ফন্ট সাইজ:
থিম:
আশিক আল জিন

২২তম পর্ব

লেখক: তাসমিয়া তাসনিন প্রিয়া

#আশিক_আল_জিন

#পর্ব_২২

#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া

ভোরের আকাশ হঠাৎই অস্বাভাবিক আঁধারে ঢেকে গেল। ঘন কালো মেঘ জমে জিন রাজ্যের ওপর বিরামহীন গর্জন তুলতে লাগল। দূর পাহাড় পেরিয়ে শত শত কালো ছায়া নেমে আসছে।

ডানা ঝাপটানো ভয়ঙ্কর ভ্যাম্পায়ার বাহিনী। মুহূর্তেই রাজ্যের বাতাস ভারী হয়ে উঠল। সিংহাসনকক্ষের বারান্দা থেকে রাজা মালিক আল জিন দাঁড়িয়ে দেখছিলেন সব। চোখে আতঙ্ক ঝিলিক খেলেও গলায় বজ্রের মতো শব্দ।।সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন তিনি,

“জিন রাজ্যের সন্তানরা, অস্ত্র ধরো! এ আক্রমণ আমাদের অস্তিত্বের ওপর! চলো…”

চারদিক কেঁপে উঠল। প্রাসাদের প্রতিটি মিনার থেকে জ্বলজ্বলে আলো ছড়িয়ে পড়ল, যেন হাজারো তারার দীপ্তি নেমে এসেছে। একে একে বেরিয়ে এলো জিন সেনারা–তাসের যোদ্ধা, বজ্রের সৈন্য, আগুনের তলোয়ারধারী।

সবার আগে আকাশে উঠে দাঁড়াল নুসাইর। তার চোখে শিখার মতো জ্বলজ্বল করছে দৃঢ়তা। ডান হাতে আগুনের তলোয়ার, বাম হাতে বজ্রের ঢাল। গর্জে উঠল সে,

“এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়বে না কেউ!”

মুহূর্তেই ভ্যাম্পায়ারদের সাথে জিনদের সংঘর্ষ শুরু হলো। আকাশ বিদ্যুৎ আর আগুনে আলোকিত হয়ে উঠল। নুসাইরের এক আঘাতেই তিন ভ্যাম্পায়ারের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ঝরে পড়ল মাটিতে। ঝড়ের মতো জিনরা ঝাঁপিয়ে পড়ল শত্রুর ওপর। সে এক ভয়াবহ দৃশ্য!

কিন্তু ভ্যাম্পায়াররা সহজে হার মানার মতো নয়। তারা কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে আকাশ অন্ধকার করে দিল। ধারালো নখে, বিষাক্ত দাঁতে একের পর এক জিন সৈন্যকে মাটিতে ফেলে দিতে লাগল। কেউ কেউ সোজা প্রাসাদের দেয়ালে ঝাঁপিয়ে পড়ল, ভাঙার চেষ্টা করছে প্রতিরক্ষা।

রাজা মালিক আল জিন আর স্থির থাকতে পারলেন না। নিজেই আকাশে উঠে হাত উঁচু করলেন। মুহূর্তেই প্রাসাদের চারপাশের দেয়াল আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। তাঁর কণ্ঠ আবারও গর্জে উঠল

“এ রাজ্য কখনো ভাঙবে না! আমরা সবাই মিলে জিতবো।”

ভেতরে ভেতরে সবাই জানে, যুদ্ধে এক অভাব রয়ে গেছে। সেই নামটা কেউ উচ্চারণ করছে না, কিন্তু সকলের চোখে প্রশ্ন জ্বলছে। রাজপুত্র দুলফিকার কি ফিরবে না? আজ দুলফিকার উপস্থিত থাকলে যুদ্ধের চেহারা হয়তো অন্য রকম হতো।

নুসাইরের বুকেও সেই শূন্যতা কেঁপে উঠল এক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু দাঁত চেপে আবার আঘাত হানল সে, যেন নিজের ভাইয়ের অভাবটা লুকিয়ে রাখতে চায় তলোয়ারের ঝলকে।

আকাশে যুদ্ধ চলছে, বজ্র আর অগ্নির গর্জনে কেঁপে উঠছে পুরো রাজ্য। তবু কোথাও এক অদৃশ্য শূন্যতা ছড়িয়ে আছে, দুলফিকার এখানে নেই।

চারদিক কেঁপে উঠছে বজ্র আর আগুনের তাণ্ডবে। প্রাসাদের বারান্দা থেকে সুলতানা তাকিয়ে আছে যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে। তার বুকের ভেতর শ্বাস যেন আটকে যাচ্ছে। কিশোরী বয়সেই সে রাজ্যের ভয়াবহতম যুদ্ধ দেখছে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে রক্ত ঝরছে, জীবন নিভে যাচ্ছে।

সুলতানার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে নুসাইরের দিকে। সে জানে, ভাইয়ের ওপর এখন পুরো রাজ্যের ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার পেছনে যে কী চাপ, কী যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে, তা সুলতানা ভালো করেই বোঝে। ঠোঁট কামড়ে নিজের বুক আঁকড়ে ধরল সে।

“হে সৃষ্টিকর্তা… আমার ভাইকে রক্ষা করো।”

হঠাৎ পাশ থেকে কাঁপা কণ্ঠ শোনা গেল। রাণী নূর আল জোহরা আস্তে আস্তে জানালার ধারে এসে দাঁড়ালেন। তার, চোখদুটো লালচে, যেন অসংখ্য নির্ঘুম রাত জমে আছে ভেতরে।

নূর ধীর অথচ কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন

“এই যুদ্ধ… আমার সন্তানের রক্তে ভিজে যাবে।”

সুলতানা ভড়কে গিয়ে তাকাল।

“মা, আপনি এমন কথা বলছেন কেন? আমরা হারবো না।”

নূর মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন।

“হার–জিত কেবল তলোয়ারে নয়, সুলতানা। হার জিত জন্মায় মানুষের অন্তরের ভেতরে। আমার স্বামী রাজা মালিক বাহ্যত শক্তিশালী, কিন্তু তিনি ভুল করেছেন। আরিবার বাবা-মা, ভাইকে হত্যা করেছিলের তোমার বাবা। প্রকৃতি হয়তো আজ তার বদলা দেখাতে চলেছে আমাদের। “

সুলতানা ঠোঁট কেঁপে উঠল। ভেতরে ভেতরে কথাগুলো তার বুকেও খোঁচা মারছিল, কিন্তু উচ্চারণ করতে ভয় পাচ্ছিল। যুদ্ধের ভেতরে দুলফিকার নেই, এটাই রাজ্যের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

দূরে আবার বজ্র গর্জে উঠল, এক ঝলকে পুরো আকাশ আলোকিত হলো। সেই আলোয় ভ্যাম্পায়ার আর জিনদের সংঘর্ষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে মাটি।

সুলতানা মায়ের হাত আঁকড়ে ধরল।

“মা, যদি দুলফিকার ভাই ফিরতেো!”

নূর আল জোহরা গভীর নিঃশ্বাস ফেললেন। তার চোখ আকাশের দিকে স্থির হয়ে রইল।

“তাহলে আজকের যুদ্ধের ভাগ্য বদলে যেত, সুলতানা। হয়তো এ রাজ্যেরও।”

মা মেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপ করে রইলো কেবল।

দূর দিগন্তে যুদ্ধের বজ্রধ্বনি কাঁপন তুলছে আকাশ–পৃথিবীতে। আগুনের ঝলকানিতে যেন আসমান রক্তিম হয়ে উঠেছে। অথচ পৃথিবীর এক নির্জন স্থানে, জীর্ণ পাথরের ওপর বসে আছে দুলফিকার। চারদিকে নীরবতা, কেবল বাতাসের শব্দ আর দূর থেকে ভেসে আসা যুদ্ধের আওয়াজ।

সে চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে ভাসছে , গতকাল রাতে যখন আরিবা তার কাছে এসেছিল। দুলফিকার ভেবেছিল হয়তো এ জীবনে আর কখনো এমন মুহূর্ত আসবে না। কিন্তু আরিবা এসেছিল। নিস্তব্ধ, কোমল এক রাত কাটিয়ে গিয়েছিল তার সাথে। সেই স্মৃতি এখন বুক জুড়ে আগুনের মতো পুড়ছে। তবুও আজ তার মন অশান্ত। বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত টানাপোড়েন।

“আজ… আমার নিজের প্রেমিকার হাতেই মৃত্যু হবে আমার বাবার। কী অদ্ভুত খেলা!”

দুলফিকার গভীর নিঃশ্বাস ফেলল। চোখের পাতা নামল, কিন্তু মনের ভেতর স্পষ্ট ভেসে উঠল বাবার মুখ। মালিক আল জিন- যিনি একসময় তাকে বুকের ভেতর টেনে নিয়েছিলেন, যিনি তার কাঁধে হাত রেখেছিলেন, সে মানুষই আজ জঘন্য খুনি, যার হাতে ঝরে গেছে আরিবার পরিবার।

“একদিকে বাবা… অন্যদিকে খুন হওয়া প্রাণ।”

দুলফিকার নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ চালাচ্ছে। চোখে অশ্রু চিকচিক করে উঠছে।

বুকের ভেতর থেকে একটা গর্জন বের হয়ে আসতে চাইছে।

“কোনদিকে দাঁড়াব আমি? বাবার পাশে? নাকি সেই মেয়ের পাশে, যাকে ছাড়া শ্বাস নিতে পারি না?”

সে মাথা দু’হাতে চেপে ধরল। পৃথিবীর এই নির্জন স্থানে বসেও দুলফিকারকে শান্তি দিচ্ছে না কিছু। যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে পারছে না, আবার যেতে মনও চাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, যেখানেই যাবে, সেখানেই হারাবে সে।

“আরিবা…”

মৃদু স্বরে নামটা ফিসফিস করে উচ্চারণ করল সে। মুহূর্তেই বুকটা হাহাকার করে উঠল।

“তুমি কি সত্যিই আমার বাবাকে মেরে ফেলবে আজ?”

হাওয়ার দমকায় চুল এলোমেলো হয়ে গেল দুলফিকারের। চোখ লালচে, কিন্তু তাতে রাগ নেই। আছে হতাশা, আছে অসহায়তা। তার ভেতরে আজ যুদ্ধক্ষেত্রের থেকেও বড় এক যুদ্ধ চলছে। আরিবাকে আঘাত করা তার পক্ষে সম্ভব নয় আবার নিজের বাবার মৃত্যুও স্বচক্ষে দেখা সম্ভব না। সেজন্যই দুলফিকার যুদ্ধ থেকে দূরে সরে আছে। কিন্তু আরিবা! আরিবা যদি ক্রোধে দিকবিদিকশুন্য হয়ে পুরো জিন রাজ্যের ওপর আক্রমণ করতে থাকে তখন কী হবে?

যুদ্ধক্ষেত্রের বাতাস বদলে গেছে। ভ্যালেরিনা স্বয়ং নিজে উপস্থিত হয়েছে এখন, সাথে আছে ভ্যাম্পায়ার রাজাসহ, রাজপুত্রও। যুদ্ধের ময়দানে এসে ভ্যালেরিনা হাত তুলতেই আকাশে বজ্রপাত হলো, ভ্যাম্পায়ার সৈন্যদের চোখে ফিরে এল আগুন। মৃত যোদ্ধাদের রক্ত যেন তার শক্তির কাছে সাড়া দিয়ে উঠল।

সে ঝাঁপিয়ে পড়ল, প্রথম আঘাতেই জিনদের বিশাল এক দল ছিটকেগিয়ে মাটিতে গর্ত হয়ে গেল। তার তলোয়ারের আঘাতে শত্রুর আগুন নিভে গেল। সে যেন একা এক সেনাবাহিনী ভ্যাম্পায়াররা নতুন করে শক্তি ফিরে পেল। তাদের গর্জন যুদ্ধক্ষেত্র কাঁপিয়ে তুলল। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো– পরাজয়ের কিনারা থেকে ভ্যাম্পায়ার রাজ্য আবার দাঁড়িয়ে গেছে, কারণ তাদের রাজপুত্র ফিরে এসেছে, সর্বশক্তিমান রূপে।

চলবে….

🚫আজকে আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে। কিছু লিখতে পারি না। কী লিখলাম জানি না।

[ ‎“ কী করবো প্রেমিকা? আমার তো একটু-আধটু আদরে পোষায় না৷ “

~ দুলফিকার

#আশিকা_জিন

‎প্রোমো কোড ব্যবহার করে " আশিকা জিন " ই-বুকটি মাত্র ২৩ টাকায় কিনতে পারবেন , বইটই এপস থেকে।

‎লিংক- https://link.boitoi.com.bd/toYcp

‎এলার্ট- ই-বুকটি অতিরিক্ত রোমান্টিক / ইরোটিক রোমান্সে ভরপুর। ]

আগের পর্ব https://www.facebook.com/100085130931546/posts/747676288080062/

পরের পর্ব https://www.facebook.com/100085130931546/posts/749249801256044/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন