ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আসবে বলে বসন্ত এসেছে

৬০তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার নিপা

#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৬০'

#জেরিন_আক্তার_নিপা

পেখম বাইরে বেরিয়ে তাওয়াফ ভাইকে খুঁজছে। উনি নিজেই তাকে আসতে বলে এখন কোথায় চলে গেছেন? পেখম মেসেজ করল,

-কোথায় আপনি?

প্রায় সাথে সাথেই রিপ্লাই এলো।

-ফুপার সাথে আছি। তুই ঘরে যা।

পেখম গাল ফুলিয়ে ফেলল। তাকে ডেকে এনে ফুপার সাথে চলে গেছে। আবার ভাবল, আজ ফুপার মেয়ের বিয়ে। মানুষটার সাথে থাকা উচিত।

বরযাত্রী চলে এলে সবাই গেট ধরতে গেলেও পেখম গেল না। ইরিন অনেক টানাটানি করেও পেখমকে নিয়ে যেতে পারেনি। তার দু-চোখ তাওয়াফ ভাইকে খুঁজছে। ইলহাম এসে পেখমের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,

-গেট ধরতে যাসনি কেন?

-তুমিও তো যাওনি।

-আমার সাথে তোর জোড়া নাকি?

-হ্যাঁ জোড়াই।

-আমার মনে সুখ নেই। তাই যাইনি। তুই কেন যাসনি?

পেখম তীক্ষ্ণ চোখে ইলহামের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-তোমার মনে সুখ নেই কেন?

ইলহাম অন্য দিকে তাকিয়ে বলল,

-তোদের ভাবীর শোকে।

পেখমের মুখ হাঁ হয়ে গেল। ইলহাম ভাই তাহলে তলে তলে প্রেম করছে? গার্লফ্রেন্ড ছ্যাঁকা দিয়েছে নাকি?

-আমাদের ভাবী কে ইলহাম ভাই?

-আছে একজন।

-বুঝলাম। কিন্তু সে কে?

-তুই চিনিস।

পেখম আগের থেকেও বেশি অবাক হয়ে বলল,

-আমি চিনি!

-হুম।

-নাম কী?

-বলা যাবে না।

-কেন?

ইলহামের ডাক পড়েছে। তাওয়াফ ডাকছে ওকে। তাওয়াফ ভাইয়ের কন্ঠ শুনে পেখম এদিকে ফিরে তাকাল। তাকিয়ে সে চোখ সরিয়ে নিতে পারল না। রোদে তাওয়াফ ভাইয়ের মুখ লাল হয়ে গেছে। মাথার চুল ঘামে ভিজে কপালের উপর ছড়িয়ে আছে। ফুপার সাথে হাত লাগিয়ে খাটাখাটুনি করছে।

তাওয়াফও কয়েক হাত দূর থেকে পেখমকে দেখে মুগ্ধ চোখে দেখে যাচ্ছে। এই নীল কাতান শাড়িটা সে-ই পছন্দ করে কিনেছে। পেখমের গলায় হাতে কানে সোনার গহনা। বাড়ির বউ বলে দাদী জোর করে পরিয়ে দিয়েছে। নিজের নিজের খুব বেশি সাজতে পারেনি। তবে এই অল্প সাজেই পেখমের দিক থেকে চোখ সরানো দায়। নায়ক নায়িকার শুভদৃষ্টি হচ্ছে দেখে ইলহাম আর এখানে থাকল না। চুপচাপ কেটে পড়ল। তাওয়াফ পেখমের দিকে এগিয়ে এলো। তাওয়াফ ভাই কাছাকাছি এলে পেখম এবার দৃষ্টি নামিয়ে নিল। এতদিন তাওয়াফ ভাইয়ের সামনে গেলে তার লজ্জা লাগত না। যখন থেকে জানতে পারল তাওয়াফ ভাইও তাকে ভালোবাসে তখন থেকেই দুনিয়ার সব লজ্জা তার উপর এসে ভীড় করল। তাওয়াফ পেখমের দিকে চোখ রেখেই বলল,

-তোকে সুন্দর লাগছে।

এই কথা শুনে পেখমের গাল আরও লাল হয়ে গেল। যা তাওয়াফের চোখ এড়াল না। তাওয়াফ পেখমের শাড়ির আঁচল টেনে নিয়ে কপালের ঘাম মুছে বলল,

-তোর শাড়ি নষ্ট করে দিলাম।

পেখম মাথা নিচু রেখেই মনে মনে বলল,

-আপনি আমার একটা শাড়ি কেন সবগুলো শাড়ি নষ্ট করে ফললেও আমি কিছু বলব না।

পেখমের লজ্জা লাগলেও সে-ও একটা কাজ করে বসল। শাড়ির আঁচল নিয়ে তাওয়াফ ভাইয়ের মুখ মুছে দিয়ে বলল,

-রোদে রোদে কেন ঘুরছেন? মুখ লাল হয়ে গেছে।

তাওয়াফ এতটা প্রত্যাশা করেনি। পেখম তার চাওয়ার বাইরে এই কাজ করেছে। তাওয়াফ যেমন অবাক হয়েছে তেমন খুশিও হয়েছে। তার চোখেমুখেই সেই খুশি ধরা দিয়েছে।

-খেয়েছেন?

-না।

পেখম অনেকটা অধিকার নিয়ে বলল,

-এখনও কেন খাননি? বরযাত্রী চলে এসেছে। ওদের খাইয়ে পরে তো আর আপনার খাওয়াই হবে না।

তাওয়াফ ঠোঁটে হাসি নিয়ে পেখমকে দেখছে। পেখম তার উপর অধিকার দেখাচ্ছে। পেখমের অবচেতন মন তাকে পছন্দ করত এটা তাওয়াফ অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু বিয়ের পর মেয়েটা তার থেকে দূরে দূরে থেকেছে। তাওয়াফও পেখমের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। ওকে সময় দিয়েছে। সে জানত তার অপেক্ষা একদিন শেষ হবে। পেখম নিজে থেকে তার কাছে আসবে।

গেটের ঝামেলা চুকিয়ে বরযাত্রী ভেতরে চলে এসেছে। বরযাত্রীদের সাথে আসা ছেলেগুলো কনে পক্ষের মেয়েদের উপর পার্টি স্প্রে মিটাচ্ছে। আকৃতি, দৃষ্টি, ইতি ওরা দৌড়ে চলে এসেছে। তাওয়াফকে দেখে সবাই তার পেছনে দাঁড়িয়ে গেল। তাওয়াফ ভাইকে দেখে কেউ এখানে আসার সাহস পাবে না। তাওয়াফের কাজ শেষ। এখন থেকে সে পুরোটা সময় পেখমের সাথে থাকতে পারবে। খাওয়ার সময় বরের হাত ধোয়াতে হবে। সবাই সেই প্রস্তুতি নিতে গেলেও পেখম গেল না। তার কোন কিছুতে মন নেই। সে তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে থাকতে পারলেই খুশি।

-তুই যাবি না?

-না। আপনি তো খাননি। চলুন, খাবেন।

-এখন না। পরে।

পেখম তাওয়াফ ভাইকে সাথে নিয়েই নতুন দুলাভাইকে দেখতে এলো। বরের হাত ধোয়ানো নিয়েও দুই পক্ষের একচোট কথা কাটাকাটি হয়েছে। শেষে অবশ্য মেয়ে পক্ষই জিতেছে। যে ছেলেটা হলুদের দিন পেখমকে দেখেছিল সে এখন পেখমকে দেখেই বলল,

-এই বেয়াইন এতক্ষণ কোথায় ছিল? আপনাকে গেটেও দেখিনি। আপনি আমাদের হাত ধোয়াতেও আসেননি।

পেখমকে নিয়ে ছেলেটার অতি উৎসাহ দেখে তাওয়াফের চেহারা কঠিন হয়ে গেল। এই ছেলেকে সেদিন বুঝিয়ে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। দুইটা লাগানো উচিত ছিল।

পেখম ওই ছেলের কথার জবাবে মিষ্টি হেসে বলল,

-বরের সাথে ছিলাম ভাইয়া। তাই গেটে যেতে পারিনি।

ছেলেটা জানত না পেখম বিবাহিত। সে ব্যথিত গলায় বলল,

-আপনি বিবাহিত!

পেখম আগের থেকেও মিষ্টি করে হেসে বলল,

-জি।

এই মেয়ে আজ পদে পদে তাকে চমকে দিচ্ছে। পেখম পাশে দাঁড়ানো তাওয়াফ ভাইয়ের হাত ধরে বলল,

-এই যে, এটা আমার বর।

তাওয়াফকে দেখে ছেলেটার চেহারার রঙ উড়ে গেল। এজন্যই তো হলুদের দিন লোকটা এত ক্ষেপে গিয়েছিল। বউকে বিরক্ত করেছে। ভাগ্য ভালো চড় থাপ্পড় মারেনি। আজও লোকটার সামনেই তার বউয়ের সাথে লাইন মরার চেষ্টা করছে। ছেলেটা তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে বলল,

-আপনাদের দু'জনকে সুন্দর লাগছে ভাইয়া। মেইড ফর ইচ আদার কাপল।

ছেলেটাকে ভয় পেতে দেখে তাওয়াফ অন্য দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসল। পেখম আজ কারো সাথে ছবি তুলতে পারেনি। ইরিন ওকে ছবি তোলার জন্য ডাকছে। পেখম তাওয়াফকে বলল,

-আপনিও চলুন।

তাওয়াফ ছবি টবি তুলতে খুব একটা পছন্দ করে না। সে বলল,

-তুই তোল গিয়ে।

পেখম মুখ ফুলিয়ে বলল,

-এখন আপনার সাথে ছবি তুলতে চাচ্ছি কিন্তু আপনি তুলছেন না। অথচ আমি ঘুমিয়ে থাকলে ঠিকই ছবি তুলেন। সেই ছবি আবার ফোনের ওয়ালপেপারেও দিয়ে রাখেন।

তাওয়াফ চোখ বড়ো বড়ো করে পেখমের দিকে তাকাল। এই মেয়ে কীভাবে জেনেছে সে এর ছবি তুলেছে? তাওয়াফের মনে পড়ল তখন প্রিয়ার সাথে কথা বলার জন্য পেখমকে তার ফোন দিয়ে গিয়েছিল। তার মানে পেখম দেখে নিয়েছে। এজন্যই আজ পেখমের আচরণে এত পরিবর্তন।

তাওয়াফও সবার সাথে ছবি তুলতে এসেছে। কতক্ষণ সবাই একসাথে নানান পোজে ছবি তুলে এবার তাওয়াফ ভাই পেখমের আলাদা ভাবে তুলছে। পেখম মনের খুশিতে পোজ দিয়ে যাচ্ছে। সে জানে তাওয়াফ ভাই তাকে ভালোবাসা। তাওয়াফও জানে পেখম তাকে ভালোবাসে। মনে মনে দু'জনই জানে অথচ মুখে কেউই বলছে না।

বিয়ে পড়ানোর সময় পেখমের নিজের বিয়ের কথা মনে পড়ে গেল। তার বিয়ে মাঝরাতে হয়েছিল। তেমন ভাবে বউ সাজা হয়নি। আর না তার বিদায় হয়েছে। কবুল বলার সময় ইরিন অনেক কাঁদল। পেখমের মন খারাপ হয়ে গেল। ইরিন আপু তাওয়াফ ভাইকে ভালোবাসতো। কিন্তু তাওয়াফ ভাই তো তার ভাগ্যে ছিল। এখন সে-ও তাওয়াফ ভাইকে ভালোবাসে। পেখম স্বার্থপরের মতো ভাবল, ভালোই হয়েছে ইরিন আপু তাওয়াফ ভাইকে পায়নি।

বিদায় বেলা ইরিনের সাথে সবাই কাঁদছে। পেখমের নিজেরও কান্না পাচ্ছে। তাওয়াফ পেখমের চোখে পানি দেখে বলল,

-নিজের বিয়েতে তো কাঁদিস নি। এখন অন্যের বিয়েতে কেন কাঁদছিস?

পেখম টলমলে চোখেই তাওয়াফ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

-আমার বিয়ে তো আর অচেনা কারো সাথে হয়নি। আমাকে নিজের পরিবার ছেড়েও কোথাও যেতে হয়নি।

ইরিনকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার সময় তাওয়াফ এগিয়ে এলো। তাওয়াফ ভাইকে দেখেই ইরিন ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। ইরিনের মাথায় হাত রেখে তাওয়াফ বলল,

-আমি তোর সুখের জন্য দোয়া করি ইরিন। তুই জীবনে অনেক সুখী হবি।

ইরিনকে নিয়ে চলে গেলে বিয়ে বাড়ি পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে গেল। ফুপু আর ইতি অবশ্য এখনও কাঁদছে। বাড়িটা এখনও সেজে আছে। যার জন্য বাড়িটা এরকম সেজে উঠেছিল সে চলে গেছে।

কালকে বউভাত। ইলহাম আজ ফিরে গেলে সবার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। তবুও তাকে যেতে হবে। এখানে থেকে সে শান্তি পাচ্ছে না। ইলহাম যাওয়ার আগে একমাত্র ভাইকেই জানিয়ে গেল। অন্যরা পরে জেনে যাবে।

-ভাই আমি ঢাকা ফিরে যাচ্ছি।

-কখন বের হবি?

ইলহাম এই প্রশ্ন আশা করেনি। সে ভেবেছিল ভাই জিজ্ঞেস করবে আজ কেন যাচ্ছিস?

-তুমি জিজ্ঞেস করবে না আমি আজ কেন চলে যাচ্ছি?

-না।

-কেন?

-যে প্রশ্নের আমার উত্তর জানা আছে সেই প্রশ্ন কেন করব?

ইলহাম হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। উত্তর জানা আছে মানে কী? ইলহামের প্রতিক্রিয়া দেখে তাওয়াফ হেসে বলল,

-তোর ভাইকে তুই কী মনে করিস? আমি কানা? চোখ নিয়ে ঘুরি না আমি?

ইলহাম ফোঁস করে দম ফেলল। তার মনের অবস্থা কেউ না জানলেও ভাই ঠিকই জেনে বসে আছে।

-তুমি রাজি?

-প্রিয়ার ভাই হয়ে আমি ওর জন্য বেস্ট ছেলেকেই খুঁজে বের করতাম। তোর থেকে বেস্ট ছেলে হয়তো পেয়েও যেতাম। কিন্তু তুইও খারাপ না।

ইলহাম দুঃখী চেহারা বানিয়ে বলল,

-আমার থেকে বেস্ট ছেলে পেতে?

-হয়তো পেতাম।

ইলহাম কাতর গলায় বলল,

-ভাই!

তাওয়াফ হাসল। বলল,

-প্রিয়াকে রাজি করাতে না পারলে আমিও কিছু করতে পারব না। প্রসঙ্গ যখন প্রিয়াকে নিয়ে হবে, তখন আমি শুধু তার ভাই। অন্য কোন সম্পর্ক আমি দেখব না।

ইলহাম কি জানে না? তার ভাই তার থেকে বেশি মিস প্রতিবাদীকে ভালোবাসে। এতে অবশ্য তার হিংসা লাগছে না।

-দোয়া কোরো ভাই। তোমরা ঢাকা ফেরার আগেই যেন তোমার ওই পাষণ্ডী বোনকে মানিয়ে ফেলতে পারি। এবার দরকার পড়লে তার বাড়ির সামনে অনশনে বসব। তবুও তাকে রাজি না করিয়ে বাড়ি ফিরব না।

রাতে কেউই খেলো না। অনেক খাবার বেঁচে গেছে। বিয়ে বাড়িতে যেন খাবারদাবার কম না পড়ে সেজন্য ফুপা সবকিছুই বেশি বেশি রাধিয়েছেন। তাওয়াফের দুপুরে খাওয়া হয়নি। তাই এখন খেতে বসেছে। পেখম কাছেপিঠেই আছে। মেকআপ তুলে ফেললেও শাড়ি গহনা খুলেনি। কাল রাতেও সব বোনেরা একসাথে ছিল। আজ ইরিন আপু নেই। মেহমানও চলে গেছে। বাড়ি মোটামুটি খালি হয়ে গেছে। পেখম কতক্ষণ নূর জাহানের সাথে বসে থেকে নিজের দাদীর কাছে গেল।

-কী করো দাদী?

-পান খাই। খাইবি?

-না। তুমিই খাও।

গোলাপ জান খেয়াল করেছেন আজ সারাদিন পেখম তাওয়াফের সাথে সাথে ছিল। গোলাপ জান স্বীকার করেন না। কিন্তু তিনি তার এই নাতনিকে ভীষণ ভালোবাসেন। তিনি চান নাতনি স্বামী সংসার নিয়ে সুখে থাকুক।

-তাওয়াফ কই?

-খাচ্ছে।

-জামাই খাইতাছে তুই কাছে না দাঁড়াইয়া আমার কাছে কী করোস? তার কী লাগব দেখবি না?

-বড়মা আছে দাদী।

-থাকুক। তুইও থাকবি। বউ না তুই।

দাদী এতদিন জ্বালিয়েছে কেন তার বিয়ে দেয় না। এখন জ্বালাচ্ছে কেন বরের কাছে থাকে না। পেখম উঠে দাঁড়ালে গোলাপ জান খেঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

-কই যাস? সারাদিন খালি টইটই কইরা ঘোরা!

-তোমার নাতির কাছেই যাচ্ছি বুড়ী।

বোনকে ছাড়া ইতি একা শুতে গিয়ে কাঁদছে। তাই আজকেও সবাই ইতিকে নিয়ে এঘরে থাকবে। পেখমের চোখে ঘুম নেই। গতরাতের মতো আজও পেখমের ফোনে মেসেজ এলো।

-ঘুমিয়ে পড়েছিস?

পেখম সাথে সাথে রিপ্লাই দিল।

-না।

-বাইরে আয়।

পেখম এক সেকেন্ডও দেরি করল না। কারোর ঘুম না ভাঙিয়ে সাবধানে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। তাওয়াফ পেখমকে দেখে বলল,

-চেঞ্জ করিসনি কেন?

-শাড়ি পরে থাকতে ভালো লাগছে।

তাওয়াফ আর কিছু বলল না। কাল ওরা পুকুর ঘাটে বসলেও আজ হাঁটতে হাঁটতে কিছুটা দূরে চলে এলো। আকাশে এত বড় চাঁদ। চাঁদের আলোয় বালুর চড়ে পায়ের ছাপ ফেলে দু'জন হেঁটে যাচ্ছে। দাদী বলে রাতে বেলা মাথার কাপড় ফেলে কোথাও যেতে নেই। পেখম তাই মাথায় কাপড় তুলে দিয়েছে। তাকে এখন নতুন বউদের মতো লাগছে। তাওয়াফ একবার পেখমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-ভয় লাগছে?

-আপনি সাথে আছেন তো।

হাঁটতে হাঁটতে তাওয়াফ পেখমের হাত ধরল। পেখমের শরীরে অজানা এক শিহরণ বয়ে গেল। তাওয়াফ ভাই আগেও তার হাত ধরেছে তবে আজ এই হাত ধরাটা তার কাছে বিশেষ লাগল। আজ পুরোটা দিন এক দন্ড বসতে পারেনি। এখনও হাঁটছে। পেখম শেষমেশ বলেই ফেলল,

-আর হাঁটতে ভালো লাগছে না। পা ব্যথা করছে।

ভেবেছিল তাওয়াফ ভাই হয়তো তাকে কোলে তুলে নিবে। কিন্তু তার আশায় পানি ফেলে আন রোমান্টিক তাওয়াফ ভাই বলল,

-বসবি একটু?

-এখানে?

-হুম।

দু'জন পাশাপাশি বসল। সামনে ছোট্ট একটা নদী। তারা যেখানে বসেছে বর্ষাকালে হয়তো এপর্যন্ত পানি আসে। কিন্তু এখন নদী শুকিয়ে গেছে। তাওয়াফ আজ পেখমের কাছে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে চায়। জানাতে চায় পেখমকে সে কতটা ভালোবাসে। পেখম নদীর পানির দিকে তাকিয়ে আছে। চাঁদের আলো পড়ে পানি চিকচিক করছে। তাওয়াফ পেখমকে সামনে রেখে অন্য দিকে তাকাতে পারছে না। সে ঘোর লাগা চোখে তার বোকা প্রজাপতিকে দেখছে। পেখম হঠাৎ কী যেন বলার জন্য তাওয়াফের দিকে তাকিয়েছে। তাওয়াফ ভাই আগে থেকেই তার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে পেখমও চোখ সরাতে পারল না। দু'জন দু'জনের চোখে হারিয়ে গেল। তাওয়াফ ধীরে ধীরে পেখমের দিকে এগিয়ে আসছে। পেখমও নড়ছে না। তার বুক ধুকপুক করছে। হাত-পা ঝিম ধরে এসেছে। তাওয়াফ নিজের ঠোঁট পেখমের ঠোঁটের দিকে এগিয়ে নিলে পেখম চোখ বন্ধ করে নিল।

চলবে

এডিট ছাড়া পর্ব। ভুল ত্রুটি সহই পড়ে নিন। পারলে একটু বেশি বেশি কমেন্ট করবেন। পোস্ট মনে হয় সবার ফিডে পৌঁছয় না।

ফ্ল্যাপ;- নদী জানে শুদ্ধ শুধুমাত্র তার বোনের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাকে বিয়ে করেছে। তবে এই তিক্ত সত্য জেনেও নদী শুদ্ধকে ছেড়ে যাবে না। তারও তো জেদ কম না। গাড়ল লোক নিজ ইচ্ছায় তাকে বিয়ে করেছে। এখন যা কিছুই হয়ে যাক সংসার সে করে দেখাবে। কাটা হয়ে এই লোকের গলায় বিঁধে থাকবে। ভণ্ড লোক না পারবে তাকে গিলতে, না পারবে গলায় আঙুল দিয়ে বমি করে ফেলে দিতে। সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দু'জন মানুষের জেদের বশের এই সংসার কতদিন টিকবে? তাদের সম্পর্কই বা কোন দিকে মোড় নিবে? শেষ পর্যন্ত কি একজন আরেকজনের মনে ভালোবাসা তৈরি করে নিতে পারবে?

"আমারো পরানো যাহা চায়"

https://link.boitoi.com.bd/4agz

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন