ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে

৩২তম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে

#পর্বসংখ্যা_৩২

#Esrat_Ety

থানার নতুন অফিসার সমীর দত্ত সামিনের দিকে ক/ট/ম/ট দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে। কয়েক মূহুর্ত পরে গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,"বাড়াবাড়ি করছিস সামিন।"

_বাড়াবাড়ি তুই করছিস সমীর। একজন দায়িত্ববান পুলিশ অফিসার হয়ে নিজের দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাচ্ছিস। কনস্টেবল কে বল আমাকে ল/কা/পে দিতে।

ভাইয়ের পাশে থেকে ইলহাম মির্জা চেঁচিয়ে ওঠে,"হোয়াট আর ইউ ডুয়িং ভাইয়া। পাগল হয়েছো তুমি? বাবা ওদিকে অসুস্থ হয়ে পরেছে। এসব শুনলে তো শেষ হয়ে যাবে। বাবার অবস্থা ভালো নেই ভাইয়া।"

_পাগল কেনো হবো ? অন্যায় করেছি, শাস্তি পাওয়া উচিৎ।

ইলহাম ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । সমীর দত্ত মাথা ঠান্ডা রেখে বলে,"আচ্ছা বুঝলাম। শুরু থেকে বল আবার। কি করেছিস তুই ঐ মেয়েটার সাথে।"

সামিন ক্ষে/পে গিয়ে বলে,"কতবার বলবো আমি ওকে

কি/ ড / ন্যা /প করেছি, জোরপূর্বক বিয়ে করে ওকে জি/ম্মি করে রেখেছি এবং ওর পরিবারের লোকজন কে মে/রে ফেলার হুমকি দিয়েছি। এখন আমাকে এ্যা/রে/স্ট কর।"

সমীর বলে,"হুম বুঝলাম। তো তুই এসব যার সাথে করেছিস সে কোথায়? কম/প্লেইন কোথায়? প্র/মান কোথায়? কিসের ভিত্তিতে আমি তোকে এ্যা/রে/স্ট করবো?"

_আমি কি থা/নায় এসে তোর সাথে ম/স্ক/রা করছি এতো রাতে? আমি নিজে স্বীকার করেছি সবটা সেটা কি যথেষ্ট নয়?

ওসি সমীর দত্ত সামিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। ইলহাম অসহায়ের মতো তার বড় ভাইকে দেখছে। থানার বাইরে শো/র/গো/লে/র আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। সামিনের দলের ছেলেরা সবাই থা/নার বাইরে থেকে সামিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। সামিনের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

সমীর বেল টি/পে একজন কন/স্টেবল কে ডাকে। কন/স্টেবল এসে দাড়াতেই সমীর বলে,"বাইরে কি হচ্ছে?"

_স্যার। ইয়াসার মির্জার ছেলেরা।

সামিন চুপচাপ বসে আছে। তার দৃষ্টি টেবিলের ওপর একটা পেপার ওয়েটে নি/বদ্ধ।

সমীর সামিনের দিকে তাকিয়ে বলে,"তুই যা করতে চাইছিস তাতে তোর পুরো লাইফ, তোর রাজনৈতিক লাইফ যাস্ট ধ্বং/স হয়ে যাবে। তুই কি বুঝতে পারছিস না?"

_পদ/ত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি। রাজনৈতিক লাইফ বলে তো আর কিছু নেই আমার। আর লাইফের কথা যদি বলিস। ওটা এমনিতেও ন/ষ্ট।

ইলহাম আকুতির সুরে বলে ওঠে,"ভাইয়া কেনো এমন পা/গ/লা/মী করছো!"

সামিন কোনো জবাব না দিয়ে সমীরের চোখে চোখ রেখে বলে,

"এ্যা/রে/স্ট কর আমাকে।"

***

আলো ফোনটা কানে ধরে চুপ করে থাকে। ওপাশ থেকে ইশমাম বলে ওঠে,"অদ্রিতা, ভাইয়া আমাদের জন্য কতটা ইম্পরট্যান্ট তা তুমি নিশ্চই এতদিনে বুঝতে পেরেছো।"

_তো আমি কি করবো ইশমাম? আমি তো কোনো কম/প্লেইন করিনি। তোমার ভাইয়া নিজে থেকে এসব করছে।

_সেটাই অদ্রিতা। ভাইয়া নিজে থেকেই করছে।

আলো কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,"তোমরা আমার সাথে এমন কেনো করছো ইশমাম? তোমাদের পরিবারের সবার মুখের দিকে তাকালে মনে হয় আসল অপ/রাধী আমি। তোমার ভাইয়া নয়। আমার অ/ন্যায় টা কি? অপ/রাধ কি আমার বলো!"

ইশমাম স্বাভাবিক গলায় বলে,"অপ/রাধ করোনি এমন টা তো নয় অদ্রিতা। ভাইয়াকে ভুল বুঝে চ/ড় মে/রে/ছো, হে/ন/স্থা করেছো একজন মানুষকে।"

আলো অবাক হয়ে ইশমামের কথা শোনে,বলে,"তার জন্য কি আমি যথেষ্ট শা/স্তি পাইনি ইশমাম? তোমার ভাইয়া নিজের হাতে আমাকে শা/স্তি দিয়েছে। আমি তার পা ধরেছি তুমি জানো? সেদিন তোমাকে বলিনি সেসব কথা। শা/স্তি যথেষ্ট পেয়েছি, উল্টো আমার বাবা যা করেইনি তার জন্য আমার জীবন টা ন/ষ্ট করে দিয়েছে তোমার ভাইয়া।"

ইশমাম কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর বলে,"আমার পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষের ভালো থাকা ঐ মানুষটার সাথে জরিয়ে আছে অদ্রিতা। প্রত্যেকটা মানুষের খুশি ঐ মানুষটার ওপর নির্ভর করে। এখন তুমি কি করবে সেটা তোমার বিবেচনা। অ/ন্যা/য় আবদার বলো বা যাই বলো, মনে হলো তোমাকে বলতে পারি, তাই বললাম। আর হ্যা,আমি তোমাকে অপ/রাধী বলছি না অদ্রিতা, কোনো অবস্থাতেই না। আমার শুধু আমার ভাইয়ার জন্য কষ্ট হচ্ছে, যেমনটা তোমার জন্য হতো।"

ইশমাম ফোন কেটে দেয়। আলো ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরের দিকে যায়। রিতু সোফায় বসে আছে, শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছে আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"দয়া করো ভাবী! নিজের ভাইদের ভালোবাসা স্নেহ আমি পাইনি। ঐ মানুষটা দিয়েছে আমাকে সেসব। আমি দয়া চাইছি তোমার কাছে আমার ভাইয়ের জন্য।"

***

রাহাতের ফোন বাজছে। থা/নার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে সে। ভেতরে এই মাত্র জামিল গিয়েছে। ফোনের স্ক্রিনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রাহাত ফোনটা রিসিভ করে। ওপাশ থেকে সাগর ভুঁইয়ার কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। খিক খিক করে হাসতে হাসতে বলে,"কিরে সামিনের চা/ম/চা। তোদের ভাইয়ের হাওয়া বেড়িয়ে গিয়েছে দেখলাম। এখন কেমন লাগছে তোদের?"

রাহাত চুপ করে থাকে। সাগর বলতে থাকে,"শা/লা ভ/য় পেয়ে মাঠ ছেড়েছে নাকি? কোথায় তোর ভাই? কোথায়?"

রাহাত এদিক ওদিক তাকিয়ে গলার স্বর নিচু করে দাঁত খিচিয়ে বলে,"শোন শু/য়ো/রে/র বাচ্চা। হাতী বাঁচলেও লাখ টাকা,ম/র/লেও লাখ টাকা। তুই এতো উড়িস না।"

_আচ্ছা তাই নাকি! তাহলে......

টুট টুট শব্দ হয়। রাহাত ফোন কেটে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ফুয়াদ থানার সামনে বাইক দাঁড় করিয়ে এগিয়ে যায়। রাহাত বলে,"ভেতরে আছে। জে/দ ধরে বসে আছে। কারো কোনো কথা শুনছে না। আপনি তাড়াতাড়ি যান ভাই।"

জামিল সামিনের হাত ধরে রেখেছে। উ/ৎ/ক/ণ্ঠা নিয়ে বলে,"ভাই সাংবাদিক এসে ভীড় করেছে। আপনি চলেন এখান থেকে। দোহাই লাগে।"

_তোর বৌ অ/সু/স্থ। বাড়িতে যা জামিল।

গম্ভীর কন্ঠে বলে সামিন।

সমীর সামিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। ফুয়াদ ছুটে এসে সামিনকে ধরে‌। ঝা/কুনি দিয়ে বলে,"কি? কি শুরু করেছিস এসব?"

_শে/ষ করছি সবটা।

নিস্তেজ কন্ঠে জবাব দেয় সামিন। তারপর সমীরের দিকে তাকিয়ে বলে,"এ্যা/রে/স্ট মি।"

_বাড়াবাড়ি করছিস সামিন।‌

ফুয়াদ চেঁ/চি/য়ে ওঠে। সমীর কিছুক্ষণ সামিনের দিকে তাকিয়ে থেকে একজন কনস্টেবলকে বলে,"নিয়ে যাও ওকে।"

সামিন চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। কন/স্টেবল এসে নিয়ে যায় তাকে।

ইলহাম আহত চোখে তাকিয়ে থাকে। ফুয়াদ সমীরের দিকে অসহায়ের মত তাকায়। সমীর বলে,"ওকে শান্ত করার জন্য পাঠিয়েছি ল/কা/পে। ক/ম্প্লে/ইন না পেলে আমার বাপের সাধ্যি নেই ওকে আ/টকে রাখার। চিন্তা করিস না।"

***

বাড়ির জামাটা পাল্টে একটা শাড়ি পরে নেয় আলো। পার্স ব্যাগের মধ্যে ফোনটা ঢুকিয়ে নিয়ে বসার ঘরের দিকে যায়। ইশিতা উঠে দাঁড়ায়। রেহেনা কন্ঠে উ/ৎকণ্ঠা নিয়ে বলে,"কোথায় যাচ্ছিস?"

আলো তার উত্তর না দিয়ে ইশিতার দিকে তাকিয়ে বলে,"রিতুকে নিয়ে বাড়িতে যাও আপু।‌ ও এমনিতেই অসু/স্থ।"

_আর তুমি কোথায় যাচ্ছো?

ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন করে ইশিতা। আলো কিছু না বলে বেড়িয়ে যায় ঘর থেকে।

অনেক খুজে একটা রিকশা পেয়েছে অবশেষে। থা/নার সামনে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে এদিক ওদিক তাকায়। থা/নার বাউন্ডারির ভেতরে সামিনের ছেলেরা দাঁড়িয়ে আছে। আলোকে দেখে তৌফ সবাইকে নিচু স্বরে বলে,"কে এসেছে দেখ।"

সবাই মাথা তুলে আলোর দিকে তাকায়। আলো ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে তাদের দৃষ্টি উপেক্ষা করে থানার দালানের ভেতর ঢোকে।

"স্যার একজন মেয়ে এসেছে আপনার সাথে কথা বলতে।"

কন/স্টে/ব/লের কথা শুনে সমীর দত্ত তার দিকে তাকিয়ে বলে,"একটু অপেক্ষা করতে বলো তাকে। অভি/যোগ থাকলে নাও। আমি ব্যাস্ত ইউসুফ।"

_স্যার, মেয়েটির নাম অদ্রিতা আলো।

সমীর ফুয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,"এই সে নয়তো?"

ফুয়াদ বলে,"সম্ভবত।"

সমীর দত্ত কনস্টেবলের দিকে তাকিয়ে বলে,"ভেতরে নিয়ে এসো।"

নীল রঙের একটা শাড়ি। জমিনে নেভি ব্লু সুতোর কাজ। আঁচল টেনে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছে। চেহারায় সাজ সজ্জা নেই কোনো। একেবারেই সাদামাটা। সমীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে খুবই ভদ্রভাবে বলে,"বসুন।"

আলো ঘরে থাকা প্রত্যেকের দিকে একবার করে তাকিয়ে চেয়ার টেনে বসে পরে। তারপর সরাসরি সমীরের চোখের দিকে তাকায়। সমীর বলতে থাকে,"বলুন।"

_ইয়াসার মির্জা কোথায়?

নিস্তেজ কন্ঠে বলে ওঠে আলো।

_ল/কা/পে।

আলো চ/ম/কে ওঠে। সমীর বলে,"আমরাই কন/স্টে/বল পাঠাতে যাচ্ছিলাম আপনাদের বাড়িতে।"

আলো সমীরের দিকে তাকিয়ে আছে। সমীর বলতে থাকে,"ইয়াসার মির্জা তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন ,"তিনি আপনাকে জোর/পূর্বক তু/লে নিয়ে বিয়ে করেছেন, জি/ম্মি করে রেখে আপনার এবং আপনার পরিবারের প্রান/না/শের হুমকি দিয়েছেন। এসব আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই। এসব ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে ইয়াসার মির্জার সর্বোচ্চ শা/স্তির ব্যাবস্থা করবো। আপনি নির্ভয়ে বলুন।"

আলো মাথা ঘুরিয়ে ফুয়াদের দিকে তাকায়। ফুয়াদ অসহায়ের মতো তার দিকে তাকিয়ে আছে।

সমীর বলে,"বলুন। তিনি আপনাকে জোর/পূর্বক বিয়ে করেছেন? কি/ড/ন্যাপ করেছেন আপনাকে?"

আলো কিছুক্ষণ চুপ চাপ বসে থেকে অস্ফুট স্বরে বলে,"না।"

_কোনো শা/রী/রিক, মা/ন/সিক আ/ঘা/ত করেছেন কিংবা আপনার শ্লীল/তা/হানির চেষ্টা?

আলো মাথা নাড়ায়।

_উনি যা যা বলছেন সবটা মিথ্যা?

আলো মাথা নাড়িয়ে অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে,"জ্বি।"

ওসি সমীর দত্ত আলোর দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরে বলে ওঠে,"লিখিত ব/য়ান দিন।"

আলো একটা কাগজে ব/য়ান লিখে নিচে সই করে দেয়। তারপর কাগজটা সমীর দত্তের দিকে এগিয়ে দিয়ে নিচু স্বরে বলে,"আমি একটু ইয়াসার মির্জার সাথে দেখা করতে চাই।"

সমীর দত্ত এক জন কন/স্টেব/লের দিকে তাকায়। কন/স্টেবল আলোকে উদ্দেশ্য করে বলে,"আসুন আমার সাথে।"

***

হা/র্টে রিং পরানো। চেন্নাই গিয়ে প্রত্যেক ছয় মাস অন্তর চেক আপ করতে হয়। একটু আধটু চা/প পরলেই অবস্থা খুবই খা/রা/প হয়ে যায়। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা করছে ইমতিয়াজ মির্জা। কাজের মেয়ে দুটো ছাড়া বাড়িতে আর কেউ নেই। শা/রী/রিক অবস্থার ক্রমেই অব/নতি হচ্ছে। এই মুহূর্তে যদি কিছু একটা হয়ে যায় তাহলে কেউ টেরও পাবে না। হঠাৎ খুবই ভ/য় হতে থাকে ইমতিয়াজ মির্জার। তার সময় কি তাহলে শে/ষ? কিন্তু সে এভাবে ছেলে মেয়ের মুখ না দেখে ম/র/তে চায় না। কখনোই না। নীচু গলায় সিতারাকে ডাকতে থাকে। সিতারা এসে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলে,"জ্বি খালুজান।"

_ওদিকের কোনো খবর পেলি? কেউ কিছু জানাচ্ছে না কেনো?

পোনা এসে দাঁড়ায়। ইমতিয়াজ মির্জার বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে বলে,"খবর পাইনি ভাইজান। আপনি এতো উ/ত/লা হবেন না। সামিন বাবার কিছু হবে না।"

***

দু'জনে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। মাঝখানে লো/হার শি/ক। সামিন আলোর পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে। তারপর চোখ সরিয়ে নিয়ে চুপ করে থাকে। আলো শীতল চোখে সামিনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে একটা শি/ক ধরে বলে ওঠে,"খুব ভালো লাগছে আপনাকে এখানে দেখতে। এটাই আপনার উপযুক্ত স্থান। "

সামিন চুপ। আলো বলতে থাকে,

" কি ভেবেছেন আপনি? দয়া শুধু আপনিই দেখাতে পারেন? খুব সুপরিওরিটি কমপ্লেক্সে

ভো/গেন তাই না? নিজেই সর্বেসর্বা, আপনিই সবকিছুর নিয়/ন্ত্রক এটাই ভাবেন? সবার প্রতি দয়া দেখানোর ক্ষমতা রাখেন? আজ আমি আপনার প্রতি দয়া দেখালাম ইয়াসার মির্জা।‌ এই আলো নামের মেয়েটার দয়ায় এ যাত্রায় আপনি বেঁ/চে গেলেন।"

সামিন আলোর দিকে তাকায়। ঠান্ডা গলায় বলে,"কেনো দেখিয়েছো দয়া?"

_কেন দেখিয়েছি? আপনার বোনের জন্য, আপনার বাবার জন্য, আপনার ভাইদের জন্য, আপনার ভাইয়ের বৌ এবং ভাইপোর জন্য। আমারও একটা পরিবার আছে। তাই আমি আপনার পরিবারের

ভো/গা/ন্তি চাইনি। নূন্যতম হলেও তো দুই বছর জেলে প/চে

ম/র/তে/ন , আমি আপনার মতো নি/র্দয় না যে বাবা মায়ের

বু/ক থেকে সন্তান কে/ড়ে নিয়ে জি/ম্মি করে রাখে। আপনার বাবা হা/র্টের সিরি/য়াস পে/শেন্ট তাই দয়া দেখিয়েছি।

সামিন চুপ করে থাকে। আলো বলতে থাকে,"অবশ্য এসব আমি এমনি এমনি করিনি। এসবের বিনিময়ে আমি একটা জিনিস চাইবো। আর সেটা হচ্ছে আপনার থেকে মুক্তি। যা বরাবরই চাইতাম।"

সামিন আলোর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। আলো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চলে যায়।

একটু পরে সমীর দত্ত এসে ল/কা/পের সামনে দাঁড়ায়। একজন কন/স্টে/বল লকা/পের তালা খুলতে থাকে। সমীর দত্ত বলে,"ইচ্ছে করছে আইনের লোককে বি/ভ্রান্ত করার অপরাধে তোর নামে চা/র্জ লাগিয়ে দেই, কিন্তু তোর এই মাসুম চেহারাটা দেখে মায়া হচ্ছে।"

সামিন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। সমীর বলে,"ভাবী সুন্দরী। তোর পাশে মানিয়েছে।"

সামিন ল/কা/প থেকে বের হয়। সমীর দত্ত বলে,"প্র/বলেম কি? খুলে বল। পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছিস কেনো? পাগ/লামি করছিস কেনো?"

"স্যার স্যার!"

একজন কন/স্টেবল তড়িঘড়ি করে ছুটে আসে। সামিন আর সমীর দত্ত তার দিকে তাকায়। সমীর বলে,"কি হয়েছে?"

_খবর এসেছে, স্যার ইয়াসার মির্জার বাবা হস/পিটালে।

***

দৌড়াতে দৌড়াতে হস/পিটালের ভেতরে ঢোকে সামিন। করিডোরে ইশিতা,পরী,রিতু এবং দলের কিছু ছেলে দাঁড়িয়ে আছে ।

সামিন এবং ইলহাম এগিয়ে যায়। ইশিতা ভাইকে দেখতে পেয়ে ছুটে এসে জরিয়ে ধরে কাঁ/দ/তে থাকে। বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে এদিক ওদিক অস/হায়ের মতো তাকাতে থাকে সামিন। আরাফের দিকে তাকিয়ে বলে,"কখন হয়েছে এসব?"

পরী এগিয়ে আসে। কা/তর সুরে বলে,"আমি হোস্টেল থেকে বাড়িতে গিয়ে দেখি পুরো বাড়ি ফা/কা। বাবা কটেজে এসেছিলো।দোতলায় উঠে দেখি মেঝেতে পরে আছে।"

সামিন ইশিতাকে সরিয়ে দিয়ে এগিয়ে যায়। ইলহাম তার পিছু পিছু যায়। কেবিন থেকে ডক্টর বের হয়ে এদিকে আসে। সামিন কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ডক্টর নরম গলায় বলে ওঠে,"আই এ্যাম সরি। অনেক দেরি করে ফেলেছেন আপনারা।"

সামিন ডক্টরের দিকে বোকার মতো তাকিয়ে থাকে। এমন সময় ধপপ করে শব্দ হয়। পেছনে মাথা ঘুরিয়ে সামিন দেখে ইশিতা ফ্লোরে পরে গিয়েছে অ/চে/ত/ন হয়ে।

***

"মাম্মা, দাদুভাই ওখানে কেনো ঘুমাচ্ছে?"

ইহান প্রশ্নটি করে রিতুর দিকে তাকিয়ে আছে উত্তরের অপেক্ষায়। রিতু নিশ্চুপ চোখের পানি ফেলছিলো। সংসারের সব তি/ক্ত মিঠা অভিজ্ঞতা একপাশে রেখে লোকটা তার শশুর। তার স্বামীর বাবা। রিতুর জীবনে তার ভূমিকা ছিলো। ইলহামের হাতে যখন অ/ত্যা/চা/রি/ত হতো, ঐ খাটি/য়ায় শুয়ে থাকা লোকটা শান্তনা দিতে আসতো। লোকটা আদর্শবান কোনো লোক না, যথেষ্ট ত্রু/টি তার রয়েছে, কিন্তু রিতুর কাছে খা/রাপ কিংবা অসম্মানেরও কেউ না। লোকটার জন্য রিতুর কান্না পাচ্ছে খুব।

ছেলের কথার জবাব না দিয়ে রিতু মাথা ঘুরিয়ে লিভিং রুমের আশেপাশে তাকায়। ইশিতা আর্ত/নাদ করে কেঁ/দে যাচ্ছে। খা/টিয়ার দুইপাশে তার দুজন ছেলে বসে আছে। যেন বাবা কিছু বলছে তাদের। চুপচাপ শুনছে তারা।

ভোর চারটা প্রায়। ইমতিয়াজ মির্জার লা/শ কিছুক্ষণ আগেই হস/পিটাল থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

আত্মীয় স্বজনের ভীর জমে গিয়েছে শান্তিনীড়ে।

জামিল এগিয়ে গিয়ে মেঝেতে সামিনের পাশে চুপ করে বসে পরে। সামিনের দৃষ্টি মেঝের দিকে। জামিল মৃদু স্বরে বলে,"ভাই। ইশমাম ফোন দিচ্ছে বারবার। ওকে জানাবো?"

সামিন অনূভুতি শূন্য দৃষ্টিতে জামিলের দিকে তাকিয়ে নিস্তেজ কন্ঠে বলে,"আমাকে দে ফোনটা।"

"ভাইয়া।"

ইশমামের কন্ঠে উৎ/কণ্ঠা। সামিন অস্বাভাবিক ঠান্ডা গলায় বলে,"চিন্তা করিস না ছোট। থা/নায় কিছুই হয়নি। আমি বাড়িতে।"

ইশমাম একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। তারপর বলে,"বাবা ঠিক আছে? সন্ধ্যায় শুনলাম অ/সু/স্থ।"

সামিন একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,"ঠিক আছে কি নেই তা তো জানি না ছোট।"

_মানে?

_কাল সকাল দশটায় বাবার জা/না/জা।

***

"কেমন মেয়েরে তুই? স্বামীর ঘর করবি না ঠিকাছে। তাই বলে একটা মানুষ ম/রে গিয়েছে তবুও একটু সহানুভূতি আসছে না তোর?"

আলো মাথা ঘুরিয়ে প্রফেসর শিবলীর ওয়াইফের দিকে তাকায়। প্রফেসর শিবলীর ওয়াইফ বলতে থাকে,"একটা মানুষের বাবা মা/রা গিয়েছে। তোরও তো বাবা আছে। আতাউর ভাইয়ের কিছু হলে তোর কেমন লাগে? ঐ লোকটারও তো এখন তেমন লাগছে। তবুও তোর দিল নরম হচ্ছে না?"

_খালা, ওনার মৃ/ত্যু/তে আমি খুশি হইনি। এভাবে বলো না।

_তাহলে বসে আছিস কেন? সমবেদনা জানা।

আলো আবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

প্রফেসর শিবলীর ওয়াইফ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বসার ঘরের দিকে যায়। আলো উঠে আতাউর আলমের ঘরের বাইরে গিয়ে দাঁড়ায়, টুপিটা পাঞ্জাবির পকেটে ঢুকিয়ে নিয়ে আতাউর আলম আলোর দিকে তাকায়। আলো মৃদু স্বরে বলে,"যাচ্ছো তুমি?"

আতাউর আলম নিচু স্বরে বলে,"না গেলে কেমন দেখায় না মা? আমরা সামাজিক জীব।"

আলো চুপ করে থাকে । আতাউর আলম আমতা আমতা করে বলে,"আর তাছাড়া ইয়াসারের সাথে ব্যাক্তিগত শ/ত্রু/তা থাকতেই পারে। কিন্তু ও একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক। এতগুলো এতিমখানা, এজেন্সি চালায়। সাংবাদিক এসোসিয়েশনের সবাই যাচ্ছে। এটা আমাদের এসোসিয়েশনের নী/তি। আমার না যাওয়াটা দৃষ্টি/কটু।"

আলো বাবার দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে,"জা/না/জা কয়টায়?"

_দশটায়। পারিবারিক ক/ব/র/স্থা/নে দা/ফ/ন হবে।

***

রিকশা থামিয়ে গেইটের বাইরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তাটা মানুষে গিজগিজ করছে। অবশ্য বিশিষ্ট সমাজসেবকের বাবা মা/রা গিয়েছে , একসময় সেও এমপি ছিলো। এতো লোকজন তো থাকবেই। আলোর অস্বস্তি বারছে। সবাই কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকে দেখেছে। এখনো কোনো চেনা লোকের চোখে আলো পরেনি। এদিক ওদিক তাকিয়ে গেইটের ওপরে লেখা "শান্তিনীড়" কথাটার দিকে আলোর চোখ পরে। তারপর একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে পা বাড়ায়। যে বাড়িটাকে একবার ছেড়ে চলে গিয়েছে পুনরায় প্রকৃতি তাকে সেখানে টে/নে এনেছে।

কিন্তু কিসের জন্য? চোখের সামনে বাবা হারা ইশিতার কান্না/মাখা চেহারাটা ভেসে উঠছে সেজন্য? আতাউর আলমের অপা/রেশ/নের সময় যেভাবে আলোকে মানসিক সাপোর্ট দিয়েছে মেয়েটা,আলোর কি একটু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিৎ নয়? এতটাও ক/ঠি/ন মেয়ে আলো নয়।

ধীরপায়ে হেটে গেইটের ভেতরে পা রাখতেই সে দাঁড়িয়ে পরে। ইলহাম এবং দলের ছেলেরা পোর্চের ডানপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ইলহাম কাঁ/দছে। এমপি মহোদয় ইলহামের কাঁধে হাত রেখে কিছু একটা বলছে। মনে হচ্ছে শান্তনা দিচ্ছে। সবার মাথায় টুপি। সম্ভবত এক্ষুনি সবাই দা/ফন কার্য শেষ করে এসেছে।

অবচেতন মনে আলোর চোখ দুটো একজন কে খুঁজছে। হুট করে আলো চেতনা ফিরে পেতেই নিজের কাজে নিজেই প্রচন্ড অবাক হয়।

জড়তা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেই ইলহাম এবং দলের ছেলেদের সামনে পরে যায় আলো।

সবাই কয়েক মুহূর্ত আলোর দিকে তাকিয়ে থেকে চুপচাপ হেঁটে চলে যায় সেখান থেকে।

আলো শান্তিনীড়ের অন্দরমহলে প্রবেশ করে।

করিডোর পেরিয়ে লিভিং রুমের দিকে এগোতেই কেউ চেঁ/চি/য়ে বলে ওঠে,"দাঁড়াও।"

আলো দাঁড়িয়ে পরে। ইলোরা মির্জা আলোর সামনে এসে দাঁড়ায়। আলো তার দিকে তাকায়।

_কেন এসেছো তুমি?

আলো কি বলবে বুঝতে পারছে না। সত্যিই তো। সে কেনো এসেছে তার সঠিক কোনো ব্যাখ্যা নেই তার কাছে। তবুও কথা গুছিয়ে নিয়ে বলে,"ইশিতা আপু।"

ইলোরা মির্জা আলোর পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে সরে দাঁড়ায়। নিচতলার লিভিং রুম থেকে চাপা আর্ত/নাদের শব্দ শোনা যাচ্ছে। লিভিং রুম ভর্তি মানুষ। আলো ইলোরা মির্জার দৃষ্টি উপেক্ষা করে এগিয়ে যায়। ভীর ঠেলে দেখতে পায় ইশিতা মেঝেতে বসে বি/লাপ করে যাচ্ছে উ/ন্মাদের মতো। দৃশ্যটা দেখে আলোর বুকটা

মো/চ/ড় দিয়ে ওঠে। কিছু বছর পূর্বে মাকে হারিয়েছে,আর এখন বাবাকে। পুরোপুরি এতিম মেয়েটা। আলোর বুকে য/ন্ত্রনা হচ্ছে খুব। এই পরিস্থিতিতে তো সেও পরতে পারতো!

রিতু মাথা তুলে আলোর দিকে তাকাতেই থম/কে যায়। আলোকে সে আশা করেনি। পরী উঠে আলোর দিকে ছুটে এসে আলোর হাত ধরে ইশিতার কাছে নিয়ে যায়। ইশিতা হাউ/মাউ করে কেঁ/দে যাচ্ছে। আলো গিয়ে ইশিতার মুখোমুখি বসে পরে মেঝেতে।

ইশিতা কাঁদতে কাঁদতে আলোর দিকে তাকায়। আলো খুবই সংকোচের সাথে ইশিতার গালে একটা হাত রাখে। একটা মমতাময়ী হাতের স্পর্শ পেয়ে ইশিতা দু'চোখ বন্ধ করে ফেলে। জরিয়ে ধরে আলোকে।‌ তারপর ফোপাতে থাকে।

রিতু পাশে বসে নিশ্চুপ কেঁ/দে যাচ্ছে। লিভিং রুমে যত মহিলা আছে সবাই শান্তনাবানী শুনিয়ে যাচ্ছে।

আলো ইশিতার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

ইলোরা মির্জা এগিয়ে গিয়ে ইশিতাকে উদ্দেশ্য করে বলে,"কাকে জরিয়ে ধরে আছিস তুই? ও মজা পাচ্ছে মজা।"

আলো কপাল কুঁ/চ/কে ফেলে, ক/ঠিন গলায় বলে,"বাজে কথা বন্ধ করুন। একজনের মৃ/ত্যু/তে আমি মজা পাবো কেনো?"

_একজনের মৃ/ত্যু/তে না। এই পরিবারের ভো/গান্তিতে মজা পাচ্ছিস তুই হত/চ্ছাড়ি।

সব মহিলারা হতভম্ব হয়ে যায় ইলোরার কথা শুনে। আলো ।

ধ/ম/কে/র সুরে বলে,"কথা বুঝে শুনে বলবেন। মুখ সামলে বলবেন।"

"দাদী"

নরম গলায় সামিন ইলোরাকে ডাকে। ইলোরা ঘুরে তাকায়। সিঁড়ির কাছটাতে দাঁড়িয়ে আছে সামিন। সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরনে তার, মাথার টুপিটা খুলে হাতে নিয়েছে। আলো ইশিতাকে রেখে উঠে দাঁড়ায়। তারপর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সামিনকে দেখে। যে লোকটা তাকে একদিন বাবা হারা করে দিতে পারতো,আজ নিজের বাবা হারিয়ে কতটা পরিবর্তন এসেছে চেহারায় সেটা দেখতে থাকে।

সামিন একবারের জন্যও আলোর দিকে তাকায় নি। সে নি/স্প্রা/ন গলায় ইলোরাকে বলে,"কেউ মৃ/ত ব্যক্তির বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আসলে তাকে এভাবে অপ/মান করতে নেই।"

কথাটি বলে সামিন দোতলার ওঠার জন্য পা রাখে সিঁড়ির প্রথম ধাপে। পেছন থেকে আলো বলে ওঠে,"দাঁড়ান।"

সামিন দাঁড়িয়ে পরে, কিন্তু আলোর দিকে ঘুরে তাকায় না,আলো এগিয়ে এসে সামিনের পেছনে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে,"জানি এই সময়ে এসব কথা বলা উচিত না, তবুও বাধ্য হয়ে বলছি। আমার দাদুর দেয়া একটা চেইন ‌বিক্রি করে টাকা নিয়ে এসেছি আমি। টাকা গুলো নিয়ে আমাকে ঋণ মুক্ত করুন।"

_রিতুর কাছে দিয়ে যাও। টাকা গোনার পরিস্থিতিতে আমি নেই।

অস্ফুট স্বরে বলে সামিন।

আলো বলতে থাকে "জানি এই সময়ে এসব কথা আপনাকে বলা ঠিক হচ্ছে না, আচ্ছা একটা কথা বলুন তো। আপনার বাবার মৃ/ত্যু/টা কি কোনোভাবে আমার জন্য হয়েছে? আমি দায়ী?"

সামিন নিচু স্বরে কিন্তু তেজী কন্ঠে বলে,"মোটেই না। অবান্তর কথা।"

আলো বলতে থাকে,"কাল সন্ধ্যার ঘটনার পর থেকে আপনাদের বাড়ির লোকজন আমাকে অপ/রাধী সাজিয়ে আমার দিকে আঙুল তুলেছিলো, অপ/রাধী তার অ/পরাধ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় শা/স্তি পেতে গেলো সেজন্য ভি/ক্টি/মকে দো/ষী সাব্যস্ত করা হলো কেন সে অপ/রাধীকে আটকাচ্ছে না, সেটা কি উচিত ছিলো?"

_উচিৎ হয়নি। ওদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি।

_আজ আমি এখানে ইশিতা আপুকে সমবেদনা জানাতে এসেছি সেটা কি ভুল হয়েছে?

_ভুল হয়নি। তুমি মহৎ।

_তাহলে আপনার বাড়ির লোকজন এভাবে কেনো অপ/মান করবে যেন আমি একজন অ/প/রা/ধী। যেখানে আমার কখনো কোনো দো/ষ ছিলোই না। আপনি যা করেছেন তার বিনিময়ে অতটুকু রিয়াক্ট করা কি স্বাভাবিক না আমার? ঠান্ডা মাথায় বলুন!

সামিন নিচু স্বরে বলে,"স্বাভাবিক।"

_তাহলে সবাই বরাবর আমাকে দোষা/রোপ করছে কেনো, যেন আমি সর্ব/নাশী।

সামিন ওদিকে ফিরেই স্বাভাবিক গলায় বলে,"দাদী বৃদ্ধা মানুষ তাই এমন করছে। দাদীর হয়ে আমি ক্ষ/মা চাইছি। সমবেদনা জানানো হয়ে গেলে তুমি বাড়ি চলে যাও। কোনো কিছুতে তোমার কোনো দোষ নেই। তুমি নি/র্দোষ ছিলে, আছো এবং আমার কাছে বরাবর নি/র্দোষ থাকবে।"

আলো সামিনের মাথার দিকে তাকিয়ে থাকে। সামিন একবারের জন্যও আলোর দিকে না তাকিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়..

চলমান....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন