#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ #Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_78 (1st)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
পরের দিন সকাল~
কাঁটায় কাঁটায় এখন ৭টা বাজছে। সকালের স্নিগ্ধতা ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। তবে রায়ান আর মিরার ঘরটায় সেই স্নিগ্ধতার ছিটে ফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। রায়ানের ঘুম ভেঙেছে প্রায় আরো ১০-১৫ মিনিট আগে। উঠেই তার প্রথম কাজ ছিল তাদের ঘরের প্রত্যেকটা জানালা লাগিয়ে পর্দা টেনে দেওয়া। মিরার ঘুম যেন না ভাঙে তার জন্যই এই কাজ করা। পর্দা ভেদ করে আসা আবছা আলোয় রায়ান নিজের কুনুইয়ে ভর দিয়ে হাতের তালুতে গাল ঠেকিয়ে রেখে ঘুমন্ত মিরাকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখে যাচ্ছে। মিরা ঘুম ছুটছে ধীরে ধীরে। রায়ানের নজর স্থির মিরা গলায় ও কলার বোনে উজ্জ্বল লালচে দাগগুলোর উপর। যার অবদান সম্পূর্ণ তার। গত রাতে তার সযত্নে করা চিহ্ন গুলো দেখে রায়ানের মন তৃপ্তির সুধা পান করছিল। এক ফালি হেঁসে রায়ান তার হাত বাড়িয়ে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে দাগ গুলো আলতো করে ছুঁয়ে দিল। আবার পর মূহুর্তেই কি যেন ভেবে সেখানে নিজের ওষ্ঠ ছোয়ালো। রায়ানের চুলের ঘনঘটায় মিরার গলায় শিরশির অনুভুতির সৃষ্টি হলো। মিরা চমকিত হয়ে ফট করে নিজের দুচোখ মেললো-"কেএএএ..!"
রায়ান মিরাকে চমকে উঠতে দেখে মুচকি হাসলো তবে নিজের মাথা উঠালো না। মিরা রায়ানের চুলের ভাঁজে আঙ্গুল গলিয়ে দিয়ে দীর্ঘ এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলল-
"উউউফফফ, সকাল সকাল এভাবে ভয় দেখানোর মানে হয়?"
রায়ান নিজের মুখ উঠালো। তার চোখে মুখে এখনো দুষ্টুমির ছাপ। রায়ান মিরার উপর থেকে উঠে বসে নিজের এলোমেলো চুল গুলো হাতের সাহায্যে সামলে হতাশা হয়ে বলল-
"আমি থাকতে তোমার এতোটা কাছে অন্য কেউ আসতে পারে এমনটা যে তুমি ভাবতেও পারো দেখে অবাক হচ্ছি। হতাশ.. হতাশ..!"
মিরাও এবার উঠে বসলো। গায়ে সামান্য জোড়তা, হয়তো অভ্যন্তরীণ ব্যাথাতুর অনুভূতির জন্য। মিরা উঠে বসে নিজের ছন্নছাড়া লম্বা চুলের গুচ্ছ হাতে পেঁচিয়ে খোঁপা করে নিল। রায়ান হঠাৎ তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার কোমল উদরে হাত প্রতিস্থাপন করলো। মিরার ঘাড়ের উপর থুতনি রাখলো রায়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, যেন বিশ্রাম নিচ্ছে। মিরা জানালা বন্ধ ও পর্দা দিয়ে ঢাকা দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো-
"ঘরটা এমন অন্ধকার কেন? জানালা সব বন্ধ, পর্দা টানা..! একটু তো আলো ও আসছে না।"
-"আলোতে তোমার ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছিল তাই বন্ধ করে দিয়েছি। এমনিতেই রাতে ঠিক মতো ঘুম হয় নি তোমার আমার জন্য।"
মিরা চোখ বাঁকিয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল-
"রিয়েলাইজেশন যখন আছে জনাবের, আশা করি এরপর তার খেয়াল থাকবে যে বউকে ঘুমাতে দিতে হয়। আর বউ যদি প্রেগন্যান্ট হয়ে তাহলে তার ঘুমের প্রয়োজন বেরে যায়।"
রায়ান মিরাকে ছেঁড়ে দিয়ে বিছানার থেকে নেমে গেল। মিরার মনে হলো তার কথায় হয়তো রায়ানের খারাপ লেগেছে। মিরা রায়ানের হাত আঁকড়ে ধরে মায়াবী চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
"কি হলো? কোথায় যাচ্ছেন?"
রায়ান মিরার দিকে ঝুঁকে এসে মেয়েটার দুগালে হাত রেখে তার ললাটে রুক্ষ চুমু দিয়ে বলল-
"খেয়াল রাখছি। এখন এখানে আমার উপস্থিতি আমার হবু বাচ্চার মাকে বেশ জ্বালাতোন করবে। ওমন কিছু যেন না হয় তাই শাওয়ার নিতে যাচ্ছি। যাবে?"
মিরা ঠোঁট ফুলিয়ে নিল। রায়ান মিরার প্রতিক্রিয়া দেখে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-
"আরেকটু ঘুমিয়ে নাও হৃদপাখি। ঢাকায় ব্যাক করতে হবে। লং জার্নি তে কাহিল হয়ে যাবে তোমার।"
মিরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
"ঢাকা ব্যাক করবো মানে? আজই..!"
-"হ্যাঁ, আজই। আমার কিছু ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে। আমরা মাহির আর সোরার সাথেই ঢাকা ব্যাক করছি আজ।"
মিরা দ্রুত বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো। উরুর দিকে সামান্য ব্যাথা অনুভব হলেও মিরা স্থির হয়ে রায়ানের সামনে দাঁড়ালো -
"হাবি, আমি আর কিছু দিন এখানে থাকি? আপনার কাজ থাকলে আপনি চলে যান। আমি নাহয় পরে..!"
-"আমি তোমার কাছে তোমার মতামত জানতে চাই নি হৃদপাখি। আমি তোমাকে জানিয়ে দিলাম। আমরা আজই ব্যাক করবো। এ্যান্ড দ্যাটস ফাইনাল।"
মিরা নিজের কথা সম্পূর্ণ করার আগেই রায়ান নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকে গেল। মিরা উদাস মনে বিছানায় বসে বিড়বিড় করলো কিছু একটা। তখনই ঘরের দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ হলো। মিরা গিয়ে দরজা টা খুলতেই রোকেয়া বেগম ব্যস্ত কণ্ঠে বললেন-
"মিরা, তুই উঠে গেছিস? সোরার শশুর আর শাশুড়ি ড্রয়িং রুমে। তোরা কেউ নামছিস না। বিষয়টাকি ভালো দেখায়? নিচে আয়।"
মিরার মনটা তখনও খারাপ। সে রোকেয়া বেগম কে মলিন কণ্ঠে বলল-
"চাচি, রায়ান বলছেন আজই ঢাকা ফিরতে হবে। কি যেন কাজ আছে উনার। আমি আরো কিছু দিন থাকতে চাই। কিন্তু উনি দিবেন না থাকতে। তুমি কিছু একটা করে উনাকে মানিয়ে নাও প্লিজ।"
রোকেয়া বেগম মাথায় হাত। মিরা এখনই চলে যাক তা তিনি চান না। একই সাথে বাড়ির দুই মেয়ে একসাথে চলে গেলে বুকটা কেমন শূন্য হয়ে যাবে তাদের। কিন্তু রায়ানের কথা চিন্তা করে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন-
"আমার হয়েছে যত জ্বালা। তোর বরের মতো তব্দা কে মানানোর ক্ষমতা কি আর তোর চাচির আছে? ওর মাই আজ অব্দি কোনো কথা শোনাতে পারলো না ওকে দিয়ে।"
মিরা মুখটা নিচু করে নিল। রোকেয়া বেগম মিরাকে মন খারাপ করতে দেখে মিরার গালে হাত রেখে স্বান্তনা দিয়ে বললেন-
"মন খারাপ করে না মা। আচ্ছা, আমি রিভান কে বলবো নি। তুই ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়।"
মিরা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ালো। রোকেয়া বেগম পিছন ফিরে আবারো মিরার দিকে ঘুরে বললেন-
"ওহ আচ্ছা, ভালো কথা। নামার আগে সোরায়া কে ডাকিস।"
-"তুমি তো এসেছই। ডেকে যাও ওকে।"
রোকেয়া বেগম মিরার দিকে এক পা এগিয়ে তার মাথায় গাট্টা মেরে বলল-
"ধামরি মেয়ে, তোর কি বোধ বুদ্ধি নেই? আমি চাচি হয়ে বাসর ঘরে কিভাবে ডাকতে যাবো। নামার সময় ওদের ডেকে যাবি। বুঝেছিস?"
মিরা মাথায় হাতের তালু ঘষে বলল-"আচ্ছা ঠিক আছে।"
রোকেয়া বেগম দ্রুত পদক্ষেপে প্রস্থান করলেন।
_________
সকালের নরম আলোটা পর্দার ফাঁক গলে নিজ পথ খুঁজে প্রবেশ করেছে ঘরটায়। রাত-ভোরের ক্লান্তি আর অদ্ভুত এক নতুন অনুভূতির ভারে ঘরজুড়ে টহল দিচ্ছে শান্তি ও উষ্ণ নীরবতা। বিছানায় পাতা নতুন চাদর টা একটু এলোমেলোভাবে কুঁচকে আছে, বালিশের কোণে ও ঘরের এক কণায় ফ্লোরে গড়াগড়ি খাওয়া পুরোনো চারদরে ছড়িয়ে আছে কিছু অগোছালো স্মৃতির চিহ্ন— গতকালের দীর্ঘ আবেগময় রাতের সাক্ষী হয়ে।
সূয্যিমামার তীক্ষ্ণ রশ্মির তোপে সোরায়া আধোঘুমে চোখ মেলে বুঝতে পারল, সকালের আলোতে সবকিছু যেন অন্যরকম লাগছে। চারপাশে এক অচেনা পরিচিতির আবেশ। তার সম্পূর্ণ শরীর এক সুপ্ত ব্যাথায় জড়জড়িত। মৃদু চোখের পলক ফেলে সেই ব্যাথা নিবারণের চেষ্টা করতেই সে খেয়াল করলো তার শরীরে কোনো পোশাক নেই, কেবল চাদর দ্বারা শরীর টা আবৃত। সোরায়া আরো একটু আড়ষ্টতায় চাদরটা নিজের বুকের কাছে খামচে ধরে চোখ বুজে ফেলল। হঠাৎ গত রাতের কিছু অপ্রত্যাশিত দৃশ্য সোরায়ার চোখের সামনে ভেসে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে নিদ্রাহীন ফোলা চোখজোড়া তার বড় বড় হয়ে আচমকা খুলে গেল আর গাল দুটো নিজে থেকেই তাদের বর্ণ পরিবর্তন করে রক্তিম হয়ে উঠলো। সোরায়া দুহাতে নিজের মুখ ঢেকে মাথা নাড়িয়ে নিজেকে অবিশ্বাস করার বৃথা চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো নিজের লাজ লুকাতে। মাহিরের কথা মাথায় আসতেই সোরায়া বাস্তবে পদার্পণ করলো। সোরায়া হালকা মাথা ঘুরাতেই বুঝলো মাহির পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে তার ভেজা চুলে মুখ গুজে ঘুমোচ্ছে। সোরায়া নিজের শিথিল হাত কোমরের কাছে জড়িয়ে থাকা মাহিরের পেশি বহুল হাতের উপর রেখে মাহিরের আয়ত্ত থেকে কিছু টা ছাড়া পাবা চেষ্টা করলো। মাহির ঘুমের ঘোরেই নিজের ঝাঁকি দিয়ে সোরায়ার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মেয়েটার কোমর আবারো জড়িয়ে ধরলো। এবার আরো দৃঢ় হলো সেই বাঁধন। মাহির সামান্য বিরক্ত বোধে নিজের ভ্রু কুঁচকে সোরায়ার চুলের ভাঁজে আরো গভীরে মেয়েটার ঘাড়ে মুখ গুঁজে আওয়াজ করলো-"উমমম্..উহু..!" মনে হলো যেন তার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই সোরায়াকে ছাড়ার।
সোরায়া আপনা আপনি লজ্জায় কুঁকড়ে গেল। এতোটা লজ্জায় মাহিরের মুমোমুখি হওয়ার সাহস নিজের মধ্যে আছে কিনা সেই চিন্তা নিয়ে সে দোদুল্যমান। সোরায়ার মনে হলো মাহির হয়তো গভীর ঘুমে। সে ওভাবেই কিছুক্ষণ সময় নিয়ে দেহের সুপ্ত ব্যাথা সামাল দিতে শুয়ে রইল। মাহিরের প্রতিটি ক্লান্ত নিঃশ্বাসে তার ঘাড়ে এসে পড়ছে। যা তার মনে বেশ কৌতূহলের জন্ম দিচ্ছে - এখন মাহিরকে ঠিক কেমন দেখতে লাগছে? গত রাতের মতোই ভয়াত্মক নাকি অন্যরকম! সোরায়া হঠাৎ একটু কাচুমাচু হয়ে ওভাবেই মাহিরের দিকে ফিরল খুব সাবধানে, যেন মাহিরের ঘুমে কোনো প্রকার ব্যঘাত না ঘটে। প্রথমে তার চোখ বন্ধই ছিল। এক মিনিট পর যখন তার মনে হলো তার নড়াচড়ায় মাহিরের ঘুম ভাঙে নি, সোরায়া মিটিমিটি চোখের পাতা খুললো। মাহিরের চোখে জোড়া বন্ধ, ছেলেটার মুখে ক্লান্ত অথচ তৃপ্ত এক শান্তি। তার নিঃশ্বাসের ধীর ওঠানামা ঘরের নিস্তব্ধতাকে আরও কোমল করে তুলেছে। সোরায়ার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক মৃদু হাসি ফুটে উঠল। লাজ, ক্লান্তি আর নতুন জীবনের অদ্ভুত মিশেলে সকালটা মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠলো তার। সে মাহিরের নাকে একটা আঙ্গুল ছুঁইয়ে ঠোঁট ফুলালো। ছেলেটার এমন শান্ত অবয়ব দেখে খুব নরম কণ্ঠে বিড়বিড় করলো-
" রাক্ষস লোক, রাতে কি ভয়ংকর লাগছিল। আর এখন এমন ভাবে ঘুমোচ্ছে যেন সে নিষ্পাপ..ভাজা মাছটা ও উল্টে খেতে জানে না।"
হঠাৎ করেই মাহিরের ঠোঁটজোড়া নড়ে উঠলো-
" আমি কিন্তু সব শুনছি..!"
সোরায়া হতবাক। সে তড়িৎ গতিতে নিজের আঙ্গুল মাহিরের নাকের উপর থেকে সরিয়ে নিল। অবিশ্বাস্যে তার কণ্ঠে কম্পন দেখা দিল-
" আআ..আপনি ঘুমানোর নাটক করছিলেন?"
মাহির দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের চোখের পাতা খুললো। সকালের শুরু তে প্রথমবার দুজনের চোখাচোখি হলো। মাহির আবেশে সোরায়ার কোমর জড়িয়ে নিজের দিকে টেনে নিল মেয়েটাকে। সোরায়া এখনো বুঝে উঠতে পারছে না তার কেমন আচরণ করা উচিত এখন। মাহির কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই না সূচক মাথা নাড়লো।
সোরায়া তা দেখে স্বল্প রাগে জিজ্ঞেস করলো-
" তো? কখন থেকে জেগে আছেন?"
মাহির সোরায়া কে নিজের নিচে ফেলে তার উপরে ঝুকে বলল-
" যখন থেকে তোমার স্পর্শ অনুভব হয়েছে।"
সোরায়া বিশ্বাস করতে পারছে না মাহির এতটা সময় ধরে জেগে অথচ তাকে সেটা বুঝতে দেয় নি। সোরায়া গাল ফুলিয়ে বলল-
" ইটস চিটিং..!"
সোরায়া খেয়াল করলো মাহিরের গায়ে শার্ট জড়ানো। উপরের তিনটে বোতাম খোলাই রয়ে গেছে শার্টের। সোরায়ার মাথায় প্রশ্ন এলো-
" আপনি নিজে শার্ট পড়ে আছেন। আমার গায়ে কিছু নেই কেন? নিজের গা তো ঠিকই ঢেকেছেন।"
মাহির মুচকি হেঁসে সোরায়ার দিকে নেশাত্মক চাহুনিতে তাকিয়ে দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল-
" আর বলো না, ভোরে শাওয়ার নিয়ে ঠান্ডা লাগছিল। নিজেকে গরম করতে গেল আবার শাওয়ার নিতে হতো তাই শার্ট পড়ে নিয়েছি?"
সোরায়া মাহিরের কথায় যেন আরো রেগে গেল। ভোরে তো মাহির তাকে নিয়েই শাওয়ার নিয়েছে। তাহলে মাহিরের একা ঠান্ডা লাগবে কেন? সে একই ভাবে মুখ ফুলিয়ে বলল-
" আমিও তো শাওয়ার নিয়েছি আমার ঠান্ডা লাগে নি বুঝি?"
মাহির সোরায়ার কলার বোনের উপর আঙ্গুলের খেলা জারি করলো। দুষ্টু হাসি খেলে গেল তার ঠোঁটের কোণে-
" ইউ লুকড হট, বউজান। আর আমার তোমাকে এভাবে দেখতে ভালো লাগছে তাই কিছু পড়াই নি।"
সোরায়ার রাগ হয়তো এবার মাত্র ছাড়ালো। মাহিরের যুক্তি তার কোনো দিক থেকে সংগত মনে হলো না। সে এক প্রকার ধমক দিয়ে বলল-
" অসভ্যতামি কম করুন..!"
মাহির সঙ্গে সঙ্গে সোরায়ার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে অবুঝের মতো বলল-
" পারবো না। তুমি অভ্যাস করে নাও। Just get used to it.."
সোরায়া অস্বস্তিতে ছটফট করলো। মাহির তাকে নির্দেশাত্মক কণ্ঠে বলল-
"উফ্, সব তো হয়ে গেছে জান। এখনো ছটফট করছো কেন? শান্ত থাকো না একটু।"
সোরায়ার চোখের গন্ডিতে হঠাৎ অশ্রুর কণারা ভীর করলো। বুকে যেন তার ঝড় বইছে। সোরায়া খিচিয়ে বন্ধ করে নিল নিজের চোখের পাতা। মাহির সোরায়ার গলা থেকে মুখ তুলে সোরায়ার লজ্জায় লাল হয়ে উঠা গালে ছোট্ট একটা চুমু খেল। সোরায়া এখন বিন্দু মাত্র সাহস দেখাচ্ছে না চোখ খোলার। মাহির সোরায়ার এমন কাচুমাচু অবস্থা দেখে মজা পেল হয় তো। সে সোরায়ার সম্পূর্ণ মুখশ্রীতে টুকরো টুকরো ভাগে নিজের ওষ্ঠ ছোয়ালো। সোরায়া অনবরত কাঁপছে। কম্পিত ওষ্ঠ জোড়া সংবরন করতে দাঁতে কামড়ে ধরলো মেয়েটা। মাহির এই দৃশ্য দেখে হয়তো নিজের নিয়ন্ত্রণ পরিপূর্ণ ভাবে হাড়ালো-
"মাই স্ট্রবেরি লিপস..!"
যেই না সে সোরায়ার লাল হয়ে ফুলে উঠা ঠোঁট জোড়ার দিকে অগ্রসর হলো ওমনি তাদের দরজায় সজোরে আওয়াজ হলো-
"বনু..? মাহির ভাই..? উঠেছেন?"
চলবে...
বাকি টুকু কাল দিবো। আর হ্যাঁ কাল আসবে ইনশাআল্লাহ। অবশ্যই আসবে। রেগুলার হয়ে যাবো ভাবছি 🙏 যে পরিমাণ গালি শুনছি বাপ রে। এতো টক্সিসিটি দেখবো আশা ছিল না। আমার এতো ইররেগুলারিটির মাঝেও আমার যেই পাখিরা আমার প্রতি ধৈর্য দেখিয়েছো তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। love you pakhis 🥰 ❤️
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ #Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_78 (2nd)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
-"বনু..মাহির ভাই..আপনারা উঠেছেন?"
মিরার ডাকে সোরায়া চমকে নিজের চোখ খুলে ফেলল। মাহিরকে নিজের অতি সন্নিকটে দেখে সে মাহিরের বুকে হাত রেখে মৃদু ধাক্কায় ছেলেটাকে নিজের উপর থেকে সরিয়ে দিল। মাহির বিরক্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বিছানায় গা ছেঁড়ে দিল হতাশায়। সকাল সকাল রোমান্টিক মুডের এমন ভাবে বারোটা বেজে গেল বলে হয়তো এই হতাশা। সোরায়া তাড়াহুড়ো করে কোনো মতো নিজের উন্মুক্ত গায়ে চাদরটা গুছিয়ে নিতে নিতে চিন্তিত গলায় বলল-
"আপু..ডাকছে। এখন কি হবে? কি করবো?"
মাহির সোরায়ার পাশে মুখে একটা বিরক্তিকর ভাব নিয়ে শুয়ে ছিল। সোরায়ার উৎকণ্ঠা দেখে সে বাঁকা চোখে সোরায়া কে উদ্দেশ্য করে বলল-
"এমন ভাব করছো কেন, মনে হচ্ছে যেন কট খেতে যাচ্ছি আমরা। বিয়ে হয়ে গেছে আমাদের বোকা মেয়ে। আমাদের জন্য এখন এসব ভেরি মাচ লিগাল।"
সোরায়া মুখ ঘুরিয়ে মাহিরের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল-
"কি অদ্ভুত! এক রাতে লাজ লজ্জা কি সব খেয়ে ফেলেছেন? আপু আপনাকে আমাকে এই অবস্থায় দেখলে আমি আর কখনো আপুর চোখে চোখ রাখতে পারবো? আমাকে এভাবে কেউ দেখলে কি লজ্জায় পড়বো আমি আপনি বুঝতে পারছেন?"
মাহির বিরক্তি ও অস্বস্তিতে সোরায়ার রক্তিম বর্ণ ধারণ করা নাকটা হালকা করে টেনে দিয়ে বলল-
"কেন লজ্জায় পড়বে? লজ্জার কি করেছি আমি তোমার সাথে? আপু কিছুই ভাববে না। উল্টো যদি তুমি স্বাভাবিক থাকো তাহলে আমার পুরুষত্ব নিয়ে ঠিকই সন্দেহ করবে।"
-"সোরা...ওই বনু..? মাহির ভাই..!"
মিরায়ার কণ্ঠ পুনরায় ভেসে এলো। মাহির বাধ্য হয়ে বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। সোরায়া চেঁচিয়ে উঠলো-
"কোথায় যাচ্ছেন?"
-"দরজা খুলতে।"
-"দরজা খুলতে মানে? আমি খালি গায়ে তো।"
-"উফ্, সেটা আমি দেখতে পাচ্ছি তো জান। বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছো কেন?"
সোরায়া থতমত খেয়ে একদম চুপ করে গেল। মাহির দরজার লকে হাত রাখতেই মিরা আবারো ডাকলো-
"বনু..! উঠেছিস তোরা?"
সোরায়া এবার জোড় গলায় বিছানা থেকেই চিৎকার করে উঠলো-
"উঠেছি আপু...জাস্ট এমনি গড়াগড়ি করছিলাম বিছানায়। তুমি যাও। আসছি আমরা.."
মিরা বাইরে থেকে সোরায়ার আওয়াজ পেল। মাহির আর দরজা খুললো না সোরায়ার কথা শুনে। মিরা আর কথা বাড়ালো না। এমনিতেও সে কেবল রোকেয়া বেগমের কথাতে সোরায়া আর মাহিরকে ডাকতে এসেছে নয়তো বোনের বাসর ঘরের দরজা নক করার ইচ্ছে তার ছিল না। মিরা সোরায়ার প্রতিউত্তর শুনে সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে গেল। মাহির মুচকি হেঁসে আবারো বিছানার দিকে এগিয়ে এলো। সোরায়ার এবার গায়ের চাদর সমেত বিছানার থেকে নামলো। এখন বিছানায় থাকাটা তার ভয়ের কারণ। তবে বেচারি হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্যর্থ। সোরায়া দুপায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে গিয়ে নিজের শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পেরে পড়ে যাচ্ছিল বলে মাহির দ্রুততার সাথে এগিয়ে এসে তাকে ধরে ফেলল।
-"আহহ্..!"
সোরায়া আড়তোনাদ করে চোখ খিচিয়ে বন্ধ করে নিল। মাহির উদ্বিগ্নতা দেখিয়ে সোরায়ার গালে হাত রাখলো-
"সামলে জান... কষ্ট হচ্ছে? মাথা ঘুরছে? কি সমস্যা হচ্ছে আমায় বলো।"
সোরায়া মাহিরের বুকে মাথা ঠেকিয়ে তার শার্টের কিছু অংশ খামচে ধরলো। কোমরের নিচটা কেমন অবশ অবশ লাগছে সোরায়ার। পায়ের জোড় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কম মনে হচ্ছে। সোরায়া দাঁতে দাঁত চেপে আওড়ালো- "ভীষণ ব্যাথা..! পা ফেলতে পারছি না।"
মাহিরের এমন কথা শুনে ঠিক খুশি হলো না দুঃখ সে নিজেও বুঝলো না। তবে আপাতত খুশি প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই তাই দু্ঃখ টুকুই সম্বল। মাহির সোরায়া কে কোলে তুলে নিল। তাকে আবারো বিছানায় শুইয়ে দিল।
-"ঘরে কোনো পেইন কিলার আছে? না থাকলে বলো আমি নিয়ে আসছি গিয়ে।"
সোরায়া বিছানার সাইড টেবিলের দিকে দেখিয়ে দিয়ে বলল-
"যেতে হবে না ড্রয়ারে আছে।"
মাহির ড্রয়ার থেকে ঔষধ বের করে সোরায়াকে যত্ন সহকারে খাইয়ে দিয়ে মেয়েটার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল-
"সরি জান, একটু টাইম নাও দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে।"
সোরায়া ছলছল চোখে মাহিরের দিকে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ পরই মিনমিনিয়ে বলল-
"তাহলে বলুন, কখনো ওমন করবেন না..!"
মাহির সোরায়ার কপালে স্নেহের পরশ এঁকে দিয়ে শান্ত গলায় বলল-
"আমি আবারো সরি জান। কিন্তু মিথ্যা যে বলতে পারবে না।" সোরায়া লজ্জায় মাথা নিচু করে নিল। সে জানে এই মাত্র যা সে বললো তা ভিত্তিহীন তবুও বলে ফেলল। মাহির এক গাল বাঁকা হেঁসে সোরায়া কে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলল-
"থাক থাক হয়েছে, আর লজ্জা পেতে হবে না। তোমার লজ্জা আমার নির্লজ্জতামীর প্রধান কারণ, আমার লজ্জাবতী..সো প্লিজ..আমার প্রতি মায়া দেখিয়ে লাজ সরিয়ে রাখ। আই লাভ ইউ..!"
সোরায়া আরো দৃঢ়তার সাথে মাহিরের সাথে মিশে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল-
"আই লাভ ইউ মোর..!"
_____________
-"রুদ্র...এই..উঠুন না..সকাল হয়েছে কখন..! উঠুন।"
রিমির ব্যস্ত ডাকে রুদ্র বিরক্তি নিয়ে তাকে আরো ঘনিষ্ঠ ভাবে আঁকড়ে ধরলো। রিমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনরায় রুদ্রর গালে হাত রেখে ডাকলো তাকে-
"আহা, ছাড়ুন। বাড়ি ভর্তি মেহমান আমার উঠতে হবে।"
রুদ্র ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল-
"উফ্, ঘুমাতে দাও না একটু..!"
রিমি এবার বিরক্ত হয়ে রুদ্রর হাতে আঘাত করে বলল-
"দিবো না ঘুমাতে। আপনি আমাকে ঘুমাতে দিয়েছেন? উঠুন উঠুন। নিজে না উঠলে আমাকে ছাড়ুন।"
রুদ্র রিমিকে ছেঁড়ে দিল, তবে নিজে উঠলো না। ওভাবেই উপর হয়ে শুয়ে রইল। রিমি নিজের মুক্তি পেয়েই সন্তুষ্ট, সে আর রুদ্র কে ডাকলো না। রিমি তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো।
__________
ড্রয়িং রুমে শফিক রহমান, রায়ান চৌধুরী ও মাহিদ খান একসাথে সোফায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা মজেছেন। রোকেয়া বেগম, রামিলা চৌধুরী ও সীমা খান খাবার টেবিল সাজাচ্ছেন হাতে হাতে। সকলের মাঝে যে এমন গভীর সখ্যতা গড়ে উঠেছে তার খবর হয়তো তাদের কাছেও নেই। তিনজনের মাহির সোরায়ার বিয়ে নিয়ে কথা যেন শেষই হচ্ছে না। মিরা রান্নাঘরে আর রায়ান ঢাকা ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিজের মতো। রামিলা চৌধুরী সিঁড়ির দিকে একনজর দেখে বললেন-
"মিরা রায়ান নামলো, রিমি আর রুদ্র এখনো নামছে না। এখনও কি ঘুমাচ্ছে নাকি?"
সীমা খান মাঝ থেকে বললেন-
"থাক না ভাবি। বাচ্চা গুলো অনেক কাজ করেছে এই কয়দিন। একটু বিশ্রাম নিক। আপনার বড় বউমা নিচে নেমে সেই যে রান্না ঘরে ঢুকে আমাদের বের করলো এখন নিজে বের হচ্ছে না। এমন শরীরে ওর কি এসব কথা সাজে? ও তো একটু ঘুমাতে পারতো।"
রামিলা চৌধুরী মুখ ফুটে কিছু বলার আগেই মিরা রান্নাঘর থেকে এক ট্রে ভর্তি ফল কেটে সাজিয়ে নিয়ে খাবার টেবিলের দিকে আসতে আসতে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল-
"এসেগেছি। ফল গুলো কাটতে সময় লাগলো আর কি।"
রামিলা চৌধুরী মিরার হাত থেকে ফলের ট্রে টা নিয়ে টেবিলের উপর রাখলেন। আর মিরাকে টেনে চেয়ারে বসিয়ে বললেন-
"তোকে না বলেছি এমন অসচেতন না থাকতে। এখন তোর ফল কাটার সময় না খাওয়ার?"
মিরা কিছু বলার মতো খুঁজে পেল না। রিমি দ্রুত সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে সবার উদ্দেশ্যে বলল-
"গুড মর্নিং এভরিওয়ান। সরি, দেরি হয়ে গেল একটু।"
রামিলা চৌধুরী রিমিকে একা সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখা মাত্রই প্রশ্ন করলেন-
"রিমি..তুই একা কেন? রুদ্র কোথায়?"
রিমি একটু অস্বস্তিতে নরম কণ্ঠে জবাব দিল-
"উনি ঘুমাচ্ছেন মা। আমি ডেকেছিলাম, বললেন আরো একটু ঘুমাবেন তাই আর কি..!"
-"সবাই তৈরি হয়ে নাও। ঢাকা ফেরার সব বন্দোবস্ত হয়ে গেছে। ঘণ্টাখানেক পরেই বের হতে হবে।"
সদর দরজা পেরিয়ে রায়ান ড্রয়িং রুমে পা রেখেই গম্ভীর গলায় এ কথা বলতেই সকলের নজর গিয়ে রায়ানের উপর স্থির হলো। মিরা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রোকেয়া বেগমের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে ইঙ্গিত করতেই রোকেয়া বেগম আমতা আমতা করে বললেন-
"আজই কেন যেতে হবে রিভান? বিয়ে তো মাত্র শেষ হলো। আর কিছু দিন থাক।"
-"সরি, খালামণি। আমার তো আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল আরো তিন মাস আগে যেটা আর হয়ে উঠেনি। কারণ তো জানোই- আমার লক্ষ্মী, শান্তশিষ্ট বউয়ের কর্ম..! কম্পানি এখনো ওই লস বহন করছে। রায়ান ইন্ডাস্ট্রি'স আমার বহুদিনের কষ্টের ফল। এখন হাল না ধরলে সবটা শেষ হয়ে যাবে। আমার চট্টগ্রাম থাকলে চলবে না।"
রোকেয়া বেগম রায়ানের উত্তরে আর কিছু বলতে পারলেন না। মিরা তো সকালেই একবার ধমক খেয়েছে এই বিষয়ে কথা বলায় এখন আর সাহস নেই। তবে শফিক রহমান সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গাম্ভীর্যতা দেখিয়ে বললেন-
"কাজ যেহেতু আছে সেটা নিয়ে তো তর্ক করার কোনো মানে হয় না। যাও তবে। কিন্তু মিরা যাবে না।"
রায়ানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো -
"মিরা যাবে না মানে?"
-"যাবে না মানে যাবে না।"
-"কেন যাবে না?"
-"কারণ, ঢাকায় মিরার কোনো কাজ নেই। কাজ তোমার তুমি যেতেই পারো।"
রায়ান শফিক রহমানের যুক্তি শুনে তুচ্ছার্থে হেঁসে বাঁকা চোখে একবার মিরার দিকে তাকালো। আনন্দে যেন মেয়েটার চোখ চকচক করছে। রায়ানের চোখে চোখ পড়তেই সেটা তৎক্ষণাৎ হারিয়ে গেল। রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-
"খালুজান, আমি আপনার সাথে তর্ক করতে চাইছি না এই বিষয়ে। মিরার কাজ নেই কিন্তু পড়া তো আছে। ফাস্ট ইয়ার শেষ হয়েছে কেবল। ক্যাম্পাসে তো যেতে হবে ওর। তাছাড়া, আমি যাচ্ছি মানে আমায় বউ আমার সাথে যাচ্ছে।"
শফিক রহমান ধীর পায়ে রায়ানের সামনে মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ে বললেন-
"ও আমার মেয়ে, আমি বলছি মিরা এখানে থাকবে আরো কিছু দিন মানে এখানেই থাকবে।"
উপস্থিত সবাই জামাই শ্বশুরের লড়াই দেখছে শুরু মাত্র হয় তো পপকর্ন টাই নেই। রায়ান নিজের ভদ্রতা হারায় নি। সে শান্ত গলায় নিজের দিকে থেকে আরো কিছু বলতে যাবে তখনি শফিক রহমান নিজের হাত উঁচু করে রায়ান কে থামিয়ে দিয়ে বললেন-
"কেবল এক চাওয়াতে আমার মেয়েকে তোমার হাত তুলে দিয়েছিলাম। আজ যখন আমার এক মেয়ে আমার ঘর খালি করে চলে যাচ্ছে আমি আমার আরেক মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে চাই।"
শফিক রহমানের এমন আবেগী শব্দের ভীরে রায়ান নিজেকে হারিয়ে ফেলল। এমন আবদার কি ফেরানো যায়? রায়ানের এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো কিছু দিন পর তো সেও বাবা হবে তখন এমন পরিস্থিতিতে তার করণীয় কি হবে? প্রশ্ন টা মাথায় আসতেই তার অভ্যন্তরটা কেঁপে উঠলো। রায়ান কিছুই বলল না আর। সে এক নজর মিরার দিকে দেখলো আবার একই দেহের সামান্য নিচে উদরের অংশে নজর পড়তেই চোখ সরিয়ে নিল। বুকটা অদ্ভুত রকমের ধকধক করছে। রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কিছু বলার সাহস হলো না ছেলেটার। চুপচাপ ড্রয়িং রুম থেকে সোজা সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। কেউই ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না শেষ সিদ্ধান্ত কি হলো- মিরা যাচ্ছে? না যাচ্ছে না? রায়ান সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে লাগলো। একই সময় মাহির উপর থেকে নামছে। রায়ান কে এমন নিশ্চুপ উপরে উঠে যেতে দেখে অবাক হয়ে প্রশ্ন করল-
"কিরে, কই যাচ্ছিস?"
রায়ান মাহির কে দেখেও না দেখার মতো এড়িয়ে সোজা উপরে চলে গেল। মাহির হতবাক - সে কি করেছে যে রায়ান তার সাথে কথা বললো না..! মাহির নিচে নেমে কৌতুহলে জিজ্ঞেস করলো-
"রায়ানের কি হয়েছে? এমন সিরিয়াস কেন হয়ে আছো তোমরা?"
মিরা মাঝে থেকে দ্রুততার সাথে সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়ে বলল-
"আমি একটু আসছি।"
এই কথা বলে সেও সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল। মাহির কিছুই বুঝলো না কি হয়েছে ড্রয়িং রুমে। সীমা খান মাহিরের উপস্থিতি দেখেই চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলেন-
"তুই একা কেন মাহির? সোরা মা কোথায়?"
মায়ের প্রশ্নে মাহিরের রায়ান দিক থেকে ধ্যান ছুটলো। উত্তর কি দেবে জানা নেই যদিও তার তবে সে জানতো এই প্রশ্নের সম্মুখীন তাকে হতে হবে। মাহির নিজের চেহারায় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখালো না। নয়তো সোরায়া ও সবার সামনে আসতে লজ্জা পাবে। মাহির স্বাভাবিক ভাবে জবাব দিল-
"সোরা ঘুমাচ্ছে। এই কয়দিন তেমন ঘুম হয় নি হয়তো। ক্লান্ত তো..তাই গভীর ঘুমে আছে। জাগাতে ইচ্ছে করেনি। পরে ডেকে নিবোক্ষন। এখন ঘুমাক।"
সীমা খান মাহিরের কথায় যৌক্তিকতা দেখে মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন-
"হ্যাঁ, ভালো করেছিস। একটু ঘুমাক। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা লং জার্নি করতে হবে আবার। একটু রেস্ট নিয়ে নিক।"
_________
মিরা রায়ানের পিছু পিছু তার ঘরে প্রবেশ করলো। রায়ান নিজের লাগেজ গুছাচ্ছে। মিরার লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে রায়ানের দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে এসে ঠিক রায়ানের পিছনে দাঁড়াল। রায়ান মিরার উপস্থিতি টের পাচ্ছে কিন্তু তার মিরার সাথে কোনো প্রকার তর্কে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। রায়ান শান্ত গলায় বলল-
"আলমারিতে আমার কিছু জিনিস আছে। বের করে দাও।"
মিরা রায়ানের কথা অনুযায়ী কাজটা করলো। রায়ান নিজের জিনিস গুলো গুছিয়ে নিয়ে লাগাজের থেইন লাগিয়ে দিল। মিরা রায়ানের পিছনেই দাঁড়িয়ে থেকে মিনমিনে গলায় জিজ্ঞেস করলো-
"আমার জিনিস গুলো গুছানো হয় নি।"
রায়ান লাগেজ বেড থেকে নামিয়ে স্টেন্ড করে স্বাভাবিক ভাবে বলল-
"প্রয়োজন নেই। তুমি যাচ্ছো না। কাজ আমার তাই আমি যাচ্ছি।"
রায়ানের কথায় মিরা অবুঝের মতো লাফিয়ে উঠলো উচ্ছ্বসিত হয়ে। রায়ান মিরার আনন্দ দেখে বাঁকা চাহুনিতে মিরার দিকে তাকালো-
"আমাকে ছাড়া থাকবে বলে এতো আনন্দ? দ্যাট'স সামথিং নিউ। ইম্প্রেসিভ।"
মিরা স্থির হলো রায়ানের কথা গুলো যে ব্যঙ্গ করে বলা তা সে বুঝতে পারছে ভালোই। মিরা ঠিক নিজেও বুঝতে পারছে তার কি আদতেও আনন্দ করা শোভা পায়? হয়তো পায়! আবার হয় তো না..! মিরা রায়ানের দিকে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে রায়ানের বুকে মাথা রেখে বলল-
"খুব বেশিদিন না। মাত্র ৫-৬ দিন এর ব্যাপার। চাচা চাচি একটু স্যাটেল হয়ে গেলে চলে আসবো। এই কয়টা দিন ম্যানেজ করুন।"
রায়ানের কানে মিরার বলা 'মাত্র এই কয়টা দিন" শুনে মনে মনে বিড়বিড় করলো মিরার উদ্দেশ্যে-
"তোমাকে ছাড়া ৫-৬ টা দিন আমার জন্য 'মাত্র এই কয়টা দিন' কিভাবে মনে হতে পারে তোমার হৃদপাখি? কিভাবে?"
রায়ান সংযত করলো নিজেকে। মিরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-
"আমাদের প্রিন্সেসের যত্ন নিও। ও তো আর বলতে পারবে না- মাম্মা আমার খিদে পেয়েছে। সময় মতো খেয়ে নিও ওর জন্য কেমন? আর যখন এখানে আর থাকতে ইচ্ছে করবে না চলে এসো। ওকে?"
মিরার হৃদয় ভারী হয়ে এলো। রায়ানের বুকে চিবুক ঠেকিয়ে ছলছল চোখে রায়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
"আপনি আমাকে নিতে আসবেন তো?"
-"না..!"
মিরা রায়ানের থেকে দূরে সরে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল-
"না মানে?"
-"না মানে না। নিজ ইচ্ছায় থেকে যাচ্ছো। আবার নিজ ইচ্ছায় চলে আসবে। আমার কিছু বলার নেই।"
মিরা রায়ানের কথা বুঝতে পারলো রায়ান এই সিদ্ধান্তে খুশি নয় একপ্রকার বাধ্য হয়ে রেখে যাচ্ছে তাকে। মিরাও জেদ ধরে বলল-
"আপনি নিতে না এলে আমি যাবো না।"
রায়ান মিরার দুগালে হাত রেখে তার কপালে ছোট্ট চুমু এঁকে দিয়ে বলল-
"তুমি যখন নিজ থেকে ফিরবে তখন দেখা হবে হৃদপাখি। নিজের খেয়াল রেখো। হতে পারে আমি কাজের ব্যস্ততায় খবর নিতে পারলাম না তাই বলে কোনো রকমের অযত্ন অবহেলা যেন না দেখি আমার বউয়ের প্রতি।"
মিরার রাগ হচ্ছে খুব রায়ানের উপর। কিন্তু তা প্রকাশ করার সুযোগ নেই তার। কারণই বা কি দেবে সেই রাগের!
_________
নাস্তা শেষে মাহির সোরায়ার জন্য একটা প্লেটে অল্প কিছু খাবার নিয়ে ঘরে এলো। সোরায়া ভারী একটা লাল ফারসি ড্রেস পড়ে আয়নার সামনে বসে আছে। মাহির খাবারের প্লেট টা নিয়ে সোরায়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে এক সাইডে বসলো। সোরায়া মাহির কে দেখে প্রশ্ন করলো-
"সবাই আমার খোঁজ করেছে তাই না? কি বলেছেন আপনি? আমি কেন নামি নি? কেউ ভুল কিছু ভাবে নি তো?"
মাহির সোরায়ার উদ্বিগ্নতা দেখে নিজের হাসি আর ধরে রাখতে পারলো না। মাহির কে হাসতে দেখে সোরায়া বোকা বোকা ভাব নিয়ে বলল-
"আপনি কি আমার উপর হাসছেন?"
মাহির হাসি থামিয়ে বলল-
"তোমার উপর না, পরিস্থিতির উপর হাসছি। একে তো ঠিক মতো হাঁটতে পারছো না, তার উপর এখনই শরীরের এই অবস্থায় নিজের শশুর বাড়ি যেতে হবে। এখন আমি এক বেহায়া যার এতে কিছুই যায় আসে না আর তুমি এক হায়াবতী যে কিনা ঠিক মতো হাঁটতে পারছে না বলে লোকসম্মুখে যেতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে আমার ইমোশন গুলো এমন ভাবে কনফিউজড হয়েছে যে আমি বুঝতেও পারছি না কি করা উচিত তাই হাসছি।"
সোরায়া মাহিরের কথাগুলো শুনে মাথা নিচু করে নিল-
"সরি, কিন্তু আমার তো সত্যিই হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। আপনাকে ইচ্ছে করে এমন পরিস্থিতিতে ফেলছি না বিশ্বাস করুন।"
মাহির হাফ ছেঁড়ে সোরায়ার চিবুকে হাত রেখে তার মুখে নিজের দিকে উঁচু করলো-
"হেই...লুক অ্যাট মি। কি বলছো এসব? আমার দিকে তাকাও সোরা..!"
সোরায়া ফ্যালফ্যাল করে মাহিরের দিকে তাকালো। মাহির সোরায়ার দুগালে হাত রেখে ঘোর লাগানো গলায় বলল-
"তোমার এই সাময়িক অপারগতার কারণ আমি নিজে। এটা আমার জন্য ঠিক কতটা তৃপ্তির তা যদি তোমাকে বোঝাতে পারতাম হয়তো তুমি এমনটা বলতে পারতে না।"
সোরায়ার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এলো মাহিরের কথায়। লজ্জায় গাল দুটো রক্তিম হয়ে উঠলো। মাহির সোরায়ার লাজে রাঙা মুখশ্রী দেখে নিজের সংযম ত্যাগ করলো। নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনলো প্রিয়তমার ঠোঁট জোড়ায়। সোরায়া দুচোখের পাতা বন্ধ করলো সেই সময় টুকুর জন্য। মাহির সোরায়ার কপালে কপাল ঠেকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-
"তোমার এই বিচলিত ভাব, এই লজ্জা, এই ছোট্ট অপারগতা আমাকের সন্তুষ্টি ও তৃপ্তির কারণ। এইটা নিয়ে ভবিষ্যতে কখনো দুঃখ প্রকাশ করবে না। বুঝেছো?"
সোরায়ার ঠোঁট অনবরত কাঁপছে। মেয়েটা নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। মাহির সোরায়ার দিকে তাকিয়ে মজার ছলে বলে উঠলো-
"By the way, Congratulations, Mrs. Khan.."
সোরায়া অবাক হয়ে তাকালো। কারণ বোঝার স্বার্থে পাল্টা প্রশ্ন করলো-
"কন্গ্রেচুলেশনস, কিসের জন্য?"
মাহির সোরায়ার কানের দিকে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল-
"Congratulations on being the Girl who took my virginity.."
সোরায়া সম্পূর্ণ হতভম্ব। লজ্জায় তার ইচ্ছা করলো মাহিরের বুকে মিশে যেতে। সে দুহাতে মুখ ঢেকে মাহিরের বুকে লুকিয়ে কথার ধারাবাহিকতায় বলে ফেলল-"You took mine as well.."
মাহির সোরায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে ছোট চুমু দিয়ে বলল-
"তাহলে, তুমিও আমাকে কন্গ্রেচুলেট করো। এতো বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট আমার..!"
সোরায়া না পারতে এবার বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো-
"আপনি চুপ করবেন একটু ? উফফ্...!"
হঠাৎ দরজার কড়া নড়লো- "আসতে পারি?"
দরজার ওপার থেকে মিরার কণ্ঠ স্বরে মাহির সোরায়া একে অপরের আলিঙ্গন থেকে সরে গেল।
-"জি আপু..সরি ভাবি..!"
মাহিরের অনুমোদন পেয়ে মিরা দরজা ঠেলে ঘরের ভেতরে ঢুকতেই দেখলো মাহির আর সোরায়া কাছাকাছি বসে আছে। মিরা ইতস্তত বোধ করে জিজ্ঞেস করলো-
"আমি কি ভুল সময়ে এলাম?"
মাহির আর সোরায়া একসাথে নাসূচক মাথা নাড়লো-
"না না আপু / একদম না ভাবি। আসুন না.."
মিরা সোরায়ার কাছে গিয়ে বসলে মাহির দুই বোনকে কিছু টা একলা সময় দিতে মিরার উপর নিজের দায়িত্ব টুকু সঁপে দিল-
"ভাবি এখন যেহেতু আপনি এসেছেন, আপনিই খাইয়ে দিন ওকে। রায়ান বলল আপনি আমাদের সাথে ঢাকা ফিরছেন না। সোরায়া ঢাকা ফিরে আপনাকে মিস করবে এটা সিয়র। একটু আদর করে দিন।"
মিরা মাহিরের কথায় মুচকি হাসলো। মাহির ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে মিরা একবার পা থেকে মাথা অব্দি সোরায়া কে দেখলো। বড় বোন হিসেবে এখন তার কি বলা উচিত হবে মিরার মাথায় ঠিক খেলছে না। সোরায়া ও এই প্রথমবার এতোটা থমথমে হয়ে আছে। মিরা শুকনো ঢোঁক গিলে সোরায়া কে জিজ্ঞেস করলো-
"তুই ঠিক আছিস তো বনু?"
সোরায়া মিরার প্রশ্নের মানে বুঝলো কিনা বলা দায় তবে অস্বস্তিতে হাতের নখ খুঁটতে খুঁটতে বলল-
"হুম, ঠিক আছি আপু। হঠাৎ এভাবে জিজ্ঞেস করছো যে?"
মিরা জিভের সাহায্যে নিজের ঠোঁট ভিজিয়ে নিয়ে বলল-
"হঠাৎ বলতে আসলে, সবই তো হঠাৎই। কি না কি বলছি খোদা। আমি বলতে চাইছি যে, তোর শরীর ঠিক আছে তো? না মানে , নিচে এলি না তাই আর কি..!"
সোরায়া মিরার কথার ধরন দেখে বুঝতে পারছিল তার যে অবস্থা মিরার তাকে এমন প্রশ্ন করতেও দ্বিধা অনুভব হচ্ছে। সোরায়া ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি রেখে বলল-
"সব ঠিক আছে আপু। টেনশন কোরো না। তেমন কোনো কারণে না আসলে, ক্লান্ত লাগছিল তাই ঘুমিয়েছিলাম।"
মিরা নিজের গলা পরিষ্কার করতে একটু গলা খাঁকারি দিয়ে নিজের নার্ভাসনেস কম করলো। আমতা আমতা করে কোনো মতো চিন্তার আসল কারণটা নিয়ে প্রশ্ন টা করেই ফেলল-
"বনু...তোর কি হাঁটতে প্রবলেম হচ্ছে?"
এমনি সময় সোরায়া মিরার মুখে এই প্রশ্ন শুনে হয়তো লজ্জা পেত তবে তার থেকে মিরাকেই বেশি অস্বস্তিতে দেখে সোরায়ার হাসি পাচ্ছে খুব। সোরায়া কেবল হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো। আর আওড়ালো- "একটু..!"
মিরা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করলো। তারপর একটু বড় বড় ভাব নিয়ে বলল-
"ব্যাপার না, ঠিক হয়ে যাবে। তুই প্যানিক করিস না। ঠিক আছে?"
সোরায়া আবারো সম্মতি দিয়ে মাথা নাড়লো। মিরার চোখ নিচের দিকে। সোরায়া মিরাকে এভাবে দেখে মাথা একটা দুষ্টু বুদ্ধি পাকিয়ে হঠাৎ বলল-
"আপু..একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
মিরা হঠাৎ চমকে উঠে সাড়া দিল -
"হ্যাঁ হ্যাঁ, কি হয়েছে? কিছু জানার থাকলে জিজ্ঞেস কর আমি চেষ্টা করবো ভালো করে বোঝানোর।"
-"রায়ান ভাইয়া কি তোমাকে এই জন্যই দুইদিন কোলে নিয়ে ঘুরেছিল ভাইয়ার বার্থডের পর?"
সোরায়ার কথার ভিত্তি বুঝে মিরার কাশি উঠে গেল। এই প্রশ্নের উত্তর ছোট বোন কে কিভাবে দেবে। সোরায়া দ্রুত একটা গ্লাসে পানি ঢেলে মিরার দিকে এগিয়ে দিল-
"আরে আস্তে, পানি খাও, পানি খাও।"
মিরা কয়েক ঢোঁক পানি গিলে শান্ত হয়ে সোরায়ার দিকে তাকালো। সোরায়া ও মিরার দিকে তাকালো। দুইবোনের নজর মিলতেই দুজনেই হঠাৎ হেসে উঠলো একজন আরেক জনের অবস্থা দেখে। মিরা সোরায়ার কান আলতো হাতে ধরে শাসনের স্বরে বলল-
"বড্ড পেকে গেছিস তাই না? শয়তানের হাড্ডি।"
সোরায়া খিলখিলিয়ে হাসলো। তারপর মিরা সোরায়ার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে করতে তাকে অল্প করে খাইয়ে দিল। বেলা বাড়লে সকলে বিদায়ের জন্য প্রস্তুতি নিল। বাড়িতে কিছু সময়ের জন্য আবারো ব্যস্ততা। তবে বাড়ির দেয়ালের প্রতিটা ইটও যেন আজ বিষন্নতায় নিমজ্জিত। বরপক্ষের সকলে রওনা দিয়েছেন। সাথে চৌধুরী বাড়ির সবাই ও বিদায় নিয়েছেন। এখন বর কনে এক সঙ্গে রওনা দেবে। মিরার সহযোগিতায় সোরায়া নিচে নামলো। রোকেয়া বেগম ও শফিক রহমানের চোখ-মুখে স্পষ্ট কষ্টের ছাপ। তারা যতই নিজেকে সামলে রাখতে চাইছেন , বুকের ভেতরের শূন্যতা যেন বারবার চোখের কোণে জল হয়ে জমে উঠছে। ঘরের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে আছে মেয়ের শৈশবের স্মৃতি—হাসি, অভিমান, ছোট ছোট দৌড়ঝাঁপ, সবকিছু যেন একসাথে ভিড় করে এসেছে এই বিদায়ের মুহূর্তে। মিরার হাত ধরে সোরায়া ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নামছে, আর প্রতিটি ধাপ যেন তাকে তার পরিচিত পৃথিবী থেকে একটু একটু করে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা, শুধু চাপা কান্নার শব্দ আর ভারী নিঃশ্বাসের আওয়াজ। সোরায়া ড্রয়িং রুমে আসতেই রোকেয়া বেগম তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁপা গলায় বললেন,
“আমার ছোট্ট বুড়ি, ছোটবেলা থেকে তোকে বুকের মাঝে আগলে রেখেছি। আজ তোকে অন্য এক ঘরে পাঠাচ্ছি। চাচি কে ভুলে যাস না কিন্তু, এই মায়ের ঘর সবসময় তোর জন্য অপেক্ষা করবে। কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাবি, কোনো ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে নিবি, বড়দের কথা কথা শুনবি। আমার লক্ষ্মী মেয়েটা যেন সবার সুপ্রিয় হয়।”
সোরায়ার চোখ ভিজে উঠলো। সে রোকেয়া বেগমের বুকে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আমি সব সময় লক্ষ্মী মেয়ে হয়ে থাকবো চাচি। তুমি একদম চিন্তা কোরো না। তুমি নিজের আর চাচার শরীরের যত্ন নিও, সব সময় সুস্থ থাকবে দুজন। আব্বু আম্মু কে তো মনেও করতে পারি না তোমরাই তো আমার সব বলো। নিজেদের অযত্ন করবে না কিন্তু। খুব অভিমান করবো কিন্তু।”
রোকেয়া বেগম সোরায়ার কপালে চুমু দিয়ে তার চোখ মুছলেন। এবার শফিক রহমান ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলেন। তার চোখে জল, কিন্তু কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। তিনি এগিয়ে এসে সোরায়ার হাতটা আলতো করে ধরে এক দুই পদক্ষেপের ব্যবধানে মাহিরের দিকে নিয়ে গেলেন। নিজের অন্য হাতে মাহিরের হাতে নিয়ে সোরায়ার হাত মাহিরের হাতেৎতুলে দিলেন। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভারী গলায় বললেন,
“আজ থেকে আমার সবচেয়ে আদরের আমানতটা তোমার হাতে তুলে দিলাম, বাবা। ছোটবেলা থেকে ওর চোখে জল পড়ার আগেই আমি তা মুছে দিয়েছি। আজ থেকে সেই দায়িত্ব তোমার। ওর মুখের হাসিটা যেন কখনো ম্লান না হয়… কারণ ওর হাসির সাথেই আমার বেঁচে থাকার অনেকটা জড়িয়ে আছে।”
একটু থেমে তিনি আরো বললেন,
“মেয়েরা যখন বাবার ঘর ছেড়ে যায়, তখন শুধু একটা মানুষ না—বাবার বুকের একটা অংশও সঙ্গে নিয়ে যায়। তাই ওকে শুধু স্ত্রী হিসেবে নয়, আমার বুকের টুকরো ভেবে আগলে রেখো।”
মাহির দু’হাতে সোরায়ার হাত শক্ত করে ধরে সম্মানভরে মাথা নত করল। গলা ভারী হয়ে এলো তারও।
“আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, চাচা। ওর চোখে জল আসার একটা ছোট্ট কারণ কখনো ওর জীবনে আসবে না। তার আগেই আমি নিজের সবটুকু দিয়ে ওকে আগলে নেব।”
শফিক রহমান মৃদু হেসে সোরায়ার মাথায় হাত রাখলেন।
“সুখে থাকিস মা… তোর সুখটাই এখন আমাদের শান্তি।”
সবাই যেন নিঃশব্দে কাঁদছে। বিদায়ের সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, সময়টা যদি আরেকটু থেমে থাকতো!
সোরায়া শফিক রহমানের হাতের উষ্ণতা নিজের মুঠোয় অনুভব করছে। বুকের ভেতরটা যেন ফাঁকা হয়ে আসছে। এতদিনের পরিচিত উঠান, দেয়াল, বারান্দা—সবকিছু আজ হঠাৎ করেই অচেন হয়ে যাচ্ছে। চোখের জল আটকে রাখতে চাইলেও বারবার গাল বেয়ে নেমে আসছিল মেয়েটার। মিরা ধীর পায়ে সোরায়ার দিকে এগিয়ে গেল। এতক্ষণ নিজেকে শক্ত করে রাখা মিরা আর পারলো না। কাঁদো কাঁদো মুখে নিজের হাত দুটো মেলাতেই সোরায়া মিরাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো।
-"শুশশ, কাঁদতে হয় না। পাগলি, একেবারে হারিয়ে যাচ্ছিস নাকি? এটা নতুন একটা অধ্যায় তোর জীবনে। দোয়া করি অনেক সুখী হো? খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবো আমি ঢাকায়। তখন আবার দেখা হবে। ডাক দিলেই চলে আসবো।”
সোরায়া চোখের জল মুছতে মুছতে হালকা হাসলো।
সোরায়া গভীর শ্বাস নিয়ে চারপাশে শেষবারের মতো তাকালো। মাহির গাড়ির দরজা খুললো সোরায়ার জন্য সোরায়ার হাত ধরে তাকে গাড়িতে বাড়ালো সাবধানে। এরপর নিজেও গাড়িতে উঠলো। গাড়ির জানালার কাঁচ নামানো সোরায়া। মিরা ঝুঁকি সোরায়াকে বলল-
"আমি কিছু খাবার প্যাক করে দিয়েছি। রাস্তায় খুদা পেলে খেয়ে নিস কেমন? সাবধানে যাস। আর পৌঁছে কল করবি কিন্তু।"
সোরায়া মুচকি হেঁসে মাথা নাড়লো। ইঞ্জিন স্টার্ট হলো। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বাড়ির উঠনটা ফাঁকা করে মাহিরের গাড়িটা বেরিয়ে গেল। শফিক রহমান বাড়ির কর্তা হিসেবে নিজেকে শক্ত ভাবে ধরে রাখলেন। রোকেয়া বেগম কে স্বান্তনা দিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন ওনাকে নিয়ে। পরপর মিয়াও বাড়ির ভেতরে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই হঠাৎ দেখলো রাস্তার এক পাশ থেকে একটা ছায়া হঠাৎ বিলিন হয়ে গেল। মিরা আশ্চর্য হলো-
"কে..? কে ওখানে..?"
কারো সাড়া এলো না। মনের ভুল ভেবে মিরা বাড়ির ভেতরে চলে গেল।
চলবে...
জানি অনেকদিন পর গল্প দিলাম। তাই বলে ভালোবাসায় কিপটেমি করো না। অনেক মিস করি তোমাদের আগের মতো সময় নেই যে আড্ডা দেব তোমাদের সাথে। সব কিছু একা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাই। তবুও গ্রুপের দায়িত্ববান অ্যাডমিন গুলো আর কিছু পাঠক পাখি এতোটা সঙ্গ দেয় বলার মতো নয়। কৃতজ্ঞতা তোমাদের প্রতি। Love you pakhis 🥰❤️
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ #Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_78 (3rd)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
রাত-১১টা~
চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় রাতের আকাশটা মোহনীয় হয়ে আছে। আশেপাশের সব কিছু খালি চোখে দেখার মতো স্পষ্ট। কয়েক দিন যাবত বিয়ের আমেজে উন্মত্ত থাকা রহমান বাড়ি আজ নিস্তব্ধ। বাড়ির ছোট্ট, দুরন্ত মেয়েটা আজ শ্বশুড়বাড়ি চলে গেছে বলে সকলের মনে বিষন্নতা। তবে প্রকৃতির নিয়মে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় আছেন রোকেয়া বেগম ও শফিক রহমান। বাড়িতে এখন মোটে তিন জন। চাচা চাচি সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে মিরা নিজের ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে রোকেয়া বেগম মিরার উদ্দেশ্যে বললেন -
"মিরা, ঘরে গিয়ে তোর রাতের ওষুধ গুলো খেয়ে নিস মনে করে। রিভান কল করে বলেছে তোকে মনে করিয়ে দিতে নাহলে নাকি ভুলে যাবি। খেয়ে নিবি কিন্তু মনে করে। আর কোনো দরকারে আমাকে ডাকবি।"
মিরা রোকেয়া বেগমের দিকে আশ্চর্য চোখে তাকালো-
"তোমাকে কল করেছিলেন উনি? কখন?"
-"এই তো খেতে বসায় আগেই করেছিল। আমি রান্না ঘরে ছিলাম। তুই তোর ঘরে ছিলি।"
মিরা হতাশ কণ্ঠে বলল- "একবার ডাকতে আমায়.. আমার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন হয়তো।"
রোকেয়া বেগম খাবার টেবিলটা গোছাতে গোছাতে বললেন- "কই না তো, রিভান তোকে চাইলে তো আমি ডাকতাম তোকে। ও তো শুধু বলল তোকে ঠিক সময়ে ওষুধ খেয়ে নিতে। আমিও রান্নায় ব্যস্ত ছিলাম তাই আর নিজের থেকে ডাকি নি। তুই বরং একবার কল করে নে।"
রায়ান তার সাথে কথা বলার আগ্রহ দেখাইনি শুনে মিরার মন বেজার হলো তবে সে বুঝতে পারছে রায়ান তার উপর অভিমান করেই কল করেনি তাকে। কিন্তু বউ বাচ্চার প্রতি যত্নশীলতাও লোকটার রক্তে মিশে গেছে তাই রোকেয়া বেগম কে কল করা হয়েছে। মিরা চাচির কথায় বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়িয়ে সিঁড়ি ভেঙে উপরে চলে গেল নিজের ঘরে। বিছানার উপর অযত্নে পড়ে থাকা ফোনটা রায়ান যাওয়ার পর থেকে একবারও বাজে নি। ভারাক্রান্ত মনে মিরা নিজের ফোন হাতে তুলে নিয়ে রায়ানের নাম্বারে কল করে ফোনটা কানে ধরে তার বারান্দার ফুল গাছ গুলোর দিকে এগিয়ে গেল। ফুল গাছের ফুল গুলো আঙুল দিয়ে স্পর্শ করতেই মিরার মুখে একটা সুক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠলো। রায়ানের ফোনে কল ট্রান্সফার হতেই হঠাৎ মিরা তার আশে পাশেই কোথাও আবছা সুরে চেনা পরিচিত সেই রিং টোন শুনতে পেল-
Girl na you dey make. My temperature dey rise
If you leave me, I go die...I swear
You are like the oxygen I need to survive
I'll be honest Your loving dey totori me
I, I'm so obsessed
I want to chop your nkwobi.."
মিরা অবাক হয়ে বান্দা থেকে নিজের নজর ঘুরিয়ে দেখলো। এই রিং টোন কেবল তার কলেই বাজে রায়ানের ফোনে। কয়েকবার রিং হতেই রায়ান কলটা রিসিভ করলো-
"হ্যালো..!"
মিরা খেয়াল করলো এখন আর সেই গানের আওয়াজটা আসছে না। মিরা অবাক হয়ে ফোনটা কানে ধরলো। রায়ান মিরার সাড়া না পেয়ে আবারো অপর দিক থেকে ডাকলো-
"হ্যালো, হৃদপাখি? কথা বলছো না কেন? কিছু হয়েছে!? মিরা.."
মিরা হাকচকিয়ে উঠলো- "হ্যাঁ, জি। না, কিছু হয় নি।"
মিরা হঠাৎ বাড়ির পিছনের দিকে একটা কালো রঙ্গের গাড়ি খেয়াল করলো। গাড়ির দৃশ্যমান অংশ টুকু মিরার খুব চেনা। মস্তিষ্কে একটু জোড়ে ফেলতেই মিরার মনে পড়লো রায়ানের গাড়ি ঠিক এমনটাই দেখতে। মিরার মনে সন্দেহের বীজ বপন হলো। চোখে মুখে একটু কুটিল ভাব নিয়ে মিরা রায়ান কে জিজ্ঞেস করলো-
"আচ্ছা, আপনি এখন ঠিক কোথায় বলূ্ন তো?"
রায়ান সোজাসাপ্টা জবাব দিল-
"কোথায় আবার ঢাকায়। আমার স্টাডি রুমে।"
-"স্টাডি রুমে কি করছেন?"
-"স্টাডি রুমে আমি কি করি?! কাজ করছি ল্যাপটপে অবভিয়েসলি।"
মিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বারান্দার রেলিং এ হেলান দিয়ে দাড়িয়ে বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে সরিয়াস ভঙ্গিতে বলল-
"আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করছে খুব। ভিডিও কলে আসুন তো।"
রায়ান ঘাবড়ানো কণ্ঠে বলল-
"একটা ইমপোর্টেন্ট ফাইল চেক দিচ্ছি। ভিডিও কলে আসতে পারবো না এখন।"
মিরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বাড়ির নিচের গাড়িটা খেয়াল করছে। চাঁদের আলো গাড়ির কাঁচ চকচক করছে, তবে উপর থেকে স্পষ্ট কিছু দেখা যাচ্ছে না। মিরা রায়ানের অযুহাতে মনোযোগ দিল না। সে শান্ত ভঙ্গিতে রায়ান কে বলল-
"মনে তো হচ্ছে না কাজ করছেন। আচ্ছা একবার আপনার সামনের ল্যাপটপ টা বন্ধ করে আবার খুলুন তো। ভিডিও কল না করা গেল, আওয়াজ শোনাতে তো আর সমস্যা নেই।"
রায়ান তাড়াহুড়ো করে নিজের ল্যাপটপ টা বের করে সেটা ওপেন করলো। মিরা খেয়াল করলো গাড়ির ভেতরে একটা আলো জ্বলে উঠলো। মিরা সেই দিকে খেয়াল করতেই তার চোখে রায়ানের অবয়ব ভেসে উঠলো। ল্যাপটপের আলো রায়ানের মুখের উপর পড়ছে। মিরা ঠোঁট টিপে হেসে মুখে হাত রেখে নিজের ঘরে চলে এলো। অদ্ভুত খুশিতে তার মন এখন উচ্ছ্বাসে দুলছে। মিরা রায়ানের কথা চিন্তা করে বিছানায় নিজের গা এলিয়ে দিল। তার মানে সকালে বাড়ির বাইরে তখন রায়ানের ছায়াই দেখতে পেয়েছিল মিরা। মিরা নিজের মাথায় হাত দিয়ে অবিশ্বাস প্রকাশ করলো। মনে মনে বিড়বিড় করলো-"পাগল লোক একটা, আমাকে ছাড়া থাকতে পারবেন না তো চলে যাওয়ার ভান করলেন কেন? এখন লুকিয়ে লুকিয়ে বউয়ের উপর নজর রাখছেন গাড়িতে বসে। এটা কোনো কথা?"
রায়ান মিরার বিশ্বাস অর্জনের লক্ষ্যে বলল-
"কি..?! শুনেছ আওয়াজ? বিশ্বাস হয়েছে এখন?"
মিরা নিজের হাসি ধমনের তীব্র চেষ্টায় ব্যস্ত। কোনো মতো স্বাভাবিক কণ্ঠে উত্তর করলো-
"হুম, হুম শুনলাম।"
রায়ান গম্ভীর গলায় ভাব নিয়ে বলল-
"এই কয়দিনে অনেক কাজ জমা হয়েছে। শেষই হচ্ছে না। ভীষণ ইম্পর্ট্যান্ট কাজ...তোমার আর কিছু বলার না থাকলে ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়ো।"
মিরা রায়ানের কথায় অভিমানের ছাপ অনুভব করলো। সে ভালো করেই জানে এই অভিমান ঠিক কি করলে গোলবে। মিরা সেই উদ্দেশ্যে নরম ও মিষ্টি হেঁসে বলল-
"আমার আর কোনো কথা নেই, ঘুমাতেও চাইছি। কিন্তু আপনার প্রিন্সেস না নিজে ঘুমাচ্ছে আর না আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে। তার নাকি খুব আপনার কথা মনে পড়ছে। আপনাকে ছাড়া ঘুম আসছে না। আপনার সাথে তার অনেক কথা আছে।"
মিরার মুখে এসব কথা শুনে রায়ানের হৃদয়ের সকল কঠোরতা দুমড়ে মুচড়ে গেল। সিটে পিঠ ঠেকিয়ে রায়ান নিজের কপালে হাত রেখে আনমনে বিড়বিড় করলো-
"কি হাড়ে বজ্জাত বউ আমার! এভাবে কে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে? আল্লাহ তুমি আমাকে ধৈর্য দাও।"
মিরা রায়ানের শ্বাস প্রশ্বাসেরর গতি অনুভব করেও ছেলেটার তার কাছে আসার ব্যাকুলতা অনুভব করতে পারছে। মিরা তার পেটের উপর ফোনটা রেখে রায়ানের উদ্দেশ্যে বলল-
"নিন.. কথা বলুন আপনারা।"
রায়ান শুকনো ঢোক গিলে আবেগী শব্দের জিজ্ঞেস করলো-
"প্রিন্সেস.. তুমি কি করছো আম্মু? মাম্মা কি খাবার খেয়েছে? ওষুধ খেয়েছে?"
রায়ানের করা প্রশ্ন গুলো আসলে মিরার জন্য ছিল যা মিরার বুঝতে বিন্দু মাত্র অসুবিধা হলো না। মিরা ছোট্ট বাচ্চার আওয়াজে নরম গলায় বলল-
"হুম, খেয়েছে। তোমাকে ভীষণ মিস করছি আমি আর মাম্মা।"
রায়ানের ঠোঁটের ফাঁক গলে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো -"উফফ্...!" অতঃপর শান্ত গলায় বলল-
"মাম্মা কে বলো পাপা ও তোমাদের ভীষণ মিস করছে। তাড়াতাড়ি সাবধানে মাম্মার সঙ্গে চলে এসো পাপার কাছে।"
মিরা মনে মনে জেদ ধরেই নিয়েছিল রায়ান তাকে নিতে না এলে সে যাবে না। আর এখন রায়ান কে দেখে সে নিশ্চিন্ত হয়েছে। মিরা একই কণ্ঠস্বর ধরে রেখে রায়ান কে জিজ্ঞেস করলো-
"তুমি আমাদের নিতে আসবে না পাপা?"
রায়ান হাঁফ ছেড়ে নিজের মাথা সিটের পিছন দিকে হেলিয়ে দিয়ে জেদি একরোখা সিদ্ধান্তে অটল থেকে ছোট্ট উত্তর দিল- "না..!"
মিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মনে মনে বিড়বিড় করলো-
"ভালোই অভিমান হয়েছে সাহেবের। বাচ্চার দোহাই ও খাটলো না! আর কি করা যায়?"
একটু ভেবেই মিরা কুটিল বাঁকা হাসলো। সে ফোনটা নিজের কানে ধরে বলল-
"বাপ বেটি অনেক কথা বলেছেন এবার আমার কথা শুনুন, জানেন আপনি যাওয়ার পর আজকে কি হইছে?"
রায়ান মিরার স্বাভাবিক গলা শুনে মনে মনে বিড়বিড় করলো- "একটু আগেই বললো তার নাকি কিছু বলার নেই আর এখন..!"
-"জি, ম্যাডাম বলুন। কি হয়েছে?"
মিরা দুষ্টু হেঁসে বলল-
"আজকে আসিফ ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছে।"
রায়ানের কানে তৎক্ষণাৎ ঘণ্টা বাজলো সজোরে। সে তো ঢাকা যায় নি। মাঝ রাস্তা থেকে ফিরে আসতে আসতে আসিফের সাথে দেখা হয়েছে বিষয় টা চিন্তা করে রায়ানের মাথা উলোট পালোট হলো। রায়ান শুরু তেই রাগ না করে নিজেকে শান্ত রাখলো-
"ওহ আচ্ছা, ভালো তো। ঠিক আছে।"
মিরা ঠোঁট টিপে হেসে আরো বলল-
"আমাকে দেখে বলল আমি নাকি অনেক বদলে গেছি। আরো বলেছে আমি নাকি অনেক গ্লো করছি। আমি আর কি বলি বলুন তো!"
রায়ানের হাতের পাঁচ আঙুল মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো রাগে। রাতে কাজ করতে করতে খাওয়ার জন্য আনা চিপসের প্যাকেটে জোরে একটা ঘুষি মেয়ে প্যাকেট টা ফাটিয়ে ফেলল। মিরা অপর পাশ থেকে এই বিকট আওয়াজ টা শুনে হেঁসে উঠলো তবে হাসির আওয়াজ আড়াল করলো। রায়ান মিরার উদ্দেশ্যে দাঁতে দাঁত চেপে বলল-
"বলতে পারো নি, তোমার ভেতরে আমার অংশ আছে তাই গ্লো করছো।"
মিরা চোখজোড়া বন্ধ করে নিয়ে আবলতাবল উত্তর করলো-"ভুলে গেছিলাম আসলে। মনে ছিল না বলতে।"
মিরা ধীর পায়ে বারান্দায় গেল রায়ানের অবস্থা স্বচোক্ষে দেখতে। রায়ান গাড়ির স্টেয়ারিং-এ সজোরে আঘাত করে বিড়বিড় করলো- "আআআআ..তুই প্রেগন্যান্ট এইটা তুই কেমনে ভুলিস বেয়াদব বউ কোথাকার।"
রায়ান চিপসের প্যাকেট টা ছিঁড়ে কয়েকটা চিপস মুখে দিতে নিলে মিরা সেসময় ইচ্ছে করে আরো বাড়িয়ে বলল-
"জানেন আসিফ ভাইকে দেখে মনে হলো অনেক ওয়েট লস করেছে এই কয়দিনে।"
রায়ান এ কথা শুনতেই হাতের চিপস গুলো হাতেই পিষে গুরো গুরো করে ফেলল। মিরা মুখে হাত চেপে নিজের হাঁসি ধরে রাখার চেষ্টা করছে। রায়ান অস্থির হয়ে গাড়ি থেকে বিরেয়ে এলো। রায়ান নিজের দুচোখের কোণায় আঙুল চেপে বলল-
"এ আবার এমন কি? সহজেই হয়ে যায়।"
মিরা হাঁসি গিলে বলল-
"বাই দ্যা ওয়ে, দেখতে কিন্তু আগের থেকে ভালোই লাগছিল।"
রায়ানের এই কথা গুলো গায়ে ঠিক গরম তেলের ছিটের মতো লাগছে তাই সে কথা থামাতে বলল-
"আচ্ছা ঠিক আছে। আমার একটু কাজ আছে আমি আমার কাজ করি।"
মিরা খোঁচা মেরে জিজ্ঞেস করলো-
"আপনার ভালো লাগছে না তাই না? হিংসে হচ্ছে?"
রায়ান ধরা পড়ে যাওয়ার মতো হকচকিয়ে কেশে বলল-
"কি অদ্ভুত! আমার কেন হিংসে হবে?"
মিরা এবার প্যারেকে শেষ আঘাত টা দিয়েই বসলো-
"ওহ্ ভালো কথা, কাল আসিফ ভাই একবার দেখা করতে বলেছেন। আপনি থাকলে আপনাকে নিয়েই যেতাম কিন্তু আপনিতো চলে গেলেন। এখন আমি ভাবছি গিয়ে একবার দেখা করেই আসি আবার কবে না কবে আসবো।"
রায়ান সঙ্গে সঙ্গে নিজের হাত পুরো শক্তিতে উপরে তুললো ফোনটা আছাড় দিতে কিন্তু এই কথার শেষ কোথায় তা না জানলেও তো চলবে না তাই ফোনটার জীবন সীমা বৃদ্ধি পেল। রায়ান নিজের মাথার চুল খামচে ধরে তার কোনো ফারাক পড়ছে না এমন দেখাতে ভারী নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলল-
"ঠিক আছে।"
মিরা শুধু উপর থেকে রায়ানের হাল বেহাল হতে দেখছে। মিরাও কম যায় না সেও কথা ঘুরিয়ে বলল-
"আমি ভাবছি যাব কিনা। গেল যদি আপনার খারাপ লাগে। আচ্ছা আপনার মনে যা আসছে আপনি তা আমাকে বলতে পারেন।"
রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের শার্টের উপরের দুটো বোতাম খুলে মাটিতে পুশ-আপ দিতে দিতে বলল-
"সবই তোমার ইচ্ছে। এখন এই বিষয়ে আমি আর কি বলবো?"
মিরা রায়ানের কর্ম কান্ড দেখে হাঁফ ছেড়ে বলল-
"আরে স্বীকার করে নিন না, আপনার হিংসে হচ্ছে। আপনি জ্যাইলাস মি. রায়ান চৌধুরী।"
রায়ানের ধৈর্যের সমাপ্তি ঘটলো। এক প্রকার চিৎকার করে উঠলো সে-
"জ্যাইলাসি মাই ফুট। আই ডোন্ট গিভ আ ফাক টু দ্যাট ইডিয়ট। ডু ইউ হিয়ার মি?"
মিরা হাড় মেনে নিল। এর বেশি আগালে নিচ থেকে তার উন্মাদ বরের উপরে আস্তে সময় লাগবে না। আর এমন রাগ সামাল দেওয়ার শক্তি এখন তার নেই। মিরা কপালে হাতের তালু হালকা করে আঘাত করে বলল-
"ওকে ফাইন। ইউ আর নট জ্যাইলাস। বাট আই অ্যাম স্লিপি। সো গুড নাইট।"
মিরা এই বলে ফোন কাটলো। কিন্তু রায়ানের ঘুম তো এখন পগারপার। রায়ান চটজলদি উঠে দাঁড়িয়ে ফোনটা শক্ত করে হাতে চেপে ধরে বিড়বিড় করলো-
"আমার স্লিপ হারাম করে এখন মহারানি স্লিপি। আমিও দেখবো কিভাবে দেখা করতে যাও তুমি হৃদপাখি। যদি ওই হারামজাদা তোমার আশেপাশেও আসে, আই উইল কিস ইউ ইনফ্রান্ট অফ হিম। আই সুয়ের!"
_________
রাতে মিরার বেশ ভালোই ঘুম হয়েছে রায়ান তার কাছেই আছে জানতে পেরে। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছে মেয়েটা। সকালের সূর্যের কিরণ তার চোখ স্পর্শ করতেই মিরা টলমলে চোখ কচলে বিছানায় উঠে বসলো।
-"গুড মর্নিং মিসেস..!"
-"হুম, গুড মর্নিং হাবি..!"
রায়ানের ভারী কণ্ঠের শুভেচ্ছায় অভ্যাসগত কারণে মিরা তা গ্রহণ করলো ঘুমকাতুরে স্বরে। চোখ ডলতে ডলতে হঠাৎ রায়ানের অস্তিত্বের আভাস মাথায় স্পষ্ট হতেই মিরার ঘুম উড়ে গেল। বড় বড় চোখ করে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো। নিদ্রাহীন রক্তিম ফোলা এক জোড়া চোখ তাকে এক নজরে দেখে যাচ্ছে যেন এক্ষুনি গিলে খাবে তাকে। মিরা হতভম্ব হয়ে কেবল তাকিয়েই রইল। রায়ান নিজের চোখ কচলে মিরাকে বলল-
"গেট রেডি। বের হতে হবে।"
মিরা কিছু বলার আগেই রায়ান ওয়াশ রুম ঢুকে গেল। সম্ভবত চোখে মুখে একটু পানি দিতে। রায়ান ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়েও মিরাকে একই ভাবে বিছানায় বসে থাকতে দেখে গম্ভীর গলায় বলল-
"মিরা..আমার কাজ আছে। তোমার জন্য নিজের কাজ ফেলে এখানে পড়ে থাকার কোনো মানে হয় না। রেডি হও। আমি এই নিয়ে তোমার সাথে তর্কে যেতে চাই না। আমার এনার্জি নেই।"
মিরা রায়ানের শুকনো মুখ দেখে আর কিছু বললো না। চুপচাপ বিছানা থেকে নেমে ওয়াশ রুমে গেল। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে রেডি হয়ে রায়ানের হাত ধরে নিচে নামলো। মিরা আর রায়ান কে দেখে রোকেয়া বেগম খাবার টেবিল থেকেই বললেন-
"এই দিকে আয় খেতে বসে যা তাড়াতাড়ি। অনেক লম্বা জার্নি করতে হবে।"
মিরা কিছু টা অবাক হলো রোকেয়া বেগমকে এতো স্বাভাবিক আচরণ করতে দেখে। মূলত রায়ান সকাল সকাল দরজার বেল বাজিয়েই বাড়িতে ঢুকেছে মিরাকে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। এই নিয়ে শফিক রহমান ও রোকেয়া বেগমের সাথে ছোট খাটো তর্ক বিতর্ক ও হয়েছে তার তবে সব শেষে সে বিজয়ী। রায়ান মিরার হাত ধরে তাকে খাবার টেবিলে নিয়ে গিয়ে বসালো। একসাথে নাস্তা করে দুজনে বাড়ির বাইরে পা ফেলল। রায়ান মিরার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
"তোমার ওই আসিফ ভাই কই? দেখছি না কেন?"
মিরা অবুঝ মুখ করে রায়ানের দিকে মাথা উঁচু করে বলল-
"আমি কি জানি আসিফ ভাই কই। আমার সাথে কথা হয়েছে নাকি?"
রায়ান ছোট ছোট চোখে মিরার দিকে তাকিয়ে দেখলো। মিরার কপালে গালে গলায় হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কিছু একটা পর্যবেক্ষণ করে বলল-
"তোমার কি শরীর খারাপ করছে? নাকি আমি পাগল হয়ে গেছি। রাতের এতো কাহিনী পুরোটাই কি কল্পনা ছিল নাকি?"
মিরা লজ্জায় মাথা নিচু করে নিয়ে মিনমিনে আওয়াজে বলল-
"পাগল কেন হতে যাবেন? কল্পনাই বা কেন করবেন? আমিই ইচ্ছে করে বলেছি ওগুলো বানিয়ে বানিয়ে। আপনি এখানে থেকেও আমাকে ইগনোর করছিলেন এটা আমার ভালোই লাগছিল না। তাই দুষ্টুমি করেছি একটু।"
রায়ান হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল মিরার মায়াবী মুখটার দিকে। তার মনে অদ্ভুত এক শান্তি কাজ করলো মিরার বলা সব কিছু মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ায়। রায়ান মিরার চিবুক হাল্কা করে ধরে মেয়েটার নিচু মুখ নিজের দিকে উঁচু করে তুলে আলতো করে তার ঠোঁট ঠোঁট ছোয়াল। মিরা সঙ্গে সঙ্গে রায়ানের বুকে হাত রেখে তাকে বাঁধা দিয়ে বলল-
"কি করছেন? চাচা চাচি আছে ভেতরে। যদি বাইরে চলে আসে এখন।"
রায়ান সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তিতে আত্মসমর্পণ করলো-
"আমার ওই ঠোঁট জোড়া চাই। এখন...এখন মানে এখনই। ক্রেভিংস হচ্ছে...!"
রায়ানের চোখে মিরা অন্যরকম এক চাহনা দেখতে পেল যেন কত দিনের অনাহারে আছে ছেলেটা। মিরার মেয়ে মন দূর্বল হয়ে এলো। কিন্তু এখন এখানে কিভাবে এই চাহনা পুরণ করবে সে? রায়ান মিরার ওষ্ঠযুগলের দিকে পুনরায় ঝুঁকে আসতেই মিরা রায়ানকে বাঁধা দেয়। রায়ান অস্থির হয়ে উঠলো- "আই সেড, আই ওয়ান্ট দোস লিপস। জাস্ট স্ট্যান্ড স্টিল, এ্যান্ড লেট মি হ্যাভ দ্যাম।"
মিরা রায়ানের অস্থিরতা দেখে কাঁপতে শুরু করেছে। সে রায়ানের গালে আলতো করে হাত রেখে বলল-
"একটু ধৈর্য ধরুন না। পরে দেই একটু?"
-"এখন..!" রায়ান নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে মিরার দিকে অগ্রসর হলো। মিরা এক পা দু পা পিছিয়ে যেতে যেতে না সূচক মাথা নেড়ে অনুরোধ পূর্বক বললো-
"রায়ান প্লিজ.. এখন না..!"
রায়ান উল্টো হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে বলল-
"অবশ্যই এখনই.. এখনই চাই আমার।"
রায়ান মিরাকে লজ্জায় লাল হতে দেখে যেন নিজেকে আর সামাল দিতে পারছে না। তবে মিরার চোখের ভয় তার পিছু টানছে।
____________
খান বাড়ি~
সকালে অ্যালার্মে বিরক্ত হয়ে সেটা বন্ধ করে ঘুমিয়েছে মাহির। ইদানিং রাত জাগা পড়ছে তাই সকালে উঠার বিষয়টা এখন তার বিরক্তিকর লাগে। কিন্তু এ্যালার্মের আওয়াজে সোরায়ার ঘুম ভাঙার পর সে আর ঘুমোতে পারে নি। মাহির ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা কালীন তাকে না জাগিয়ে তার আয়ত্ত থেকে বের হওয়া সোরায়ার জন্য এক প্রকার নীরব যুদ্ধ। আজ সে এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। মাহিরকে ঘুমে রেখে নিজে একা শাওয়ার নেওয়া দুঃসাহস ও হয়েছে তার। সোরায়া শাওয়ার সেরে ওয়াশরুমের দরজা একটু খুলে উঁকি দিয়ে একনজর দেখলো মাহির এখনো ঘুমাচ্ছে কিনা। বিছানার উপর মাহির কে এখনো নিবৃত্তে ঘুমাতে দেখে সে স্বস্তির একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল। গায়ে টাওয়াল জড়িয়ে পা টিপে টিপে ঘরে প্রবেশ করলো সে। মাহিরের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো-
"বাঘের মুখে দাঁড়িয়ে আছি তাও আবার এভাবে। এখন বাঘের ঘুম ভাঙলে তোকে সকাল সকাল স্বীকার হওয়া থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না সোরা। তাড়াতাড়ি নিজের হাত চালা। আমার কিউট স্বামী জান আরেকটু ঘুমান প্লিজ। শাড়িটা পড়ে নেই।"
সোরায়া পা টিপে টিপে আলমারির কাছে গিয়ে একটা নীল রঙের শাড়ি বের করলো। ব্লাউজ ও পেটিকোট টা পড়ে গোটা শাড়ি ভাঁজ খুলে নিজের চার পাশে ছড়িয়ে দিয়ে শাড়ির গোলচক্রে মধ্যমনি হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। শাড়ির আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। তবুও হার না মেনে বেশ কয়েকবার শাড়িটা নিজের গায়ে জড়ানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো দিক থেকেই শাড়ি টা তার গায়ে টিকে থাকছে না।
চলবে,
জাস্ট ভাবো রায়ান মিরাকে চুমু খেতে গিয়ে কট খেল। অর চুমুটা খেতেই পারলো না। আবার ধরো। মাহিরের এই মূহুর্তে ঘুম টা ভেঙে গেল। কেমন হবে? কি চাও তোমরা বলো তো। আমি নিজেই কনফিউজড। কমেন্টে জানিয়েও। Love you pakhis 🥰 ❤️