#প্রেমের_গুঞ্জন
#পর্ব_৬
#জান্নাত
গুঞ্জনের ঠোঁটজুড়ে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। দশ হাজার টাকা পরিমাণে খুব বেশি না হলেও, এই মুহূর্তে তার কাছে যেন অমূল্য এক রহমত।
এই টাকা দিয়ে অন্তত কিছুদিন নিজের খরচ চালানো যাবে। তবে পুরো টাকাটা নিজের জন্য রাখতে মন সায় দিল না। ঢাকা আসতে বাবার অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে ভর্তি, থাকা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা... সব মিলিয়ে মানুষটা কতটা কষ্ট করেছেন, সেটা গুঞ্জন খুব ভালো করেই জানে।
মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল, কিছু টাকা বাবার কাছে পাঠিয়ে দেবে। যদি সামান্য হলেও বাবার মুখে একটু হাসি ফোটে, সেটাই হবে তার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
আর আজ থেকেই টিউশনি খোঁজা শুরু করবে। নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।
হঠাৎই সাজিয়া ছুটে এসে খুশিতে গুঞ্জনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
ইয়েস! তুই পেরেছিস, গুঞ্জন! আমি জানতাম তুই পারবি!
গুঞ্জন মুচকি হেসে সাজিয়াকে জড়িয়ে ধরলেও, পরক্ষণেই তার কপাল কুঁচকে গেল। সাজিয়ার চোখেমুখে এক দুশ্চিন্তার ছাপ।
গুঞ্জন আলতো স্বরে জিজ্ঞেস করল,
কী হয়েছে তোর? মুখটা হঠাৎ এমন গম্ভীর করে নিলি কেন?
সাজিয়া একবার চারপাশে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বলল,
প্রেম ভাইয়াকে তো তুই চিনিস না। গত তিন বছর ধরে এই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন উনিই ছিলেন। কিন্তু এবার... তুই উনার তিন বছরের রেকর্ড ভেঙে দিলি।
একটু থেমে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে।
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে না, উনি এত সহজে বিষয়টা মেনে নেবেন। প্রেম ভাইয়া হার মানার লোক নয়। আমার খুব ভয় হচ্ছে, সামনে তোর জন্য কোনো ঝামেলা অপেক্ষা করছে না তো...।
সাজিয়ার কথায় গুঞ্জনের মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। বুকের ভেতর অজানা এক আশঙ্কা হ নাড়া দিলেও, সে নিজের মনকে শক্ত করল।
জীবনে এগোতে হলে বাধা আসবেই। আর সেই বাধাকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার মেয়ে গুঞ্জন কখনোই ছিল না।
গুঞ্জন শক্ত কন্ঠে বলে ওঠে
আমি নিজের যোগ্যতায় জিতেছি। এখানে উনার হস্তক্ষেপ করার কোনো মানে হয় না। আর আমি তো উনার কোনো ক্ষতি করিনি। জীবনে হার-জিত তো থাকবেই। আজ আমি জিতেছি, আগামী বছর হয়তো অন্য কেউ জিতবে।
কথা শেষ হতে না হতেই
তাদের সামনে এসে দাঁড়ায় মেঘা। তার সঙ্গে আরও দু'জন মেয়ে। মেঘার চোখ-মুখ রাগে লাল হয়ে আছে। চোয়াল শক্ত, দৃষ্টি যেন আগুন ঝরাচ্ছে। মনে হচ্ছে, সামান্য উসকানিতেই সে বিস্ফোরিত হবে।
মেঘাকে দেখে গুঞ্জন আর সাজিয়া দুজনেই থেমে গেল।
গুঞ্জন মিষ্টি হেঁসে বলল
আপু, কিছু বলবেন?
কিন্তু মেঘা কোনো উত্তর দিল না।
ধীর পায়ে গুঞ্জনের সামনে এসে এক ঝটকায় তার হাত থেকে ট্রফিটা কেড়ে নিল।
প্রচণ্ড জোরে ট্রফিটা মাটিতে ছুড়ে মারল সে।
ট্রফিটা মেঝেতে আছড়ে পড়ে গড়িয়ে গেল। চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।
মেঘা রাগে কাঁপতে কাঁপতে গুঞ্জনের দিকে আঙুল তুলে বলল,
এই ট্রফিটা আমার প্রেমের হাতে ওঠার কথা ছিল! ওর জায়গায় তুই কীভাবে এটা পেলি? আমার প্রেম যখন এই সম্মান পায়নি, তখন এই ট্রফি আমি অন্য কারও হাতে দেখতে চাই না! কারও না!
শেষের কথাগুলো সে প্রায় চিৎকার করেই বলল। তার চোখে স্পষ্ট হিংসা, ক্ষোভ আর প্রিয় মানুষকে হারতে দেখার অসহায় যন্ত্রণা একসঙ্গে জ্বলজ্বল করছে। চারপাশের সবাই দাঁড়িয়ে রইল। কেউ সাহস করে একটি কথাও বলল না। শুধু গুঞ্জন স্তব্ধ হয়ে ভাঙা ট্রফিটার দিকে তাকিয়ে রইলো।
মেঘার ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। চোখে-মুখে স্পষ্ট অহংকার।
গ্রাম থেকে উঠে এসেছে একটা গেঁয়ো ভূত! আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছিস কখনো? দেখতে তো একদম কালি ভূতনীর মতো,আর পোশাকের কী অবস্থা দেখো একদম দাদী দের মতো লাগছে,এই চেহারা নিয়ে এসেছিসে এতো দামি ভার্সিটিতে পড়তে।মনে তো হচ্ছে তোর বাবা দিন মজুরী করে খায়।
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই নিস্তব্ধ। কেউ কেউ অস্বস্তিতে একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে, আবার কেউ মেঘার এমন অপমানজনক কথায় বিরক্ত হলেও কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।
গুঞ্জন এতক্ষণ নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিল। কিন্তু নিজের পরিবার, নিজের গ্রাম আর নিজের গায়ের রঙ নিয়ে এমন অপমান সে আর সহ্য করতে পারল না।
মুহূর্তের মধ্যেই তার চোখ দুটো রাগে রক্তিম হয়ে উঠল। চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
পরের মুহূর্তেই
ঠাসস!করে একটা চর বসিয়ে দেয় মেঘার গালে
মেঘা নিজের গালে হাত দিয়ে বিস্ফারিত চোখে গুঞ্জনের দিকে তাকিয়ে রইল। যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না কেউ তাকে চড় মারার সাহস দেখিয়েছে!
চারপাশে উপস্থিত সবাই হতভম্ব।
কেউ বিস্ময়ে মুখ হাঁ করে তাকিয়ে আছে, কেউ মনে মনে গুঞ্জনের সাহসে মুগ্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেকে ভয়ে কাঁপছে।
গুঞ্জন এক পা সামনে এগিয়ে এল। তার চোখে ছিল আগুনের মতো তেজ, আর কণ্ঠে দৃঢ়তা।
এই চড়টা আমার গায়ের রঙের জন্য নয়, আমার আত্মসম্মানকে অপমান করার শাস্তি। মনে রাখবেন, মানুষের সৌন্দর্য গায়ের রঙে নয়, তার চরিত্রে আর ব্যবহারে। কালো হওয়া কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু নিজের অহংকারে অন্ধ হয়ে অন্য মানুষকে ছোট করা অবশ্যই অপরাধ।
সে আঙুল তুলে মেঘার দিকে তাকিয়ে আরও কঠিন কন্ঠে বলে
হ্যাঁ, আমার বাবা একজন দিনমজুর।আর এটাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব।
কারণ সৎ পরিশ্রমের চেয়ে বড় পরিচয় আর কিছু নেই।রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে, নিজের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তিনি আমাদের মুখে হাসি ফোটান।
আমার বাবা-ই আমার জীবনের প্রথম নায়ক, আমার অনুপ্রেরণা, আমার আইডল।আমি গর্বের সঙ্গে বলি আমি একজন দিনমজুরের সন্তান, আর এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।"
হ্যা আমি গ্রামের মেয়ে সেটা বলতে আমার একটুও লজ্জা নেই।
কারণ সেই গ্রামই আমাকে সত্যতা, সম্মান আর নিজের অধিকার রক্ষা করতে শিখিয়েছে। কিন্তু আপনি? এত বড়লোকের মেয়ে হয়েও মানুষকে সম্মান করতে শেখেননি।
গুঞ্জনের কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
আর একটা কথা ভালো করে শুনে রাখুন। কারও ভালোবাসা, কারও সম্মান বা কারও সাফল্য জোর করে কেড়ে নেওয়া যায় না। আমি নিজের যোগ্যতায় এখানে দাঁড়িয়েছি। এবং নিজের যোগ্যতা ট্রফিটা জিতেছি,কারও দয়া বা পরিচয়ের ভরসায় নয়। তাই আমাকে নিয়ে কটূক্তি করার আগে নিজেকে একবার দেখে নেবেন।
সে শেষবারের মতো মেঘার চোখে চোখ রেখে বলল,
আজ শুধু একটা চড় দিয়েছি। কারণ আপনার মুখের ভাষা সীমা ছাড়িয়েছিল। ভবিষ্যতে আবার আমার সম্মান, আমার পরিবার বা আমার গ্রাম নিয়ে একটা বাজে কথাও বলবেন না। আমি চুপ করে অপমান সহ্য করার মেয়ে নই। নিজের সম্মান রক্ষা করতে জানি।
ঠিক তখনই সেখানে প্রেম আসে সাথে তার বাকি বন্ধুরা।
প্রেমকে দেখেই মেঘা মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়ল। ছুটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
দেখো প্রেম! এই মেয়েটা আমাকে মেরেছে। আমি তো শুধু তোমার হার সহ্য করতে পারিনি। ওর হাতে ওই ট্রফিটা একদমই মানাচ্ছিল না। তাই রাগের মাথায় ফেলে দিয়েছি।
মেঘার কথা শুনে প্রেমের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে অহংকারী হাসি ফুটে উঠল। সে একবার ভাঙা ট্রফিটার দিকে তাকাল, তারপর অবজ্ঞাভরে বলল,
তুই একদম ঠিক কাজ করেছিস, মেঘা। প্রেম চৌধুরী কোনোদিন হারতে শেখেনি। আর আমার সামনে অন্য কারও জয় আমি মেনে নিই না।
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই তাদের দেখছিল।
প্রেম ধীর পায়ে গুঞ্জনের সামনে এসে দাঁড়াল। দুজনের মাঝে মাত্র এক হাত দূরত্ব। কিছুক্ষণ কোনো কথা বলল না, শুধু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে গুঞ্জনের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে রইল।
তারপর গম্ভীর, রাগি কণ্ঠে বলে উঠল,
কোন সাহসে আমার ফ্রেন্ডদের গায়ে হাত তুলেছ তুমি?
প্রেমের কণ্ঠের কঠোরতা শুনে গুঞ্জনের বুকের ভেতরটা মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল। কিন্তু সে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করল না। মুখের অভিব্যক্তি শক্ত রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
যে সাহসে একজন আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ নিজের সম্মান রক্ষা করে, সেই সাহসেই হাত তুলেছি।
এক মুহূর্ত থেমে আবার বলল,
আমি কাউকে আগে আঘাত করি না। কিন্তু কেউ যদি আমার পরিশ্রম, আমার প্রাপ্য আর আমার আত্মসম্মানকে অপমান করে, তাহলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখার মানুষও আমি নই।
গুঞ্জনের কণ্ঠে এবার কঠোরতা স্পষ্ট হয়ে উঠল।
আপনি হেরেছেন সেটা আমার দোষ নয়। আমি নিজের যোগ্যতায় জিতেছি। আর আপনার ফ্রেন্ড সবার সামনে আমার ট্রফি ভেঙে, আমাকে অপমান করেছে। তার জবাবই দিয়েছি। তাই নিজের ফ্রেন্ডকে আগে সম্মান করতে শেখান তারপর অন্যের কাছে হিসাব চাইতে আসবেন।
গুঞ্জনের শেষ কথাটা যেন প্রেমের অহংকারে সরাসরি আঘাত করল। মুহূর্তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। চোখ দুটো রক্তবর্ণ ধারণ করল।
সে এক পা এগিয়ে এসে হুমকিমিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকেই জ্ঞান দিচ্ছ? জানো আমি কে?
গুঞ্জন একটুও পিছিয়ে গেল না। বরং সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শান্ত দৃষ্টিতে প্রেমের দিকে তাকিয়ে বলল,
মানুষকে পরিচয় দিয়ে নয়, চরিত্র দিয়ে চিনতে শেখানো হয়েছে আমাকে। তাই আপনি কে, সেটা জানার আগ্রহ আমার নেই।
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীরা বিস্ময়ে একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগল। কেউ ভাবতেই পারেনি, প্রেম চৌধুরীর সামনে দাঁড়িয়ে কেউ এভাবে কথা বলার সাহস দেখাবে।
প্রেম ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,
এই ভার্সিটিতে আজ পর্যন্ত কেউ প্রেম চৌধুরীর চোখে চোখ রেখে কথা বলেনি। সবাই মাথা নিচু করে চলে। আর তুমি... তুমি আমার সঙ্গে তর্ক করছ?
গুঞ্জনের কণ্ঠে বিন্দুমাত্র ভয় নেই।
মাথা নিচু করে চলা আর সম্মান করা এক জিনিস নয়। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা আমার স্বভাবে নেই।
প্রেম এবার রাগে মুঠো শক্ত করে ফেলল।
তোমার সাহস তো কম নয়, নিজের ভালো মন্দ বুঝতে শেখোনি মনে হচ্ছে
ভুল বলেছেন
আমি খুব ভালো করেই বুঝি কোনটা ভালো আর কোনটা অন্যায়। আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে সাহস লাগে। সেই সাহসটা আমার বাবা শিখিয়েছেন। তাই কারও ক্ষমতা, টাকা কিংবা নাম দেখে আমি সত্য কথা বলা বন্ধ করব না।
বাবা শব্দটা উচ্চারণ করার সময় গুঞ্জনের চোখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা ফুটে উঠল।
প্রেম হঠাৎ গুঞ্জনের খুব কাছে এসে দাঁড়াল। দুজনের মাঝে আর এক হাতও দূরত্ব নেই এখন
আজ প্রথম দিন বলে ছেড়ে দিচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয়বার আমার সামনে পড়লে কী হবে, সেটা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।
গুঞ্জনও এক চুলও পিছিয়ে গেল না বরং নিজের জায়গায় অবিচল থেকে বলল
হুমকি দিয়ে যদি আমাকে ভয় দেখাতে চান, তাহলে ভুল মানুষের সামনে দাঁড়িয়েছেন। আমি গ্রাম থেকে এসেছি ঠিকই, কিন্তু মাথা নত করতে শিখে আসিনি। নিজের সম্মান বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত লড়তে শিখে এসেছি।
সাজিয়ার মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা ধকধক করছে। সে জানে, এই ছেলেটার রাগ কতটা ভয়ংকর হতে পারে। এক মুহূর্তও দেরি না করে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
প্লিজ, ভাইয়া... আমি ওর হয়ে ক্ষমা চাইছি। ও নতুন এসেছে, তাই আপনার সম্পর্কে কিছুই জানে না। না বুঝেই কথা বলেছে। প্লিজ, ওকে ক্ষমা করে দিন।
কথাগুলো বলেই সাজিয়া আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। দ্রুত গুঞ্জনের হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। গুঞ্জন সাজিয়ার মুখের আতঙ্ক দেখে আর কোনো কথা বলল না।
প্রেম চৌধুরী স্থির দৃষ্টিতে গুঞ্জনের চলে যাওয়া দেখছিল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, দু'হাত মুঠো করে বাঁধা। চোখে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন। ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল ভয়ংকর হাসি।
হিমশীতল কণ্ঠে সে বলল,
তোমাকে আজ ছেড়ে দিলাম... কিন্তু মনে রেখো, এই অপমানের মূল্য তোমাকে সুদে-আসলে শোধ করতে হবে।
কয়েক সেকেন্ড থেমে সে আরও কঠিন স্বরে করে বলল,
তোমার এই ভার্সিটি জীবন যদি আমি নরকে পরিণত না করি... তাহলে আমার নাম প্রেম চৌধুরী নয়।
চলবে,,,,
রেসপন্স করবেন প্লিজ।