#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৫৯'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
পেখম তার দুই হাতের মেহেদির দিকে অবিশ্বাস্য নয়নে তাকিয়ে আছে। তার মেহেদির রং সবার থেকে গাঢ় এসেছে। তটিনী ওকে লজ্জা দিয়ে বলল,
-দেখেছ তোমার সোয়ামি তোমাকে কতটা ভালোবাসে!
পেখম বিভ্রান্ত চোখে তটিনীর দিকে তাকায়। তাওয়াফ ভাই সত্যিই তাকে ভালোবাসে? কীভাবে সম্ভব? স্বামী ভালোবাসলে মেহেদির রং আসে এসব তো কুসংস্কার। মানুষ এমনিতেই বলে। তাওয়াফ ভাই যদি তাকে ভালোবাসতো তাহলে কি সে বুঝতে পারত না? তটিনী পেখমকে ঠেলা দিয়ে বলল,
-কী ভাবছো শুনি?
-কিছু না।
পেখম ঘরে চলে এলো। তাওয়াফ ভাই যেন ফোনে কার সাথে কথা বলছে। তাই পেখম কোন শব্দ করল না। তাওয়াফ ঘাড় ঘুরিয়ে পেখমকে দেখে বলল,
-পুনম এখানেই আছে।
পেখম বুঝতে পারল না তাওয়াফ ভাই কার সাথে কথা বলছে। তাওয়াফ পেখমের দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বলল,
-প্রিয়া। কথা বল।
পেখম প্রিয়া আপুর জন্য চিন্তিত ছিল। প্রিয়া আপুকে সে অনেকবার কল করেছে। কিন্তু একবারও কথা হয়নি। পেখম তাওয়াফের থেকে ফোন নিয়ে কথা বলার সময় তাওয়াফ ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।
-তুমি এমন কেন প্রিয়া আপু? বিয়েতে আমাদের সাথে আসলে না৷ এখন আমার, দৃষ্টির কারো কলও তুলছো না। তুমি কি আমাদের ভুলে গেছো?
প্রিয়ার সাথে অনেকক্ষণ কথা বলার পর কল কেটে গেলে ফোন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পেখম তাওয়াফ ভাইকে খুঁজছিল। হঠাৎ ফোনের ওয়ালপেপারে চোখ পড়লে পেখম কেমন যেন জমে গেল। তাওয়াফ ভাইয়ের ফোন সে আগে কখনও ধরেনি। ধরার প্রয়োজন পড়েনি। তাওয়াফ ভাই তার ছবি ওয়ালপেপারে দিয়ে রেখেছে! পেখমের বিশ্বাসই হলো না। ছবিটা কবের তোলা! সে চোখ বন্ধ করে আছে কেন? পেখম ভালো করে দেখলে বুঝতে পারল এটা তাদের বিয়ের রাতে তোলা ছবি। হয়তো সে ঘুমিয়ে পড়ার পর তুলেছে। পেখম কিছু ভাবতে পারছে না। তার হাত-পা জমে আসছে। তাহলে কি তাওয়াফ ভাইও তাকে ভালোবাসে! তখনই পেখমের মনের ভেতর থেকে কে যেন বলে উঠল,
-আরে গাধী তুই এখনও বুঝতে পারছিস না? তোর তাওয়াফ ভাইও তোকে ভালোবাসে। ভালো না বাসলে কি তোর ছবি ফোনের ওয়ালপেপারে দিয়ে রাখত?
পেখম বলল,
-কিন্তু আমি তো কখনও বুঝতে পারিনি।
-বুঝবি কীভাবে? তোর মাথার ঘিলু তো অন্যের ব্যাপারে কাজ করে। নিজের বেলায় তুই একটু বুদ্ধু।
পেখম স্বীকার করে নিল সে সত্যিই একটা বুদ্ধু। কিন্তু এখন তো সে বুঝে গেছে। পেখম ফোন হাতে নিয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। বাইরে এসে তাওয়াফ ভাইকে খুঁজতে লাগল। কিন্তু আশেপাশে কোথাও না পেয়ে এর ওর কাছে জিজ্ঞেস করল। ইতি সামনে পড়লে জিজ্ঞেস করল,
-তাওয়াফ ভাইকে দেখেছিস ইতি?
-হুম। যেখানে রান্না হচ্ছে ওখানে গেছে।
পেখমও এদিকে যেতে নিচ্ছিল। কিন্তু একটু এগিয়েই বাবার সামনে পড়ল। পল্লব মির্জা মেয়ের সাথে কথা বলতে চান। কিন্তু বাবাকে দেখে পেখমের চেহারা কঠিন হয়ে গেল। সে ফিরে যাওয়া ধরলে পল্লব মির্জা ডেকে উঠলেন,
-পেখম মা আমার। বাবার সাথে কথা বলবে না? বাবার শাস্তি কি এখনও শেষ হয়নি? আমার সাথে কথা বলো মামনি।
পেখম দাঁড়াল। কঠিন মুখে বলল,
-আপনার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি আপনার মেয়ে না।
পল্লব মির্জা মেয়ের এরূপ আচরণে কষ্ট পেলেন। মেয়ের হাত ধরে নিভু নিভু গলায় বললেন,
-বাবার উপর এতটা রাগ জমে আছে? আমাকে ক্ষমা করে দাও মামনি। আমার সাথে বাড়ি ফিরে চলো।
পেখম বাবার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
-আমি এখন যেখানে থাকছি ওটাই আমার বাড়ি।
পল্লব মির্জার চেহারার ভাব শক্ত হয়ে গেল। তবে গলার স্বর নরম রেখেই বললেন,
-ওটা তোমার বাড়ি না। ওই বাড়ির মানুষ গুলো কেউ তোমার আপন না।
-কে কার আপন না শ্বশুর মশাই?
পেখম চকিতে পেছন ফিরে তাওয়াফ ভাইকে দেখল। পল্লব মির্জার চোখে আগুন জ্বলে উঠলেও মেয়ের সামনে তিনি কিছুই করতে পারবেন না। তাওয়াফ এসে পেখমের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
-আপনার মেয়ে এখন আমার স্ত্রী। আমার পরিচয়ই এখন ওর পরিচয়। মেয়েকে কেন শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে করতে চাচ্ছেন? মেয়ের সংসার দেখতে চান না?
পল্লব মির্জা কটমট চোখে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি অনেক কষ্টে নিজেকে আটকে রাখছেন। পেখম একপলক বাবাকে দেখে আবার তাওয়াফ ভাইকে দেখে। এই মুহূর্তে এখানে কোন ঝামেলা হোক পেখম চায় না৷ তাই সে তাওয়াফের হাত ধরে বলল,
-তাওয়াফ ভাই এখান থেকে চলুন।
তাওয়াফ পেখমকে দেখল। পেখম চোখের ইশারায় অনুরোধ করল, প্লিজ চলুন।
তাওয়াফ পেখমের সাথে চলে এলেও পল্লব মির্জা ওভাবে দাঁড়িয়ে থেকেই দাঁত কিড়মিড় করে বললেন,
-আমার মেয়েকে আমি তোর থেকে নিয়েই ছাড়ব তাওয়াফ। আমার মেয়ে কোনদিনও তোর সাথে থাকবে না।
তাওয়াফ হুটহাট রাগে না। নিজেকে সে ধৈর্যশীল দাবি করলেও আজকে রাগটা যেন কিছুতেই কমছে না। পেখম ওর হাত ধরে আছে। তাওয়াফ বলল,
-হাত ছাড়।
পেখম হাত না ছেড়ে উল্টো জিজ্ঞেস করল,
-কেন? আমি হাত ধরলে সমস্যা কী?
-বাপের সামনে তো মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। এখন কেন হাত ধরবি?
পেখম অসহায় চোখে তাওয়াফের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
-পাপার রাগ আপনি আমার উপর কেন দেখাচ্ছেন? পাপা যা খুশি বলুক আমি তো আর আপনাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি না।
পেখমের এই একটা কথাই তাওয়াফের রাগ পানি করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তবুও তাওয়াফ চেহারার ভাব কঠিন রেখে জিজ্ঞেস করল,
-আমাকে ছেড়ে যাবি না তুই?
-না। জীবনেও না।
তাওয়াফ হাসল। তাওয়াফ ভাইকে হাসতে দেখে পেখম লজ্জা পেয়ে গেল। তাই সে হাত ছেড়ে দিল। তাওয়াফ হাসি লুকিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,
-কখনও ছেড়ে যাবি বলেই কি হাত ছেড়ে দিয়েছিস?
পেখম ফ্যালফ্যাল চোখে তাওয়াফ ভাইয়ের দিকে তাকাল। পেখম বুঝতে পারছে না সে এখন কী করবে? হাত ধরবে নাকি ধরবে না?
-----
পার্লারের দুইটা মেয়ে ইরিনকে সাজাতে এসেছে। তবে এদের সাজানো কারোরই পছন্দ হলো না। বিশেষ করে যে বউ তারই পছন্দ হয়নি। ইতি মুখ কালো করে বলল,
-এর থেকে তো আকৃতি আপুই ভালো সাজাতে পারে।
বরযাত্রী আসতে আসতে এখনও সময় আছে। তাই বোনেরা সবাই মিলে ইরিনের মুখ ধুইয়ে আবার নতুন করে আকৃতির কাছে সাজতে বসালো। আকৃতি নিজে কখনও সাজে না। তবে অন্যদের সাজানোর কাজটা খুব ভালো করেই পারে। পেখম আকৃতি আপুর কাছে সাজতে এসেছিল। কিন্তু এসে দেখল আকৃতি আপু ইরিন আপুকে সাজাচ্ছে। তাই সে আবার ঘরে চলে গেল। এখন আকৃতি আপুকে বিরক্ত করে কাজ নেই। নিজে যতটুকু পারে ততটুকুই সেজে নিবে। তবে শাড়ি সে নিজে পরতে পারবে না। পেখম সাজসজ্জার সরঞ্জাম খুলে বসেছে এসময় তাওয়াফ ঘরে এলো। তার এখনও গোসলও হয়নি। ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে তাওয়াফ বলল,
-আমার শেরওয়ানি বের করে রাখ পুনম।
পেখম শেরওয়ানি বের করার জন্য উঠে দাঁড়ালে তখনই বিপত্তি ঘটল। শাড়ি পরতে পারে না বিধায় পেঁচিয়ে রেখেছিল। পেঁচানো শাড়ি নিয়ে হাঁটতে গিয়েই পড়ে যেতে নিচ্ছিল। তবে সে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ার আগেই একজোড়া শক্তপোক্ত হাত তাকে ধরে ফেলল। পেখম ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিয়েছিল। চোখ বন্ধ অবস্থাতেই দু'হাতে শক্ত করে তাওয়াফের শার্ট খামচে ধরল। তাওয়াফ পেখমের ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসল। পেখম চোখ খুলে তাওয়াফ ভাইকে হাসতে দেখে লজ্জায় গুটিয়ে গেল। তাওয়াফ পেখমকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বলল,
-এই অবস্থা কেন তোর?
পেখম কাচুমাচু মুখে বলল,
-আকৃতি আপু ইরিন আপুকে সাজাচ্ছে। তাই শাড়ি পরিয়ে দিতে পারেনি।
-তুই শাড়ি পরতে পারিস না?
-না।
-আকৃতি কীভাবে পারে?
সে শাড়ি পরতে পারে না বলে কি তাওয়াফ ভাই তাকে ছোট করছে? আকৃতি আপুর অনেক গুণ। সেসব গুণ তার নেই। এতে তার আফসোসও নেই। সবার কি সবকিছু পারতে হবে নাকি? পেখম তেজি গলায় বলল,
-আপনি শাড়ি পরাতে পারেন?
তাওয়াফ কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,
-আমি কেন পারব?
-কেন পারবেন না? আকৃতি আপু তো পারে।
-আকৃতি মেয়ে।
-তাতে কী? মেয়ে হয়েছে বলে পারবে। আপনি ছেলে হয়েছেন বলে পারবেন না। এরকম কোন নিয়ম আছে?
তাওয়াফ বুঝতে পারছে এই মেয়ে রেগে যাচ্ছে। হঠাৎই তাওয়াফ তার স্বভাবের বাইরে গিয়ে একটা কাজ করল। ঠোঁটে অর্থবোধক হাসি ফুটিয়ে বলল,
-ছেলেদের শাড়ি পরানো জানা না থাকলেও সমস্যা নেই। শাড়ি খোলা জানা থাকলেই হলো।
কথাটা বলে তাওয়াফ আর দাঁড়ায়নি। ওয়াশরুমে ঢুকে গেছে। তাওয়াফ ভাই কী বলেছে পেখম প্রথম কয়েক মুহূর্ত বুঝতেই পারল না। কিন্তু যখন বুঝতে পারল তখন তার গাল লাল হওয়ার সাথে সাথে কান দিয়েও ধোঁয়া বের হতে লাগল। তার বিশ্বাসই হচ্ছে না তাওয়াফ ভাই এধরনের কথাও বলতে পারে! পেখম আর এঘরেই থাকল না। তাওয়াফ ভাই ওয়াশরুম থেকে বের হলেই সামনে পড়তে হবে।
তটিনী সেজেগুজে সবার আগে আজানের কাছে এসেছে। চুড়ির ঝনঝন শব্দ শুনে আজান এদিকে ফিরে তাকাল। তখনই তার একটা হার্টবিট মিস হয়ে গেল। আজানের চোখে মুগ্ধতা। তটিনীর ঠোঁটে হাসি। সে ঘরে এসে বলল,
-তৈরি হয়ে গেছেন?
আজান নিজেকে সামলে নিতে সময় নিল। গলা পরিষ্কার করে বলল,
-না।
-কেন?
-মা শেরওয়ানি পরতে বলেছে। আমার ইচ্ছে করছে না।
-কেন?
-অনেক গরম।
-থাকুক গরম।
তটিনী এমনভাবে অধিকার নিয়ে কথা বলছে যেন মানুষটা তার কত আপন। কত বছরের সংসার তাদের। আজান হাসল। তটিনী বিছানার উপর থেকে শেরওয়ানি নিয়ে আজানের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল,
-চুপচাপ এটা পরুন। সবাই পরছে।
-গরম তো!
-আমি হাতপাখা নিয়ে আপনাকে বাতাস করব। তবুও পরুন।
আজান আর আপত্তি করল না। মেয়েটা অনুরোধ করছে না। আদেশ করছে। সে-ও যেন সে আদেশ মানতে বাধ্য।
ইলহামের মনে সুখ না থাকলেও টিপটপ বাবু সেজে ঘুরছে। মিস প্রতিবাদীর সাথে একটা ফয়সালায় আসতেই হবে। মিস প্রতিবাদী তাকে এভাবে ঝুলিয়ে রেখে নিজে শান্তিতে থাকবে এমনটা সে হতে দিবে না। ইরিনের চাচাতো বোনেরা ইলহামের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। তার মনোযোগ আকর্ষণ করার খুব চেষ্টা করছে। অথচ তার মনোযোগ যার উপর আটকে আছে সে তাকে পাত্তা দিচ্ছে না। ইলহাম ঠিক করেছে ইরিনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরপরই সে ঢাকা রওনা দিবে।
তাওয়াফের দু-চোখ সব জায়গায় পেখমকেই খুঁজছে। অথচ এই মেয়ের দেখা নেই। তাওয়াফ বুঝতে পারছে এই মেয়ে ইচ্ছে করে তার সামনে আসছে না।
পেখম মুগ্ধ চোখে ইরিন আপুকে দেখছে। তার বিয়েটা মাঝরাতে হুট করে হয়েছে। সেভাবে বউ সাজতে পারেনি সে। পেখমের নিজের বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। হলুদ, মেহেদি, সঙ্গীত সবকিছু হবে। পেখম ফোঁস করে দম ফেলল। এখন আর ওসব ভেবে কাজ নেই। তখনই ফোনে টুং করে মেসেজ আসলো। উপরে নোটিফিকেশন দেখে পেখমের কপাল কুঁচকে গেল। তাওয়াফ ভাই তাকে মেসেজ পাঠিয়েছে। পেখম মেসেজ ওপেন করে দেখল।
"যেখানেই আছিস দুই মিনিটের মধ্যে আমার সামনে এসে হাজির হবি।"
মেসেজ পড়ে পেখম উসখুস করতে লাগল। তাওয়াফ ভাইয়ের সামনে যেতে তার হঠাৎ করেই এত বেশি লজ্জা কেন লাগছে? না গিয়েও তো উপায় নেই। আচ্ছা, তাওয়াফ ভাইও তাকে ভালোবাসে এটা জেনে গেছে বলেই কি এত লজ্জা কাজ করছে? দৃষ্টি পেখমের দিকে তাকিয়ে বলল,
-এত বেশি ব্লাশ কেন লাগিয়েছিস?
পেখম ঝট করে আয়নার দিকে ঘুরে নিজেকে দেখল। ব্লাশ সে অল্পই লাগিয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাওয়াফ ভাইয়ের ভাবনা তার গালে ব্লাশের কাজ করছে।
চলবে
আগের পর্ব
https://www.facebook.com/share/p/15Xa1BHZt9/
নদী জানে শুদ্ধ শুধুমাত্র তার বোনের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাকে বিয়ে করেছে। তবে এই তিক্ত সত্য জেনেও নদী শুদ্ধকে ছেড়ে যাবে না। তারও তো জেদ কম না। গাড়ল লোক নিজ ইচ্ছায় তাকে বিয়ে করেছে। এখন যা কিছুই হয়ে যাক সংসার সে করে দেখাবে। কাটা হয়ে এই লোকের গলায় বিঁধে থাকবে। ভণ্ড লোক না পারবে তাকে গিলতে, না পারবে গলায় আঙুল দিয়ে বমি করে ফেলে দিতে। সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দু'জন মানুষের জেদের বশের এই সংসার কতদিন টিকবে? তাদের সম্পর্কই বা কোন দিকে মোড় নিবে? শেষ পর্যন্ত কি একজন আরেকজনের মনে ভালোবাসা তৈরি করে নিতে পারবে?
"আমারো পরানো যাহা চায়"
https://link.boitoi.com.bd/4agz