ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের গুঞ্জন

৪র্থ পর্ব

লেখক: জান্নাত

#প্রেমের _গুঞ্জন

#পর্ব_৪

#জান্নাত

প্রেম বিরক্ত মুখে মেঘার হাতটা নিজের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এক পা পিছিয়ে যায়। কপাল কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

এই তোর গায়ে পড়ার স্বভাবটা কবে যাবে, বল তো? কতবার বলেছি, এসব আমার একদমই পছন্দ নয়!

প্রেমের কণ্ঠে বিরক্তি স্পষ্ট হলেও মেঘার যেন তাতে কিছুই যায়-আসে না। সে আরও এক ধাপ এগিয়ে এসে ঠোঁট বাঁকিয়ে ন্যাকামো মেশানো গলায় বলে

উফ, বেবি! এত দেরি করলে কেন? জানো, তোমার জন্য আমি কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি?

প্রেম চোখ উল্টে বিরক্তিতে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কোনো জবাব না দিয়ে নিচু স্বরে শুধু বিড়বিড় করে বলল,

ইডিয়ট একটা!

তার কথাটা শুনেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শীলা, সৌরভ, জিসান, শাওন আর ইতি মুখ চেপে হাসতে লাগল। এটা তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিদিনই মেঘার এই অতিরিক্ত আদিখ্যেতা আর প্রেমের বিরক্তি দেখে তারা অভ্যস্ত।

শীলা, মেঘা, সৌরভ, জিসান, শাওন, ইতি আর প্রেম এই সাতজনকে পুরো ভার্সিটিই এক নামে চেনে। তারা ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আলোচিত গ্যাং। ক্লাস থেকে ক্যান্টিন, আড্ডা থেকে ঘুরতে যাওয়া সব জায়গাতেই তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। একজনকে ছাড়া যেন অন্যজনের চলেই না।

তবে প্রেম মেঘাকে সবসময়ই নিজের ভালো বন্ধু হিসেবেই দেখেছে। কিন্তু মেঘার চোখে প্রেম শুধুই বন্ধু নয়, তার বহুদিনের ভালোবাসা। সে সুযোগ পেলেই প্রেমের আশেপাশে ঘুরঘুর করে, ইচ্ছে করেই তাকে বিরক্ত করে, আবার কখনো সবার সামনেই প্রেমকে নিজের বলে দাবি করে।

সবকিছু বুঝেও প্রেম কখনো মেঘাকে কঠোরভাবে কিছু বলে না। কারণ একটাই মেঘা তার বাবার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মেয়ে। ছোটবেলা থেকে দুই পরিবারের মধ্যে গভীর সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সম্মান রেখেই মেঘার বাড়াবাড়িগুলো নীরবে সহ্য করে যায় প্রেম। যদিও ভেতরে ভেতরে এই অতিরিক্ত গায়ে পড়া স্বভাবটা তার একদমই অসহ্য লাগে।

প্রেম একবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে বিরক্তির নিশ্বাস ফেলে। এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থেকে এই নাটক আর ভালো লাগছে না তার। ঠোঁট বাঁকিয়ে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে

Guys, let's go. এখানে দাঁড়িয়ে শুধু শুধু সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই। ক্লাসে যাই।

প্রেমের কথা শুনে ওর বন্ধুরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল।

Yeah, bro. Let's move.

ঠিক তখনই মেঘা ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে প্রেমের হাতটা নিজের হাতে জড়িয়ে ধরল। যেন এটা তার বহুদিনের অধিকার। প্রেম একবার হাতের দিকে তাকাল ঠিকই, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। নির্লিপ্ত মুখে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করল।

প্রেমের পাশে মেঘাকে এভাবে হেঁটে যেতে দেখে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েদের মুখ মুহূর্তেই মলিন হয়ে গেল। কারও চোখে হিংসা, কারও চোখে আফসোস, আবার কেউ হতাশ দৃষ্টিতে প্রেমের চলে যাওয়া দেখেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

পুরু ক্যাম্পাসের সবাই জানে যে মেঘা প্রেমের গার্লফ্রেন্ড।

এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার প্রিয়, জনপ্রিয় ছাত্র প্রেম নিজের মতো করেই রঙিন দিনগুলো কাটিয়ে যাচ্ছিল। বন্ধুবান্ধব, হাসি-আড্ডা আর ক্যাম্পাসজুড়ে তার উপস্থিতি সব মিলিয়ে জীবন যেন তার কাছে এক সুন্দর উপভোগের নাম।

আর অন্যদিকে, কয়েকশ কিলোমিটার দূরের এক ছোট্ট গ্রামের মেয়ে গুঞ্জন নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রতিদিন সংগ্রাম করে চলেছে।

দু'জনের জীবন যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই জগতের গল্প। একজন শহরের আলো-ঝলমলে ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ, আর অন্যজন গ্রামের নীরব পরিবেশে কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলা এক স্বপ্নবাজ মেয়ে।

তারা তখনও জানত না, ভাগ্য খুব শিগগিরই তাদের একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মুখোমুখি দাঁড় করাবে। আর সেই আকস্মিক সাক্ষাৎই বদলে দেবে তাদের দু'জনের জীবন, শুরু হবে এক সম্পূর্ণ নতুন যাত্রা।

__

আজ গুঞ্জনের HSC পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ হবে।

ভোরের আলো ফুটতেই গুঞ্জনের ঘুম ভেঙে যায়। ওজু করে ফজরের নামাজ আদায় করে সে। তারপর শান্ত মনে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করে। এরপর দুইশত বার দরুদ শরীফ এবং দুইশত বার ইস্তিগফার পড়ে। আল্লাহর দরবারে দোয়া করার আগে ও পরে দরুদ পড়া এবং নিজের ভুলের জন্য ইস্তিগফার করা এগুলোকে সে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। আজ তার একটাই প্রার্থনা, আল্লাহ যেন তার পরিশ্রম কবুল করেন এবং তাকে একটি অসাধারণ ফলাফল দান করেন।

তার স্বপ্ন খুব বড় নয়, কিন্তু গভীর। সে চায় ভালো ফল করে একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে। পড়াশোনা করে নিজের সব স্বপ্ন পূরণ করতে, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে এটাই এখন তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আল্লাহর কাছে তার চাওয়াও একটাই।

অন্যদিকে গুঞ্জনের মা, আয়শা বেগমও ফজরের নামাজ আদায় করে মেয়ের জন্য অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া করেন। সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়ার চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই হয় না। তাদের আন্তরিক দোয়া সন্তানের জীবনে বরকত বয়ে আনে। তাই আজ এই বিশেষ দিনে মা-মেয়ে দু'জনের হৃদয়েই একটাই প্রার্থনা আল্লাহ যেন গুঞ্জনের পরিশ্রমের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দেন।

__

মোবাইলটা হাতে নিয়ে গুঞ্জনের বুকের ভেতরটা যেন ধুকপুক করে কাঁপছে। আঙুলগুলোও হালকা কাঁপছে উত্তেজনায়। ভোর থেকে ফজরের নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া সবকিছু করার পরও এই মুহূর্তে বুকের ভিতরটা ধকধক করে কাঁপছে।

ধীরে ধীরে সে মোবাইলের স্ক্রিন অন করল। একবার গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে ব্রাউজারে রেজাল্টের ওয়েবসাইটে ঢুকল। কাঁপা হাতে রোল নম্বর আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর টাইপ করতে লাগল। প্রতিটি সংখ্যা লিখতে লিখতে তার মনে একটাই প্রার্থনা

হে আল্লাহ... আমার পরিশ্রমকে কবুল করুন। আমার জন্য যা উত্তম, সেটাই দান করুন।

সব তথ্য পূরণ করে গুঞ্জনের আঙুলটা কয়েক সেকেন্ড 'Submit' বাটনের ওপর স্থির হয়ে রইল। মনে হচ্ছিল, এই একটুকু স্পর্শই হয়তো তার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের দরজা খুলে দেবে।

চোখ দুটো একবার বন্ধ করে বিসমিল্লাহ পড়ে সে অবশেষে 'Submit' বাটনে চাপ দিল...

এরপর কয়েকটি সেকেন্ড কিন্তু গুঞ্জনের কাছে সেই অপেক্ষাটুকু যেন অনন্ত সময়ের মতো দীর্ঘ লাগছিল।

গুঞ্জন ধীরে ধীরে চোখ তুলে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।

প্রথমেই নিজের নামটা দেখে বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। তারপর কাঁপা কাঁপা দৃষ্টিতে নিচের দিকে নামতেই হঠাৎ তার চোখ স্থির হয়ে গেল একটি লাইনে।

Result: GPA–5.00

এক মুহূর্তের জন্য যেন সবকিছু থেমে গেল। গুঞ্জন বিশ্বাসই করতে পারছিল না। সে বারবার চোখ মুছে আবার স্ক্রিনের দিকে তাকাল। না, ভুল দেখছে না। সত্যিই সে জিপিএ–৫ পেয়েছে!

পরক্ষণেই তার ঠোঁট কেঁপে উঠল। দু'চোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। সে অজান্তেই বলে উঠল,

আলহামদুলিল্লাহ... আলহামদুলিল্লাহ! সব প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।

তার কণ্ঠ শুনে ঘরে থাকা সবাই ছুটে এল। গুঞ্জন কাঁপা হাতে মোবাইলটা এগিয়ে দিতেই সবাই ফলাফল দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল।

মা তাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমার মেয়ের পরিশ্রম কবুল করেছেন। আমি জানতাম, তুই পারবি।

বাবার চোখেও জল চিকচিক করছে। তিনি মেয়ের মাথায় হাত রেখে শুধু বললেন,

আমি আজ তোকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত, মা।

আজকের এই সাফল্য শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি ছিল অসংখ্য রাত জেগে পড়াশোনা, অগণিত দোয়া, অটুট ধৈর্য আর আল্লাহর অশেষ রহমতের সুন্দর প্রতিদান। নতুন স্বপ্নের পথে গুঞ্জনের প্রথম বড় পদক্ষেপ আজ সফলতার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

গুঞ্জন অযু করে জায়নামাজে দাঁড়াল। চোখের কোণে তখনও আনন্দাশ্রুর চিকচিক করছে। মহান আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সে দুই রাকাত শুকরানার নামাজ আদায় করল। সিজদায় মাথা রেখে বারবার বলল

আলহামদুলিল্লাহ... হে আল্লাহ, আপনি আমার পরিশ্রমকে কবুল করেছেন। সামনে পথটা আরও সহজ করে দিন। আমাকে এমন জ্ঞান দান করুন, যা আমার দুনিয়া ও আখিরাত দুই জীবনেই কল্যাণ বয়ে আনবে।

নামাজ শেষে দু'হাত তুলে দীর্ঘক্ষণ দোয়া করল গুঞ্জন। আজ তার বুকভরা স্বস্তি, কিন্তু সেই স্বস্তির মাঝেও জন্ম নিয়েছে নতুন এক স্বপ্ন।

তার লক্ষ্য একটাই ঢাকার কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। ছোট শহরের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের যোগ্যতায় বড় একটি ক্যাম্পাসে পড়ার স্বপ্ন সে বহুদিন ধরে লালন করে আসছে। সে জানে, এই পথ সহজ হবে না। আর্থিক সংকট তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। তবু সে হাল ছাড়ার মানুষ নয়।

গুঞ্জন মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল, যেভাবেই হোক সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। যদি ঢাকায় সুযোগ পায়, তাহলে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করবে। নিজের খরচ নিজেই বহন করবে, কারও ওপর বোঝা হয়ে বাঁচতে চায় না সে। দিনের বেলা ক্লাস, বিকেলে টিউশনি, রাতে নিজের পড়াশোনা প্রয়োজনে এভাবেই চলবে তার জীবন।

সে বিশ্বাস করে, কষ্ট কখনো স্থায়ী হয় না। আজকের এই সংগ্রামই একদিন তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। বুকভরা স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে গুঞ্জন নতুন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে লাগল।

___

দেখতে দেখতে কেটে গেল প্রায় দুই মাস।

সেই কাঙ্ক্ষিত এইচএসসি ফল প্রকাশের কয়েকদিন পর গুঞ্জন দেশের অন্যতম স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে অনলাইনে আবেদন করেছিল। আবেদন করার সময়ই মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা স্কলারশিপের অপশনটিও পূরণ করেছিল সে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফলাফল, আয়ের সনদ সবকিছু জমা দেওয়ার পর শুরু হয়েছিল দীর্ঘ অপেক্ষা।

কয়েক সপ্তাহ পর এক সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে স্কলারশিপের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি গুঞ্জনের দেওয়া ই-মেইল ও মোবাইল নম্বরেও একটি বার্তা আসে

Congratulations! You have been selected for the Merit Scholarship. Your admission has been confirmed.

মেইলটা পড়ে কয়েক মুহূর্ত যেন নিঃশ্বাসই নিতে ভুলে গিয়েছিল গুঞ্জন। চোখের কোণে চিকচিক করে উঠেছিল আনন্দাশ্রু। সঙ্গে সঙ্গে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর দরবারে হাজারো শুকরিয়া আদায় করেছিল। এতদিনের পরিশ্রম, অগণিত দোয়া আর নির্ঘুম রাত সবকিছু যেন সার্থক হয়ে গেল সেই একটিমাত্র সংবাদে।

এরপর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে অবশেষে স্বপ্নের শহর ঢাকায় পা রাখে গুঞ্জন।

আজ একদিন হলো সে হোস্টেলে উঠেছে।

নতুন শহর, নতুন পরিবেশ, নতুন জীবন সবকিছুই যেন একেবারে অচেনা।

তবুও বুকের ভেতর অন্য রকম এক প্রশান্তি। কারণ, এই শহরেই সে নিজের স্বপ্ন গড়বে, নিজের পরিচয় তৈরি করবে।

গুঞ্জনের রুমমেট সাজিয়া। প্রাণবন্ত, হাসিখুশি আর ভীষণ আন্তরিক একটি মেয়ে। মাত্র একদিনেই এমনভাবে গুঞ্জনের সঙ্গে মিশে গেছে, যেন বহু বছরের চেনাজানা। নতুন জায়গায় এসে যেখানে গুঞ্জনের একটু অস্বস্তি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে সাজিয়ার সহজ-সরল ব্যবহারে সব অস্বস্তিই অনেকটা দূর হয়ে গেছে।

সকালের রোদ জানালার ফাঁক গলে ছোট্ট হোস্টেল রুমটায় ছড়িয়ে পড়েছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথায় হিজাব বেঁধে নিচ্ছে গুঞ্জন। সাদা-নীল সুতির সালোয়ার-কামিজ, পিঠভরা পরিপাটি করে বাঁধা বেণী, কাঁধে একটি কালো ব্যাগ। মুখে কোনো বাড়তি সাজ নেই, তবুও তার সরল সৌন্দর্য যেন আলাদা করে চোখে পড়ে।

তবে গুঞ্জনের চোখে মুখে চিন্তার চাপ স্পষ্ট

বিছানায় বসে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতে সাজিয়া মুচকি হেসে বলল,

এই যে ম্যাডাম, এত টেনশন করছিস কেন?

গুঞ্জন হালকা হেসে বলল,

কেমন যেন লাগছে। ছোটবেলা থেকে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেছি, আজ সেখানেই প্রথম ক্লাস করতে যাচ্ছি। উত্তেজনাও হচ্ছে, আবার একটু ভয়ও লাগছে।

সাজিয়া উঠে এসে গুঞ্জনের কাঁধে আলতো চাপড় দিয়ে বলল,

ডোন্ট ওরি। সব ঠিক হয়ে যাবে। চল এবার যাই।

গুঞ্জন জানালার বাইরে একবার তাকাল। তারপর মনে মনে বলল

আলহামদুলিল্লাহ... তুমি আমার স্বপ্নের প্রথম দরজাটা খুলে দিয়েছ, আল্লাহ। এখন বাকি পথটুকুও সহজ করে দিও।

একটা গভীর শ্বাস নিয়ে কাঁধে ব্যাগটা ঝুলিয়ে নিল সে। তারপর সাজিয়ার সঙ্গে হোস্টেল রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ল স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে।

চলবে,,,

(একটি ছোট্ট ঘোষণা )

গল্পের বাস্তবতা ও সময়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নায়িকার বয়স এক বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি বিষয়টি সবাই ইতিবাচকভাবেই নেবেন।

গল্পটি যদি আপনাদের ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন। আপনাদের প্রতিটি মন্তব্য, ভালোবাসা আর উৎসাহই আমার লেখার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

কোথাও কোনো ভুল চোখে পড়লে দয়া করে সুন্দরভাবে ধরিয়ে দেবেন। আমি এখনও শিখছি, তাই গঠনমূলক পরামর্শ সবসময় সাদরে গ্রহণ করি। তবে অযথা বাজে মন্তব্য না করার জন্য আন্তরিক অনুরোধ রইল।

আর একটু অপেক্ষা করুন... বহু প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত আসতে চলেছে। খুব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ক্যাম্পাসে মুখোমুখি হবে প্রেম ও গুঞ্জন। তাদের প্রথম সাক্ষাৎ কীভাবে হবে?

জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।

ধন্যবাদ। ভালোবাসা রইল সবার জন্য।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন