#আশিক_আল_জিন
#পর্ব_৫
#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া
ইদানীং আরিবার জীবনে কী ঘটছে, সে নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। মনটা যেন অকারণে ভারী হয়ে আছে, ভাবনারা ছড়িয়ে–ছিটিয়ে। হাঁটতে হাঁটতে সে পুরোপুরি নিজের জগতে ডুবে ছিল। হঠাৎ চোখের পলকে সামনে যা দেখল, তাতে সে থমকে গেল। রাস্তার মাঝখানে একেবারে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাদা-ধূসর লোমে ঢাকা এক খরগোশ। বড় বড় চোখে যেন তাকিয়ে আছে সরাসরি আরিবার দিকে। মুহূর্তের জন্য চারপাশের শব্দ মিলিয়ে গেল। আরিবার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক আনন্দময় হাসি ফুটে উঠল।
অন্য দিকে, নিজের দিকে এক মেয়েকে তাকিয়ে হাসতে দেখে দুলফিকারের বিস্ময়ের শেষ রইল না। আরিবার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে, আরিবা হালকা হাসছে। দুলফিকারের দৃষ্টি ধীরে ধীরে আরিবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত বয়ে গেলো। এতটুকু গড়নের মেয়ে, কিন্তু চেহারায় এক অদ্ভুত আকর্ষণ। তার ঠোঁটের কোণে অনায়াসেই এক হাসি ফুটে উঠল। আরিবা আসলে দুলফিকারের দিকে নয়, রাস্তার মাঝখানে বসে থাকা খরগোশটির দিকেই এগোচ্ছিল। খরগোশটি নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল। সে ঝুঁকে বসে হাত বাড়িয়ে ধরতে চাইলো, কিন্তু মুহূর্তেই খরগোশটি একলাফে সরে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। সহসাই তার মন খারাপ হয়ে গেল।
দুলফিকার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। মেয়েটির মন খারাপ হওয়াতে তারও অকারণ অশান্তি লাগল। হঠাৎ, নিজের জাদুর ক্ষমতা ব্যবহার করে সে সেখানে এক কালো খরগোশ হাজির করল। আরিবা চমকে উঠলো। এতোক্ষণে কোথা থেকে যেন কালো এক খরগোশ এসে দাঁড়িয়েছে! তাও আবার এমন গভীর কালো রঙের? কিন্তু আরিবা কোনো আগ্রহ দেখাল না। বসা থেকে উঠে দাঁড়াল, আর সেই খরগোশের দিকে একবারও এগোল না। আরিবার উদাস ভঙ্গিতে চলে যাওয়া দুলফিকারের চোখ এড়িয়ে গেল না। কালো খরগোশটা তার জাদুর ফল, ভালোবেসে মেয়েটিকে খুশি করার জন্যই হাজির করেছিল। অথচ সে একবারও তাকাল না, ছুঁতেও চাইল না। দুলফিকারের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, চোখে তীক্ষ্ণ ঝিলিক নেমে এলো। বুকের ভেতর যেন গরম ধোঁয়া জমে উঠল। এভাবে কেউ তার উপহার উপেক্ষা করে চলে যেতে পারে? ঠোঁটের কোণ টেনে হালকা এক ব্যঙ্গাত্মক হাসি ফুটল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্রোধে ফুঁসছিল সে।
___________________
মেয়েকে দূরে পাঠিয়ে মোটেও ভালো নেই রুহান পরিবার। সালমা সারাদিন চুপচাপ থাকেন, দরকার ছাড়া একটাও কথা বলেন না। রুস্তমও প্রায় একইরকম চুপ হয়ে গেছেন। আরিবা তাদের নিজের সন্তান নয়। তারা ছিলো নিঃসন্তান। কিন্তু কোনো এক ঝড়ের রাতে জঙ্গলের পাশের রাস্তায় আরিবাকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন রুস্তম। তখন আরিবার বয়স ছিলো মাস ছয়েক, দুধের শিশু । সেই ঝড়ের রাতে রুস্তম আরিবাকে বাড়ি নিয়ে এসে সালমার কোলে তুলে দিয়েছিলেন। সালমাও আরিবাকে পরম মমতায় কোলে তুলে নিয়েছিলেন। সেই থেকেই আরিবা রুহান পরিবারের একমাত্র মেয়ের পরিচয়ে বড়ো হয়েছে। তবে আরিবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে রুস্তম অনুভব করেছেন, সে কোনো সাধারণ মেয়ে নয়। যদিও তার মধ্যে কখনো প্রকাশ্য কোনো অলৌকিক ক্ষমতা দেখেননি, তবু তার উপস্থিতি ছিল এক অদ্ভুত শক্তির মতো। আরিবার উপস্থিতি সব সময় একটা আলাদা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। রুস্তম যখনই কোনো জিনে আক্রান্ত রোগীর মুখোমুখি হতেন, অদ্ভুতভাবে তখনই সেখানে এসে উপস্থিত হতো আরিবা। যেন অদৃশ্য টানে তাকে টেনে আনে সেই কক্ষে। রোগীর কাছে গিয়ে শুধু হাত রাখত, অথবা নীরবে পাশে দাঁড়াতো। এতেই যেন ধীরে ধীরে রোগীর চোখের ভয় মিলিয়ে যেত, শরীরের কাঁপুনি থেমে যেত। কয়েক দিনের মধ্যেই তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠত। আরও বিস্ময়ের বিষয়, আরিবার উপস্থিতি পাওয়া সেই মানুষগুলোর চারপাশে আর কোনোদিন অশুভ ছায়া ভিড়তে সাহস করত না।
এই সবকিছু ছোটবেলা থেকেই রুস্তমকে ভাবিয়ে তুলত। আর যতই ভাবতেন, ততই অজানা এক ভয় গ্রাস করত তাকে। অবশেষে সেই ভয়ই তাকে বাধ্য করল কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে–নিজেদের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে আরিবাকে।
“আপনি আরিবাকে কেন দিয়ে এলেন? বাড়িটা যেন হঠাৎ একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে…”
বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন রুস্তম। পায়ের শব্দে ঘুরে দেখলেন,সালমা এসে দাঁড়িয়েছে পাশে।
“যা করেছি, আরিবার ভালোর জন্যই করেছি, সালমা।”
রুস্তমের কণ্ঠ ছিল দৃঢ়, কিন্তু গভীরে চাপা কষ্ট লুকানো।
ঠুকরে কেঁদে উঠলেন সালমা। রুস্তম হাত বাড়িয়ে তার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলেন
“শান্ত হও, সালমা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আমরা গিয়ে আরিবার সাথে দেখা করে আসব।”
তিনি ধীরস্বরে বললেন।
সালমা কোনো কথা বললেন না। নিঃশব্দে স্বামীর বুকে মুখ গুঁজে দিলেন, কেবল মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। সন্ধ্যার ম্লান আলোয় বারান্দা আরও ফাঁকা লাগছিল।
________________
তিন ছেলেমেয়ে এখনও জিন রাজ্যে ফিরে না আসায় অস্থির হয়ে উঠেছেন মালিক আল জিন। বয়স এখন অনেক, শরীরও আগের মতো শক্তিশালী নেই। নিজের বিশাল কক্ষে এদিক-ওদিক পায়চারি করছেন তিনি। জানেন, আর কয়েক বছরের মধ্যেই সিংহাসনে নতুন রাজাকে বসাতে হবে। কিন্তু দুই ছেলের মধ্যে কাকে সেই দায়িত্ব দেবেন– এই প্রশ্নে মনটা যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। যোগ্যতার বিচারে নুসাইর নিঃসন্দেহে সবার সেরা– বুদ্ধিমান, সুবিবেচক, এবং ন্যায়পরায়ণ। তাকে রাজা করার বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই কারও।
তবু সমস্যাটা অন্য জায়গায়, নুসাইর বড্ড নরম মনের জিন। রাজ্য শাসন কেবল বিচক্ষণতায় চলে না, কখনো কখনো নির্মম সিদ্ধান্তও নিতে হয়। আর সেই কঠোরতা, সেই শীতল দৃঢ়তা রয়েছে শুধু দুলফিকারের মধ্যে।
____________
কক্ষে এসে বইপত্র টেবিলের ওপর রাখলো আরিবা। শরীরটা বড় ক্লান্ত লাগছে আজ। বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল সে। আচমকাই ঘরের আবহাওয়া যেন বদলে গেলো। কেমন শীত শীত অনুভব হতে লাগলো আরিবার। পায়ের দিক থেকে কম্বল টেনে গায়ে জড়িয়ে নিল সে, চোখ না খুলেই। অদৃশ্য কোনো কোণায় দাঁড়িয়ে দুলফিকারের ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটে উঠল। মুহূর্ত পরে, সে এসে আরিবার পাশে কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে পড়ল। আরিবার চোখ, ঠোঁট, গাল– সব যেন অবিশ্বাস্যভাবে টানছে তাকে।
আলতো করে আঙুলের ডগা দিয়ে সে ছুঁয়ে দিল আরিবার গলা। হঠাৎ চোখ মেলে তাকাল আরিবা। মনে হলো যেন কেউ ছুঁয়ে গেল।
কিন্তু আশেপাশে কাউকে দেখতে পেলো না সে। মনের ভুল ভেবে আবারও চোখ বন্ধ করে ফেলল আরিবা। দুলফিকার মিটিমিটি হাসছে কেবল। আরিবার হঠাৎ খুব ঘুম পাচ্ছে। এতটা ঘুম যে সে চাইলেও না ঘুমিয়ে পারবে না। মুহুর্তের মধ্যে আরিবা ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলো। তাতে দুলফিকারের ঠোঁটের কোণের হাসি আরো প্রসস্থ হলো। সে এবার আরিবার কপালে পড়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো আস্তে করে কানের পাশে গুঁজে দিলো।
তার চোখে আরিবার প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ।
মনের অজান্তেই সে তার প্রতিটা রেখা, প্রতিটা স্পর্শ খুঁজে বেড়াচ্ছে। আলতো করে, নিখুঁত স্পর্শের মতো,দুলফিকারের আঙুলের ডগা গেল আরিবার গলার মসৃণ ত্বকে। হাতটা ধীরে ধীরে নেমে এল, আরিবার কানের লতিতে এক সরস খেলনার ছোঁয়া। আঙুল দিয়ে বৃত্তাকারে মনোরম খেলা শুরু করল। হঠাৎ সেই আঙুলটি ঢুকিয়ে গেল কানের ছোট ছিদ্রে, নরমভাবে চাপ দিয়ে, যেন প্রেমের এক নরম গোপন বার্তা দিচ্ছে। দুলফিকার ঠোঁটে ফুটল এক শয়তানি, মোহময় হাসি।
নিঃশব্দ স্পর্শগুলো আরিবার দেহ জুড়ে ঝড় তুলল। মন যেন আগুনে জ্বলছে, শরীরের প্রতিটি কোণে এক অদ্ভুত অনুভূতি ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু আরিবা গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে।
আঙুলগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে আনল গলার দিকে। তপতপে স্পর্শ বৃত্তাকারে চলে এল বুকের মাঝখানে, যেখানে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল তার হৃদস্পন্দনের ছন্দ।
এই প্রথম কোনো মানবীর হৃদস্পন্দন এত কাছে থেকে শুনছে দুলফিকার। ছন্দময় সেই শব্দে অদ্ভুত অনুভূতি ভর করল তার মধ্যে। ইচ্ছে হলো– এই শব্দ আরও কাছে থেকে শুনতে। তাই ধীরে মাথা ঝুঁকিয়ে কান পেতে রইল আরিবার বুকে, আর সেই সাথে অনুভব করল তার উষ্ণ নিঃশ্বাসের নরম ছোঁয়া।
আরিবা গভীর ঘুমের মাঝে ডুবে আছে। দুলফিকার উঠে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। তার চোখে যেন এক অদ্ভুত উষ্ণতা ও রহস্য মিশে আছে। সে আরিবার দিকে একবার তাকিয়ে মৃদু হাসল। হাতের মুঠো থেকে একটা কালো গোলাপ বের করলো। গোলাপে কাঁটা দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলল সে। আরিবার কোমল হাতে গোলাপটি রাখার জন্য সে সাবধানে গোলাপের কাঁটা আঁচড়ে ফেলল। আরিবার হাতের মুঠোয় গোলাপটি রেখে সে জানলার দিকে এগিয়ে গেল। দুলফিকার শেষবার আরিবার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করলো,
“ যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে আমার দেখা না হচ্ছে ততক্ষণ এই ফুল তোমার জন্য।”
তারপর কৌতূহলী বাতাসের সঙ্গেই মিলিয়ে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
____________
“ ভাইজন? দুলফিকার ভাই কোথায় গেলেন?”
হাঁটতে হাঁটতে কলেজ থেকে দূরে চলে এসেছে সুলতানা ও নুসাইর। সুলতানার কণ্ঠে উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে।
“ কোথায় গেলো সেটাই ভাবছি। আমাদের ফিরতে হবে এবার। “
দুই ভাইবোন যখন দুলফিকারকে নিয়েই আলোচনা করছিল তখুনি সামনে এসে হাজির হলো সে। নুসাইর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“ কোথায় ছিলে দুলফিকার? “
“ তোমাকে বলতে বাধ্য নই আমি। আমরা কি এখন ফিরবো?”
নুসাইর সুলতানার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ হ্যাঁ। সুলতানা, ঘোরাঘুরি হয়েছে? “
“ জি ভাইজান। “
হেসে বলল সুলতানা। নুসাইর সামনের দিকে হাত বাড়িয়ে ইশারা করতেই মাটিতে হঠাৎ ঘুর্ণায়মান একটি আলোয় ভরা বৃত্ত তৈরি হলো।
তারা তিনজন ধীর পায়ে একে একে বৃত্তের মধ্যে প্রবেশ করল। বৃত্তটি যেন জীবন্ত, ধীরে ধীরে তাদের চারপাশ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো,
মৃত্যুর মতো গভীর নীরবতা এসে তাদের চারপাশে নেমে এলো।
____________
রুমানার ঘরে বসে আছে সলিমুল্লাহ খান। তিনি প্যারানরমাল বিষয় নিয়ে গবেষণা করার পাশাপাশি একজন হুজুরও। রুমানাকে দেখার জন্য তাকে এ বাড়িতে আনা হয়েছে আজ। রুমানার মা বলেকয়ে তার বাবাকে দিয়ে সলিমুল্লাহকে আনিয়েছেন। রুমানার বাবা আবার এইসব অদৃশ্য শক্তি সম্পর্কে বিশ্বাস করেন না।
“ হুজুর রুমানার সাথে এমন কেন হয়েছিল? “
সলিমুল্লাহ চুপচাপ রুমানার দিকে তাকিয়ে আছেন। রুমানার মা আর বড়ো ভাই আগ্রহী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সলিমুল্লাহর দিকে।
“ সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করুন। রুমানার সাথে অনেক খারাপ কিছু ঘটতে পারতো। কিন্তু কিছু হয়নি এখনো। আশা করি ভবিষ্যতেও কোনো সমস্যা হবে না। ওর সাথে খারাপ জিন ছিলো কিছুদিন। তবে জিনটি মারা গিয়েছে। এই চমৎকার কীভাবে ঘটেছে আমি জানি না। তবে জিন মারা যাওয়ার পাশাপাশি রুমানার শরীরের চারপাশে অদৃশ্য এক সুরক্ষা কবচ তৈরি হয়েছে। এখন কোনো অশুভ শক্তি ওর আশপাশেও আসতে পারবে না। “
সলিমুল্লাহর কথায় রুমানা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল। বাকিরাও মনে মনে সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করেছেন।
“ ধন্যবাদ আপনাকে, সবকিছু বলার জন্য। “
“ এটা আমার কাজ। “
রুমানার ভাই রিয়াজ বলল,
“ চলুন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসছি। “
“ দরকার নেই বাবা। আমি চলে যেতে পারবো। “
রিয়াজ সলিমুল্লাহকে বাড়ির দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসতে গেলো। রুমানার মা, মেয়ের পাশে বসলেন।
চলবে...
নোট– গল্পের প্লট চেঞ্জ হয়েছে। আরিবা সাধারণ মানুষ নয়। এখন গল্পটা সম্পূর্ণ ফ্যান্টাসি হিসেবে পড়তে পারবেন। জিন, মানুষ বলে কারো সমস্যা হবে না।
আগের পর্ব https://www.facebook.com/100085130931546/posts/727018763479148/
পরের পর্ব https://www.facebook.com/100085130931546/posts/728599059987785/