#ও_যে_মানে_না_মানা
#পর্ব_৯
#ইসরাত_আরা_ইতি
_“আপনি বলার পরে আমি দুপুরে ইস্তেখারা করেছিলাম ওস্তাদজি। করার পর থেকে মনে হচ্ছে আমি ঠিক পথেই এগোচ্ছি। বুকটা অনেকটাই হালকা লাগছে। যে চিন্তা, অন্যরকম দুশ্চিন্তায় গতকাল শেষ রাত থেকে আমার মাথার রগ ফেটে যাচ্ছিল সেটা আর নেই। কর্পুরের মতো উবে গেছে সব। তারপর প্রশান্ত মনে মাগরিব আর এশা আদায় করেছি। এরপর গিয়ে আমি প্রস্তাব দিয়ে এসেছি তার ভাইকে।”
মোল্লা আফসারুদ্দীন সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধ, বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে হাঁটেন খানিকটা। ওযু করে পুবতলার বড়ো পুষ্কুনির সিঁড়ি বেয়ে কুঁজো হয়ে উপরে উঠতে উঠতে তাকালেন,দরাজ গলায় বললেন,“ওহহ আফিফ।”
_“জি ওস্তাদজি। আপনি হারিকেন নিয়ে হাঁটেন কেন? আমি তো ভালো টর্চ কিনে দিলাম সেদিন।”
_“টর্চ নিয়া গেছে তোমার চাচীম্মা। মেয়ের বাড়িতে ঘুরতে গেছে রাত্তির বেলা,আমারে ধরায়ে দিয়ে গেছে হারিকেন। মহিলা মানুষ বড়ো অশান্তি দেয়।”
আফিফ হেসে বলে,“দুপুর আড়াইটায় একবার আসছিলাম মনে আছে? ঘটনা মনে আছে আপনার?”
_“আবার বলো। একটুখানি!”
_“এক মেয়ে আমাকে খুবই পছন্দ করে। আমার তাকে বিয়ে করা ঠিক হবে কিনা এটুকু বুঝতে আপনি ইস্তেখারা করতে বলছিলেন। আমি দুপুরে নামাজে বসেছিলাম। আমার কাছে সবটা ভালো লাগছে। ওটাই বলতে আসছি। প্রস্তাব রেখে আসছি।”
_“হ্যাঁ মনে পড়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। সব ভালো হোক। তখন মেয়ের পরিচয় দাওনি। এখন বলো,সে কে?”
_“মেয়েটা আমাদের তিতলি। আপনার কাছে আরবি পড়েছে ছেলেবেলায় আমার মতো। মাহবুব মুন্সীর বোন। আপনি চেনেন তাকে।”
একটু ভাবতে হলো আফসারুদ্দিনকে,পরপর ঝলমলে হেসে বলল,“ও আমাদের তিতলি। আগে বলবে না? ভালো হোক,সব ভালো হবে। মেয়ের প্রশংসা শুনি অনেকের কাছে। ভাবতেছো কেন এতো? কইরা ফালাও বিয়ে। বয়স হইছে তোমার। আর দেরি করিয়ো না।”
আফিফ চোখ নামিয়ে হাসে নিঃশব্দে। ধীরে বলে,“জি। অপেক্ষা করছি,দেখি কি মতামত দেয় ওর ভাই। আসলে ছোট থেকে দেখেছি তো মেয়েটাকে, নজরে পড়েনি এমনও নয়। কিন্তু ভাবতাম,ঐ যে পাড়ার একটা ভালো মেয়ে। পড়াশোনা করে অনেক দূরে যাক,ভালো একটা জীবন হোক। এর বাড়তি কোনো ভাবনা মাথায় আসেনি। বাড়তি কোনো ভাবনা কারোর প্রতিই আসেনি ওস্তাদ জি। অল্প বয়সে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে বিদেশে গিয়ে কামলা খাটা মানুষ আমি। ভেবে এসেছি, কে আমাকে গোনায় ধরবে? আমার তো কোনো স্ট্যানডার্ড নেই! পাতি গোমরামুখো দোকানদার আমি। ফ্যাশন বুঝিনা, আনন্দ করিনা।”
_“ভালো হয়েছে তেমন কেউ গোনায় ধরেনি, কেউ গোনায় ধরলে গুনাহয় জড়িয়ে যেতে।”
আফসারুদ্দিনের কথায় আবার নিঃশব্দে হাসে আফিফ,বলে,“অবাক হয়েছি,সেই সাথে আমি ভীষণ লজ্জা পেয়েছি। কিন্তু সে আমাকে আসলেই ভীষণ চায়। আমার আসলে মনে হয়না তার হৃদয় ভাঙা ঠিক হবে যেহেতু আমার বিশেষ কোনো অসুবিধা নেই তাকে গ্রহণ করতে। আপনি দোয়া করবেন। সবমিলিয়ে ভালোই মেয়েটা। মাঝেমাঝে একটু বোকা বোকা কাজকারবার করে আর একটু স্বেচ্ছাচারী আচরণে,তবে উগ্র নয়,ভালো বুঝদার। আচ্ছা ওস্তাদ জি,বাজার লাগলে আবার জানাবেন, আমি আছি। আসছি।”
হাতের হারিকেনটা বেঞ্চিতে রেখে আফিফ ধীরপায়ে এগিয়ে যায় সামনে। টের পাচ্ছে এখনকার বাতাসটাও বেশ হালকা, সবমিলিয়ে স্বস্তি দিচ্ছে আফিফকে। ও বাতাসের ঘ্রাণ নিতে নিতে হাঁটছিল যখন তিতলির ফোনটা এসেছে।
_“আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না। আপনি দয়া করে এই ব্যাপারে আর আগাবেন না।”
পুবতলার সমবায় সমিতির দালানের পেছনে দাঁড়িয়ে পড়েছে আফিফ। তিতলির কথাটা শুনে বেশ নির্লিপ্ত সে,তার গোটামুখ। যেন জানতো, পারিবারিক অবস্থা যেমন অস্থিতিশীল তাই তিতলির মতো ধীরস্থির, আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মেয়ে এমন কিছু বলতে আসবে,এই বিষয়টা কিভাবে যেন আফিফ টের পেরেই বসেছিল। ওর আন্দাজের নিশ্চয়তা দিচ্ছে মেয়েটার তীব্র ফোঁপানি,এতো শক্ত মেয়েটি অতি অল্পতে এভাবে কাঁদে না।
_“কি হয়েছে?”
ভারি খসখসে গলাটা জানতে চাইতেই তিতলি দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিলো।
_“কিছুইনা। বলার তাই বললাম। শুনবেন। অনুরোধ।”
_“সুস্থ আছিস?”
_“হু।”
_“সবমিলিয়ে সুস্থ আছিস?”
_“হু।”
তিতলি দুর্বল শরীরটা এলিয়ে দিয়েছে বিছানায়, টপটপ করে জল ঝরে বিছানার চাঁদর ভিজছে। আফিফ কথা না বাড়িয়ে সোজা বলল,“বাড়ি আসবো? নাকি একটু বাইরে নামবি?”
_“কেন?”
_“কথা বলতাম! সামনাসামনি।”
_“আর কি বলার আছে?”
আফিফ আরো কিছু সময় চুপ থেকে শক্তভাবে তবে গলা নরম বানিয়ে বলে,“মাথায় ওড়না দিয়ে চুপচাপ উঠানে আয়। আমি আসছি। কারো কাছে কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না,কেবল কেউ জানতে চাইলে বলবি আমি ডেকেছি কথা বলার জন্য। এটুকু বলে আবার মুখে তালা মারবি।”
_“আফিফ ভাই…!”
_“কথা বলা দরকার আমাদের। আমারই ভুল,মাহবুবের আগে তোর সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল। কিন্তু এতো অস্বস্তি হচ্ছিল। এখন আর হচ্ছে না। আয়।”
কল কেটে আফিফ কল করলো আসমার নাম্বারে। রিসিভ করলো ফারিয়া। তিন বোন যেন এই একটি ফোনকলের অপেক্ষাতেই ছিল বিগত দুই ঘন্টা যাবত। ফোনের লাউড স্পিকার বাড়িয়ে ওভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে তিনদিক থেকে।
ফারিয়ার গলা পেয়েছে আফিফ,মেয়েটা কেঁদেছে ও বুঝতে পারল,বলল,“সব শুনেছিস মাহবুবের কাছে?”
_“হু।”
_“বেশ। ভালো। তিতলির সাথে একটু কথা বলবো আমি। ওকে বাইরে নামতে বলেছি। কোনো প্রশ্ন করবি না।”
_“কিভাবে পারলে ভাইয়া?”
ফারিয়া আহত সুরে আওড়ালেও প্রসঙ্গটির পাশ কাটিয়ে যায় আফিফ। বলে,
_“তোর শরীর কেমন? দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে দেখছি। মাহবুবের হাত ফাঁকা থাকলে আমার থেকে কিছু টাকা নিয়ে ঢাকা গিয়ে ডাক্তার দেখা।”
_“ভাইয়া!”
_“আসমার ছেলের গলা ঠিক হয়েছে? কাল সকালে বলিস ওদের আমার ঘরে যেতে। দু'দিন থেকে যাবে ওখানে। আমি সেদিন ভালো তোপসে মাছ কিনে ফ্রিজ ভরেছি।”
_“ভাইয়া!”
_“তিতলি আমার সাথে কথা বলবে একটু। ঘরে ঢুকলে আজেবাজে কথা বলবি না। আমি টের পেলে ভালো হবে না।”
সুতি বাটিকের ওড়নাটায় মাথাটা ঢেকে নিয়ে ধীরপায়ে নামলো তিতলি। বড়ো উঠানে, ল্যাম্পপোস্টের ঠিক বিপরীতে বড়ো জামরুল গাছটার কাছে দোহারা অবয়বটা দেখেই এগিয়ে গেল। যদিও ওর পা জড়িয়ে আসছে ক্রমশ। বুকের উচাটন চলমান। মানুষটার সামনে গিয়ে অন্তত না কাঁদুক সেই প্রত্যাশায় ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে আছে। বড়ো বড়ো করে শ্বাস টেনে নিয়েছে।
পেছনে নরম পদধ্বনি টের পেয়ে আফিফ ঘুরলো। গাঢ় বাদামী শান্ত চোখজোড়া ওর ঘোলাটে চোখে কতক্ষন আঁটকে থাকে।লোকটার চোখেমুখেও অস্বস্তি, কিন্তু জোর করে কঠিন সাজার চেষ্টা করছেন। তিতলি ঐ চেষ্টায় পানি ঢেলে দিয়ে কৈফিয়ত চায় অস্থির হয়ে,“দয়া কেন?”
মেয়েটির ঐ আকুল দৃষ্টি আফিফকে ভাবায়,জানতে চায়,“কি দয়া? কিসের দয়া?”
_“এই যে। আমাদের বদনাম হতে পারে কিংবা হচ্ছে। এখন ব্যাপারটা ধামাচাপা দিতে তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করে নিচ্ছেন আমায়!”
আফিফের নজর তিতলির পা-মাথা ঘুরপাক খায় একচোট, এরপর স্থির হয় তিতলির গোলগাল মুখে। ধমকাবে না ধমকাবে না করে শেষটায় তাচ্ছিল্য করে বলে,“বাপরে! তুই তো ঘটনার মধ্যে একদম সিনেমা ঢুকিয়ে দিলি রে! এমনটা তো ভেবে দেখিনি!”
তিতলি নাক টানে তৎক্ষণাৎ,“মশকরা নয় আফিফ ভাই।”
_“তাহলে সিরিয়াসলি কি? সেদিন ,ঐ আটকা ঘরে ঐ কথাগুলো কি?”
_“নিব্বিমনের অস্থির কিছু আচরণ, সিরিয়াসলি নেবেন না…!”
আফিফ দৃষ্টিজোড়া স্থিরতা নিয়ে দেখে মেয়েটা আবার কাঁদতে শুরু করেছে। ওর ভ্রু জোড়ার মাঝখানে ভাঁজ পড়েছে চার পাঁচটা,ধীরে তবে শক্ত হয়ে জানতে চাইলো,“সত্যি নাকি না!”
_“কিন্তু আপনি তো আমায় চাননা!”
জলচাপা চোখজোড়া তোলে তিতলি। গা ঝাঁকুনি দিয়ে অভিযোগের তীর ছুঁড়তেই আফিফ নিশ্চুপ। বলে যায় তিতলি,“আপনি তো চান না তাইনা?”
আশেপাশে নজর বুলালো আফিফ,
_“তোর প্রশ্ন গুলোর জবাব দিতে হবে?”
_“আলবত। আপনি কিভাবে আমাকে এতটা তুচ্ছ ভাবতে পারেন? একবারে আমার মতামতের গুরুত্বই দিচ্ছেন না!”
আফিফ কিছু বলতে যাবে তার আগে ওকে আবার থামিয়ে দিয়ে বলে,
_“হ্যাঁ আমি আপনাকে চাই। তারমানে এই নয় যে আপনি না চাইলেও, আপনার মনে আমার জায়গা তৈরি না হলেও কেবল দয়া করে ডাকবেন আর আমি ধরা দেবো! আমি এতো নির্লজ্জ মেয়ে মানুষ নই আর এতো মহান পুরুষটি হতে হবে না আপনাকেও!”
রাগ চাপা ভেজা মুখে আফিফ আরো কিছুক্ষণ চুপ করে চেয়ে থেকে বলে,“বাড়ি যা। তোর সাথে এখন কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। তুই অনেক কথা প্যাঁচাস। আর আমার এতো গিট ছাড়ানোর ধৈর্য নেই। শোন, যে কারণে আপত্তি করছিস , সেটা নিশ্চিতভাবে ফারিয়া বা আমার বোনরা হতে পারে। ওদের মুখের কথা ভালো না তা আমি জানি। ওরা তোকে কিছু কথা শুনিয়েছে। এটা আমি আন্দাজ করছি। তো এই ব্যাপারে আমার সাফ সাফ বক্তব্য হলো, এটা সিনেমা নয় যে তোদের এতদিনের অন্তর্দ্বন্দ্ব আমি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আমি সবার হাতে হাত মিলিয়ে দিয়ে বলব আজকে থেকে হাম সাথ সাথ হে। আমার ঘরে তুই পার্মানেন্টলি আসবি। আমার বোনরা আমার কলিজার টুকরা, ওরাও মাঝেমাঝে আসবে। হাঁড়িপাতিল একসাথে থাকলে ঠোকাঠুকি হয়, সেই ঠোকাঠুকিও হবে। তুই নালিশ দিবি,ওরা নালিশ দেবে। সবটা বিচার করার দায়িত্ব আমার। এটুকু তোকে বলতে পারি। এবং এটুকু ছাড়া আর কিছুই তোকে আমার বলার নেই।”
মানুষটা বড্ডো কঠোর,বড্ডো কট্টর। কথাবার্তা শুনেই তিতলি বুঝলো। দাদী যে হুকুম দেনেওয়ালা আলফাম্যানের কথা বলতো সবসময় ঠিক তেমন কট্টর। ওর চেনা অথবা জানায় কিছুটা ভুল হয়েছে হয়তো। তিতলি বলল,“কিন্তু আপনি তো আমাকে চাননা!”
_“তো বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি কেন?”
আফিফের সোজাসাপ্টা প্রশ্নে তিতলি জবাবটাও দেয় সোজাসাপ্টা।
_“ঐ যে, দয়া করে!”
_“তোর প্রতি দয়া থাকলে তোকে ভালো কোনো অনাথালয়ে দিয়ে আসতাম এতদিনে। যাতে ভাই আর ভাইয়ের বৌয়ের ঘাড়ে চেপে থ্যাতলাতে না হয়।”
_“ও দয়া নয়,তো তাহলে বলতে চাচ্ছেন আমায় একদিনের মধ্যেই ভালোবেসেছে ফেলেছেন? কি হাস্যকর তাইনা? এমনটা না হলে যে আমার মান থাকবে না! আমি এই বিয়ে মানবো না!”
আফিফ ঠান্ডা চোখে আরো কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলল,“বাড়িতে গিয়ে রেস্ট নে।”
তিতলি দমে না ওতে,
_“এভাবে বিয়ে হয়?”
_“হয়। আমার এতো তোদের মতো এ’পাতে,ও পা’তে ক্রাশ খাওয়ার স্বভাব নেই। তাই খাইনি। তাই তোকে অমন করে দেখিনি। আর বিয়ে করতে হলে এতো লুল্লামি মার্কা যোগ্যতা লাগে না। লুচ্চা ফুচ্চা না আমি যে তুই বলবি আর আমি গদগদ হয়ে তোর পিছে পড়ে যাবো। তুই আমাকে চাস,আমিও বিয়ে করতে আগ্রহী। আর বিয়ে করতে যা লাগে সেটা নিয়েই আমি প্রস্তাব রেখে এসেছি তোর ভাইয়ের কাছে। এখন যা,প্লিজ যা। গিয়ে রেস্ট নে।”
তিতলির অস্থিরতা কমেনি। তবুও আফিফ যখন যেতে বলল,বুকে চাপা সুপ্ত অভিমান নিয়েই ও ছুটে ঘরে এসে ভাইয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। মাহবুব বসার ঘরের একপাশে সোফা ঠেশে বসে ছিল। চুপচাপ শোনে বোনের কথা। শুনে বলে,
_“আফিফ ভাইয়াকে বিয়ে করবি না?”
_“না।”
বলতে না বলতেই একটা প্রকাণ্ড ধমক নিয়ে ওর ওপর আছড়ে পড়ল মাহবুব।
_“তো কোন লাট সাহেবকে করবি শুনি? কোন লাট সাহেব এসে তোকে বিয়ে করবে শুনি!”
তিতলির বুকে ব্যাথা বাড়ে শুনে,বাড়ে ঘেন্না। সবাই যেন পালা করে ওর অযোগ্যতাকে ওর চোখে দেখিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ভাবীরা, ঐ আফিফ ভাইয়ের এই মুহূর্তে ওকে বিয়ে করার জেদটা, ভাইয়ার এই কথা। সবাই বুঝিয়ে দিচ্ছে তিতলির জন্য কোনো লাট সাহেব বসে নেই।
বুকটা টনটন করছে তিতলির। মাহবুব বোনের কান্না দেখে পরপর নরম হয়,মাথায় হাতটা রেখে বলে,“আফিফ ভাইয়া খুবই বিবেচক মানুষ তিতলি। সে তার বোনদের উপরে গিয়ে এই প্রস্তাব দিয়েছে। তার বোনরা এতে নারাজ। তুই চাস এখন আফিফ ভাইয়াকে তার বোনরা পরিচালনা করুক? ওরা জিতে যাক? বল আমায়? তার ব্যক্তি ইচ্ছের কোনো দাম নেই তোর কাছে? তুই তাকে সম্মান করিস না?”
চলমান………