#আশিক_আল_জিন
#পর্ব_২০
#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া
দুলফিকার স্তব্ধ হয়ে গেলো। বুকটা হঠাৎ করেই কেমন শূন্য মনে হলো তার। রুস্তমের ঠাণ্ডা কণ্ঠে শোনা কথাগুলো যেন বুক চিরে ছুরি হয়ে বিঁধছে।
আরিবা… রোদ্দুরের সাথে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে!
দুলফিকার মুঠি শক্ত হয়ে উঠলো। চোখের নীল শিখা আবারও জ্বলে উঠলো মুহূর্তে। শরীরের ভেতর প্রচণ্ড ঝড় বইতে লাগলো– রাগ, আতঙ্ক, আর অদম্য টান একসাথে।
“ আপনি নিশ্চিত যে আরিবা রোদ্দুরের সাথে গিয়েছে?”
“হ্যাঁ দুলফিকার… রোদ্দুর তাকে নিয়ে গেছে। আরিবা কোনো আপত্তি করেনি। আমার ধারণা, ও নিজের ইচ্ছেতেই গিয়েছে।”
এই কথাগুলো দুলফিকারের বুককে আরও ভারী করে দিলো। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো পুরো পৃথিবী ভেঙে পড়ছে তার ওপর।
দুলফিকার দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বললো,
“রোদ্দুর… তোমার সাহস হলো আমার থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার? আমি রাজ্য ছেড়েছি, সিংহাসন ছেড়েছি… কিন্তু আরিবাকে আমি ছাড়িনি। কখনোই ছাড়বো না।”
রুস্তম কিছু বোঝার আগেই দুলফিকার হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন রুস্তম। আজকাল আর চিন্তা করতেও পারছেন না যেন। এতো এতো চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সালমা। তাই রুস্তম স্ত্রী’র স্বার্থে চিন্তা না করার হাবভাব করলেও ভেতর ভেতর আরিবার ভবিষ্যত এবং দুলফিকারের সাথে ওর সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে খুব চিন্তায় থাকেন।
ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের গভীর অট্টালিকায় আরিবা বসে আছে এক বিশাল আয়নার সামনে।
চারপাশ অন্ধকার, শুধু কালো মশালের আগুন জ্বলছে। রোদ্দুর একপাশে দাঁড়িয়ে, চোখে তীব্র সন্তুষ্টির আভা। কিছুক্ষণ আগেই চাচা, চাচির সাথে কথা হলো আরিবার। নিজের বাবা-মা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পেরে আরিবার মনটা এখন খুব খারাপ হয়ে আছে। তার ওপর নিজের ভাইয়ের জন্যও খারাপ লাগছে। অতটুকু বয়সেও আরিবাকে রক্ষা করেছিল সে। এসব ভাবতেই জিন রাজ্য এবং রাজার ওপর তীব্র ক্রোধে চোখ লাল হয়ে যায় আরিবার। ভ্যাম্পায়ার পন্ডিত আগামী দুইদিন আরিবাকে যুদ্ধের সকল কৌশল এবং ওর শক্তি সম্পর্কে জানাবে। যদিও যুদ্ধের কৌশল পন্ডিতের থেকে বেশি রোদ্দুরের থেকেই শিখবে আরিবা, তবে কিছু কিছু পন্ডিত দিমিত্রিও শেখাবেন।
“তুমি অবশেষে প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করলে, আরিবা।”
তার কণ্ঠে বিজয়ের সুর। কিন্তু আরিবার ঠোঁটে কোনো হাসি নেই। তার চোখ লালচে আভায় দীপ্ত, যেন ঝড়ের আগে নিস্তব্ধ সাগর। যেই ঝড়ে তছনছ হয়ে যাবে অনেক কিছু।
“ আমাকে একবার পৃথিবীতে যেতে হবে। দুলফিকারকে বলে আসা হয়নি, চিন্তা করবে সে। “
দুলফিকারের কথা শুনতেই মেজাজ বিগড়ে গেলো রোদ্দুরের।
“ আরিবা! ও হলো মালিক আল জিনের পুত্র। তুমি তাকে নিয়ে কেন ভাবছো?”
আরিবা ঠান্ডা গলায় বলল,
“ দুলফিকারের কোনো দোষ নেই, রোদ্দুর। ও তো আমার জন্য রাজ্য ত্যাগ পর্যন্ত করেছে। তাহলে কীভাবে দ্বন্দ্ব? “
রোদ্দুর নিজের রাগকে সামলে নিলো। স্বাভাবিক স্বরে বলল,
“ তুমি জানো আমি তোমার…. “
“ ভাই… ভাই হও তুমি। আমি চাচা, চাচিকে জানিয়ে দেবো আমার পক্ষে তোমাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। “
রাগে ফুঁসে উঠলো রোদ্দুর। তবে প্রকাশ করলো না। কেবল মাথা নেড়ে অন্য দিকে চলে গেলো। আরিবাও কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীতে চলে গেলো, দুলফিকারের সাথে কথা বলার জন্য।
এদিকে রোদ্দুর রেগেমেগে বাবার কাছে এসেছে। ভিরন ছেলের রাগের হেতু বুঝতে না পেরে শুধলেন তিনি,
“ কী হয়েছে তোমার? “
রোদ্দুর রাগে ফুঁসে উঠে বলল,
“ আরিবা এখনও ওই জিন রাজপুত্রকে ভালোবাসে। আমাকে বিয়ে করতে পারবে না সেটাও বললো। “
ভিরন ঠান্ডা মাথার মানুষ। কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললেন,
“ ধৈর্য ধারণ করো রোদ্দুর। আরিবার সাথে জিন রাজ্যের যুদ্ধ মানে জিন রাজ্যের ধ্বংস নিশ্চিত। নিজের রাজ্য, পিতামাতার মৃত্যুর পরও দুলফিকার কখনো তার সাথে থাকবে না। তাছাড়া আরিবার রাগের সময় তাকে কেউ শান্ত করতে পারবে না। সুতরাং যুদ্ধে একবার নামলে তাকে আর পেছনে ফিরানো কারো পক্ষে সম্ভব না। “
রোদ্দুরের ঠোঁটে শয়তানি হাসি ফুটল তাতে। হেসে বলল,
“ তারমানে আরিবা, আমার হবে। “
“ একদম। আরিবা ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে থাকলে গোটা পৃথিবী আমাদের হাতের মুঠোয় থাকবে। তাই যা করতে হবে খুব সাবধানে এবং ধৈর্যের সাথে। “
“ ঠিক আছে। “
“ দিমিত্রিকে বলো, আমি ডাকছি। “
রোদ্দুর মাথা নেড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলো। ধীরে ধীরে ভিরনের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল।
ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের সীমানা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছে দুলফিকার। আর কিছুদূর এগোলেই সীমানা অতিক্রম করে ফেলবে সে। কিন্তু এই মুহুর্তে আরিবার সাথে কথা বলা দুলফিকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুলফিকার কিছুতেই আরিবার সাথে রোদ্দুরকে সহ্য করতে পারছে না। তার মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে আছে। দুলফিকার আনমনে সামনে এগোচ্ছে, এরমধ্যে আরিবাকে দেখতে পেলো সে। আরিবাও দুলফিকারকে দেখতে পেয়ে দ্রুত বেগে সামনে এগিয়ে চললো। মিনিট দুয়েকের মধ্যে দু'জন দু'জনার সামনে এসে থামলো। দুলফিকারের চোখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। আরিবা কিছুটা ভীতু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। দুলফিকারের এমন রাগান্বিত রূপ আর কখনো দেখেনি সে।
“ দুলফিকার আমি…. “
“ আমার সাথে চলো। “
আরিবার কথা থামিয়ে দিয়ে আকস্মিক তাকে কোলে তুলে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো দুলফিকার। পরমুহূর্তেই উপস্থিত হলো আকাশের ওপর, কোনো একটা সুন্দর জায়গায়। যেখানে আশেপাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে, আশেপাশে যতদূর নজর যায় শুধু মেঘ আর মেঘ। আরিবাকে সেই মেঘের ওপর দাঁড় করিয়ে দিলো দুলফিকার। তারপর কিছু না বলেই খুব গভীরভাবে বুকে জড়িয়ে ধরলো তাকে। আরিবাও দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুলফিকারের বুকে মুখ গুঁজে দিলো। কতক্ষণ ওভাবে রইলো ওরা নিজেরাও খেয়াল করলো না। আরিবা দুলফিকারের পিঠে আলতো করে চাপ দিতেই দুলফিকার আরিবার মুখের দিকে তাকাল।
“ ভালোবাসো?”
“ বাসি। “
স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল দুলফিকার। আরিবার কপালে, নাকের ডগায় আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বলল সে,
“ তাহলে রোদ্দুরের সাথে থেকো না আর। আমি নিজেকে সামলাতে পারি না। আর আমি চাই না তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করি। “
“ দরকারে গিয়েছিলাম আমি। “
দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল দুলফিকার। আরিবা যে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে জিন রাজ্য ধ্বংসের জন্য পরিকল্পনা করতে যাচ্ছে সেটা ভালো করেই আন্দাজ করতে পারছে দুলফিকার।
“ ঠিক আছে। “
আরিবা মাথা নেড়ে, আবারও দুলফিকারের বুকে মুখ গুঁজলো। মনটা বড় অস্থির হয়ে আছে আরিবার। এই পুরুষটির সংস্পর্শে আসলে তার হৃদয়ে প্রেম জেগে ওঠে, পরক্ষনেই মনে পড়ে যায় নিজের পরিবারের খুনির রক্ত বইছে তার শরীরে।
“ প্রেমিকা!”
দুলফিকারের মোহাচ্ছন্ন কণ্ঠস্বর যেন আরিবার সমস্ত ভাবনা নষ্ট করে ফেললো।
“ জি। “
দুলফিকার আরিবাকে কোলে তুলে নিলো। আরিবা একদৃষ্টিতে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো কেবল। দুলফিকার ওকে নিয়ে অন্য একটা জায়গায় এলো, যেখানে শুধু ফুল আর ফুল! আর ওদের সামনে একটা ফুলের বিছানা। আরিবার মুখে কোনো কথা নেই। দুলফিকারের চোখের দৃষ্টিতে যেন সম্মোহিত হয়ে গেছে সে। দুলফিকার তাকে খুব যত্নে ফুলের বিছানায় শুইয়ে দিল। হাতের তুড়ি দিয়ে চারপাশে সাদা পর্দায় সুসজ্জিত করে ফেললো। আরিবার ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসির রেখা লেপ্টে আছে। নিজের সর্বনাশ চোখের সামনে দেখেও নিজেকে আটকাতে পারছে না আরিবা। সমস্ত শরীর যেন অসার হয়ে গেছে। দুলফিকার আরিবার পাশে এসে বসলো। খুব শান্ত, নিচু কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“ আমি আমার মানবী আরিবাকে চাই, এই ভ্যালেরিনাকে না। “
আরিবা দুলফিকারের কথা বুঝতে পেরে নিজের মানবী রূপ ধারণ করলো। দুলফিকারের ঠোঁটের কোণে দুষ্ট হাসির রেখা ফুটলো তাতে। আরিবা চোখ বন্ধ করে ফেলল। বুক ধুকপুক করছে। অস্থির লাগছে। নিজের মধ্যে লড়াই চলছে যেনো। দুলফিকার আচমকাই আরিবার হাত দুটো জাদু বলে বেঁধে ফেলল। চোখ খুলে তাকালো আরিবা।
“ আমরা ভুল করছি না তো?”
আরিবার কণ্ঠে সংশয়। তবে দুলফিকারের ওই জাদুকরী হাসির সামনে সেই সংশয়ও টিকলো না।
“ ভালোবাসো এখনই, পরে কী হবে – কে জানে?”
আরিবার মনটা কেমন শান্ত হয়ে গেলো। সব দ্বিধা পাশে রেখে চোখের ইশারায় দুলফিকারকে নিজের দিকে আহ্বান জানালো সে। দুলফিকার হাতের তুড়ির সাহায্যে মুহুর্তেই আবছা আলোয় ঘিরে ফেলল চারদিক। নেশাতুর দৃষ্টিতে দেখতে লাগলো তার প্রেমিকাকে……..
কেটে গেছে দু'দিন। এরমধ্যেই আরিবা যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে ফেলেছে। দিমিত্রি ও রোদ্দুর তাকে যোগ্য যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি রাজা ভিরন আরিবার সমস্ত শক্তির ব্যবহার এবং কার্যকরীতা জানিয়েছে, শিখিয়েছে। রাজা ভিরন ইতিমধ্যে জিন রাজ্যে যুদ্ধের খবর পাঠিয়ে দিয়েছে। এই দু'দিন আরিবা ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের বাইরে বের হয়নি। বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এখন সে। দুলফিকারের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে আরিবার মন মানসিকতা বদলে গেছে। নিজেকে বড় নিকৃষ্ট মনে হচ্ছে ওর। আবেগের বশে যা করে ফেলেছে তা নিয়ে এখন আফসোস হচ্ছে। এটা যুদ্ধের সময়, ভালোবাসার জন্য পরেও তো সময় ছিলো হাতে। এখন দুলফিকারের চিন্তাভাবনা সারাক্ষণ ওর মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই বিশেষ মুহুর্তের কথা ভাবলেই দূর্বল অনুভব করছে আরিবা। রোদ্দুর আরিবার হালচাল দেখে তার বাবা-মাকে ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে। ভিরন ভ্যালেরিনার শক্তিকে ধ্বংসাত্মক শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য বিশেষ ঔষধ তৈরি করার জন্য, রাজ বৈদ্যকে বলেছে। এই ঔষধ এমন এক ঔষধ যা একবার সেবন করলে আরিবার ভেতর থেকে যতটুকু মানবীয় অনুভূতি, প্রেম অবশিষ্ট আছে সেটুকু লোপ পাবে।
জিন রাজ্য..
চিরন্তন অগ্নির আলোয় আলোকিত বিশাল প্রাসাদ। সোনালি গম্বুজ আর নীলাভ পাথরে মোড়ানো দেয়ালে অদ্ভুত সব নকশা খোদাই করা। চারপাশে ভাসমান প্রদীপ। রাজপ্রাসাদের বাইরের আকাশটাও যেন ভিন্ন। গাঢ় লালচে মেঘের ভেতর দিয়ে ঝলসে ওঠে বজ্রের রেখা। প্রহরীরা রাজদ্বারে দাঁড়িয়ে আছে ধারালো অস্ত্র হাতে। তাদের চোখে আতঙ্ক, কারণ ভ্যাম্পায়াররা ইতিমধ্যেই আক্রমণের বার্তা পাঠিয়েছে। অন্ধকারের ওই জাতি খুব শিগগিরই ঝাঁপিয়ে পড়বে জিনদের ওপর, এটা সকলেই বুঝতে পারছে।
রাজপ্রাসাদের ভেতর নুসাইরের কক্ষ। নুসাইর উঁচু সোনালি আসনে বসে আছে । চোখদুটো আধো-গভীর, কিন্তু তাতে উদ্বেগের ছায়া। টেবিলের ওপর ছড়ানো রয়েছে যুদ্ধের বার্তা, শত্রুদের গতিবিধির মানচিত্র, আর ভ্যাম্পায়ার দূতের রেখে যাওয়া কালো মুদ্রা।
“তাহলে… তারা যুদ্ধ চাইছে।”
নুসাইর ফিসফিস করে বললো। তার ঠোঁটের কোণে ভীতির সাথে সাথে লুকানো তীব্র রাগ। আরিবা কেন এমন করছে সেসব ভেবেই রাগ হচ্ছে ওর। আরিবাকে গুটি বানিয়ে ভ্যাম্পায়াররা যে যুদ্ধ করবে সেটুকু নুসাইর ভালো করেই বুঝতে পারছে। শুধু বুঝতে পারছে না আরিবা।
নুসাইরের আকাশপাতাল ভাবনার মাঝেই দরজার সামনে মৃদু শব্দ হলো। হালকা লাল রঙের আবরণে মোড়া, দীপ্ত চোখের এক মানবী প্রবেশ করলো। সুলতানা!
“ভাইজান…”
মিষ্টি অথচ চিন্তায় ভরা কণ্ঠে ডাক দিলো সে।
নুসাইর তাকিয়ে দেখল, সুলতানার চোখে ভয় ঝলমল করছে।
সে এগিয়ে এসে বললো,
“আমি সব শুনেছি। ভ্যাম্পায়াররা যদি সত্যিই আক্রমণ করে… তবে কি আমরা টিকতে পারবো? আমাদের সৈন্যরা কি প্রস্তুত?”
নুসাইর এক মুহূর্ত চুপ করে রইলো। তারপর আস্তে করে দাঁড়িয়ে সুলতানার মাথায় হাত রাখলো। নিজের পরিবার এবং রাজ্যকে রক্ষা করতে হবে তাকে।
“ভয় পেয়ো না, সুলতানা। এ রাজ্য শুধু ইট-পাথরের নয়। এর ভেতর আছে হাজার বছরের জিনদের গর্ব, আমাদের রক্তের শপথ। ভ্যাম্পায়াররা যতই শক্তিশালী হোক, আমরা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়বো।”
সুলতানার চোখে জল ভরে উঠলো।
“কিন্তু ভাইজান… যদি দুলফিকার ভাইয়া থাকতো, তবে নিশ্চয়ই লড়াইটা সহজ হতো। তুমি জানো, সে কতটা শক্তিশালী।”
নুসাইরের চোখে হালকা ঝিলিক দেখা গেলো।
সে আকাশের দিকে তাকালো।
“হ্যাঁ… দুলফিকার হয়তো যুদ্ধের সময় উপস্থিত থাকবে না। কিন্তু যদি আমরা বিপদে পড়ি অবশ্যই আসবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কাকে রক্ষা করবে সে? নিজের প্রেমিকাকে নাকি পরিবারকে! “
সুলতানা কেবল দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। নুসাইরও চুপ করে গেলো। আরিবাকে দুলফিকারের প্রেমিকা বললেও কেমন একটা বুকে চিনচিন করে ওর।
চলবে
ই-বুক আশিকা জিন আর ফেসবুকের গল্প আলাদা। ই-বুকে আরিবা সাধারণ মানুষ, দুলফিকার রাগী জিন। ই-বুক ১৮+, ইরোটিক রোমান্সে ভরপুর। ওকে?
#আশিকা_জিন
ই-বুকটি মাত্র ৩০ টাকায় কিনতে পারবেন , বইটই এপ থেকে।
লিংক- https://link.boitoi.com.bd/toYcp
আগের পর্ব
https://www.facebook.com/100085130931546/posts/745408581640166/
পরের পর্ব https://www.facebook.com/share/p/16xJyuJrdf/