ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে

৮ম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে

#পর্বসংখ্যা_৮

#Esrat_Ety

আইসিইউ-র সামনে দাঁড়িয়ে আছে দলের বাকি সদস্যরা। প্রত্যেকের মুখে প্রবল উৎকণ্ঠার ছাপ। রাহাত দাঁড়িয়ে কাঁদছে। সামিন একপ্রকার দৌড়ে যায়। গিয়ে রাহাতকে ধরে বলে,"কেমন আছে ও? বল! কেমন আছে!"

কথাগুলো জিজ্ঞেস করতে গিয়ে সামিনের গলা কেঁপে ওঠে। রাহাত হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। গলা থেকে কথা বের হচ্ছে না তার। সামিন মাথায় হাত দিয়ে বেঞ্চিতে বসে পরে। তার সমস্ত শরীর কাঁপছে। জামিল শুধু মাত্র তার ডান হাত ছিলো না,জামিলের জন্য সামিনের অন্যরকম মায়া। প্রচন্ড স্নেহ করে সে এতিম ছেলেটাকে।

"ভালো আছে ভাইয়া। জামিল খুশি। আপনার জন্য জান দিতে পেরে। চিন্তা করবেন না।"

নারীকন্ঠ শুনতে পেয়ে সামিন মাথা তুলে তাকায়। তার সামনে জামিলের গর্ভবতী স্ত্রী হেনা দাঁড়িয়ে।

সবুজ এসে বলে,"হেনা ভাবী। আপনি বসুন। কেন আসলেন এখানে?"

হেনা ধীরে ধীরে বেঞ্চিতে সামিনের পাশে বসে পরে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে খুবই অসুস্থ। সামিন কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,"তুমি ঠিক হও হেনা। কিচ্ছু হবে না ওর। আমি হতে দেবো না।"

_হু। আমি ঠিক আছি ভাইয়া। চা'ম'চা'দে'র বৌদের ঠিক থাকতে হয়। এসব পরিস্থিতি অহরহই আসে এদের জীবনে।

সামিন হেনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। হেনা বলে,"সামিন ভাইয়ের জন্য জান দিয়ে দেবো। কথাটা ও সব সময় বলতো ভাইয়া। আজ সত্যি হতে চলেছে।"

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,"আপনাদের আর কি ভাইয়া! একজন চা'ম'চা চলে গেলে দশজন চা'ম'চা প্রস্তুত আপনাদের সেবার জন্য।"

"ভাবী। সামিন ভাইয়ের সাথে এভাবে কেনো কথা বলছেন? সামিন ভাইয়ের কি দোষ?"

আরাফের দিকে তাকিয়ে হেনা ম্লান হেসে বলে,

_আমি তো তাকে দোষ দিইনি। কাউকে দোষ দিইনি আমি। শুধু কষ্ট হচ্ছে আরাফ। আমার সন্তান জন্মের আগেই এতিম হয়ে গেলো।

ঝরঝর করে কেঁদে দেয় হেনা। তার কান্না থামছেই না। কিছুক্ষণ শব্দ করে কেঁদে বলে,"কত বার করে বললাম। ছেড়ে দিন আমার স্বামীকে। ছেড়ে দিন। আমাকে এই অবস্থায় দেখেও একটু মায়া হলো না আতাউর আলমের লোকদের। ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিয়ে কো'প বসায় ওর গায়ে।"

সামিন হেনার দিকে তাকায়। তার চোখে মুখে বিস্ময়। বাকরুদ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। দলের ছেলে গুলো সব মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে।

সামিন তেজী কন্ঠে বলে ওঠে,"আতাউর আলমের লোক করেছে এসব?"

হেনা কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়ায়। অস্ফুট স্বরে বলে,"চারজন ছিলো। বলেছে ‌আগে তোকে শেষ করবো, তারপর তোর সামিন ভাইকে। এই শহরের মেয়র হবে আমাদের আতাউর সাহেব। অন্য কেউ না।"

ফুয়াদ ইতিমধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে ওদের মাঝে। সবুজ ক্ষেপে গিয়ে শার্টের হাতা গুটিয়ে নিয়ে বলে,"ভাই চলেন। থানায় চলেন।"

সামিন কঠিন গলায় বলে,"না।"

_যাবেন না? তাহলে চলেন ল'ট'কে দিয়ে আসি।

সামিন তেজী কন্ঠে বলে,"না।"

হেনা কান্না থামিয়ে বলে,"আমায় একটা কথা দিবেন ভাইয়া? ও যদি কখনো সুস্থ হয়ে ওঠে। আপনি প্লিজ ওকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেবেন। ও কখনো আপনাকে ছাড়তে চাইবে না ভাইয়া। আপনি ওকে প্লিজ নিজে থেকে ঘার ধাক্কা দিয়ে দল থেকে বের করে দেবেন।

সামিন হেনার কথার জবাব না দিয়ে রাহাতকে বলে,"রাহাত।"

_জ্বি ভাই।

_চল আমার সাথে।

ফুয়াদ বলে,"কোথায়? কোথায় যাবি তুই?"

সামিন ফুয়াদের দিকে তাকায়। সামিনের দৃষ্টি দেখে ফুয়াদ ভয় পেয়ে যায়। চোখ দুটো রাগে,ক্ষোভে লাল হয়ে গিয়েছে। তেজী কন্ঠে বলে ওঠে,"জামিল আমার শরীরের একটা অঙ্গ ফুয়াদ। আমার ছোট ভাইয়ের মতো। ও না থাকলে আমি অনেকটাই অচল। এটা সবাই জানে। তাই ওকে রাস্তা থেকে সরিয়ে আমাকে নাড়িয়ে দিয়ে ইলেকশনে জিততে চেয়েছিলো আতাউর। জামিলকে সরিয়ে দেয়া মানে আমার এক পা পঙ্গু করে দেয়া। ওই আতাউর এটাই চেয়েছে ফুয়াদ। আমি ওকে বোঝাবো পঙ্গু কিভাবে করতে হয়। ওর দুই পা আমি পঙ্গু করে দেবো।"

_তুই কি পাগল হয়ে গেলি? মাথা ঠান্ডা কর। আইন আছে দেশে। যদি ও অপরাধ করে থাকে আইন ওকে শাস্তি দেবে।

সামিন ফুয়াদের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে হেনার দিকে একবার তাকায়। দৃঢ়ভাবে বলে ওঠে,"তোমার স্বামীর জ্ঞান ফেরার আগে আমি আমার শোধ তুলবো।"

তারপর আরাফের দিকে তাকিয়ে বলে,"হেনাকে বাড়িতে নিয়ে যা। রিতু আর ইশিতাকে বলবি সামিন ভাই ওর চূড়ান্ত যত্ন নিতে বলেছে।"

হেনা কিছু বুঝতে পারছে না সামিনের কথা। আরাফ বলে,"ভাবী ওঠেন। আরে ওঠেন তো। আমার ভাস্তিকে কেনো কষ্ট দিচ্ছেন। চলেন, জামিল ভাই কাল সকালের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে।"

সবাই একপ্রকার জোর করে হেনাকে পাঠিয়ে দেয় আরাফের সাথে।

সামিন উঠে দাঁড়ায়। সবুজের দিকে তাকিয়ে বলে,"তুই জামিলের কাছে থাকবি।"

সবুজ মাথা নাড়ায়। রাহাত বলে,"কি করবো ভাই এখন?"

_আতাউরের গুষ্টি উদ্ধার।

ফুয়াদ বলে,"তুই কি করতে চাইছিস।"

সামিন ইয়াসার রাহাতের দিকে তাকিয়ে বলে,"আতাউরের মেয়ে সানশাইন কোচিং সেন্টারে পড়ায় না? "

রাহাত মাথা নাড়ায়।

ইয়াসার বলে,"এখন রাত সাড়ে আটটা বাজে। ন'টায় কোচিং থেকে বের হয় ওই মেয়েটা। সাড়ে নয়টা নাগাদ ওই মেয়েকে আমাদের পার্টি অফিসে নিয়ে আসবি।"

সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সামিনের দিকে। ফুয়াদ চাপা স্বরে চেঁচিয়ে ওঠে,"পাগল হয়েছিস তুই? আ'গু'ন নিয়ে খেলতে চাইছিস।"

সামিন ফুয়াদের কথার উত্তর না দিয়ে রাহাত এবং দলের আরো দুজন ছেলেকে বলে,"কাজটা কিভাবে করবি তোরা ভাব। কিন্তু আমি এক ঘন্টার মধ্যে আতাউরের মেয়েকে আমার চোখের সামনে দেখতে চাই।"

রাহাত কিছুটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছে তার নেতার কথায়। কিন্তু কাজটা তাকে করতেই হবে।

ফুয়াদ রেগে গিয়ে সামিনকে বলে,"তোকে থেমে যেতে বলছি আমি সামিন।"

_সামিন থামবে না ফুয়াদ। সেদিন চ*ড় মারার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রত্যেকটা দিন ওই মেয়ে তার ঔদ্ধত্য দেখিয়ে এসেছে ‌

। মেয়ে মানুষ বলে নজর-আন্দাজ করে গিয়েছি। বেশি কিছু বলিনি। দুয়েকবার ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। কিন্তু আজ যেটা হলো তার জন্য আতাউরকে অনেক বড় খেসারত দিতে হবে। মেয়র হবার স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেবো আমি। ওর থেকে অনেক বড় দাম নিয়ে ছাড়বো। তুই যদি আমার সাথে থাকতে না চাস তাহলে বাড়ি চলে যা। নয়তো আমার সাথে পার্টি অফিসে চল।

***

"ম্যাম আসসালামুয়ালাইকুম। আসি। ‌"

"ওয়ালাইকুমুস সালাম। সবাই হোমওয়ার্ক করে নিয়ে আসবে কাল। ঠিকাছে?"

_ঠিকাছে ম্যাম।

আলো হেসে তার পঞ্চমশ্রেনীর ছাত্র ছাত্রীদের বিদায় জানায়। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত আট-টা বেজে পঞ্চাশ মিনিট। দশমিনিট আগেই ছুটি দিয়ে দিয়েছে আজ। কোচিংয়ের হেড ম্যাম মিনতি দেবী এসে বলে,"ছুটি দিয়ে দিয়েছো? বেশ নিচ তলায় এসে তবে,আমার সাথে চা খেয়ে যাও।"

আলো হেসে বলে,"না ম্যাম। আমি আসছি। আমার সামনে পরিক্ষা। পড়তে বসতে হবে বাড়িতে গিয়ে।"

মিনতি দেবীকে বিদায় জানিয়ে ব্যাগ থেকে ফোন বের করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে আলো। ইশমাম চৌদ্দবার ফোন দিয়েছে। আলো আনমনে হাসে। এই ছেলেটা এতো অদ্ভুত কেনো।

কলব্যাক করে কানে ধরতেই ইশমাম রিসিভ করে বলে,"কি করছিলে?"

আলো হেসে বলে,"তুমি তো জানো আমি কি করছিলাম ইশমাম। এতোবার ফোন দাও কেনো? দুইবার দিয়ে বসে থাকতে পারো না?"

ইশমাম হেসে বলে,"খুব অস্থির হয়ে যাই আমি। আসলে দূরে থাকি তো। তাই মনে হয় এই বুঝি আমাকে ঠকিয়ে কোনো বিসিএস ক্যাডার বিয়ে করে নিলে।"

আলো বলে,"ঢং দেখলে আর বাঁচি না।"

ইশমাম হেসে ফেলে। বলে,"ঠিকাছে। আর ঢং করলাম না। তুমি বাড়িতে যাও, সাবধানে যেও।"

"ইশমাম শোনো।"

ইশমাম ফোনটা কেটে দিতে যাচ্ছিলো। আলোর কথায় থেমে যায়।

"হ্যা বলো অদ্রিতা।"

_লাভ ইউ।

ইশমামের ঠোঁট প্রশস্ত হয়ে যায় হাসিতে। মৃদু স্বরে বলে,"লাভ ইউ টু।"

ফোন কেটে দিয়ে আলো এদিকে ওদিকে তাকায়। ব্যস্ত রাস্তাটাও আজ কেমন শুনশান হয়ে আছে। দুদিন ধরে ঝিরঝির করে বৃষ্টি পরছে। গা না ভিজলেও বেশ অস্বস্তিকর। আলো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে রিকশার জন্য। রাস্তা দিয়ে দুই একজন লোক যাওয়া আসা করছে। আলো কিছু না ভেবেই হাটা শুরু করে। হঠাৎ করে তার সামনে একটা বাইক এসে থামে।

আলো দাঁড়িয়ে পরে। হেলমেট সরিয়ে বাইক থেকে নেমে পরে রাহাত এবং রনি। আলো চমকে ওঠে। খানিকটা ঘাবড়ে গিয়ে বলে,"আপনারা!"

"হু আমরা।"

স্বাভাবিক কন্ঠে রাহাত বলে। আলো রেগে গিয়ে বলে,"কি চাই? পথ আটকে দাঁড়িয়েছেন কেনো?"

রনি বলে,"আমাদের কিছু চাই না। ভাই আপনার সাথে একটু সাক্ষাৎ করতে চায়।"

_ভাই মানে! কোন ভাই?

_ভাই তো একটাই! সামিন ইয়াসার ভাই। শিরায় শিরায় রক্ত,আমরা ইয়াসার ভাইয়ের ভক্ত।

আলো গর্জে ওঠে,"ফাজলামি হচ্ছে? সরে দাঁড়ান পথ থেকে নয়তো এক্ষুনি ট্রিপল নাইনে ফোন দেবো আমি।"

রাহাত একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। ইতিমধ্যে সামিন ইয়াসারের গাড়ি এসে থামে। গাড়ি থেকে সামিন ইয়াসার নেমে আলোর মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায়। আলো সামিনকে দেখেই ক্ষেপে যায়। চেঁচিয়ে বলে," অ'স'ভ্য লোক, কি চাই আপনার?"

সামিন কিছুক্ষণ আলোর দিকে তাকিয়ে রনিকে চোখ দিয়ে ইশারা করে। রনি আলোকে বলে,"চোখ বন্ধ করেন তো আপা।"

আলো চেঁচিয়ে বলে,"মানে?"

আরাফ মুখে 'চ' কারন্ত শব্দ করে পকেট থেকে একটা ছোট বোতল বের করে । আলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্প্রে করে দেয় আলোর মুখে। অচেতন হয়ে আলো লুটিয়ে পরে যেতে নেয় মাটিতে। রাহাত ধরে ফেলে।

"সাবধানে ধর ওকে। মেয়ে মানুষ।"

গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে ইয়াসার।

রাহাত মাথা নেড়ে আলোকে ধরে ধরে সামিনের গাড়ির ড্রাইভিং সিটের পাশের সিট-টাতে বসিয়ে দেয়। অচেতন আলো কাত হয়ে পরে থাকে। আরাফ বলে,"ভাই এই মাত্র কি আমরা কি'ড'ন্যা'প করলাম?"

সামিন কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসে। রাহাত রনির কাছে বাইকের চাবি দিয়ে নিজেও গিয়ে সামিনের গাড়িতে ওঠে। সামিন আলোর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে গাড়ি স্টার্ট করে। রাহাত বলে,"ভাই? আপনি না বলেছেন ওকে নিয়ে আপনার পার্টি অফিসে যেতে। আপনি নিজেই চলে এলেন যে।"

"সিদ্ধান্ত পাল্টেছি। এখন আমাদের বাড়িতে যাচ্ছি।"

রাহাত অবাক হয়,"বাড়িতে গিয়ে কি হবে ভাই? তাছাড়া ওকে নিয়ে কি করবেন আপনি? না মানে আপনার খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নেই তা আমি জানি কিন্তু একটা মেয়েকে এভাবে কি'ড'ন্যা'প করে,ভাই এটা তো ঘোর অপরাধ। ধরা পরলে জামিন নেই।"

সামিন কোনো কথা বলছে না। একমনে ড্রাইভ করতে থাকে। সে নিজেও জানে সে আগুন নিয়ে খেলছে কিন্তু খেলাটা তাকে শেষ করতেই হবে। ড্রাইভিং করতে করতে একবার সে আলোর মুখের দিকে তাকায়। কপালের কাছের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে মেয়েটার। অচেতন অবস্থায় একেবারেই নিষ্পাপ বাচ্চাদের মতো লাগছে অথচ মেয়েটা কি প্রচন্ড তেজী, যেই তেজ ইয়াসারের অপছন্দ, ইয়াসার হজম করতে পারে না।

রাহাত পেছন থেকে বলে,"ইচ্ছা করছে দুই গালে দুইটা চ*ড় বসাই ভাই। ওর বাপ যে এতো বড় একটা শ'য়'তা'ন । কখনো বুঝতে পারিনি। "

আরাফ বলে,"ভাই কি করে জানি না। তবে আমি হলে অবশ্যই ওকে থা'প্প'ড় মারতে মারতে সব দাঁত বের করে নিতাম।"

রাহাত বলে,"ওকে আটকে রেখে আতাউরের কাছে টাকা চাইবেন ভাই? কিন্তু আপনার তো টাকার অভাব নেই।"

আরাফ বলে,"আরে ধূর। ওকে ভাই ভয় দেখাবে। ঠিক হবে, একেবারে ঠিক হবে। ওর বাপ উচিত শিক্ষা পাবে।"

রাহাত সামিনকে বলে,"কিন্তু ভাই ওকে ছেড়ে দিতেই তো পুলিশের কাছে বলে দেবে সব,আর ওর বাবা তো বসে থাকবে না।"

_কিচ্ছু করতে পারবে না।

গম্ভীর এবং তেজী কন্ঠে বলে ওঠে সামিন।

রাহাত এবং আরাফ কিছু না বুঝে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে।

আলোর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে সামিন রাহাতকে বলে,"ওর ফোনটা বের কর ব্যাগ থেকে। আতাউরকে মেসেজ দিয়ে দে। দুই ঘণ্টা অন্তত নিশ্চিন্তে থাকুক। মেয়ের জন্য দুশ্চিন্তা না করুক।"

_আর দুই ঘন্টা পরে? তখন কি হবে?

সামিন ইয়াসার পৈশাচিক হাসি হাসে। তারপর ড্রাইভিং-এ মন দেয়।

***

পানির গ্লাস হাতে স্বামীর পেছনে এসে দাঁড়ায় রেহেনা। আতাউর আলম স্টাডি রুমে বসে কিছু কাগজপত্র দেখছিলো। রেহেনার পায়ের শব্দ পেয়ে মাথা তুলে তাকায়। রেহেনা বলে,"শুনছো। মেয়েটা তো এখনো এলো না। আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে।"

"দুশ্চিন্তার কিছু নেই। মেসেজে বলেছে ফিরতে রাত হবে। একটু ব্যস্ত সে। তুমি আবার অযথা ফোন দিয়ে বিরক্ত করো না। রেগে যাবে।"

_তুমি সবসময় মেয়েটাকে এভাবে লাই দাও। একটা বিপদ ঘটে গেলে তখন বুঝবে। এই পৃথিবী মেয়েদের জন্য কতটা খারাপ তা জানো না?

_জানি। তবে আমার মেয়ে তো সাধারণ কোনো মেয়ে নয়। ওকে আমি সাধারণ অন্য সব মেয়েদের মতো বড় করিনি।

রেহেনা বলে,"কি কাজ? জিজ্ঞেস করো মেসেজ দিয়ে। আর তেমন হলে আয়াত-আজানকে পাঠিয়ে দাও। ওরা নিয়ে আসবে আলোকে।

"তুমি যাও তো। একটু পরে আমিই গিয়ে নিয়ে আসবো ওকে। যাও তুমি।"

রেহেনা বেগম ঘরে থেকে চিন্তিত মুখ নিয়ে বের হয়। তার শরীরটা একটু একটু কাঁপছে। বুকটা কেমন খাঁ খাঁ করছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা অঘটন ঘটতে চলেছে।

***

বাড়ির নাম "শান্তিনীড়"। আগে ছিলো "মির্জা ম্যানশন"। সামিনের মা 'হোসনে আরা শান্তির' মৃত্যুর পরে সামিন এই নাম রেখেছে। সামিনের গাড়ির শব্দ পেয়ে বাড়ির কেয়ার টেকার পোনা এসে গেইট খুলে দেয়। পোর্চের কাছে এসে গাড়ি থামিয়ে সামিন নেমে পরে গাড়ি থেকে। পোনার দিকে তাকিয়ে বলে,"পোনা চাচা,ইশিতা আর রিতুকে ডেকে আনুন।"

পোনা মাথা নাড়িয়ে একছুটে দৌড়ে যায় ভেতরে। রাহাত এবং আরাফ নেমে দাঁড়ায়। তারা উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে সামিন ইয়াসারের দিকে। ঠিক কি ঘটাতে চলেছে তাদের ভাই তারা সেটাই বুঝতে পারছে না।

ইশিতা আর রিতু বাইরে চলে এসেছে। ইশিতা কিছুক্ষণ আগে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো। সে চোখ ডলতে থাকে। রিতু বলে,"ভাইয়া কিছু হয়েছে?"

সামিন গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,"দরজা খুলে ওকে ভেতরে নিয়ে যাও‌।"

_কাকে?

ইশিতা অবাক হয়ে জানতে চায়।

_ভেতরে যে আছে তাকে।

ইশিতা আর রিতু হতভম্ব হয়ে গাড়ির দরজা খুলে চমকে ওঠে। ইশিতা একপ্রকার চেঁচিয়ে ওঠে,"মাই গড! এসব হচ্ছে কি ভাইয়া? এই মেয়েটা তো সে মেয়েটা। তোমাকে চ*ড় মেরেছিলো। আতাউর আলমের মেয়ে।"

সামিন চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকে। ইশিতা বলে,"এ এখানে কেনো? আর এভাবে ঘুমাচ্ছে কেনো। ভাইয়া প্লিজ পরিষ্কার করে বলো তো‌।"

ইলহাম এবং বাড়ির দু'জন মহিলা সার্ভেন্ট এসে দাঁড়িয়েছে পোর্চের নিচে। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

সামিন ধমকের সুরে বলে ওঠে,"ও ঘুমাচ্ছে না। অচেতন হয়ে আছে। এতো কথার জবাব দিতে পারবো না। একে গেস্টরুমে নিয়ে যা নিচতলার। মুখে পানির ছাট মার, হুঁশ ফিরে পাবে।"

রিতু ভাসুরের ধমকে ভয় পেয়ে ইশিতাকে বলে,"আপু আগে ওনাকে ধরো। নিয়ে যাই ঘরে।"

তারপর মহিলা সার্ভেন্টদের দিকে ফিরে বলে,"তোমরাও আসো খালা।"

সবাই ধরাধরি করে আলোকে ঘরে নিয়ে যায়। ইলহাম হতভম্ব হয়ে বলে,"হচ্ছে টা কি ভাইয়া আসলে।"

_কিছু-ই হচ্ছে না। তবে হতে চলেছে।

ইলহাম কিছু বুঝতে পারছে না ভাইয়ের কথায়। সামিন আরাফের দিকে তাকিয়ে বলে ,"রনিকে ফোন দে। ওদিকের কি অবস্থা জেনে নে।"

***

কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে রেহেনা ছুটে এসে দরজা খোলে। দরজা খুলেই সে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার সামনে ছয় থেকে সাতজন অচেনা ছেলে। আতাউর আলম বসার ঘরের দিকে আসতে আসতে বলতে থাকে,"কি? আলো এসে গিয়েছে? তুমি শুধু শুধু টেনশন....."

কথা থামিয়ে দিয়ে আতাউর আলম রনির দিকে তাকায়। রনি একটা মুচকি হাসি দিয়ে দলবল নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। আতাউর আলম চেঁচিয়ে বলে,"তোরা? তোদের সাহস তো কম না!"

_সাহসের তো কিছুই দেখেননি চাচা। আমরা ইয়াসার ভাইয়ের ভক্ত। আমাদের শিরায় শিরায় রক্ত, গরম রক্ত।

কথাটি বলেই রনি বাকি ছেলেদের বলে,"ওই নেংটি ইঁদুর দু'টোকে ধরে আন আগে।"

আজান আর আয়াত চেঁচামেচির আওয়াজ পেয়ে বসার ঘরের দিকেই আসছিলো। দলের দু'জন গিয়ে ওদের দু'জনকে ধরে ফেলে।

আতাউর আলম ঘাবড়ে গিয়ে বলে,"ছাড় ওদের। ছাড় আমার ছেলেদের।"

রনি হেসে বলে,"ছেলেদের একটু ধরেছি বলে বি*চি একেবারে শুকিয়ে গিয়েছে তাই না চাচা? তাহলে শুনুন চাচা। আপনার মেয়েকে কিছুক্ষণ আগে ইয়াসার ভাই তুলে নিয়ে গিয়েছে তার বাড়িতে।"

রেহেনা আর্তনাদ করে উঠে অচেতন হয়ে লুটিয়ে পরে মাটিতে। আতাউর আলম রনির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আজান আয়াত চেঁচিয়ে উঠে বলে,"বাবা আমাদের আপু!"

***

মুখে পানির ঝাপটা পরতে-ই আলো কপাল কুঁচকে ফেলে খানিকটা। বাড়ির কাজের খালা সিতারা রিতুর দিকে তাকিয়ে বলে,"জ্ঞান ফিরতেছে মেজো ভাবি।"

রিতু অসহায়ের মতো আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার ভীষণ মায়া হচ্ছে অচেনা এই মেয়েটার জন্য। কিছুটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছে সে পুরো ব্যপারটায়। তার ভাসুরকে সে যতটুকু চেনে তাতে সে জানে সামিন ইয়াসারের নারীর দোষ নেই। তাহলে এই মেয়েটিকে কেনো এনেছে তুলে। তবে কি রিতুর ধারণা ভুল! এই বাড়ির সব ছেলেরা-ই কি এক!

আলো ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকায়। ঘোলাটে দৃষ্টি দিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে শূন্যে। কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে পরিস্থিতি অনুধাবন করে সে লাফিয়ে উঠে বসে। শরীরে কোনো শক্তি খুজে পাচ্ছে না সে ‌। তার সামনে কতগুলো অচেনা মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। আলো সবার মুখের দিকে একবার তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে,"আমি কোথায়?"

"আমার বাড়িতে।"

দরজার পর্দা ঠেলে ইয়াসার মির্জা ভেতরে ঢোকে। আলো ঘৃন্য কন্ঠস্বর শুনে চমকে উঠে তাকায়। কিছুক্ষণ আগের সবকিছু তার মনে পরতেই একলাফে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। তার গায়ে কোনো জোর সে পায়না। সামনে পা বাড়াতেই মাথা ঘুরে পরে যেতে নেয়,ইশিতা গিয়ে ধরে ফেলে। আলো তেজী কন্ঠে বলে ওঠে,"জা'নো'য়া'র ! তোর মতলব কি! আমাকে যেতে দে কু**** বা**।"

সামিন হেসে ফেলে। আলোর চিৎকার তার কাছে কিছুটা বাঁশির আওয়াজের মতো লাগছে শুনতে। রিতুর দিকে তাকিয়ে বলে,"তোমরা বাইরে যাও। ওর সাথে আমার কথা আছে।"

ইশিতা চেঁচিয়ে ওঠে,"ভাইয়া। তুমি করতে চাইছো কি। বাবা কিন্তু রেগে যাবে খুব। তুমি এবার থামো। ওকে ওর বাড়িতে পাঠিয়ে দাও‌।"

সামিন কঠিন গলায় বলে,"তোদের বাইরে যেতে বলেছি। তিন সেকেন্ডের মধ্যে।"

আলো ইশিতার হাত ধরে ঝরঝর করে কেঁদে দিয়ে বলে,"আপনারা প্লিজ যাবেন না। ওই লোকটা প্রচন্ড খারাপ। প্লিজ যাবেন না আপনারা।"

ইশিতা নিরুপায়। আলোর থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে রিতুর সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। আলো কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পরে। সামিন আলোর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে একটা চেয়ার টেনে আলোর মুখোমুখি বসে।

তাচ্ছিল্যের সাথে বলে,"আমার বাবা সৎ,আমার বাবা মহৎ। এমন টা-ই বলো না তুমি সবসময়? তোমার এই অবস্থার জন্য ফিফটি পার্সেন্ট তোমার ওই সুপার হিরো দায়ী আর বাকি ফিফটি পার্সেন্ট তুমি নিজে।"

আলো কান্না থামিয়ে বলে,"চাস কি তুই?"

সামিন ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে‌। তখনি ফুয়াদ এবং রাহাত এসে ঘরে ঢোকে। তাদের পিছু পিছু ঢোকে ইলহাম এবং আরাফ।

আলো সেদিকে তাকায়। সামিন ফুয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,"কাজী এসে গিয়েছে?"

ফুয়াদ একবার আলোর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ায়। আলো হতভম্ব হয়ে সামিনের দিকে তাকায়। রাহাত আরাফ অবাক হয়ে মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। ইলহাম বলে,"ভাইয়া কাজী এসেছে কেনো? কাজী কি করবে?"

_বিয়ে পড়াবে।

ঠান্ডা গলায় জবাব দেয় সামিন। ইলহাম হতভম্ব হয়ে বলে,"বিয়ে পড়াবে মানে? কার বিয়ে?"

আলোর দিকে নিজের তর্জনী আঙ্গুল তুলে তেজী কন্ঠে সামিন ইয়াসার মির্জা বলে,"ওর আর আমার।"

ফুয়াদ বাদে সবাই হতবাক হয়ে সামিনের মুখের দিকে তাকায়। আলো আতঙ্কিত হয়ে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ায়। বিকট শব্দে চেঁচিয়ে বলে," জা'নো'য়া'রে'র বাচ্চা। তোর সাহস কিভাবে হয়...."

সবাইকে পুনরায় অবাক করে দিয়ে সামিন আলোকে একটা চ*ড় মারে। চ*রের ধাক্কা সামলাতে না পেরে আলো লুটিয়ে পরে যায় মাটিতে। গালে হাত দিয়ে, মাথা তুলে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে দেখে সামিনকে।

রাহাত কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,"ভাই! এটা কেমন ধরনের প্রতিশোধ। বিয়ে করবেন কেনো?"

সামিন শুকনো হাসি হাসে। আলো তেজী কন্ঠে বলে ওঠে,"কখনোই না। তোর মতো পশুকে বিয়ে করবো না আমি।"

সামিন ইয়াসার আলোর দিকে খানিকটা ঝুকে বলে,"চ*ড় খেয়েও তেজ কমেনি দেখছি। ফুয়াদ,কাজীকে ভেতরে আসতে বল।"

ইলহাম এতক্ষনে সবটা বুঝতে পেরে আনন্দিত গলায় বলে,"এক্সিলেন্ট ভাইয়া। এই না হলে আমার ভাই! সাত বছর আগে ওর বাপ আমাদের পরিবারের সাথে যা করেছে তার উপযুক্ত শাস্তি এটা। ভেরি গুড ভাইয়া।"

ইলহাম খুশি হলেও,খুশি হয়না রাহাত এবং আরাফ। তারা তাদের নেতার বৌ হিসেবে আলো নামের ওই মেয়েটিকে মানতেই পারবে না। রাহাত বলে,"ভাই । এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না। বিয়ে কোনো ছেলে খেলা?"

_তোদের তো খুশি হবার কথা রাহাত, বিয়ে করেন বিয়ে করেন বলে কানের পোকা বের করে দিতি আমার।

_ভাই তাই বলে এই মেয়ে? আতাউরের মেয়ে?

সামিন গম্ভীর গলায় বলে,"হ্যা আতাউরের মেয়ে।"

আলো উঠে গিয়ে সামিনের কলার ধরে। ঝরঝর করে কেঁদে দিয়ে বলে,"এক্ষুনি যেতে দে আমাকে। এক্ষুনি।"

কথাটি বলে অনবরত কিল ঘুষি মারতে থাকে সামিনের বুকে। কিন্তু তাতে সামিনের বলিষ্ঠ শরীরে কোনো প্রভাব পরে না। সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে।

ফুয়াদ কাজীকে নিয়ে ঘরে ঢোকে। কাজী ভয়ার্ত দৃষ্টিতে চারপাশে তাকায়। এখানে কি হচ্ছে তার বোঝার দরকার নেই। কোনোমতে বিয়েটা পরিয়ে কেটে পরবে সে। এই বাঘের গুহায় বেশিক্ষণ থাকলেই বিপদ।

কাজী বিয়ে পরাতে শুরু করে। আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"কবুল বলতে বললে কবুল বলবে মা।"

_আমি কবুল বলবো না।

চেঁচাতে থাকে আলো। সামিন আলোর চোয়াল চেপে ধরে বলে,"কবুল বলবে তুমি,দেরী করলে তোমার ক্ষতি।"

আলো নিস্তেজ হয়ে পরে, অস্ফুট স্বরে বলে,"আমায় বিয়ে করে লাভ টা কি হবে আপনার?"

_সেটা পরে বুঝতে পারবে।

আলোর চোয়াল ছেড়ে দিয়ে আরাফের দিকে তাকিয়ে বলে,"রনিকে ভিডিও কল দে। বিয়ের আগে বাপ-বেটিতে মোলাকাত করে নিক। তারপর কখনো দেখা হয় কি না কে জানে।

আরাফ মাথা নাড়িয়ে রনিকে ফোন দেয়। রনি রিসিভ করে আতাউর আলমের সামনে রেখে দেয় ফোনটা। আলো চেঁচিয়ে ওঠে,"আব্বু।"

আতাউর আলম কাঁদছে। তার মুখ থেকে কোনো কথা বেরোচ্ছে না।

আলো কাঁদতে কাঁদতে বলে,"আব্বু,ওরা আমাকে।"

_তুমি কবুল বলে দাও আম্মু।

আলো আহত চোখে বাবার দিকে তাকায়। আতাউর আলম চোখ মুছে বলে,"নয়তো আজান-আয়াতকে মেরে মিউনিসিপ্যালিটির ড্রেনে ফেলে রাখবে ওরা। তুমি কবুল বলো।"

সামিন উঠে এসে ফোন কেড়ে নিয়ে আতাউর আলমকে বলে,

" সবসময় কি যেনো বলতে? আমরা সরকারি দল। আমরা ক্ষমতার অপব্যবহার করি। ক্ষমতার অপব্যবহার এটাকে বলে আতাউর আলম। চুপচাপ ওখানে বসে তোমার মেয়ে আর আমার বিয়ে দেখবে। চোখ সরিয়েছো কি তোমার ওই ছেলে দুটোকে মেরে বড় বাজারের ব্রিজের কচুরিপানার নিচে ফেলে দিয়ে আসবো।"

আলোর শরীরটা যেনো অসাড় হয়ে যাচ্ছে। সামিন ইয়াসার আলোর দিকে একবার তাকিয়ে কাজীকে ধমকে বলে,"থামলেন কেনো? বিয়ে পড়ান। পাত্র সামিন ইয়াসার মির্জা,পিতা ইমতিয়াজ মির্জা। পাত্রী অদ্রিতা আলো,পিতা আতাউর আলম।"

কাজী একটা ঢোক গিলে মাথা নাড়ায়। পুনরায় বিয়ে পড়াতে থাকে। আতাউর আলম ওপাশে বসে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তার ইচ্ছে করছে গলায় ফাঁস নিতে। আলো শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

কাজী ইয়াসারের দিকে তাকিয়ে বলে,"কবুল বলো বাবা।"

ইয়াসার আলোর দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বলে,"কবুল।"

কাজী এবার আলোকে বলে,"মা কবুল বলো।"

আতাউর আলম চেঁচিয়ে ওঠে,"কেনো করছো ইয়াসার! আমি তো বলেছি আমি নির্বাচন বর্জন করবো ইয়াসার। প্রয়োজনে আমি তোমার পা ধরে মাফ চাইবো ইয়াসার। আমার মেয়েটাকে ছেড়ে দাও। ও আমার খুব আদরের।"

ইয়াসার শুকনো হাসি হেসে বলে,"জানি তো। সেজন্যই তো বিয়ে করছি। আপনার আদরের জামাই হবো বলে।"

আতাউর আলম কান্নায় ভেঙে পরে।

কাজী বলতে থাকে,"এই মেয়ে তো কবুল বলছে না বাবা।"

ইয়াসার ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রনিকে বলে,"রনি। ওর দু'টো ভাইয়ের মধ্যে একটাকে রেখে আরেকটার গ'লা'য় ছু*রি বসিয়ে দে তো।"

আলো কেঁপে ওঠে। ঝরঝর করে কেঁদে দিয়ে বলে,"কবুল।"

চলমান.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন