#প্রেমের_ গুঞ্জন
#পর্ব_৭
#জান্নাত
গুঞ্জন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। দূরের নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘগুলোর দিকে অন্যমনস্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে সে। বিকেলের ম্লান আলো জানালার ফাঁক দিয়ে এসে তার মুখে পড়লেও আজ সেই আলো যেন তার মন ছুঁতে পারছে না। বুকের ভেতরটা শূন্যতায় ভারী হয়ে আছে আজ।
ভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া আজকের ঘটনাগুলো বারবার মনে পড়ছে। অপমান, কষ্ট আর অচেনা শহরের নিঃসঙ্গতা মিলেমিশে মনটাকে আরও বিষণ্ন করে তুলেছে। তার ওপর হঠাৎ করেই ভীষণভাবে মনে পড়ছে বাবা-মায়ের কথা। কত দূরে রেখে এসেছে তাদের! কিন্তু সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে তার ছোট্ট আদরের ভাইটাকে।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সেই মুহূর্তটা যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল। ছোট্ট ছেলেটা তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল,
আপু, তুই যাস না... তুই চলে গেলে আমি কার সাথে থাকবো?
সেই কান্নাভেজা মুখটা মনে পড়তেই গুঞ্জনের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। অজান্তেই চোখের কোণে জমে উঠে একফোঁটা অশ্রু। সে দ্রুত হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে নেয়। যেন এই চোখের পানি সে কাউকে দেখাতে চায়না।
ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ তার কাঁধে হাত রাখে। চমকে ফিরে তাকিয়ে দেখে সাজিয়া দাঁড়িয়ে আছে। গুঞ্জনের মুখের বিষণ্নতা এক নজরেই বুঝে ফেলেছে সাজিয়া।
সাজিয়া মৃদু হেসে বলে কীরে গুঞ্জন, তোর মন খারাপ?
গুঞ্জন জোর করে ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে চোখের ভেজা ভাবটা লুকানোর চেষ্টা করে
না... তেমন কিছু না। আসলে আজ খুব করে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ছে রে। আর... তাদের থেকেও বেশি মিস করছি আমার ছোট্ট আদরের ভাইটাকে। জানিস, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে এমন করে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল.।মন চাইছে এখনি ছুটে গিয়ে ওকে এই বুকে লুকিয়ে রাখি।
শেষের কথাগুলো বলতে বলতেই গুঞ্জনের গলাটা ভারী হয়ে আসে। চোখের কোণে আবারও চিকচিক করে উঠে অশ্রুবিন্দু। দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে সে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কিছু দূরত্ব হয়তো পথ দিয়ে মাপা যায়, কিন্তু আপনজনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ট সেটা কোনো দূরত্বের হিসাব মানে না।
___
অন্যদিকে প্রেম নিজের রুমে বসে আছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা, অথচ তার ভেতরে যেন তাণ্ডব বয়ে যাচ্ছে। রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, কপালের রগ ফুলে উঠেছে। মুঠোবদ্ধ হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেন নিজের রাগকে কোনোমতে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।
বারবার তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই মেয়েটার চেহারা গুঞ্জন। যে বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে সবার সামনে তার চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে। এই ভার্সিটিতে আজ পর্যন্ত কেউ প্রেম চৌধুরীর সামনে এভাবে দাঁড়ানোর সাহস দেখায়নি। সবাই তাকে দেখলেই পথ ছেড়ে দিয়েছে, মাথা নিচু করে রেখেছে। অথচ গ্রামের সাধারণ একটা মেয়ে এসে তার সাথে টক্কর দিলো।
প্রেম তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে
খুব সাহস দেখিয়েছ, গুঞ্জন... তাই না? আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে অপমান করার ফল কী হয়, সেটা খুব শিগগিরই বুঝতে পারবে। প্রেম চৌধুরী নিজের অপমানের কথা কখনো ভুলে যায়না।
কথাগুলো বলেই সে টেবিলের উপর রাখা কাঁচের গ্লাসটা শক্ত হাতে চেপে ধরল। মুহূর্তেই গ্লাসটা তার হাত থেকে ছিটকে মেঝেতে পড়ে চুরমার হয়ে গেল। ভাঙা কাঁচের শব্দে পুরো রুম কেঁপে উঠলেও প্রেমের রাগের আগুন যেন এতটুকুও কমল না।
___
পরদিন গুঞ্জন ভার্সিটিতে যায়, সবাই আড়চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। কেউ ফিসফিস করে কথা বলছে, কেউ আবার তাকে দেখেই চুপ হয়ে যাচ্ছে।
গতকালের ঘটনার রেশ যে পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা বুঝতে আর বাকি রইল না গুঞ্জনের।
এক মুহূর্তের জন্য বুকের ভেতরটা অস্বস্তিতে মোচড় দিয়ে উঠে। তবুও নিজের আত্মসম্মান আর দৃঢ়তাকে আঁকড়ে ধরে মাথা উঁচু করে সামনে এগিয়ে চলল সে। কারও দৃষ্টিকে পাত্তা দেওয়ার মানুষ সে নয়।
ঠিক তখনই
একটি মেয়ে এসে তার পথ আটকে দাঁড়াল।
গুঞ্জন ভ্রু কুঁচকে তাকাল মেয়েটির দিকে।
মেয়েটি কিছুটা কড়া সুরেই বলল,
প্রেম ভাইয়া তোমাকে ডাকছেন।
গুঞ্জনের ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠে
একটুও বিচলিত না হয়ে সে শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
যার প্রয়োজন, সে নিজেই আসবে। আমি কেন যাব? আমার তো ওনার কাছে কোনো প্রয়োজন নেই।
কথাগুলো বলে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না গুঞ্জন। মেয়েটির পাশ কাটিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই নিজের ক্লাসের দিকে হাঁটা দিল।
আর এদিকে...
মেয়েটি যেন পুরোপুরি থমকে গেল।
চোখ-মুখে স্পষ্ট বিস্ময়। বিশ্বাসই করতে পারছে না, পুরো ভার্সিটির যার এক ডাকে সবাই ছুটে যায়, সেই প্রেম চৌধুরীর ডাকে কেউ এভাবে নির্দ্বিধায় না বলতে পারে!
সে হতভম্ব হয়ে গুঞ্জনের চলে যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে রইল। যেন তার মাথাই কাজ করছে না।
___
আকাশটা আজ যেন বড্ড অভিমানী। ধূসর মেঘে ঢেকে গেছে পুরো আকাশ, আর মৃদু শীতল বাতাস জানালার ফাঁক দিয়ে ক্লাসরুমে ঢুকে সবাইকে এক প্রশান্তিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ আবহ মুহূর্তটাকে আরও রোমাঞ্চকর, আরও অনুভূতিময় করে তুলেছে।
গুঞ্জন চুপচাপ নিজের বেঞ্চে বসে জানালার বাইরের দুলতে থাকা গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।এখন অফ পিরিয়ড, তাই ক্লাসে তেমন কোনো হৈচৈ নেই। কেউ গল্পে ব্যস্ত, কেউ ফোনে, আবার কেউ বেঞ্চে মাথা রেখে অলস সময় কাটাচ্ছে।
ঠিক তখনই পাশে বসে থাকা সাজিয়া কনুই দিয়ে গুঞ্জনকে হালকা ধাক্কা দিয়ে দুষ্টু হেসে বলল,
আচ্ছা গুঞ্জন, তোর কাছে ভালোবাসা মানে কী?
ভালোবাসা
শব্দটা কানে আসতেই গুঞ্জনের পুরো শরীর যেন কেঁপে উঠল। চোখের পলকে হাসিটুকু মিলিয়ে গেল তার মুখ থেকে। বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই চিনচিন করে ব্যথা করে উঠল, যেন বহুদিন আগের শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতটাতে কেউ আবার নতুন করে হাত বুলিয়ে দিল।
কীভাবে সে ভালোবাসার সংজ্ঞা দেবে?
যে ভালোবাসাকে একদিন নিজের পৃথিবী ভেবেছিল, সেই ভালোবাসাই তো তাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। যার হাত ধরে আজীবন পথ চলার স্বপ্ন দেখেছিল, সেই মানুষটাইতো তাকে ছেড়ে দিলো। বিশ্বাসের বিনিময়ে সে পেয়েছিল প্রতারণা, আর হৃদয়ভরা স্বপ্নের বদলে পেয়েছিল অসহনীয় এক শূন্যতা।
এক মুহূর্তের জন্য গুঞ্জনের চোখের সামনে ভেসে উঠল অতীতের কিছু ঝাপসা স্মৃতি, এবং বিচ্ছেদের সেই নির্মম অধ্যায়।
অজান্তেই তার আঙুলগুলো মুঠো হয়ে এলো। বুকের ভেতরের কষ্টটা লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ফিকে হাসি টেনে সাজিয়ার দিকে তাকাল।
কিন্তু সেই হাসিতে কোনো প্রাণ ছিল না, ছিল শুধু হাজারটা না-বলা যন্ত্রণার ছাপ
গুঞ্জন কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইল। জানালার ওপাশে জমে থাকা কালো মেঘের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল সে। যেন মেঘগুলোর ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে তার জীবনের কিছু তিক্ত স্মৃতি। মৃদু বাতাস এসে তার কপালের এলোমেলো চুলগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে, অথচ সে সেদিকে কোনো খেয়ালই করল না।
সাজিয়া অবাক হয়ে গুঞ্জনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। মাত্র একটা প্রশ্নই তো করেছিল, অথচ সেই প্রশ্ন যেন গুঞ্জনের বুকের গভীরে চাপা পড়ে থাকা অসংখ্য অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলেছে।
বেশ কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর গুঞ্জন মৃদু হেসে বলল,
ভালোবাসা...! ছোট্ট একটা শব্দ, অথচ এর গভীরতা পুরো সমুদ্রের থেকেও বেশি। একেকজন মানুষের কাছে এর অর্থ একেক রকম। কেউ ভালোবাসার মাঝে নিজের জান্নাত খুঁজে পায়, আবার কেউ সেই ভালোবাসার কারণেই নিজের পৃথিবীটা হারিয়ে ফেলে।
সে একটু থামল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলতে শুরু করল,
একসময় আমিও বিশ্বাস করতাম, ভালোবাসা মানে সারাজীবন একসাথে পথ চলার প্রতিশ্রুতি। ভালোবাসা মানে একজনের হাত শক্ত করে ধরে জীবনের সব ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে যাওয়া। মনে হতো, পৃথিবীর সবাই ছেড়ে চলে গেলেও একজন মানুষ অন্তত কোনোদিন ছেড়ে যাবে না। তার কাছে নিজের সব দুর্বলতা, সব কষ্ট, সব স্বপ্ন নির্দ্বিধায় তুলে দেওয়াই বুঝি ভালোবাসা।
গুঞ্জনের কণ্ঠটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে এলো।
কিন্তু জীবন আমাকে অন্য একটা শিক্ষা দিয়েছে। এখন বুঝি, শুধু 'ভালোবাসি' বললেই ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসা মানে বিশ্বাস, যে বিশ্বাস ভাঙার জন্য নয়। ভালোবাসা মানে সম্মান, যেখানে একজন আরেকজনকে ছোট করে না। ভালোবাসা মানে নিরাপত্তা, যেখানে ভয় নয়, শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়। ভালোবাসা মানে এমন একটা আশ্রয়, যেখানে ক্লান্ত মানুষটা ফিরে এসে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।
তার চোখের কোণে চিকচিক করে উঠল একফোঁটা জল। তবে সে সেটাকে গড়িয়ে পড়তে দিল না।
যে সম্পর্ক বারবার চোখের পানি উপহার দেয়, যে সম্পর্ক আত্মসম্মান কেড়ে নেয়, যে সম্পর্ক মানুষকে প্রতিনিয়ত ভেতর থেকে ভেঙে দেয়... আমি তাকে ভালোবাসা বলতে পারি না। কারণ ভালোবাসা কখনো কাউকে শেষ করে দেয় না। সত্যিকারের ভালোবাসা মানুষকে আরও শক্ত করে, আরও সুন্দর করে, আরও বাঁচতে শেখায়।
গুঞ্জন আকাশের দিকে তাকিয়ে আবারো বলতে শুরু করে
জানিস সাজিয়া, এখন আমার মনে হয় ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে, সঠিক মানুষকে ভালোবাসা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল মানুষকে ভালোবেসে মানুষ শুধু একজন মানুষকেই হারায় না, হারিয়ে ফেলে নিজের হাসি, নিজের বিশ্বাস, নিজের সরলতা, এমনকি নিজের অস্তিত্বের একটা অংশও।
সে একটু হেসে আবার বলল,
তবুও আমি ভালোবাসাকে ঘৃণা করি না। কারণ ভালোবাসা কখনো খারাপ হয় না, খারাপ হয় কিছু মানুষ। তারা ভালোবাসার নামে অভিনয় করে, মিথ্যে স্বপ্ন দেখায়, তারপর স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে মানুষটাকেই একা ফেলে চলে যায়। তখন মানুষ ভাবে ভালোবাসা মিথ্যে। অথচ মিথ্যে ছিল মানুষটা, ভালোবাসা নয়।
গুঞ্জন ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে আনে তারপর সাজিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে
আমার কাছে ভালোবাসা মানে এমন একজন মানুষ, যার পাশে দাঁড়ালে বুকভরা অস্থিরতাও শান্ত হয়ে যায়। যার সামনে নিজের দুর্বলতা লুকাতে হয় না। যে হাতটা ধরলে মনে হবে 'এই হাতটা আর কোনোদিন ছেড়ে যাবে না।' আর যদি সেই বিশ্বাসটাই না থাকে, তাহলে হাজারবার 'ভালোবাসি' বললেও সেই সম্পর্কের কোনো মূল্য নেই।
এতক্ষণ ধরে গুঞ্জনের প্রতিটি কথা নীরবে শুনছিল একজন।গুঞ্জনের কণ্ঠে ছিল না কোনো নাটকীয়তা, ছিল না কারও সহানুভূতি পাওয়ার আকুতি। তবুও তার প্রতিটি কথা অদৃশ্য তীরের মতো এসে বিঁধছিল সেই মানুষটার হৃদয়ের গভীরে।
অজান্তেই তার বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে উঠে
সে উপলব্ধি করছে এই দৃঢ়চেতা মেয়েটার চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক সমুদ্রসম কষ্ট। নিজের সমস্ত যন্ত্রণা বুকের গভীরে বন্দি করে রেখে সে সবার সামনে শক্ত থাকার অভিনয় করে যায়। যেন ভেঙে পড়া তার জন্য নিষিদ্ধ।
অদ্ভুত এক অনুভূতি তাকে গ্রাস করতে শুরু করল।
সে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল গুঞ্জনের দিকে। মৃদু বাতাসে উড়ে যাওয়া কয়েকটি এলোমেলো চুল, দূরে হারিয়ে যাওয়া বিষণ্ন দৃষ্টি আর ঠোঁটের কোণে জোর করে ফুটিয়ে রাখা ক্ষীণ হাসি সব মিলিয়ে মেয়েটাকে আজ অন্যরকম লাগছে।
এ যেন কোনো বাহ্যিক সৌন্দর্যের মায়া নয়; এ এমন এক মায়া, যা সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে স্পর্শ করে।
অজান্তেই সেই মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অনুভব করল, মেয়েটার সরলতা, ব্যক্তিত্ব আর লুকিয়ে রাখা গভীর কষ্ট তাকে ধীরে ধীরে নিজের অদৃশ্য এক জগতে টেনে নিচ্ছে। এমন এক অনুভূতি, যার নাম হয়তো এখনও সে জানে না… কিন্তু হৃদয়ে ইতিমধ্যে সেই নামটি উচ্চারণ করতে শুরু করেছে।
চলবে,,,