ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আসবে বলে বসন্ত এসেছে

৪৭তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার নিপা

#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৪৭'

#জেরিন_আক্তার_নিপা

কনিকার এজাতীয় ঝগড়া দেখতে ভীষণ মজা লাগে। সে তাওয়াফের আগেই নিচে নেমে এলো। লোকটা থেকে থেকে বাঘের মতো হুংকার করে উঠছে। কনিকার হার্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার অবস্থা।

বাবাকে না জানিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। এখনও না জানালে অন্যায় করা হবে। এই ভাবনা থেকেই নূর জাহান পল্লবকে ডেকেছিলেন। পল্লব কিছুতেই আসতে রাজি না হলে তাওয়াফ আর পেখমের বিয়ের কথা ফোনেই জানিয়ে দিয়েছিলেন।

পল্লব মির্জাকে সবাই শান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু পল্লব মির্জা আজ কিছুতেই শান্ত হবেন না বোঝাই যাচ্ছে।

-তাওয়াফ কুত্তার বাচ্চাকে আগে আমার সামনে আসতে বলো।

-কুত্তার বাচ্চা আমাকে বলছেন। অথচ ঘেউঘেউ করার কাজটা আপনি করছেন।

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে তাওয়াফ কথাটা বলল। পেখম ভয় পাচ্ছে। তাওয়াফ ভাই কেন সামনে এলো? পল্লব মির্জা সকলের কল্পনার বাইরে গিয়ে একটা কাজ করে ফেললেন। তাওয়াফ এসে সামনে দাঁড়াতেই তাওয়াফের মুখে প্রচণ্ড ঘুসি বসালেন। পেখম আঁতকে মুখে হাত চাপা দিয়ে ধরল। ঘুসি খেয়ে তাওয়াফ টলে উঠেছে। ঠোঁট কেটে সাথে সাথে রক্ত বেরিয়ে গেছে। তৌকির মির্জা হুংকার দিয়ে উঠলেন।

-পল্লব! আজ তুই সব সীমা পার করে গেছিস। আমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে আমার ছেলের গায়ে হাত তোলার সাহস তোকে কে দিয়েছে?

পল্লব মির্জা দ্বিগুণ জোরে চেঁচিয়ে বললেন,

-আমার অনুমতি ছাড়া, আমার অনুপস্থিতিতে আমার মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সাহস তোদের কে দিয়েছে? আমি আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে এসেছি।

বাবার এরূপ আচরণে পেখম ভয় পাচ্ছে। আবার এটাও ভাবছে, বাবাকে ঠিক এমনভাবেই তড়পাতে দেখতে চেয়েছিল সে। তাওয়াফ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঠোঁটের রক্ত মুছল। অবিচল কন্ঠে বলল,

-আমার অনুমতি ছাড়া আমার বউকে নিয়ে গিয়ে দেখান মিস্টার মির্জা।

পল্লব মির্জা ক্ষেপে আবার তাওয়াফের দিকে এগিয়ে আসছিল। কিন্তু এবার পেখম সামনে চলে এলো। চেঁচিয়ে বাবাকে বলল,

-খবরদার তুমি তাওয়াফ ভাইকে মারবে না।

পল্লব মির্জা অবিশ্বাস্য চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। পেখমও জেদে ফুঁসছে। তাওয়াফ অবশ্য ঠোঁট কামড়ে হাসল। যতটা ভাবত পেখমের মনে সে তার থেকেও বেশি জায়গা করে নিয়েছে। তার জন্য পেখম নিজের বাপের সামনে দাঁড়িয়েছে! এব্যাপারে যত ভাবছে ততই তাওয়াফের মন ফুরফুরে হয়ে উঠছে। পল্লব মির্জা এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না তাওয়াফের জন্য তার মেয়ে তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে।

-তুই কাকে বাঁচানোর জন্য আমার সামনে দাঁড়িয়েছিস মা?

পেখম একটুও ইতস্তত করল না। আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে বলল,

-আমার স্বামীকে।

'আমার স্বামী' কথাটা তাওয়াফের কানে পিয়ানোর সুরের মতো শোনাল।

পল্লব মির্জা অসহায় মুখে বললেন,

-সত্যিই তোরা বিয়ে করেছিস!

বিয়েই তো করেছে। এতে বাবার এত বেশি অবাক হওয়ার কী আছে? এমন একটা ভাব নিয়ে পেখম বলল,

-হ্যাঁ। কাল রাতেই।

-এই কাজ তুই কেন করেছিস মা?

পেখম চোখে-মুখে তিরস্কার, গলায় তাচ্ছিল্য ঢেলে বলল,

-তুমিও তো করেছ। আমি করলে সমস্যা কী?

পল্লব মির্জা বাকরুদ্ধ হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। বোঝাই যাচ্ছে বাবার উপর রাগ করেই পেখম এই কাজ করেছে। আপাতত বাবা মেয়ের মাঝে কেউ কথা বলছে না। কনিকা মনে মনে বলল,

-অ্যাকশন, রোমান্স, থ্রিল কোনকিছুই বাদ নেই। টানটান উত্তেজনার একটা ড্রামা।

মেয়ের সামনে পল্লব মির্জা অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন। ব্যথিত গলায় তিনি বললেন,

-আমি তোর জন্মদাতা। আমার অনুমতি ব্যতীত এই বিয়ে বাতিল। আমি তোকে আমার সাথে নিয়ে যেতে এসেছি মা। আমার লক্ষী সোনা মা বাবার সাথে বাড়ি চল।

এপর্যায়ে তাওয়াফ ভাবছে পেখম হয়তো বাবার চোখে পানি দেখে দূর্বল হয়ে পড়বে। তবে না পেখম দূর্বল হলো না। যদিও তার গলাটা কাঁপল কিন্তু ঠিকই সে বলল,

-প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করাও তো জায়েজ নেই। আমার বিয়ে বাতিল হলে তোমার বিয়েও হালাল হয়নি। আর তুমি আমাকে ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছো যে বাড়িতে এই মুহূর্তে তোমার দ্বিতীয় স্ত্রী থাকছে! আমার মাকে তো তুমি এখনও ডিভোর্স দাওনি। তার আগেই কীভাবে ওই মহিলাকে আমার মায়ের জায়গায় নিয়ে এসেছ?

তাওয়াফ বুঝতে পারছে কথাগুলো বলতে পেখমের কতটা কষ্ট হচ্ছে। তাওয়াফ এগিয়ে এসে পেখমের হাত ধরল। পেখম চোখ তুলে তাওয়াফের দিকে চাইল। পেখমের অসহায়ত্ব তার চোখেই দেখা যাচ্ছে। তাওয়াফ শ্বশুরের উদ্দেশ্য বলল,

-মিস্টার মির্জা, আপনি চাইলেই যখন তখন আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে এরকম অশান্তি করতে পারেন না। আপনি যদি আপনার চরিত্রে সংশোধন না আনেন তাহলে আজকের পর থেকে আমাদের বাড়ির দরজা আপনার জন্য খুলবে না।

তাওয়াফ পেখমের ধরে নিয়ে গিয়ে বসালো। ইলহাম ইশারায় পানি আনতে বলল। ইলহাম পানি এনে দিলে তাওয়াফ নিজের হাতে পেখমকে পানি খাওয়ালো।

-আমার মেয়ে তোকে বিয়ে করতে পারে না।

তাওয়াফ বিরক্ত হয়ে চাচার দিকে তাকাল। এই লোক এখনও শোধরানোর নাম নিচ্ছে না। কুকুরের লেজও এই লোকের কাছে হার মানবে এত ঘাড়ত্যাড়া লোক তার চাচা। তাওয়াফ শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,

-কেন পারে না?

-কারণ পেখম আমার মেয়ে।

-তো?

-আমি ওকে এক্ষুনি আমার সাথে নিয়ে যাব।

তাওয়াফের থেকে উত্তর আসার আগেই পেখম বলল,

-আমি যাব না।

পল্লব মির্জা করুণ চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

-যাবি না?

-না। আমার স্বামীর বাড়ি রেখে আমি তোমার সাথে কেন যাব। তুমি তোমার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারো। কিন্তু আমার স্বামী তো আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি। আমি এখানেই থাকব।

-আমি তোদের বিয়ে মানি না।

-না মানো। তোমার না মানা দিয়ে কোনকিছু যায় আসে না। তুমিও তো বিয়ে করেছ। যা বাড়ির কেউ মানেনি। তাতে কি তোমার বিয়ে মিথ্যা হয়ে গেছে? তুমি তো দিব্যি তোমার বউকে নিয়ে থাকছো।

মেয়ের এত কঠোরতা পল্লব মির্জা সহ্য করতে পারছেন না। বাবার মধ্যে এই মেয়ের প্রাণভোমরা আটকে ছিল। আজ বাবাকেই এভাবে কথার আঘাতে জর্জরিত করছে! রাগে, দুঃখে, কষ্টে তিনি চিৎকার করে উঠলেন,

-পেখম।

-চেঁচাবে না। আর আমার পেখম নামটাও আমি এখন আর চাই না। এই নাম শুনলে এখন আমার রাগ লাগে। গা জ্বলে।

পল্লব মির্জা হতভম্ব চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। এটা তার মেয়ে না। হতেই পারে না।

পল্লব মির্জা চলে গেলে সবাই তাওয়াফকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ওর ঠোঁট অনেকটা কেটে গিয়েছিল। ইলহাম ফার্স্টএইড বক্স নিয়ে এসেছে। এই ফাঁকে পেখম সকালের চোখের আড়ালে রুমে চলে এলো। তাওয়াফ সবাইকে দেখছে। কিন্তু পেখম এখানে নেই বুঝতে পেরে সে উঠে পড়ল। ইলহাম বাধা দিয়ে বলল,

-কোথায় যাচ্ছ? বসো। ঠোঁট কতটা কেটেছ দেখেছ?

ঠোঁট যতটাই কাটুক তা নিয়ে তার মাথা ব্যথা নেই। পেখমের জন্য তার চিন্তা হচ্ছে।

-পুনম এখানে নেই। আমি দেখছি।

ইলহাম এখন বুঝতে পারছে ভাই পেখমকে কতটা ভালোবাসা। আগে থেকেই বাসত। কিন্তু কখনও তার চোখে পড়েনি।

পেখম ঘরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। বাবার সাথে কখনও সে এমনভাবে কথা বলেনি। ওসব কথাগুলো বলতে তার নিজেরও অনেক কষ্ট হয়েছে। তাওয়াফ দরজার সামনে থেকে ডাকল,

-পুনম।

তাওয়াফ ভাইয়ের শব্দ শুনে পেখম তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিল। তাওয়াফ পেখমের সামনে এসে দাঁড়ালে পেখম বাহানা দিতে লাগল। কিন্তু তাওয়াফ ওর কোন কথাই শুনতে চাইল না। আচমকা পেখমকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে ওর মাথাটা বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। পেখম বরফের মতো জমে গেছে। তাওয়াফ আলতো হাতে পেখমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,

-খারাপ সময়গুলো চলে যাবে। আজকে তুই সাহসী মেয়ের মতো কাজ করেছিস। আমি সবসময় তোর পাশে থাকব পুনম। তোর ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।

কনিকা সকলের সাথেই নাস্তা খেলো। আঙ্কেল আন্টি তাকে না খেয়ে যেতে দিবে না। খাওয়ার সময় কনিকা তাওয়াফের সাথে ফিসফিস করে আলাপ করছে।

-ভাবছি তোদের বাসায় শিফট করব।

তাওয়াফ কপাল কুঁচকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-কেন?

-সাইকিয়াট্রিস্টের জীবন নিয়ে বোর হয়ে গেছি। জীবনে একটু মশলাপাতির প্রয়োজন। আজকের মতো এনজয় আমি শেষ কবে করেছি মনে নেই।

পেখম মানছে মেয়েটা তাওয়াফ ভাইয়ের বন্ধু। তাই বলে খাওয়ার সময়ও বন্ধুর সাথে ফুসুরফাসুর করতে হবে! পেখমকে ওদিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে প্রিয়া বলল,

-পুরুষদের জীবনে নারী বন্ধু বলতে একমাত্র তার বউ থাকবে। অন্য মেয়ে বন্ধু বানানোর দরকার কী?

ইলহাম পেখমের পাশে বাসায় প্রিয়ার কথা সে-ও শুনতে পেলো। কী সাঙ্ঘাতিক মেয়ে রে বাবা! ভাই পেখমের মাঝে আগুন লাগাচ্ছে! পেখম জেলাস হয়ে ওদের দেখছে।

-তুই যতটা শান্তশিষ্ট বলতি তোর বউ কিন্তু ততটাও শান্ত না। তোর শ্বশুরের ঘাড়ের এক রগ ত্যাড়া থাকলে তোর বউয়ের তো তিনটা ত্যাড়া। কী তেজ! এই আগুনের গোলাকে কীভাবে বশে এনেছিস?

****

সবার খাওয়া শেষে শায়লা খেতে বসেছে। তাকে কেউ খাওয়ার সময় ডাকে না। পল্লব মির্জা অগ্নিমূর্তি ধারণ করে বাড়ির ভেতর ঢুকল। চোখের সামনে শায়লাকে দেখে এগিয়ে এসে শায়লার সামনে থেকে ভাতের প্লেট ফেলে দিল। শায়লা রাগী চোখে পল্লব মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল,

-তোমার শিক্ষার অভাব আছে জানতাম। তা নাহলে কেউ মুখের সামনে থেকে ভাতের প্লেট ফেলে দিতে পারে না।

পল্লব মির্জা শায়লার চুলের মুঠি ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,

-আমার শিক্ষা নিয়ে তোর মতো বাজারের মেয়ের থেকে জ্ঞান শুনতে চাই না। তুই এক্ষুনি আমার বাড়ি থেকে বের হবি। তুই বাড়িতে এসেছিস শুনেই আমার মেয়ে আমার উপর রাগ করে এই কাজ করেছে। সব নষ্টের মূল তুই।

পল্লব মির্জার শক্ত হাতের বাঁধন শায়লার চুলের গোড়ায় আরও শক্ত হচ্ছে। শায়লা এঁটো হাতেই পল্লব মির্জার বুকে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে বলল,

-আমি তোর কাছে আসিনি জানোয়ার। তুই আমার কাছে গিয়েছিলি। তোর বউ মেয়ের প্রতি এত দরদ তাহলে আমাকে কেন বিয়ে করেছিলি। এখন তোর মেয়ে কী করেছে না করেছে সেটা নিয়ে তুই আমার গায়ে হাত তুলবি! আমি তোর হাত আস্ত রাখব?

গোলাপ জানের রোজ রোজকার এই অশান্তি আর ভালো লাগে না। তার এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে। এসব দেখার চেয়ে গোলাপ জান ঘরেই বসে থাকলেন। নাজমা এসে দু'জনের মধ্যে হাতাহাতি হতে দেখে বিস্ময়ে চোখজোড়া কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইল। সানজিদা মেয়েদের নিয়ে স্কুলে গেছে। বাড়িতে একা নাজমাই আছে। সে এসব দেখে কিছু বলতে পারে না। আবার না দেখার মতোও থাকতে পারে না।

-পল্লব! কী হচ্ছে এসব? কী চাচ্ছ তোমরা? তোমাদের জন্য কি এখন আমরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাব? এটাই কি চাও তুই?

পল্লব মির্জা অসহায় চোখে ভাবীর দিকে তাকিয়ে বললেন,

-এই মাগীকে বিয়ে করে আমার সব ধ্বংস হয়ে গেছে ভাবী। আমার মেয়ে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমার উপর অভিমান করে তাওয়াফকে বিয়ে করেছে।

নাজমা এব্যাপারে কিছুই জানত না। কথাটা তারও বিশ্বাস হলো না। সত্যিই কি তাওয়াফের সাথে পেখমের বিয়ে হয়েছে!

-কী বলছো এসব? তাওয়াফের সাথে পেখমের বিয়ে হয়েছে এই কথা তোমাকে কে বলেছে?

-আমি নিজে ওবাড়িতে গিয়েছিলাম তুমি। তুমি দেখোনি আমার মেয়ে আমার সাথে কেমন করে কথা বলেছে। আমি যেন ওর কেউ না। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে ভাবী।

তাওয়াফ যদি পেখমকে বিয়ে করে থাকে তাহলে ভালোই করেছে। পল্লব মির্জা কাঁদলেও এই খবর শুনে নাজমা খুশি হয়েছে।

****

ইরিন ভার্সিটিতে যাচ্ছে না। মেয়েটা ঠিকমতো খাচ্ছে না, ঘর থেকে বের হচ্ছে না। মেয়ের এরকম আচরণ দেখে মায়ের মন ভেতর ভেতর নানান দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়। মেয়েটার হঠাৎ কী হলো? জিজ্ঞেস করলে কিছু বলে না। ওদিকে গ্রাম থেকে ওর দাদা দাদী নাতনিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খুঁজছে। ওর বাবাও আম্মা আব্বার পছন্দেই মেয়ে বিয়ে দিবেন। ইভা অবশ্য গ্রামে মেয়ের বিয়ে দিতে চায় না। ছোটবেলা থেকে শহরে বড়ো হয়েছে। গ্রামের পরিবেশের সাথে যদি মানিয়ে নিতে না পারে। নিজের মেয়ে নিয়ে ইভার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ওদিকে আবার বড়ো ভাবী ফোনে জানাল পেখম তাওয়াফের নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। এই কথা শুনে কেমন প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত ইভা সেটাই ভুলে গেছে। তাওয়াফের সাথে পেখমের বিয়ে তাদের কল্পনার বাইরে ছিল। মাকে ফোন হাতে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকতে দেখে ইতি জিজ্ঞেস করল,

-মা, কী হয়েছে তোমার? এভাবে বসে আছো কেন?

-ইতি আমাকে একটা চিমটি কাট তো মা।

ইতি ভয় পেয়ে গিয়ে বলল,

-কেন মা?

-তোর বড়ো মামী ফোন করেছিল। তাওয়াফ আর পেখমের নাকি বিয়ে হয়ে গেছে।

এই কথা শুনে ইতিও প্রথমে মায়ের মতোই ধাক্কা খেলো। কিন্তু পরমুহূর্তেই হৈহৈ করে উঠল। দৌড়ে আপুর ঘরে চলে গেল। ইরিন তখন পড়ার টেবিলে বসে বইয়ের উপর মাথা রেখে কাঁদছে। তাওয়াফ ভাইকে ছাড়া এ জীবনে কখনোই অন্য কোন পুরুষকে কল্পনা করেনি। সেই তাওয়াফ ভাই-ই তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

-আপু। আপু একটা ব্রেকিং নিউজ শুনবে?

ইরিন মুখ তুলল না। ওভাবেই শুয়ে থাকল। ইতি উৎফুল্ল গলায় বলল,

-তাওয়াফ ভাই আর পেখম আপুর নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। বড়ো মামী একটু আগেই মাকে জানিয়েছে। আমার যে কী খুশি লাগছে! তাওয়াফ ভাই পেখম আপু দু'জনই আমার ফেভারিট।

সেই সন্ধ্যায় ইরিন দুঃসাহসিক একটা কাজ করে বসল। তাওয়াফ ভাই তার হবে না এই কষ্ট হয়তো ইরিন সহ্য করে নিত। কিন্তু তাওয়াফ ভাই তার সামনে পেখমের হয়ে যাবে ইরিন এটা দেখতে পারবে না। এত ভালোবাসার পরেও সে তাওয়াফ ভাইকে পায়নি। অথচ পেখম তাওয়াফ ভাইকে না চেয়েই পেয়ে যাবে? ইরিন বেঁচে থাকতে এমনটা মেনে নিতে পারবে না। তাই তার মরে যাওয়াই ভালো। একারণেই ইরিন নিজের হাত কেটে ফেলেছে।

চলবে

স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলাময় একটা পর্ব। তারপরও যদি পাঠক পড়ে সমালোচনা না করে তাহলে সামনে এমন পর্ব আরও আসতে থাকবে😶

পরে এডিট করে দিব। এখন ভুল-টুল নিয়েই পড়েন।

#এডিট তোহা খাদিজা আপুকে বিশেষ ধন্যবাদ। তিনি পেখমের ফুপুর নাম মনে রেখেছেন❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন