ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৫১তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা

পর্ব ৫১

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে, আদিম কুয়াশায় ঢাকা সেই পরিত্যক্ত প্রাচীন বাড়িটার সামনে এসে যখন রিভেনের কালো ল্যাম্বরগিনিটা থামল, তখন রাতের শেষ প্রহর যেন এক পৈ'শা'চিক নিস্তব্ধতায় থমকে গেছে। চারদিকের গথিক অন্ধকার আর জং ধরা লোহার ফটকগুলো ভেদ করে এক স্যাঁতসেঁতে গন্ধ বাতাসে ভাসছিল।

গাড়ির দরজা খুলে রিভেন নামল,সে এক পরম, আদিম অধিকারবোধে রোজেলিয়ার কোমরটা নিজের এক হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল। রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে শরীরটা ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মোরালেস সাম্রাজ্যের জনাছয়েক সশস্ত্র গার্ড রিভেনকে দেখা মাত্রই তাদের সে'মি-অ'টো'মেটিক রা'ইফে'লগুলো সোজা বুক বরাবর তা'ক করল। কিন্তু রিভেনের সেই খু'নে, ম'র'ণঘাতী চাউনির সামনে তাদের হাতের অস্ত্রগুলোও যেন এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল।

রিভেন রোজেলিয়াকে প্রায় আগলে ধরে, নিজের বিশাল চওড়া শরীরের ছায়ায় ঢেকে রেখে ধীর কদমে বাড়ির সেই ভাঙা, জরাজীর্ণ সদর দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।

ভেতরের হলরুমটা আলো-আঁধারিতে ডুবে আছে। ছাদ থেকে ঝুলছে কিছু নগ্ন হলুদ বাল্ব, যার ম্লান আলোয় চারদিকের ধুলো আর ভাঙা কংক্রিটগুলো আরও কুৎসিত দেখাচ্ছে। হলের মাঝখানে দুটো কাঠের চেয়ারে বসে আছে ডেইগো মোরালেস ও তার বাবা, কু'খ্যাত ফ্রাঙ্ক মোরালেস। তাদের পেছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে এক ডজন এলিট মাফিয়া গার্ড, যাদের প্রত্যেকের আঙুল পি'স্ত'লের ট্রি'গারে স্থির।

দরজার চৌকাঠে রোজেলিয়াকে দেখা মাত্রই ডেইগোর সেই এক'চোখা পৈ'শা'চিক মুখে এক বী'ভৎস, আদিম উল্লাসের হাসি ফুটে উঠল। সে চেয়ার ছেড়ে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে, নিজের দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে এক উ'ন্ম'ত্ত পশুর মতো চিৎকার করে উঠল,

"আমার ডল ,এসে গেছো তুমি"

ডেইগো এক পৈ'শা'চিক ব্যাকুলতায় রোজেলিয়ার দিকে কদম বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে চাইল। কিন্তু সে দু-পা এগোতেই পাশে বসে থাকা ফ্রাঙ্ক গম্ভীর স্বরে ধমকে উঠল,

"দাড়াও, ডেইগো! লিমিট ক্রস করো না। খেলাটা এখনো আমাদের নিয়মে চলছে।"

বাবার আদেশে ডেইগো মাঝপথে থমকে গেল, কিন্তু তার সেই ক্ষু'ধার্ত, কামুক চোখ দুটো রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে ঠোঁটের ওপর লেপ্টে রইল।

রিভেন রোজেলিয়াকে নিজের শরীরের আরও কাছে টেনে নিয়ে, ডেইগোর দিকে নিজের খু'নে দৃষ্টি গেঁথে অত্যন্ত নিচু, মখমলের মতো মসৃণ অথচ এক হাড়-কাঁপানো বজ্রগম্ভীর স্বরে বলল,

"রোজেলিয়াকে আমি এখানে নিয়ে এসেছি, ডেইগো মোরালেস। এবার আমার মাকে ছেড়ে দে। রিলিজ মম রাইট নাও!"

রিভেনের সেই আদেশ শুনে ডেইগো নিজের মাথাটা একপাশে হেলিয়ে হাহা করে এক পৈশাচিক, উ'ন্মা'দ হাসি হেসে উঠল। সেই হাসির প্রতিধ্বনি গথিক দেয়ালগুলোতে আছড়ে পড়তে লাগল। সে তার সেই ক্রূর চোখ দুটো সরু করে, রিভেনের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হিসহিসিয়ে বলল,

"উঁহু... উম হুম! এত তাড়া কিসের রিভেন আরওয়াইন? খেলা তো কেবল শুরু হলো! আগে আমার ডল আমার কাছে আসবে... এই ডেইগোর বুকে এসে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরবে! গত কয়েকটা দিন ধরে আমার এই হৃদয়ের ভেতর যে তীব্র দ'হন, যে লে'লিহান ন'র'ককুণ্ড তুই জ্বালিয়ে রেখেছিস ।সেই দহন যখন আমার ডলের শরীরের স্প'র্শে শান্ত হবে... ঠিক তখন আমি ভাববো তোর ওই জন্মদাত্রী, কারুসো বংশের রানীকে জ্যা'ন্ত ছাড়বো কি না!"

ডেইগোর মুখ থেকে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে জড়িয়ে ধরার লালসার কথা শোনা মাত্রই রিভেনের ভেতরের জ্যা'ন্ত শ'য়'তানটা এক প্রচণ্ড বি'স্ফো'রণে ফে'টে পড়তে চাইল। তার চোখের মণি দুটো মুহূর্তের মাঝে টকটকে লাল হয়ে উঠল, গলার শিরাগুলো ত'প্ত সি'সার মতো ফু'লে ফেঁ'পে উঠল।সে এক পা এগিয়ে হিং'স্র পশুর মতো গ'র্জে উঠে বলল,

"কী বললি তুই... কী বললি কু'ত্তা'র বা'চ্চা?!"

রিভেনের সেই ম'রণঘাতী, হাড়-কাঁপানো গর্জনে পুরো হলরুমের নগ্ন হলুদ বাল্বগুলো যেন এক লহমায় কেঁপে উঠল।তখন রোজেলিয়া তার সেই ফ্যাকাশে, বরফশীতল ছোট হাত দুটো দিয়ে রিভেনের শক্ত ডান হাতটা খা'মচে ধরল। সে এক পরম ব্যাকুলতায় রিভেনের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে ফিসফিসিয়ে উঠল,

"না রিভেন... প্লিজ শান্ত হও। মম ওদের কবজায়... প্লিজ নিজেকে কন্ট্রোল করো।"

রোজেলিয়ার সেই ভয়ার্ত সুর আর হাতের ঠান্ডা স্পর্শ রিভেনের উ'ন্মত্ত আক্রোশের ওপর যেন এক বালতি বরফজল ঢেলে দিল। সে দাঁতে দাঁত চেপে, নিজের চোয়ালের হাড় কাঁপিয়ে কোনোমতে নিজেকে স্থির রাখল, কিন্তু তার চওড়া ছাতিটা তখনো হা'প'রের মতো ওঠানামা করছিল।

ডেইগো তাদের এই অবস্থা দেখে নিজের মাথাটা একপাশে হেলিয়ে আবার এক পৈ'শা'চিক, ক্রূর হাসি হেসে উঠল। সেই হাসির কুৎসিত প্রতিধ্বনি গথিক দেয়ালগুলোতে আছড়ে পড়তে লাগল। সে নিজের প্যান্টের বেল্টে এক হাত বুলাতে বুলাতে, অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে রিভেনের দিকে তাকিয়ে বলল,

"তুই এখানে এসেছিস আমার ডলকে ফেরত দিতে, রিভেন আরওয়াইন। তো এই পরিত্যক্ত ডেরায় দাঁড়িয়ে তুই এভাবে রাগ দেখাচ্ছিস কেন, হুম? তোর মায়ের জীবনের রিমোট কন্ট্রোল তো এখন আমার এই আঙুলের ডগায়! সো... জাস্ট শাট আপ অ্যান্ড লেট হার গো!"

রিভেনের দিক থেকে নিজের কুৎসিত চোখ দুটো সরিয়ে ডেইগো এবার সোজা তাকাল রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে মুখের দিকে। তার এ'কচো'খা চাউনিতে তখন এক ক্ষু'ধা'র্ত প'শুর লা'ল'সা। সে নিজের দুই হাত চওড়া করে রোজেলিয়াকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত মখমলের মতো মসৃণ অথচ এক বীভৎস, কামুক সুরে ডেকে উঠল,

"আসো বেবিগার্ল... অনেক তো লুকোচুরি হলো, এবার নিজের জায়গায় ফিরে আসো। আসো, দেখো... এই ডেইগো কি কখনো তোমার ইচ্ছার বাইরে তোমাকে জোর করেছে, বলো? সেদিনও তো কত যত্নে রেখেছিলাম তোমায়। এখন জাস্ট কাছে আসো, আমি কিচ্ছু করব না... একটা হাগ তো খুবই ন্যাচারাল, তাই না? জাস্ট একটা উষ্ণ আলিঙ্গন! আর বাকি যা কিছু... তা তো আমাদের বিয়ের পর এই ডেইগোর বেডরুমেই হবে। যাও... আর এক মুহূর্তও নষ্ট করো না জান, কাছে আসো!"

হলরুমের বাতাসে ভাসতে থাকা সেই কুৎসিত কামুকতার বিষাক্ত বাষ্প যেন রিভেনের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ফুটন্ত সি'সার মতো ছড়িয়ে পড়ল। ডেইগোর প্রতিটি নোং'রা ই'ঙ্গিত তার পৌরুষ আর তার আদিম অধিকারবোধে চা'বু'কের মতো আ'ছ'ড়ে পড়ছিল। রিভেন নিজের শক্ত চোয়াল আরও বাঁকিয়ে, এক র'ক্তচো'ষা প'শুর মতো খু'নে চাউনি নিয়ে গর্জে উঠল,

"আগে আমার মমকে ছাড়!"

ডেইগো নিজের একচোখা মুখটা কুঁচকে, এক পরম অবহেলা আর তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে দু-হাত নাড়িয়ে আজব এক হাসি হাসল। সে থুতনিটা উঁচিয়ে হিসহিসিয়ে উঠল,

"আজব তো! তোকে পরিষ্কার করে বলেছিলাম না, আমার ডলকে নিয়ে একলা আসবি। তুই এসেছিসও। তো তোর তো এখানে আসার কথাই ছিল আমার ডলকে আমার হাতে ফেরত দেওয়ার জন্য, তাই না? আগে তুই আমার জিনিস আমাকে ফেরত দিবি, তারপর তো আমি তোর ওই জন্মদাত্রীকে খাঁচা থেকে ছাড়বো! মাফিয়ার ডিল কি তোর ওই বা'স্টা'র্ড ম'গজে ঢোকে না, রিভেন? কথা কি কানে যায় না তোর?!"

ডেইগো এবার এক পরম ব্যাকুলতায় নিজের চোখ দুটো রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে অবয়বের ওপর লেপ্টে দিল। তার গলার স্বর এক আদিম, কামুক আকুলতায় কাঁপতে লাগল,

"ছাড়... ছাড় আমার ডলকে! লেট মাই বেবিগার্ল কাম ইন মাই আর্ম... হুম? ওর আসল জায়গা তো এই ডেইগোর বুকে!"

রিভেন নিজের বাম হাতের লোহার মতো শক্ত বেষ্টনীটা রোজেলিয়ার কোমরের ওপর আরও বেশি শক্ত করে চেপে ধরল। সে রোজেলিয়াকে প্রায় নিজের শরীরের ভেতর পুরে ফেলার মতো করে খা'মচে ধরল, যেন এক ইঞ্চি জায়গাও সে ডেইগোর ওই নোংরা চোখের জন্য ফাঁকা রাখবে না। রিভেনের শক্ত বক্ষপটের সাথে রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে পিঠটা লেপ্টে যেতেই তাদের শরীরের এই চরম বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠল।

রিভেনের এই নিটোল, সুরক্ষিত অধিকারবোধ আর রোজেলিয়ার ওপর তার এই পরম আধিপত্য দেখে ডেইগোর ভেতরের জেলাসি এক নিমেষে আ'গ্নেয়গি'রির মতো ফে'টে পড়ল। রিভেন যেভাবে তার ডলকে ছুঁয়ে আছে, তা ডেইগোর মগজে খাঁটি বি'ষ ঢে'লে দিচ্ছিল। তার কপাল বেয়ে রাগের ঘাম ছুটে এল। সে এক উ'ন্মা'দ পশুর মতো নিজের পেছনে বসা বাবার দিকে ঘুরে চিৎকার করে উঠল,

"ড্যাড! এই মা'দা'রফা'কার কি কথা বোঝে না?! একে বলো রোজকে ছেড়ে দিতে! আই অ্যাম লুজিং মাই পেশেন্স, ড্যাড! আমার মাথা ফে'টে যাচ্ছে!"

"মেয়েটাকে ছেড়ে দাও, রিভেন আরওয়াইন। আর এক সেকেন্ডও যদি তুমি ওকে এভাবে জড়িয়ে ধরে রাখো, তবে মেহেরিন কারুসোর এই সুন্দর ম'গ'জটা এই মেঝেতে ছি'টকে পড়বে। চুজ নাও!"

রিভেন কোমরের ওপর থেকে নিজের লোহার মতো শক্ত হাতের বাঁধনটা আলতো করে একটু শিথিল করল, কিন্তু তার হ্যাজেল চোখ দুটো থেকে মোরালেসদের প্রতি সেই ম'র'ণঘাতী আ'ক্রোশ এক চুলও কমল না। সে অত্যন্ত নিচু, বরফশীতল স্বরে ডেইগোর দিকে তাকিয়ে শর্ত দিল,

"রোজেলিয়া এখান থেকে এক পা এগিয়ে তোর দিকে যাবে, আর ওপাশ থেকে আমার মম-ও ঠিক এক পা এগিয়ে আমার দিকে আসবে। ইকুয়াল এক্সচেঞ্জ, মোরালেস।"

ডেইগো নিজের এ'কচো'খা পৈ'শা'চিক মুখে এক বীভৎস, আদিম হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে মাথা দোলালো। তার সেই ক্ষু'ধা'র্ত চোখ দুটো তখন রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে মুখের উপর লেপ্টে আছে। সে হাত নেড়ে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,

"ওকে, ডিল! লেট মাই বেবিগার্ল কাম টু মি!"

ঠিক তখনই ডেইগোর ঠিক পেছনের রুমটা থেকে তার সশস্ত্র গার্ডদের পাহারায় মেহেরিন ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। রিভেন তীক্ষ্ণ চোখে মায়ের দিকে তাকালো। মেহেরিনের শরীরের কোথাও কোনো আ'ঘা'ত বা ক্ষ'তির চিহ্ন আছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখে নিয়ে বুকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে। যাক, অন্তত এখন পর্যন্ত ওর মা সুরক্ষিত আছে।

ডেইগো মেহেরিনকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সাথে একটু এগোবার ইশারা করল। ওদিকে রোজেলিয়া তার কাঁপাকাঁপা পায়ে এক এক পা করে এগিয়ে যেতে লাগল সামনের দিকে। ডেইগো অধীর আগ্রহে রোজেলিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, তার চোখের সেই আদিম লা'ল'সা তখন আর লুকানো নেই, তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তার বি'কৃত অবয়বে।

কিন্তু ডেইগো আর ফ্রাঙ্ক মোরালেস যতটা সহজ ভাবছিল, আরওয়াইন সাম্রাজ্যের ডে'ভিলের চাল এত সস্তা ছিল না। রিভেন যখন রোজেলিয়াকে নিয়ে এই পরিত্যক্ত গথিক ডেরার দিকে আসছিল, তখন তার ব্যাকআপ স্কোয়াড কিন্তু শান্ত বসে ছিল না। সাইলাস আর মার্কো ডেইগোর এই গোপন আস্তানার চারপাশের সমস্ত ফ্রিকোয়েন্সি আর স্যাটেলাইট জ্যামার বহু আগেই হ্যাক করে অচল করে দিয়েছিল।

ঠিক এই মুহূর্তে, রিভেনের কোটের পকেটে থাকা তার স্পেশাল এনক্রিপ্টেড কম্যুনিকেটর ডিভাইসটা এক মৃদু ভাইব্রেশনে কেঁপে উঠল। এটা ছিল সাইলাসের তরফ থেকে আসা এক গোপন সংকেত যে আরওয়াইনদের এলিট স্নাইপার টিম এতক্ষণে এই জরাজীর্ণ বাড়ির জানালার ওপাশে নিজেদের পজিশন নিয়ে নিয়েছে এবং ডেইগোর ডেরায় থাকা লোকাল সিগন্যাল পুরোপুরি তাদের কবজায়।

কিন্তু ঠিক সেই সময়েই ফ্রাঙ্ক মোরালেসের আইপ্যাডে কারুসো টেরিটরি থেকে একটা ইমার্জেন্সি ব্লা'স্টে'র নোটিফিকেশন ভেসে উঠল। রিভেনের ফোর্স যে স্পেনের মোরালেসদের একটা বড় অ'স্ত্রা'গার উড়িয়ে দিয়েছে, সেই লাইভ ডাটা স্ক্রিনে আসামাত্রই ফ্রাঙ্কের বৃদ্ধ মাফিয়া ম'গ'জটা আ'ক্রো'শে ফে'টে পড়ল। সে বুঝতে পারল রিভেন এখানে একা আসেনি, সে মোরালেসদের পুরো সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে তবেই এই ডেরায় পা রেখেছে।

ফ্রাঙ্ক এক পৈশাচিক হিংস্রতায় চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের সে'মি-অ'টোমে'টিক পি'স্ত'লটা রিভেনের ক'পাল বরাবর সোজা তাক করে তার এলিট গার্ডদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে উঠল,

"ডেইগো, ও আমাদের ট্র্যাপ করেছে! দিস ইজ আ ফা'কিং অ্যামবুশ! তোরা সবাই... তোরা সবাই এখনই এই রিভেন আরওয়াইন আর মেহেরিনের বুক লক্ষ্য করে রা'ইফে'ল তাক কর! আরওয়াইনের ডেভিল যদি একটা আঙুলও নাড়ায়, তবে এক সেকেন্ডে ওদের ছা'তি ঝাঁ'ঝ'রা করে মেঝের ধুলোয় মিশিয়ে দিবি!"

মুহূর্তের মধ্যে এক ডজন সেমি-অটোমেটিক রা'ইফে'লের নলের কালচে গহ্বরগুলো এক পরম, শ্বাসরুদ্ধকর শব্দে রিভেন আর মেহেরিন কারুসোর বুক বরাবর স্থির হয়ে গেল। ফ্রাঙ্কের চোখ দুটো তখন খাঁটি পৈ'শা'চিক আ'ক্রো'শে কাঁপছে।

ডেইগো তার সেই একচোখা চাউনিতে তীব্র জেলাসি আর উন্মাদনা নিয়ে এক পা এগিয়ে সোজা রোজেলিয়ার দিকে ধেয়ে আসতে চাইল, আর তার গার্ডদের আঙুলগুলো তখন পি'স্ত'লের ট্রিগারে একদম লক হয়ে আছে।

এক ডজন মরণঘাতী রা'ইফে'লের কালচে নল যখন রিভেন আর মেহেরিনের বুক বরাবর স্থির, ফ্রাঙ্ক মোরালেসের আঙুল যখন পি'স্ত'লের ট্রি'গা'রে কাঁপছে আ'ক্রো'শে ঠিক সেই পরম, শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের বুকে দাঁড়িয়ে আরওয়াইন সাম্রাজ্যের ডেভিলের ফ্যাকাশে ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক মরণঘাতী, বরফশীতল ক্রূর স্মা'র্ক।

সে নিজের কোটের বোতামটা আলতো করে খুলে হঠাৎ বলে উঠে,

"চেকমেট, ডেইগো।"

রিভেনের মুখ থেকে এই দুটি শব্দ বের হওয়া মাত্রই, পুরো হলরুমের ভেতরের দৃশ্যটা এক অলৌকিক, ম্যাজিকের মতো পাল্টে গেল!

মেহেরিন কারুসোর কপালে ব'ন্দু'ক ঠেকিয়ে রাখা ফ্রাঙ্কের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মোরালেসদেরই পার্সোনাল সিকিউরিটি চিফ এক অবিশ্বাস্য চপলতায় নিজের রা'ইফে'লের কুঁদো দিয়ে ফ্রাঙ্কের ডান হাতে এক প্রচণ্ড আ'ঘা'ত করল। ফ্রাঙ্কের হাতের সে'মি-অ'টোমে'টিক পি'স্ত'লটা ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেল। আর তার পরের এক সেকেন্ডে, হলের ভেতরে থাকা বাকি গার্ডরা নিজেদের রা'ইফে'লের নিশানা রিভেন আর মেহেরিনের বুক থেকে এক লহমায় ঘুরিয়ে নিল।

এক ডজন ম'রণঘা'তী রা'ইফে'লের নল এবার সোজা গিয়ে ঠেকল ডেইগো মোরালেস আর তার বাবা ফ্রাঙ্ক মোরালেসের কপাল, বুক আর কানের পাশে।

পুরো ঘর এক পরম, শ্বাসরুদ্ধকর স্তব্ধতায় জমে বরফ হয়ে গেল। ডেইগো মাঝপথে থমকে গেল, তার সেই একটা চোখ আতঙ্কে আর চরম অবিশ্বাস্যতায় প্রায় কো'ট'র থেকে বে'রিয়ে আসতে চাইল। ফ্রাঙ্ক মোরালেস নিজের র'ক্তা'ক্ত হাতটা চেপে ধরে এক পা পিছিয়ে গেলেন, তাঁর বৃদ্ধ মাফিয়া মুখটা মুহূর্তের মধ্যে ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

"হ-হোয়াট দ্য ফা'ক?!" ডেইগো উ'ন্মত্ত প'শুর মতো চিৎকার করে উঠল,

"তোরা... তোরা আমার নুন খেয়ে আরওয়াইনের দালালি করছিস?! শু'য়ো'রের বাচ্চারা!"

মূলত, খেলাটা রিভেন আজ রাতে শুরু করেনি, এই চাল সে বহু আগেই চেলে রেখেছিল। ডেইগোর পার্সোনাল সিকিউরিটি ফোর্সের যে চিফ, তাকে রিভেন অনেক আগেই কয়েক মিলিয়ন ডলার আর তার পরিবারের সুরক্ষার টোপ দিয়ে নিজের পায়ে দাস বানিয়ে রেখেছিল। আর এই গত ২৪ ঘণ্টায়, মোরালেসরা যখন ইতালি থেকে তাদের ব্যাকআপ ফোর্স আর টপ-লেভেল এলিট হিটম্যানদের এই ভেন্যুতে আনিয়েছিল, রিভেনের আন্ডারগ্রাউন্ড এজেন্টরা ডা'র্ক ও'য়েবের মাধ্যমে তাদেরকে চড়া মূল্যে আর আরওয়াইনদের রাজকীয় ক্ষমতার ভয়ে নিজেদের দলে টেনে নিয়েছিল। ডেইগো ভেবেছিল ও নিজের দুর্গে বসে বাজি খেলছে, অথচ ও জানত না যে পুরো দুর্গটাই আসলে রিভেন আরওয়াইনের ইশারায় চলছে।

রিভেন ধীর পায়ে এগিয়ে এল। তার বুটের প্রতিটি ভারী শব্দ যেন ডেইগোর বুকের ওপর আ'ছড়ে পড়ছিল। সে রোজেলিয়ার কোমরটা আবার নিজের বাম হাতের লোহার মতো শক্ত বেষ্টনীতে জড়িয়ে ধরে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল। তার চোখে তখন আরওয়াইনদের সেই রাজকীয় আদিম আভিজাত্য।

সে ডেইগোর একদম থুতনির কাছে নিজের মুখটা এনে, তার সেই হেইজেল চোখ দুটো সামান্য সরু করে, এক পরম পৈশাচিক ও ডমিনেটিং স্বরে ফিসফিসিয়ে উঠল,

"আমি আগেই বলেছিলাম না ডেইগো মোরালেস... আরওয়াইনদের চাল যেখানে শেষ হয়, তোর মাফিয়া মগজের চিন্তাভাবনা সেখান থেকে শুরুও হয় না। তুই ভেবেছিস তুই আমার মাকে জি'ম্মি করেছিস? অথচ দেখ, তোর এই পুরো আস্তানার প্রতিটি র'ক্তে'র ফোঁটা এখন আমার কেনা গোলাম!"

ডেইগো আর ফ্রাঙ্ক মোরালেসের চোখের ভেতরের সেই মাফিয়া অহংকার এক লহমায় চূ'র্ণ-বি'চূর্ণ হয়ে গেল। ফ্রাঙ্ক তাঁর কাঁপতে থাকা র'ক্তা'ক্ত হাতটা বুকের ওপর চেপে ধরে, এক অবর্ণনীয় অবিশ্বাস্যতায় রিভেনের দিকে তাকিয়ে তীব্র চিৎকার করে উঠলেন,

"হাউ... হাউ দ্য ফা'ক ইজ দিস পসিবল?! এটা কীভাবে সম্ভব, রিভেন আরওয়াইন?!"

রিভেনের ফ্যাকাশে ঠোঁটের কোণের সেই বি'ষা'ক্ত, ক্রূ'র স্মার্কটা আরও একটু গভীর হলো। সে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মোরালেসদের সিকিউরিটি চিফ ডেভিডের দিকে নিজের চোখ দুটো আলতো করে ঘুরিয়ে, এক পরম আভিজাত্য আর তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,

"খুবই সহজ, ফ্রাঙ্ক। তোদের এই বি'শ্বস্ত কু'কু'র ডেভিডকে নিজের পায়ে দাস বানাতে আমার মাত্র পাঁচ মিলিয়ন ডলার লেগেছে, যা ছুঁড়ে দিতে আরওয়াইনদের এক সেকেন্ডও সময় লাগেনি। আর এই ডেভিডই তোদের স্পেনে থাকা প্রতিটি এলিট গার্ডের প্রোফাইল আমার হাতে তুলে দিয়ে তাদের কেনায় সাহায্য করেছে।এমনকি সেদিন রোজেলিয়াকে পালাতে ও সেই সাহায্যে করেছে । তোরা যখন এই স্পেনের মাটিতে পা রাখলি, তখন তোদের বাকি ইতালিয়ান গ্যাংস্টারদেরও আমি চড়া মূল্যে আর আরওয়াইনদের রাজকীয় ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে নিজের গোলাম বানিয়ে নিয়েছি। তোরা আসলে নিজেদের কেনা ক'ব'রটার ওপর দাঁড়িয়েই এতক্ষণ বাজি খেলছিলি!"

তখন ডেইগোর ভেতরের শ'য়তা'নটা এক অ'ন্ধ আ'ক্রো'শে ফে'টে পড়ল। সে এক পৈ'শা'চিক হিং'স্র'তায় ডেভিডের দিকে ঘুরে এক কুৎসিত, গগনবিদারী চিৎকার করে উঠল,

"ইউ ফা'কিং পি'স অফ শিট, ডেভিড! ইউ ব্যা'কস্ট্যা'বিং বা'স্টার্ড! আই উইল কা'ট ইউ অ্যালাইভ!"

ডেইগো এবার তার পাশে রা'ইফে'ল তাক করে দাঁড়িয়ে থাকা লুইসের দিকে র'ক্ত জল করা চোখে তাকাল। তার গলার স্বর অপমানে আর রাগে কাঁপছিল,

"তূই... তুইও লুইস?! তুইও একজন সন অফ আ বি'চ?! কী করে পারলি তোরা আমার সাথে এমন বে'ইমা'নি করতে, হোয়াট দ্য ফাক?!"

লুইস ডেইগোর সেই উ'ন্মত্ত প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না। সে পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে নিজের রা'ইফে'লের নলের ঠান্ডা লোহাটা ডেইগোর কানের লতিতে আরও একটু জোরে চেপে ধরল। হলরুমের নগ্ন হলুদ বাল্বের ম্লান আলোয় লুইসের এই নীরবতা ডেইগোর বুকে ত'প্ত সি'সা'র মতো বিঁধল।

"দোষটা ওদের নয় ডেইগো, দোষটা তোর। তোর মতো একজন বি'কৃত, উ'ন্মা'দ সাইকোর সাথে এই আন্ডারওয়ার্ল্ডে আর কে থাকতে চায়, বল?"

‘সাইকো’ শব্দটা শোনা মাত্রই ডেইগোর মুখের সমস্ত র'ক্ত এক ল'হমায় শুকিয়ে গেল। তার সেই একটা চোখ আক্রোশে আর অপমানে কো'টর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইল। সে এক ব'ন্য প'শুর মতো ছটফট করে উঠে হলরুম কাঁপিয়ে চেঁচিয়ে উঠল,

"শাট আপ, রিভেন! আই অ্যাম নট আ সা'ইকো! আমি সা'ইকো নই"

রিভেন তার সেই খু'নে চোখ দুটো সামান্য সরু করল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চরম অবজ্ঞা আর ঘৃণার হিমাঙ্ক। সে ডেইগোর চোখের দিকে চেয়ে চাবুকের মতো ধারালো, বরফশীতল স্বরে ফিসফিসিয়ে উঠল,

"ইউ আর সিক, ডেইগো মোরালেস। ইউ আর ফা'কিং সিক!"

এই শব্দটা ডেইগোর মগজের ভেতরের সবচেয়ে দগদগে আর নিষিদ্ধ ক্ষ'তটায় গিয়ে আ'ঘা'ত করল। শৈশব থেকে এই অসুস্থ শব্দটা শুনলেই ডেইগোর ভেতরের বি'কৃ'তি এক পৈ'শা'চিক উ'ন্মাদ'নায় রূপ নেয়, এই একটা কথা সে সহ্যই করতে পারে না।

সে নিজের দুই হাত দিয়ে নিজের মাথাটা খা'মচে ধরে, এক পরম, হাড়-কাঁপানো অন্ধ আ'ক্রো'শে পুরো পরিত্যক্ত গথিক বাড়িটা কাঁপিয়ে পৈশাচিক চিৎকারে গর্জে উঠল,

"আই অ্যাম নট সিক! নোওও! আমি অসুস্থ নই! আমাকে অসুস্থ বলবি না, রিভেন! আই উইল কি'ল ইউ! আই উইল টি'য়ার ইউ অ্যাপার্ট!"

রিভেন ডেইগোর সেই উ'ন্মাদ চিৎকার আর আ'ক্রো'শকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে, তার সেই শীতল চোখ দুটো দিয়ে ওকে পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত অবজ্ঞার সাথে দেখলো। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো এক পরম, পৈ'শা'চিক বিষাক্ত হাসি। সে অত্যন্ত নিচু, মখমলের মতো মসৃণ অথচ চাবুকের মতো ধারালো স্বরে বললো,

"দাঁড়া, তোকে একটু ভালো করে দেখি। তুই নাকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের খুব নামকরা আর্টিস্ট? অথচ তোকে বাইরের দুনিয়ার কেউ কোনোদিন দেখেনি। কারণটা কী ডেইগো? তোর ওই একটা চোখ নেই বলে তুই সমাজকে মুখ দেখাতে পারিস না, তাই তো?"

রিভেনের এই চরম খোঁটা আর তার চোখের সেই পৈ'শা'চিক অবহেলা ডেইগোর বুকের ভেতরের আগুনটাকে যেন আরও হাজার গুণ বাড়িয়ে দিলো। সে নিজের দাঁতে দাঁত চেপে এক বন্য পশুর মতো হিং'স্র চোখে তাকালো।লুইস বলে উঠে ,

"বস, ওর ওই একটা চোখ নাকি এনজো ন'ষ্ট করে দিয়েছিল!"

রিভেন হাসতে হাসতেই নিজের চাউনিটা আরও এক ডিগ্রি ক্রূর করে ডেইগোর দিকে তাকালো। তার চোখে তখন জ্যান্ত শয়তানের উল্লাস। সে মস্তক নেড়ে বললো,

"গুড! এনজো তাহলে মরার আগেও এই কু'ত্তা'র বা'চ্চা'কে একটা চরম শাস্তি দিয়ে গেছে! আচ্ছা, নো টেনশন ডেইগো... তোর ওই বাকি থাকা বাঁ চোখটা এবার আমি নিজের হা'তে শে'ষ করব। একটা চো'খ ন'ষ্ট হয়েছে, খুব ভালো হয়েছে। এবার এই একটা চোখ দিয়েই তুই লাইভ দেখবি কীভাবে তোর এই পুরো শ'রী'রটা'কে আমি কে'টে কু'চি কু'চি করে টু'ক'রো টু'ক'রো করি!"

রিভেনের সেই হাড় কাঁপানো ম'র'ণঘা'তী হুমকি আর চারপাশের এক ডজন রাই'ফে'লের নলের সামনে মোরালেস সাম্রাজ্যের ভিত তখন পুরোপুরি ধুলোয় মিশে গেছে।

নিজের ছেলের এই আসন্ন এবং বী'ভৎস পরিণতির কথা শুনে এতক্ষণ পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে থাকা কুখ্যাত ডন ফ্রাঙ্ক মোরালেস আর নিজের মাফিয়া অহংকার ধরে রাখতে পারবেন না। একজন বাবার ভেতরের অসহায়তা তাঁর সেই জরাজীর্ণ মুখে ফুটে উঠবে। তিনি রিভেনের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত ভাঙা, কাঁপানো অথচ এক আর্দ্র কণ্ঠে চিৎকার করে উঠবেন,

"রিভেন আরওয়াইন! আমাকে যা করার কর! তোদের যত ক্ষো'ভ আছে আমার ওপর উগরে দে, আমার চা'ম'ড়া ছা'ড়ি'য়ে নে! কিন্তু দোহাই তোর... আমার ছেলেকে ছেড়ে দে! ডেইগোকে তুই মারিস না!"

রিভেন ফ্রাঙ্কের সেই বুক ফা'টা আ'র্ত'নাদ শুনে কোনো উত্তর দিল না। তার ফ্যাকাশে ঠোঁটের কোণে কেবল এক পরম, পৈশাচিক বিষাক্ত হাসির রেখা ফুটে উঠল যে হাসিতে কোনো ক্ষমা নেই, আছে কেবল একচ্ছত্র অধিপতির আদিম ক্রূরতা। সে নিজের বাম হাতের বেষ্টনীতে থাকা রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে, ভয়ার্ত মুখটার দিকে তাকাল। মেয়েটার চোখ দিয়ে তখনো জল গড়িয়ে পড়ছে। রিভেন অত্যন্ত আলতো করে রোজেলিয়ার একটা গালে নিজের ঠোঁট দুটো ডুবিয়ে এক দীর্ঘ, তপ্ত চু'মু খেল যেন এই ন'র'ককুণ্ডের মাঝেও সে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে সে কতটা সুরক্ষিত।

ঠিক তখনই, পরিত্যক্ত গথিক বাড়িটার সদর দরজা এক প্র'চণ্ড শ'ব্দে ভে'ঙে চৌচির হয়ে গেল। অন্ধকারের বুক চি'রে হলরুমে এসে প্রবেশ করল সাইলাস, মার্কো এবং তাদের পেছনে স্বয়ং কারুসো সাম্রাজ্যের সম্রাট ইভানো কারুসো। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে তখন ভারী স্বয়ংক্রিয় অ'স্ত্র, আর চোখ দুটোতে জ্ব'ল'ছে এক যৌথ প্রতিশোদের আ'গুন।

ইভানো কারুসো ভেতরে ঢোকা মাত্রই তাঁর চোখ গিয়ে পড়ল ফ্রাঙ্ক মোরালেসের ওপর।এই কয়েক দিনের জমে থাকা মাফিয়া আ'ক্রো'শ আর নিজের স্ত্রীকে জিম্মি করার চরম অপমান তাঁর শি'রায় শি'রায় চা'বু'কের মতো আ'ছ'ড়ে পড়ল। তিনি বাঘের মতো গর্জে উঠে এক অবিশ্বাস্য গতিতে ফ্রাঙ্কের সামনে এগিয়ে গেলেন এবং নিজের লোহার মতো শক্ত ডান মু'ঠি দিয়ে ফ্রাঙ্কের চোয়াল বরাবর এক প্রচণ্ড, হাড় কাঁপানো ঘু'ষি মারলেন।

সেই পৈ'শা'চিক আ'ঘা'তের চোটে ফ্রাঙ্কের মুখ থেকে র'ক্তে'র ফোয়ারা ছি'টকে বের হলো এবং তিনি মেঝের ওপর ছিটকে পড়লেন। ইভানো ফ্রাঙ্কের দিকে আর এক মুহূর্তও না তাকিয়ে, এক পরম ব্যাকুলতায় মেহেরিন কারুসোর দিকে ছুটে গেলেন। তাঁর সেই কাঁপতে থাকা হাত শরীরটা ভালো করে চেক করতে লাগলেন কোথাও কোনো আ'ঘা'ত লেগেছে কি না, মোরালেসরা তাঁর কোনো ক্ষ'তি করেছে কি না। মেহেরিনকে অক্ষত দেখে ইভানোর মাফিয়া চোখে এক পরম স্বস্তির হাহাকার ফুটে উঠল।

এদিকে রিভেনের আর এই ন'র'কে এক সেকেন্ডও থাকার ইচ্ছে ছিল না। সে রোজেলিয়ার হাতটা নিজের শক্ত মুঠোয় শক্ত করে ধরে, তাকে নিজের চওড়া শরীরের ছায়ায় আগলে রেখে দরজার দিকে পা বাড়াল। সে ধীর কদমে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সাইলাস আর লুইসের দিকে তাকিয়ে আদেশ দিল,

"ডেইগো আর ফ্রাঙ্ক মোরালেসকে আমাদের ট'র্চা'র সেলে নিয়ে আয়। আজ রাতে এই পিতা-পুত্রের র'ক্ত দিয়ে আমি আরওয়াইন ম্যানশনের মার্বেল ধোবো।"

"ইয়েস, বস!"

লুইস আর ডেভিড একযোগে চিৎকার করে উঠল।

রিভেন রোজেলিয়াকে নিয়ে যখন প্রায় দরজার চৌকাঠের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, ঠিক সেই পরম, অসতর্ক মুহূর্তেই ঘটল এক অভাবনীয়, পৈ'শা'চিক দু'র্ঘটনা!

মেঝের ধুলোয় র'ক্তা'ত মুখ নিয়ে পড়ে থাকা ফ্রাঙ্ক মোরালেস জানতেন যে তাঁর সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে এবং রিভেনের ট'র্চার সেলে যাওয়া মানে মৃত্যুর চেয়েও কোটি গুণ ভয়ানক কোনো ন'র'ককুণ্ডে প্রবেশ করা। এক চরম, আ'ত্ম'ঘাতী পা'গ'লামি ভর করল সেই বৃদ্ধ মাফিয়ার মগজে। তিনি মেঝেতে পড়ে থাকা নিজের সেই ছিটকে যাওয়া পি'স্ত'লটা এক অবিশ্বাস্য কৌশলে নিজের ডান হাতে তুলে নিলেন।

কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই, ফ্রাঙ্ক মোরালেস সম্পূর্ণ উ'ন্মা'দ হয়ে পি'স্ত'লের ট্রি'গা'রে নিজের আঙুলটা লক করে দিলেন।

পরপর চার-পাঁচটা ম'র'ণঘাতী বু'লে'টের আওয়াজ শোনা গেল।

to be continue,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন