ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম শৃঙ্খলে রুদ্ধ রূপসী

৪র্থ পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#প্রেম_শৃঙ্খলে_রুদ্ধ_রূপসী

পর্ব - ৪

লেখিকা: সালসাবিল সারা

(কপি করা নিষেধ)

_________________

“আমার জান উঠে পড়ো! আর কয়েক মিনিটে যদি না উঠো,আমার কোলে এইভাবে শুয়ে থাকো,তাহলে কিন্তু সত্যি একটা চুমু এই পিংক ঠোঁটে আমি দিতে বাধ্য হবো। মাই জিঞ্জার কিটেন গেট আপ!”

স্তম্ভিত গভীর সুমধুর পুরুষালি কন্ঠের রাশিয়ান আর ইংরেজি মিশেলের বাক্যগুলো কেমন বিশাল অর্থ বুঝাচ্ছে যেনো! রাশিয়ান বাক্যের একটা অক্ষর নুসাইবা বুঝল না। এমনকি কোন দেশী ভাষা এটা সেটাও আয়ত্বে আসলো না। শুধু বুঝলো, তার ডার্ক ফ্যান্টাসি নভেলে নায়কদের কণ্ঠের যে বৈশিষ্ট্য থাকে সেটা যেন নিজ কানে ভাসছে। লাস্টের কিছু ইংরেজি শব্দ কানে ঠাহর করলেও অর্থ গুলিয়ে ফেলছে সে। খুব করে নাকে বাজছে একটা কড়া মিষ্টি পুরুষালি পারফিউমের স্মেল।

নুসাইবা নড়তে চায়। কিন্তু তার ভেতরটা টালমাটাল। শক্ত নরম মিশেলের কিছুতে আটকে সে। পিটপিট করে দৃষ্টি খুললে দেখতে পায় মেয়েটা সোফায় শুয়ে আছে এলোমেলো। একটা হাত তার সোফার বাহিরে ঝুলছে।

সে কি ঘুমিয়ে পড়েছিল? নাকি সেই আঁধারে কোনো ছায়া দেখে ভয়ে সিটিয়ে পড়েছিল? কেউ কি তাকে স্পর্শ করেছিল? চোখের উপর হাত দিয়ে ভেজা অনুভব হয় তার। কেউ তাকে পানি ছিটকে দিয়েছে? তখনি মাথার পাশের খোলা জানালার থেকে কয়েক ফোঁটা পানি চোখে পড়ে তার। বুঝলো বৃষ্টিরই পানি!

নুসাইবা মাথায় হাত চেপে বসে। বিড়বিড় করে বলে উঠে,

“কি হচ্ছে আমার সাথে? এত স্ট্রেস নেওয়া একদম উচিত না আমার।এইভাবে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কিভাবে? নাকি…নাকি!!!”

কথাটা ভাবতে ভাবতে সে ডেস্কের দিকে ছুটে।

সেথায় ল্যাপটপে লগইন করে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে থাকে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো,সিসিটিভিতে কেউ আসার কোনো ফুটেজ নেই। এমনকি সিসিটিভির ক্যামেরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজই করছে না। নুসাইবা চেয়ারে বসে মাথায় হাত রাখে,

“উফ আবার? এই সিসিটিভি দুইদিন পরপর এমন ডিস্টার্ব কেনো করে? অদিতিকে বলে নতুন লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।”

নুসাইবা ব্যাপারটা নিয়ে আর বেশি ঘাটালো না। যেদিন তার বেশি স্ট্রেস হয় সে এমন উল্টাপাল্টা জিনিস কল্পনা করতে থাকে। পরে কখন ঘুমিয়ে যায় সে নিজেই বুঝে না।

হঠাৎই তখন তার ফোন বেজে উঠলে নুসাইবা ল্যাপটপের সামনে থেকে উঠে। দ্রুত ফোন রিসিভ করলে ড্রাইভার ক্ষমা চায়,

“ম্যাডাম আপনি অপেক্ষা করছিলেন দুঃখিত আমি ফোন ধরতে পারিনি। গাড়ির ব্যাক সাইডে অন্য গাড়ি টুকে দিয়েছিল। সেটা নিয়েই এতক্ষণ কথা কাটাকাটি হচ্ছিল ট্রাক ড্রাইভারের সাথে। আমি আসছি আর দশ মিনিট লাগবে।”

“সমস্যা নেই। আপনি আসুন।”

নুসাইবা তার জিনিসপত্র সব গুছিয়ে নেয়। জানালা বন্ধ করতে নিলে আবারো সেই কড়া মিষ্টি পুরুষালি সুবাসে সে এদিক সেদিক মাথা ঘুরিয়ে দেখলো। কিন্তু না! বৃষ্টির মাঝে কেউ নেই। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। নুসাইবা আর পাত্তা দেয়নি। এমন অভিজাত্য এলাকায় এহেন সুবাস পাওয়া স্বাভাবিক।

ড্রাইভার মিনিট পাঁচেক পর আবার তাকে ফোন করলে সে ছাতা মাথায় বেরিয়ে আসে।

একটু হেঁটেই উঠে পড়ে গাড়িতে। সারাদিনের ক্লান্তিতে কেমন মাথা ধরেছে তার। মাথাটা এলিয়ে দেয় সিটে। ওড়নাটা শক্ত করে গায়ের সাথে আঁটসাঁট প্যাঁচিয়ে রাখে।চোখ জোড়া আবারো বুঁজে আসে নিজে নিজে।

আর সেই দৃশ্য নিজ মোবাইলে আরামে দেখছে আরন বেঞ্জামিন। নুসাইবার গাড়িকে সে ট্রাক দিয়ে আঘাত করিয়েছে আর এলেক্সকে বলেছিল তখনি গাড়ির ভেতরকার হাত রাখার হ্যান্ডেলের স্ক্রুর সাথে মিনি ক্যামেরা সেট করে দিতে। যেটা যেনো কেউ ঠাহর করতে না পারে।

ব্যস, সিম্পল একটা কাজ। আর মেয়েটা গাড়িতেও বন্ধী মিস্টার মনস্টারের নজরে। তার দৃষ্টি স্থির হয় না। চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মেয়েটাকে পর্যবেক্ষণ করে। যে এতক্ষণ তার কোলেই শুয়ে ছিল চুপটি করে। জাস্ট লাইক এ কিটেন। বেঞ্জামিন মৃদু হেসে উঠে। ড্রাইভিং করা অবস্থায় মোবাইলে ঠিক নুসাইবার উপরে আঙুল স্পর্শ করে বলে উঠে,

“আমার কোলেই শুয়ে ছিলে আর তুমি কিছুই জানো না। মুখে পানির ছিটা দিয়েছি,সিসিটিভিতে ফুটেজ ডিলিট করিয়েছি সেটাও জানো না। আর না কখনো জানবে। জানিনা তুমি বাধ্য নাকি অবাধ্য হয়ে আমার সাথে জড়াবে। কিন্তু,তোমাকে আমার সাথে জড়াতেই হবে। বেঞ্জামিন তোমাকে তার খাঁচায় বন্দী করেছে, সাইবা। তুমি শিকল পড়ে আমার খাঁচায় উড়বে,আর আমারই রবে আজীবন।”

তার ভয়ার্ত এই রাশিয়ান ভাষার সুর যদি নুসাইবা শুনতো তাহলে মেয়েটা নিশ্চিত আবারো মূর্ছা যেতো।

যেখানে মেয়েটা আঁধার সহ্য করতেই পারে না। সেখানে এই মেয়ে স্বয়ং আঁধার দুনিয়ার সম্রাটকে কিভাবে গ্রহণ করবে? কিভাবে সবটা আগাবে? যেটার কোনো মাথাব্যথা বেঞ্জামিনের নেই। সে মেয়েটার জন্যে উন্মাদ।মেয়েটা জানেও না তার জন্যে এক মাতাল প্রেমিক আসক্তির সব সীমানা পার করে ছাড়বে।

______________

তিনদিন ধরে বৃষ্টির এই রোনাদোল কমার নাম নেই। শুক্রবার হওয়ায় আজ নুসাইবা শোরুমে যাবে না। বাহিরে এখন প্রচুর বৃষ্টি। সাথে ঝড়ো বাতাস। নুসাইবার রুমটা একদম শেষের দিকে। তার ব্যালকনির দিক থেকে একটা নতুন দুইতলা বিল্ডিং দেখা যায়। যেটা রেডি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্যে খালি ছিল এতদিন যাবত। কিন্তু শোনা যায় লোকটা বিল্ডিং বিক্রি করে বাহিরের দেশে চলে যায় দুইদিন আগে। তবে সেখানে কাউকে দেখেনি আজ পর্যন্ত। মানুষের টাকা ছিনিমিনি খেললে যা হয়!

নুসাইবার হতে কফির কাপ। বৃষ্টির ঝাপটা থাই গ্লাসে স্পষ্ট। সে কিছুটা খেয়াল করে সামনের বিল্ডিংয়ে। কিছু লোক দুইতলার দিক থেকে ঝুলে ঝুলে রং করছে। চারিদিকে প্রটেকশন দেওয়া যেনো বৃষ্টি ছুঁয়েও না দেখে। আর দুই তলার ঠিক তার রুমের দিকের যে ব্যালকনি আছে সেখানে কেউ পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে। বিশাল শরীর আর পুরোই কাঠখোট্টা অবয়ব। পেছনটা দেখেই বিদেশী কেউ মনে হচ্ছে তার। হাতের ফুলে থাকা বাইসেপ্স আন্দাজ করতে চাইলো না আর। এরপূর্বেই সে পর্দা টেনে দেয়।

ফোস করে শ্বাস ছেড়ে বলে,

“কি দরকার ছিল আমার ব্যালকনির সামনেই বেডরুম দেওয়ার! ধুর… লোকটা ঐ ব্যালকনিতে না আসলেই হয়। নাহয় আমি কিভাবে একা নিজেকে অনুভব করার জন্যে ব্যালকনি গিয়ে দাঁড়াবো! আজিব মুসিবত।”

নুসাইবা তার কফির মগে চুমুক দেয়। লোকটার অবয়ব স্পষ্ট ছিল না গ্লাসে থাকা জমানো পানির জন্যে। নুসাইবা অবশ্য সেইসব নিয়ে ভাবতেও চায় না। সে পায়ের কদম দ্রুত করে নিচে নামে।

মা,হাবিবা লিভিং এরিয়ায় বসে। ইয়াসিন ডাইনিংয়ে মিটিং এর জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নুসাইবাকে দেখে তার মা বলে,

“এতক্ষণে আসছিস তুই? আমি আরো ভাবছি আজ মেয়েটার কি হলো নামছে না কেনো? উপরে উঠতে চাইলাম কতবার! হাবিবা দিচ্ছিল না একদম।”

“হ্যাঁ। ঘুমাচ্ছিলাম যে। হাবিবা কফি দিয়েছে তাই আর নামিনি জলদি। ফ্রেশ হয়ে কফিটা খেতে খেতেই তো নামলাম।কি কারণে খুঁজছিলে তোমার বড় মেয়েকে হ্যাঁ?”

নুসাইবা মায়ের পায়ের কিনারায় বসে। হেনা যত্ন নিয়ে মেয়েটার মাথায় বিলি কেটে আওড়ায়,

“অলয়ের সাথে কথা বলিয়ে দে আমাকে? তোর খালামণি সাথে,নানুর সাথে কথা বললাম কতদিন হয়েছে! ওরা আমাকে যেতে বলেছিল। আমি যাচ্ছি না অসুস্থতার জন্যে কিন্তু ওরা তো আসতে পারে! ওদেরকে দাওয়াত করবো আজ।”

“ওরা ব্যস্ত ভীষণ। সময় হলে ঠিকই আসবে। আর অলয়ের সাথে আমারও কথা কম হয় ঐখানকার টাইমিং মিলে না, সেও কাজে ব্যস্ত। টেনশন নিও না। সবাই ঠিক আছে।”

নুসাইবা নিজেকে সংযত করে বলে।

তখনই ইয়াসিন বড় মেয়েকে ডেকে উঠে,

“নুসাইবা, এতক্ষণ বেলা হয়েছে নাস্তা কে করবে?”

“আসি বাবা।”

নুসাইবা আর দেরী করে না। দ্রুত ডাইনিংয়ে যায়। সেথায় পৌঁছালে মেয়ের চোখের পানিতে আঙুল বুলিয়ে দেয় ইয়াসিন,

“শক্ত মেয়েটার চোখের পানি একদমই মানায় না। অলয়ের যথাযথ শাস্তি আমি দিচ্ছি। সে এখনো বেকার দেশে। তাকে চাকরি বা ব্যবসা করার সুযোগ আমি দিবো না। যে ব্যবসা ধরবে সেখানে আমি লাল বাতি জ্বালাব। তোমার খালার টাকার অহংকার ছিল না অনেক! দেখো এখন ঋণের মামলায় কি দুর্দশা হয়েছে। আমার মেয়েকে কষ্ট দেওয়া? বুঝিয়ে দিব তাদের কার মেয়েকে তারা নষ্ট জীবন দিতে চেয়েছিল!”

বাবা মেয়ের কপালে চুমু দেয়। নুসাইবা পাশ থেকে বাবাকে জড়িয়ে ধরে,

“মা কখন সুস্থ হবে,বাবা? মায়ের কাছে এত মিথ্যে আমি বলতে বলতে ক্লান্ত। চলো একদিন বসে সবটা বুঝিয়ে বলি আমরা সবাই।”

“বলবো। শুধু স্ট্রোকের সময়সীমাটা একটু বাড়ুক আর মায়ের মাথায় চাপ কমুক। ধৈর্য ধরো মা।”

“তুমি না থাকলে আমার কি হতো বাবা? আমার ছায়া হয়ে তুমি আজীবন থাকবে তো?”

ইয়াসিন মুচকি হাসে। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

“আছি রে। আল্লাহ যতদিন রাখছে দুনিয়ায়।”

সেই কথা শুনে নুসাইবা আরো কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। মেয়েদের ইমোশনের সবচেয়ে কাছে থাকে বাবা। সেই বাবার যখন বয়স হয়,আগের মত না থাকে চুল,শরীর… মনটা কিছুতেই ভালো থাকে না। নুসাইবার ঠিক একই অবস্থা। বাবার সাদা চুল-দাড়ি দেখলেই ভেতরটা কেঁদে উঠে হাহাকার করে। পৃথিবীতে বাবার মতো ছায়া কে দেয় মেয়েদের? জানেনা নুসাইবা। সে জানতেও চায় না। খোদার কাছে দোয়া করে,

“বাবা মাকে বাঁচিয়ে রাখো আল্লাহ্,হাজার বছর।”

________________

নিশিরাতে একটু দূরেই কুকুররা সব উত্তাল হয় তাদের ডাকে। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে কয়েকটা কুকুর খুব কাছেই ঘেউ ঘেউ করছে। কন্ঠটাও কেমন নতুন। দেশী কুকুরের না। সে বিছানায় উঠে বসে। তাকায় ব্যালকনির দিকে।সারাদিন ব্যালকনির পর্দা সরানো হয়নি তার। উপরেই উঠেনি। হাবিবার সাথে কয়েকটা মুভি দেখে পুরো দিন রাত পার করেছে সে। এখন ঘুমঘুম চোখে আগামীকালের স্কেচ নিয়ে ভাবতে গেলেই তার কানে ভেসে উঠে সেই কুকুরদের শব্দ। নুসাইবা স্লিপার পড়ে। তার পরনে সুতির ফতোয়া, ঢোলা প্যান্ট। ব্যালকনির দিকে ওড়না ছাড়া যেতে চাইলেও ঐযে তখন একজন লোকের পেছনের দিক ঝাপসা দেখেছিল,সেটা মাথায় আসলে ওড়না মাথায় দিয়ে দুইদিকে ছড়িয়ে দেয়।

পর্দা সরালে কিছু দেখা যায় না। থাই গ্লাস বাহিরের দিকটা দেখতে দিচ্ছে না। সে থাই গ্লাসের ডোর খুলতেই সেই কুকুরদের শব্দ আরো জোরালো হয়। ব্যালকনিতে জমা বৃষ্টির পানিতে পা দিয়ে এগোলে চপচপ শব্দ হয়। দেখতে পায় সামনের ব্যালকনিতে কেউ দুইটা কুকুর নিয়ে বসে আছে। উল্টোদিকে ফিরে থাকায় চেহারা স্পষ্ট নয়। সাথে ভৌতিক ধরনের লাইট জ্বালানো। একদমই মাইল্ড আলো। কিছু বুঝা মুশকিল।

কুকুরগুলো লোকটার পায়ের কাছে ঘেঁষে বসা আর নিজেদের মাঝে খেলছে।

একে তো দূরের কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ। সাথে এখন বেশ কাছ থেকে এমন রাত বিরেতে কুকুরের চিৎকার। নুসাইবার ক্লান্ত ভরা চোখকে কিছুতেই তন্দ্রায় ডুবতে দিচ্ছে না।

সে নিচে তাকালো।এইদিকে সাধারণত গার্ড থাকে না। কারণ বাড়ির সামনের দিকে থাকার নির্দেশনা তাদের। পেছনের দিকে কেউ রিস্ক নিয়ে প্রবেশ করবে না, কেউ ঢোকার সাহস দেখাবে না,রাস্তার শেষপ্রান্ত এই জায়গা। এইদিকে বেশ কঠোর তাঁর কাটা ঘেরা। বাড়ির সীমানা বড় হওয়ায় সে গার্ডদের চিৎকার করলেও তারা হয়তো শুনবে না। আর এতোজোরে চিৎকার করলে বাবা মা জেগে যাবে। মায়ের অহেতুক ঘুম ভাঙলে বিরাট সমস্যা। যেহুতু কাছেই বিল্ডিংটা। তাই নুসাইবা গলা পরিষ্কার করে সহসাই গলার জোড় কিছুটা বাড়িয়ে বলে,

“ভাইয়া,আপনার কুকুরের জন্যে আমার ঘুমের ডিস্টার্ব হচ্ছে।কাইন্ডলি একটু থামান।”

এতটুকু বলে সে ব্যালকনির ভেতরে চলে আসে। পর্দা দিয়ে দেয়। অথচ মেয়েটা খেয়াল করলো না তার মুখে এমন বিরক্তির ছাপ,ঘুমে ঢুলতে থাকা অবয়ব সামনের মানুষটা গোগ্রাসে গিলছিল লোকটার ব্যালকনির সাথে লাগানো সিক্রেট মিররে। যেটা নুসাইবার ব্যালকনি থেকে দেখা যাচ্ছে না। অথচ লোকটার পাশে আড়ালে সেটা সেট করা দেওয়ালে। যেখানে মেয়েটা ব্যালকনিতে আসার ছবিটা যেনো এখনো মানব দেখতে পাচ্ছে।

কুকুরগুলো আবারো ঘেউ ঘেউ করতে নিলে মানব খুবই গম্ভীর গলায় তাদের শাসায়,

“স্টপ বার্কিং স্ট্রম এন্ড রেক্স। আমার জান তোমাদের শব্দে ঘুমাচ্ছে পারছে না। ওকে দেখেছি আমি,শান্তি লাগছে। কালকে এই সময়ে আবার চিৎকার করে ওকে ব্যালকনিতে আনবে ওকে? দায়িত্ব দিলাম কিন্তু। এখন ভেতরে যাও।”

মনিবের রাশিয়ান ভাষায় জার্মান শেফার্ড দুইটি লেজ নাড়িয়ে ভেতরের দিকে যায়। যেনো মনিবের আদেশের অপেক্ষায় তারা গান গাওয়া থামাচ্ছিল না।

কুকুর দুইটির পেছনে বেঞ্জামিনও কক্ষে এগোয়। স্টর্ম আর রেক্সকে তখন ইথেন টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আজ এইখানে ইথেন আর কয়েকজন গার্ড এসেছে শুধু। ইথেন জানেনা তাদের বস এই ঘরটা কেনো কিনেছে! প্রশ্ন করা কোনো উপায়ও নেই। বাহিরে যেতে যেতে স্টর্ম,রেক্স আবারো ঘেউ ঘেউ করে।

তাদের বেঞ্জামিন বিশেষ কারণে আনিয়েছে দেশে। রাশিয়ায় তার পালিত কুকুরদের মাঝে এরা খুবই ভক্ত বেঞ্জামিনের।

এই নতুন বিল্ডিংয়েরও সকল রুমের কাজ আগে থেকে করা ছিল। ব্যসিক ফার্নিচারও আছে। বেঞ্জামিন তার গায়ের টিশার্ট ঠিক করে। তার পড়নে হাফ হাতার টিশার্টের বাহুতে একটা নতুন ট্যাটু চিকচিক করছে।

লোকটার অবয়ব আয়নায় ভেসে উঠে। তার পুরুষালি বিশাল দেহের তুলনায় নুসাইবা অত্যন্ত ছোটখাটো। মেয়েটাকে ফলো করা তার রোজকার দিনের কাজ। কেমন এক মাতোয়ারায় মত্ত হয়েছে সে। এমনকি মেয়েটার রুমের সামনের বিল্ডিংটাও কিনেছে কেবল ঘুমঘুম চোখে তাকে দেখতে কেমন লাগে সেটা উপভোগ করতে।

লোকটার একটুও যে ধৈর্য নেই!!

বেঞ্জামিন তার বাহুর উপরের দিকে রাশিয়ান ভাষায় খচিত নতুন ট্যাটুতে আঙুল বুলায়। যার ইংরেজি অর্থ “ক্যান্ট এস্কেপ,সাইবা।”

লোকটা নিজের চুলে হাত বুলায়। আয়নায় ভাসমান অবয়বের সাথে মেয়েটার হাইট অনুমান করে সে আওড়ায়,

“এতটুকুই তো একটা মেয়ে তুমি, আমার কথার বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ কোনোটাই বেঞ্জামিন তোমাকে দিবে না। আর সবচেয়ে অপেক্ষায় আমি কিসের জানো? এইযে তোমার উপর ঝুঁকে তোমার কোমর খিঁচে হাতটা গলায় প্যাচিয়ে আমার ঠোঁট যখন তোমার ঠোঁটকে অমৃতের মতো গিলে নিবে আর তুমি কিটেনের মতো ছটফট করবে,শব্দ করবে,আমার গায়ে নখ দাবিয়ে আর্তনাদ করবে.. সেসবের। উমহ!”

পরক্ষণে লোকটার চোখে ভাসে মেয়েটার ভয়ার্ত লজ্জাকর চেহারা। যখন মেয়েটা দ্বিধায় তার কুকুরদের থামাতে বলছিল। নিশ্চয় ভীষণ ঘুম পেয়েছে ছোট্ট কিটেনের। নাহয় সাহস করে অচেনা লোককে কিছুই বলতো না। বেঞ্জামিন হাসে কিছুটা শব্দ করে। চোখে ভাসে মেয়েটার আধ খোলা ঘুমন্ত চোখ,ফতোয়ার সাথে মাথায় কাপড় দেওয়া। কি দূর্দান্ত এক রমণী! তার ঠোঁট খুলে যখন “ভাইয়া” ডেকেছিল বেঞ্জামিনের পুরুষালি সত্তা তখনি মেয়েটার আঙিনায় ডুবতে রাজি! বেঞ্জামিন চোখ বন্ধ করে আবেশে। আয়নায় নিজ বাহু ঠেকিয়ে রাশিয়ান ভাষায় বলে উঠে,

“আমার জন্যে তোমার মুখ থেকে যে কথাটায় বের হোক না কেনো,সেটা শুনতে এতো সেডাক্টিভ লাগে,জান। আহহহহ….”

কিছুক্ষণ থামে সে। তার এডমস অ্যাপল নড়ে কিছুটা। দৃষ্টি তার নিভু নিভু।কিছু চুল কপালে হামলে পড়েছে। খরশান চোয়ালে মেয়েটার জন্যে সৃষ্ট কিঞ্চিৎ হাসির রেখা। আবার চোখদুটো মেয়েটার আফিমে বুদ।

নুসাইবা লোকটার এমন কামুকতার রূপ দেখলে কি রিয়েকশন দিবে? কিভাবে সামলাবে মেয়েটা বিস্তৃত এই লোককে? সেটা ভাবলেই বেঞ্জামিন আরো উন্মাদ হয়। দেওয়ালে সেট করা নুসাইবার ছবির সামনে বসে বিছানায় আলগোছে। দুইহাত পেছনে ঠেলে হেলান দিয়ে ছবিতে নুসাইবার দৃষ্টির সাথে অত্যন্ত নেশালো দৃষ্টি মেলে আওড়ায়,

“ডোন্ট ওয়ারি মাই লাইফ,এমন ব্যবস্থা করছি যেনো সামনে থেকে শুধু আমার সাথেই কথা বলতে হয় তোমার। আরন বেঞ্জামিন ইজ কামিং ক্লোজার টু ইউ জিঞ্জার কিটেন এন্ড দেয়ার ইজ নো এস্কেপ। বেঞ্জামিন তোমার ফাঁদ,আবার সেই তোমার রক্ষক…. সাইবা। মাই সাইবা।”

চলবে…..

কপি করা নিষেধ।

যারা যারা গল্প পড়ো সবাই অবশ্যই রেসপন্স করবে। তোমাদের রেসপন্স আর রিয়েক্ট,কমেন্টের উপর ভিত্তি করে পরের পর্ব আসবে। যত জলদি 1কে রিয়েক্ট হবে তত জলদি পরের পর্ব পাবে। কালকে হলে কালকেই দিবো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন