#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা
পর্ব ৫২
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
পি'স্ত'লের ন'ল থেকে ছিটকে বের হওয়া তপ্ত বু'লে'টগুলো সরাসরি গিয়ে আছড়ে পড়ল মেহেরিন কারুসোর বু'ক আর পেটের চা'ম'ড়া চি'রে ভেতরের পাঁ'জ'রের হাড়ের ওপর।তাজা, লাল র'ক্ত ছি'টকে এসে লাগল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইভানোর শার্টে । মেহেরিনের শ'রী'রটা এক পরম, অবর্ণনীয় য'ন্ত্র'ণায় ধনুকের মতো বেঁকে গেল এবং তিনি মেঝেতে ঢলে পড়তে লাগলেন।
বু'লে'টের সেই পৈ'শা'চিক গগনবিদারী আওয়াজটা বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই, সাইলাস এক বন্য প'শুর হিং'স্র'তায় ছুটে এল। সে নিজের বুট পরা ডান পা দিয়ে ফ্রাঙ্ক মোরালেসের বু'কে এক প্রচণ্ড জোড়ে লা'থি মা'রল।
ফ্রাঙ্ক ছি'টকে গিয়ে হলের ভাঙা দেয়ালের কংক্রিটে আছড়ে পড়লেন, তাঁর হাতের পি'স্ত'লটা দূরে ছিটকে গেল। সঙ্গে সঙ্গে লুইস, ডেভিড আর বাকি ইতালিয়ান গার্ডরা ডেইগো আর ফ্রাঙ্ককে মেঝেতে কু'কু'রের মতো চেপে ধরল। ডেইগো তখনো উ'ন্মা'দ পশুর মতো হাসছে আর ছটফট করছে, কিন্তু গার্ডদের লোহার মতো শক্ত হাতের নিচে তাদের নড়ার কোনো সাধ্য ছিল না।
ওদিকে মেহেরিন কারুসোর পুরো শরীরটা তখন তাজা র'ক্তে ভেসে যাচ্ছে। তাঁর পরিহিত দামি রেশমি শাড়িটা বুকের র'ক্তে ভিজে ভারী, কালচে লাল রঙ ধারণ করেছে। মেঝেতে র'ক্তে'র একটা ছোটখাটো নদী তৈরি হচ্ছে।ইভানো কারুসো তাঁর শত বছরের মাফিয়া অহংকার, সম্রাটের গাম্ভীর্য এক লহমায় ভুলে এক উ'ন্মা'দ, র'ক্তা'ক্ত পশুর মতো হাঁটু গেড়ে মেঝের ওপর বসে পড়লেন। তিনি মেহেরিনের সেই নি'থর, র'ক্তা'ক্ত শ'রী'রটা নিজের দুই বাহুর মাঝে পরম ব্যাকুলতায় জাপটে ধরলেন। তাঁর মুখ, তাঁর শার্ট তখন মেহেরিনের তা'জা র'ক্তে মাখামাখি। দরজার কাছ থেকে রিভেন আর রোজেলিয়াও এক চরম আতঙ্কে মেহেরিনের দিকে ছুটে এল।
ইভানো কাঁপতে কাঁপতে মেহেরিনের ফ্যাকাশে গালে হাত রাখলেন, তাঁর চোখের মণি দুটো তখন এক আদিম হা'হাকা'রে কাঁপছে। তিনি দেখলেন, মেহেরিনের সেই উজ্জ্বল চোখ দুটো আধবোজা হয়ে স্থির হয়ে গেছে, তাঁর বুকের ওঠানামা বন্ধ... শরীরটা একদম নিস্পন্দ, বরফের মতো শীতল,
"মেহেরিন! মেহেরিন, চোখ খোল! খোদার কসম, তুই আমাকে এভাবে ছেড়ে যেতে পারিস না! মেহেরিননন!"
ইভানো পুরো ম্যানশন কাঁপিয়ে, নিজের ক'লি'জা চি'রে এক পৈশাচিক, পা'গলপ'রায়ণ চিৎকারে গর্জে উঠলেন। তাঁর চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু আর মেহেরিনের র'ক্ত মিশে গাল বেয়ে পড়তে লাগল। তিনি এক পরম উ'ন্মা'দনায় রিভেনের দিকে তাকালেন, তাঁর গলার স্বর তখন কান্নায় বুজে এসেছে,
"রিভেন! হসপিটাল... এখনই হসপিটাল নিয়ে যেতে হবে! তোর মায়ের কিচ্ছু হতে পারে না! আমার মেহেরিনের কিচ্ছু হবে না! ও আমাকে ছেড়ে যাবে না, রিভেন! গাড়ি বের কর, ড্যাম ইট! গাড়ি বের কর!"
অন্ধকার কুয়াশা চিরে ল্যাম্বরগিনি আর ফোর্সের গাড়িগুলো যখন হসপিটালের ইমার্জেন্সি গেটে এসে ব্রেক কষল, তখন চাকার ঘর্ষণে ত'প্ত পিচ থেকে ধোঁয়া উড়ছিল। রিভেন নিজেই মেহেরিনের র'ক্তা'ক্ত শরীরটা নিজের চওড়া বুকে তুলে নিয়ে স্ট্রে'চা'রের দিকে ছুটল, তার পেছনে শার্ট-প্যান্টে র'ক্ত মাখা অবস্থায় ইভানো এক জ্যা'ন্ত লা'শের মতো দৌড়াচ্ছিলেন।
জরুরি বিভাগের আইসোলেশন রুমে মেহেরিনকে ঢোকানোর পর বাইরে শুরু হলো এক পরম, শ্বাসরুদ্ধকর প্রতীক্ষা। করিডোরের গথিক আলোয় রিভেন পাথরের মূর্তির মতো দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, তার শার্টের হাতার র'ক্ত তখন শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে। রোজেলিয়া এক কোণে বসে রিভেনের হাতটা ধরে নিঃশব্দে কাঁদছিল। আর ইভানো ওটির দরজার কাচে কপাল ঠেকিয়ে এক উ'ন্মা'দ পশুর মতো ছটফট করছিলেন।
প্রায় বিশ মিনিট পর, ওটির লাল আলোটা নিভে গেল।ভেতর থেকে ফ্যাকাশে মুখে একজন সিনিয়র সার্জন বেরিয়ে এলেন। তাঁর অ্যাপ্রনে মেহেরিনের র'ক্তে'র দাগ। ইভানো এক ঝটকায় ডাক্তারের সামনে এসে তাঁর কাঁধ খা'ম'চে ধরলেন। ডাক্তার অত্যন্ত করুণ চোখে ইভানোর দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে ইতালিয়ান বাসায় বললেন,
"আই অ্যাম এক্সট্রিমলি স্যরি, মিস্টার কারুসো... বু'লে'টগুলো সরাসরি ওনার হা'র্ট আর লি'ভার পাং'চার করে দিয়েছে। প্রচুর ইন্টারনাল ব্লি'ডিং হয়েছে। শি ইজ নো মোর... আমরা ওনাকে বাঁচাতে পারলাম না"
ইভানো কারুসোর ম'গ'জের শেষ সু'স্থ শি'রাটা এক প্র'চণ্ড বি'স্ফো'রণে ছিঁ'ড়ে গেল। তাঁর চোখের মণি দুটো এক পরম, আদিম পৈ'শা'চি'কতায় টকটকে লাল হয়ে উঠল। সে এক বন্য হায়েনার মতো গর্জে উঠে ডাক্তারের কলারটা নিজের দুই হাতের লোহার মতো শক্ত মুঠিতে খা'ম'চে ধরল। ডাক্তারকে এক প্রচণ্ড হেঁচকা টানে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে, নিজের ডান মুঠিটা বাতাসে তুলে ডাক্তারের চোয়াল বরাবর এক প্রচণ্ড দামাল ঘু'ষি মার'লেন।
"শু'য়ো'রের বা'চ্চা! তোর এত বড় সাহস! তুই কাকে মৃ'ত বলছিস?! আই উইল 'কিল ইউ, ইউ পিস অফ শিট! আমার মেহেরিন ম'রেনি! ও জ্যা'ন্ত আছে!"
ইভানো এক পরম উ'ন্মা'দনায় চিৎকার করতে করতে ডাক্তারের ওপর আবার চড়াও হতে গেলেন। ডাক্তারের মু'খ ফে'টে র'ক্ত করিডোরের দেয়ালে ছিটকে পড়ল।
"বস! নিজেকে সামলান!"
মার্কো আর সাইলাস এসে ইভানোকে পেছন থেকে নিজেদের পুরো শক্তি দিয়ে জা'প'টে ধরল। মার্কো ইভানোর কোমর ধরে পেছনের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু ইভানো কারুসো মার্কো আর সাইলাসের সেই লোহার মতো শক্ত বাঁধনের ভেতরেই এক পরম, পৈ'শা'চিক শ'ক্তিতে ছ'টফ'ট করতে লাগলেন। তাঁর চোখের মণি দুটো তখন কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে, কপাল আর গলার র'গগুলো চা'ম'ড়া চি'রে তপ্ত সি'সা'র মতো ফু'লে উঠেছে। তিনি নিজের পুরো অস্তিত্ব উজাড় করে, পুরো হসপিটালের করিডোর কাঁপিয়ে এক র'ক্ত জল করা চিৎকারে গর্জে উঠলেন,
"ছাড় তোরা আমাকে! ওরে কু'ত্তা'র বা'চ্চা'রা, তোরা হাত সরা আমার শরীর থেকে! আমার মেহেরিনের কিচ্ছু হয়নি! ও জীবিত আছে! কারুসো বংশের রানীর মৃ'ত্যু এত সস্তা নয়! খো'দার ক'সম, আমার ওয়াইফের যদি কিছু হয়, তবে এই সেন্ট জ্যুড হসপিটালের একটা ইটও আমি আস্ত রাখব না! আমি পুরো হসপিটাল জ্যা'ন্ত জ্বালিয়ে ছারখার করে দেবো! আই উইল বা'র্ন দিস ফাকিং প্লেস টু অ্যাশ!"
করিডোরের অন্য প্রান্তে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা রিভেনের ভেতরের শেষ মানবিক বাঁ'ধটাও এবার ছিঁ'ড়ে গেল। মায়ের মৃত্যুর এই নি'র্মম, র'ক্তক্ষ'য়ী সত্য তার ম'গ'জের কোষে কোষে এক প্র'লয়ং'করী আ'গুন জ্বা'লিয়ে দিয়েছে। সে নিজে এই চরম শোকে, এই অতলান্তিক শূন্যতায় এক অন্ধ পৈ'শা'চিক জা'নো'য়ারে রূ'প নিয়েছে। নিজের জন্মদাত্রীকে চিরতরে হারানোর দ'হন তাকে ভেতরে ভেতরে জ্যা'ন্ত পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে, আর তার ওপর ইভানোর এই হু'ঙ্কার তার সেই শোকের আ'গুনকে এক চরম উ'ন্মা'দনায় রূপ দিল।
সে এক বাঘের মতো হিং'স্র'তায় ধেয়ে এল ইভানোর সামনে। তার সেই র'ক্তাধিক্যে লাল হয়ে থাকা হ্যাজেল চোখ দুটো থেকে যেন কাঁচা র'ক্ত ঝরে পড়ছে। সে পুরো হসপিটাল কাঁপিয়ে, নিজের ক'লি'জা চিরে এক মরণঘাতী, পাগলপরায়ণ চিৎকারে গর্জে উঠল,
"হসপিটাল জ্বা'লা'বে?! জ্বা'লাও! পুরো দুনিয়াটাকেই জ্যা'ন্ত পু'ড়ি'য়ে ছা'ই করে দাও, ইভানো কারুসো! কিন্তু আমার মম কি তাতে ফিরে আসবে?! পা'গ'ল হয়ে গেছো তুমি?"
রিভেনের সেই তীব্র, বুক-চে'রা ব'জ্রগর্জন আর মায়ের মৃত্যুর এই নি'র্মম সত্যের চা'বুকটা ইভানোর কানে লাগা মাত্রই তিনি এক অলৌকিক, পৈ'শা'চিক শক্তিতে এক ঝটকায় মার্কো আর সাইলাসের বাঁধন ছিঁ'ড়ে মু'ক্ত হয়ে গেলেন। তিনি এক কদম এগিয়ে এসে রিভেনের কলারটা নিজের দুই হাতের মুঠিতে খা'ম'চে ধরলেন। রিভেনকে নিজের দিকে এক প্রচণ্ড হেঁ'চ'কা টান মেরে, ইভানো তাঁর সেই চেরা, বাঘের মতো গর্জনশীল কণ্ঠে চিৎকার করে উঠলেন,
"হ্যাঁ! আমি পা'গল হয়ে গেছি, রিভেন! আমি ফা'কিং পাগল হয়ে গেছি! চোখের সামনে নিজের ভালোবাসাকে, নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে র'ক্তে'র নদীতে ভেসে যেতে দেখে কোনো সুস্থ মানুষ জ্যা'ন্ত থাকতে পারে না! তুই বুঝবি না... তুই বুঝবি না মেহেরিন আমার কী ছিল! ও আমার বু'ক চি'রে ওর প্রাণটা নিয়ে চলে গেছে, আর তুই এখানে দাঁড়িয়ে আমাকে জ্ঞান দিচ্ছিস?!"
রিভেনের এক পরম আ'ক্রো'শে নিজের লোহার মতো শক্ত হাত দুটো তুলে এক ঝটকায় ইভানোর হাত দুটোকে নিজের কলার থেকে ছাড়িয়ে দিল, আর ইভানোর বুকের ওপর এক প্রচণ্ড ধা'ক্কা মা'রল।
ইভানো দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে হসপিটালের দেয়ালের ওপর আ'ছড়ে পড়লেন। রিভেন ইভানোর দিকে নিজের খু'নে আঙুল উঁচিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে, চোয়ালের হাড় কাঁপিয়ে এক পৈ'শা'চিক আ'ক্রো'শে হিসহিসিয়ে উঠল,
"জ্ঞানের কথা আমার মুখে মানায় না, ইভানো কারুসো?! আজ মায়ের এই লা'শে'র ওপর দাঁড়িয়ে নিজের এই মেকি ভালোবাসা দেখাতে তোমার বুক কাঁপছে না?! আজ তোমার জন্য...তোমার ওই পুরোনো পাপের জন্য আমার মা আর নেই! আজ তোমার ওই কু'ৎসিত মাফিয়া আভিজাত্যের বলি হতে হয়েছে মেহেরিন কারুসোকে! ইউ আর রেসপন্সিবল ফর দিস! তুমি মে'রে'ছো আমার মাকে!"
"রিভেনননন! কী বললি তুই" ইভানোর সেই পৈ'শা'চিক চিৎকার করিডোরের কাচগুলো কাঁপিয়ে দিল। তিনি এক অ'ন্ধ, আদিম হিং'স্রতা'য় রিভেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তাঁর লোহার মতো শক্ত ডান মুঠিটা সজোরে আ'ছ'ড়ে পড়ল রিভেনের চোয়ালে।
আঘাতের প্র'চ'ণ্ডতায় রিভেনের মাথাটা একপাশে ঘুরে গেল, তার ঠোঁটের কোণ চি'রে তা'জা র'ক্ত মেঝের মার্বেলে ছিটকে পড়ল। কিন্তু আরওয়াইন সাম্রাজ্যের ডেভিল এক চুলও লড়লো না। সে এক হিং'স্র হা'য়েনার মতো ক্রূর হেসে, ইভানো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর কলারটা ধরে এক প্রচণ্ড হেঁ'চকা টানে হসপিটালের ওটির দরজার সাথে আ'ছড়ে ফেলল।
"ইউ ফা'কিং ও'ল্ড পি'স অফ শি'ট!" রিভেন দাঁতে দাঁত চেপে, ইভানোর মুখের ওপর থু'তু ছেটানোর মতো করে কুৎসিত করে গর্জে উঠল,
"ইউ থিংক ইউ ক্যান ব্লে'ম মি?! আই উইল টিয়ার ইওর ফা'কিং থ্রো'ট আউট, ইভানো কারুসো! ইউ আর দ্য ওয়ান হু কি'লড হার! ইউ অ্যান্ড ইওর ফা'কিং কারুসো প্রাইড!"
ইভানো নিজের মুখের র'ক্ত এক হাত দিয়ে মুছে, রিভেনের কলারটা আবার খা'মচে ধরে দেওয়ালে পি'ষে দিতে চাইলেন। তাঁর চোখ দুটো তখন আ'ক্রো'শে কো'টর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
" হাউ ডেয়ার ইউ টক টু ইওর ফাদার লাইক দিস! মেহেরিন আমার স্ত্রী ছিল, আমার পুরো অস্তিত্ব ছিল! তোর মতো একটা কু'ত্তা'র বা'চ্চা'র জন্য ও আজ লা'শ হয়ে ওখানটায় শুয়ে আছে!"
"ফা'ক ইওর ফাদারহুড অ্যান্ড ফা'ক ইউ!"
রিভেন পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইভানোর বুকে নিজের শক্ত কনুই দিয়ে আ'ঘা'ত করল। সে অনর্গল, সাবলীল কুৎসিত ইংরেজি গালিতে করিডোরের বাতাস বি'ষা'ক্ত করে তুলল,
"ইউ ডোন্ট গিভ আ ফা'ক অ্যাবাউট হার! ইউ নেভার ডিড! ডোন্ট অ্যাক্ট লাইক আ ফা'কিং সেন্ট নাও, ইউ গ'ডড্যাম সাই'কোপ্যাথ!"
করিডোরের এই বী'ভৎস, আদিম সং'ঘাত দেখে মার্কো আর সাইলাস পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুই শীর্ষ ডন যখন শোকে আর আ'ক্রো'শে নিজেদের মধ্যে এভাবে কা'মড়াকা'মড়ি করে, তখন মাঝখানে যাওয়ার সাধ্য কোনো সাধারণ মানুষের থাকে না।
"রিভেন, প্লিজ! দোহাই আপনাদের... থামুন! প্লিজ!"
রোজেলিয়া নিজের দুই কানে হাত চাপা দিয়ে, চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বারবার তাদের মাঝখানে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তার পায়ের রূপোলি নূ'পুর জো'ড়া এই প্রথম কোনো করুণ সুরে ফুঁ'পিয়ে উঠছিল। কিন্তু সেই দুই উ'ন্মা'দ বাবা ছেলের কানে রোজেলিয়ার কোনো আ'র্ত'নাদই পৌঁছাচ্ছিল না। তারা একে অপরকে দেয়ালে আ'ছ'ড়ে ফেলছিল, একে অপরের র'ক্তে নিজেদের হাত রাঙাচ্ছিল।
রিভেনের একটা প্র'চণ্ড ঘু'ষি ইভানোর মুখে লাগতেই তাঁর ঠোঁটের চা'ম'ড়া চি'রে র'ক্ত গাল বেয়ে নামতে লাগল, আর ইভানোর নখের আঁ'চড়ে রিভেনের গলার চা'মড়া ছিলে র'ক্তে শার্টের কলার ভিজে গেল।
পিতা আর পুত্রের এই পৈ'শা'চিক, র'ক্তক্ষ'য়ী মারামারি, এই অনর্গল কুৎসিত গা'লিগা'লাজ আর শোকে ফেটে পড়া উ'ন্মা'দনা যখন একদম চরম সীমায় পৌঁছাল ।যখন মনে হচ্ছিল একজন আজ অন্যজনকে জ্যা'ন্ত খু'ন করে ফেলবে ঠিক তখনই ইভানোর ভেতরের সেই শত বছরের মাফিয়া সম্রাটের বাঁধটা এক অলৌকিক উপায়ে ভে'ঙে চূ'র্ণ-বিচূ'র্ণ হয়ে গেল।
রিভেন যখন ইভানোর বুকে ম'রণঘা'তী আ'ঘা'তটা করার জন্য নিজের র'ক্তমা'খা ডান মুঠিটা বাতাসে তুলল, ঠিক সেই মুহূর্তে ইভানো কারুসো আর পাল্টা আ'ঘা'ত করলেন না।তিনি এক পরম, অতলান্তিক হাহাকারে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে এক ঝটকায় রিভেনের সেই চওড়া, র'ক্তা'ক্ত শরীরটাকে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নিলেন। এক পরম, পৈ'শা'চিক ব্যাকুলতায় সে নিজের ছেলেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।রিভেনের বাতাসে তোলা মুঠিটা মাঝপথেই জমে বরফ হয়ে গেল।
ইভানো রিভেনের পিঠের কোটটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় খা'ম'চে ধরে, তার কাঁধের ওপর নিজের র'ক্তা'ক্ত মাথাটা নামিয়ে দিলেন। তাঁর সেই জরাজূর্ণ, পাথরের মতো শক্ত শরীরটা এবার এক পরম অ'বা'ধ্যতায় থরথর করে কাঁপতে লাগল। তার চোখ থেকে র'ক্তে'র মতো তপ্ত অ'শ্রুর ধারা রিভেনের শার্টের কাপড় ভিজিয়ে দিতে লাগল।
তিনি এক ভা'ঙা, একদম চূ'র্ণ-বি'চূর্ণ ও ফুঁপিয়ে ওঠা গলায় রিভেনের কানের কাছে ফিসফিসিয়ে উঠলেন,
"ও চলে গেছে, রিভেন... মেহেরিন আমাদের ছেড়ে সত্যিই চলে গেছে! ও আমাকে একা করে দিয়ে চলে গেল... আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো, রিভেন?! কী নিয়ে বাঁচবো আমি?!"
বাবার সেই বুক-চেরা, অসহায় আর্তনাদ আর পিঠের ওপর তাঁর সেই কাঁপতে থাকা হাতের স্পর্শ পাওয়া মাত্রই রিভেনের ভেতরের সেই জ্যা'ন্ত শ'য়তা'নটা এক পলকে মিলিয়ে গেল। তার উত্তোলিত মুঠিটা ধীরে ধীরে ইভানোর পিঠের ওপর নেমে এল। মায়ের মৃত্যুর সেই আসল, নি'র্মম কুয়াশাটা এবার যেন বাবা আর ছেলের এই র'ক্তমা'খা মারামারি ভেদ করে সরাসরি রিভেনের ক'লি'জাটা খা'মচে ধরল।
কিন্তু রিভেন আর এক মুহূর্তও সেই আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে থাকতে পারল না। তার ভেতরের দমবন্ধ করা হাহাকারটা তাকে তাড়া করে ফিরছিল। সে এক পরম, হিমশীতল নীরবতায় নিজের দুই হাত দিয়ে ইভানোর সেই কাঁপতে থাকা শরীরটাকে নিজের বুক থেকে আলতো অথচ দৃঢ়ভাবে সরিয়ে দিল। ইভানোর র'ক্তা'ক্ত, অশ্রুসিক্ত মুখের দিকে সে আর দ্বিতীয়বার তাকাল না। তার হ্যাজেল চোখ দুটো তখন সম্পূর্ণ ভাবলেশহীন, যেন এক জী'বন্ত লা'শের চোখ।
সে ধীর কদমে ঘুরে দাঁড়িয়ে ওটির দরজাটা ঠেলে ভেতরের আইসোলেশন কেবিনের দিকে পা বাড়াল।ভেতরের কেবিনটা এক অপার্থিব, পৈ'শা'চিক নি'স্ত'ব্ধতায় ডুবে আছে। করিডোরের সেই কু'ৎসিত চিৎকার, গা'লিগা'লাজ আর মারামারির কোনো আঁ'চ এই ঘরের দেয়ালগুলোকে স্পর্শ করতে পারেনি। ঘরের মাঝখানে রাখা সাদা ধবধবে শয্যায় শুয়ে আছে কারুসো বংশের রানী মেহেরিন কারুসোর নি'স্প'ন্দ দে'হ। তাঁর সারা শরীরের ওপর এখন একটা সাদা চাদর ঢাকা, শুধু ফ্যাকাশে মুখটুকু উ'ন্মু'ক্ত। মনিটরের কোনো বিপ শব্দ নেই। ঘরজুড়ে এখন কেবল এক পরম শূন্যতার হাহাকার।
রিভেন চ্যুত কোনো নক্ষত্রের মতো ধীর পায়ে হেঁটে সেই শয্যার একদম সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন খা'মচে ধরছে। এক অদ্ভুত, নামহীন যন্ত্রণায় তার ফুসফুস দুটো যেন দু'মড়ে-মু'চড়ে যাচ্ছে, প্রতিটি শ্বাস নিতে গিয়ে মনে হচ্ছে বুকের পাঁ'জরের হাড়গুলো তপ্ত কাচের মতো ভে'ঙে চূ'র্ণ-বি'চূর্ণ হয়ে ক'লি'জার ভেতর গেঁ'থে যাচ্ছে। এই সেই মানুষ, যার অবাধ্য ঔদ্ধত্যের ছায়ায় সে বড় হয়েছে। এই সেই জন্মদাত্রী, যার র'ক্তে'র প্রতিটি ফোঁটা রিভেনের শিরায় শিরায় আরওয়াইন সাম্রাজ্যের ডেভিলকে জন্ম দিয়েছে।
সে নিজের র'ক্তমা'খা ডান হাতটা বাড়িয়ে মেহেরিনের সেই বরফশীতল ফ্যাকাশে গালের ওপর রাখল। মায়ের চামড়ার সেই অসাড়, হিমশীতল স্পর্শ পাওয়া মাত্রই রিভেনের ভেতরের সেই পাথর হয়ে যাওয়া অ'হংকারটা এক লহমায় ধসে পড়ল। তার চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা তপ্ত অ'শ্রু গড়িয়ে পড়ে মেহেরিনের ফ্যাকাশে ঠোঁটের কোণে গিয়ে মিশে গেল।
সে অত্যন্ত নিচু, এক ভাঙা ও রুদ্ধ কণ্ঠস্বরে মেহেরিনের কানের কাছে নিজের মুখটা নামিয়ে ফিসফিসিয়ে উঠল,
"মম... চোখ খোলো, মম। দেখো, তোমার রিভেন এসেছে। তোমার সেই অবাধ্য ছেলেটা তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তুমি আমাকে এভাবে একা ফেলে যেতে পারো না, মম... আই নিড ইউ, প্লিজ চোখ খোলো!"
রিভেন হাটু গেড়ে বসে মেহেরিনের নি'থর বুকের ওপর নিজের মাথাটা নামিয়ে দিয়ে এক পরম, আদিম অবুঝ শিশুর মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তার চওড়া ছা'তিটা এক তীব্র, বুক-চে'রা হাহাকারে কাঁপছিল।
কেবিনের দরজার চৌকাঠে তখন পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছেন ইভানো কারুসো। তাঁর শার্টে মেহেরিনের রক্ত, চোখে এক পরম শূন্যতা। তাঁর ঠিক পেছনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সাইলাস আর মার্কো। করিডোরের এক কোণে দাঁড়িয়ে রোজেলিয়া নিঃশব্দে কাঁদছে, তার চোখের জল কোনো বাধা মানছিল না। পুরো মাফিয়া ওয়ার্ল্ড যাদের নামে কাঁপে, আজ সেই পিতা-পুত্র এক মৃ'তদেহের সামনে দাঁড়িয়ে এক পরম ট্র্যা'জে'ডির জী'বন্ত লা'শ হয়ে গেছে।
রিভেন মেহেরিনের ফ্যাকাশে কপালে নিজের ভেজা ঠোঁট দুটো ছোঁয়াল। তার গলার স্বর শো'কে আর কান্নায় একদম ভেঙে চূ'র্ণ-বি'চূর্ণ হয়ে গেছে। সে মেহেরিনের একটা হাত নিজের দুই হাতের মুঠোয় পুরে, এক পরম ব্যাকুলতায় ফিসফিসিয়ে বলতে লাগল,
"তুমি তো এমন ছিলে না, মম! তুমি কারুসো বংশের রানী... আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে স্ট্রং, সবচেয়ে পাওয়ারফুল আর আভিজাত্যপূর্ণ এক নারী! তোমার একটা ইশারায় পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড থরথর করে কাঁ'পত। কোনো শত্রুর সাধ্য ছিল না তোমার চোখের দিকে তাকানোর! সেই তুমি আজ এই সামান্য কয়েকটা বু'লে'টের কাছে হেরে গেলে, মম? চোখ খোলো, প্লিজ"
সে মেহেরিনের হাতটা নিজের গালে চেপে ধরল, তার চোখের জল মেহেরিনের ফ্যাকাশে চা'মড়া ভিজিয়ে দিচ্ছিল। রিভেনের মগজের কোষে কোষে তখন পুরোনো সব ক্ষ'ত একে একে তা'জা হয়ে উঠছিল। একে একে হারিয়ে যাওয়া সেই প্রিয় মুখগুলো তার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল। সে এক পরম একাকীত্ব আর চরম যন্ত্রণায় চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল,
"ডমিনিক ভাই আমাকে এভাবে মাঝরাস্তায় একা ফেলে চলে গেল... স্ক্যরলেটও আমাকে ছেড়ে ওপারে পাড়ি জমালো... আর আজ তুমিও, মম?! ওরাও যেমন আমাকে এই ন'র'কের মাঝে একা ফেলে চলে গেছে, তুমিও কি আজ তাদের মতো আমাকে চিরতরে ছেড়ে চলে যাচ্ছো, মম?! কেন তোমরা সবাই আমাকে এভাবে ছেড়ে যাও?! আমি আর পারছি না, মম... আমার এই বু'কটা ছিঁ'ড়ে যাচ্ছে! আই অ্যাম বেগিং ইউ, মম... জাস্ট ওয়ান্স, একবার চোখ মেলে তোমার এই অবাধ্য ছেলের দিকে তাকাও"
রিভেনের সেই বুক-চেরা, হাড়-কাঁপানো আ'র্ত'নাদ আর কেবিনের ভেতরের সেই ম্লান নীলাভ আলো পুরো পরিবেশটাকে এক পরম, শ্বাসরুদ্ধকর গথিক ট্র্যাজেডির চূড়ান্ত চূড়ায় নিয়ে গেল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের এ'কনিষ্ঠ দা'নবটা আজ তার মায়ের লা'শের ওপর দাঁড়িয়ে নিজের সমস্ত অহংকার, সমস্ত ক্রূ'রতা বিসর্জন দিয়ে কেবলই এক নিঃস্ব, মা'তৃহীন সন্তানে পরিণত হয়েছে।
To be continue,,,,