#আশিক_আল_জিন
#পর্ব_১৮
#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া
আরিবার চোখে অবিশ্বাস ভেসে উঠলো।
“ চাচাতো ভাই!”
রোদ্দুর ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো। কণ্ঠস্বর গম্ভীর কিন্তু স্নিগ্ধ।
“ হ্যাঁ, আরিবা। আমি তোমার বাবার ভাইয়ের ছেলে। আমরা একই রক্তের উত্তরসূরি। তুমি যাকে এতদিন সাধারণ শিক্ষক ভেবেছো, আমি কেবল সেই ছদ্মবেশে ছিলাম। আসলে আমি তোমার অভিভাবক, রক্ষক… আর তোমার বাগদত্তা।”
আরিবার বুক কেঁপে উঠলো। একের পর এল চমক পাচ্ছে সে।
“ বাগদত্তা?”
রোদ্দুর চোখ নিচু করলো, যেন অতীতের ভার তার কণ্ঠকে ভারী করে তুলেছে। তবে সবকিছুই যে ছলনা সেটা আরিবা ঠিক বুঝতে পারলো না।
“ হ্যাঁ, আরিবা। ছোটবেলায় আমাদের দুই পরিবারে প্রতিশ্রুতি হয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হওয়ার আগেই… এক বিভীষিকা নেমে এলো। তুমি জানো, তোমার বাবা-মায়ের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা ছিল না।”
আরিবার চোখ ছলছল করে উঠলো। তার বাবা-মা! নিজের বাবা-মা.. যাদের সাথে ওর রক্তের সম্পর্ক ছিলো।
“ কী বলছেন? আমার বাবা-মার কী হয়েছিল? বলুন না… প্লিজ বলুন!”
ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো আরিবা। বুকের ভেতর যেন দ্রিম দ্রিম শব্দ হচ্ছে ওর। রোদ্দুর এবার চোখ তুলে তাকাল, তার চোখে বিদ্বেষের আগুন জ্বলছে।
“ তারা নিরপরাধ ছিলেন। জিন রাজা মালিক আল জিন, ঠিকই শুনছো– তার ষড়যন্ত্রেই তোমার পরিবার ধ্বংস হয়েছিল। তোমার বাবা-মা নিহত হয়েছেন জিনদের কারণে। এমনকি তোমার বড় ভাইকেও ছাড় দেয়নি তারা।”
আরিবার শ্বাস আটকে এলো। গলা শুকিয়ে গেলো।
“ জিনরা? মানে… দুলফিকারের রাজবংশ?”
“ হ্যাঁ।”
রোদ্দুর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।
“ দুলফিকার সেই বংশের রাজপুত্র। “
আরিবা কান্না থামিয়ে রোদ্দুরের থেকে সবকিছু জানতে চাইলো। রোদ্দুর ঘরের মাঝে পায়চারি করতে করতে বলতে শুরু করলো সবকিছু।
সময়টা তখন আরিবার জন্মের একমাস পর। পুত্র সন্তানের পর পুতুলের মতো একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়াতে মেলিসা এব আযান ভীষণ খুশি ছিলেন৷ আরিবার বড় ভাই আজলানের বয়স তখন দশ বছরের বেশি। এতগুলো বছর পর আবারও মা হতে পেরে মেলিসা যেন একটু বেশিই খুশি ছিলো। কিন্তু এতো খুশি সহ্য হলো না প্রকৃতির। জিন রাজ্যের সাথে পরী রাজ্যের আগে থেকেই একটা সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কথা ছিলো। জিন রাজ্যের রাজপুত্র মালিক আল জিনের সাথে পরী রাজকন্যা মেলিসার বিয়ের কথা পাকাপোক্ত হওয়ার সাত দিনের মাথায় মেলিসা ভ্যাম্পায়ার আযানের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে এতে ভীষণ অপমানিত হয় জিন রাজ্য এবং রাজাসহ, রাজপুত্রও। পাশাপাশি পরী রাজ্যের ওপর তাদের দাবিদাওয়ার কোনো অবকাশ না থাকাতে ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন মালিক আল জিন। যৌবনে ভীষণ খারাপ একজন জিন ছিলোন তিনি। সময় গড়াতে থাকে। সবাই যার যার জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও মালিক আল জিন মনে মনে ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন। একজন ভ্যাম্পায়ার ও পরীর মিলন ছিলো সমাজ ও প্রকৃতি বিরোধী কাজ। মেলিসা ও আযান তাই করেছিল এবং যথাসম্ভব সবার থেকে দূরে বসবাস করতো তারা। তবে মালিক আল জিন ধীরে ধীরে জিন, ভ্যাম্পায়ার এবং পরী রাজ্যের কিছু অসাধু ধর্মবিশ্বাসীকে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। এবং দীর্ঘ সাড়ে দশ বছর পর মেলিসা ও আযানের অবস্থান শনান্ত করে মালিক আল জিন। তবে মেলিসা কোনোভাবে বিষয়টা আগেই বুঝতে পেরেছিল এবং ছেলের কোলে মেয়েকে দিয়ে অনেকটা দূরে চলে যেতে বলেছিল। আজলান না চাইতেও সেদিন বাবা-মাকে ছেড়ে ছোট্ট বোনটিকে নিয়ে মানুষের বসতির দিকে প্রাণপনে ছুটছিলো। কিন্তু একটা সময় আজলান বুঝতে পেরেছিল তার আশেপাশে অন্য কেউ আছে। হয়তো জিনরা ভেবে আজলান খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে আরিবাকে একটা ফাঁকা রাস্তার ওপর রেখে নিজে আবার জঙ্গলে ফিরে গিয়েছিল। আর তারপরই! জিনরা আরিবার বাবা-মা এবং আজালনও মেরে ফেলেছিলো। আরিবা পড়ে ছিলো জনমানবহীন সেই ফাঁকা রাস্তায়। ছোটো একটা শিশুর হাতে ছিলো একটা চিঠি, তাতে লেখা ছিলো কেবল আরিবার জন্মসাল এবং নামটুকু!
রোদ্দুরের ঠোঁট থেকে একে একে সব সত্য উচ্চারিত হচ্ছিলো এতক্ষণ। প্রতিটি শব্দ যেন শূল হয়ে বিঁধছিলো আরিবার অন্তরে। পরিবারের মৃত্যুর রহস্য, জিন রাজ্যের ষড়যন্ত্র সবকিছু যখন স্পষ্ট হয়ে উঠলো, তখনই হঠাৎ তার বুকের ভেতরটা ধ্বসে পড়লো। চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে হুঁশ হারানো মানুষের মতো বসে পড়লো সে। বুকের ভেতর চাপা হাহাকার গর্জন তুললো নিঃশব্দে। একসময় কাঁপতে কাঁপতে মুখটা তুলে ধরলো, চোখেমুখ ফুলে গেছে, অশ্রুর দাগে ভিজে উঠেছে।
কিন্তু সেই চোখে আর আগের মায়া নেই। সেখানে ফুটে উঠেছে অগ্নিশিখার মতো দাউ দাউ করে জ্বলা প্রতিশোধ। চোখদুটি গাঢ় নীল-লাল আভায় দীপ্ত হয়ে উঠলো। ভেতর থেকে যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি ফুঁড়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎই পিঠের ভেতর টান ধরলো। ফটাস ফটাস শব্দ করে বেরিয়ে এলো সাদা-কালো মিশ্রিত ডানা। ঘর কাঁপতে শুরু করলো। বাতাস ভারী হয়ে উঠলো তার উপস্থিতিতে।
“ আমার মা-বাবাকে মেরেছে তারা…”
আরিবার কণ্ঠ কাঁপছিল, কিন্তু সেই কাঁপন ছিলো ভয় নয় বরং ক্রোধের।
“ আমি আজ থেকে মানুষ নই… আমি আরিবা নই… আমি ভ্যালেরিনা!”
রোদ্দুর স্তম্ভিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। মুহূর্তের মধ্যে চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি যেন এক নতুন জন্ম নিলো। তার চোখেমুখে অমানবিক দীপ্তি, ভেতরে গর্জে ওঠা অশুভ-শুভ শক্তির মিশ্রণ। আজ থেকে আরিবার ভেতরের সকল মানবীয় অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেলো। ভালোবাসা, লজ্জা, মায়া– সবকিছু যেন ছাই হয়ে উড়ে গেলো। থেকে গেলো শুধু এক জ্বলন্ত প্রতিশোধস্পৃহা।
রাজপ্রাসাদের সিংহাসনকক্ষ ভরে উঠেছে জিনদের সমবেত গর্জনে। অগণিত প্রদীপের আলোয় সোনালি দেয়াল ঝলমল করছে, তবুও পরিবেশ ভারী। সিংহাসনের উচ্চ আসনে বসে আছেন রাজা মালিক আল জিন, চোখে ক্রোধের আগুন। তার পাশে রাণী নূর আল জোহরা, মুখ গম্ভীর ও উৎকণ্ঠিত।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুলফিকার। তার মাথা উঁচু, বুক চওড়া, চোখে দৃঢ় দৃষ্টি। তাকে ঘিরে আছে রাজপ্রাসাদের জ্যেষ্ঠ জিন-পরিষদ। তাদের কণ্ঠস্বর মিলেমিশে যেন বজ্রের মতো বাজছে। দুলফিকারকে নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা চলছে।
“সে মানবীকে বেছে নিয়েছে!”
“রাজ্যের আইন ভঙ্গ করেছে!”
“এমন পুত্রকে উত্তরাধিকার দেওয়া মানেই ধ্বংস ডেকে আনা!”
রাজা মালিক হাত তুলে সবাইকে থামালেন। তার গর্জনময় কণ্ঠে প্রতিধ্বনি হলো। রাজা মালিক আল জিন বললেন,
“দুলফিকার আল জিন! তুমি কি জানো তোমার অপরাধ কী?”
দুলফিকার শান্ত অথচ অগ্নিসম কণ্ঠে জবাব দিলো,
“হ্যাঁ, জানি। আমি মানবীকে ভালোবেসেছি। কিন্তু আমার কাছে ও কোনো অপরাধ নয়। আমি তাকে ছাড়বো না।”
রাজকক্ষ নিস্তব্ধ। শুধু টগবগ শব্দে যেন দুলফিকারের দৃষ্টি জ্বলছে। মালিক আল জিন দাঁড়িয়ে উঠলেন। শেষবারের মতো সুযোগ ছিলো কিন্তু দুলফিকার তা গ্রহণ না করাতে তাঁর কণ্ঠ গর্জন ছড়িয়ে দিলো চারপাশে।
“তাহলে শোনো আমার রায়! আজ থেকে তুমি আর এই রাজ্যের উত্তরাধিকারী নও। আজ থেকে তুমি আমার পুত্র নও। আজ থেকে তুমি ত্যাজ্যপুত্র!”
চারদিক থেকে প্রতিধ্বনি ভেসে এলো–
“ত্যাজ্যপুত্র! ত্যাজ্যপুত্র!”
রাণীর চোখ ভিজে উঠলো, নুসাইর নির্বাক দাঁড়িয়ে রইলো, কিন্তু দুলফিকারের মুখে একটুও ভয়ের ছাপ নেই। বরং তার ঠোঁটে ফুটে উঠলো এক অবজ্ঞার হাসি। নূর আল জোহরা নিজেকে বড্ড কষ্টে সামলাতে লাগলেন। নুসাইর তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়ল ঠিকই তবে মনে মনে বেশ খুশি হলো। আরিবাকে ভালোবেসে আগলে রাখতে নুসাইর নয়, দুলফিকারই নিখুঁত। ভালোবাসতে হয়তো সবাই পারে কিন্তু সেই ভালোবাসার জন্য নিজের সবকিছু ত্যাগ করতে পারে না সবাই।
“আপনার রাজ্য আমি ছেড়ে দিচ্ছি, আপনার উত্তরাধিকারও ছেড়ে দিচ্ছি… কিন্তু যাকে ভালোবেসেছি, তাকে কোনোদিন ছেড়ে দেবো না।”
রাজসভা আবারো সরব হয়ে উঠলো। মালিক আল জিনের চোখ জ্বলজ্বল করছে রাগে, তবুও তার ভেতরে কোথাও যেন ছেলের দৃঢ়তায় এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব দানা বাঁধছে।
দুলফিকার মাথা উঁচু রেখেই রাজকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেল। প্রাসাদের প্রতিটি পাথর যেন তার পায়ের শব্দে কেঁপে উঠলো।
রাজার রায় ঘোষণা শেষ হয়েছে। দুলফিকার বিদ্রোহী ভঙ্গিতে বেরিয়ে আসছে, চারদিক এখনো উত্তপ্ত। এমন সময় হঠাৎই বাইরে শিঙার করুণ আওয়াজ ভেসে এলো– যুদ্ধের শিঙা!
প্রাসাদের প্রাচীর কেঁপে উঠলো। আকাশ কালো হয়ে গেল। হাজার হাজার কালো ডানাওয়ালা ভ্যাম্পায়ারদের ঝাঁক জিন রাজ্যের আকাশ ঢেকে ফেলেছে। তাদের চোখ রক্ত লাল, দাঁত বের করে গর্জন করছে।
সেনাপতি দৌড়ে সভায় প্রবেশ করে কণ্ঠ গর্জে উঠলো,
“মহারাজ! ভ্যাম্পায়ার বাহিনী আমাদের রাজ্য ঘিরে ফেলেছে!”
রাজা মালিক আল জিন হকচকিয়ে উঠলেন। আকস্মিক এই আক্রমণের কারণ বুঝো উঠতে পারলেন না। সিংহাসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে বললেন তিনি,
“প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত করো! সবাই যুদ্ধের জন্য তৈরি হও!”
ততক্ষণে ভ্যাম্পায়াররা তীরের মতো ছুটে এসে প্রাসাদের প্রাচীর ভেঙে ফেলছে। আগুনের গোলা নিক্ষেপ করছে। এক মুহূর্তেই রাজপ্রাসাদ রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। দুলফিকার ঘুরে দাঁড়ালো। তার চোখ নীল আগুনের মতো জ্বলে উঠছে। পিঠ থেকে বেরিয়ে এলো কালো–রুপালি মিশ্রিত বিশাল ডানা। নুসাইর তার পাশে এসে দাঁড়ালো। দু’জন ভাইয়ের চোখে চোখ পড়লো। কোনো কথা নেই, শুধু এক অদৃশ্য বোঝাপড়া। শত্রকে শেষ করতে আজ তারা আবারও একসাথে লড়বে।
প্রথম ঝাঁক নামতেই দুলফিকার হুংকার দিয়ে আকাশে উড়ে উঠলো। হাতের মুঠোয় কালো ঝড় ডেকে নিয়ে এক আঘাতেই দশ ভ্যাম্পায়ারকে ছিন্নভিন্ন করে ফেললো। নুসাইর তার চারপাশে বজ্রের ঝলক ছড়িয়ে দিলো, বিদ্যুতের কাঁটায় ঝলসে গেল আরও কয়েকজন। ভ্যাম্পায়ার বাহিনী স্তম্ভিত। জিন রাজ্যের দু’পুত্র পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যেন তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে।
রাজা মালিক বিস্ময়ে দেখলেন যাকে তিনি মুহূর্ত আগেই ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন, সেই দুলফিকারই এখন রাজ্যের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
দুলফিকারের চোখে ভয়ঙ্কর রূপ। সে আর আগের মতো শান্ত নেই। তার ডানাগুলো ঝড় তোলে, হাত থেকে বেরোয় অগ্নি-বিদ্যুতের সম্মিলিত বিস্ফোরণ। ভ্যাম্পায়ারদের গর্জন চাপা পড়ে যাচ্ছে তার ক্রোধের শব্দে। এক ভ্যাম্পায়ার সৈন্য সরাসরি দুলফিকারের দিকে ঝাঁপিয়ে এলো। দুলফিকার মুহূর্তে তাকে মাটিতে চেপে ধরে দাঁত বের করে গর্জে উঠলো,
“ ভুল করেছিস… ভুলের মাশুল দে এবার। “
সাথে সাথে প্রভুর বুকে আগুন-ঝড়ের আঘাত এক মুহূর্তে ছাই হয়ে গেল সে।
নুসাইর পেছন থেকে কণ্ঠ ছুঁড়ে দিলো,
“ভাই! ডানদিক সামলাও, আমি বাঁদিক নিচ্ছি!”
“ ঠিক আছে নুসাইর।”
দুজন মিলে ঝাঁপিয়ে পড়লো শত্রুদের ওপর। রাজ্যজুড়ে শুধু একটাই দৃশ্য– জিনদের দুই পুত্রের অগ্নিঝরা যুদ্ধ, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।
প্রাসাদের প্রতিটি কোণ কেঁপে উঠছে। যুদ্ধ চলছেই, আর দুলফিকার তার সবচেয়ে ভয়ংকর রূপে প্রকাশ পাচ্ছে। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। লালচে রক্তচোখের অসংখ্য ভ্যাম্পায়ার নেমে আসছে রাজ্যের প্রাচীরে। জিন যোদ্ধারা তীর, তলোয়ার, জাদুমন্ত্রে রুখে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু ভ্যাম্পায়ারদের আক্রমণ যেন থামছেই না।
ঠিক তখনই আকাশ চিরে উঠলো দুলফিকার। তার বিশাল কালো–রুপালি ডানা ঝড় তুললো, নিচে থেকে বাতাসের চাপেই ডজন ডজন ভ্যাম্পায়ার মাটিতে আছড়ে পড়লো। দুলফিকার,
সে প্রথমেই এক বিশাল ঘূর্ণিঝড় ডেকে ভ্যাম্পায়ার বাহিনীকে দুইভাগে ভাগ করে দিলো। ফলে তারা একত্রিত হয়ে আক্রমণ করতে পারলো না। তারপর আকাশে নীল আগুনের বৃত্ত তৈরি করে দিলো, যারা মাঝখানে পড়েছে তারা বের হতে পারছে না। ধীরে ধীরে তাদের আগুনে ভস্ম করে দিলো দুলফিকার।
দুলফিকার বুঝে গেলো, এদের মাথা ধ্বংস না হলে এই বাহিনী ভাঙবে না। সে বজ্রঝড় ডেকে সরাসরি সেই ভ্যাম্পায়ার সেনাপতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। মুহূর্তেই এক হাতে চেপে ধরে বজ্রপাত চালালো। প্রভুর শরীর আগুনে ছাই হয়ে গেলো। দলের প্রধানের মৃত্যু দেখে বাকিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লো। দুলফিকার আকাশে উঠে হুংকার দিলো,
“এ রাজ্য জিনদের! তোমাদের জন্য এখানে জায়গা নেই!”
তার চোখের নীল শিখা দেখে ভ্যাম্পায়ারদের সাহস ভেঙে গেলো।
নুসাইর সেই ফাঁকে বজ্রচক্র বিস্তার করে দিলো। যেসব ভ্যাম্পায়ার পালানোর চেষ্টা করছে তারা বজ্রজালে আটকা পড়ে ধ্বংস হলো। দু’ভাই যেন যুদ্ধক্ষেত্রে দুই দিকের দেবতা– একজন ঝড়, আরেকজন বজ্র। অবশেষে পুরো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভ্যাম্পায়াররা ছত্রভঙ্গ হলো। কেউ কেউ পালানোর চেষ্টা করলো, কেউ আবার আগুন ঝড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। রাজ্যের মাটিতে তাদের লাশ ছড়িয়ে পড়লো। রাজ্যজুড়ে যুদ্ধের আওয়াজ ধীরে ধীরে থেমে এলো।
জিন রাজ্যের পতাকা আবার গৌরবে উড়ছে। ভ্যাম্পায়াররা পরাজিত হয়ে পালিয়ে গিয়েছে।
চলবে
গল্পে রেসপন্স কম অনেক। লেখার আগ্রহ পাই না আজকাল। যাইহোক আগামীকাল বিকেলে " আশিকা জিন " ই-বুক আসবে বইটইতে। ওখানে আরিবা সাধারণ মানুষ, দুলফিকার ভয়ংকর এক জিন।
আগের পর্ব
https://www.facebook.com/100085130931546/posts/742451241935900/
পরের অংশ https://www.facebook.com/100085130931546/posts/745408581640166/