#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৪৬'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
তাওয়াফ যখন ঘরে এলো তখনও তার ভাইবোন গুলো যায়নি। ভাইকে দেখেই ইলহাম আনন্দের সাথে জানাল,
-রাত একটা বেজে গেলেও ফুলের ব্যবস্থা হয়েছে। যদিও নরমাল দামের থেকে তিনগুণ বেশি দাম নিয়েছে। কিন্তু ব্যাপার না। তোমার ভাই আজ বড়ো মনের পরিচয় দিবে।
প্রিয়া মুখ বাঁকিয়ে বলল,
-আহারে কত বড়ো মন রে!
ইলহাম আরও বলল,
-ফুল নিয়ে আসছে। বেশি সময় লাগবে না। তুমি কি বাইরে অপেক্ষা করবে? ঘর সাজানো হয়ে গেলে তোমাকে ডেকে নিব।
মাঝরাতে এদের মাথায় সমস্যা দেখা দিলেও তাওয়াফ এখনও সুস্থ আছে। সে চেহারার ভাব কঠিন করে ইলহামকে ধমক লাগাল।
-কাল সকালে হসপিটালে যেতে হবে না তোর? রাত কয়টা বাজে?
-রাত যতটাই বাজুক, আজ আমার ভাইয়ের বাসর রাত বলে কথা।
দাদী কি কম ছিল? ইলহাম ভাইও এসব শুরু করেছে! পেখম লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে পারছে না শুধু। তাওয়াফ একনজর পেখমকে দেখে ইলহামকে কলিজা কাঁপানো ধমক দিল।
-ফাজলামি অনেক হয়েছে। এবার সব কয়টা আমার ঘর থেকে বের হ। কুইক।
আকৃতি ভাইয়ের প্রতি মায়া দেখিয়ে দৃষ্টিকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কিন্তু ইলহাম যেতে চাচ্ছে না। এত দাম দিয়ে ফুল অর্ডার দিয়েছে বাসরঘর না সাজিয়েই চলে যাবে! তাহলে তো তার টাকা গুলোই জলে যাবে। তাওয়াফ চোখ পাকিয়ে বলল,
-কী হলো, কথা কানে যায়নি?
ইলহাম দোনোমোনো করে বলল,
-দাদীর হুকুম। অমান্য করলে কানে টান আমাকেই খেতে হবে।
তাওয়াফ শীতল হুমকি দিয়ে বলল,
-দাদী তো শুধু কান টানবে। আমার হুকুম অমান্য করার সাহস দেখালে কান টানার জন্য তোর কানটাই থাকবে না।
ইলহাম তারপরও দাঁড়িয়ে আছে দেখে প্রিয়া পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে বলল,
-এই মিয়া সামনে থেকে সরেন তো। আপনি না যান আমাকে যেতে দেন।
প্রিয়া চলে যাচ্ছে দেখে ইলহাম আর ভাইয়ের সামনে একা থাকার সাহস দেখাল না। সে-ও প্রিয়ার পেছনে যেতে যেতে বলল,
-মিস প্রতিবাদী, আমাকে ফেলে একা কোথায় চলে যাচ্ছেন? আমাকেও সাথে নিয়ে যান।
তাওয়াফ মনে মনে ভাবছে, এদের কান্ডকারখানা তো মাত্র শুরু হয়েছে। এর পর আরও কী কী করবে উপরওয়ালাই জানেন। তাকে পাগল না বানানো পর্যন্ত এরা থামবে না শিওর।
পেখম জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখন কী করবে সে? বিয়ের আগে যদি এতকিছু ভাবত তাহলে হয়তো এই সিদ্ধান্ত নিত না। তাওয়াফ পেখমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,
-তুই কেন এখনও দাঁড়িয়ে আছিস?
পেখম যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল। তাৎক্ষণাৎ বলে উঠল,
-আমিও কি চলে যাব?
তাওয়াফ ঘাড় ঘুরিয়ে পেখমকে দেখল। এই মেয়ে তার সাথে থাকতে এত ভয় পাচ্ছে কেন? কে জানে দাদী এর মাথায় কোন কথা ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাওয়াফ ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
-অনেক রাত হয়েছে। শুয়ে পড়।
-কোথায় শোব আমি?
তাওয়াফ ইশারা করে বিছানা দেখিয়ে বলল,
-এত বড়ো একটা বিছানা কি তোর চোখে পড়ছে না?
পেখম একবার বিছানার দিকে দেখছে, একবার তাওয়াফের দিকে। চিন্তিত মুখে বলল,
-আমি বিছানায় শুলে আপনি কোথায় শোবেন তাওয়াফ ভাই?
তাওয়াফ বলতে যাচ্ছিল, আমার সাথে এক বিছানায় থাকতে কি তোর কোন সমস্যা আছে? কিন্তু কথাটা সে বলল না। এমনিতেই একরাতে অনেককিছু হয়ে গেছে। বাপের দ্বিতীয় বউ বাড়ি আসার কথা জেনেছে। এমনকি নিজেও বাপের সবথেকে বড়ো শত্রুকে বিয়ে করে ফেলেছে। মেয়েটাকে আজ আর না ঘাঁটানোই ভালো হবে।
-আমি সোফায় শুয়ে পড়ব।
পেখম বড়ো একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল। সে শুধু শুধুই এতকিছু ভাবছিল। পেখম তাড়াতাড়ি গিয়ে বিছানায় উঠে পড়ল। পেখম শুয়ে পড়ছে বুঝতে পেরে তাওয়াফ বলল,
-তুই কি এভাবেই ঘুমাবি?
এভাবে বলতে শাড়ি টাড়ি পরে আরকি। পেখম নিজের দিকে তাকাল। জীবনের প্রথম বার আজকে শাড়ি পরেছে। নিজেকে ভালো করে একটু আয়নায় দেখতেও পারল না। কিন্তু এখন আয়না দেখার বা শাড়ি খুলে শোয়ার মতো এনার্জি নেই। তাই বলল,
-সমস্যা নেই। এভাবেও ঘুমাতে পারব।
-তারপরও চেঞ্জ করে নে।
পেখমের তখনই একটা হাই এলো। মুখে হাত দিয়ে হাই চেপে বলল,
-অনেক ঘুম পাচ্ছে। শরীরে এত শক্তিও নেই যে উঠে গিয়ে চেঞ্জ করব।
তাওয়াফ আর জোর করল না। এই ঘুম কাতুরে মেয়ে যে এতক্ষণ জেগে আছে এটাই ভাগ্য। পেখম শুয়ে পড়েছে। শেরওয়ানি নামক এই আজাব পরে তাওয়াফ আর থাকতে পারছে না। ওয়ারড্রব থেকে কাপড় নিয়ে সে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। চেঞ্জ করে বেরিয়ে এসে ভাবল রুমের লাইট নিভিয়ে দিবে। পেখমের হয়তো ঘুমতে সমস্যা হচ্ছে। তবে পেখমের দিকে চোখ গেলে বুঝতে পারল লাইট অন অফ নিয়ে এই মেয়ের কোন সমস্যা হবে না। কারণ পেখম অলরেডি ঘুমিয়ে পড়েছে। তাওয়াফ একটা চেয়ার এনে পেখমের সামনে বসে পড়ল। ডান হাত গালের নিচে রেখে পেখম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। তাওয়াফ মুগ্ধ নয়নে তার সদ্য বিয়ে করা বউকে দেখছে। তাওয়াফ ভেবেছিল তার জীবনে এমন একটা দিনের দেখা পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। এত সহজে সবকিছু হয়ে যাবে এটা তার ভাবনার বাইরে ছিল। এজন্যই বলা হয় আল্লাহর পরিকল্পনা সর্বোত্তম। তার মনে বসন্তের আগমন ঘটানো প্রজাপতিটাকে সে হালাল ভাবে পেয়ে গেছে। তাওয়াফ এভাবেই অনেকটা সময় বসে থেকে পেখমকে দেখল। এর মাঝে একবার উঠে গিয়ে নিজের ফোনটা নিয়ে এলো। আজ তাদের বিয়ে ছিল। অথচ কেউ একটা ছবি তুলেনি। এই দিনটার স্মৃতি কীভাবে না রেখে পারে সে? দু'জনের একসাথে ছবি না থাকুক পেখমের ছবি থাকলেই হবে। তাওয়াফ পেখমের অনেকগুলো ছবি তুলে রাখল। ঘুমিয়ে থাকলেও পেখমের সবগুলো ছবিই সুন্দর এসেছে। তাওয়াফের ঠোঁটে মিষ্টি একটা হাসি খেলে গেল।
-ভাগ্যিস তুই শাড়ি পরেই শুয়েছিলি।
কয়েকটা চুল পেখমের মুখের উপর এসে পড়েছিল। তাওয়াফ আলগোছে চুল গুলো সরিয়ে দিতে চাইলেও পেখম নড়ে উঠল। ঘুমের মধ্যেই বিড়বিড় করে কিছু বলল। পেখমের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে তাওয়াফ বলল,
-বিবাহিত জীবনে ওয়েলকাম মিসেস মির্জা। আমার শখের নারী তো তুই আগেই ছিলি, এখন কি ব্যক্তিগত নারী হওয়ার জন্য তোকে ধন্যবাদ দিতে হবে? নাকি শুধু ভালোবাসা দিলেই চলবে? আজকের পর থেকে পৃথিবীর কোন দুঃখ তোকে ছুঁতে পারবে না। তোকে ছোঁয়ার জন্য তাদের আগে আমাকে ছুঁয়ে যেতে হবে। তোর মুখ থেকে যেন এক মুহূর্তের জন্য হাসি না ফুরায় সেজন্য আমি যেকোনো কিছু করে যাব। শুধু তোর বাপ কেন তোর জন্য পৃথিবীর সব মানুষের সাথে শত্রুতায় নেমে যেতেও রাজি আছি।
তাওয়াফ ঝুঁকে পেখমের কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল। তার ভালোবাসার প্রথম স্পর্শ।
****
শায়লা এই বাড়িতে আছে তিন দিন হলো। এই তিন দিনের মধ্যে বাড়ির একটা মানুষও তার সাথে টুঁশব্দ পর্যন্ত বলেনি। শায়লার অবশ্য এতে আফসোস, দুঃখ কোনটাই নেই। ছোটবেলা থেকেই নিজের অধিকার আদায় করে নিতে শিখেছে সে। শায়লা রান্নাঘরে চলে এলো। এরা তাকে খেতে পর্যন্ত ডাকে না। বড়ো ভাবী অবশ্য তার জন্য খাবার আলাদা করে রেখে দেয়। শায়লাকে রান্নাঘরে আসতে দেখে সানজিদা রাগ করে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল। শায়লা নাজমাকে বলল,
-আমি কিছু করব ভাবী?
-না।
-আপনারা আমার সাথে কথা বলেন না কেন?
-তোমার সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। আমরা পূর্বপরিচিতও না। তবে তুমি যার জায়গা নিয়ে এবাড়িতে এসেছ সে আমার ছোট বোনের মতো। তাই তোমার সাথে আমার সম্পর্কটা কখনোই স্বাভাবিক হবে না।
-আপনি কি আমাকে ঘৃণা করেন?
নাজমা শায়লার দিকে তাকাল। মেয়েটাকে তার খারাপ মনে হয় না।
-তুমি নিজেই ভাবো মানুষের ঘৃণা পাবার মতো কোন কাজ তুমি করেছ কি-না।
****
সাতসকালে তাওয়াফদের বাড়িতে কনিকার আগমন ঘটেছে। তাওয়াফ ভেবে পাচ্ছে না এই পাগলকে কে জানিয়েছে। তাওয়াফের উপর কনিকার ভীষণ রাগ বোঝাই যাচ্ছে। সবার সামনেই তাওয়াফকে মারতে মারতে কনিকা বলছে,
-কত বড়ো ডাকাত রে তুই! আমাকে না জানিয়ে তুই কীভাবে বিয়ে করতে পারলি? আমি কি ছেলে ছিলাম যে তোর বউকে পছন্দ হয়ে গেলে ভাগিয়ে নিয়ে যেতাম। আমাদের এত দিনের সম্পর্ক। শেষ পর্যন্ত তুই আমাকে এভাবে ঠকালি! ছি তীব্র
ছি!
পেখম চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে মেয়েটাকে দেখছে। কে এই মেয়ে? তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে কী সম্পর্ক? প্রিয়া আর পেখম বাদে কনিকাকে সবাই চিনে।
তাওয়াফ কনিকাকে কোনকিছু বলেই বোঝ দিতে পারছে না।
-আরে বাবা আমার কথা তো শুনবি?
-শোনানোর জন্য কোন কথা রেখেছিস তুই? আমার সাথে তুই এমনটা কীভাবে করতে পারলি?
প্রিয়ার পাশেই পেখম দাঁড়িয়ে ছিল। নিচু গলায় প্রিয়া জিজ্ঞেস করল,
-এই মেয়ে কে পুনম?
-আমি নিজেও তো জানি না প্রিয়া আপু।
-তুমিও জানো না!
দু'জন ভাবুক মুখে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। পরে অবশ্য ওরা জানতে পেরেছে এটা তাওয়াফের ফ্রেন্ড। পেখম ভাবছে, ফ্রেন্ডের সাথে একটু বেশিই মাখামাখি মনে হচ্ছে। মেয়েটা আসার পর থেকে কেমন তাওয়াফ ভাইকে জোকের মতো ধরে রেখেছে। একা একা দু'জন এত কী কথা বলছে?
কনিকার রাগ কিছুতেই কমছে না। যদিও তাওয়াফ পুরো ঘটনাই কনিকাকে বলেছে।
-রাত একটা বাজুক বা তিনটে। তুই আমাকে একটা কল তো করতে পারতিস।
-এত রাতে কেন শুধু শুধু তোর ঘুম ভাঙাতাম?
-শুধু শুধু! শালা শয়তান তুই আসলেই একটা হারামি।
ওদের কথার মাঝেই পেখম ওদের জন্য চা নিয়ে এসেছে। পেখমকে দেখে কনিকা চুপ করে গেল। মেয়েটা ভীষণ মিষ্টি দেখতে। এমনি এমনি তো আর এই গাধা প্রেমে পড়েনি। তবে পেখম যে গাধাটার চাচার মেয়ে এই কথাটা আগে বলেনি। পেখম আড়চোখে ওদের দেখে হাঁটার সময় আচমকা হুঁচট খেলো। তাওয়াফ সাথে সাথে বলে উঠল,
-সাবধানে, দেখে।
তাওয়াফ নিজে উঠে গিয়ে পেখমের হাত থেকে চায়ের ট্রে নিয়ে বলল,
-রানি কোথায়? তোকে নিয়ে আসতে কে বলেছে?
বউয়ের প্রতি তাওয়াফের কেয়ার দেখে কনিকা মনে মনে বলল,
-হায়! কী প্রেম!
পেখম মেয়েটার সামনে লজ্জা পেয়ে গেল। সামান্য একটা কাজও তাকে দিয়ে হয় না। তাওয়াফ জিজ্ঞেস করল,
-কলেজে কখন যাবি?
-দাদী আজ যেতে মানা করেছে।
-কেন?
পেখম কীভাবে বলবে আজ বিয়ের প্রথমদিন বলে দাদী তাকে বাড়িতে থাকতে বলেছে। চা দিয়েও দাদীই পাঠিয়েছে। পাঠানোর আগে এটাও বলেছে,
-বরকে একটা মেয়ের সাথে একা ছেড়ে দিয়ে তুই এখানে কী করছিস? দৌড় দিয়ে আমার নাতির কাছে যা।
পেখমকে দাদী এখানে বসতে বলে দিলেও পেখম ফিরে যাওয়া ধরল। কনিকা ওকে ডেকে উঠে বলল,
-চলে যাচ্ছ কেন পুনম? আমাদের সাথে বসো।
পেখম মৃদু গলায় বলল,
-না, আপনারা গল্প করুন।
-তুমিও আমাদের সাথে গল্প করো।
পেখম এখানে থাকতে চাচ্ছে না বুঝতে পেরে তাওয়াফ কনিকাকে ওকে জোর করতে না করল। পেখম চলে গেলে কনিকা সোজা হয়ে বসে কিছুটা তাওয়াফের কণ্ঠ নকল করে বলতে শুরু করল,
-প্রজাপতি দেখেছিস তো? নিজে থেকে কাছে আসে। তার যতক্ষণ মন চায় আশেপাশে ঘুরঘুর করে। তারপর আবার চলে যায়। এখন যদি আমি জোর করে প্রজাপতিটাকে আমার হাতের মুঠোয় ধরে রাখতে চাই, তাহলে তার সুন্দর রঙিন ডানা গুলো নষ্ট হয়ে যাবে। ডানা ভেঙে গেলে সে আর উড়তে পারবে না। তাই আমি তাকে ধরার চেষ্টা করি না। শালা ভণ্ড! কথাগুলো তুই বলিসনি এবার অস্বীকার কর। আমার সামনে এত এত চাপা পিটিয়ে ঠিকই তো প্রজাপতিকে বিয়ে করে সারাজীবনের জন্য নিজের হাতের মুঠোয় আটকে ফেলেছিস।
তাওয়াফ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে। এই কম্পিউটার তার সব কথা মনে রেখে বসে আছে।
-ভণ্ডামি তো শুধু আমার সামনেই করতে পারিস। নাকি বউয়ের সামনেও করিস? ভালোবাসার কথা বলেছিস? নাকি আমার মতো বউকেও বোকা বানাচ্ছিস?
-বলিনি। আর না এখন বলতে চাই।
-কেন? ভালোবাসিস তাহলে বলতে সমস্যা কী? প্রকাশ পেলে কি ভালোবাসা কমে যাবে? নাকি সরকার তোর ভালোবাসার উপর ট্যাক্স বসাবে?
-এই মেয়ে একসময় বাপের অন্ধভক্ত ছিল। এখন ভক্তের আগে থেকে অন্ধ শব্দটা কেটে গেলেও ভক্তি পুরোপুরি কেটে যায়নি। আমার চাচার কাহিনি তুই জানিস না। উনি দ্বিতীয় বউকে ছেড়ে দিয়ে কেঁদে কেটে এসে মেয়ের কাছে ক্ষমা চাইলেই পুনম আমাকে ছেড়ে বাপের সাথে চলে যাবে। আমার ভালোবাসা তখন পল্লব মির্জার ভালোবাসার কাছে বালুকণার ন্যায় ক্ষুদ্র হয়ে যাবে। তাই যতদিন না পর্যন্ত আমি পুনমের প্রায়োরিটি লিস্টে ওর বাপের আগে জায়গা করে নিতে পারছি ততদিন ওকে আমার ভালোবাসার কথা জানাব না।
-এটা কেমন কথা? এখন কি জামাই শ্বশুর যুদ্ধ করবি?
কনিকার কথা শেষ হওয়ার আগেই নিচ থেকে কর্কশ একটা গলা বজ্রপাতের মতো হুংকার দিয়ে উঠল।
-তাওয়াফ শুয়োরের বাচ্চা কোথায়? আমার হাতেই আজ এই কুত্তার বাচ্চার মৃত্যু লেখা আছে।
কনিকা চমকে উঠে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-এ আবার কোন পাগল?
তাওয়াফের ঠোঁটে একটুকরো ধূর্ত হাসি দেখেই কনিকা বুঝে গেল। আতঙ্কিত কন্ঠে বলল,
-তোর শ্বশুর! ও মাই গড!
চলবে
১৭৪৭ শব্দের পর্ব। পাঠকের রেসপন্সও তেমনই চাই।