ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আসবে বলে বসন্ত এসেছে

৩৪তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার নিপা

#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৩৪'

#জেরিন_আক্তার_নিপা

পেখম পা টিপেটিপে সিঁড়ি পর্যন্ত এসে দৌড়ে উপরে চলে গেল। সোজা আজান ভাইয়ের রুমে চলে এলো। আজান পেখমকে দেখে জিজ্ঞেস করল,

-আজ পেখম রানীকে এত খুশি খুশি লাগছে কেন?

-আজান ভাই কফি খাবে? আমি অনেক ভালো কফি বানাতে পারি।

-আমি তো কফি খাই না।

পেখম হতাশ গলায় বলল,

-কফি খাও না!

-না। তবে চা খাই।

পেখম উদাস ভঙ্গিতে বলল,

-দূর আমি কি চা ভালো বানাতে পারি নাকি। কফি ভালো বানাতে পারি। কিন্তু তুমি কফি খাও না।

পেখম উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। ঠিক আছে। সে কফি শুধু তাওয়াফ ভাইকেই বানিয়ে খাওয়াবে। আর কাউকে না।

তাওয়াফ একটা ফোনকল করতে বাইরে গিয়েছি। কথা শেষ করে এসে দাদীর পাশে বসল। পেখম ততক্ষণে আবার নিচে চলে এসেছে। আজ তার মন ভীষণ ভালো। তাই তিড়িংতিড়িং করে পুরো বাড়ি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাওয়াফ দাদীর সাথে কথা বললেও ঠিকই পেখমের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করছে। পাগল একটা।

-পুনম।

হঠাৎ তাওয়াফ ভাই তার নাম ধরে ডেকে উঠলে পেখমের বুকের ভেতর ধুক করে উঠল। ধীর পায়ে এগিয়ে এসে মৃদু স্বরে বলল,

-জি।

-পড়াশোনা কেমন চলছে তোর?

-ভালো।

-কেমন ভালো?

কেমন ভালো এটা কীভাবে বোঝাবে? তাওয়াফ ভাই হয়তো জানে না। পড়াশোনা তেমন একটা না করলেও সে ছাত্রী ভালো। এসএসসিতে সব সাবজেক্টে এ'প্লাস এসেছে। ওবাড়িতেও তো মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিল। তাওয়াফ ভাই মনে হয় খায়নি।

-তোদের পরীক্ষা কবে?

-এখনও রুটিন দেয়নি।

গোলাপ জান এবারও কথার মাঝে টিপনি কেটে বললেন,

-এর আবার পড়া! সারাদিন আকাম কুকাম কইরা বেড়ায়। টিভি দেখে না হইলে মোবাইল টিপে। টিভি মোবাইল না দেখলে আলিশবার সাথে সে-ও পোলাপান সাজে।

পেখমের ইচ্ছে করছে কোনকিছু দিয়ে দাদীর মাথায় মেরে মাথা ফাটিয়ে দিতে। বুড়ীর কোন ক্ষতিটা সে করেছে? তাওয়াফ ভাইয়ের সামনে কেন তার মানইজ্জতের ফালুদা বানাচ্ছে।

বড় চাচা বাড়ি ফিরে ঘরে যাওয়ার আগে তাওয়াফের সাথে অনেকক্ষণ কথা বলেছে। বড় চাচাও কি তাকে ভুল বুঝেছে? চৌধুরীরা তার কাছে গেলেও সে প্রথম দুইবার এটা বলে ফিরিয়ে দিয়েছে, এতদিন আপনারা আমাদের আরেক কোম্পানির সাথে কাজ করেছেন। তখন আমাদের সাথে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কিন্তু পারিবারিক সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে আমরা আপনাদের সাথে কাজ করতে পারব না। তাওয়াফ বড় চাচার কাছে এক্সপ্ল্যানেইশন দিতে গেলে হারিশ মির্জা তাওয়াফের কাঁধে হাত রেখে বললেন,

-আমি জানি আমাদের সাথে শত্রুতা করে তুই কিছুই করিসনি। পরিবারের বিরুদ্ধে যাওয়ার ব্যক্তি তুই না।

বড় চাচা তাকে বুঝলেও মেজ চাচা বাড়ি এসে তাকে দেখে হুঁশ হারিয়ে ফেলল। চিৎকার চেঁচামেচি করে বাড়ির পরিবেশ নষ্ট করছে। বাবাকে এ রূপে দেখে পেখম ভয়ে সিটিয়ে গেল। তাওয়াফ ভাইয়ের কথা ভেবেও ভীষণ মন খারাপ হলো। পেখম জাদু জানলে প্রথমেই সে মন্ত্র পড়ে বাবা আর তাওয়াফ ভাইয়ের সম্পর্ক ঠিক করে দিত। তাওয়াফ বরাবরের তুলনায় চাচার উৎপাত আজ একটু বেশিই এনজয় করছে। দাদী, বড় চাচা সবাই পল্লব মির্জাকে থামাতে ব্যর্থ হলে তাওয়াফ তার অস্ত্র প্রয়োগ করল। চাচাকে শান্ত করতে কানে কানে একটা কথাই বলল,

-আজ দুপুরটা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এত সুন্দর কাটিয়ে এসে, বাড়ি ফিরে খামোখা সন্ধ্যাটা কেন খারাপ করছেন মির্জা সাহেব!

পল্লব মির্জা অবিশ্বাস্যে বিস্ফোরিত চোখে তাওয়াফের দিকে তাকালে তাওয়াফ ঠোঁট কামড়ে হাসল। নিজের এত বড় সিক্রেট তাওয়াফ জেনে ফেলেছে জেনে পল্লব মির্জার চেহারার রং ফিকে হয়ে গেছে। এতক্ষণ যে চোখে ক্রোধ ছিল এখন তাওয়াফ সেখানে ভয়, আতঙ্ক দেখতে পারছে। নিচু গলায় তাওয়াফ বলল,

-বাকি কথা কি সকলের সামনেই হবে?

পল্লব মির্জা সবার আগে মেয়ের দিকে তাকালেন। পেখম ভীত চোখে বাবা, তাওয়াফ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। স্ত্রীকেও দেখলেন তিনি। তাওয়াফ বুঝতে পেরে সকলের উদ্দেশ্যে বললেন,

-চাচার সাথে আমার কিছু পার্সোনাল কথা আছে। আমরা একটু বাইরে যাচ্ছি।

বাইরে এসে পল্লব মির্জা কতক্ষণ ভাষাশূন্য হয়ে থাকার পর দাঁতে দাঁত চেপে জিজ্ঞেস করলেন,

-তুই আমার পেছনে স্পাই লাগিয়েছিস?

চাচার ছেলেমানুষি চিন্তাভাবনা শুনে তাওয়াফ হেসে বলল,

-আপনার কি মনে হয় আমার জীবনে আপনাকে আমি এতটা গুরুত্ব দিব?

-তাহলে কীভাবে জেনেছিস তুই?

-কীভাবে জেনেছি এটা নাহয় সিক্রেট থাকল। তবে আপনার সিক্রেট কতদিন সিক্রেট থাকবে এব্যাপারে কোন গ্যারান্টি দিতে পারছি না।

-তুই আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছিস?

-উঁহু। মিষ্টি থ্রেট দিচ্ছি। যদি চান আপনার সিক্রেট আরও কিছুদিন সিক্রেট থাকুক তাহলে আমার এবাড়িতে আসা নিয়ে আপনি কিছুই বলবেন না। আর আপনার মেয়েকেও আমাদের বাড়িতে যেতে দিবেন।

-যদি না দেই?

-না দিলে আর কী করার। আপনার মেয়ে তার দ্বিতীয় মা'র কথা জেনে যাবে। তখন সে আপনার সাথেই থাকবে কি-না এতেও সন্দেহ আছে।

পল্লব মির্জা রাগে টগবগ করতে লাগলেন। চোখ দিয়েই তাওয়াফকে ভস্ম করে দিতে চাচ্ছেন। তাওয়াফ চাচার অস্থিরতা দেখে মজা পাচ্ছে। চাচার হাত-পা বেঁধে দিয়েছে সে৷ এখন চাইলেও চাচা কিছুই করতে পারবেন না। তাওয়াফ ভেতরে যাওয়ার আগে ফিরে তাকিয়ে আরেকটা কথা বলল,

-নিজের স্ত্রী, মেয়ের বিশ্বাস ভাঙার আগে ওদের কথা একবারও মনে পড়েনি? আমি হয়তো বলব না। তবে সত্য একদিন না একদিন সামনে আসবেই। সেদিন মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে কী কৈফিয়ত দিবেন? ভাবুন মিস্টার মির্জা। এখন থেকেই আপনার ওই দিনটার কথা ভাবা উচিত। মেয়ের ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন?

তাওয়াফ আগে ফিরে এলো। গোলাপ জান রং শূণ্য মুখে জিজ্ঞেস করলেন,

-পল্লব তোরে কী কইছে?

তাওয়াফ হেসে বলল,

-উনি কিছুই বলেননি। আমি বলেছি।

-কী কইছস তুই?

-চাচা ভাতিজার মধ্যে যেসব কথা হতে পারে।

দাদীর মতো পেখমও জানার জন্য অধৈর্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু তাওয়াফ ভাই দাদীকে কিছুই বলেনি। তাই পেখমেরও জানা হলো না। সবার সামনে সে জিজ্ঞেস করতে না পারলেও রাতে ঠিকই সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর চুপিচুপি তাওয়াফের কাছে এসেছে। দরজা খোলাই ছিল। তারপরও টোকা দিল। তাওয়াফ জিজ্ঞেস করল,

-কে?

পেখমের ভয় লাগছে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। তবুও কাঁপা গলায় বলল,

-আমি পেখম। আসব তাওয়াফ ভাই?

-না। ওখানেই দাঁড়া।

পেখমকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে তাওয়াফ নিজেই বেরিয়ে এলো। কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করল,

-রাত কয়টা বাজে?

পেখম চোখ নামিয়ে রেখেছে। মিনমিনে স্বরে সে বলল,

-জানি না।

-কেন এসেছিস?

-একটা কথা জানতে।

-কী কথা?

জিজ্ঞেস করার আগেই গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। পেখম ঢোঁক গিলে গলা ভিজিয়ে নিল।

-আপনি তখন পাপার সাথে কী কথা বলেছেন?

সন্ধ্যায় এই মেয়েকে প্রশ্রয় দেয়ার ফল এটা। নাহলে এই কথা জিজ্ঞেস করতে আসার সাহস পেখমের হতো না। একে লাই দেওয়া যাবে না। তবে তাওয়াফ পেখমের সাথে কঠিনও হতে চায় না।

-ঘরে যা পুনম।

পেখম মুখ ছোট করে ফেলল। তাওয়াফ ভাই কেন বলছে না!

-বলুন না তাওয়াফ ভাই।

তাওয়াফ ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলল। তার মুখ থেকে মনমতো কোন উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত এই মেয়ে যাবে না।

-বিজনেসের কথা তুই বুঝবি?

-বিজনেসের কথা কি সবার আড়ালে গিয়ে আলাদা বলতে হয়? আর বড়ো আব্বুও তো ছিল ওখানে। তাহলে বড়ো আব্বুকে কেন ডাকলেন না?

কী মুশকিল। এ তো ভালো যন্ত্রণা!

-পুনম এবার কিন্তু তুই ধমক খাওয়ার কাজ করছিস। তুই চাস আমি তোকে ধমক দিই?

পেখম যেন এবার কেঁদেই ফেলবে। তাওয়াফ ভাবছে মেয়েটা এত অবুঝ কেন।

-আমি জানি আপনি বিজনেসের কথা বলেননি।

-ঠিকই বলেছিস। বিজনেসের কথা বলিনি। তোর বিয়ের কথা বলেছি। তোর জন্য অনেক ভালো একটা পাত্র পেয়েছি।

এই কথা শুনে পেখম অবিশ্বাস্য চোখে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে রইল। তাওয়াফ ভাই কি তার সাথে মজা করছে? পেখমের চেহারার অবস্থা দেখে তাওয়াফ খুব কষ্টে হাসি চাপল।

-শুনেছিস? এবার নিশ্চয় খুশি লাগছে। তাহলে এখন ঘরে যা। তুই ঘুমা। আমাকেও ঘুমাতে দে।

পেখম বাকশক্তি ফিরে পাওয়ার আগেই তাওয়াফ ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দিল। পেখম ওভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। তাওয়াফ ভাই সত্যিই বাবার সাথে তার বিয়ের কথা বলেছে!

*****

খাওয়ার টেবিলে এসেও পেখম তাওয়াফের দিকে দেখছে না।

পেখম যে বাকি রাত অঘুমা ছিল এটা তাওয়াফ ওকে দেখেই বুঝতে পারল। তাওয়াফ মনে মনে বলল,

-রাগ নাকি অভিমান?

আজ তাওয়াফের সাথে খেতে বসেও পল্লব মির্জা শান্ত আছেন। কোনরকম বাড়াবাড়ি করছেন না। গোলাপ জান ছেলের এরূপ আচরণ দেখে অবাকই হলেন।

তটিনী নীরবে খেতে খেতে পেখম আর তাওয়াফকে লক্ষ্য করছে। দু'জনকে ভালোই মানাবে। তবে গত রাতের ঘটনায় যা বুঝতে পেরেছে ওদের মিলনের পথে সবথেকে বড় বাধা পেখমের বাবা হবে।

-পুনম।

তাওয়াফের ডাকে পেখম চমকে তাকাল। পল্লব মির্জাও তাওয়াফের মুখে মেয়ের নাম শুনে কিড়মিড় করে তাকালেন। তাওয়াফ সহজ গলায় বলল,

-জুস পাস কর।

পেখমের সামনেই জুসের জগ ছিল। পেখম দেওয়ার আগেই জেসমিন এগিয়ে এলো। খেতে খেতে তাওয়াফ জিজ্ঞেস করল,

-কলেজে যাবি?

পেখম জবাব দিচ্ছে না। কেন কথা বলবে সে? তাওয়াফ ভাই তার বিয়ে ঠিক করে বেড়াবে সে কেন তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে কথা বলবে? জেসমিন মেয়েটাকে ঠেলা দিয়ে বলল,

-কথা বলছিস না কেন? তাওয়াফ কী জিজ্ঞেস করেছে?

বাধ্য হয়ে পেখম বলল,

-যাব।

-তোর কলেজ আমার অফিসের পথেই পড়ে। তৈরি হয়ে আয়। তোকে নামিয়ে দেব।

তটিনী হাসছে। হয়তো দু'জনের মান অভিমান চলছে। তাই পেখমের বিশেষ মানুষ তার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করছে। পল্লব মির্জা বললেন,

-আমাদের গাড়ি আছে। ড্রাইভার নিয়ে যাবে। তোকে কষ্ট করতে হবে না।

তাওয়াফ চাচার দিকে তাকিয়ে আন্তরিক হেসে বলল,

-আমিও ওই পথেই যাব। পুনমকে নামিয়ে দিতে বাড়তি কষ্ট হবে না।

পল্লব মির্জা ভেতরে ভেতরে আগ্নেয়গিরির মতো ফুটতে থাকলেও তাওয়াফকে কিছুই বলতে পারছেন না। তার দূর্বলতা তাওয়াফ জানে।

পেখম যেতে চাইল না। কিন্তু জেসমিন ধমক দিয়ে পাঠাল। ছেলেটা নিজে থেকে বলেছে।

পেখম তৈরি হয়ে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে তাওয়াফ নিজে এসে ওর জন্য গাড়ির দরজা খুলে দিল। গাড়িতে বসেও পেখম তাওয়াফের সাথে কথা বলছে না। কতক্ষণ চুপচাপই কাটল। ড্রাইভ করতে করতেও তাওয়াফ পেখমকেই দেখছে। পেখমের নীরবতা ভাঙতে তাওয়াফ বলল,

-তোর বাপকে ছেলের ছবি দেখিয়েছি। উনার পছন্দ হয়েছে। তুই নাকি বাপের কথা অমান্য করিস না। তার মানে কি ছেলেকে হ্যাঁ করে দিব?

কঠিন মুখে পেখম বলল,

-না।

-না কেন? তোর বাপ তো রাজি।

-থাকুক রাজি।

-তুই তোর বাপের কথা শুনবি না?

-না।

তাওয়াফ ঠোঁট কামড়ে হাসল। পেখম রাগে ফুঁসছে। মেয়েটাকে রাগাতে মজাই লাগছে।

-তোর বাপ তো অনেক বড়ো মুখ করে বলেছে, তার মেয়ে নাকি তার কথা ফেলবে না!

পেখম এতক্ষণ সামনের দিকে তাকিয়ে বসে থাকলেও এবার তাওয়াফের দিকে ফিরল। তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলল,

-আপনি সত্যিই আমার জন্য ছেলে দেখেছেন?

তাওয়াফ সহজ গলায় বলল,

-দেখেছিলাম একটা।

-কেন? আপনাকে কি আমি বলেছি, আমার জন্য ছেলে দেখুন?

-মেয়ে মানুষ মুখ ফোটে এসব কথা বলতে পারে না।

-আমি পারি। আমার যাকে বিয়ে করতে মন চাইবে তাকেই করব। আপনাকে আমার জন্য ছেলে দেখতে হবে না। আপনি বরং নিজের জন্য মেয়ে দেখুন। বুড়ো তো হয়ে যাচ্ছেন।

তাওয়াফ হতভম্ব গলায় জিজ্ঞেস করল,

-আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি!

-অবশ্যই হচ্ছেন। আমার কত বড়ো আপনি!

-তোর যদি আমার মতো একটা বুড়োর সাথে বিয়ে হয় তাহলে কী করবি তুই? বুড়োর সাথে সংসার করবি না?

তাওয়াফের ঠোঁটের কোণে হাসি। পেখম ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে আছে। তাওয়াফ ভাইয়ের হলোটা কী? আগে তো কোনদিন এধরনের কথা বলেনি। পেখম নিজের অজান্তেই একটা কথা জিজ্ঞেস করে বসল,

-আপনি কাকে পছন্দ করেন তাওয়াফ ভাই? ওই মেয়ের নাম কী?

চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন