#প্রেমের_ গুঞ্জন
#পর্ব__১৭
#জান্নাত
গুঞ্জনের চলে যাওয়ার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল প্রেম। মেয়েটার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন তার বুকের ভেতর এক অঙ্গীকার লিখে দিয়ে যাচ্ছে।
ঠোঁট নাড়িয়ে খুব নিচু স্বরে বিড়বিড় করে বলল,
ভালোবাসা যদি কাঁটার মুকুট হয়, তবে সেই মুকুট মাথায় তুলতেও আমার আপত্তি নেই। প্রতিটি কাঁটার আঘাতে যদি রক্ত ঝরে, সেই রক্তই হবে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার সাক্ষী। পৃথিবী আমাকে থামাতে চাইলেও, ভাগ্য আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও... তবু আমি হার মানব না।
কিছুক্ষণ থেমে আবারও গুঞ্জনের চলে যাওয়া পথের দিকে তাকাল প্রেম।
তোমাকে পাওয়ার জন্য প্রয়োজন হলে হাজারো যন্ত্রণা বরণ করব, অসংখ্য ঝড় পেরোব, অন্ধকারের বুক চিরে এগিয়ে যাব। কারণ আমি বিশ্বাস করি, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো সহজ হয় না। তাকে অর্জন করতে হয় ত্যাগ দিয়ে, ধৈর্য দিয়ে, আর অসীম সাহস দিয়ে।
প্রেমের ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।
মনে রেখো, এই যুদ্ধ জয়ের জন্য নয়... তোমাকে আমার জীবনের অংশ করে নেওয়ার জন্য। আর আমি... তোমাকে জয় না করে থামব না, আমার তীব্রময়ী।
অন্যদিকে প্রেমের সেই অঙ্গীকারের কিছুই জানে না গুঞ্জন।
টিউশনি পড়াতে পড়াতে কখন যে সাতটা পেরিয়ে গেছে, খেয়ালই করেনি সে। বাড়ি ফিরতে ফিরতে চারপাশে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে এসেছে। রাস্তার দুপাশের দোকানগুলোতে একে একে বাতি জ্বলছে। তবু গলির কিছুটা অংশ অন্ধকারে ডুবে আছে।
গুঞ্জন নিজের মতো করেই হাঁটছিল।
হঠাৎ সামনে কয়েকজন ছেলে এসে পথ আটকে দাঁড়াল।
গুঞ্জন থেমে গেল।
ছেলেগুলোর একজন বিশ্রী হাসি দিয়ে বলল,
কোথায় যাচ্ছো ফুলটুসি? আমাদেরকেও সঙ্গে নাও না। ভালোই এনজয় করতে পারবে।
সঙ্গে সঙ্গে বাকিরা হো হো করে হেসে উঠল।
গুঞ্জনের বুকের ভেতরটা ঘিনঘিন করে উঠল। বিরক্তি আর ঘৃণায় মুখটা শক্ত হয়ে গেল তার।
তবু নিজেকে সামলে শান্ত কণ্ঠে বলল,
পথ ছাড়ুন। আমাকে যেতে দিন।
একজন ছেলেকে যেন কথাটা বেশ মজার মনে হলো। ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
না ছাড়লে কী করবে, ফুলটুসি? তোমাকে কয়েকদিন ধরেই দেখছি।আজ একা পেয়ে গেলাম। এখন কীভাবে ছেড়ে দিই বলো?
এই বলে ছেলেটা গুঞ্জনের দিকে এগিয়ে এসে তার হাত ধরতে উদ্যত হলো।
পরের মুহূর্তেই
ঠাসসস করে চড় বসিয়ে দেয় গুঞ্জন
নিস্তব্ধ রাস্তায় চড়ের শব্দটা যেন প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো।
ছেলেটার মুখ একদিকে বেঁকে গেল। গালে হাত রেখে কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে।
তারপর ধীরে ধীরে গুঞ্জনের দিকে ফিরল ক্রুদ্ধ চোখে।
কিন্তু গুঞ্জন একটুও পিছিয়ে গেল না।
চোখ দুটো রাগে জ্বলছে। কণ্ঠে বিন্দুমাত্র কাঁপন নেই।
দাঁতে দাঁত চেপে বলল
কেন তোমাদের মতো কিছু মানুষের জন্য একটা মেয়েকে সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়ে হাঁটার আগে দশবার ভাবতে হবে? কেন একটা মেয়ে একা রাস্তায় বের হলে তাকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে?
একটা মেয়েকে পথ আটকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা, বাজে কথা বলা, হাত ধরতে যাওয়া এসবকে তোমরা মজা বলো?
এগুলো মজা নয়। এগুলো হয়রানি। আর মনে রেখো, কোনো মেয়ে চুপ করে থাকলেই সে দুর্বল নয়। অনেক সময় সে শুধু ঝামেলা এড়াতে চুপ থাকে। কিন্তু সেই নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার ভুল কোরো না।
একটা ছেলে রাগী গলায় বলল,
বেশি কথা বলছিস তুই
গুঞ্জন তৎক্ষণাৎ তার দিকে তাকাল।
বেশি কথা?
তার ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটল।
আজ যদি আমি চুপ করে চলে যেতাম, কাল তোমরা অন্য একটা মেয়েকে একইভাবে আটকে দিতে। তারপর আরেকজনকে। এভাবেই তো তোমাদের সাহস বাড়ে কারণ তোমরা ভাবো, মেয়েরা প্রতিবাদ করবে না,তারা প্রতিবাদ করতে জানেনা, সবকিছু নীরবে সহ্য করে নেবে।
আর একটা কথা ভালো করে শুনে রাখো। কোনো মেয়ের গায়ে হাত দেওয়ার আগে একবার ভাববে সামনের মানুষটা মেয়ে বলেই দুর্বল নয়। সে প্রতিবাদ করতে জানে। প্রয়োজনে নিজের জন্য লড়তেও জানে।
তোমরা কয়েকজন মিলে একজন মেয়েকে ঘিরে দাঁড়িয়ে নিজেদের খুব শক্তিশালী ভাবছো, তাই না? কিন্তু সত্যিকারের সাহস থাকলে দল বেঁধে একটা মেয়ের পথ আটকাতে হতো না। একজন মানুষের সম্মান করতে পারাটাই আসল পুরুষত্ব। ভয় দেখিয়ে, নয়।
গুঞ্জন তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,
এসব করে নিজেদের খুব বড় কিছু মনে করিস? মেয়েদের বিরক্ত করে, তাদের ভয় দেখিয়ে কখনো কেউ বড় হয় না। বরং নিজের পরিবার আর নিজের মানুষগুলোর কাছেই ছোট হয়ে যায়।
একটু থেমে গুঞ্জন চারজনের মুখের দিকে তাকাল।
তোমরা এসব করে সময় নষ্ট না করে সেই সময়টা পড়াশোনায় কাজে লাগাও। জীবনে কিছু করার চেষ্টা করো। মা-বাবা তোমাদের নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, সেটা পূরণ করো। তাদের মুখ উজ্জ্বল করো। একদিন যেন তারা তোমাদের নিয়ে গর্ব করে বলতে পারেন ‘আমার ছেলে মানুষ হয়েছে।
গুঞ্জনের কণ্ঠটা এবার কিছুটা নরম হলো, কিন্তু কথার দৃঢ়তা একটুও কমল না।
মনে রেখো, একটা মেয়েকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অপমান করার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই। আসল বাহাদুরি হলো নিজের রাগ, নিজের খারাপ ইচ্ছেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। সম্মান করতে শেখো। কারণ তোমাদের ঘরেও মা আছে, বোন আছে। তাদের কেউ যদি তোমাদের মতো ছেলেদের হাতে অপমানিত হয়, তখন কেমন লাগবে একবার ভেবে দেখো।
গুঞ্জনের শেষ কথাটুকু বাতাসে মিলিয়ে যেতেই চারপাশটা কেমন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
ছেলেগুলো আর কোনো কথা বলল না। একে একে সবার মাথা নত হয়ে এলো। কয়েক মুহূর্ত আগেও যাদের চোখেমুখে ছিল দম্ভ, বেপরোয়া সাহস আর নিজেদের ভুলকে স্বাভাবিক মনে করার ঔদ্ধত্য সেই চোখগুলোতেই এখন নেমে এসেছে অনুতাপের ছায়া।
হয়তো গুঞ্জনের কথাগুলো শুধু তাদের কানে পৌঁছায়নি, পৌঁছে গেছে তাদের বিবেকের গভীরে।
যে বিবেককে তারা এতদিন নিজেদের স্বার্থ, অহংকার আর ভুল কাজের আড়ালে চাপা দিয়ে রেখেছিল, আজ গুঞ্জনের কয়েকটি সত্য কথাই যেন সেই বিবেকের দরজা খুলে দিয়েছে।
হয়তো তারা প্রথমবার উপলব্ধি করেছে কাউকে কষ্ট দেওয়া সাহসিকতা নয়, দুর্বলতার পরিচয়। অন্যের অসহায়ত্বকে নিয়ে হাসাহাসি করা শক্তি নয়, বরং নিজের ভেতরের অন্ধকারকে প্রকাশ করা।
কারও চোখের কোণে জমে উঠল লজ্জা। কেউ মাটির দিকে তাকিয়ে পায়ের আঙুল দিয়ে ধুলো সরাতে লাগল। যেন গুঞ্জনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নয়, তারা নিজেদের কাছেই দাঁড়িয়ে গেছে।এক কঠিন বিচারের কাঠগড়ায়।
গুঞ্জন আর কিছু বলল না।
হয়তো আজ তার কথাগুলো তাদের অহংকারকে নয়, তাদের মনুষ্যত্বকে নাড়া দিয়েছে।
গুঞ্জন আর কিছু না বলে চলে যায়।
____
এতক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে গুঞ্জনের প্রতিটি কথা শুনছিল প্রেম। তার চোখে তখনও রাগের আগুন জ্বলছিল। ছেলেগুলো যখন একে একে গুঞ্জনের সামনে দাঁড়াল, তখনই প্রেমের ভেতরটা যহঠাৎ জ্বলে উঠেছিলো।
সে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। এক পা এগিয়েও গেল তাদের দিকে। মনে হচ্ছিল, গুঞ্জনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই ছেলেগুলোর একটাকেও সে ছাড়বে না।
কিন্তু পরক্ষণেই থেমে গেল প্রেম।
না, সে এখন কিছু বলবে না।
সে দেখতে চায় গুঞ্জন কীভাবে সামলায় এই পরিস্থিতি।
আর সত্যিই, গুঞ্জনের প্রতিটি কথা যেন ধীরে ধীরে তাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ছিল।
ছেলেগুলোর মাথা নত। চোখের দৃষ্টিতে আর আগের সেই ঔদ্ধত্য নেই। সেখানে স্পষ্ট অনুতাপের ছায়া।
প্রেম স্থির দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
অদ্ভুত!
কোনো চিৎকার নেই, কোনো শাস্তির হুমকি নেই, এমনকি কঠিন কোনো কথাও নয় শুধু কয়েকটি সত্য কথা। অথচ সেই কথাগুলোই যেন তাদের অহংকারের দেয়াল ভেঙে ভেতরের মানুষটাকে বের করে এনেছে।
গুঞ্জনের দিকে তাকাতেই প্রেমের বুকের ভেতরটাও কেমন যেন নরম হয়ে এলো।
এই মেয়েটার কথাগুলো শুধু ওই ছেলেগুলোর বিবেককেই নাড়া দেয়নি, কোথাও যেন তার নিজের হৃদয়কেও ছুঁয়ে গেছে।
প্রেম মনে মনে বলল
কথারও কি এতটা শক্তি থাকে?’
তার চোখ আবার ছেলেগুলোর দিকে গেল।
এখন তাদের চোখে অপরাধবোধ, মুখে নীরবতা, আর মাথায় অনুতাপ।
প্রেমের ঠোঁটের কোণে অদৃশ্য এক দীর্ঘশ্বাস জমল।
হয়তো সত্যিই মানুষকে সবসময় শাস্তি দিয়ে বদলাতে হয় না।
কখনো কখনো কয়েকটি সত্য কথা-ই যথেষ্ট।
কখনো কয়েকটি শব্দই একজন মানুষকে তার নিজের ভুলের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
আর তখন শাস্তির প্রয়োজন হয় না। নিজের বিবেকই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় শাস্তি।
প্রেম গুঞ্জনের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল
কথার মাধ্যমেও বুঝি কাউকে অনুতপ্ততার এমন এক সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া যায়, যেখান থেকে ফিরে আসার পর মানুষটা আর আগের মানুষ থাকে না।
___
প্রেম গুঞ্জনের দিকে তাকিয়ে বলে
তোমাকে ভালোবেসে আমি কোনো ভুল করিনি, আমার তীব্রময়ী। আর যদি এই ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়, তবে সেই অপরাধের শাস্তি আমি সারাজীবন মাথা পেতে নিতেও প্রস্তুত।
কারণ তুমি এমন কোনো নারী নও, যাকে দুটো মিষ্টি কথায় মুগ্ধ করে নিজের করে নেওয়া যায়। তুমি এমন এক নারী, যাকে পেতে হলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। তোমার হৃদয়ের দরজায় পৌঁছাতে হলে ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মান, ধৈর্য আর সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে।
তুমি কোমল কিন্তু ভীষণ শক্ত। তোমার চোখে মায়া আছে, অথচ সেই চোখেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগুন জ্বলে ওঠে। তুমি ভালোবাসতে জানো, আবার নিজের আত্মসম্মানের জন্য ভালোবাসার মানুষকেও দূরে সরিয়ে দিতে জানো।
আর জানো কী? তোমার এই তীব্রতাটাই আমাকে তোমার দিকে আরও বেশি টেনে নিয়েছে।
আমি তোমাকে কোনো খাঁচায় বন্দি করতে চাই না। তোমার স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাই না। আমি শুধু চাই, তুমি যখন পৃথিবীর হাজার মানুষের ভিড়ে ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তখন যেন আমার কাছে এসে নিশ্চিন্তে দাঁড়াতে পারো।
আমি তোমার মালিক হতে চাই না,তীব্রময়ী...আমি হতে চাই তোমার সেই মানুষ, যার কাঁধে মাথা রাখলে তোমার সমস্ত যুদ্ধ কিছুক্ষণের জন্য থেমে যাবে।
আর যদি তোমাকে পাওয়ার পথটা কাঁটায় ভরা হয়, তবে সেই কাঁটার পথেই হাঁটব। পায়ে রক্ত ঝরবে ঝরুক। হৃদয় ভাঙবে ভাঙুক। পৃথিবী আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে দাঁড়াক।
তবুও আমি পিছিয়ে যাব না।
কারণ ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, তবে তাকে পাওয়ার জন্য লড়াই করতেও জানতে হয়।
তাই মনে রেখো, আমার তীব্রময়ী তোমাকে ভালোবেসে আমি ভুল করিনি।
আমি শুধু আমার হৃদয়ের জন্য সঠিক মানুষটাকেই বেছে নিয়েছি।
______
রাতের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল গুঞ্জন। সারাদিনের ব্যস্ততায় শরীরটা ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। তাই ঠিক করল, কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তারপর আবার কেলিগ্রাফি নিয়ে বসবে।
সেদিন সাজিয়ার কথামতোই পেইজটা খুলেছিল গুঞ্জন। প্রথম দিকে নিজের হাতে করা কয়েকটি কেলিগ্রাফি পোস্ট করেছিল। প্রথম দিন তেমন কোনো সাড়া পায়নি। পোস্টগুলো যেন নিঃশব্দেই হারিয়ে গিয়েছিল মানুষের ভিড়ে।
কিন্তু দ্বিতীয় দিন থেকেই যেন একটু একটু করে বদলাতে শুরু করল।
একটা-দুটো করে লাইক আসতে লাগল, কেউ কমেন্ট করে প্রশংসা করল, কেউ আবার তার কাজের সৌন্দর্য নিয়ে দু-চারটি ভালো কথা লিখে গেল। আর দেখতে দেখতে সেই ছোট্ট পেইজের টেলিগ্রাফিগুলো ছড়িয়ে পড়তে লাগল অচেনা অনেক মানুষের কাছে।
বিষয়টা গুঞ্জনের কাছেই যেন অবিশ্বাস্য লাগছিল।
এই তো সেদিন মাত্র শুরু করেছে, অথচ এত অল্প সময়ের মধ্যেই কত মানুষ তার কাজ দেখছে, পছন্দ করছে, উৎসাহ দিচ্ছে! প্রতিটি সুন্দর মন্তব্য পড়ে গুঞ্জনের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠছিল মৃদু হাসি। মনে হচ্ছিল, তার ছোট্ট একটা স্বপ্ন যেন ধীরে ধীরে ডানা মেলতে শুরু করেছে।
প্রশংসাগুলো তাকে শুধু আনন্দই দিচ্ছিল না, বরং আরও ভালো কিছু করার সাহসও জোগাচ্ছিল।
গুঞ্জন বুঝতে পারছিল কোনো পথই শুরুতেই ফুলে ভরা থাকে না। প্রথম পদক্ষেপটা সবসময়ই ছোট হয়, সাফল্যও আসে ধীরে ধীরে। আজ যে কাজটাকে সামান্য মনে হচ্ছে, হয়তো একদিন সেটাই তার পরিচয়ের সবচেয়ে সুন্দর অংশ হয়ে উঠবে।
কারণ কেউই জন্ম থেকেই বড় হয়ে আসে না।
প্রতিটি বড় স্বপ্নের শুরু হয় একেবারে ছোট্ট একটা পদক্ষেপ থেকে। ছোট্ট একটা সাহস, ছোট্ট একটা চেষ্টা, আর নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস এই তিনটিই একদিন মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
গুঞ্জনের পথটাও হয়তো সবে শুরু হয়েছে।
আজ তার হাতে কেবল কয়েকটি টেলিগ্রাফি, কয়েকজন অচেনা মানুষের ভালোবাসা আর বুকভরা স্বপ্ন। কিন্তু কে জানে, এই ছোট্ট শুরুটাই হয়তো একদিন তাকে নিয়ে যাবে অনেক দূর যেখানে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরে তাকালে সে নিজেই মুগ্ধ হয়ে বলবে,
সবকিছু তো শুরু হয়েছিল সেই ছোট্ট পেইজটা দিয়ে… আর সেই কয়েকটি কেলিগ্রাফি দিয়ে।
_
হঠাৎ করেই নীরবতা ভেঙে গুঞ্জনের ফোনটা তীব্র ঝংকারে বেজে উঠল।
গুঞ্জন চমকে উঠে ফোনটার দিকে হাত বাড়িয়ে সেটি তুলে নিল। স্ক্রিনে ভেসে থাকা নম্বরটার দিকে কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সে। নম্বরটি পরিচিত নয় অচেনা একটি নম্বর থেকে ফোন এসেছে।
পাশেই বসে থাকা সাজিয়ার চোখও অনিচ্ছাকৃতভাবেই চলে গেল ফোনের স্ক্রিনে। নম্বরটা দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে মুচকি হাসি।
চলবে,,,