ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৫০তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা

পর্ব ৫০

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

"এনজোর বেলা তোকে একটা সুযোগ দিয়েছিলাম রিভেন... বলেছিলাম, আমার ডলকে আমার বুকে ফেরত দে, আমি তোর ভাইকে অক্ষত তোর কাছে ফেরত দেব। তুই আমার ডলকে দিলি না, আর আমি তোর সাধের সেনাপতিকে কু'চি কু'চি করে কাঠের বাক্সে পুরে দিলাম! এবার খেলাটা আরও বড়, আরওয়াইন সাম্রাজ্যের লর্ড! এবার আমার খাঁচায় তোর জন্মদাত্রী, কারুসো বংশের রানী মেহেরিন! আমি দেখতে চাই, এবার নিজের মা আর আমার ডলের মধ্যে তুই কাকে চুজ করিস... রিভেন, মা'দা'রফা'কা'র কারুসো!"

নোটটার ঠিক নিচে র'ক্তে'র দাগের মতো একটা গ্রাফিক্স ফাইলের ভেতরে খো'দাই করা আছে শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত এক পরিত্যক্ত জায়গার নিখুঁত অ্যাড্রেস। আর তার নিচে বড় বড় অক্ষরে শেষ আলটিমেটাম

"আজ রাত চারটে। একা আসবি ,তোর সাথে শুধু আমার ডল থাকবে। কোনো ফোর্স কোনো ট্র্যাকার যদি টের পাই, তবে মেহেরিন কারুসোর চা'ম'ড়া ছা'ড়িয়ে আরওয়াইন ম্যানশনের দরজায় পার্সেল করে দেব"

সেই পৈ'শা'চিক শব্দগুলো পড়া মাত্রই রিভেনের মাথার ভেতরের শেষ মা'নবিক 'মগজটুকু যেন এক লহমায় পু'ড়ে খা'ক হয়ে গেল। তার শ্বাস প্রশ্বাস এতটাই ভারী আর দ্রুত হয়ে উঠল যে, তার বুকের চওড়া ছা'তিটা কোটের কাপড় 'চিরে বেরিয়ে আসতে চাইল। তার চোখের কোণ দিয়ে আজ আর অশ্রু নয়, যেন খাঁটি র'ক্তে'র লা'ভা ঝরে পড়ছে। তার সারা শরীর এক আদিম, পা'শ'বিক আক্রোশে কাঁপছে।

"ডেইগো মা'দা'রফা'কা'র! আই উইল কি'ল ইউ! তোকে আমি জ্যা'ন্ত কবর দেবো... জ্যান্ত চা'ম'ড়া ছা'ড়া'বো তোর!"

ইভানো কারুসো রিভেনের সেই কাঁপতে থাকা চওড়া পিঠের ওপর দৃষ্টি রেখে অত্যন্ত ভারী গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

"এখন তুই কী করবি, রিভেন? ডেইগো সময় দিয়েছে। কী করবি তুই এখন?!"

"গড! আমি জানি না! আমি কিচ্ছু জানি না, ড্যাম ইট!"

ইভানো কারুসো নিজের গলার স্বরটা আরও একটু নিচু করলেন, কিন্তু সেই স্বরে ছিল এক নি'র্মম, বি'ষা'ক্ত সত্যের চা'বু'ক। তিনি রিভেনের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন,

"ডেইগো অনেক চালাক, রিভেন। তোর মাকে যদি জ্যা'ন্ত ফেরত আনতে হয়... তবে রোজেলিয়াকে আমাদের-"

ইভানো তাঁর বাক্যটি শেষ করার আগেই রিভেন ফুঁ'সে উঠে তাঁর কলারটা নিজের লোহার মতো শক্ত মু'ঠিতে খা'ম'চে ধরল। তার সেই লাল লাল, খু'নে চোখ দুটো ইভানোর চোখের ওপর স্থির করে সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

"খবরদার! আমার রোজের নাম তোমার ওই অপবিত্র মুখে উচ্চারণ করবে না, ইভানো কারুসো! আমি রোজকে এখানে টানব না। ক'সম খো'দার, আমি রোজেলিয়াকে আর এক সেকেন্ডের জন্যও কোনো বিপদে ফেলব না! ওকে ছোঁয়ার সাধ্য এই আন্ডারওয়ার্ল্ডে কারও নেই! ওকে বাঁচানোর জন্য, আমার মাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনে আমি নিজের জা'ন দিয়ে দেবো! আমি নিজে ম'র'বো... তাও রোজের গায়ে কোনো আঁ'চ'ড় লাগতে দেবো না!"

রিভেনের সেই উ'ন্মা'দ প্রেম আর অন্ধ অধিকারবোধ দেখে ইভানোর ভেতরের কারুসো সম্রাটটা আবার জেগে উঠল। তিনি এক ঝটকায় রিভেনের হাত দুটো নিজের কলার থেকে সরিয়ে দিলো,

"এখানে তোর জা'নের প্রশ্ন আসছে না, রিভেন! প্রশ্নটা মেহেরিনের! তোর ওই জা'নের বিনিময়ে ডেইগো মেহেরিনকে ছাড়বে না! ও চায় রোজেলিয়াকে! তুই একটা মেয়ের জন্য তোর নিজের জন্মদাত্রীকে, কারুসো বংশের রানীকে ওই ক'সা'ইয়ের হাতে মরতে দিবি?!"

"চুপ! একদম চুপ! আর একটা শব্দও যদি তোমার মুখ থেকে বের হয়, তবে ভুলে যাবো তুমি আমার জন্মদাতা! আই উইল কি'ল ইউ রাইট হিয়ার! জাস্ট শাট আপ, ড্যাম ইট!"

রিভেনের ম'রণঘা'তী হুমকি ইভানো কারুসোর ভেতরের সুপ্ত আ'গ্নে'য়গি'রিটাকে এক ঝটকায় জাগিয়ে তুলল। শত বছরের কারুসো আভিজাত্য আর মাফিয়া সম্রাটের র'ক্ত চা'বু'কের মতো আ'ছড়ে পড়ল তাঁর শিরায়।

তিনি গর্জে উঠে রিভেনের কলারটা দুই হাতে খা'ম'চে ধরলেন। তাঁর হাতের আঙুলগুলো লোহার শি'কলের মতো রিভেনের গলার চা'ম'ড়া কা'ম'ড়ে ধরল। রিভেনকে নিজের দিকে এক প্রচণ্ড হেঁচকা টান মে'রে, ইভানো তাঁর সেই চেরা, বাঘের মতো গর্জনশীল কণ্ঠে ধমকে উঠলেন,

"মুখ সামলে কথা বল, রিভেন! মেহেরিনের যদি একটা চুলও বাঁকা হয়, তবে খো'দার ক'সম,আমিও ভুলে যাবো যে তুই আমার নিজের ঔরসের জন্ম নেওয়া ছেলে"

ইভানোর সেই হাড়-কাঁপানো ধমক, তাঁর চোখের সেই র'ক্তি'ম চা'উনিও আরওয়াইন সাম্রাজ্যের ডেভিলকে এক চুল দমাতে পারল না। রিভেনের ফ্যাকাশে ঠোঁটের কোণে স্মার্ক ফুটে উঠল। সেই বাঁকা হাসিতে ছিল এক আদিম অবহেলা আর হিমশীতল অবজ্ঞা। সে তার হ্যাজেল চোখ দুটো সামান্য সরু করে, অত্যন্ত নিচু আর মখমলের মতো মসৃণ অথচ ধা'রা'লো স্বরে বলল,

"ভুলে যাবে? ওহ প্লিজ, ইভানো কারুসো! আমাকে আর নতুন করে ভয় দেখাবে না।তোমার সাথে র'ক্তে'র সমস্ত সম্পর্ক তো আমি আগেই নিজের হাতে কে'টে নর্দমায় ছুঁ'ড়ে ফেলে দিয়েছিলাম। তোমার ওই ‘কারুসো’ পদবিটা আমার নামের পাশে বসাতেও আমার ঘেন্না হয়!"

রিভেনের এই চরম ঔদ্ধত্যে ইভানোর হাতের মুঠো আরও শক্ত হয়ে গেল। সে এতটাই জোরে কলারটা মো'চড় দিল যে রিভেনের শার্টের ওপরের দুটো বোতাম ছিঁ'ড়ে মার্বেলের মেঝের ওপর টুপটাপ শব্দে খসে পড়ল। ইভানো নিজের দাঁতে দাঁত চেপে পৈ'শা'চিক আক্রোশে হিসহিসিয়ে উঠলেন,

"এই কু'ত্তা'র বা'চ্চা! তুই আসলে কী করতে চাস?! ডেইগো চারটের সময় আমাদের শে'ষ করতে আসছে, আর তুই নিজের মায়ের জীবন বাজি রেখে এখানে আমার সাথে জেদ দেখাচ্ছিস? ভালো করে মগজে ঢোকা ।আমরা যদি নিজেদের মধ্যে এভাবে কা'ম'ড়াকা'ম'ড়ি করি, তবে শত্রুরা সেই সুযোগে আমাদের জ্যা'ন্ত ক'বর দিয়ে দেবে!"

রিভেন হঠাৎ করেই হাহা করে হেসে উঠল। সেই হাসির শব্দে কোনো আমোদ ছিল না, ছিল কেবল এক চরম উন্মাদনা আর পৈ'শা'চিক অন্ধকার। সে হাসতে হাসতেই নিজের বরফশীতল, লোহার মতো শক্ত হাত দুটো তুলে এক ঝটকায় ইভানোর হাত দুটোকে নিজের কলার থেকে ছা'ড়িয়ে দিল। তারপর শার্টের হাতা দুটো টেনে সোজা করে, ইভানোর চোখের গভীরে নিজের খু'নে দৃষ্টি গেঁথে দিয়ে বলল,

" তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো ইভানো কারুসো... ডেইগো মোরালেস তো অনেক পরের কথা, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আর প্রথম শ'ত্রু তো তুমি নিজেই! আর হ্যাঁ..."

রিভেন একটু থামল। তার ঠোঁটের কোণের সেই বি'ষা'ক্ত হাসিটা এবার এক ম'র'ণঘা'তী ক্রূরতায় রূপ নিল। সে ইভানোর একদম কানের কাছে নিজের মুখটা এনে, অত্যন্ত স্বরে ফিসফিসিয়ে বলল,

"আমি যদি কু'ত্তা'র বা'চ্চা'ই হয়ে থাকি... তবে মনে রাখবে, সেই কু'কু'রটা কিন্তু তুমি নিজেই!"

ইভানো কারুসোর পাথরের মতো শক্ত শরীরটা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তাঁর চোখের মণি দুটো অ'পা'র্থিব অপমানে আর রাগে কাঁপতে লাগল। তিনি নিজের কোমরে হাত দিয়ে, মাথাটা সামান্য নিচু করে কয়েক সেকেন্ড বুক ভরে এক তপ্ত শ্বাস নিলেন। নিজের ভেতরের সেই আদিম, খুনে আ'গ্নেয়গি'রিটাকে সুকৌশলে চেপে রাখার এক ব্যর্থ চেষ্টা করলেন তিনি। তাঁর কপাল আর গলার রগগুলো চা'ম'ড়া চি'রে বে'রিয়ে আসতে চাইল।

কয়েক মুহূর্তের সেই দমবন্ধ করা, গুমোট নীরবতা চি'রে ইভানো নিজের লাল হয়ে থাকা হ্যাজেল চোখ দুটো আবার রিভেনের হ্যাজেল চোখের ওপর স্থির করলেন। তাঁর গলার স্বর এবার আর সিংহের মতো গ'র্জে উঠল না, বরং এক পরম, ক্ষু'রধার ও ভারী অনুনয়ের মতো শোনাল,

"দেখ... মেহেরিনকে আমাদের যেকোনো মূল্যে বাঁচাতে হবে, রিভেন। খো'দার দোহাই লাগে, তোর এই অন্ধ উ'ন্মাদ'না আর পা'গলা'মি এবার বন্ধ কর"

রিভেনও এক মুহূর্তের জন্য চোখ জোড়া বন্ধ করল। তার সেই চওড়া ছা'তি'টা হা'পরের মতো ওঠানামা করছে। নিজের হাতের মুঠো শক্ত করে সে নিজের ভেতরের সেই অবাধ্য দা'ন'বটাকে এক চরম আ'ত্মনিয়ন্ত্রণে বেঁধে ফেলল। হলরুমের সেই ম্লান, নীলাভ আলোয় তার ফ্যাকাশে মুখটা এক চরম নিষ্ঠুর গাম্ভীর্যে রূপ নিল। সে চোখ মেলে ইভানোর দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা, বরফশীতল স্বরে বলল,

"মমকে আমি অবশ্যই বাঁচাবো, ইভানো কারুসো। মমকে বের করে আনার দায়িত্ব আমার। কিন্তু... আমার রোজেলিয়াকে ওই ন'র'কের দালালের হাতে তুলে দিয়ে নয়! ওটা অসম্ভব।"

ইভানো এক পা এগিয়ে এলেন, তাঁর চোখের ভেতরের সেই অন্ধকার ধূ'র্ত'তা এবার কু'ৎসি'তভাবে প্রকাশ পেয়ে গেল। তিনি দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে এক তীব্র অসহায়তার সুরে জিজ্ঞেস করলেন,

"তাহলে এছাড়া আর কী উপায় আছে তোর কাছে, রিভেন? "

"ইভানো কারুসোওও! বারবার রোজেলিয়াকে এই নোং'রা খেলার মাঝখানে টানছো কেন, ড্যাম ইট?! তোমার স্ত্রী যেমন তোমার কাছে কারুসো সাম্রাজ্যের আভিজাত্য... আমার রোজও আমার কাছে আমার পুরো পৃথিবী! আমার বেঁচে থাকার একমাত্র স্পন্দন!"

রিভেনের ঠোঁটের কোণে এবার এক চরম বি'ষা'ক্ত, ক্রূর হাসি ফুটে উঠল। সে ইভানোর চোখের দিকে তাকিয়ে এক পরম অবহেলায় যোগ করল,

"ওহ, ওয়েট! তোমার স্ত্রী কি আদেও তোমার কাছে ইম্পর্ট্যান্ট, ইভানো কারুসো? মমের সাথে আজ পর্যন্ত তুমি যা যা করেছো, তা কি ভুলে গেছো? আজ ওনার জন্য তোমার এই মে'কি ভালোবাসা দেখাতে একটুও লজ্জা করছে না?!"

ইভানো নিজের দুই হাত দিয়ে নিজের মাথাটা চেপে ধরলেন। রিভেনের এই প্রতিটি সত্যের তি'র তাঁর মাফিয়া ক'লি'জাটাকে ছি'ন্নভি'ন্ন করে দিচ্ছিল। তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত গলায় বললেন,

"গড! মাথা ঠান্ডা কর, রিভেন! এখন এসব পুরোনো হিসাব চুকানোর সময় নয়! প্লিজ..."

ঘরের দরজাটা এক মৃদু ক্যাঁচক্যাচ শব্দ করে পুরোপুরি খুলে গেল।দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আছে এক নি'থর, ফ্যাকাশে অ'বয়ব। রোজেলিয়া। মেয়েটা এতক্ষণ দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে দুই মাফিয়া ডনের এই পৈ'শা'চিক কথোপকথন, এই আ'দি'ম লড়াইয়ের প্রতিটি শব্দ শুনেছে। তার মায়াবী, চোখ দুটো বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। জানালার ম্লান আলোয় তার চোখের জলগুলো যেন একেকটা হিরের টুকরোর মতো জ্বলজ্বল করছিল।

ইভানো আর রিভেন—দুজনেরই চোখ এক লহমায় গিয়ে স্থির হলো রোজেলিয়ার ওপর।

রিভেনের ভেতরের সেই জ্যা'ন্ত শ'য়তা'নটা তার প্রেয়সীর চোখের জল দেখামাত্রই এক পলকে মিলিয়ে গেল। তার জায়গায় জেগে উঠল এক পরম, ব্যাকুল প্রেমিক। সে দ্রুত কদমে রোজেলিয়ার সামনে এসে দাঁড়াল।

"এখানে কী করছো? কেন এসেছো নিচে? গো ব্যাক টু দ্য রুম, রোজ পেটাল... রুমে যাও!"

রোজেলিয়া তার সেই কাঁপতে থাকা ফ্যাকাশে হাত দুটো দিয়ে রিভেনের শার্টের হাতাটা খা'মচে ধরল। তার চোখের জল তখন অবাধ্য নদীর মতো তার গাল বেয়ে নামছে। সে এক ভাঙা, অতি ক্ষীণ অথচ অবিচল কণ্ঠে বলল,

"রিভেন... আমি... আমি ওখানে যেতে রাজি আছি।"

রিভেনের হ্যাজেল চোখ দুটো এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। তার কানের ভেতর যেন কেউ গ'লা'নো সি'সা ঢে'লে দিল। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না। তার গলার স্বর জড়িয়ে গেল,

"মানে...?"

"ডেইগো তো আমাকেই চায়, রিভেন। আমি চাই না আমার এই অপয়া জীবনের জন্য আর কোনো প্রাণ ঝরে পড়ুক! আমি চাই না তোমার মা আমার জন্য ওই ক'সা'ইয়ের হাতে মরুক! প্লিজ রিভেন... আমাকে যেতে দাও। আমি যাবো ডেইগোর কাছে!"

রোজেলিয়ার এই আত্মত্যাগের কথা শোনা মাত্রই রিভেনের ভেতরের পুরুষালি অহংকার আর ডমিনেটিং প্রেম এক প্রচণ্ড বি'স্ফো'রণে ফে'টে পড়ল। সে নিজের দুই হাতের শক্ত তালু দিয়ে রোজেলিয়ার মুখটা এক গভীর অধিকারবোধে চেপে ধরল। তার চোখ দুটো তখন আক্রোশে আর ভালোবাসার তী'ব্রতায় লাল হয়ে উঠেছে। সে দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল,

"পাগল হয়ে গেছিস তুই, রোজ?! তোর এই সুন্দর মগজটা কি পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে?!"

রোজেলিয়া রিভেনের বুকের ওপর নিজের ছোট হাত দুটো রেখে এক পরম আকুতিতে কেঁদে উঠল

"রিভেন, প্লিজ! দো'হাই তোমার... আমাকে যেতে দাও!"

"লাইক ফাক আই উইল লেট ইউ গো, লাভ!"

রিভেন অন্ধ আক্রোশে গর্জে উঠে রোজেলিয়াকে নিজের বিশালাকার চওড়া বুকের ভেতর এক ঝটকায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন সে তার এই শরীরটাকে নিজের পাঁ'জ'রের হা'ড়ের ভেতর লুকিয়ে ফেলতে চায়। সে তার কানের কাছে নিজের তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে, এক পরম ডমিনেটিং স্বরে ফিসফিসিয়ে উঠল,

"তুই আমার সব, রোজ! তুই আমার একমাত্র দুর্বলতা আর একমাত্র শক্তি! ক'সম খো'দার, আমি বেঁচে থাকতে তোর ওই পবিত্র শরীরটাকে কোনোভাবেই ওদের হাতে তুলে দেবো না! নেভার!"

রোজেলিয়া রিভেনের সেই চওড়া বুকের ভেতর মুখ গুঁজে আবার ফুঁপিয়ে উঠল। তার শরীরটা এক অজানা আশঙ্কায় থরথর করে কাঁপছিল। সে রিভেনের শার্টের কলারটা খামচে ধরে অত্যন্ত অসহায় গলায় আবার আকুতি জানাল,

"রিভেন, প্লিজ... আমার কথা শোনো..."

রিভেন এবার এক পরম, অবর্ণনীয় মায়া আর তীব্র অধিকারবোধে রোজেলিয়াকে নিজের বুক থেকে সামান্য আলতো করে ছাড়িয়ে নিল। তার সেই রুক্ষ হাতের শক্ত মুঠোয় পুরে নিল রোজেলিয়ার দুটি ফ্যাকাশে গাল। রোজেলিয়ার চোখের জল তখনো রিভেনের হাতের চা'মড়া ভিজিয়ে দিচ্ছিল। রিভেন কোনো কথা না বলে, পরম নির্ভরতায় রোজেলিয়ার সেই চোখের জলের ওপর, তার নরম গালে নিজের ঠোঁট দুটো ডুবিয়ে এক দীর্ঘ, তপ্ত চু'মু খেল।

চু'মুর সেই ওষ্ণতায় রোজেলিয়ার কাঁপতে থাকা ঠোঁট দুটো স্তব্ধ হয়ে গেল। রিভেন তার হ্যাজেল চোখ দুটো রোজেলিয়ার চোখের গভীরে ডুবিয়ে এক সুগভীর, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ স্বরে বলল,

"কিছু হবে না, রোজ। মমকে আমি যেভাবে হোক, যেকোনো উপায়ে অ'ক্ষত ফিরিয়ে আনবই। আরওয়াইনদের চাল এত সহজে শেষ হয় না।"

সে আবার রোজেলিয়ার অন্য গালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। সেই স্প'র্শে যেমন ছিল এক আদিম প্রেম, তেমনই ছিল এক হিমশীতল মাফিয়া ডনের আস্বাদন। সে রোজেলিয়ার কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,

"এখন রুমে গিয়ে রেস্ট নাও, জান। এসব ফালতু চিন্তা করলে তুমি আবার অসুস্থ হয়ে পড়বে। আমি তোমাকে আর এক ফোঁটাও কষ্ট পেতে দিতে পারব না।"

ইভানো কারুসো দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাদের পাশ কাটিয়ে হনহন করে বেড়িয়ে গেলেন। রিভেন রোজেলিয়ার ঠোঁটের কোণে আবার ও চু'মু এঁকে দিল। তার চাউনি এবার এক অদ্ভুত, সম্মোহনী তীব্রতায় রূপ নিল। সে রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে মুখটার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত নিচু, মখমলের মতো মসৃণ অথচ এক গভীর আবেগে জড়ানো স্বরে বলল,

"একটু আগে তুমি বললে না রোজ... যে তুমি অপয়া? আর কখনো নিজের মুখে এই নোংরা শব্দটা উচ্চারণ করবে না। আমার রোজ পেটাল আমার সবকিছু। তুমি আমার অন্ধকার জীবনের একমাত্র আলো, আমার পুরো পৃথিবী তুমি। তোমাকে ছাড়া এই রিভেন আরওয়াইন এক সেকেন্ডও বাঁচবে না... হুম?"

রোজেলিয়া শুধু শূন্য চোখে চেয়ে রইল। রিভেন আবার তার ঠোঁটে, তার কপালে একের পর এক চু'মু খেতে লাগল যেন সে নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি, সমস্ত সুরক্ষা এই চু'মুগুলোর মাধ্যমে তার প্রেয়সীর অ'ব'শ স্না'য়ুতে ই'নজে'ক্ট করে দিতে চায়।

সে রোজেলিয়ার কানের কাছে নিজের মুখটা এনে, এক পরম আধিপত্যশীল অথচ সুরক্ষামূলক স্বরে শেষবারের মতো ফিসফিসিয়ে উঠল,

"সব ঠিক হয়ে যাবে, রোজ। কেউ আমাদের কিচ্ছু করতে পারবে না। ডেইগো মোরালেসের এই দুঃস্বপ্ন আমি খুব শীঘ্রই শেষ করে দেবো।"

To be continue,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন