#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৪৮'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
ইরিন হাত কেটেছে দুপুরের দিকে। ঘরে তখন সে একা ছিল। ইতি কী কারণে যেন ঘরে এসে বিছানায় রক্ত দেখে চিৎকার করে মাকে ডাকতে লাগল। রক্ত কোথাথেকে এসেছে? ইতি ভালো করে দেখলে বুঝতে পারল আপু হাত কেটে ফেলেছে। ইরিন তখন অনেকটা অচেতনের মতো পড়ে আছে। মেয়ের চিৎকার শুনে ইভা ঘরে এসে সে নিজেও আত্ম চিৎকার করে উঠল। ইরিনকে ধরে পাগলের মতো করতে লাগল। তার ডাকে মেয়ে সাড়া দিচ্ছে না দেখে ইভা আরও ভয় পেয়ে গেল। বাবা অফিসে। বাড়িতে শুধু সে আর মা। ইতি কী করবে বুঝতে না পেরে সবার আগে ইলহাম ভাইকে কল করল। ইলহাম ভাই তো ডাক্তার। কল করে ইতি কান্নার জন্য কিছু বলতেই পারল না। ফুপুর ফোন থেকে কল গেছে। ইতি কাঁদছে। ইলহাম ভাবল ফুপু বা ফুপার হয়তো কিছু হয়েছে।
-ইতি কী হয়েছে? কেন কাঁদছিস? ফুপুর কিছু হয়েছে?
ইতি ফোঁপাতে ফোপাঁতেই বলল,
-আপু, আপু হাত কেটে ফেলেছে ইলহাম ভাই। আমার আপুকে তুমি বাঁচাও।
কথাটা শুনে ইলহাম কতক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকল। সে কি ঠিক শুনেছে?
-ইরিনের হাত কীভাবে কেটেছে?
-কীভাবে কেটেছে জানি না। তবে অনেক রক্ত বের হয়েছে। আপু এখন চোখও খুলছে না।
ইলহাম এখনও বুঝতে পারছে না ইরিনের হাত কেটে যাওয়া কি একটা অ্যাক্সিডেন্ট নাকি ইচ্ছাকৃত। তার মনে হচ্ছে হয়তো ভুলে কোনকিছু দিয়ে হাত কেটে গেছে।
-ইতি, বাচ্চা শোন। তুই আগে কান্না করা বন্ধ কর। আর ফোনটা ফুপুকে দে। আমাকে ইরিনের কন্ডিশন জানতে হবে।
ইভা ফোন ধরেই বিলাপ করতে লাগল,
-ইলহাম, বাবারে! আমার মেয়েটার কী হয়ে গেল রে বাবা। আমি এখন কী করব? আমার মেয়েটার কিছু হলে...
ইলহাম ফুপুকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলল,
-ফুপু এখন এসব কথা বলার সময় না। কী হয়েছে, কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে ওসব পরে জানা যাবে। আগে তুমি ইরিনকে হসপিটালে নিয়ে আসো। আমি হসপিটালেই আছি। তুমি ইরিনকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করো। আমি কি এম্বুলেন্স পাঠাব?
এম্বুলেন্স পাঠাতে হয়নি। এম্বুলেন্স এলে মানুষ জানবে এ বাসায় কেউ অসুস্থ হয়েছে। তখন কেউ সাহায্য করার জন্য এলেও এই ঘটনা জানাজানি হবে। একজনের মুখ থেকে আরেকজন শুনবে। নানান কথা রটবে। ইতিকে নিয়ে ইভা ইরিনকে সিএনজিতে করেই হাসপাতালে নিয়ে এলো। ইরিনের হাত একটা কাপড় দিয়ে বেঁধে রেখেছে। সিএনজি ওয়ালাকে বলেছে, তার মেয়ে অসুস্থ। মেয়েটা এই কাজ কেন করল ইভা এটাই বুঝে উঠতে পারছে না। কোন ছেলের জন্য কি এমনটা করেছে? ইভা স্বামীকে জানাতেও ভয় পাচ্ছে। ইরিনের বাবা ভীষণ রাগী মানুষ। মেয়ে হাত কেটেছে শুনলে উনি নিজেই মেয়ের গলা কেটে ফেলবেন।
****
তাওয়াফ বিকেলে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়েছিল। শপিংমলে এসেছে সে। পেখমের জন্য কিছু কিনবে। কিন্তু কী কিনবে এটাই বুঝতে পারছে না। বিয়েটা হুট করে করেছে। বউকে এখন পর্যন্ত কিছুই দেয়নি। শপিংমলে এসে তাওয়াফ কনিকাকে কল করল। মেয়েদের বিষয়ে মেয়েরাই ভালো জানবে। কী পেলে মেয়েরা সবথেকে বেশি খুশি হয়। কনিকা এই কথাটা শুনে প্রথমে অনেকক্ষণ হাসল। তাওয়াফ বিড়বিড় করে বলল,
-ভুল মানুষকে কল করে ফেলেছি। এই পাগলের থেকে হেল্প চাওয়াই উচিত হয়নি।
কনিকা হেসেই যাচ্ছে। তাওয়াফ বিরক্ত হয়ে বলল,
-তুই কি হেল্প করবি? নাকি আমি কল রাখব?
-এই দাঁড়া দাঁড়া। কল রাখিস না। হেল্প তো করবোই। কিন্তু তার আগে আমাকে একটু বিশ্বাস করে নিতে দে। তুই আন রোমান্টিক পেঁচা থেকে হঠাৎ লাভার বয় কী করে হয়ে গেলি!
-আমার লাভার বয় রুপটা সবার জন্য না। শুধুমাত্র বউয়ের জন্য তুলে রেখেছিলাম।
-বাবাহ! বিয়ের পর তো দেখি মুখ দিয়েও কথার খই ফুটছে। আগে এক ঘন্টায় মুখ দিয়ে একটা শব্দ টেনে বের করে আনতেও কত কষ্টই না করতে হয়েছে আমাকে।
-তুই কিন্তু বাজে বকে আমার সময় নষ্ট করছিস।
-আচ্ছা যা আর বাজে বকব না। খুব দামী কোন গিফট দিবি? নাকি নরমাল কিছু?
-আমার বউ। নরমাল কিছু ওর জন্য না।
-আল্লাহ আল্লাহ! কত ভালোবাসা। তোদের ভালোবাসা দেখে আমার না জানি চোখ কানা হয়ে যায়।
তাওয়াফ মুচকি হাসল। তবে একটা ঘন্টা পুরো শপিংমলে চক্কর কাটার পর তাওয়াফ বুঝতে পারল কনিকা তাকে হেল্প করার বদলে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়ে মজা নিচ্ছে। কখনও বলছে শাড়ি কিন। শাড়ি বাঙালি মেয়েদের আবেগের জায়গা। পরক্ষণে বলছে, কিন্তু শাড়ি তো সবসময় পরে ঘুরতে পারবে না। এমনকিছু দিতে হবে সেটা সারাক্ষণ পরে থাকতে পারবে।
-নেকলেস দিবি?
তাওয়াফ ভাবছে, নেকলেস তো কবেই দিয়ে ফেলেছে। তবে পেখম হয়তো এখনও জানে না ওই নেকলেস সে দিয়েছে। তাওয়াফ শপিংমলে থাকতে থাকতেই ইলহাম কয়েকবার তাকে কল করেছে। তাওয়াফ কনিকাকে বলল,
-তোর সাথে পরে কথা বলছি। ইলহাম কল করছে।
ইলহাম ভাইকে কল করছে একটা কারণেই। ইরিন অচেতন অবস্থায়ও বিড়বিড় করে তাওয়াফ ভাইয়ের নাম নিচ্ছে। যদিও ইলহাম জানে না ইরিন ভাইয়ের জন্যই এমনটা করেছে নাকি। তাওয়াফ কল তুললে ইলহাম বলল,
-ভাই তুমি কি অফিসে?
-না। একটু বেরিয়েছি।
-কোথায় আছো এখন?
তাওয়াফ ইলহামকে বলতে চাইল না সে শপিংমলে এসেছে। বলল,
-আশেপাশেই আছি। কেন, সেটা বল।
-তুমি কি এখন হসপিটালে আসতে পারবে?
তাওয়াফ এবার বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নিয়ে জানতে চাইল,
-কী হয়েছে ইলহাম? আমাকে বল।
ইলহাম একটু ইতস্তত করল। তবে সত্যিটা ভাইকে জানিয়ে দিল।
-আমার মনে হচ্ছে ইরিন সুইসাইড এটেম করেছে।
তাওয়াফের আর বুঝতে বাকি থাকল না তার আর পেখমের বিয়ের কথা শুনেই ইরিন এই করেছে। পাগলটাকে সে সেই রাতেই কত ভালো করে বুঝিয়েছে। তারপরও ইরিন এমন একটা বোকামি কীভাবে করতে পারল!
****
ইরিনের জ্ঞান ফিরলে ইভা মেয়ের সাথে দেখা করতে চাচ্ছে। তবে ইরিন এই মুহূর্তে কারো সাথে দেখা করতে রাজি না। ইলহামের সাথেও কথা বলছে না। অন্যপাশে ফিরে মুখ চেপে কাঁদছে। হসপিটালে পৌছতে তাওয়াফের খুব বেশি সময় লাগল না। ফুপু তাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
-তাওয়াফ আমার মেয়েটার কী হলো? ও আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে না। তুই একটু জিজ্ঞেস কর না কেন এমনটা করল।
তাওয়াফ ফুপুকে শান্ত করে এক জায়গায় বসাল। পানি এনে ফুপুকে খেতে দিল। ইতিকেও পাশে বসিয়ে চিন্তা না করতে বলল।
-আমি ইরিনের সাথে কথা বলবো ফুপু। আমি ওকে বোঝাবো।
-বোঝা বাবা। আমার দুইটাই মেয়ে। মেয়েদের তো কখনও কোনকিছুর কমতি রাখিনি।
তাওয়াফ ইরিনের সাথে দেখা করতে হলে ইলহামকে ফুপুর কাছেই থাকতে বলল। ইরিন ওপাশে ফিরে শুয়ে আছে। তাওয়াফ ভেতরে ঢোকার আগে গলায় শব্দ করল। ইরিন তাওয়াফের গলা চিনতে পেরে আরও গুটিয়ে গেল।
-ইরিন।
ইরিন চোখ বুজে নিঃশ্বাস আটকে রেখেছে। সে হাত কেটেছে তাওয়াফ ভাই নিশ্চয় শুনেই এসেছে। ইরিন মরতে চেয়েছিল। কিন্তু এই কাজে সে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তাওয়াফ ভাইয়ের সামনে সে মুখ দেখাতে পারবে না। কিছুতেই না।
-ফুপুর সাথে নাকি দেখা করতে চাচ্ছিস না। এখন কি তুই আমার সাথেও কথা বলবি না?
ইরিন ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। কান্নার আওয়াজ যাতে তাওয়াফ না শুনতে পায় সেজন্য হাত কামড়ে ধরল।
-এই কাজ তুই কেন করেছিস আমি জিজ্ঞেস করব না। তোকে শুধু কয়েকটা কথা বলব। তুই কি তোর বাবা মা'র থেকেও আমাকে বেশি ভালোবাসিস? ফুপু তোকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে। ফুপা তোদের ছোটোবড়ো প্রতিটা শখ আহ্লাদ পূরণ করেছে। এই কাজ করার আগে তুই তাদের কথাও ভাবলি না? কাউকে ভালোবাসা অন্যায় না। কিন্তু বদলে তার থেকেও ভালোবাসা ফেরত না পেয়ে উল্টাপাল্টা কাজ করাটাই অন্যায়। তুই নাহয় মরে যেতি। কিন্তু তারপর যে তোর মৃত্যুর ভার পুরোটা জীবন আমাকে বয়ে নিয়ে যেতে হতো! তুই তো আমার কথাও ভাবিসনি।
কান্নার তোড়ে ইরিনের সর্বশরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। তাওয়াফ সেদিন মিষ্টি কথায় বুঝিয়েছে। কাজ হয়নি। আজ একে বাস্তবের মুখোমুখি করাতে হবে।
-একটা মানুষ যে তোকে ভালোবাসে না তার জন্য তুই মরতে যাচ্ছিলি। তোর জীবনটা কি এতই সস্তা ইরিন? তোর তো আরও ওই মানুষটাকে দেখিয়ে আগের থেকে ভালো থাকা উচিত। তাকে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত তার ভালোবাসা না পেয়েও তুই জীবনে কত সুখী আছিস। ধর আজ তুই যেটা করতে চাচ্ছিলি সেটা হয়ে যেত। তোর মৃত্যুর পর আমি নাহয় কয়েক ফোঁটা চোখের পানি ফেলতাম। কিছু সময় পর্যন্ত তোর কথা মনে করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলতাম। কিন্তু তারপর? তারপর একটা সময় তোকে ভুলে যেতাম।
ইরিন কাঁদতে কাঁদতেই তাওয়াফের দিকে ফিরল। রুদ্ধ গলায় বলল,
-তুমি এত নিষ্ঠুর কথা কীভাবে বলতে পারছ?
-তোর কাছে নিষ্ঠুর মনে হচ্ছে। অথচ এটাই বাস্তব।
-তুমি পেখমকে কেন বিয়ে করেছ? ওকে কি তুমি ভালোবাসো?
তাওয়াফ এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। এবার একটা চেয়ার এনে ইরিনের সামনে বসল। শান্ত গলায় বলল,
-হ্যাঁ বাসি। পুনমকে ভালোবাসি বলেই আমি বিয়ে করেছি। তোরও এমন কাউকে বিয়ে করা উচিত যে তোকে ভালোবাসে। আমার সাথে তোর বিয়ে হলেও তুই ভালো থাকতে পারতি না ইরিন। কোন সম্পর্কই একতরফ ভাবে বেশিদিন টিকবে না। আমি তোকে স্নেহ করি। তোর ভালো চাই। আমি চাই তুই সবসময় হাসিখুশি থাক। তুই যদি এমন করিস আমি তো তাহলে নিজের চোখে অপরাধী হয়ে যাব ইরিন। আমার এটাই মনে হতে থাকবে তোর সাথে আমি ঠিক করিনি।
*****
তাওয়াফ ইলহাম ইরিনকে বাসায় নিয়ে এসেছে। ইরিন হয়তো বুঝতে পেরেছে সে কতবড় একটা ভুল করতে যাচ্ছিল। তাওয়াফ ফুপু ও ইতিকে এব্যাপারে ফুপাকে জানাতে নিষেধ করেছে। আসার আগে তাওয়াফ ইরিনের সাথে আরও কিছু সময় কথা বলে এসেছে। বাড়ি ফেরার সময় গাড়িতে বসে ইলহাম বলল,
-একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি ভাই?
তাওয়াফ ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ দিয়ে বলল,
-তুই কী জিজ্ঞেস করবি আমি জানি। তাই মুখ বন্ধ রাখ।
-কিন্তু ভাই...
-ইলহাম!
তাওয়াফ চোখ পাকিয়ে ধমক দিলে ইলহাম চুপ করে গেল। পুরো ঘটনাই সে বুঝতে পারছে। শুধু ভাইয়ের মুখ থেকে শুনতে চাচ্ছিল। কিন্তু ভাই বলবে না।
বাড়ি ফিরে রুমে এসে তাওয়াফ পেখমকে পেলো না। সে যখনই বাইরে থেকে বাড়িতে আসে একটা সময়ও এই মেয়েকে রুমে পায় না।
পেখম দৃষ্টির সাথে পড়ছিল। কয়দিন পরই তার ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা। অথচ তার বইপত্র সব বাড়িতে রেখে এসেছে। তবে ভাগ্য ভালো দৃষ্টি সে একই ক্লাসে একই সাবজেক্ট নিয়ে পড়ছে। আকৃতি পেয়ারা মাখা খেতে খেতে এঘরে এসে বলল,
-এই তোরা পেয়ারা মাখা খাবি?
দৃষ্টি বলল,
-এই রাতের বেলা পেয়ারা মাখা কে খায়?
-আমি খাই।
পেখম বিছানা থেকে উঠে এসে বলল,
-আমি খাবো আপু।
-খা। কিন্তু তোর বর যে বাড়িতে এসেছে এই খবর কি রেখেছিস? আমার ভাইটা সারাদিন অফিস করে বাড়িতে আসে। কোথায় তুই কাছেপিঠে থাকবি। পানি-টানি খেতে দিবি। বরের সেবাযত্নের মাঝেই তো সওয়ার রে পুনম। পড়াশোনা তো পরেও করতে পারবি।
আকৃতি আপু কেমন যেন হয়ে গেছে। আগের মতো নেই। সারাক্ষণ কেমন ভাই ভাই করে। সে-ও তো বোনই নাকি। অথচ সব কথা ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে বলবে।
পেখম রুমে চলে এলো। তাওয়াফ তখন শার্ট চেঞ্জ করছিল। রুমে ঢুকতে গিয়েও তাওয়াফকে খালি গায়ে দেখে ফেলে দরজার সামনেই থেমে গেল। তাওয়াফ কারো পায়ের শব্দ পেয়েছিল। দরজার দিকে তাকিয়ে পেখমকে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-কোথায় ছিলি এতক্ষণ?
-দৃষ্টির ঘরে। পড়ছিলাম।
তাওয়াফ শার্ট খুলে রাখলে পেখম সেটাকে গুছিয়ে রাখতে নিচ্ছিল। তাওয়াফ জিজ্ঞেস করল,
-কী করছিস?
পেখম শার্ট দেখিয়ে বলল,
-এটা রাখছিলাম।
-কেন?
পেখম বুঝতে পারছে না কেন’র কী উত্তর দিবে সে?
-তুই যখন এই রুমে ছিলি না তখন আমার কাজগুলো কে করত? নিশ্চয় আমিই করতাম। ওটা যেখানে ছিল সেখানে রাখ।
পেখম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। তাওয়াফ ভাই কি তার উপর রেগে আছে? সে কি কোন ভুল করে ফেলেছে? পেখমের মুখের দিকে তাকিয়ে তাওয়াফের হাসি পেলো। বুঝতে পারছে ভীতু রানী ভয় পেয়ে গেছে।
-তোকে দিয়ে আমার কাজ করানোর জন্য আমি তোকে বিয়ে করিনি পুনম।
তুই এখন সবকিছু ভুলে শুধু পড়াশোনায় মনোযোগ দে। এখনও কলেজ শেষ করিসনি। তোকে এখনই সংসারী হতে কেউ বলেনি।
পেখম ড্যাবড্যাব চোখে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তাওয়াফ ভাই তাকে সংসারী হতে না করলেও দাদী অলরেডি নাতির ঘরের পুতি দেখার স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছে।
তাওয়াফ টিশার্ট পরে নিয়ে খুলে রাখা শার্টটা যথাস্থানে রেখে পেখমের সামনে এসে দাঁড়াল।
-তোর হাত দে।
পেখম বুঝতে পারল না। হাত দিয়ে কী হবে? তাওয়াফ নিজেই পেখমের বাম হাতটা তুলে নিয়ে একটা ব্রেসলেট পরিয়ে দিল। পেখম চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে।
-বিয়ের রাতেই বউকে কিছু না কিছু দিতে হয়। আমাদের বিয়ে সেরকম পরিস্থিতিতে হয়নি। তাই বিয়ের রাতে গিফট এখন দিচ্ছি।
পেখম একবার তাওয়াফকে দেখছে। একবার ব্রেসলেটটা দেখছে। তাওয়াফ ভাইয়ের পছন্দ বরাবরই সবার থেকে সুন্দর হয়। এই ব্রেসলেটটাও তেমন সুন্দর। পেখমের যে জিনিসটা সবথেকে বেশি পছন্দ হয়েছে সেটা হলো, ব্রেসলেটে তার এবং তাওয়াফ ভাইয়ের দু'জনের নামেরই প্রথম অক্ষম আছে। একেবারে ইউনিক একটা ডিজাইন।
চলবে