ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৫৩তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা

পর্ব ৫৩

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

মৃ'ত্যু আসলে কোনো সমাপ্তি নয়, মৃত্যু হলো এক পরম, হিমশীতল স্তব্ধতা। মানুষ চলে যায়,কিন্তু তার রেখে যাওয়া শূন্যস্থানটুকু বাতাসের মতো ভারী হয়ে চারপাশের দেয়ালে জমে থাকে। সেই মানুষটার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, তার গলার স্বর, তার শেষ স্পর্শগুলো এক একটি অদৃশ্য প্রে'তা'ত্মা হয়ে জী'বন্ত মানুষদের তাড়া করে বেড়ায়। অথচ, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর নিয়মটা বড় অদ্ভুত কারো জন্য কোনো কিছু থেমে থাকে না। সকালের সূর্যটা ঠিক একই নিয়মে উদিত হয়, ঘড়ির কাঁটাগুলো একই গতিতে ঘুরতে থাকে, শুধু কারোর একটি সাজানো পৃথিবী এক লহমায় ধুলোয় মিশে শ্ম'শান হয়ে যায়।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের এত রাজকীয় ক্ষমতা, এত কোটি কোটি ডলারের আভিজাত্য সবকিছুই এই দুই অক্ষরের ‘মৃ'ত্যু’ শব্দটার সামনে এসে এক পলকে তার সমস্ত জৌলুস হারিয়ে কুৎসিতভাবে নতজানু হয়।

সেই র'ক্তক্ষ'য়ী, অ'ভিশ'প্ত রাতের পর আজ আরওয়াইন এবং কারুসো সাম্রাজ্যের বুকে নেমে এসেছে এক আদিম, গুমোট আর অন্তহীন অন্ধকার।কারুসো ম্যানশন এবং আরওয়াইন ম্যানশন দুটি রাজকীয় দুর্গেরই বিশাল লোহার ফটকগুলোর ওপর আজ পতপত করে উড়ছে শোকের কালো পতাকা।

গথিক স্থাপত্যের সেই বিশালাকার জানালার মখমলের ভারী পর্দাগুলো আজ টেনে দেওয়া হয়েছে, যেন বসন্তের এক ফোঁটা আলোও এই শোকের রাজ্যে প্রবেশ করার ধৃষ্টতা না দেখায়। পুরো প্রাসাদজুড়ে এক পৈশাচিক, দমবন্ধ করা নীরবতা।

ম্যানশনের ভেতরের নিয়ম আজ বড় কঠোর, বড় বিষাদগ্রস্ত। প্রধান মেইড থেকে শুরু করে রান্নাঘরের বাবুর্চি প্রত্যেকের পরনে আজ কুচকুচে কালো পোশাক, আর চোখের নিচে লেপ্টে আছে এক অন্তহীন শোকের ছায়া। মেহেরিন কারুসোর কঠোর অথচ রাজকীয় শাসনের অধীনে যারা বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছে, সেই দাস-দাসীরা আজ মেহেরিনের শোকে একেকটা জীবন্ত পাথরে পরিণত হয়েছে।

কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না যে, কারুসো আভিজাত্যের অহংকার আর কোনোদিন এই করিডোর দিয়ে হেঁটে যাবেন না। তাঁর সেই গম্ভীর হুকুম আর কোনোদিন এই প্রাসাদের দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হবে না। পুরো প্রাসাদের বাতাস আজ মেহেরিন কারুসোর সেই রাজকীয় আভিজাত্যের শূন্যতায় হাহাকার করে উঠছে।

এই শোকের কালো ছায়া শুধু এই দুটি প্রাসাদের চার দেওয়ালেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তা এক প্রলয়ংকরী সু'নামির মতো আছড়ে পড়েছে পুরো বিজনেস ওয়ার্ল্ডের বুকে।

ডমিনিক স্কারলেট নামের আরওয়াইনদের নিজস্ব গ্লোবাল কোম্পানি, আর ওদিকে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কারুসো এন্টারপ্রাইজ’ সব কটি কর্পোরেট হেডে আজ অফিশিয়ালি শোক পালন করা হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর বিশালাকার কাচের টাওয়ারগুলোর চূড়ায় আজ জাতীয় পতাকার পাশাপাশি আরওয়াইন ও কারুসো ফোর্সের অফিশিয়াল ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ অর্ধনমিত করে রাখা হয়েছে।

সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত অফিশিয়াল কাজকর্ম। মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের বিজনেস ডিল, স্টক মার্কেটের লেনদেন, গ্লোবাল শিপমেন্ট সবকিছু এক অর্ডারে থমকে গেছে। সমস্ত এমপ্লয়িদের কালো ব্যাজ পরিধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কারুসো এন্টারপ্রাইজের এক একটি সিগন্যালে পুরো দেশের অর্থনীতি কাঁ'পত, আজ সেখানে কেবল এক শূন্য স্তব্ধতার রাজত্ব।

ওদিকে আরওয়াইন ম্যানশনের একটি অন্ধকার, জনমানবহীন ঘরের ভেতর রিভেন নিজেকে এক পরম, দমবন্ধ করা খাঁচায় বন্দি করে রেখেছে। মেহেরিনের দে'হটাকে মা'টির নি'চে দা'ফন করে আসার পর থেকে তার ভেতরের আরওয়াইন ডেভিলটা যেন এক জী'বন্ত লা'শে পরিণত হয়েছে। চোখের সামনে মায়ের নি'থর হয়ে যাওয়া, সেই শেষবারের মতো মেহেরিনের হিমশীতল কপালে চু'মু খাওয়ার অনুভূতিটা তার মগজের প্রতিটি কোষে ফু'ট'ন্ত সি'সা'র মতো ফু'টছে।

ম্যানশনে ফিরে আসার পর তার ভেতরের অবরুদ্ধ আ'ক্রো'শ আর শোকের আগুনটা এক প্রলয়ংকরী বি'স্ফো'রণে ফেটে পড়েছিল। নিজের ঘরের ড্রেসিং টেবিলের বিশাল আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজের র'ক্ত জল করা চোখ দুটো সহ্য করতে পারেনি। বরাবরই নিজের রাগ আর যন্ত্রণা যেভাবে সে প্রকাশ করে ঠিক সেভাবেই এক পরম আ'ক্রো'শে নিজের ডান হাতের মুঠি শক্ত করে বদ্ধ করে সেই কাচের আয়নার ওপর এক প্রচণ্ড আ'ঘা'ত করেছিল সে।

আয়নাটা শত টু'করো হয়ে ভে'ঙে মেঝের মার্বেলে ছড়িয়ে পড়েছিল, আর রিভেনের ফে'টে যাওয়া চা'ম'ড়া চি'রে তাজা লাল র'ক্ত চুইয়ে চুইয়ে মেঝেতে পড়চ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে রোজেলিয়া এক পরম ব্যাকুলতায় ছুটে এসে তার সেই র'ক্তা'ক্ত হাতটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরেছিল, এক বুক-ভাঙা কান্না নিয়ে তাকে আর কোনো ক্ষ'তি করা থেকে থামিয়েছিল। আসলে, এই বাড়ির ভেতরের পরিস্থিতি এখন এতটাই পৈ'শা'চিক যে, এখানে কেউ কাউকে সান্ত্বনা দেবে কিংবা কাউকে একটু শান্ত করবে কারোরই তেমন কোনো মা'নসি'ক অবস্থা নেই।

পুরো বাড়ির বাতাস কেবলই ভারী দীর্ঘশ্বাসে দমবন্ধ হয়ে আসছে।রোজেলিয়া নিজেও এক চরম মা'ন'সিক য'ন্ত্র'ণায় পু'ড়ছে। সে এক বি'ষা'ক্ত অ'পরা'ধবোধে দিন-রাত ছটফট করছে, বারবার নিজেকেই মেহেরিনের মৃ'ত্যুর জন্য দোষারোপ করে চলেছে। রিভেন নিজে এক অতলান্তিক শোকের সাগরে ডুবে থেকেও, নিজের সমস্ত অনুভূতিকে পাথর বানিয়ে রোজেলিয়াকে হালকা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে যাতে মেয়েটা এই তী'ব্র অনুশোচনায় পা'গ'ল না হয়ে যায়।

শুধু রিভেন নয়, আরওয়াইন ফোর্সের শীর্ষ বিশ্বস্ত স্তম্ভ সাইলাস, মার্কো, লরেঞ্জো, জ্যাক প্রত্যেকেই আজ এক পরম, নি'থর স্তব্ধতায় ডুবে আছে। তাদের সবার চোখে-মুখে এক অদ্ভুত অসাড়তা। মেহেরিনের এই আকস্মিক হ'ত্যাকা'ণ্ড শোনার পর তাদের সবার বু'কে কিছুদিন আগে মা'রা যাওয়া এনজোর শোকের ক্ষ'তটা যেন নতুন করে দগদগে হয়ে উঠেছে। পুরো বাহিনীর ভেতর এক মারাত্মক বি'ষা'দগ্র'স্ত ঝড় বইছে।

তবে গার্ডদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছে মার্কো। একটু পর পর ই তার সেই কঠিন, রুক্ষ চোখ দুটো জলে ভিজে উঠছে, টপটপ করে অশ্রু ঝরে পড়ছে গালে। সে বারবার নিজের কোটের হাতা দিয়ে সেই অবাধ্য জল মুছে ফেলে নিজেকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না। মেহেরিন কারুসো তাঁর জীবদ্দশায় রিভেনের সমস্ত গার্ডদের মধ্যে এই মার্কোকেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন, তার প্রতি একটা আলাদা মায়া ছিল। আর এর পেছনে একটা বড় কারণও ছিল রিভেনের পুরো স্কোয়াডের মধ্যে মার্কোর পে'টটা ছিল চরম পাতলা। রিভেনের কড়া হুমকিতে সাইলাস বা অন্য কেউ যখন ডেরার কোনো গোপন খবর মেহেরিনের কাছে ফাঁ'স করত না, তখন মেহেরিন কেবল মার্কোকে একটু ধ'মক দিলেই সে ভয়ে আর সম্মানে তোতাপাখির মতো রিভেনের সমস্ত খবরাখবর তাঁর চ'রণে উগরে দিত।

সেই মাতৃতুল্য রানী আর নিজের পরম বন্ধু এনজো একসাথে হারিয়ে মার্কো আজ পুরোপুরি দিশেহারা। এনজো মা'রা যাওয়ার পর থেকেই সে ক্লাবে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, ছোঁয়নি অ্যা'লকো'হলের বোতলও। নিজেকে ভুলে থাকার, এই বুক-ফাটা কষ্টকে অ'বশ করার মতো কোনো অপশন ই সে আজ খুঁজে পাচ্ছে না। একসময় যে কোনো যন্ত্রণায় সে নিজেকে দামি ম'দের নেশায় ডুবিয়ে রাখত, আজ মেহেরিনের প্রতি শ্রদ্ধায় আর এনজোর স্মৃতিতে সেটুকুও করতে পারছে না। নিজের কলিজার টুকরো বন্ধু আর নিজের আশ্রয়দাত্রী মাকে একসাথে হারানোর শোক কি এত সহজে মেটানো যায়?মার্কোর নিঃশব্দ কান্না যেন পুরো আরওয়াইন ম্যানশনের সুরক্ষাবলয়কে এক করুন বি'ষাদে ঢেকে রেখেছে।

ওদিকে, মেহেরিন কারুসোর জানাজা আর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে কারুসো সাম্রাজ্যের সম্রাট ইভানো কারুসো আর একটিবারের জন্যও আরওয়াইন ম্যানশনের দিকে পা বাড়াননি। তিনি সরাসরি চলে গেছেন তাঁর নিজের সেই প্রাচীন, গথিক কারুসো ম্যানশনে। প্রাসাদের সবচেয়ে অন্ধকার ও নির্জন রুমের ভেতর তিনি নিজেকে একরকম বন্দি করে এক কোণে বসে আছেন।

গত কয়েক রাতের একটানা জাগরণ, চোখের জল আর তীব্র শোকের চাবুকে তাঁর সেই রাজকীয় চেহারায় আজ এক পরম বি'ধ্বস্ততা নেমে এসেছে। তাঁর চোখের নিচে গভীর কালচে দাগ, বলিরেখাগুলো আরও স্পষ্ট আর ফ্যাকাশে মুখটা যেন এক জী'বন্ত শ্ম'শানের প্রতিচ্ছবি।

আজ কত বছর ধরে তিনি একাই এই বিশাল, রাজপ্রাসাদসম বাড়িটাতে রাজত্ব করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কোনোদিন তাঁর নিজেকে একা মনে হয়নি, কোনোদিন এই শূন্যতা তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি। সবসময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুৎসিত ক্ষমতা, কোটি ডলারের বিজনেস ডিল আর বিভিন্ন রাজকীয় ব্যস্ততার মাঝে তিনি নিজের অস্তিত্বকে ডুবিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু আজ মেহেরিন চলে যাওয়ার পর, এই পুরো পৃথিবীটাই যেন ইভানোর কাছে এক নিমেষে ফাঁকা, অর্থহীন হয়ে গেছে। আজ এই পরিচিত ডেরার প্রতিটি ইটে, প্রতিটি দেওয়ালে তাঁর ভীষণ একা লাগছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজ এতগুলো বছর ধরে তিনি এই একই একাকীত্ব আর এই বিশাল বাড়িতেই সগৌরবে বেঁচে ছিলেন। ক্ষমতার জৌলুস আজ যেখানে নিঃস্ব, মেহেরিনের চলে যাওয়া শূন্যস্থানটুকু সেখানে এক পরম, গুমোট অন্ধকার হয়ে ইভানো কারুসোর মাফিয়া অহংকারকে তিলে তিলে গ্রাস করে চলেছে।

ঘরের দেয়ালে ঝোলানো প্রাচীন ভিক্টোরিয়ান ঘড়িটার টিকটিক শব্দ আজ যেন একেকটা ধারালো খ'ঞ্জ'রের মতো ইভানোর বু'কে বিঁ'ধ'ছিল। তিনি তাঁর অ'বশ, ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া হাত দুটো দিয়ে নিজের মুখটা ঢেকে এক পরম হাহাকারে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এই প্রাসাদ, এই আন্ডারওয়ার্ল্ডের একচ্ছত্র রাজত্ব সবকিছুই আজ তাঁর কাছে এক পৈ'শা'চিক খাঁচার মতো মনে হচ্ছে। যে মেহেরিনকে তিনি বছরের পর বছর ধরে দূর থেকে ভালোবেসে গেছেন, যার বেঁচে থাকার অস্তিত্বটুকুই ছিল ইভানোর মাফিয়া সাম্রাজ্যের আসল চালিকাশক্তি, আজ সেই মানুষটার চিরতরে হারিয়ে যাওয়া ইভানো কারুসোর ভেতরের সম্রাটকে এক লহমায় ভিখারি বানিয়ে দিয়েছে।

_________________

আরওয়াইন ম্যানশনের ভূগর্ভস্থ এক আদিম, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারের বুক চিরে ভারী বুটের শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।ম্যানশনের এই ভূগর্ভস্থ বেসমেন্টের গঠনটা অত্যন্ত কুৎসিত আর জটিল। সিঁড়ি বেয়ে কিছুটা নিচে নামলেই প্রথম যে বিশাল, লোহার ভারী দরজাটা চোখে পড়ে, সেটাই হলো এই সাম্রাজ্যের সবচেয়ে কু'খ্যাত ট'র্চার সে'ল। আর তার ঠিক পাশেই সারিবদ্ধভাবে রয়েছে কয়েকটি সংকীর্ণ জেলখানা, যেখানে আলো-বাতাসের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। আজ সেই সিঁড়ি বেয়ে অত্যন্ত দ্রুত পায়ে নিচে নেমে এল এরিকা।

চারদিকের জং ধরা লোহার গন্ধ আর ছমছমে বাতাস দেখে তার শ'রী'রটা সামান্য শিউরে উঠল। এরিকা তার জীবনে কোনোদিন এমন পৈ'শা'চিক জায়গায় পা রাখেনি, কারণ তার ভাই তাকে সবসময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই নোংরা, র'ক্তা'ক্ত জগত থেকে এক পরম মায়ায় দূরে সরিয়ে রেখেছিল। এনজো তার আদরের বোনের জীবনটাকে ফুলের মতো পবিত্র আর সুন্দর করে সাজাতে চেয়েছিল। অথচ আজ ভাগ্যের কী নি'র্মম পরিহাস, সেই কলিজার টুকরো ভাইকে চিরতরে হারানোর সুগভীর শোক আর ভেতরের লে'লি'হান ক্রো'ধই আজ সুকোমল এরিকাকে এই ন'রককু'ণ্ডের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

এরিকার ঠিক পেছনেই হেঁটে আসছিল মার্কো আর সাইলাস। তারা ট'র্চার সে'লের সেই বিশালাকার লোহার দরজাটা দেখিয়ে দিতেই এরিকা এক পরম আ'ক্রো'শে ভেতরে ঢুকল।

ভেতরের পরিবেশটা এক পরম ভৌতিক আলো আঁধারিতে ডুবে আছে, ঠিক যেমনটা কোনো হরর মুভিতে দেখা যায়। ছাদ থেকে ঝুলছে একটা নিওন হলুদ টিমটিমে বাল্ব, যার ম্লান আলোয় চারদিকের দেওয়ালগুলো আরও কুৎসিত দেখাচ্ছে। ঘরের একপাশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে চা'ম'ড়া ফা'লা'ফা'লা করার চা'বু'ক, তপ্ত লো'হার র'ড আর ন'খ উ'প'ড়ে ফেলার মতো হা'ড়-কাঁ'পানো সব পৈ'শা'চিক ট'র্চা'র ডিভাইস। আর রুমের মাঝখানের একটু সাইডেই লোহার চেয়ারে অর্ধচেতন অবস্থায় বেঁধে রাখা হয়েছে ফ্রাঙ্ক মোরালেস আর ডেইগো মোরালেসকে।

এরিকা এক পরম নিস্পন্দ চাউনি নিয়ে সেই দুই শ'য়তা'নের দিকে তাকিয়ে রইল। সে খেয়াল করল, একজন বেশ বয়স্ক, আর তার পাশে থাকা কমবয়সী লোকটার একটা চোখ বী'ভৎ'সভাবে ন'ষ্ট হয়ে বন্ধ হয়ে আছে।

ঠিক তখনই মার্কো পেছন থেকে এক বরফশীতল, ক্রূর স্বরে বলে উঠল,

"এই হলো ডেইগো, স'ন অফ আ বি'চ! আর ওর একটা চোখ আমাদের এনজো নিজের হাতে শে'ষ করে দিয়ে গেছে।"

কথাটা শোনামাএ এরিকার ফ্যাকাশে চোখ দুটোতে যেন হাজার ভো'ল্টে'র বি'দ্যুত চ'মকে উঠল। মার্কো আর সাইলাস ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদের দিকে ইশারা করতেই, তারা দুটো বড় বালতি ভর্তি বরফ-শীতল কনকনে জল এক ঝটকায় ডেইগো আর ফ্রাঙ্কের মুখের ওপর ঢে'লে দিল।

সেই হাড়-কাঁপানো ঠান্ডা জলের স্পর্শে পিতা-পুত্র এক পরম য'ন্ত্র'ণায় শরীর ঝাঁ'কি'য়ে জেগে উঠল। ফ্রাঙ্ক মোরালেসের হাত দুটো চেয়ারের পেছনে শ'ক্ত শি'কল দিয়ে বাঁ'ধা, আর ডেইগোর হাত দুটো দুই পাশের হাতলের সাথে এমনভাবে লক করা যে তার আঙুলের ডগাগুলোর ঠিক নিচে ধা'রা'লো লো'হার পি'ন গেঁ'থে রাখা হয়েছে সামান্য নড়াচড়া করলেই সেই পি'ন ন'খে'র ভে'ত'র ঢুকে যাবে। মূলত, মার্কো আর লুইস কাল রাতে তাদের এখানে রেখে যাওয়ার সময় এই নি'খুঁ'ত বন্দোবস্ত করে গিয়েছিল।

ডেইগো চোখ মেলতেই এরিকা এক ব'ন্য, হিং'স্র বা'ঘিনীর মতো তার সামনে এগিয়ে গেল। ভাইয়ের মৃ'ত্যুর সুগভীর শোক আর প্র'তিশো'ধের আগুন তাকে এক নিমেষে পুরোপুরি উ'ন্মা'দ করে তুলল। সে এর আগে জীবনে কোনোদিন কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলেনি, কোনোদিন এই র'ক্তা'র'ক্তি দেখেনি, কিন্তু আজ তার ভেতরের সমস্ত মা'ন'বিক সীমা ভেঙে চূ'র্ণ-বি'চূ'র্ণ হয়ে গেল। সে নিজের ডান হাতটা মুঠো করে, নিজের পুরো শ'ক্তি উ'জাড় করে ডেইগোর সেই একচোখা বি'কৃ'ত মুখে এক প্রচণ্ড আ'ঘা'ত করল!

আ'ঘা'তের প্রচণ্ডতায় ডেইগোর মুখটা একপাশে ঘুরে গেল, এবং তার ঠোঁ'টের কোণ চি'রে কালচে র'ক্ত মেঝেতে ছিটকে পড়ল। এরিকা থামল না, সে এক পরম হাহাকারে ডেকরে উঠে ডেইগোর বু'কে, কাঁ'ধে নিজের ছোট ছোট হা'ত দুটো দিয়ে এলোপাতাড়ি মা'রধ'র শুরু করে দিল। নিজের প্রথম অভিজ্ঞতার কারণে তার মারের টেকনিকে কোনো মাফিয়া পেশাদারিত্ব ছিল না, কিন্তু প্রতিটি আ'ঘা'তে জড়িয়ে ছিল এক বোন হারানো ভাইয়ের তীব্র আ'র্ত'নাদ।

নিজের ছেলের এই অবস্থা দেখে ফ্রাঙ্ক মোরালেস চেয়ারে বসেই ছটফট করে উঠে এরিকাকে এক কু'ৎসিত, নোং'রা ইংরেজি গা'লি দিয়ে চিৎকার করে উঠলেন,

"স্টপ ইট, ইউ ফা'কিং ডা'র্টি শ্ল'ট! হাত সরা আমার ছেলের শ'রী'র থেকে! আই উইল কিল ইউ!"

ফ্রাঙ্কের মুখ থেকে এরিকার প্রতি এই নোং'রা গা'লি বের হওয়া মাত্রই, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাইলাসের চোখ দুটো আ'ক্রো'শে জ্ব'লে উঠল। সে এক চিতা বাঘের গতিতে এগিয়ে এসে নিজের লোহার মতো শক্ত বাম মু'ঠি দিয়ে ফ্রাঙ্কের নাক আর চোয়াল বরাবর এক প্রচণ্ড, হাড়-কাঁপানো ঘু'ষি মা'রল।

সেই প্র'লয়ং'করী আ'ঘা'তে ফ্রাঙ্কের নাকের হাড়টা এক লহমায় ভে'ঙে গুঁ'ড়ো হয়ে গেল এবং মু'খ ভ'র্তি র'ক্ত উ'গরে দিয়ে তিনি স্তব্ধ হয়ে গেলেন। সাইলাস ফ্রাঙ্কের কানের কাছে মুখ নামিয়ে হিসহিসিয়ে উঠল,

"আর একটা শব্দ যদি তোর ওই নোং'রা মুখ থেকে বের হয় মোরালেস, তবে তোর জি'বটা আমি টে'নে ছিঁ'ড়ে ফে'লব!"

এদিকে এরিকা তখনো পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডেইগোকে মে'রে'ই চলেছিল। মা'র'তে মা'র'তে একপর্যায়ে সে টেবিলের ওপর থেকে একটা ধা'রা'লো লো'হার র'ড তুলে নিয়ে ডেইগোর অবশিষ্ট থাকা ভালো চোখটার দিকে পরম আ'ক্রো'শে আ'ঘা'ত করতে চাইল। সে ডেইগোকে চি'রতরে অ'ন্ধ করে দিতে চাইল।

ঠিক তখনই মার্কো এগিয়ে এসে পেছন থেকে এরিকার হাতটা শক্ত করে ধরল। সে র'ডটা ডেইগোর চো'খের ই'ঞ্চিখা'নেক দূরত্বে থামিয়ে দিয়ে অত্যন্ত নিচু অথচ গম্ভীর স্বরে বলল,

"না, এরিকা! থামো! বসের কড়া নির্দেশ আছে ডেইগোর এই চোখটাতে এখন কোনো আ'ঘা'ত করা যাবে না। ওঁর এই চোখটা একদম অ'ক্ষত রাখতে হবে। কারণ, এই একটা চোখ দিয়েই ডেইগো মোরালেসের এই ন'র'কের আসল রূপ আর মোরালেস সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত ধ্বং'সলী'লা দেখা এখনো বাকি আছে! জাস্ট ওয়েট ফর দ্য ডে'ভিল!"

মার্কোর বারণ শুনে এরিকা হাপরের মতো হাঁ'পাতে হাঁ'পাতে নিজের হাতটা নামিয়ে নিল। তার চোখ দিয়ে তখনো টপটপ করে অশ্রু ঝরছিল, আর ডেইগো মেঝেতে নিজের র'ক্তে'র দিকে তাকিয়ে এক পৈ'শা'চিক হাসি হাসছিল যেন এই অন্ধকার ট'র্চা'র সে'লের প্রতিটি কোণ এখন এক রাজকীয় মহাপ্রলয়ের কাউন্টডাউন গুনছে।

মার্কো এক কদম এগিয়ে এসে এক পরম আ'ক্রো'শে ডেইগোর চুলের মু'ঠিটা নিজের লোহার মতো শক্ত মু'ঠিতে খা'মচে ধরল। তার মাথাটা পেছনের দিকে সজোরে হেঁ'চকা টান মেরে, ডেইগোর সেই বি'কৃত একচোখা মুখের একদম মুখোমুখি হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল,

"হাসছিস কেন ইউ স'ন অফ আ বি'চ!"

ডেইগো নিজের চুলের টান উপেক্ষা করে, ঠোঁটের কোণ থেকে চুইয়ে পড়া কালচে র'ক্ত মেঝের ধুলোয় থুতু দিয়ে উগরে দিল। তার সেই অবশিষ্ট একটা চোখে তখনো এক চরম বি'কৃত ও উ'ন্মা'দ লা'লসার লে'লিহান শিখা। সে এক পৈ'শা'চিক, অ'বশ হাসি হেসে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,

"এমন আনট্রেইনড বি'চদের হাতে মা'র খেতে কোনো মজা নেই মার্কো! এক কাজ কর... আমার ডলকে নিয়ে আয় এখানে। আমার ডল কিন্তু ফাইট জানে, আমি নিজে ওকে শিখিয়েছি!"

মার্কো নিজের ডান হাতটা বাতাসে তুলে ডেইগোর গালে এক প্রচণ্ড চ'ড় মা'রল।সেই তীব্র চ'ড়ের চো'টে ডেইগোর মুখটা আবার একপাশে ঘুরে গেল, কিন্তু তার ভেতরের সা'ইকোপ্যা'থ সত্ত্বাটা তাতে বিন্দুমাত্র দমল না। সে এক পরম অবাধ্যতায় নিজের মুখটা আবার সোজা করে সোজা মার্কোর চোখের দিকে তাকাল। তার সেই বীভৎস হাসিটা আরও চওড়া করে সে অনর্গল বলতে থাকল,

"আমার ডল কিন্তু খুব ফাস্ট লার্নার... মাত্র কয়েকটা মাস আমার ডেরায় ছিল, আর তার মধ্যেই ও নিখুঁতভাবে গু'লি চা'লা'নো শিখে গেছে। ও যখন ব'ন্দু'কের ট্রি'গা'রে আঙুল রাখত না... ওহ ড্যাম ইট! দেখতে এতো হ'ট লাগতো যে নিজের উপর ক-"

ঠিক তখনই টর্চার সেলের সেই দরজাটা এক প্র'ল'য়ংকরী শব্দে খুলে রিভেন প্রবেশ করলো । তার গায়ের কুচকুচে কালো কোট, চোখের ভেতরের সেই হিমশীতল আদিম অন্ধকার আর হ্যাজেল চোখের ম'রণঘাতী চাউনি পুরো ঘরের টিমটিমে হলুদ আলোটাকেও যেন এক নিমেষে স্তব্ধ করে দিল।

রিভেন এক কঠোর স্বরে আদেশ দিল, "সরে যা ওর সামনে থেকে, মার্কো!"

মার্কো এক সেকেন্ডের মধ্যে ডেইগোর চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে দু-কদম পিছিয়ে গেল। রিভেনের রাগে গজগজ করতে করতে হাতে থাকা ফোনটা সজোরে ছুঁ'ড়ে মা'রল সোজা ডেইগোর মুখের ওপর।

ফোনের শক্ত কোণাটা ডেইগোর চোয়ালের সাথে জোরে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে গেল।

"মার্কো! এরিকাকে এখান থেকে এখনই ওপরে নিয়ে যা। টেক হার আউট অফ হিয়ার, রাইট নাও!"

"ইয়েস, বস,"

মার্কো অত্যন্ত দ্রুত এরিকার হাত ধরে ট'র্চার সে'লের বাইরে বেরিয়ে গেল। লোহার দরজাটা আবার এক পরম নিস্তব্ধতায় আটকে গেল।

রিভেন এক চুলও সময় নষ্ট করল না। ডেইগোর মুখে নিজের স্ত্রীর প্রতি সেই নোংরা কামুকতার কথার কারণে সে এক চিতার গতিতে এগিয়ে এসে নিজের লোহার মতো শক্ত ডান মু'ঠিটা স'জোরে আ'ছড়ে ফেলল ডেইগোর চো'য়ালে।

রিভেন তার কলারটা এক হাতে খা'মচে ধরে নিজের বাম কনুই আর ডান মুঠি দিয়ে অনর্গল, পৈ'শা'চিক শক্তিতে ডেইগোর বুকে আর পাঁজরে পরপর কয়েকটা ম'র'ণঘাতী আ'ঘা'ত করল।

পাঁজরের হাড় ভে'ঙে যাওয়ার সেই বী'ভৎস শব্দ পুরো ভৌতিক ঘরটায় প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। ডেইগোর ফুসফুসটা যেন এক নিমেষে দু'মড়ে মু'চড়ে গেল, তার মুখ আর নাক দিয়ে গলগল করে তাজা, কালচে র'ক্ত ছিটকে এসে লাগল রিভেনের কুচকুচে কালো কোটের হাতায়। ডেইগো যন্ত্রণায় ধ'নুকের মতো বেঁকে গিয়েও লোহার চেয়ারের সাথে আটকে রইল, তার দ'ম বন্ধ হয়ে আসছিল।

রিভেন এক প্রচণ্ড হেঁচকা টানে ডেইগোর র'ক্তা'ক্ত মুখটা নিজের ফ্যাকাশে চেহারার একদম কাছাকাছি নিয়ে এল। তার সেই খু'নে হ্যজেল চোখ দুটো ডেইগোর অবশিষ্ট ভালো চোখটার গভীরে গেঁথে দিল।

"কী বলছিলি যেন ডেইগো মোরালেস? তোর ওই নোংরা আস্তানায় রোজেলিয়া যখন ব'ন্দু'ক হাতে দাঁড়াত, তখন ওকে খুব 'হ'ট' লাগত, তাই না? তো এখন বল...তার অফিশিয়াল হাজব্যান্ডের হাতের এই রাজকীয় মা'র তোর কেমন লাগছে? এটাও কি তোর কাছে খুব 'হ'ট' মনে হচ্ছে না, হুম?!"

রিভেন ডেইগোর থুতনিটা এক পরম আ'ক্রো'শে আরও জোরে চেপে ধরে, নিজের চোয়ালের হা'ড় কাঁপিয়ে চা'বু'কের মতো ধা'রা'লো স্বরে বলল,

"তুই তো একজন আর্টিস্ট, তাই না? তোকে আমি এমন এক ন'র'কের ক্যানভাসে সাজাবো ডেইগো, যেখানে তোর শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি মাং'স আমি নিজের হা'তে কে'টে আলাদা করব। তুই তোর এই একটা চোখ দিয়ে নিজের র'ক্তে নিজের সাম্রাজ্যের বি'লুপ্তি দেখবি।আরওয়াইনদের সাথে বাজি ধরার মাশুল কত ভয়ানক হতে পারে, তা তুই তোর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত টের পাবি!"

রিভেন ডেইগোর কলারটা এক ছেড়ে দিয়ে ধীর কদমে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার ফ্যাকাশে ঠোঁটের কোণে তখন এক চরম অবজ্ঞা। ঠিক সেই মুহূর্তে, এতক্ষণ যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে থাকা বুড়ো ফ্রাঙ্ক মোরালেস আস্তে আস্তে তাঁর ভারী চোখ দুটো মেললেন।

রিভেন নিজের কোটের হাতাটা সামান্য টেনে সাইলাসের দিকে চোখের ইশারা করল। সাইলাস এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে ঘরের কোণ থেকে একটা মেহগনি কাঠের চেয়ার টেনে এনে ঠিক ফ্রাঙ্ক মোরালেস আর ডেইগোর মাঝখানটায় রাখল। রিভেন অত্যন্ত আভিজাত্যের সাথে, এক পরম আধিপত্যশীল ভঙ্গিতে সেই চেয়ারটায় এসে বসল। তার বসার মাঝেই জড়িয়ে ছিল আরওয়াইন সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র কিং এর আদিম অহংকার।

সে কিছুক্ষণ গভীর ও বরফশীতল নীরবতা বজায় রাখল। ঘরের টিমটিমে হলুদ আলোয় তার চোখ দুটো এক রহস্যময় অন্ধকারে ঢাকা পড়ল। তারপর সে অত্যন্ত নিচু, মখমলের মতো মসৃণ অথচ চা'বুকের মতো ধা'রা'লো স্বরে বলতে শুরু করল,

"ইতালির মাটিতে তোদের মোরালেসদের এত বড় ক্ষমতা অর্জন করার কথা নয়, ফ্রাঙ্ক। তোদের ব্যাকগ্রাউন্ড আমি খুব ভালো করেই জানি। তোদের পেছনে নিশ্চয়ই আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় কোনো মাথা হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। এত মাস ধরে তোদের ব্যাকআপ দেওয়া সেই মা'দারফা'কারটা আসলে কে, হুম?"

ফ্রাঙ্ক মোরালেস কোনো উত্তর দিলেন না, তিনি পাথরের মূর্তির মতো ঠোঁট শক্ত করে চেপে লড়াকু মাফিয়ার মতো চুপ করে রইলেন। রিভেন বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, কিন্তু ঘরজুড়ে কেবল এক গুমোট নীরবতা ছাড়া আর কিছুই মিলল না।

ধীরে ধীরে তার ধৈর্যের বাঁধ ভা'ঙতে শুরু করল। সে তার বসার ভঙ্গিটা বদলে কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে এল। তার চোখ দুটো মুহূর্তের মাঝে লাল হয়ে উঠল। সে এক পরম পৈ'শা'চিক স্বরে বলল,

"তুই বোধহয় ভাবছিস চুপ থেকে তুই নিজের আভিজাত্য বাঁচাবি, ফ্রাঙ্ক? কিন্তু তুই ভুলে যাচ্ছিস, তুই কার ট'র্চার সে'লে বসে আছিস। যদি সত্যিটা এখনই মুখ খুলে না বলিস, তবে তোর ছেলের শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি চা'ম'ড়া আমি জ্যা'ন্ত ছা'ড়ি'য়ে নু'ন মাখাবো। আর তোর ওই বুড়ো চোখ দুটোর ওপর আমি আই-স্প্রেডার (এমন একটা লোহার যন্ত্র যা চোখের পাতা দুটোকে জোর করে টে'নে ধরে রাখে) লাগিয়ে দেবো। তুই চাইলেও তোর ওই চোখের পাতা দুটো এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ করতে পারবি না। তুই নিজের চোখ খোলা রেখে জ্যা'ন্ত ন'রক দেখবি... দেখবি কীভাবে তোর চোখের সামনে তোর ছেলেকে আমি কু'চি কু'চি করে কে'টে টু'ক'রো করি! চুজ নাও"

রিভেনের সেই হা'ড়-কাঁ'পানো, ম'রণঘাতী হুমকি আর চোখের ভেতরের দা'নবীয় রূপ দেখে ফ্রাঙ্ক মোরালেসের হৃদপিণ্ডটাও যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, এই ডেভিলের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো পথ নেই।

বেশ কিছুক্ষণ ভারী শ্বাস নেওয়ার পর, ফ্রাঙ্ক অত্যন্ত ভাঙা ও কম্পিত কণ্ঠে স্বীকার করলেন,

"মরোনা... মরোনা সিন্ডিকেট"

নামটা শোনা মাত্রই রিভেন আর সাইলাস দুজনই ভেতরে ভেতরে কিছুটা অবাক হলো, তাদের চোখ দুটো সামান্য সরু হয়ে উঠল। এই মরোনা সিন্ডিকেট আন্ডারগ্রাউন্ডের কোনো সাধারণ গ্যাং নয়, তারা ডা'র্ক ওয়েবের দুনিয়ায় এক বিশাল কর্পোরেট মাফিয়া টাইকুন। শুধু তাই নয়, এই সিন্ডিকেটের পেছনে রয়েছে দেশের সরকারের অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কিছু ক্ষমতাবান মানুষ। আর সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো, এই সিন্ডিকেটের প্রধান একসময় ইভানো কারুসোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। শেষবার যখন সেই সিন্ডিকেট প্রধান রিভেনের নিজস্ব টেরিটরির একটা বড় অংশ কিছুদিনের জন্য নিজের কবজায় নেওয়ার ধৃ'ষ্টতা দেখিয়েছিল, তখন রিভেন তাকে ম'রণঘা'তী হু'মকি দিয়ে এসেছিল।

______________

বেডরুমের পরিবেশটা এক নিঝুম, বি'ষা'দগ্রস্ত শান্ত চাদরে ঢাকা। বিশালাকার জানালার একপাশের ভারী মখমলের পর্দাটা আলতো করে সরানো, যেখান দিয়ে রাতের ম্লান চাঁদের আলো এসে সরাসরি আ'ছ'ড়ে পড়েছে শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোজেলিয়ার ওপর। তার দুধে আলতা গায়ের চামড়া আজ শোকের কালো ছায়ায় আরও বেশি ফ্যাকাশে আর পবিত্র দেখাচ্ছে। তার চোখের নিচে লেপ্টে আছে কান্নার মৃদু দাগ। ঘরজুড়ে কেবল জেসমিন আর চন্দন কাঠের এক মৃদু, বিষাদগ্রস্ত সুবাস ভেসে বেড়াচ্ছে।

রিভেন ঘরে ঢুকলো তাকে ক্লান্ত, একাকী সিংহের মতো দেখাচ্ছিল। তার গায়ের কালো কোটটা সে এতক্ষণে করিডোরেই ছু'ড়ে ফেলে এসেছে, তার সাদা শার্টের কলারের একাংশে র'ক্তে'র দাগ লেগে আছে। ঠোঁটের কোণে আর চোয়ালে ফোটা ফোটা র'ক্তে'র দাগ চাঁদের আলোয় আরও স্পষ্ট দেখাল।

রোজেলিয়া তার দিকে এগিয়ে এলো। সে কথা বলল না কেবল তার ফ্যাকাশে, নরম হাত দুটো বাড়িয়ে রিভেনের শার্টের কলারের র'ক্তমা'খা অংশটার ওপর রাখল। তারপর এক পরম, আদিম মমতায় নিজের আঙুলের ডগা দিয়ে রিভেনের চোয়ালের র'ক্তটুকু আলতো করে মুছে দেয়ার চেষ্টা করলো। রোজেলিয়ার এই অবুঝ, শান্ত আর গভীর স্পর্শটা যেন রিভেনের ভেতরের সেই পাথুরে, ডমিনেটিং ডেভিল সত্ত্বাটাকে এক লহমায় গুঁ'ড়ো করে দিল। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে যে ছেলেটা ভেতরে ভেতরে একলা পু'ড়ছিল, রোজেলিয়ার এই ছোট্ট স্বাভাবিক আচরণটা তাকে এক পরম তৃষ্ণার্ত আর দুর্বল করে তুলল।

রিভেন এক তপ্ত শ্বাস ফেলে, এক সেকেন্ডের মধ্যে নিজের লোহার মতো শক্ত দু-হাতে রোজেলিয়ার কোমরটা খা'ম'চে ধরে তাকে নিজের শক্ত বক্ষপটের সাথে লেপ্টে নিল। তাদের শরীরের মাঝখানের সমস্ত দূরত্ব এক নিমেষে মুছে গেল। রিভেন নিজের মুখটা রোজেলিয়ার গলার খাঁজে, তার রেশমি চুলের সুবাসে ডুবিয়ে দিয়ে এক পরম অবশ ও ভাঙা কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে উঠল,

"রোজ পেটাল... জাস্ট হোল্ড মি। আমাকে আর একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরো, জান"

রোজেলিয়া নিজের হাত দুটো রিভেনের চওড়া পিঠের ওপর জড়িয়ে ধরে তাকে আরও কাছে টেনে নিল।

রিভেন রোজেলিয়ার কোমর থেকে নিজের এক হাত সরিয়ে তার থুতনিটা আলতো করে ওপরে তুলল। চাঁদের আলোয় রোজেলিয়ার ফ্যাকাশে ঠোঁট দুটো এক নি'ষিদ্ধ নে'শার মতো দেখাচ্ছিল। রিভেনের হ্যাজেল চোখ দুটোতে তখন শোক আর আদিম কামনার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। সে নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে রোজেলিয়ার নিচের ঠোঁটটা মৃদু চেপে ধরে এক পরম আকর্ষণীয় স্বরে বলল,

"সবাই তো বসন্তের আলো ভালোবেসে হারিয়ে যায়, রোজ পেটাল... কিন্তু আমার এই অন্তহীন অন্ধকারকে জড়িয়ে ধরে রাখার সাহস শুধু তোমারই আছে। তুমিই তো এই ধ্বং'সস্তূ'পের মাঝে আমার বেঁচে থাকার একমাত্র প্রার্থনা। আমার পৃথিবীটা ন'রক হয়ে গেলেও... তুমি আমার বুক ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না"

কথাটা শেষ করেই রিভেন আর কোনো উত্তরের অপেক্ষা করল না। সে নিজের ঠোঁট দুটো সজোরে আ'ছড়ে ফেলল রোজেলিয়ার নরম, কাঁপতে থাকা ঠোঁটের ওপর। এক পরম, তৃষ্ণার্ত ও গভীর চু'ম্ব'নে সে রোজেলিয়াকে নিজের ভেতরের সমস্ত শোক আর শূন্যতা উগরে দিতে লাগল। রোজেলিয়াও নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে রিভেনের এই তীব্র, ডমিনেটিং ভালোবাসার সাগরে নিজেকে সঁ'পে দিল। ঘরের গথিক অন্ধকার আর চাঁদের ম্লান আলো মেহেরিনের সুগভীর শোকের মাঝেই এই দুই অবাধ্য প্রেমিকের শরীর আর আত্মাকে এক পরম, তীব্র রো'মা'ন্টিক ট্র্যাজেডির বন্ধনে বেঁধে ফেলল।

_______________

করিডোরের আলো-আঁধারির মাঝে এক দীর্ঘদেহী অবয়ব হেঁটে আসছিল। তার হাঁটার প্রতিটি ছন্দে জড়িয়ে ছিল এক প্র'ল'য়ংকরী ঝ'ড় আর পরম আভিজাত্য। অবয়বটি ধীর কদমে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই জানালার ম্লান আলোয় তার মুখাবয়ব স্পষ্ট হয়ে উঠল তিনি কারুসো সাম্রাজ্যের সম্রাট, স্বয়ং ইভানো কারুসো। তাঁর পরনের কুচকুচে কালো শার্টের হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গোটানো, চোখ দুটো অনিদ্রা আর তীব্র শোকে টকটকে লাল হয়ে জ্ব'লছে। মেহেরিনকে হারানোর পর থেকে তাঁর ভেতরের মাফিয়া অহংকার এক র'ক্তপি'পা'সু জা'নো'য়ারে রূপ নিয়েছে।

ইভানো করিডোরের শেষ মাথায় এসে সেই কু'খ্যাত ট'র্চা'র সে'লের লোহার দরজার সামনে দাঁড়ালেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাইলাস আর লুইস এক পরম সম্ভ্রমে মাথা নিচু করে দরজাটা খুলে দিতেই তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন।

ভেতরে লোহার চেয়ারে তখনো আ'ধম'রা অবস্থায় জং ধরা শি'ক'লে বাঁধা ছিলেন ফ্রাঙ্ক মোরালেস আর ডেইগো। ইভানো ভেতরে ঢোকা মাত্রই ঘরের ম্লান হলুদ আলোটাও যেন এক অজানা আ'তঙ্কে আরও নিভে গেল। ডেইগো নিজের ভালো চোখটা মেলে ইভানোর দিকে তাকিয়ে এক পৈ'শা'চিক হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলতে চাইল, কিন্তু ইভানো তাঁর দিকে একটিবারের জন্যও তাকালেন না। তাঁর পুরো চাউনি গিয়ে স্থির হলো মেহেরিনের হ'ত্যা'কারী ফ্রাঙ্ক মোরালেসের ওপর।

ইভানো কোনো কথা বললেন না। কোনো হু'ঙ্কার ছাড়াই তিনি এক চিতার গতিতে ফ্রাঙ্কের সামনে এগিয়ে গেলেন। ফ্রাঙ্ক কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইভানো নিজের লোহার মতো শক্ত ডান হাত দিয়ে ফ্রাঙ্কের চুলের মুঠি খা'ম'চে ধরলেন এবং এক পরম, আদিম পৈ'শা'চি'কতায় তাঁর মাথাটা সোজা পেছনের দিকে হেঁ'চকা টান মারলেন।

ফ্রাঙ্কের ঘাড়ের হা'ড় ভা'ঙা'র মতো একটা শব্দ হলো। ইভানো নিজের বাম হাতের ভারী মু'ঠিটা বাতাসে তুলে ফ্রাঙ্কের মুখে, চোখে আর পাঁ'জরে অনর্গল ও স'জোরে আ'ঘা'ত করতে লাগলেন।

বাবার এই বীভৎস পরিণতি দেখে ডেইগোর সেই বি'কৃত ম'গজের ভেতরের শ'য়তা'নটা এক পরম উ'ন্মা'দনায় জেগে উঠল। সে লোহার চেয়ারের হাতলের সাথে নিজের আঙুল আটকে থাকা পিনের তীব্র য'ন্ত্র'ণা উ'পেক্ষা করে বন্য পশুর মতো ছ'টফ'ট করতে লাগল। পুরো ঘর কাঁপিয়ে সে গর্জে উঠল,

"লিভ মাই ড্যাড, ইউ কারুসো বা'স্টা'র্ড! হাত সরা আমার ড্যাডের শ'রী'র থেকে! আই উইল টি'য়ার ই'উ অ্যা'পা'র্ট। ছাড় আমার ড্যাডকে!"

ডেইগোর সেই উ'ন্ম'ত্ত চিৎকার ট'র্চা'র সে'লে'র দেওয়ালে আ'ছড়ে পড়তে লাগল, কিন্তু ইভানো কারুসো তখন এক বাহ্যজ্ঞানহীন জ'ল্লা'দ।

প্রতিটি আ'ঘা'তের সাথে ফ্রাঙ্কের মুখ থেকে তাজা র'ক্ত ছি'টকে এসে ইভানোর ফ্যাকাশে মুখে আর কালো শার্টে লাগছিল, কিন্তু ইভানোর হাতের গতি এক চুলও কমল না। তিনি যেন এক উ'ন্মা'দ পশুর মতো ফ্রাঙ্ককে ছিঁ'ড়ে খে'তে চাইলেন। মা'রতে মা'রতে একপর্যায়ে ইভানো ফ্রাঙ্কের চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে টেবিলের ওপর থেকে চা'ম'ড়া ফা'লাফা'লা করার সেই কু'খ্যা'ত কাঁ'টাতা'র জড়ানো চা'বু'কটা নিজের হাতে তুলে নিলেন।

"ইভানো... স্টপ..."

ফ্রাঙ্ক নিজের মুখ ভ'র্তি র'ক্ত উ'গরে দিয়ে এক পরম অসহায়তায় ফুঁপিয়ে উঠলেন।

ইভানো চাবুকটা মুঠোয় শক্ত করে ধরে, ফ্রাঙ্কের ঝু'লন্ত, র'ক্তা'ক্ত মুখের একদম মুখোমুখি হয়ে এক পরম হিং'স্র ও বরফশীতল স্বরে গর্জে উঠলেন,

" তোর আর আমার মধ্যে কীসের ডিল ছিল, হ্যাঁ?! কোন সাহসে তুই মেহেরিনের গায়ে হাত তোলার ধৃষ্টতা দেখালি, ইউ পি'স অ'ফ শি'ট?!"

কথাটা শেষ করেই তিনি ফ্রাঙ্কের উত্তরের জন্য এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করলেন না। উ'ন্মা'দের মতো চা'বু'কের হা'ত'লটা ঘুরিয়ে ফ্রাঙ্কের র'ক্তা'ক্ত গালে এক প্রচণ্ড চা'বু'কের কো'প বসিয়ে দিলেন।

"আহহহহ!"

ফ্রাঙ্ক এক গ'গনবি'দারী পৈ'শা'চিক চিৎকারে গর্জে উঠলেন। চা'বু'কের ধা'রা'লো কাঁ'টাগুলো ফ্রাঙ্কের কুচকুচে চা'ম'ড়া চি'রে মাং'সের দ'লা উ'প'ড়ে নিয়ে এল। এক লহমায় ফ্রাঙ্কের পুরো বু'ক আর পে'ট কে'টে র'ক্তে'র একটা ছোটখাটো নদী তৈরি হলো। ইভানো এক পরম উ'ন্মা'দ'নায় একের পর এক চা'বু'কের আ'ঘা'ত করতে লাগলেন, যতক্ষণ না ফ্রাঙ্কের শ'রী'রের ওপরের অংশটা লাল মাং'সের স্তূ'পে পরিণত হলো।

ইভানো হাপরের মতো হাঁ'পাতে হাঁ'পাতে চাবুকটা মেঝের ওপর ছুঁ'ড়ে ফেললেন। তাঁর কুচকুচে কালো শার্টের সামনের অংশটা ততক্ষণে ফ্রাঙ্কের র'ক্তে ভিজে ভারী হয়ে গেছে।

তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে লুইসের দিকে নিজের র'ক্তাধি'ক্যে লাল হয়ে থাকা চোখ দুটো ফেরালেন।

"লুইস! অ্যা'সি'ড আর পে'ট্রো'ল নিয়ে আয় এখানে। এখনই!"

অ্যা'সি'ড শব্দটা শোনা মাত্রই ডেইগো মোরালেসের সেই বি'কৃত, সা'ইকো'প্যাথ মগজের ভেতরের উ'ন্মা'দনা এক নিমেষে এক জ্যা'ন্ত আ'তঙ্কে রূপ নিল। সে লোহার চেয়ারের হাতলের পিনগুলোর তীব্র য'ন্ত্রণা উ'পে'ক্ষা করে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ছ'টফ'ট করে উঠল। তার কপাল আর গলার র'গগুলো চা'ম'ড়া চি'রে বেরিয়ে আসতে চাইল।

"নো! নো, কারুসো! ওটা করিস না! ড্যাম ইউ, কারুসো বা'স্টা'র্ড! আমার ড্যাডের ওপর ওটা ঢা'লি'স না! আই উইল কি'ল ইউ! আই উইল টি'য়ার ইওর থ্রো'ট আউট! নোওও!"

ডেইগো পশুর মতো আ'র্তনা'দ করতে লাগল, কিন্তু ইভানো তার দিকে চোখ তুলে তাকালেনও না। ওপাশে ফ্রাঙ্ক মোরালেসের অবস্থা তখন ম'রণাপ'ন্ন। তাঁর শ'রী'রের চা'ম'ড়া চা'বু'কের আ'ঘা'তে ফা'লাফা'লা হয়ে গেছে, কিন্তু মৃ'ত্যু তাঁর দরজায় কড়া নাড়লেও এই মা'রা'ত্মক প'রিণ'তির কথা ভেবে তাঁর শ'রী'রটা এক অজানা ভয়ে থ'রথ'র করে কাঁ'প'ছিল।

লুইস তাক থেকে একটা কাচের জারে থাকা তীব্র ক্ষা'রী'য় অ্যা'সি'ড ইভানোর হাতের কাছে এগিয়ে দিল। ইভানো কোনো দ্বিধা ছাড়াই, এক পরম নি'ষ্ঠু'রতায় সেই অ্যা'সি'ডের জা'রটা ফ্রাঙ্ক মোরালেসের শি'ক'লে বাঁ'ধা দুটো হাতের ওপর উ'পু'ড় করে ঢেলে দিলেন।

মুহূর্তের মধ্যে তীব্র অ্যা'সি'ড ফ্রাঙ্কের হাতের মাং'স আর চা'ম'ড়া পু'ড়ি'য়ে ভেতরের হা'ড় পর্যন্ত গ'লি'য়ে দিতে শুরু করল। বাতাসে এক কুৎ'সিত, পো'ড়া মাং'সের বি'ষা'ক্ত ধোঁ'য়া ভেসে উঠল। ফ্রাঙ্কের মনে হলো তাঁর দুটো হাত কোনো চু'ল্লি'র আ'গু'নে গ'লি'য়ে দেওয়া হচ্ছে, এক অ'বর্ণনীয়, হা'ড়-কাঁ'পানো য'ন্ত্র'ণায় তাঁর চোখ দুটো কো'টর থেকে বে'রিয়ে আসতে চাইল। কিন্তু তাঁর গলা দিয়ে কোনো চিৎকার বের হলো না তীব্র ব্য'থার চো'টে তাঁর কণ্ঠনালী অ'ব'শ হয়ে গেল, তিনি কেবল ছ'টফ'ট করতে লাগলেন।

বাবার এই জী'ব'ন্ত ন'র'ককুণ্ড নিজের চোখে দেখে ডেইগো পুরো টর্চার সেল মাথায় তুলে গ'গনবি'দারী চি'ৎকা'রে কাঁ'দতে আর গ'র্জে উঠতে লাগল।

ইভানো এবার লুইসের হাত থেকে পে'ট্রো'লের ক্যা'নটা নিয়ে ফ্রাঙ্কের র'ক্তা'ক্ত, অ'র্ধগ'লি'ত শ'রী'রের ওপর পুরোটা ঢে'লে দিলেন। তীব্র পে'ট্রো'লের গ'ন্ধে ঘরের গু'মোট বাতাস আরও ভারী হয়ে উঠল। ফ্রাঙ্ককে পুরোপুরি ভি'জিয়ে দেওয়ার পর, ইভানো লুইসের দিকে তাকিয়ে নিজের ফ্যাকাশে ঠোঁট দুটো সামান্য নাড়িয়ে অত্যন্ত নিচু অথচ কড়া স্বরে বললেন,

" ডেইগোর চেয়ারটা এখান থেকে সরিয়ে পেছনের দিকে নিয়ে যা। একে শাস্তি রিভেন নিজে দেবে। ওর গায়ে যেন এক ফোঁ'টা আ'গু'নও না লাগে।"

"ইয়েস,বস!"

লুইসের ইশারায় কয়েকজন লম্বাচওড়া ইতালিয়ান গার্ড এসে ডেইগোর লোহার চেয়ারটা এক প্রচণ্ড হেঁ'চকা টানে টেনে হিঁ'চড়ে টর্চার সেলের একদম কোণার অন্ধকার দিকে সরিয়ে নিয়ে গেল। ডেইগো তখনো ছ'টফ'ট করছে, কিন্তু তার নড়ার কোনো উপায় ছিল না।

পুরো ঘরের মাঝখানে এখন কেবল পে'ট্রো'লে ভে'জা ফ্রাঙ্ক মোরালেস আর তাঁর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা মাফিয়া সম্রাট ইভানো কারুসো। ইভানো নিজের পকেট থেকে একটা দামি চু'রুট বের করে দাঁতে চাপলেন। তারপর নিজের রুপোলি জিপো লা'ইটারটা জ্বা'লি'য়ে চু'রুটের ড'গায় আ'গুন দিলেন। এক টান দিয়ে এক বুক কুন্ডলী পাকানো ধোঁ'য়া ছেড়ে, ইভানো এক পরম, পৈ'শা'চিক ও হিমশীতল স্বরে ফিসফিসিয়ে উঠলেন,

" গুডবাই, মোরালেস।"

কথাটা শেষ করেই ইভানো তাঁর হাতের জ'ল'ন্ত লা'ইটারটা এক পরম তাচ্ছিল্যে ছুঁ'ড়ে মা'রলেন সোজা ফ্রাঙ্কের পে'ট্রো'লে ভেজা বু'কের ওপর। এক বিশালাকার নী'ল-হলদ আ'গু'নের লে'লি'হান শিখা ফ্রা'ঙ্ক মোরালেসের পুরো শ'রী'রটাকে জ্যা'ন্ত গ্রা'স করে নিল। ট'র্চার সে'লের ছাদটা অনেক উঁচুতে হওয়ায় আগুনের সেই প্র'ল'য়ংকরী শি'খা হু হু করে ওপরের অন্ধকারের দিকে ধেয়ে যেতে লাগল।

ইভানো কারুসো কিছুক্ষণ আ'গুনের তী'ব্র লে'লিহান শি'খার সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন। আগুনের ত'প্ত আ'লো তাঁর ফ্যাকাশে, র'ক্তমা'খা মুখে আ'ছড়ে পড়ছিল। তিনি কোনো ভাবলেশহীন চোখে চু'রুটে শেষ টান দিয়ে এক বুক ধোঁ'য়া ছাড়লেন, তারপর ধীর কদমে ঘুরে দাঁড়িয়ে ট'র্চা'র সে'ল থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন।

তিনি আবার সেই দীর্ঘ, আলো-আঁধারি করিডোর দিয়ে একাকী রাজকীয় ছন্দে হাঁটতে হাঁটতে আরওয়াইন ম্যানশনের বিশাল ড্রইংরুমে এসে পৌঁছালেন। সেখান থেকে কোনোদিকে না তাকিয়ে, এক পরম সম্মোহিতের মতো সোজা গিয়ে প্রবেশ করলেন মেহেরিন কারুসোর সেই নিজস্ব শয়নকক্ষে।

ঘরের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই এক অদ্ভুত সু'বাস ইভানোর পুরো অ'স্তিত্বকে এক তীব্র চা'বু'কের মতো আ'ঘা'ত করল। মেহেরিন কারুসো আর এই ঘরে কোনোদিন ফিরে আসবেন না, অথচ ঘরের প্রতিটি কোণ, প্রতিটি আসবাবপত্র আজ তাঁর অস্তিত্বের সাক্ষ্য বহন করছে। ইভানো এক নিঝুম, বি'ষা'দগ্র'স্ত চাউনি নিয়ে চারদিকটা দেখতে লাগলেন।

তিনি ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ঘরের বিশালাকার আলমারিটার পা'ল্লা দুটো খুললেন। ভেতরে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে মেহেরিনের দামি রেশমি শাড়িগুলোর বিশাল কালেকশন। ইভানো কাঁপতে কাঁপতে নিজের একটা হাত বাড়িয়ে একটা শাড়ির নরম রেশম ছুঁয়ে দেখলেন। হঠাৎ করেই তাঁর চোখের মণি দুটো এক গভীর হা'হাকারে কেঁপে উঠল। তিনি খেয়াল করলেন, আলমারির প্রায় প্রতিটি শাড়ির রঙই এক অদ্ভুত মিল বহন করছে রয়্যাল ব্লু, গাঢ় মেরুন আর গ্রিন।

এই রঙগুলো মেহেরিনের নিজের পছন্দের ছিল না। আজ থেকে বহু বছর আগে, তারা যখন প্রথম একে অপরের ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়েছিলেন, তখন ইভানো মেহেরিনকে বলতেন যে এই রংগুলোতে তাকে খুব মানায় । মেহেরিন কারুসো নিজের সেই চিরকালীন আভিজাত্য আর অ'হং'কার ধরে রাখলেও, ইভানোর বলা সেই বহু পুরোনো কথার মান রাখতে নিজের আলমারিটা ইভানোর পছন্দের রঙেই সাজিয়ে রেখেছিলেন।

মেহেরিনের এই নীরব ভালোবাসার গভীরতা আজ তাঁর মৃ'ত্যুর পর ইভানোর পাথুরে বুকে ত'প্ত সি'সার মতো এসে বিঁ'ধল। তিনি আলমারি থেকে মেহেরিনের ব্যবহৃত কয়েকটি ছোটখাটো জিনিস সযত্নে তুলে নিয়ে ঘর থেকে বিদায় নিলেন।

তিনি যখন ম্যানশনের সদর দরজার দিকে এগিয়ে এলেন, তখন দরজার দুই পাশে আরওয়াইনদের এলিট গার্ডরা এক পরম সম্ভ্রমে সোজা হয়ে দাঁড়াল। ইভানোর নিজস্ব পার্সোনাল গার্ড তাঁর কুচকুচে কালো কোট আর একটি খাম হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ইভানো গার্ডের হাত থেকে কোটটা নিজের চওড়া কাঁধে জড়িয়ে নিলেন, আর সেই রহস্যময় খামটা নিজের হাতে নিলেন।

তিনি মেইন ডোরে ডিউটিরত রিভেনের প্রধান গার্ডদের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাঁর সেই টকটকে লাল হয়ে থাকা চোখ দুটো গার্ডের চোখের ওপর স্থির করে, অত্যন্ত নিচু, রাজকীয় ও গম্ভীর টোনে বললেন,

"হ্যান্ড দিস ওভার টু রিভেন আরওয়াইন"

"ইয়েস, মিস্টার কারুসো,"

গার্ডরা একযোগে মাথা নিচু করে খামটি লুফে নিল।কথাটা শেষ করেই ইভানো কারুসো আর এক সেকেন্ডও সেখানে অপেক্ষা করলেন না। কুয়াশাচ্ছন্ন গথিক রাতের বুক চিরে তাঁর ব্ল্যাক ল্যাম্বরগিনিটা এক পৈ'শা'চিক গতিতে আরওয়াইন ম্যানশনের লোহার ফটক পেরিয়ে অন্ধকারের দিকে মিলিয়ে গেল।

To be continue,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন