ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম শৃঙ্খলে রুদ্ধ রূপসী

১৭তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#প্রেম_শৃঙ্খলে_রুদ্ধ_রূপসী

পর্ব - ১৭(সতর্কতা ১৮+)

লেখিকা: সালসাবিল সারা

(কপি করা নিষেধ)

______________

“আপনি একটা গুন্ডা আরন বেঞ্জামিন। আমি আপনাকে বিয়ে করবো না। আমি আপনাকে একটুও পছন্দ করি না। আমাকে যেতে দিন। আমাকে যেতে দিন…আ..”

ফিসফিস এই সুর বেঞ্জামিন গাড়ি থেকেই উপেক্ষা করে আসছে। মেয়েটার জ্বরে নাজেহাল অবস্থা। বাহিরে বৃষ্টির তেজও বেড়েছে। এইযে তারা মাত্র বাংলোতে পৌঁছালো আর তখনই বৃষ্টির হট্টগোল শুরু। বেঞ্জামিন মেয়েটাকে কোলে নেয় আলগোছে। মেয়েটার মেয়েলি অবয়ব লেপ্টে রইলো তার ঐ প্রশস্ত বুকে। পায়ের কদম অত্যন্ত দ্রুত। মেয়েটার শরীরের উত্তাপ তাকে গ্রাস করছে। নাক,ঠোঁট অসম্ভব লাল হয়েছে।

তার পেছনে দুরত্ব নিয়ে হাঁটছে এলেক্স,ইথেন। তাদের অবস্থান পরিমাপ করে বেঞ্জামিন অনেকটা তেজি রাশিয়ান ভাষায় আওড়ায়,

“আমার রুমে পাঠাবে ডক্টরকে।”

দুইজনেই থামে তার আদেশে। উল্টো ফিরে হাঁটতে থাকে। গার্ডেনের সেইফ হাউজে ডাক্তার এসে অপেক্ষা করছে বিশ মিনিট যাবত। এলেক্স বেঞ্জামিনের নির্দেশনায় আগে থেকেই ডাক্তার ডাকিয়েছে এইখানে।

“এই শয়তান গুন্ডা…আমি পালাবো। আমাকে ছেড়ে দিন!”

মেয়েটা আরমোড়া করে। বেঞ্জামিনের বুকের মধ্যিখানে তার ছোট্ট শরীর তিরতির করে। যতই হুশ আসছে মেয়েটার,সে ততই বকতে রইলো। বেঞ্জামিনের ক্রোধের মাত্র আজ একটুও কমার নাম নেই। তার হাতের মুঠো পূর্ব থেকে যা শক্ত ছিল,এখনো তা। তারউপর মেয়েটার এমন বকবক আরও তপ্ত করছে তাকে।

নুসাইবা অনবরত এটা সেটা বলেই যাচ্ছে। কিন্তু বেঞ্জামিন উত্তর দিলো না একটাও।

কক্ষে পৌঁছালে ধীরে শুইয়ে দেয় সে মেয়েটাকে। পর্দায় ঢাকা তার ছবিগুলো একে একে সরিয়ে রাখলো ড্রেসিং রুমের গোপন ড্রয়ারে। ফিরে এসে দৃষ্টি বিছানায় শুয়ে থাকা, চোখ টিমটিম করেও খুলতে ব্যর্থ মেয়েটার দিকে আটকে যায়। পেটের দিকে কাপড় ছিঁড়ে যাওয়া অংশে মেয়েটা সফেদ পেট দৃশ্যমান। শরীর হিম হয়ে আসে বেঞ্জামিনের। কিন্তু পায়ের দিকে চোখ পড়লে ভেতরটা নড়ে উঠে।

নুসাইবার পায়ে জখম হয়েছে। সে দ্রুত সেদিকে এগিয়ে যায়। পা জোড়ায় হাত বুলালে রমণী পা বটে নেয়,

“আহহ,জ্বলে।”

ফের মেয়েটা আবারো বলতে থাকে,

“লম্পট লোক,আমি পালাবো। আমাকে ধরতে পারবেন না।”

বেঞ্জামিন তার ঐসব কথায় পাত্তা দেয় না। মেয়েটা খালি পায়ে জঙ্গলে দৌড়ে কি হাল করেছে পায়ের! চোখ জোড়া রক্তিম হয় বেঞ্জামিনের। সে মেয়েটার পা টেনে নেয়। পায়ের উপরিভাগে হাত বুলায়। শার্টের হাতা দিয়ে সেই ময়লা,পায়ের ধুলা পরিষ্কার করে,

“আর কখনো এমন পাগলামো করার সুযোগ দিবো না জিঞ্জার কিটেন।”

দরজায় তখনি কড়া নাড়লে এলেক্স,বেঞ্জামিন উঠে দাঁড়ায়। রাশিয়ানে আওড়ায়,

“ওত্রাভ্(পাঠাও)।”

একজন মহিলা ডক্টর ভেতরে আসে। কুশল বিনিময় করতে চাইলে বেঞ্জামিন আঙুল তুলে নুসাইবার পানে দেখায়। মহিলা ভ্রু কুঁচকে নেয়। এমন পাথরের মতো মানুষ এই জনমে দেখেনি। ডক্টরকে কীভাবে সম্মান করতে হয় সেটার ম্যানারও কি নেই!

ডক্টর জেরিন নুসাইবার শরীরের অবস্থা বুঝে মেডিসিন লিখে দেয়। সাথে ব্যথা আর জ্বর থেকে রিলিফের জন্যে ইনজেকশন পুশ করে। যেনো মেয়েটা স্বস্তি পায়।

“মেডিসিন টাইম টু টাইম খেতে হবে। নাহয় ইনফেকশন হওয়ার চান্স থাকবে।”

“ওকে।”

বেঞ্জামিন প্রেসক্রিপশন হাতে নেয় না। পকেটে হাত ঢুকিয়ে অতি সোজা কথাটা বললে ডক্টর বিছানায় প্রেসক্রিপশন রাখে।

নুসাইবার তখন জ্ঞান অনেকটা সচল। বিশেষ করে ইনজেকশন দেওয়ার পর সে অনেকটা ভালো অনুভব করছিল। দৃষ্টি মেললে ঝাপসা অবয়বে বুঝে রুমে সেই শয়তান লোকটা ছাড়াও একজন মহিলা আছে! নুসাইবা নড়ে উঠে। ভেতরটা চিৎকার করতে চায়। কিন্তু শক্তিতে পারছে না।

সে কেঁপে উঠে ব্যথায়। পায়ের দিকে যেনো বিশাল ভার।

ডাক্তার রুম থেকে বেরুনোর আগেই নুসাইবা হালকা গলায় বলে উঠে,

“যাবেন না আমাকে রেখে! আমাকে নিয়ে যান!”

জেরিন শুনলো কি শুনলো না সেইসব তোয়াক্কা করেনি বেঞ্জামিন। সে ডক্টর বেরুনোর পর প্রেসক্রিপশন এলেক্সকে দিয়ে দরজা বন্ধ করে আবার।

নুসাইবা ততক্ষণে নিজের শক্তিতে নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্যে প্রস্তুত করে। নাকের পাঠা ফুলে উঠে তার ক্রোধে। বিশাল একটা রুমে মেয়েটার অবস্থান। এতটা লাক্সারিয়াস রুমে নিজেকে আবিষ্কার করে বুঝতে বাকি রইলো না এটা সেই শয়তান লোকটার কামরা!

বেঞ্জামিন তার কাছে হেঁটে আসে। বিছানায় সে বসলে নুসাইবা আরও দূরে ছিটকে যায়। যেনো লোকটা ছুঁয়ে দিলে তার পাপ লাগবে!

তবে ব্যাপারটা বেঞ্জামিন সহ্য করেনি একদণ্ড। সে ওভাবেই মেয়েটাকে লম্বা হাতে টেনে নিজের কোলে বসায়। বিছানায় তার উরু উঠিয়ে,সোজা ভাবে মেয়েটাকে শুয়ে দেয় আলগোছে,

“ভণিতা ছাড়া বিয়ে করবে। নাহয়!”

নুসাইবা লোকটার অবয়ব মাপে। সাদা আলোতে, সুদর্শন লোকটার মুখ নুসাইবার মন গলাতে পারেনি একবিন্দু। উল্টো এক ঘৃণা তার শরীরকে জেঁকে ধরে।

“নাহয় কি? কি করবেন আপনি? মেরে ফেলবেন? মেরে ফেলুন আমাকে। অন্তত আপনার মতো লোককে বিয়ে করতে হবে না!”

মেয়েটার ভঙ্গুর কন্ঠ নরম কিন্তু অত্যন্ত ধারালো। শক্তি নেই নিজেকে সামলানোর আবার হুমকি দিচ্ছে আরন বেঞ্জামিনকে!

বেঞ্জামিনের ক্রোধ মাথা থেকে নামেনি একটুও উল্টো এখন সেই ক্রোধ যেনো সীমা ছাড়িয়ে গেল!

সে নুসাইবার পিঠে হাত রাখে। অন্য হাতে তার গালের নরম ত্বকে স্পর্শ করে,

“বাবার সদ্য সফল ব্যবসায় ধ্বস হলে ব্যাপারটা কেমন হয়? ধরো এরপর তোমার বাবার আবার একটা হার্ট অ্যাটাক হলো? কিংবা তোমার মাকে তোমার বিয়ের প্রতি অনিহা,আমার থেকে পালিয়ে যাওয়া,মেয়ের বিয়ে ভাঙা এইসব জানাবো? আই সইয়ার উনি কন্টিনিউয়াসলি এইসব সহ্য করতে পারবেন না। কোনো কাউন্সিলিংও কাজে দিবে না। মেন্টাল হসপিটাল সাজেস্ট করব?”

এইসব কথাগুলো যেনো কথা নয়! একেকটা তীর।

নুসাইবার চোখে হৃদয়ের ব্যথিত পানি। সেই পানিতে ভেসে যাচ্ছে গাল। তারমানে বাবার ব্যবসার নতুন উন্নতি এই লোকটার জন্যে হয়েছে? কেনো করলো লোকটা এমন? তাকে পুতুল বানাতে নিজের নাকি অন্য কোনো কারণে? এতটা জঘন্য খেলা করছে এই পাষণ্ড লোক,শেষ পর্যন্ত মেয়েটার মাকেও গুটি বানাচ্ছে!

নুসাইবা সরতে চায়। বেঞ্জামিনও ছেড়ে দেয় তাকে। সে হুড়হুড় করে বিছানা থেকে নামে। পায়ে চাপ লাগায় অত্যন্ত পীড়া হয় অথচ মেয়েটা দাঁতে দাঁত চেপে সেটা সহ্য করে। ভয়ানক তাচ্ছিল্য করে শুধায়,

“আপনি এতো জঘন্য একটা জানোয়ার! আমি কখনো ভাবতে পারিনি। একটা মানুষ কিভাবে এমন খারাপ ব্যবহার করতে পারে? আমার ফ্যামিলিকে শেষ করে আপনি কি পাবেন?”

“তোমাকে পেতে যদি তোমার ফ্যামিলির ক্ষতি করতে হয়,তাহলে তাই করবো।”

বেঞ্জামিন উঠে দাঁড়ায়। খালি পায়ে নুসাইবা লোকটার সামনে অতি নগণ্য। যেনো তার ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।

“আপনি ওদের সাথে এমন করতে পারবেন না।”

নুসাইবা চিৎকার করে।

“আমি সব পারি। নমুনা দেখলে সহ্য হবে না তোমার।”

বেঞ্জামিন তার কাছাকাছি আসে। কোমর চেপে তাকে মখমলের কার্পেটের উপর দাঁড় করায়। এতে মেয়েটার পায়ের ব্যথা বেশ লাঘব পায়। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা করে না নুসাইবা। বেঞ্জামিন পিছে ফিরলে কৌশলে সে লোকটার কোমরে গুঁজে রাখা রিভলবার টেনে নেয়। কম্পিত হাতে তাক করে সেই রিভলবার বেঞ্জামিনের পানে।

“আমাকে যেতে দিন। নাহয় শুট করবো।”

নুসাইবা কন্ঠে তেজ নিয়ে আসে। দৃষ্টি তার অগ্নির মতো জ্বলজ্বল। বেঞ্জামিন পিছে ফিরে। এলোমেলো চুলে মেয়েটার মুখ ঢেকে কিছুটা। পড়নে কামিজের অবস্থা নাজেহাল। সফেদ পেট তখনো দেখা যাচ্ছে ছিঁড়ে যাওয়া অংশ দিয়ে।

তার চোখে নুসাইবাকে পাওয়ার নেশা। বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কপালের কিনারায় ঘষে বেঞ্জামিন। মেয়েটা রিভলবার ধরেছে ট্রিগার প্রেস করার উপরের দিকে। তাহলে শুট করবে কীভাবে!

সে অধর বাঁকা করে। চোখ হাসছে না। কেবল তার পুরুষালি ঠোঁটে এক বিষদ হাসি!

সেই হাসিতে নুসাইবার পিত্তি জ্বলে উঠে। সে রিভলবার ঝাঁকায় আবারো,

“আর একবার এগুলে কিন্তু সত্যি মেরে দিবো।”

“শাট আপ!”

বেঞ্জামিন অনায়াসে মেয়েটার হাত থেকে রিভলবার ছিটকে নেয়। সেটা সে আবারো কোমরের দিকে গুঁজে ফেলে। নুসাইবার বাহু আঁকড়ে ধরে তীব্র শক্তিতে। মোবাইল বের করে পকেট থেকে। ফোন দেয় ইথেনের নাম্বারে,

“ওরা কোথায়?”

“বস বৃষ্টির জন্যে জ্যাম শহর জুড়ে। আসতে সময় লাগবে আরো চল্লিশ মিনিট।”

“দোয়াদকে বলো ঐ লোককে নিয়ে ভেতরে আসতে,আমার বেডরুমে।”

বেঞ্জামিন ফোন রাখে। সামনে দাঁড়ানো মেয়েটা এতক্ষন তার হাতে কামড় অব্দি কেটেছে ছুটতে চাওয়ার উদ্দেশ্যে। অথচ ইস্পাতের মতো শক্ত হয়ে থাকা বেঞ্জামিন একটুও নড়লো না।

“এখন আমাদের বিয়ে হবে। মেনে নাও সব। আদারওয়াইজ, হাবিবাকে এই জনমে তোমার দেখা হবে না। এন্ড ইয়েস,তোমার বাবা মায়ের অবস্থা ঠিক তেমন করবো যেমনটা আগে বলেছিলাম।”

নুসাইবার সত্তা কেঁপে হিম করে শরীর। সে আসলে কী করবে এখন ভাবতে পারলো না। যে লোক তাকে পাতাল থেকে খুঁজে বের করতে পারে, সেই লোক বাকি কিছু করতে একটুও পিছপা হবে না। মেয়েটা ভেঙে পড়ে। কঠোর এই লোকটার অবয়বে চেয়ে মনটা আরও বিষিয়ে যাচ্ছে। সে চড় মারতে নিলে বেঞ্জামিন তার হাত ধরে ফেলে। মেয়েটার গলায় তার দেওয়া চিহ্নে আঙুল বুলিয়ে দেয়। পরক্ষণে মেয়েটার পিছে স্পর্শকাতর জায়গায় চড় দেয়। শব্দ হয় প্রখর,

“আগের হিসাব বরাবর।”

নুসাইবার পুরো শরীর নড়ে। মাত্র লোকটা কোথায় চড় দিলো? সে লজ্জায় রাগে ভেঙে যাচ্ছে মুহূর্তে। কেঁদে উঠে সশব্দে। তখন দরজায় কড়া নাড়ানোর শব্দ। দোয়াদ এসেছে নিশ্চয়। বেঞ্জামিন তার ক্লজেট থেকে একটা চাদর বের করে। মেয়েটার কামিজের ছিঁড়ে যাওয়ার অংশের দিকে নজর দেয়। মাথার উপর সেই চাদর রাখতে উদ্যত হলে নুসাইবা পিছে হটতে চেয়েও পারলো না। লোকটার সেই বাজে স্পর্শ এখনো মেয়েটার কাঙ্খিত স্থানে বহমান।

চাদরে ঢেকে গেল নুসাইবা। না তার ছেড়া কামিজ দেখা যাচ্ছে না তার মুখের কোনো অংশ। কেবল চিবুক থেকে মেয়েটার অস্তিত্ব বুঝা যাচ্ছে।

বেঞ্জামিন তাকে বিছানায় বসিয়ে দরজা খুলে। দোয়াদ ভিতরে আসে কাজিকে নিয়ে,সাথে একজন লয়ার। টাকার খেলায় বিয়ের কাগজ রেডি হয়েছে অতিদ্রুত।

বিয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাথে সাথেই নুসাইবা মুখ বের করে চাদরের নিচ থেকে। তাকায় সেই ভয়ানক লোকের অবয়বে। যে একটা রাক্ষস আর তাকে জোর করে বিয়ে নামক এক খেলায় নেমেছে। অথচ লোকটার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছে বেঞ্জামিন অত্যন্ত সিরিয়াস এই বিয়ে নিয়ে। কিন্তু নুসাইবার সেইসব বিষয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই।

“আমি এই বিয়ে করব না। বন্ধ করুন আপনারা এইসব।”

নুসাইবা উঠে দাঁড়ায়। বাকিরা থামে তার কথায়। বেঞ্জামিন এসে তার পিঠে হাত রাখে। অনেকটা ঝুঁকে কপালে চুমু দেয় আলগোছে,

“দোয়াদ গো এন্ড কিল হার প্যারেন্টস।”

“ইয়েস… বস ….”

দোয়াদ অনেকটা সময় নিয়ে বললেও পা সরায়নি। সাথে সাথে শুনতে পেলো মেয়েটার আর্তনাদ,

“না না না। প্লিজ না। আপনি এমন করতে পারেন না।”

“কবুল বলো এখনই…দোয়াদ গো।”

বেঞ্জামিন নুসাইবার হাত চেপে ধরে।

“না না দোয়াদ যাবেন না… বেঞ্জামিন..বেঞ্জামিন আমি আমি রাজি।”

নুসাইবা চিৎকার করে। পাগলের মতো ছুটতে চায় কিন্তু পারে না। লোকটার হাতের বাঁধনে আটকে রয়।

অতঃপর নুসাইবা কবুল বলতে বাধ্য হয় বেঞ্জামিনের নামের অধীনে। বেঞ্জামিনের পালা আসলে সে অতিদ্রুত কবুল বলে। এমনকি সিগনেচার করে এক নিমিষে। নুসাইবার সিগনেচার অত্যন্ত নড়বড়ে। আর সেখানে এই লোকটার সিগনেচার ইটালিক ফন্টে অত্যন্ত দুর্দান্ত।

“কংগ্রাচুলেশনস।”

উকিল হাত এগিয়ে দেয় বেঞ্জামিনের দিকে। বেঞ্জামিন শুধুমাত্র হাত ছুঁয়ে বলে উঠে,

“লিভ।”

দোয়াদ বাকিদের নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। নুসাইবা হন্য হয়ে বিছানায় বসে। ঘাড়ের উপর ঘোমটা সরে। চাদর আঁকড়ে কেঁদে যাচ্ছে মেয়েটা সমানে। যার থেকে পালাতে চাইলো শেষে কিনা তার কাছেই বন্দি হলো! বিয়েটা হওয়ার পরই নুসাইবা আর শক্তি পাচ্ছে না অবাধ্য হওয়ার। সে চোখ বুঁজে কেঁদেই তুচ্ছ। বেঞ্জামিন তার পাশে হাঁটু গেড়ে বসে। এলো চুল তার প্রেয়সীর। সেগুলো কানের পিছে গুঁজে দেয়,

“সার্ভেন্ট আসবে খাবার নিয়ে। ফ্রেশ হবে… আসো।”

“কেনো? ফ্রেশ কেনো হবো?যেটার জন্যে বিয়ে করেছেন সেটা এখনো করা হয়নি আপনার। নিন করুন! ভোগ করুন,তৃষ্ণা মিঠান!”

নুসাইবা নিজের গায়ের চাদর ফেলে। কামিজ নামায় কাঁধ থেকে।

বেঞ্জামিন সরলো না। নড়লো না। ওভাবেই উঠে মেয়েটার কাঁধে দাঁত স্পর্শ করে,শব্দ করে চুমু খায়,

“তোমার জন্যে আমার তৃষ্ণা আমরণ থাকবে, মরলেও এই তৃষ্ণা মিটবে না রূপসী।”

তার সেই বাক্য,সেই সুর,চোখে কিসের নেশা! নুসাইবা বুঝলো না। মেয়েটা কম্পিত ভঙ্গিমায় বিছানার চাদর খামঁচে ধরে,

“আপনি আমাকে ঘৃণা করে বিয়েটা করেছেন আমাকে শাস্তি দিতে? কিন্তু কিসের শাস্তি?”

“উহু…তুমি আমার সেই অবসেশন যার প্রতি অনুভূতির আমি এখনো নাম দিইনি। আমার নামহীন এক শান্তি তুমি।”

বেঞ্জামিন তাকে কাছে টেনে নেয়। কপালের সাথে কপাল ঠেকায়। বিয়েটা তাদের যেমন কঠোরতা আর অবাধ্য নিয়ে হয়েছে, বিয়ের পরের এই দৃশ্য যেনো সেটার ঠিক উল্টো।

নুসাইবা নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না। কিন্তু বেঞ্জামিনের এই রূপটাও তার সহ্য হচ্ছে না আতঙ্কে। সে লোকটার দিকে নজর দেয়। লোকটার অবয়ব অপূর্ব। চোখের দিকটা এত গাঢ়। এহেন বড় মাপের সুদর্শন লোকের জন্যে যেকোনো বিলিয়োনার মেয়ে সহজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সেখানে নুসাইবা এতটা নগণ্য…বেঞ্জামিন তাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্য টা কি ছিল!

“আমাকে সারাজীবন ঘৃণা করার জন্যে নিজের সাথে বন্দি করেছেন?”

“আমার নিচে ফেলে তোমার সুরে আমার নামের আর্তনাদে মগ্ন করানোর জন্যে বিয়ে করেছি।”

বেঞ্জামিন মেয়েটার অত্যন্ত নিকটে আসে।

নুসাইবা ঘাবড়ে উঠে। সে পা তুলে বিছানায়। দুদিকে মাথা নাড়ায় দ্রুত,

“ছিঃ ছিঃ লম্পট একটা!”

“তোমার জন্যে এর চেয়েও জঘন্য আমি। প্রুফ পাবেই।”

বেঞ্জামিন উঠে আলগোছে। নুসাইবার হাত ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়। প্রথমে চাদর সরিয়ে দেয় মেয়েটার সত্তা থেকে। ওড়না বিহীন মেয়েলি অবয়ব স্পষ্ট। মাথার উপর হট শাওয়ারের বর্ষণ হলে সেই অবয়বের প্রত্যেকটা ভাঁজ ফুটে উঠে।

“আপনি যান!”

নুসাইবা পেছনের দিকে ফিরতে চায়। কিন্তু বেঞ্জামিন তাকে ফিরতে দেয়নি। কোমর আঁকড়ে নিজেও সেই পানির নিচে চলে আসে,

“যান নয় জান ডাকো।”

অধর বাঁকা করে হাসে বেঞ্জামিন। আজ তার বেহায়া দৃষ্টি একটুও মেয়েটার সত্তার মাঝে থেকে নড়ছে না। মেয়েটার মেয়েলি নরম সত্তা মিশিয়ে নেয় বেঞ্জামিন তার প্রশস্ত বুকে। আলগোছে শার্ট খুলে নিজের। নুসাইবা নিজের চোখ মেলতেও দ্বিধা। সামনের এই পালোয়ানের উন্মুক্ত কাঠামো দেখে তার পায়ের নিচে যেনো মাটি সরে। নুসাইবার চোখ লোকটার গায়ের ট্যাটুগুলোর দিকে আটকে যাচ্ছে বারংবার। এই লোকের গায়ে ট্যাটু!

বাহুর উপরের আর কোমরের দিকের ট্যাটুতে কি লেখা সে বুঝলো না একদণ্ড। অন্য এক ভাষা। কিন্তু কাঁধের পিছের দিকে খেক শেয়ালের মুখ স্পষ্ট। মেয়েটার আত্মা নড়ে। সে লোকটার সফেদ বুকে হাত ঠেকে দেয়,

“সরুন!”

“কামিজ খুলো।”

বেঞ্জামিন নির্দ্ধিধায় বলে। নুসাইবা অবাক না হয়ে পারে না। সে দৃষ্টিতে তেজ রেখে তাকিয়ে রইলো। কিন্তু বাঁচলো না লোকটার অবাধ স্পর্শ থেকে। তার কামিজ মুহূর্তে শরীর থেকে দূরে গিয়ে টাইলসে পড়েছে। বুকের বার্থ মার্ক স্পষ্ট ফুটে উঠে।

নুসাইবা পেছনের দিকে ফিরে যায়। লজ্জায় সে মরে যাবে এমন অবস্থা। বেঞ্জামিন তাকে ঐ অবস্থায় পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে,

“এত লজ্জা পাচ্ছো ওয়াইফি,কিন্তু আমি বেলাজ,বেহায়া।”

পরপর মেয়েটার পিঠের মাঝে একটা গভীর চুমু দেয় বেঞ্জামিন।

ওয়াশরুমের অন্য দরজা দিয়ে সে ড্রেসিং রুমের দিকে এগোয়। ফিরে আসে একটা বিশাল তাওয়াল নিয়ে। ইতিমধ্যে সে প্যান্ট পড়েছে শুকনো। নুসাইবা ঝর্ণার নিচে ওভাবে দাঁড়িয়ে কাঁপতে রইলো। বেঞ্জামিন তার গায়ে পেছন থেকে তাওয়াল জড়িয়ে দেয়,

“কাম ফাস্ট। মেডিসিন নিতে হবে তোমার।”

তখন দরজা থেকে মেইডের গলার সুর ভেসে আসে। আর বেঞ্জামিন বেরিয়ে যায়। ক্লজেট থেকে টিশার্ট বের করে।

দরজা খুললে মেইড ভেতরে আসে। বেঞ্জামিন কক্ষ ত্যাগ করে। নিচ থেকে মায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

সে অত্র দিকে পা বাড়ায়।

নুসাইবা শাওয়ার থেকে বেরুলে রুমে কয়েকজন মেইড দেখতে পায়। যারা নুসাইবাকে দেখে সর্বপ্রথম প্রতিক্রিয়া দিলো তার রূপের জন্যে। বসের বধূ এমন সুহাসিনী,চোখ ফেরানো দায়। তারা তাকে নাইট সুট পড়াতে সাহায্য করলে তখন কক্ষে প্রবেশ করে পুতুল। নুসাইবাকে দেখতে পেয়ে অস্থির হয়ে গেলো।

মেয়েটা নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারলো কই! দৌড়ে গিয়ে হামলে পড়ে শাশুরির বুকে। আহত সুরে জানায়,

“আপনার ছেলে বদমাইশ। আন্টি আমাকে উনি অনেক জোর করে এই বিয়ে করেছে।”

“শান্ত হও মা। বেঞ্জামিন অনেক ভালো ছেলে আমার। কোনো ধরনের খারাপে ও নেই। বিশ্বাস রাখো আমার উপর,আমার ছেলের উপর। ও তোমাকে অত্যন্ত চায় তাই নিজের করেছে। আমি বলেছিলাম একটু ধৈর্য ধরতে। কিন্তু দেখো কি করলো ও! আজকেই প্রস্তাব দিয়ে আজকেই বিয়ে করেছে।”

পুতুল পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়। নুসাইবা মায়ের সুবাস পেয়ে সেখানেই মরিয়া হয়ে উঠে,

“উনি আমাকে থ্রেট দিয়েছেন বিয়ে না করলে আমার বাবা…মাকে অব্দি…”

“তোমার বাবা মায়ের সাথে ও কথা বলছে। আমার বিশ্বাস আমার ছেলে তাদের মন জয় করেছে ইতিমধ্যে।”

পুতুল যেন ছেলের উপর অন্ধ বিশ্বাস করে মেয়েটাকে শান্তনা দিচ্ছে।

“দেখি দেখি মেইড এইসব ছাড়াও আমার বৌমার গায়ের থেকে। ও আমার বাড়ির বড় বউ,শাড়ি অলংকারে প্রথম থেকে মুড়িয়ে থাকতে হবে।”

নুসাইবা নিজের ভাষা হারিয়ে ফেললো। এমন লক্ষ্মী মহিলার এমন দস্যু ছেলে কিভাবে হয়! তার ছেলে নাকি খারাপে নেই! অথচ রিভলবার রাখে সাথে আর গায়ে ট্যাটু। সবচেয়ে বড় খারাপ তো তার সাথে জোর করে বিয়ে করে হয়েছে। যত্তসব!

নুসাইবা বাবা মায়ের জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। কিন্তু না,তারা আসার নাম নেই। অথচ পুতুল ফিরে আসে একটা জামদানি শাড়ি আর স্বর্ণের অলংকার নিয়ে।

মেইডদের সাহায্যে পরিয়েও দেয় তাকে সেইসব। সত্যি বলতে নুসাইবা নিজেকে আয়নাতে দেখে লজ্জা পেলো ঢের। যার থেকে পালাতে চেয়েছে সে এখন তার বেডরুমে বউরূপে বসে। তবে হ্যাঁ,কোনো ভালো অনুভূতি নেই লোকটার প্রতি। আছে একরাশ ঘৃণা।

হেনা আর ইয়াসিন মেয়ের সাথে দেখা করে। বেঞ্জামিন তাদের ব্রেইন ওয়াশ করেছে মেয়েকে নিয়ে।সে কেবল এটা বুঝিয়েছিল, নুসাইবাকে সে এতটা পছন্দ করে যে আজকে বিয়ে না করে পারলো না। অপেক্ষা করাটা দুষ্কর ছিল তার। মূল কথা তারা দুজন দুজনের পছন্দের ফোয়ারা। কিন্তু কীভাবে কাহিনীর সূত্রপাত হয়েছে সেটা আর জানায়নি। তারা জিজ্ঞাসা করলেও বেঞ্জামিন একপ্রকার তাদের ইগনোর করেছে। শেষে পুতুল এসে ব্যাপারটা সামলে নেয়। হেনার কোনো অভিযোগ নেই। মেয়ের যে বিয়ে হয়েছে একটা ঘর হয়েছে এটাতেই সেই শান্তি। আর বেঞ্জামিনের সাথে এতক্ষণ কথা বলে ইয়াসিন নিজেও ভরসা পেয়েছে। নুসাইবা নিজেও হয়তো বেঞ্জামিনকে পছন্দ করতো,নাহয় কখনো এই বিয়েতে হঠাৎ করে সে রাজি হতো না। পুতুল আগেই তাদের বলেছিল বেঞ্জামিন আর নুসাইবা আজ বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তখন থেকেই ছেলের প্রশংসায় আর ছেলে মেয়েদের পছন্দ নিয়ে পুতুল নিজেও তাদের ভালোটা বলেই গান করছিল।

নুসাইবা মায়ের বুক থেকে মুখ উঠাতে চায় না। কারণ বেঞ্জামিন স্পষ্ট তাদের বুঝিয়েছে,তারা একে অপরকে পছন্দ করে। যার কারণে হুট করেই বিয়েটা করে ফেলে পরিবার ছাড়া। কারণ হাবিবার অনুষ্ঠানেও বাবা মায়ের উপস্থিতি দরকার। অত্যন্ত দরকার।

অথচ নুসাইবা কী ঝড়ের উপরে গেলো আজ সারাক্ষণ সেটা মাকে বুঝতে দিলো না একটুও। পরপর তারা চারজন আবার সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাবে ফিরবে। হাবিবাদের অনুষ্ঠান তখনো চলছিল।

বেঞ্জামিন এলেক্স আর দোয়াদের সাথে কথা বলে রুমে ফিরে। নুসাইবা মায়ের সাথে বিছানায় মুখ লুকিয়ে বসে। পুতুল বেঞ্জামিনের দিকে এগিয়ে যায়। আলগোছে বলে,

“তোমরা যাবে না আর প্রোগ্রামে?প্রোগ্রাম শেষ বলতে পারো। ওদের আনতে যেতে তো হবেই। নাহয় আত্মীয়রা কি বলবেন?”

“তোমরা যাও। আমি আর সাইবা আছি বাসায়।”

বেঞ্জামিন মেয়েটার পানে তাকিয়ে বলে। স্পষ্ট দেখলো তার কন্ঠ শুনে মেয়েটা তার মায়ের কাঁধ আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

“বাবা,বিয়েটা হুট করে করেছো তোমরা। কিন্তু ওকে আমাদের সাথে নিয়ে যাবো রাতে। পরে সব প্রোগ্রাম করে আবার নিয়ে আসবে।”

“আন্টি,আমার ওয়াইফ আমার সাথে থাকবে।”

তার সেই বাক্যে নুসাইবা মায়ের বুকে গভীর লেপ্টে যায়। লোকটা তার সাথে কি করবে সে বেশ ভালো জানে। তাই তাকে যেতে না দেওয়া!

কিন্তু এখন মুখ খুললেও বিপদ। লোকটা ঢের শয়তান। যা বলে তাই করতে পারবে।আগে থেকেই বাবা মাকে নিয়ে থ্রেট দিয়ে রেখেছে!

অতঃপর পুতুল,হেনা আর ইয়াসিন বেরিয়ে যায় ক্লাবের উদ্দেশ্যে।

বেঞ্জামিন শব্দ করে দরজা বন্ধ করে। নুসাইবা বিছানার চাদর খাঁমচে রয়। ঝুঁকে যায় অনেকটা।

লোকটা খাবারের ট্রে ঘষে বিছানার কাছে যায়। নিজে বিছানায় বসে নুসাইবার মুখে এক চামচ বিরিয়ানি তুলে দেয়,

“হা করো।”

লোকটা বলে ঠিক। কিন্তু তার দৃষ্টি আটকে বউয়ের প্রাণে। ঘোমটা টানা লজ্জিত এই রমণী রেগে অস্থির। কিন্তু বেঞ্জামিন সেইসব ধার ধরে না। চুপ থাকা নুসাইবার মুখে খাবার তুলে দেয় জোর করেই।

“সবকিছুতে জোর করলে তোমার ছোট্ট শরীর মেনে নিতে পারবে না,রূপসী।”

নুসাইবার কান গরম হয়ে আসে। তবে মুখে এই অমৃত খাবারের স্বাদ লাগতেই সে চিবুতে শুরু করে। বেঞ্জামিন মেয়েটাকে খেতে দেখে হাসে।

টেনে নিয়ে তাকে কোলে তুলে। শেষমেশ মেয়েটা সেই শয়তানের হাতেই খাবার খেয়ে ঔষুধ খেয়ে নেয়। নুসাইবা খেয়াল করে লোকটা খায়নি। কেবল তাকে খাইয়ে ট্রে সরিয়ে রাখে।

নুসাইবার ঘৃণা এতটা বেশি যে সে লোকটাকে খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস অব্দি করলো না। সে মুখ ঘুরিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। মাঝে একটা বালিশ রাখতে চাইলেই বেঞ্জামিন হুংকার দিয়ে উঠে,

“তোমার আর আমার মাঝে এক ইঞ্চি দুরত্ব আসবে তো আজকে এমন কিছু করবো,যেটার জন্যে আমাকে তুমি দেখলেই ঘৃণায় কুঁকড়ে উঠবে।”

“আমার… আমার আপনাকে মেনে নিতে সময় লাগবে।”

নুসাইবা বলে উঠে সাহস করে।

“হোয়াটএভার!”

কথাটা বলতে বলতে বেঞ্জামিন নিজের টিশার্ট খুলে। নুসাইবা ভয়ে অস্থির হয়ে উঠে। মেয়েটা বেড থেকে নামতে চাইলে বেঞ্জামিন তার পা আঁকড়ে ধরে। শাড়ির আঁচল টেনে খুলে অনায়াসে।

নুসাইবা তার হাতে খামচি দেয়। বাহুতে কামড় দিতে চাইলে নিজেকে আবিষ্কার করে এই বলিষ্ঠ লোকের নিচে। লোকটার প্রত্যেকটি সত্তা গ্রাস করে নেয় তার ছোট্ট তনুকে। বেঞ্জামিন মেয়েটার বুকে নিঃশ্বাস ফেলে। শান্তির এই শ্বাস নেওয়াটা এতদিন তার জন্যে কেবল এক দুরত্ব ছিল। যেটা আজ সে মিশিয়ে ফেলেছে।

বেঞ্জামিন মেয়েটার ব্লাউজ সরায়। বুকের সেই বার্থ মার্ক খুঁজে বের করে। অত্যন্ত সুন্দর। দৃষ্টি মিলে দুইজনের। নুসাইবার চোখ অশ্রুতে ভিজে। তোয়াক্কা করলো না বেঞ্জামিন। নিজের অধর ছোঁয়ায় মেয়েটার সেই সংবেদনশীল জায়গায়,দৃষ্টি রাখে বধূর অনুভূতির নজর জোড়ায়। মেয়েটার চোখ বুঁজে নেয়। নুসাইবা অত্যন্ত শিহরণে দাঁতে দাঁত চাপে।

পরপর অনুভব করে লোকটা তার সত্তা থেকে পুরো ব্লাউজ সরিয়ে ফেলেছে! ভেতরের সেই নিষিদ্ধ বস্ত্রেরও ছাপ নেই। নুসাইবা চিৎকার করে মৃদু,

“না না না। বেঞ্জা…বেঞ্জামিন! প্লিজ…”

কিন্তু বেঞ্জামিন সরার পাত্র নয়। সে নাক ঘষে মেয়েটার সত্তায়।হাতের স্পর্শে,আঙুলের মায়ায় মাতাল করে তাকে। অধর ছুঁয়ে দেয় পরপর।

বেঞ্জামিনের চোখ ছোট হয়ে আসে। অনুভূতির শিউরে সে টালমাটাল। কিন্তু তার আফিম অত্যন্ত নাজুক। মেয়েটার সময় লাগবে সে জানে। আজ বধূ যা রূপ দেখেছে সে বেঞ্জামিনের,বেশি ছুঁয়ে দিলে মেয়েটা স্থির থাকবে না,অজ্ঞান হবে। সে বাঁকা হাসে অথচ দৃষ্টিতে নিষ্ঠুরতা।

বধূর এই উন্মুক্ত সত্তা তাকে পাগল করে মারছে। সে নুসাইবার কম্পিত ঠোঁটে হাত বুলায় বিশ্রীভাবে। অধরের কিনারায় লেহন করে বলে উঠে,

“প্লিজ এখন বলার কারণ নেই। ঘুমাতে দাও আমায়। ডিস্টার্ব করলে নিচেরটাও হারাবে। তখন কোনো প্লিজ আমাকে আটকাতে পারবে না,রূপসী।”

চলবে…….

কপি করা নিষেধ।

সবার কমেন্টের অপেক্ষায়।প্লীজ যারা গল্প পড়েন অবশ্যই লাইক কমেন্ট করবেন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন