশের গেস্ট রুমটাতে আজকের মধ্যেই আমার হোম অফিস শিফট করবে।"
গার্ডরা মাথা নিচু করে অত্যন্ত সম্মানের সাথে বলবে,
"ওকে,বস।"
মূলত রোজেলিয়া ইদানীং ঘুমের ঘোরে মাঝে মাঝেই প্রচণ্ড প্যা'নিক অ্যা'টাক করে জেগে উঠছে। আর রিভেন তো সারাক্ষণ বেডরুমে বসে মাফিয়া সাম্রাজ্যের সব কাজ সামলাতে পারবে না, আবার রোজেলিয়াকে একা ফেলে দূরেও যেতে পারছে না। তাই সে নিজের হোম অফিসটা বেডরুমের ঠিক পাশের ঘরে নিয়ে আসছে,যাতে রোজেলিয়ার যেকোনো প্রয়োজনে সে এক লহমায় তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।
গার্ডরা কাজ শুরু করার জন্য পা বাড়াতেই রিভেনের হাতের ফোনটা আবার তীব্র শব্দে কেঁপে উঠবে। সেই একই আননোন নাম্বার। রিভেন স্ক্রিনের দিকে এক পলক তাকিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে আবার কলটা কেটে দিয়ে ফোনটা টেবিলের ওপর সজোরে আছড়ে ফেলবে।
____________
রিভেন আলমারিটা খুলে এক জোড়া রুপোর নূপুর বের করে আনল।রোজেলিয়া কি'ডন্যা'প হওয়ার পর এগুলো রিভেন তার কোটের পকেটে নিয়ে চব্বিশটা ঘণ্টা ঘুরে বেড়াত। যখনই তার ভেতরটা আ'ক্রো'শে ফে'টে পড়তে চাইত, সে পকেটে হাত দিয়ে এই রুপোর ঠান্ডা স্পর্শে নিজের প্রেয়সীর অস্তিত্ব খুঁজে পেত। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল, যেদিন সে তার রোজ পেটালকে ফিরিয়ে আনবে, সেদিন নিজের হাতে এই নূপুর জোড়া তার পায়ে পরিয়ে দেবে।
রোজেলিয়া খাটের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।রিভেন খাটের ওপর রোজেলিয়ার একদম মুখোমুখি এসে বসল। তার দীর্ঘ, চওড়া শরীরটার ছায়ায় রোজেলিয়া যেন পুরোপুরি ঢাকা পড়ে গেল। রিভেন কোনো কথা না বলে নিজের দীর্ঘ, পেশিবহুল ডান পা-টা খাটের ওপর তুলে দিল এবং রোজেলিয়ার দুটি পা টেনে নিয়ে সোজা নিজের উরুর ওপর তুলে রাখল।
রোজেলিয়া চমকে উঠে তার সেই মায়াবী চোখ দুটো তুলে তাকাল। রিভেনের এই ভঙ্গিটা যেমন ডমিনেটিং, তেমনই এক অদ্ভুত তীব্র সুরক্ষামূলক আবেশে জড়ানো। রিভেনের শক্ত, পুরুষালি উরুর ওপর রোজেলিয়ার পা দুটো দেখতে এক পরম ও আদিম সৌন্দর্যের বৈপরীত্য তৈরি করল।
রিভেন তার আঙুলগুলো দিয়ে রোজেলিয়ার বাম পায়ের গোড়ালিটা আলতো করে চেপে ধরল। তার হাতের উষ্ণতা রোজেলিয়ার অবশ স্নায়ুগুলোতে এক বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল। সে নূপুরটা হাতে নিয়ে রোজেলিয়ার গোড়ালিতে অত্যন্ত ধীর লয়ে, নূপুরের প্রতিটি রুপোর ঘুঙুরকে রোজেলিয়ার পায়ের চামড়ার ওপর আলতো করে ঘ'ষতে ঘ'ষতে ওপরের দিকে তুলতে লাগল।
রুপোর সেই হিমশীতল আর ধারালো স্পর্শে রোজেলিয়ার শরীরটা মৃদু শিউরে উঠল, তার ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হয়ে গেল। রিভেন এক দৃষ্টিতে রোজেলিয়ার মুখের সেই সূক্ষ্ম অভিব্যক্তিগুলো দেখছিল। সে নূপুরটা তার গোড়ালির লকের কাছে এনে আটকে দিল।
রিভেন অপর পায়ের নূপুরটাও ঠিক একইভাবে, অত্যন্ত ধীর লয়ে রোজেলিয়ার চামড়ার ওপর স্লাইড করে এনে দ্বিতীয় গোড়ালিতে আটকে দিল। নূপুর জোড়ার সেই রূপোলি আভা আর মৃদু টুংটাং শব্দ ঘরের বিষাদগ্রস্ত গথিক অন্ধকারকে যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে দিল।
লকটা লাগানো শেষ হলেও রিভেন রোজেলিয়ার পা দুটো নিজের উরু থেকে নামিয়ে দিল না। সে তার রুক্ষ আঙুলগুলো দিয়ে রোজেলিয়ার পায়ের পাতা দুটোকে আলতো করে হাতের মুঠোয় পুরে নিল, যেন নিজের শরীরের সমস্ত উষ্ণতা সে তার ফ্যাকাশে প্রেয়সীর অবশ শরীরে ঢেলে দিতে চায়।
রিভেন তার চোখ দুটো তুলে সোজা তাকাল রোজেলিয়ার চোখের গভীরে। তার চাউনিতে ছিল এক আদিম, অবিচল অধিকারবোধ। সে অত্যন্ত নিচু, মখমলের মতো মসৃণ অথচ এক গভীর সুরক্ষামূলক স্বরে বলল,
"বলেছিলাম না রোজ, যা-"
"রিভেন! নিচে নেমে আয় শু'য়ো'রের বা'চ্চা!"
আচমকা এই গগনবিদারী চিৎকারে ম্যানশনের দেওয়ালগুলো যেন এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল। রিভেনের চোয়াল এক লহমায় পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল। সে রোজেলিয়ার পা দুটো নিজের উরু থেকে অত্যন্ত সাবধানে খাটের ওপর নামিয়ে রাখল এবং ঝড়ের গতিতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে গেল।
রোজেলিয়াও আর খাটে বসে থাকতে পারল না। তার ভেতরের এক অজানা আ'তঙ্ক তাকে টেনে তুলল। সে তার নবজাত নূপুর জোড়ার সেই অবাধ্য টুংটাং শব্দ বুকে চেপে ধীর, কম্পিত পায়ে রিভেনের পিছন পিছন সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
রিভেন যখন সিঁড়ি বেয়ে ড্রয়িংরুমে নেমে এল, তখন সেখানে এক ন'রককু'ণ্ড তৈরি হয়ে আছে। ইভানো কারুসো এক উ'ন্মা'দ পশুর মতো হলরুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছিলেন, তাঁর পেছনে তাঁর নিজস্ব কয়েকজন সশস্ত্র বডিগার্ড।
মার্কো, সাইলাস, জ্যাক আর লরেঞ্জো ততক্ষণে নিজেদের ব'ন্দু'কের সেফটি লক খুলে ইভানোর গার্ডদের দিকে তাক করে ফেলেছে।
রিভেন সিঁড়ির শেষ ধাপে পা রাখামাত্রই ইভানো কারুসো কোনো কথা না বাড়িয়ে এক প্রলয়ংকরী আ'ক্রো'শে রিভেনের দিকে তে'ড়ে এলেন। রিভেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইভানো তার দুই হাত দিয়ে রিভেনের শার্টের কলারটা খা'মচে ধরে পুরো শরীরের শক্তি এক বিন্দুতে এনে রিভেনের গা'লে সজোরে এক প্রচণ্ড থা'প্পড় বসিয়ে দিলেন।
সেই চ'ড়ের শব্দে পুরো ড্রয়িংরুমের বাতাস যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। রিভেনের মাথাটা এক পাশে ঘুরে গেল, তার ঠোঁটের কোণটা ফে'টে এক ফোঁ'টা তাজা র'ক্ত টপ করে মেঝের মার্বেলে এসে পড়ল।
জ্যাক আর মার্কো তৎক্ষনাৎ ইভানোর দিকে নিজেদের রা'ইফে'ল তা'ক করল। পুরো হলের রক্ষীরা একসঙ্গে ট্রি'গা'রে আঙুল চেপে ধরল আর মাত্র এক মিলিমিটার, তাহলেই ইভানোর মা'থাটা ঝাঁ'ঝ'রা হয়ে যাবে। কিন্তু রিভেন নিজের বাম হাতটা তুলে তার স্কোয়াডকে থামার ইশারা করল।
রিভেনের চোখ দুটো এতক্ষণ লাল ছিল, কিন্তু এখন সেই লাল আভা ছাপিয়ে এক পরম, খু'নে কা'লো ছটা বেরিয়ে এল। তার চোখ দিয়ে তখন যেন খাঁটি বি'ষ ছি'টকে বের হচ্ছে। সে মুখ খুলতেই ইভানো আবার তার কলারটা আরও জোরে ঝাঁকিয়ে পা'গ'লের মতো চিৎকার করে উঠলেন,
"হা'রা'মজা'দা! কু'ত্তা'র বা'চ্চা! তোকে কখন থেকে আমি ফোন করে যাচ্ছি, তুই বারবার আমার কল কেটে দিচ্ছিস কেন?"
ইভানোর নিজের চোখ দুটো তখন রা'গে আর আ'ত'ঙ্কে কো'টর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে রোজেলিয়া নিজের মুখে হাত দিয়ে এই বীভৎস দৃশ্য দেখছিল।
রিভেন আর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারল না। সে এক পৈ'শা'চিক শক্তিতে ইভানোর লোহার মতো শক্ত হাত দুটোকে নিজের কলার থেকে ধা'ক্কা মে'রে সরিয়ে দিল।
"হাউ ডেয়ার ইউ! তোমার এত বড় স্পর্ধা কী করে হয় ইভানো কারুসো?! এটা আমার বাড়ি, আমার টেরিটরি! এখানে এসে আমার গায়ে হাত তোলার সাহস তুমি পাও কোথা থেকে?"
রিভেন এক ম'রণঘাতী চাউনি নিয়ে নিজের বাবার দিকে আবার এক কদম তে'ড়ে গেল, তার ডান হাতটা অবচেতনভাবেই কোটের ভেতরের পি'স্ত'লের দিকে চলে যাচ্ছিল।
কিন্তু ইভানো কারুসো বিন্দুমাত্র ভয় পেলেন না। তিনি রিভেনের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন,
"তোর মা’র কোনো খবর আছে তোর?! তোর মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না,"
ইভানোর এই একটা বাক্য যেন পুরো হলরুমের ওপর এক বিশালাকার ব'জ্রপা'ত ঘটিয়ে দিল। রিভেনের তেড়ে আসা শরীরটা থমকে গেল। তার উত্তোলিত হাতটা অ'বশ হয়ে পাশে ঝুলে পড়ল।
তার ম'স্তি'ষ্কের সমস্ত শিরা-উপশিরা যেন এক মুহূর্তের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিল। তার সেই খু'নে, লাল চোখ দুটো এক পরম বিভ্রান্তি আর তীব্র আ'তঙ্কে কুঁচকে গেল।
"ম-মম...?"
রিভেনের কণ্ঠস্বর এবার পুরোপুরি জড়িয়ে গেল, তার চেনা গাম্ভীর্য এক লহমায় বিলীন হয়ে গেল। সে এক অবাস্তব ঘোরের মাঝে তোতলামো করে বলল,
"মম-কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে? কী বলছো তুমি এসব?"
" কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি, কনফারেন্সের মূল ভেন্যুতে এক ভয়াবহ বোমাবাজি আর ফায়ারিং হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই আমি আমার ফোর্স নিয়ে সেখানে পৌঁছাই। কিন্তু... কিন্তু পুরো ভেন্যুটা ধ্বং'সস্তূ'পে পরিণত হয়েছে। সেখানে মেহেরিন নেই! তাঁর সাথে চারজন টপ লেভেল এলিট গার্ড ছিল, তাদের র'ক্তা'ক্ত লা'শ পাওয়া গেছে ওখানকার করিডোরে। কিন্তু তোর মায়ের কোনো চিহ্ন নেই সেখানে! ওখানকার সিসিটিভি ক্যাসেট পর্যন্ত গায়েব"
ইভানোর এই প্রতিটি শব্দ যেন রিভেনের মাথায় এক একটি জ্ব'ল'ন্ত ব'জ্রপা'ত হয়ে আ'ছড়ে পড়ল। সে এক পা পিছিয়ে গেল। তার বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত শূন্যতায় হাহাকার করে উঠল। সকালে এতো ঝামেলায় থাকার কারণে মেহেরিন বাড়িতে আছেন কি নেই, সেদিকে রিভেনের বিন্দুমাত্র খেয়াল ছিল না। সে এতটাই অ'ন্ধ হয়ে ছিল যে নিজের মায়ের এই প্রস্থান তার চোখেই পড়েনি।
"ব-বস...আসলে আজকে সকালে চ্যারিটি কনফারেন্স থেকে একটা ইমার্জেন্সি কল এসেছিল ম্যামের পার্সোনাল ফোনে। একটা বড় ফান্ডের সিগনেচার বাকি ছিল। তাই মেহেরিন ম্যাম আজ সকালে চারজন এলিট গার্ড নিয়ে নিজেই স্পটে গিয়েছিলেন।"
সাইলাসের এই স্বীকারোক্তি শোনা মাত্রই রিভেনের মাথার ভেতরটা যেন দা'উদা'উ করে জ্ব'লে উঠল। এনজোকে হারানোর পর এই মাত্র তিন দিনের মাথায় ডেইগো মোরালেস এবার মেহেরিন কারুসোকে জি'ম্মি করেছে!
"এই কথা আমি এখন জানলাম কেন?! কার সাহসে এই খবর এতক্ষণ আমার থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে?!"
রিভেনের গলার শিরাগুলো ফু'লে উঠেছে, তার সেই হ্যাজেল চোখ দুটো থেকে খাঁটি আ'ক্রো'শের লা'ভা ছিটকে বের হচ্ছে। সে এক উ'ন্মত্ত প'শুর মতো লা'থি মে'রে সামনের কাচের টেবিলটাকে চূ'র্ণ-বিচূ'র্ণ করে দিল। ভা'ঙা কাচের টুকরোগুলো মেঝের মার্বেলে ছিটকে পড়ার কর্কশ শব্দ পুরো ঘরের গুমোট বাতাসকে আরও বি'ষা'ক্ত করে তুলল। তার ঠোঁটের কোণের র'ক্ত'টুকু ততক্ষণে শুকিয়ে কা'লচে হয়ে গেছে, কিন্তু তার বুকের ভেতর তখন নিজের মাকে হারানোর এক অন্ধ, লেলিহান ন'র'ককুণ্ড জ্বলছে।
ইভানো কারুসো তাঁর ছেলের এই হিং'স্র রূপ দেখে বিন্দুমাত্র দমে গেলেন না। তিনি নিজের অবিন্যস্ত চুলগুলো এক ঝটকায় পেছনে ঠেলে, এক সুগভীর তি'ক্ততা আর ভা'ঙা সিংহের গাম্ভীর্য নিয়ে হিসহিসিয়ে উঠলেন,
"তোর মা কি কোনোদিন কারও কথার পাত্তা দেয়, রিভেন? মেহেরিনকে আটকে রাখার সাধ্য এই আন্ডারওয়ার্ল্ডে কার আছে তুই জানিস না? সে নিজের অহংকারে, কারুসো সাম্রাজ্যের ফান্ডের খাতিরে নিজে গেছে-"
"খবরদার! আমার মায়ের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য আমি তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই না, ইভানো কারুসো! তুমি তাঁর কোনোদিন কদর করোনি, আজ তাঁর এই বিপদের দিনেও নিজের ক্ষো'ভ উগরে দিচ্ছো! জাস্ট শাট আপ!"
হলরুমের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা রোজেলিয়ার যেন কাপঁছিল যেহেতু সে ১ বছরের মেমোরি হারিয়েছে তাই ইভানো কারুসো তার কাছে নতুন একজন ।আর এতক্ষণেতো সে বুঝে গেছে যে এটা রিভেনের বাবা ।
ইভানো এক মুহূর্ত স্তব্ধ থেকে তেড়ে গিয়ে রিভেনের কলারটা আবার শক্ত মুঠিতে খা'মচে ধরলেন। এবার তাঁর চোখে ক্রো'ধ নয়, ছিল এক চরম বাস্তবতার নিষ্ঠুর অন্ধকার।
"এটা আমাদের একে অপরকে ঘৃণা করার সময় নয়, রিভেন! মেহেরিন কেবল তোর মা নয়, সে আমার এই কারুসো সাম্রাজ্যের অর্ধেক আত্মা! মোরালেসরা আমাদের ঘরে ঢুকে আমাদের স্ত'ম্ভ উপড়ে নিচ্ছে, আর আমরা এখানে নিজেদের র'ক্ত ঝরাচ্ছি? দিস ইজ নট দ্য টাইম ফর হেট্রেড, রিভেন! ও ডেইগোর কবজায়... আন্ডারস্ট্যান্ড?"
রিভেন আবারো ইভানোর হাত দুটোকে তীব্র ঘৃ'ণায় সরিয়ে দিল। সে দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে এক কুৎসিত, বি'ষা'ক্ত উপহাসের হাসি হাসল।
"আজ এই লম্বা লম্বা নীতিবাক্য কার মুখ থেকে শুনছি, ইভানো কারুসো? যে নিজের স্বার্থের জন্য একদিন ওই ডেইগো মা'দা'রফা'কারের সাথে হাত মেলাতেও দ্বিধা করেনি!তুমি হাত মেলাননি ওর সাথে?! আজকে তোমার সেই পার্টনারশিপের আভিজাত্য কোথায় গেল, লায়ন অব কারুসো?!"
রিভেনের সেই তীব্র খোঁটা আর নগ্ন সত্যের চা'বু'ক ইভানোর বুড়ো মাফিয়া র'ক্তে যেন এক বালতি ফু'ট'ন্ত সি'সা ঢে'লে দিল।
ইভানো কারুসো আর নিজের ভেতরের সেই আদিম পশুকে চেপে রাখতে পারলেন না। তিনি এক পা এগিয়ে এসে নিজের হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করলেন, তাঁর কপালের এবং গলার শিরাগুলো চা'ম'ড়া চি'রে বেরিয়ে আসতে চাইল। তিনি এক বু'কভা'ঙ্গা অথচ বজ্রগম্ভীর হাহাকারে পুরো ম্যানশন কাঁপিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন,
"রিভেন! এসব কথা টানার সময় এখন নেই! ডেইগো এখন যেমন তোর শত্রু, ঠিক তেমনি সে আমারও শত্রু! ড্যাম ইট!"
ইভানো তাঁর চেরা, খসখসে গলায় আবার বললেন, "সেদিন যা হয়েছিল তার একটা কারণ আছে কিন্তু আজ মেহেরিনের উপর হাত দিয়ে ডেইগো মোরালেসরা তাদের ডে'থ ওয়ারেন্ট সাইন করেছে। ও এখন তোর আর আমার মাঝখানের দেয়ালটা ভে'ঙে চুরমার করে দিয়েছে, রিভেন। ও এখন আমাদের দুজনেরই সমান শ'ত্রু"
To be continue,,,,,