ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে

১৮তম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে

#পর্বসংখ্যা_১৮

#Esrat_Ety

দরজা লক করে সামিন আলোর দিকে তাকায়। তাকে দেখে আলোর হঠাৎ খুব ভ'য় হচ্ছে। এতোটা ক্ষে'পে যেতে ইয়াসারকে সে কখনো দেখেনি। আলো প্রথম দিন থেকে ইয়াসারকে যত অপমান করেছে, গায়ে থুতু মে'রে'ছে, গায়ে হা'ত তুলেছে,ইয়াসার কখনো মে'জা'জ দেখায়নি। ঠান্ডা মাথায় আলোকে বরদাস্ত করে গিয়েছে। কিন্তু আজ সামিন ইয়াসার যেন অন্য রূপ ধারণ করেছে। আলো একটা ঢোক গিলে ফেলে কন্ঠে তেজ ফিরিয়ে এনে বলে,"ভ'য় দেখাচ্ছেন? ভ'য় দেখাচ্ছেন আপনি আমাকে? শুনুন ইয়াসার মির্জা। আমি আপনাকে ভ'য় পাই না। আমার সাথে উলটো পাল্টা কিছু করতে এলে না! ঠ্যাং খোঁ'ড়া করে দেবো আপনার!"

ইয়াসার দাঁত কিড়মিড় করে আলোর দিকে এগিয়ে যায়,

"আচ্ছা! তাই নাকি?"

আলো ভয় পেয়ে গেলেও টান টান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ইয়াসার আরেকটু এগিয়ে গিয়ে আলোর হাতের কব্জি ধরে। দাঁত খিচিয়ে বলে,"বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছি না আলো? বেশি বোঝো তুমি? আজ তোমার এই হাল তোমার বেশি বোঝার কারনে তা কি তুমি জানো? কেন আমায় চ'ড় মেরেছিলে সেদিন?"

আলো ইয়াসারের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে গায়ের সমস্ত শক্তি খরচ করে। ইয়াসার তার দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপের হাসি হেসে বলে,"কই? তোমার অর্জন কোথায়? একটা স্টেপ দেখাও তো। দেখি কেমন কারাতে জানো তুমি!"

আলো দুমিনিট গ'লা'কা'টা মুরগির মতো ছটফট করে নিস্তেজ হয়ে পরে। নিষ্প্রাণ গলায় বলে,"রাত দশটার সময় মানুষ কম্পোস্ট বানাতে যায়? আমার যায়গায় অন্য কেউ হলে সেটাই ভাবতো, যেটা আমি ভেবে ফেলেছি!"

_সেজন্য আমাকে খু'নী বানিয়ে দেবে?

_কেন? ভুল বললাম কোথায়? আমার ভাইদের মে'রে বড় বাজারের ব্রিজের নিচে কচুরিপানার মধ্যে কিংবা মিউনিসিপ্যালিটির ড্রেনে ফে'লে দিয়ে আসবেন। বলেন নি এমন কথা?

সামিন থতমত খেয়ে যায়। কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে মিনমিন করে বলে,"ভ'য় দেখিয়েছি শুধু। করতাম না কিছু। খু'ন খারাবি কখনো করিনি।"

_রাত দশটার সময় কম্পোস্ট কে বানাবে পাগল ছাড়া?

_আমি রাত তিনটার সময় বানাবো। তাতে তোমার কি গোয়েন্দা বাপের গোয়েন্দা কন্যা?

কন্ঠে তেজ নিয়ে বলে উঠল সামিন।

আলো সামিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। সামিন আবারো আগের মূর্তি ধারণ করে বলে,"আর যদি কখনো দেখি আমি বেশি লম্ফ ঝম্প করেছো তাহলে খুব খারাপ হয়ে যাবে আলো‌। আজ কিছু বললাম না। চেয়েছিলাম শাস্তি দিতে। দিলাম না। মেয়ে মানুষ। দুর্বল প্রজাতি তাই।"

_কি করতেন? গায়ের জো'র দেখাতেন? আপনার মতো কা'পু'রু'ষে'রা আর কিই বা পারে। সব পারিবারিক শিক্ষা। নিজের মা চাচীকে দেখেছেন আজীবন বাবা চাচার পায়ের তলায় পি'ষ্ট হতে। সেটাই শিখেছেন‌। আপনার মতো পুরুষেরা ঐ তথাকথিত পুরুষধর্মের অনুসারী,পূ'জা'রী!

_আচ্ছা! আর তোমার বাবা কি করতো? তোমার মাকে মাথায় উঠিয়ে নাচতো সারাদিন?

ঠান্ডা গলায় বলে ইয়াসার। আলো কিছুক্ষণ চুপ করে ইয়াসারের চোখে চোখ রেখে বলে,"আমার বাবাকে দেখেছি সারাজীবন আমার মাকে বু'কে রেখেছে। না মাথায়,না পায়ের তলায়। একজন স্ত্রীর স্থান তার স্বামীর বুকে!"

আলোর এই একটা কথায় কি ছিল সামিন জানে না। কিন্তু এই কথাটিতে সামিন থ'ম'কে গিয়েছিলো। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের সমীকরণের পাঠের হাতেখড়ি হলো সামিনের, সেটা টের পেলো না কেউই।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। আলো বলতে থাকে,"অবশ্য আপনি এসব বুঝবেন কি করে? আপনার বাবা আপনার সামনে কখনো আপনার মাকে বলেছে "ভালোবাসি?"

সামিন রোবটের মতো মাথা নাড়িয়ে "না" বলে। যেন সে আলোর হাতের চাবি দেয়া পুতুল হয়ে গিয়েছে। আলো বলে,"কিন্তু অসংখ্য বার আপনার সামনেই আপনার মাকে ধ'ম'কে'ছে। তাই তো? সেজন্যই তো শুধু শিখেছেন স্ত্রী ধ'ম'কে'র জিনিস,তুচ্ছ।"

কিছুক্ষণ চুপ করে আলোর দিকে তাকিয়ে সামিন হঠাৎ করে নরম গলায় বলে ওঠে,"বেশী চেঁচিয়ে কথা বলবে না আর। পাড়া প্রতিবেশী ভয়ংকর লেভেলের কু'চু'টে। উল্টো পাল্টা কথা বানাতে ছাড়বে না। আমি সেটা বরদাস্ত করবো না। অনেক রাত হয়েছে। শুয়ে পরো। আমি কোনো জোর খাটাবো না। দুর্বল জাতি তোমরা। জোর খাটানোর প্রয়োজনও নেই। আজ যে শাস্তি তোমায় দিতে চেয়েছিলাম সেটা হলো তোমার মুখে স্কচ টেপ লাগিয়ে রাখতাম। "

***

"স্যার ম্যাম এসেছে।"

ইলহাম চোখ তুলে তার পিএ সিফাতের দিকে তাকায়। তারপর হাতের ফাইলটা দেখতে দেখতে বলে,"ইহান এসেছে সাথে? পাঠিয়ে দাও।"

সিফাত বলে,"না না স্যার। আপনার বৌ ম্যাডাম না। জুঁই ম্যাডাম!"

ইলহাম হাতের ফাইলটা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যায়। জুই কেবিনের পর্দা সরিয়ে ভেতরে ঢোকে। সিফাত চলে যায়। ইলহাম জুই এর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে, বেগুনী রঙের পাতলা জরজেটের শাড়ি,বড় গলার ব্লাউজ। ঠোঁটে কড়া করে লিপস্টিক। ইলহাম গম্ভীর কন্ঠে বলে,"এভাবে সেজে অফিসে এসেছো কেনো?"

জুই একটা অনর্থক হাসি হেসে ইলহামের সামনের চেয়ারে বসতে বসতে বলে,"প্লিজ ইলহাম। এসব তোমার ঐ হার হাবাতে বৌয়ের সাথে করো। আমার সাথে নয়। আমি একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওম্যান। আমার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সাজবো।"

ইলহাম হেসে গদগদ হয়ে বলে,"ওকে ওকে! রাগ করো না। আসলে তোমার এই সৌন্দর্য অন্য কেউ দেখলে আমার হিংসা হয়। কেনো বোঝো না এটা?"

জুই ইলহামের দিকে সামান্য ঝুঁকে বলে,"এসব কথায় আর চিড়ে ভিজবে না ইলহাম। আসল কথা বলো! বিয়েটা কবে করছো আমায়? কেনো তোমার ঐ বৌকে ঘার ধরে বের করে দিচ্ছো না! তোমার বড় ভাইকে কেনো এতো ভয় পাচ্ছো?"

ইলহাম একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলে,"ভাইয়াকে ভয় পাচ্ছি না জুই। ইহানের কথা ভাবছি। মা ছাড়া কিছুই বোঝে না ও। আরেকটু বড় হোক, তারপর না হয়...."

জুই ইলহামের কথা শুনেই কপাল কুঁচকে ফেলে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,"আর এক বছর সময় দিলাম। তারপর যদি ওকে না তাড়িয়ে দাও না,তাহলে আমাকে তুমি হারিয়ে ফেলবে ইলহাম।"

"ভাবী।"

ইশিতার ডাকে রিতু শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে ব্যাস্ত হয়ে পরে। ইশিতা এসে রিতুর কাঁধে হাত রেখে চিন্তিত হয়ে বলে,"কাঁ'দ'ছো কেন? ভাইয়ার সাথে কিছু হয়েছে?"

রিতু কান্নাভেজা কন্ঠে বলে,"ঐ মেয়েটা আবার তোমার ভাইয়ের অফিসে এসেছে আপু।"

ইশিতা রেগে গিয়ে বলে,"আমি বারবার বলি,চলো বড় ভাইয়াকে বলি। চলো। তুমি কেনো আমার কথা শুনছো না?"

_ভাইয়া ওনাকে শাস্তি হিসেবে ব্যাবসা থেকে দূর করে দেবে আপু। আমি ওনার ভোগান্তি চাচ্ছি না।

"তাহলে মরো তুমি। মরে যাও।"

আলোর কন্ঠ শুনে রিতু আর ইশিতা চ'ম'কে ওঠে‌। আলো তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। রিতু চোখ মুছে ওদিকে মাথা ঘুরিয়ে নেয়।

আলো কন্ঠে বিদ্রুপ মিশিয়ে বলে,"এই যে তুমি। এদিকে তাকাও। এই বাড়ির লক্ষী মেজো বৌমা। তাকাও বলছি।"

রিতু ধীরে ধীরে তাকায় আলোর দিকে। আলো বলে,"তুমি একটা জড়বস্তু। একটা অবজেক্ট তুমি। তোমার মরে যাওয়া উচিত।"

ইশিতা আলোকে বলে,"এভাবে কথা বলবে না আলো। ভাবী এমনিতেই কষ্ট পাচ্ছে।"

আলো ইশিতা কে উপেক্ষা করে বলে,"কেনো ওকে লা'ত্থি মেরে চলে যাচ্ছো না এখনো? তোমাকে কি আমার মতো জিম্মি করে রেখেছে? রাখেনি । তাহলে কেনো একটা চরিত্রহীনের মায়ায় আঁটকে আছো। কবুল বলেছো বলে? ওর বাচ্চা পেটে ধরেছো বলে?"

_হ্যা তাই। তাই।

ডুকরে কেঁদে ওঠে রিতু। আলো কন্ঠে তেজ নিয়ে বলে,"তোমাদের মতো অবজেক্ট দের মরে যাওয়াই উচিত।"

রিতু কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়। ইশিতা তার পিছু পিছু ছুটে যায়।

আলো দাঁড়িয়ে আছে। ইশমাম পেছন থেকে বলে,"এখানে কি নারী মুক্তির আন্দোলন চলছে?"

আলো ঘুরে পেছনে তাকিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। ইশমাম আলোর দিকে এগিয়ে যায়। নিচু স্বরে বলে,"তোমাকে যত দেখছি তত অবাক হচ্ছি অদ্রিতা। বেগম রোকেয়ার থেকে কোনো অংশে কম না তুমি।"

_আর আমি তোমাকে যত দেখছি তত আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। রিতুর চেয়েও বড় জড়বস্তু তুমি। একটা ক্রি'মি'না'ল ভাইয়ের হনুমান তুমি।

ইশমাম চুপ করে আলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। আলো দ্রুত পায়ে হেঁটে সামিনের ঘরে চলে যায়। ইশমাম ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। মনে মনে বলে ওঠে,"বারবার বলেছি, এসবে জরিও না,জরিও না। কিন্তু না। তোমার তো সাহসীকতা দেখাতে হবে। তোমার আর ভাইয়ার সংঘাতে আমার অনূভুতিকে জলাঞ্জলি দিতে হলো অদ্রিতা!"

****

গাড়ি থেকে নেমে ইমতিয়াজ মির্জা শান্তিনীড়ের অন্দর মহলে প্রবেশ করে। রিয়াজ গাড়ি থেকে তার ব্যাগ নামিয়ে লিভিং রুমে রেখে চলে যায়। গায়ের ব্লেজার খুলে একটা ডিভানের উপর রেখে ইহানকে ডাকতে থাকে। রান্নাঘর থেকে রিতু বের হয়ে অবাক চোখে তাকায়,"বাবা আপনি! আপনার তো সামনের সপ্তাহে আসার কথা ছিলো।"

_ছিলো। কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে তাই আর বসে থেকে কি করতাম। ইহান দাদুর কথা খুব মনে পরছিলো। সে কোথায়?

_তার ফুপির কাছে।

রিতু আমতা আমতা করে জবাব দেয়। সে আসলে চিন্তায় পরে গিয়েছে, সামিন ইয়াসার বাড়িতে নেই। এই অবস্থায় তার শশুর যদি আলোকে দেখে তাহলে রিতু কি বলবে!

সিঁড়ি বেয়ে ইশমাম নিচে নেমে দাঁড়িয়ে পরে। ইমতিয়াজ মির্জা উঠে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ইশমামের দিকে। ইশমাম কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে বলে,"কেমন আছেন বাবা!"

_ভালো। তুমি হঠাৎ? কি মনে করে? আমি তো ভেবেছিলাম একেবারে আমার জানাযায় এসে উপস্থিত হবে!

ইশমাম এগিয়ে গিয়ে বাবার সাথে সৌজন্যমূলক কোলাকুলি করে নিচু স্বরে বলে,"কাজ ছিলো কিছু।"

_ও আচ্ছা আচ্ছা। আমাদের জন্য আসোনি তাহলে।

ইশমাম কিছু বলে না। ইমতিয়াজ স্বাভাবিক গলায় বলে,"এসেছো যখন,নিজের ভাগ টা বুঝে নিও আর তার সাথে নিজের দায়িত্বটাও।"

সিঁড়ি বেয়ে আলো নিচে নেমে আসে। রিতু মাথায় হাত দিয়ে বিড়বিড় করে বলে,"এর ও ঠিক এই মুহূর্তে নিচে নামার ছিলো! ইয়া মাবুদ! আমি এখন কি করবো!"

ইমতিয়াজ মির্জা অবাক হয়ে আলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আলো '

নেমে দাঁড়িয়ে পরে লিভিং রুমে। রিতু একবার আলো আর একবার ইমতিয়াজ মির্জার দিকে তাকায়। ইমতিয়াজ মির্জা আলোর দিকে তাকিয়ে ধ'ম'কে ওঠে,"এই মেয়ে! এখানে কি তোমার?"

"ও এখন এ বাড়ির লোক বাবা। তোমার বড় ছেলের বৌ।"

সামিন ইয়াসারের কন্ঠ শুনে ইমতিয়াজ মির্জা সদর দরজার দিকে তাকায়। চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে ফেলে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে সামিন। এয়ারপোর্টে নেমেই ইমতিয়াজ বড় ছেলেকে ফোন করেছিলো। সামিন তাই ছুটে এসেছে যাতে আলোকে নিয়ে কোনো ঝামেলা তৈরি না হয়।

_বড় ছেলের বৌ মানে?

হতভম্ব হয়ে যায় ইমতিয়াজ মির্জা। সামিন বলে,"মানে আমার বৌ। ওকে আমি বিয়ে করেছি।"

আলো সামিন ইয়াসারের দিকে তাকিয়ে তার বাবার দিকে তাকায়। সে মনে মনে খুব চাচ্ছে এখন বাবা ছেলেতে যুদ্ধ লেগে যাক।

ইমতিয়াজ মির্জা ছেলের দিকে হা হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে,"তুমি কি আমার সাথে মজা করছো ?"

_তোমার সাথে মজা করতে আমি আতাউর আলমের মেয়েকে বাড়িতে এনে শাড়ি, চুড়ি পরিয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে রাখবো বাবা?

_কোন সাহসে তুমি এই কাজটা করলে! তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো? শেষে ওই আতাউর আলমের মেয়েকে? যে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করেছিলো? এই মেয়েটা তোমাকে চ'ড় মেরেছিলো ভরা জনসভায় সেটা ভুলে গেলে?

সামিন বাবার কথার উত্তর না দিয়ে আলোর দিকে তাকায়। তারপর বলে,"তোমার শশুর। সালাম দাও।"

আলো একবার সামিন, একবার ইমতিয়াজকে দেখে হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায়। সামিন কোনো এক অজানা কারনে হেসে ফেলে। সে আসলে আগে থেকেই জানতো আলো ঠিক এই কাজটাই করবে। ইমতিয়াজ মির্জা বলে,"কী ঔদ্ধত্য এই মেয়ের। এটা তুই কি করলি বেটা! তাও আমাকে না জানিয়ে! গদি ছেড়েছি দেখে দাম দিচ্ছিস না দেখছি! কেনো করেছিস ওই মেয়েকে বিয়ে তুই! বল!"

_ভালো লেগেছিলো।

সামিন বাবাকে আসল কথাটা বলে না। ইশমাম ভাইয়ের কথা শুনে ভাইয়ের মুখের দিকে তাকায়। সামিন বলতে থাকে,"মেয়েটা একটু আলাদা তাই ভালো লেগেছিলো। আমি সংসার করতে পারলে তোমার অসুবিধে হবার কথা না বাবা! আমি যে বিয়ে করি সেটা তো তুমিও চাইতে!"

_তাই বলে আতাউরের মেয়েকে?

সামিন এক রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে,"হ্যা। আতাউরের মেয়ে অদ্রিতা আলোকে।"

***

বাসার পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে হয়ে আছে। ইমতিয়াজ মির্জা ছেলের ওপর প্রচণ্ড অভিমান করে নিজের ঘরে বসে আছেন। ইহানকে ছাড়া কাউকে সে ঘরের ভেতর ঢুকতে দিচ্ছে না। সামিন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে খাওয়া দাওয়া করে দোতলায় উঠে গিয়েছে। যেন কিছুই হয়নি।

দোতলা থেকে পরী তার ব্যাগ গুছিয়ে নেমে ডাইনিং রুমে ইশিতার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ইশমামের দিকে এক পলক তাকিয়ে ইশিতাকে বলে,"আসছি আপু।"

_আবার সামনের সপ্তাহে আসবি। বারবার ফোন দিতে আমার ভালো লাগে না।

পরী মাথা নাড়ায় ঠিকই কিন্তু মনে মনে বলে,"তোমার এই রামগরুরের ছানা ভাইটা যতদিন এখানে আছে আমি এ পথে

আসছি না।"

পরী চলে গেলে ইশমাম বলে,"মেয়েটার কি কোনো সমস্যা আছে?"

_কেনো বলতো?

_কেমন এবনরমাল। হাঁটাচলা করে অদ্ভুত ভাবে। সামান্য কথা বললেই লাফিয়ে ওঠে। অতিরিক্ত ন্যাকা মনে হয় না তোর? ও কি পোনা চাচার প্রিম্যাচিওর বেবি ছিলো?

ইশিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। গম্ভীর কন্ঠে ইশমামকে বলে,"বিদেশে থেকে থেকে ক্ষ্যা'পা মেয়েদের দেখে দেখে পরীর মতো মিষ্টি,নম্র ভদ্র মেয়েকে ন্যাকা লাগবেই। স্বাভাবিক।"

ইশমাম ইশিতার দিকে তাকিয়ে বলে,"তুই এতো ক্ষে'পে যাচ্ছিস কেনো? আচ্ছা ন্যাকা শব্দটা আমি ফিরিয়ে নিলাম। পরী হচ্ছে খাঁটি বাঙালি নারী। হয়েছে?"

ইশিতা কোনো কথা বলে না, নাক চোখ কুঁচকে খেতে থাকে। এ বাড়ির একটা ছেলেও একটু ভদ্র স'ভ্য হলো না। এটাই তার আফসোস!

***

সামিন খেয়াল করেছে সকাল থেকে আলোর মুখটা অস্বাভাবিক অন্ধকার হয়ে আছে। খেতে পর্যন্ত যায়নি নিচে। পাত্তা না দিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকে জামা বদলে বেরিয়ে আসে সে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে গায়ে পারফিউম মাখতে মাখতে আবারো আলোর দিকে তাকায়। আলো মাথা নিচু করে বিছানায় বসে আছে। গাড়ির চাবি আর সানগ্লাস নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সামিন। আলো দৃষ্টি ঘুরিয়ে দরজার দিকে চায়।

ইহানকে স্কুলের জন্য বিদায় জানতে পোর্চের নিচে এসে দাঁড়ায় রিতু। পোনা চাচা ইহানকে স্কুলে আনা নেওয়া করে। রিতুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সামিন বলে,"একটা কাজ করে দেবে রিতু?"

_কি কাজ ভাইয়া?

অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রিতু।

"ভাবী আসবো!"

রিতুর কন্ঠস্বর শুনে আলো নড়েচড়ে বসে। গম্ভীর কন্ঠে বলে,"এটা আমার ঘর না। এতো পারমিশন নেওয়ার কিছু নেই।"

রিতু ভেতরে ঢোকে। আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"কাঁদছিলেন নাকি ভাবী!"

_কিছু বলার থাকলে বলে বিদায় হও এ বাড়ির লক্ষী মেজো বৌমা।

রিতু এগিয়ে গিয়ে বিছানার একপাশে বসে। আলোর চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,"আপনি কি কোনো কারনে কষ্টে আছেন?"

আলো রিতুর দিকে তাকিয়ে বলে,"জোর করে তুলে এনে বিয়ে করেছে তোমার ভাসুর। প্রতিটা দিন কতটা মানসিক যন্ত্রনার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমি,আর তুমি আমাকে এই প্রশ্ন করছো?। না। আমি আনন্দে আছি। এতো আনন্দে আছি যে আনন্দে তোমাদের সবাইকে খু'ন করতে ইচ্ছে হচ্ছে!"

রিতু বলে,"ঠিক সেটা না ভাবী। বলতে চাইছি শারীরিক কোনো সমস্যা? ডাক্তার ডাকবো কি না!"

আলো চুপ করে বসে থাকে। রিতু বলতে থাকে,"শারীরিক সমস্যার কথা আমার সাথে শেয়ার করতে পারেন ভাবী। আমি তো আপনার বোনের মতোই।"

কয়েক মুহূর্ত পরে আলো বলে ওঠে,"ভাই দুটোর আজ জন্মদিন। প্রত্যেক বছর এই দিনে আমি কত কিছু করি ওদের নিয়ে। আজ দেখো, মুখটাও দেখতে পারছি না আমি আমার ভাইদের।"

এতটুকু বলে আলো থেমে যায়। কাদের এসব বলছে সে? এদের বলে কি লাভ! কোনো লাভ নেই! কোনো লাভ নেই!

***

আজ বৌবাজার এলাকার ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে মিটিং বসেছে। শহরের নবনির্বাচিত মেয়র সামিন ইয়াসার মির্জা কাগজপত্র ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে। পাশ থেকে চা দিতে আসা পঞ্চাশোর্ধ এক মুরব্বি সালাম দিয়ে বলে,"ভালো আছেন মির্জা সাহেব?"

সামিন কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে লোকটাকে দেখে। চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে ফেলে বলে,"ওয়ালাইকুমুস সালাম। আমি ভালো আছি। আপনি?"

_আল্লাহ যেরকম রেখেছে। আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।

সামিন কাগজ গুলো একজন প্ল্যানিং অফিসারের হাতে দিতে দিতে বলে,"আপনি আমাকে আপনি আপনি করে বলছেন কেনো চাচা? আমি তো আপনার ছেলের বয়সী!"

লোকটা খুশি হয় সামিনের কথায়, কিন্তু বলে,"তুমি কত বড় একজন মানুষ। নগরপিতা আমাদের।"

সামিন ভ্রু কুঁচকে ফেলে, তারপর শুকনো একটা হাসি দিয়ে বলে,"আমি শুধু সেবক চাচা। এসব কথা বলবেন না। এগুলো বলা ঠিক না।"

রাহাত কোথা থেকে এসে সামিনকে বলে,"ভাই সাইডে চলেন একটু কথা আছে।"

সামিন অবাক হয়ে রাস্তার পাশে গিয়ে বলে,"কি?"

_লিজের কাগজ নিয়ে ঝামেলা করছে ভুঁইয়ার দল। লিজের মেয়াদ শেষ কিন্তু দখল ছাড়ছে না।

সামিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,"যাস্ট ক'টা দিন অপেক্ষা কর। ওদের ইচ্ছে মতো উড়তে দে। আমি দেখবো বিষয় টা।"

রনি এসে বলে,"ভাই কি কাজ বলেন। কি করতে হবে?"

_একটু বয়েজ কলেজে যা।

রনি হা হয়ে সামিনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর রাগ দেখিয়ে বলে,"ভাই এর জন্য কিন্তু আমাকে আলাদা বেতন দিতে হবে বলে দিলাম। আপনার ঐ দু'দু'ভা'তু শ্যালক দু'টোকে দেখভাল করা চাট্টিখানি কথা না।"

সামিন রনির কথায় হেসে ফেলে।

***

ফুলির মা একবার আলোর দিকে তাকিয়ে আবারো নিজের কাজে মন দেয়। তারপর কিছুক্ষণ যেতেই বলে ওঠে,"বিয়ের সময় ফুলির বাপটারেও আমার পছন্দ ছিলো না ভাবী। বাপ মা এক প্রকার জোর করে বিয়ে দিছিলো। প্রথম প্রথম আমিও আপনার মতো স্বামীরে কাছে ঘেঁ'ষ'তে দিতাম না। পরে কেমনে কেমনে জানি মায়ায় পইরা গেলাম মানুষটার। আপনিও পরবেন,দেইখেন। ভাইজান আমার লাখে এক।"

আলো চোখ রাঙিয়ে ফুলির মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,"ঘর ঝাঁড় দেওয়া হয়ে গিয়েছে? এবার যাও।"

ফুলির মা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আপন মনে বিড়বিড় করে বলতে থাকে,"এই শহরের কত বড় বড় লোক তাদের মেয়ে বড় ভাইজানের কাছে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠাইতো , আমাদের বড় ভাইজানরে হেলাফেলা ভাবনের দরকার নাই।"

আলো উঠে দাঁড়িয়ে ফুলির মাকে একটা কঠিন কথা বলতে যাবে অমনি নিচতলা থেকে কেউ ডেকে ওঠে,"আপু।"

আলো থ'ম'কে যায়। একপলক ফুলির মায়ের দিকে তাকায়। ফুলির মা কিছু বুঝতে পারছে না। নিচে কেউ আবারো ডেকে ওঠে,"আপু‌।"

আলো কয়েক মুহূর্ত থম মেরে দাঁড়িয়ে থেকে ছুটে ঘর থেকে বের হয়। না,সে ভুল শোনেনি। আজান আয়াতই ডাকছে তাকে। কিছু ভুল শোনেনি সে। দৌড়ে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতে থাকে আলো, মাঝ খানে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পরে নিচে তাকায়। আজান আয়াত লিভিং রুমে দাড়িয়ে আছে । আলো ছুটতে ছুটতে নিচে নামতে থাকে। সামিন ইয়াসার সিঁড়ির কাছটাতে দাঁড়িয়ে আছে। আলো দ্রুতপায়ে নামতে গিয়ে হোঁ'চ'ট খেয়ে পরে যাচ্ছিল, সামিন তাকে ধরে ফেলে। আলো বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে। একপলক সামিন ইয়াসারের দিকে তাকিয়ে সে কপাল কুঁচকে ফেলে ইয়াসারের হাত সরিয়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। আজান আয়াত বোনের দিকে ছুটে আসে। দুহাতে নিজের ভাই দুটোকে আগলে নিয়ে আলো চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে। কয়েক মূহুর্ত তিন ভাইবোন চুপ করে থাকে। সামিন ওদের দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকে ওদেরকে।

নীরবতা ভেঙে আলো বলে ওঠে,"তোরা? তোরা এখানে কিভাবে!"

আজান আয়াত চুপ করে সামিনের দিকে ভীত চোখে তাকায়। এর মধ্যে একটা লোক এসে বেশ বড় সাইজের একটা বক্স রেখে চলে যায়। আলো আজান আয়াতের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামিনের দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে ফেলে। তারপর আজান আয়াতের দিকে ঘুরে বলে,"কি করেছে ঐ লোকটা তোদের সাথে? মে'রে'ছে তোদের? ভয় দেখিয়েছে? কি করেছে বল!"

আজান আয়াত কিছু বলার আগেই সামিন ঠান্ডা গলায় জবাব দেয়,"ওসব কিছু করিনি। শুধু কলেজের সামনে থেকে ধরে এনেছি।"

আলো হতভম্ব হয়ে সামিনের দিকে ফিরে তাকায়। রাগী গলায় বলে,"ধরে এনেছেন মানে? কেনো ধরে এনেছেন? গু'ন্ডা কোথাকার! ক্রিমিনাল।"

সামিন আলোর দিকে তাকিয়ে বলে," যা বাবা, সকাল থেকে তো ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদছিলে ভাইদের দেখতে পারছো না বলে। এনে উপকার করলাম তাতেও আমি গু'ন্ডা? ইয়ে তো না ইনসাফি হে!"

আলো সামিনের দিকে তে'ড়ে যায়,"সেজন্য ওদের তুলে আনবেন? সব কিছু গায়ের জোরে করবেন? ক্ষমতার জোরে?"

_তুলে আনিনি। কলেজের গেইটের কাছে আমার লোক দাঁড়িয়ে ছিলো। ওরা বের হতেই ওদেরকে জিজ্ঞেস করা হয় ওরা তোমাকে দেখতে চায় কিনা। ওরা হ্যা বলেছে তারপর নিয়ে এসেছে ওদের‌। জিজ্ঞেস করো। ওদেরকে জিজ্ঞেস করো।"

আলো আজান আয়াতের দিকে তাকায়। আয়াত বলে,"খুব দেখতে ইচ্ছা করছিলো তোমাকে আপু।"

আলো ভাইয়ের গায়ে দুমদাম কি'ল ঘু'ষি মারতে মারতে বলে,"সেজন্য গু'ন্ডাদের সাথে চলে আসবি? তোদের বুদ্ধি হবে না? ওরা কি করেছিলো মনে নেই? যদি তোদের মে'রে দিতো? যদি ই'য়া'বা ভরে দিতো ব্যাগে? জানিস না ওরা কত ভয়ংকর। জানিস না?"

সামিন আলোকে কয়েক মুহূর্ত দেখে কন্ঠস্বর গম্ভীর করে বলে ওঠে,"ব্যস! নাটক হয়েছে অনেক। এসব এখন বন্ধ। ভাইদের নিয়ে কেক কাটো আর হ্যাপি বার্থডে খতম করো। ওদেরকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবো নয়তো তোমার বাবা স্ট্রো'ক করবে।"

সামিন বক্স খুলে একটা বিশাল সাইজের কেক বের করে একটা টেবিলের ওপর রাখে। একে একে বাড়ির সবাই লিভিং রুমে চলে এসে ওদের দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। সামিন আলোর হাতে ক্যান্ডেল ধরিয়ে দিয়ে বলে,"নাও এটা।"

আলো সামিনের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর হাতের ক্যান্ডেল টা ছুড়ে ফেলে দেয় সে। আজান এসে আলোর হাত ধরে, নরম গলায় বলে,"থাক না আপু‌ । চলো কেক কাটি। এমন সুযোগ যদি আর কখনো না পাই?"

আলো ভাইয়ের শুকনো মুখটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিয়ে বলে,"চল।"

তিন ভাইবোন মিলে কেক কা'ট'ছে। সামিন একদৃষ্টে সেদিকে তাকিয়ে আছে। ভাইদের কেক খাইয়ে দিয়ে তাদের কপালে গভীর চুম্বন এঁকে দেয় আলো। চোখ ছলছল করছে তার। ঠোঁট কাঁপছে।

কিছুক্ষণ সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর নীরবতা ভেঙে আলো সামিনের দিকে কঠিন দৃষ্টি দিয়ে তাকায়। কন্ঠে ঝাঁঝ নিয়ে বলে ওঠে,"ওদেরকে সেইফলি বাড়ি পৌঁছে দেবেন। ভদ্রতার সাথে। আর কোনো গু'ন্ডা'মি নয় ইয়াসার মির্জা!"

***

রাতের খাবার খেতে আলো নিচে যায়নি। সিতারা সামিনের কথায় আলোর ঘরে দিয়ে গিয়েছে খাবার। খাবার টেবিলে ইমতিয়াজ মির্জা খেতে বসেছেন ছেলেদের নিয়ে‌। খেতে খেতে বড় ছেলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,"চাচ্ছো কি আসলে তুমি? এত বড় একটা অঘটন ঘটিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছো না! শত্রুর মেয়ের সাথে আর যাই হোক সংসার হয় না, এতটুকু বোঝার ক্ষমতা নেই তোমার?"

সামিন চুপচাপ খাচ্ছে। বাবার কথার উত্তর দিতে ইচ্ছুক নয় সে। ইমতিয়াজ নিজের ছেলের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে

হাত ধুয়ে উঠে পরে। এখন বলে তো লাভ নেই। এসব তো তারই ভুল। নিজের হাতে ছেলে গুলোকে জেদী আর বেপরোয়া তৈরি করেছে। এখন কার কাছে অভিযোগ জানাবে সে!

অন্ধকারের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আলো চোখ দিয়ে দুফোঁটা অশ্রু ঝরায়। কিছু সময় ভাইদের কাছে পেয়েছিলো সে, তাতে কি আর মন ভরে! মনটা কেমন অশান্ত হয়ে আছে। ইচ্ছে করছে ঐ লোকটাকে খু'ন করে এখান থেকে পালিয়ে যেতে। হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে নেয় আলো। করবে না, কখনোই ক্ষ'মা করবে না ঐ পি'শা'চ টাকে সে। কখনোই না।

কিছুসময় যেতেই আলোর কেমন অদ্ভুত ঠেকে, শুকনো পাতার মচমচ শব্দ হচ্ছে। মাথা ঘুরিয়ে ডানপাশে ফিরে তাকায় সে। আজ বিকেলের দিকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছিলো কিছুক্ষণ। খোলা বারান্দাটা শুকনো পাতায় ভর্তি হয়ে গিয়েছে। পরিষ্কার করা হয়নি। আলো মেঝের দিকে তাকায়। পাতাগুলো অমন নড়ছে কেনো! বেশ অবাক হয় আলো। খানিকটা ঝুকে তাকাতেই শি'উ'রে ওঠে সে।

বিকট শব্দে চেঁচিয়ে ওঠে,"সাপ.......!"

সামিন ঘরেই ছিলো। আলোর চিৎকারে ছুটে যায় বারান্দায়। আলোর ফ্যা'কা'শে মুখটা দেখে বারান্দার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে পরে। আলো উন্মাদের মতো ছুটতে ছুটতে এসে সামিনের বুকে হুমরি খেয়ে পরে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় সামিনের চোখ দুটো রসগোল্লা সাইজের মতো বড় হয়ে যায়। আলো আ'ত'ঙ্কে এতটাই জমে গিয়েছে যে সে খেয়ালই করেনি সে কাকে আকরে ধরে রেখেছে।

কয়েক মুহূর্ত কেটে যায়। সামিন আলোর মাথার দিকে দৃষ্টি রেখে মৃদু স্বরে বলে ওঠে,"একটা সাপের ভয়ে ফে'রা'উ'নে'র বুকে আশ্রয় নিলে আছিয়া?"

চলমান...........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন