ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে

১৭তম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে

#পর্বসংখ্যা_১৭

#Esrat_Ety

"টিচার আপনার চশমাটা আমি একটু পরি?"

শান্ত ইহানকে কোলে নিয়ে বসে আছে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে সে ইহানকে "Z ফর Zebra" শেখানোর চেষ্টা করছে কিন্তু ইহান পড়া রেখে দু'ষ্টু'মি'তে মেতে আছে। কখনো শান্তর চশমা ধরে টা'ন'ছে, কখনো মোবাইল ধরে। শান্তর ধৈর্য্যর সী'মা পেরিয়ে যাচ্ছে। এতো ছোটো বাচ্চাকে ব'শে আনা মু'শ'কি'ল। সে এই ক'দিনেই হি'ম'শি'ম খাচ্ছে।

দরজা ঠেলে ইশিতা মাথা বাড়িয়ে বলে,"আসতে পারি!"

শান্ত গ'ম্ভী'র কন্ঠে বলে,"আসুন।"

ইশিতা ঘরে ঢুকে ইহানের দিকে তাকিয়ে বলে,"তুমি তোমার টিচারের কোলে উঠে বসে আছো কেনো!"

ইহান কোনো কথা বলে না। শান্ত বলে,"আমি বসিয়েছি। হাতে ধরে লিখিয়ে দিতে হয়।"

_ও।

একশব্দে শান্তকে বলে ইশিতা ইহানের দিকে তাকিয়ে বলে,"আমার ঘর থেকে আমার হেডফোন নিয়েছো তুমি?"

ইহান মাথা নাড়ায়।

_কোথায় রেখেছো?

_পাপার ল্যাপটপের কাছে।

ইশিতা ঘুরে দাঁড়ায়। শান্ত আদুরে কন্ঠে ইহানকে বলতে থাকে,"প্লিজ ইহান বাবু। এবার একটু লেখো!"

ইশিতা দাঁড়িয়ে পরে, শান্তর দিকে তাকায়। তারপর বলে,"পাব্লিক ভার্সিটির এক্স স্টুডেন্ট। কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চা কেনো পড়াচ্ছেন?"

_চাকরির বাজার মন্দা। আপাতত কিছু টিউশনি দরকার ছিলো। ভাগ্যক্রমে আপনাদের বাড়িতে জুটে গেলো। ছোটো বাচ্চা,চাপ কম। আমি চাকরির পড়া পড়ারও সময় পাচ্ছি। আপনারা বড়লোক, মাস শেষে টাকা দেওয়া নিয়ে গাইগুই করবেন না আর তাছাড়া বেশ ভালো এমাউন্ট দিচ্ছেন। তাই পড়াচ্ছি। এই মুহূর্তে টাকার খুব প্রয়োজন আমার।

সোজাসাপ্টা উত্তর দেয় শান্ত। ইশিতা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঠান্ডা গলায় বলে,"বাব্বাহ! এতো বেনিফিট? আর আমাদের বাড়িতে প্রতিদিন খুব ভালো ভালো নাস্তা দেওয়া হয় আপনাকে‌। এটা বললেন না? এটাও বলুন।"

শান্ত ইশিতার চোখের দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে বলে,"হ্যা। সেটাও।"

ইশিতা বলে,"আচ্ছা। বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত ‌। আপনি আপনার ছাত্রকে পড়ান।"

***

কাজ শেষ করে হসপিটালে গিয়েছিলো,সেখান থেকে সামিন সোজা বাড়িতে আসে। গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ বাগানের দিকে তাকিয়ে থেকে বাড়ির ভেতর চলে যায়। সূর্যের তাপটা প্রখর আজ। পাঞ্জাবির বুকের কাছটা ভিজে গিয়েছে ঘেমে। ইহান বড় বাবাকে দেখে ছুটে এলে ইহানকে কোলে তুলে নেয়না সামিন। আদুরে কন্ঠে বলে,"হসপিটাল থেকে এসেছি। জী'বা'ণু গায়ে বাবা। এখন না।"

ইহান দাঁড়িয়ে পরে। সামিন বলে,"আমি ফ্রেশ হয়ে নেই আগে? তারপর আমরা খেলবো। তুমি চলো আমার ঘরে।"

ইহান মাথা নাড়ায়। সে যাবে না। সামিন বলে,"কেনো? যাবে না কেনো?"

_তোমার ঘরে ঐ মেয়েটা থাকে, রাগী মেয়েটা, পঁ'চা মেয়েটা।

রিতু ধ'ম'ক দিয়ে বলে,"ইহান। এসব কি বলছো? বড় মা বলো।"

_আমি বলবো না বড় মা। ওই মেয়েটা পঁচা।

সামিন মৃদু হেসে বলে,"ঠিক বলেছো ইহান। ওই মেয়েটা পঁচা। আর আমি কি?"

_তুমি ভালো। আমার সুপার ম্যান।

সামিন হাসতে হাসতে সিঁড়ির দিকে যায়। তারপর ঘুরে রিতুকে জিজ্ঞেস করে,"ইশমাম কোথায়?"

_ভাইয়া নিজের ঘরে।

দোতলায় উঠে সামিন সোজা ইশমামের ঘরে যায়। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলে,"আসবো ছোটো।"

ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে ইশমাম ভাইয়ের দিকে তাকায়। তারপর বলে,"এসো ভাইয়া। পারমিশন কেনো নিচ্ছো?"

সামিন ম্লান হাসে। বলে,"ভুত নেমেছে ঘার থেকে?"

ইশমাম তার কোনো উত্তর না দিয়ে ল্যাপটপ বন্ধ করতে করতে বলে,"তোমার সাথে আমারো কিছু কথা ছিলো। আমি আমেরিকা ফিরে যেতে চাচ্ছি ভাইয়া। "

_এসেছিলি কেনো?

_তোমাদের দেখতে। দেখা হয়েছে। আমার ওখানে একটা আলাদা জীবন রয়েছে ভাইয়া।"

_কিসের জীবন? নয়টা-পাচটা অর্গানাইজেশনের পেছনে দৌ'ড় ঝাঁ'প। যায়গায় যায়গায় ঘুরে প্রতিবেদন লেখা। সমাজ সেবা করতে চাইলে তো দেশে বসেই করতে পারিস। এখানে কোনো সংস্থা খোল। আমি আছি।

ইশমাম মৃদু হাসে। সামিন বলে,"তোর জন্য মেয়ে দেখছি। বিয়ে করবি।"

_স্টপ ইট ভাইয়া। তুমি বাড়াবাড়ি করছো।

_আমি কিছু বাড়াবাড়ি করছি না। তুই বাড়াবাড়ি করছিস। একটা মেয়ের জন্য হে'দি'য়ে মরছিস। বারবার বলছি ঠিকানা দে,আমিও দেখতে চাই কোথাকার কোন হুর পরী।

চুপ করে থাকে ইশমাম। সামিন উঠে দাঁড়িয়ে বলে,"ফুয়াদের সাথে আমি আলোচনা করছি। বাবা দেশে ফিরলেই কথাবার্তা বলবো। ইশুর জন্যও ছেলে দেখছি। আর কোনো কথা শুনতে চাই না আমি।"

ইশমাম বাঁধ সা'ধ'তে চাইলেও সামিন পাত্তা না দিয়ে চলে যায়, ভাইয়া চলে যেতেই ইশমাম একটা গভীর নিঃশ্বাস নেয়।

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে আগে পরিস্থিতি অনুধাবনের চেষ্টা করছে সামিন। কাউকে দেখতে না পেয়ে হাত ঘড়ি টা খুলে আয়নার সামনে রাখতে গিয়ে দেখলো তার ড্রেসিং টেবিলে মেয়েদের সব প্রসাধনী। এগুলো রিতুর কাজ। ঐ মেয়েটার জন্য রেখে গিয়েছে, অবশ্য ঐ তেজী মেয়েটা এসব ছুঁয়েও দেখবে না। সামিন একমনে সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তারপর পাঞ্জাবি পাল্টে ফ্রেশ হয়ে টি-শার্ট গায়ে চাপিয়ে বারান্দার দরজার কাছে যেতেই থ'ম'কে দাঁড়ায়। অদ্রিতা আলো নামের মেয়েটা বারান্দায় রেলিং ধরে ওদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। বারান্দায় একপাশে তার ভেজা শাড়িটা শুকাতে দিয়েছে। সম্ভবত এই মাত্র গোসল সেরেছে সে। ভেজা চুলগুলো পিঠে ছড়িয়ে রেখেছে। সামিন দীর্ঘসময় আলোর দিকে তাকিয়ে আছে। অদ্ভুত এক অনুভূতিতে তার মস্তিষ্ক আ'লো'ড়ি'ত হচ্ছে। যে রহস্য সামিন ইয়াসারের কাছে অমিমাংসিত।

তার অবচেতন মন যে হুট করে অদ্রিতা আলো নামের মেয়েটির প্রেমে পরে যেতে চাইলো তা ঘুনাক্ষরেও টের পেলো না পি'শা'চ সামিন ইয়াসার মির্জা।

ফোনের ভাইব্রেশনের শব্দে ফোনের দিকে তাকায় সে। স্ক্রিনে ফুয়াদের নাম্বার দেখে ফোনটা রিসিভ করে। তার দৃষ্টি এখনো আলোর পিঠের দিকে। ওপাশ থেকে ফুয়াদ বলে,"কি করছিস?"

ঘোরের মধ্যে বিড়বিড় করে সামিন বলে ওঠে,"লুকিয়ে লুকিয়ে নিজের বৌকে দেখছি।"

ফুয়াদ কিছু শুনতে না পেয়ে জোরে বলতে থাকে,"হ্যা হ্যালো! কি করছিস।"

সামিনের ঘোর কেটে যায়। গলা খাঁকারি দিয়ে ফুয়াদকে বলে,"কিছু না। বল। কি ব্যাপার।"

সামিনের কন্ঠস্বর শুনে আলো ঘুরে তাকায়।

_জামিলের জ্ঞান ফিরেছে। তুই হসপিটালে আয় তো।

ফুয়াদ ফোন কেটে দিলেও সামিন কানে ফোনটা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে আলোর দিকে তাকিয়ে। আলো সামিনকে দেখে কপাল কুঁচকে এগিয়ে আসে। সামিন টের পেলো ঐ মেয়েটা যত এগিয়ে আসছে তার অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। কেমন আলাদা এই অনুভূতি। এতো বছরের জীবনে কোনো মেয়েকে দেখে এতো অস্থিরতা কখনো কাজ করেনি তার ভেতরে। আলো সামিনকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। সামিন কিছুক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়ে থেকে কান থেকে ফোনটা নামায়। জামিলের কথা মনে পরতেই তাড়াহুড়ো করে টি-শার্ট বদলে একটা ব্লু-শার্ট চাপিয়ে বেড়িয়ে যায় ঘর থেকে।

***

"রাগ তো ইয়াসারের উপর দেখানো উচিত। রাগটা আমাদের উপর দেখাচ্ছিস কেনো?"

শমশের ভুঁইয়ার এমন কথায় সাগর তার বাবার দিকে তাকায়। টেবিলের ওপর সজোরে চা'প'ড় মে'রে বলে,"কতবার? কতবার ওর কাছে আমি হারবো বলতে পারেন আব্বা? কতবার? রাজনীতির মাঠে, নির্বাচনে, বিজনেসে। কতবার হারবো? সবকিছু আপনার জন্য হয়েছে। ওকে রাস্তা থেকে সরাতে পারবেন না আমার কাছে বলতেন‌। আমি ব্যাবস্থা নিতাম। এখন লাভটা কি হলো? ভালো লাগছে? ছেলের হেরে যাওয়া মুখ দেখতে ভালো লাগছে?

পাশ থেকে জায়েদ আলী বলে,"ইয়াসারকে মা'র'লে শহর গরম হয়ে যেতো বাবা তাই শমশের ভাই চেষ্টা করেছে অন্য চাল চালতে....."

সাগর হিংস্র বাঘের মতো জায়েদ আলীর দিকে তাকায়। তারপর হুংকার দিয়ে বলে,"চাল? ওর ওই ডান হাত জামিলের জ্ঞান ফিরলে পিঠে বস্তা বেঁধে তৈয়ার থাকুন আপনারা। আর আব্বা আপনাকে বলছি। ঘোষণা দিয়ে পদ থেকে সরে দাঁড়ান। আগামী পাঁচ বছর দল আমার বুদ্ধি নিয়ে চলবে ‌। ইয়াসারের খুব খারাপ অবস্থা করে ছাড়বো আমি।"

***

করিডোরে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। অনেকদিন পরে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। সামিন দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে লজ্জিত ভঙ্গিতে বলে,"আমি লেইট।"

_হু ভাই, আপনিই তো এখন লেইট থাকবেন। কারন এখন আপনার দিন।

তৌফের কথার মানে বুঝতে পারলো না সামিন‌। তার মস্তিষ্ক জামিলের জ্ঞান ফেরার খুশিতে উত্তেজিত হয়ে আছে। রাহাত তৌফকে খোঁচা মেরে চুপ করিয়ে দেয়। সবুজের দিকে ফিরে সামিন বলে,"কি বলেছে ডাক্তার?"

_জ্ঞান ফিরেছে। কথা বলতে পারছে না এখনো। সেরে উঠবে দ্রুতই। ভেতরে হেনা ভাবী।

কিছু সময় পরে হেনা বের হয়। সামিনের দিকে তাকিয়ে একটা শুকনো হাসি দিয়ে বলে,"কথা বলছে না ভাইয়া।"

_বলবে। অনেক ধৈর্য্য ধরেছো তুমি। আরেকটু ধরো।

সামিন জামিলের কেবিনে ঢোকে। সারা গায়ে ব্যা'ন্ডে'জ জামিলের। মুখে তখনো অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। জামিলের দিকে এগিয়ে যায় সামিন। জামিল পিটপিট করে তাকাচ্ছে।

সামিন বলে,"তোকে তো পুরো মিশরীয় মমিদের মতো লাগছেরে জামিল। চল তোকে পিরামিডের ভেতর রেখে দিয়ে আসি।"

জামিল তার ইয়াসার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। ঠোঁট দিয়ে না পারলেও চোখ দিয়ে হাসতে চাইলো যেন। ইয়াসার এগিয়ে জামিলের মাথায় হাত রাখে। নরম গলায় বলে,"আমার সব ঝামেলা নিজের মাথায় নিতি, এবার সব য'ন্ত্র'না নিজের শরীরে নিলি তুই ভাই।"

কিছুক্ষণ পরে আবারো বলে ওঠে,"আগের বার ডাক্তার ভুলভাল বলেছে। এবার বলছে তোর নাকি ছেলে হবে। মটরবাইক টা তো তুই পেয়ে গেলি রে জামিল।"

জামিল অপলক তাকিয়ে ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে। সামিন বলতে থাকে,"সুস্থ হ তুই। তোকে আমি আর দলে রাখবো না জামিল। তোকে সিমেন্টের ব্যাবসায় বসিয়ে দেবো আমার। বৌ বাচ্চা নিয়ে ভালো থাকবি। আর আমার ঝামেলা নিজের কাধে নিতে হবে না ভাই!"

***

ইশমামকে দেখে পরী উঠে যাবে বলে দাড়িয়ে যায়। ইশিতা হাতে টান দিয়ে পরীকে বসিয়ে দিয়ে বলে,"বারবার দাঁড়িয়ে যাচ্ছিস কেনো খেতে খেতে!"

পরী দ্বিধায় ভুগতে থাকে। ইশমাম ভাইয়া কেমন মানুষ কে জানে ! এভাবে কেয়ার টেকারের মেয়েকে নিজেদের খাবার টেবিলে দেখে রিয়েক্ট করতেই পারে। ইশিতাকে বিড়বিড় করে বলে,"আমার খাওয়া হয়ে গিয়েছে আপু।"

ইশমাম এসে টেবিলের ওপর থেকে পানির গ্লাস তুলে নিয়ে পানি খায়। ইশিতা বলে,"একে চিনেছিস? কে বলতো।"

ইশমাম পরীর দিকে একপলক তাকিয়ে বলে,"পরী। চিনেছি। পোনা চাচার মেয়ে।"

কথাটি বলে ইশমাম চলে যায়। পরী ফিসফিসিয়ে ইশিতাকে বলে,"তোমার এই ভাইয়ের কি কোনো অ'সু'খ আছে আপু? কোষ্ঠকাঠিন্য টাইপ?"

ইশিতা চোখ বড়বড় করে পরীর দিকে তাকিয়ে বলে,"না তো। কেনো বলতো।"

_না মানে মুখ টা কেমন করে রাখে। কেমন খি'চ মে'রে থাকে।

ইশিতা চাপা স্বরে হেসে ফেলে। পরী চুপচাপ খাচ্ছে। ইশিতা বলে,"হতেও পারে। ওকে প্রতিদিন সকালে এক বাটি পাকা পেঁপে খাইয়ে দেবো।"

ফুলির মা খাবার টেবিল থেকে সব পরিষ্কার করতে করতে বলে,"খোজ খবর রাইখেন ইশু আপা। আজকাল কত বিদেশি পার্টি কত ধান্ধা পার্টির খ'প্প'রে পরে। ইশমাম ভাইয়ার সাথে এমন কিছু হয়নাই তো!"

ইশিতা ফুলির মায়ের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়। ফুলির মা বিড়বিড় করে বলতে থাকে,"আমার এক ভাইস্তা ইতালি গেছিলো‌। বেশ ভালো টাকা পয়সা কামাইতেছিলো। হঠাৎ হের লগে এইদেশী এক মেয়ের ফেসবুকে পরিচয় হয়। ছবি না দেইখা,মেয়ের কন্ঠ শুইনাই পিরিতে মজে গেছিলো। টাকা পয়সা প্রচুর উড়াইছে মাইয়াটার পিছে। যখন যখন চাইতো তখন দিয়া দিতো। তারপর একদিন দেখে মাইয়াটার কোনো খোজ খবর নাই। এদিকে পোলা তো পাগল হয়ে দেশে চলে আসছে মেয়ের খোজ নিতে। আইসা বহু কষ্টে খোজ খবর নিয়ে দেখে......"

_কি দেখে? মেয়ের চেহারা ভালো না? বয়স বেশি?

পরী কথাটি জিজ্ঞেস ফুলির মায়ের দিকে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে। ফুলির মা বলে,"আরে না। তাইলে তো হতোই। গিয়া দেখে ওটা কোনো মেয়েই ছিলো না। ওটা একটা ব্যাটা ছেলে।"

পরী শব্দ করে হেসে ফেলে। ফুলির মা ইশিতার দিকে তাকিয়ে বলে,"খোজ নিয়া দেখেন আপা, ইশমাম ভাইয়ের সাথে এমনটা হয়নাই তো আবার? নয়তো হুট করে দেশে আইবো ক্যান।"

পরী হেসেই যাচ্ছে। ইশিতা কপাল কুঁচকে ফুলির মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,"তুমি তোমার কাজ করো। আর এভাবে শুদ্ধ আর আঞ্চলিক ভাষা মিশিয়ে কথা বলা বন্ধ করো‌‌ । ইশমাম শুনলে একটা ধ'ম'ক খাবে তুমি।"

***

ঘরে ঢুকে সোজা আলোর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে আলোর চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,"তোমার বাবা। কথা বলো।"

আলো সামিনের হাতের ফোনটার দিকে একবার তাকিয়ে সামিনের মুখের দিকে বোকার মত তাকিয়ে থাকে। সামিন আলোর ডান হাত টেনে তুলে হাতে তার ফোনটা রেখে হনহন করে চলে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় আলো কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। সে সামিনের যাওয়া দেখে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই চোখ দুটো ভিজে ওঠে। স্ক্রিনে তার বাবা আতাউর আলমের নাম্বার। ফোনটা কানে ধরে চুপ করে থাকে আলো। আতাউর আলম ওপাশ থেকে নরম গলায় ডাকে,"আম্মু!"

আলো একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে কান্নাভেজা কন্ঠে বলে,"আব্বু।"

রেহেনা এসে স্বামীর হাত থেকে ফোনটা কে'ড়ে নিয়ে কানে ধরে। চেঁচিয়ে বলতে থাকে,"মা। মা তুই কেমন আছিস মা।"

আলো চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে। নিজেকে সামলে নিয়ে কন্ঠ স্বাভাবিক রেখে বলে,"আমি খুব ভালো আছি আম্মু। তুমি কেমন আছো? কন্ঠ এমন লাগছে কেনো?"

_আমি ভালো নেই। একটুও ভালো নেই। তোকে ওরা মারধোর করে না তো মা?

_আমাকে কেউ কিছু করে না আম্মু। তুমি একটু ঠিক হও। তোমার বুকে ব্যাথা হবে তো।

_তুই সত্যি বল তুই কেমন আছিস।

_আমি ভালো আছি। আমাকে দেখবে? দেখবে তুমি?

আলো ফোন কেটে দিয়ে ভিডিও কল করে । রেহেনা ফোনটা রিসিভ করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে ভেজা চোখে। আলো কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,"এই দেখো। আমার গায়ের শাড়ীটা দেখো। কম করে হলে হাজার পাঁচেক দাম হবে, আমার গায়ের গয়না দেখো। এগুলো দেখেছো তুমি কখনো?"

সামিন ঘরে ঢুকে আলোকে কাঁ'দ'তে দেখে। রেহেনা ওদিকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁ'দ'ছে। আলো রেহেনাকে বলতে থাকে,"আমি খুব ভালো আছি আম্মু। আজান আয়াত কোথায়? কলেজ যায় তো? বাবাকে বলো নিয়ম করে ওষুধ নিতে। তুমিও তোমার ওষুধ গুলো নিও। দাদীকে দেখো। রাখছি আম্মু।"

হুট করে ফোনটা কেটে দিয়ে আলো বিছানায় বসে কাঁদতে থাকে। শরীর ভেঙ্গে কান্না আসছে তার। সামিন এক দৃষ্টে আলোকে দেখে তার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নেয়। আলো ভেজা চোখ তুলে সামিনের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,"শান্তি পেয়েছেন তো? অনেক শান্তি হচ্ছে তাই না আপনার মনে?"

_হ্যা হচ্ছে। জামিলের জ্ঞান ফিরেছে তাই শান্তি হচ্ছে।

আলো উঠে দাঁড়ায়।

"জ্ঞান ফিরেছে? বলেনি সত্যিটা? আমার বাবা যে কিছু করেইনি সেটা বলেনি?"

_কথা বলতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

_জানি কি বলবে। আমার বাবা নির্দোষ সেটাই বলবে। কেউ কাউকে মুখ ঢেকে কু'পি'য়ে তার পরিচয় কেনো দেবে ইয়াসার মির্জা? আমার বাবার নাম ভাঙানো হয়েছে সেটা বুঝতে পারছেন না? আপনি নাকি বিচক্ষণ! এতো টুকু বুঝতে পারলেন না বুদ্ধি খাটিয়ে? থানা পুলিশ করে বের করতেন সত্যি টা। তা করেন নি কেনো?

_এতো কথা আমি বলতে চাচ্ছি না। কথা ছিলো জামিলের জ্ঞান ফিরলে তোমাকে তোমার বাবা মায়ের সাথে কথা বলিয়ে দেবো। আমি আমার কথা রেখেছি।

_এতো কথা রাখেন আপনি? এতো ভালো মানুষ? তাহলে একটা কথা দিন আমায়। জামিলের মুখ থেকে যদি জানতে পারেন লোক গুলো আমার বাবার কেউ না বরং কোনো তৃতীয় পক্ষ ছিলো তাহলে আমাকে ছেড়ে দেবেন আপনি। কথা দিন, পারবেন? আছে দম?

সামিন কিছুক্ষণ আলোর দিকে তাকিয়ে থাকে চুপচাপ। তারপর ফোন নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

***

শান্তিনীড়ের দোতলার এই লাইব্রেরীটা এ বাড়িতে ইশমামের সবথেকে প্রিয় যায়গা। বলা যেতে পারে ইশমামের জীবনের বেশ অনেকটা সময় সে এই লাইব্রেরীতে ব্যায় করেছে। লাইব্রেরীর ভেতরে ঢুকলে একটা অদ্ভুত প্রশান্তিতে তার মন ছেয়ে যায়। পুরনো বইয়ের গন্ধ ইশমামের বরাবর খুব পছন্দের। আগে লাইব্রেরীতে বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গল্পের বই থাকলেও ইশিতার কল্যানে পুরো লাইব্রেরীটা হুমায়ূন আহমেদ এবং সমরেশ মজুমদারের উপন্যাসে ভর্তি হয়ে গিয়েছে।

লাইব্রেরীর সামনে দাঁড়িয়ে ইশমাম এদিক ওদিক তাকায়। ঘরটা খোলা কেনো! কিছুক্ষণ আগেও তো লক করে দিয়ে গিয়েছিলো। ভেতরে ঢুকে পুরো লাইব্রেরীতে চোখ বুলিয়ে ইশমাম তার প্রিয় শেলফের কাছে যায়। সেখান থেকে আরণ্যক উপন্যাস টা তুলে নেয়। এটা এখন সে নিজের ঘরে, বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে পড়বে। বই টা নিয়ে বের হয়ে দরজাটা লক করবে বলে হাত বাড়ায় সে।

"আটকাবেন না প্লিজ। আমি ভেতরে আছি।"

ইশমাম অবাক চোখে লাইব্রেরী ঘরের ভেতরে তাকিয়ে থাকে। নয় নাম্বার শেলফের পেছন থেকে মাথা বের করে উঁকি দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে পরী। ইশমাম চোখ বড়বড় করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে,"তুমি! তুমি এখানে কি করছো!"

পরীর ফরসা মুখটা লাল বানিয়ে লজ্জিত ভঙ্গিতে বলে,"বই নিতে এসেছিলাম। রাতে পড়বো বলে।"

_যখন লাইব্রেরীতে ঢুকলাম তখন সাড়াশব্দ করলে না কেনো? যদি আটকে রেখে চলে যেতাম?

পরী ইতস্তত করতে থাকে। ইশমাম প্রায় ধ'ম'কের সুরে প্রশ্নটি করেছে পরীকে।

কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে পরী জবাব দেয়,"ভেবেছি আপনি রেগে যাবেন আমাকে এখানে দেখলে। তাই চুপ করে ছিলাম।"

ইশমামের উত্তর টা পছন্দ হয় না। এটা কোন ধরনের অদ্ভুত আচরণ! রেগে যাবে ভেবে চোরের মতো লুকিয়ে থাকবে! এই মেয়ে নাকি আবার ডাক্তারি পড়ে!

ইশমাম গম্ভীর কন্ঠে বলে,"বই নিলে কেনো রাগ করবো? বই চুরি করলে রাগ করার কথা। তুমি তো আর বই চুরি করতে আসো নি।"

পরী চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ইশমাম এতক্ষণে মেয়েটিকে খেয়াল করে, অতিরিক্ত ফরসা, ঘন কালো চুল, বড় বড় দুটি চোখ। এক কথায় সুন্দরী তরুণী। চার বছর আগে দেখতে কিশোরী টাইপ ছিলো, তখন সম্ভবত ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়তো, মাথায় দুই লিটার তেল দিয়ে চুল দুই পাশে বেনী করে পোনা চাচার সাথে এ বাড়িতে আসতো।

ইশমাম গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,"তা ডাক্তারি পড়া মেয়ের হাতে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস কেনো? হুমায়ূন আহমেদের রোমান্টিক থিওরি দিয়ে রোগী সুস্থ করবে?"

পরী চুপ করে থাকে। ইশমাম গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,"এই বয়সটাতে বাংলাদেশী মেয়েরা হুমায়ূন আহমেদকে এড়িয়ে থাকতে পারে না। কি আশ্চর্য!"

কথাটি বলে পরীর দিকে একপলক তাকিয়ে থেকে বলে,"বই নেওয়া হয়ে গেলে দরজা লক করে যেও‌। আর যেটা যে স্থান থেকে তুলবে,সেটা সেখানে রেখে দেবে, বুঝেছো? আমি বই অগোছালো করে রাখা পছন্দ করি না।"

পরী মাথা নাড়ায়। ইশমাম চলে যেতেই একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করে বলে ওঠে,"রামগরুরের ছানা!"

***

বাড়ির সবাই সম্ভবত ঘুমিয়ে গিয়েছে। দোতলার লিভিং রুমের বাতি নিভিয়ে রাখা। আলো একবার দরজা খুলে দেখে ইশমামের ঘরে বাতি জ্বলছে। আলো সাথে সাথে ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। ঐ পি'শা'চ টা এখনো ফেরেনি। বিষয়টি আলোর কাছে খুব স্বস্তির। যতক্ষন দূরে থাকে এই বন্দীশালার ভেতরেও আলোর নিজেকে খানিকটা মুক্ত , স্বাধীন মনে হয়। কিছুক্ষণ বিছানায় বসে থেকে বারান্দায় চলে যায় সে। ইয়াসারের বাড়িতে কোনো এক অদ্ভুত কারনে এই খোলা বারান্দাটাকে আলোর পছন্দ হয়েছে। আলোদের বাড়িতে আলোর ঘরেও একটা খোলা বারান্দা রয়েছে। তবে সেটা এতোটা বড় নয়। এই বারান্দাটা বিভিন্ন দেশীয় ফুলের গাছে সজ্জিত। একপাশে কিছু ক্যাকটাসের টব। আলো ডানে তাকিয়ে দেখতে পায় তার শুকাতে দেয়া শাড়িটা এখনো বারান্দায় দড়িতে ঝুলছে। আলোর দাদী দেখতে পেলে এতক্ষনে আলোকে দশটা ধমক দিয়ে মাথায় গাট্টা মা'র'তো, বলতো,"মাইয়া মাইনষের গায়ের পোশাক রাইতে বাইরে রাখতে নাই। এইটাও ভুইলা যাস হতচ্ছাড়ি!"

আলো শাড়িটা তুলে নিয়ে ঘুরে দাড়াতেই থমকে যায়। বাড়ির পেছন দিক থেকে ধুপ-ধাপ শব্দ আসছে। মনে হচ্ছে মাটিতে গর্ত খোঁ'ড়া'র জন্য কোদাল চালানো হচ্ছে। শাড়িটা পুনরায় দড়িতে রেখে ধীরপায়ে হেটে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ায় সে। নিচু হয়ে তাকাতেই চ'ম'কে ওঠে। সামিন ইয়াসার মির্জা টর্চ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে পোনা চাচা বলে লোকটা। আরেকটা অচেনা লোক মাটি খুঁ'ড়'তে ব্যাস্ত। পাশেই একটা বস্তা,মুখ বন্ধ করে রাখা। গর্তটার দিকে তাকাতেই আলো হতভম্ব হয়ে যায় । এতো বড় গর্ত দিয়ে কি হবে! আর ঐ বস্তায় কি আছে! আলো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটা গভীর নিঃশ্বাস নেয়। তারপর দুমিনিট সময় নিয়ে কিছু একটা ভাবে। তার চোখ মুখ আ'ত'ঙ্কে ছেয়ে যায়। রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ে ঘরের সিটকিনি খুলে নিচে নামে। ফুলির মা আর সিতারা তখনো জেগে। আলোকে দেখে ফুলির মা চেঁচিয়ে ওঠে,"আরে বড় ভাবী! দৌড়ায়া কই যান‌।"

আলো দৌড়ে সদর দরজার দিকে যায়। সিতারা ঘা'ব'ড়ে গিয়ে বলে,"পালাচ্ছে নাকি!"

দরজা খুলে আলো সোজা বাড়ির পেছনের দিকটাতে যায়।

"কি করছেন এখানে আপনারা?"

আলোর কন্ঠস্বর শুনে সামিন ঘুরে তাকায়। তার চোখে মুখে হতভম্ব ভাব। পোনা চাচাও অবাক হয়ে যায়। আলো বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে ইয়াসারের দিকে তাকিয়ে। ইয়াসার কপাল কুঁচকে ফেলে, গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,"তুমি! তুমি এখানে এসেছো কেনো?"

_বস্তায় কি আছে?

তেজী কন্ঠে জানতে চায় আলো।

সামিন একবার বস্তার দিকে তাকিয়ে আলোর চোখের দিকে তাকায়, তারপর বলে,"তোমার কাজ কি জেনে? ভেতরে যাও আলো।"

_কার লা'শ বস্তায়? কোন মায়ের কোল খালি করেছেন আপনি?

কোদাল হাতে নিয়ে অচেনা লোকটা মুখ হা করে দাঁড়িয়ে আছে। পোনা চাচা মিনমিন করে বলে,"ভেতরে যাও বৌ মা। ইয়াসার বাবা রেগে যাচ্ছে।"

আলো পোনার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলে,"চাচা আপনিও? আপনাকে আমি সহজ সরল লোক ভেবেছিলাম। শেষমেশ আপনিও টাকার জন্য এই অ'মা'নু'ষ টার সাথ দিচ্ছেন?"

_বৌমা কি বলছো এসব তুমি!

সামিন পোনাকে থামিয়ে দিয়ে আলোকে বলে,"ভালোয় ভালোয় বলছি, ভেতরে যাও আলো। পাড়া প্রতিবেশী জেগে যাবে। এতো জোরে চেচিও না। সিনক্রিয়েট করো না।"

_জেগে যাক। সবাই দেখুক এখানে কি হচ্ছে। আপনার আসল রূপ টা দেখুক।

চেঁচামেচিতে এতক্ষনে বাড়ির সবাই এসে দাঁড়িয়েছে সেখানে। ইশমাম, ইলহাম,ইশিতা,রিতু, ফুলির মা,সিতারা, পরী,ইহান। সবাই এসেছে।

সামিন ইয়াসার দাঁতে দাঁত চেপে বলে,"অবাধ্য হয়ো না আলো আমার। তুমি ঘরে যাও।"

_বস্তায় কি আছে?

আলো ইয়াসারের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করে। সামিন ইয়াসার কয়েক মুহূর্ত আলোর দিকে তাকিয়ে থেকে পোনা চাচার দিকে তাকায়। পোনা চাচা গিয়ে বস্তার মুখ খুলে সবটা ঢেলে দেয় মাটিতে।

আলো হা হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে। বস্তায় শুকনো পাতা এবং কচুরিপানা ছিলো। আলো পোনার মুখের দিকে তাকায়। পোনা নিচু স্বরে বলে,"গাছের জন্য কম্পোস্ট বানানোর স্থান প্রস্তুত করছিলাম বৌমা! "

আলো মাথা ঘুরিয়ে চোখ তুলে ধীরে ধীরে সামিন ইয়াসারের দিকে তাকায়। সামিন ক'ট'ম'ট দৃষ্টি দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। রাগে তার হাত সে মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে।

আলো একটা ঢোক গিলে ফেলে, মনে মনে বলে ওঠে,"সিংহের নাকে সু'ড়'সু'ড়ি দিয়েছিস আলো। আজ তোর খবর আছে!"

ইশমাম আলোর দিকে তাকিয়ে সামিন কে বলে ওঠে,"কি হচ্ছে এখানে ভাইয়া? কোনো সমস্যা?"

সামিন ইশমামের কথার উত্তর না দিয়ে আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"বেশি বেশি করতে আমি নিষেধ করেছি আলো। ঘরে চলো। আজ তোমাকে এমন শি'ক্ষা দেবো তুমি আজীবন মনে রাখবে ফ'ট'কা চালাক মেয়ে!"

চলমান......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন