#প্রেমের_ গুঞ্জন
#পর্ব_২১
#জান্নাত
প্রেমের প্রতিটি কথাই যেন মেঘার কলিজায় এসে তীক্ষ্ণ শেলের মতো বিঁধছিল। নিজের ভালোবাসার মানুষের মুখে অন্য কারও প্রতি এত গভীর ভালোবাসার স্বীকারোক্তি শুনতে হবে এটা যেন মেঘা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না।
বুকের ভেতরটা জ্বলছিল দাউদাউ করে। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তার হৃদয়ের ওপর এক মুঠো আগুন ছিটিয়ে দিয়েছে। চোখ দুটো বারবার ঝাপসা হয়ে আসছে, অশ্রুগুলো যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে। তবুও মেঘা শক্ত করে নিজেকে সামলে রাখল।
প্রেমের আকুলতায় অন্যদেরও যেখানে মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিল, সেখানে মেঘার বুকের ভেতর জন্ম নিচ্ছিল অন্যরকম এক রাগ গুঞ্জনের প্রতি তীব্র অভিমান আর ঈর্ষা।
গুঞ্জনের জন্য প্রেমের এতটা আকুলতা কেন?
কেন তার চোখে-মুখে শুধু গুঞ্জনকে হারানোর ভয়?
মেঘা কিছুই বলল না। ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে শুধু প্রেমের দিকে তাকিয়ে রইল। বাইরে থেকে নিস্তব্ধ, অথচ ভেতরে যেন এক ভয়ংকর ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
মনের গভীরে নিঃশব্দে উচ্চারণ করল
যাই বলো না কেন, প্রেম... তুমি শুধু আমার।
আমি তোমাকে অন্য কারও হতে দেব না। কখনোই না।
গুঞ্জনকে কোনোদিন তোমার হতে দেব না। তুমি শুধু আমার... শুধুই আমার।
কথাগুলো মুখে উচ্চারণ করার সাহস হলো না মেঘার। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টিতে যেন সেই নীরব দাবিটাই স্পষ্ট হয়ে উঠল প্রেমকে সে হারাতে রাজি নয়। কোনোভাবেই নয়।
__________
ইরিনকে পড়াতে যায়নি গুঞ্জন। কাছের বাসার টিউশনিটা পড়িয়ে হোস্টেলের উদ্দেশে হাঁটা ধরেছিল। সন্ধ্যার আলো তখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। রাস্তার দুপাশের দোকানগুলোতে একে একে বাতি জ্বলতে শুরু করেছে।
গুঞ্জন আপনমনে হাঁটছিল। হঠাৎ কয়েকজন ছেলে এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে পথ আটকে দিল।
গুঞ্জনের পা থেমে গেল।
চোখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতর বিরক্তি আর রাগ একসঙ্গে জেগে উঠল। এই মুখগুলো তার খুব পরিচিত। এর আগেও এই ছেলেগুলোই ওকে বাজে কথা বলছিলো,সেদিন গুঞ্জন তাদের বেশ কিছু কথা শুনিয়েছিল।
গুঞ্জন ভ্রু কুঁচকে বলল,
তোমরা আবার?
ছেলেগুলো কেউ মুখ তুলল না। সবাই কেমন যেন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
গুঞ্জনের বিরক্তি আরও বাড়ল।
কী ব্যাপার? আজ আবার পথ আটকে দাঁড়িয়েছ কেন?
হঠাৎ সামনের ছেলেটা একটু ইতস্তত করে মৃদু স্বরে বলল,
আসসালামু আলাইকুম, আপু।
গুঞ্জন কিছুটা অবাক হলো। তারপরও স্বাভাবিকভাবে সালামের জবাব দিল।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। এবার বলো, কী হয়েছে?
ছেলেটা একবার পাশে থাকা বন্ধুদের দিকে তাকাল। ওরাও চোখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আসলে আপু… ওইদিনের জন্য আমরা দুঃখিত।
গুঞ্জনের মুখের কঠোরতা কিছুটা নরম হলো। তবে সে চুপ করে রইল।
ছেলেটা এবার ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল,
ওইদিন আপনি আমাদের যা বলেছিলেন, প্রথমে সত্যি বলতে আমাদের একটু রাগ লেগেছিল। মনে হয়েছিল, আপনি বেশি বেশি বলছেন।কিন্তু পরে বাসায় গিয়ে আপনার কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল।
পাশ থেকে আরেকজন নিচু গলায় বলে উঠল,
আমার মাও একই কথা বলতো আপু। আমি এতদিন তার কথাগুলোও পাত্তা দিইনি। কিন্তু সেদিন আপনার কথার পর হঠাৎ মনে হলো… আমরা আসলে কী করছি?
প্রথম ছেলেটা মাথা নিচু করেই বলল,
আমরা ভাবতাম সারাদিন আড্ডা দেওয়া, মানুষের সঙ্গে ঝামেলা করা, রাস্তায় দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করা এসবই বুঝি জীবন। পড়াশোনা ভালো লাগত না। কাজ করতেও লজ্জা লাগত। মনে হতো, এখন একটু মজা করি, পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
কিন্তু পরে তো নিজে থেকেই কিছু ঠিক হয় না, তাই না আপু?
গুঞ্জন এবার ছেলেটার দিকে তাকাল।
ছেলেটা বলল,
ওইদিন আপনি একটা কথা বলেছিলেন… তোমাদের জন্য তোমাদের পরিবার সারাদিন কষ্ট করে, অথচ তোমরা নিজেদের জীবনটাই নষ্ট করে দিচ্ছ। কথাটা সেদিন খুব একটা ভালো লাগেনি। কিন্তু রাতে আম্মুকে দেখলাম আমার জন্য খাবার রেখে এর পাশেই ঘুমিয়ে পড়েছে ,আমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে।তখন আপনার কথাটা মাথায় ঘুরছিল।
তার কণ্ঠটা একটু ভারী হয়ে এলো।
বুঝলাম, আমি বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে বসে টাকা উড়াচ্ছি, আর আমার মা আমার জন্য চিন্তা করে রাত জাগছে। সত্যি বলছি আপু, সেদিন নিজের কাছেই খুব খারাপ লেগেছিল।
পাশে দাঁড়ানো আরেকজন এবার বলল,
আমার আব্বা দিনমজুরের কাজ করে। শরীর খারাপ থাকলেও কাজে যায়। আর আমি সেই টাকা চেয়ে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতাম। আগে কখনো মনে হয়নি ব্যাপারটা কতটা খারাপ। এখন মনে হয়, আমি যদি এভাবেই চলতাম, তাহলে একদিন আমার আব্বার সামনে দাঁড়ানোর মতো মুখও থাকত না।
কথাগুলো বলতে বলতে ছেলেটা চোখ মুছে নিল।
তাই আপু, আমরা সত্যিই দুঃখিত।
প্রথম ছেলেটা এবার গুঞ্জনের দিকে সরাসরি তাকাল।
শুধু দুঃখিত বললেই তো সব ঠিক হবে না। তাই আমরা ঠিক করেছি, আজ থেকে নিজেদের বদলানোর চেষ্টা করব। মন দিয়ে পড়াশোনা করব। যে যার মতো কোনো একটা কাজও শিখব। কেউ টিউশনি করবে, কেউ দোকানে কাজ করবে, কেউ কারিগরি কাজ শিখবে। আমাদের পরিবারকে অন্তত বুঝতে দিতে চাই যে আমরা একেবারে শেষ হয়ে যাইনি।
আরেকজন সঙ্গে সঙ্গে বলল,
আর একটা কথা আপু… আমরা আপনার কাছে কোনো উপকার চাইতে আসিনি। শুধু বলতে এসেছি, ওইদিন আপনি আমাদের যে কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলো আমরা ভুলিনি।
ছেলেটা একটু থেমে মৃদু হেসে বলল,
আমাদের জীবনে অনেকেই বকেছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বলেছে, তোদের দিয়ে কিছু হবে না।আপনি সেদিন উল্টো বলেছিলেন, তোরা চাইলে অবশ্যই পারবি। এই কথাটাই মাথায় গেঁথে গেছে।
গুঞ্জন কিছুক্ষণ চুপ করে ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল।
ওদের চোখে আগের সেই দম্ভ নেই। নেই অকারণ হাসাহাসি কিংবা বেপরোয়া ভাব। বরং প্রত্যেকের চোখেমুখে এক ধরনের লজ্জা আর নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টা স্পষ্ট।
গুঞ্জন ধীরে ধীরে বলল,
ভুল বুঝতে পারা ভালো কথা। কিন্তু শুধু আজ আমাকে কথা দিলেই হবে না। কয়েকদিন পর যেন আবার আগের জায়গায় ফিরে না যাও।
ছেলেগুলো একসঙ্গে মাথা নাড়ল।
যাব না, আপু।
গুঞ্জন একটু কঠিন স্বরে বলল,
জীবন বদলানো একদিনের ব্যাপার না। আজ ভালো লাগল, কাল দুজন বন্ধু এসে ডাকল আবার আগের মতো হয়ে গেলে চলবে না। খারাপ সময় আসবে, পড়াশোনা কঠিন লাগবে, কাজ করতে কষ্ট হবে। তখনও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে।
সামনের ছেলেটা দৃঢ় গলায় বলল,
চেষ্টা করব আপু। হয়তো ভুল করব, হয়তো সবকিছু একদিনে পারব না। কিন্তু এবার অন্তত চেষ্টা করব।
গুঞ্জনের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
এটাই চাই। আমি তোমাদের কাছ থেকে বড় কোনো প্রতিশ্রুতি চাই না। শুধু একটা কথা মনে রেখো নিজেদের জীবনটা নিজেরাই নষ্ট করো না। তোমাদের পরিবার তোমাদের নিয়ে যে স্বপ্ন দেখে, অন্তত সেই স্বপ্নটার মর্যাদা দিও।
ছেলেগুলো নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর একজন হঠাৎ বলল,
আপু, আমাদের জন্য দোয়া করবেন?
গুঞ্জন এবার মায়াভরা চোখে তাকিয়ে বলল,
অবশ্যই করব। তবে তোমরাও নিজেদের জন্য চেষ্টা করবে। শুধু আমার দোয়ায় কিছু হবে না।
ছেলেটা হেসে মাথা নাড়ল।
করব আপু। ইনশাআল্লাহ করব।
গুঞ্জন এবার পথ ছেড়ে দাঁড়াতে ইশারা করল।
তাহলে যাও।দেখি কে কতটা বদলাতে পারো।
ছেলেগুলো এবার একটু হেসে ফেলল।
জি, আপু।
গুঞ্জন সামনে এগিয়ে গেল।
কয়েক কদম যাওয়ার পর পেছন ফিরে তাকাল সে।
ছেলেগুলো তখনও দাঁড়িয়ে আছে। তবে এবার আর রাস্তার পাশে উদ্দেশ্যহীন আড্ডা দেওয়ার জন্য নয়।
একে অপরের সাথে কিছু নিয়ে আলোচনা করছে।
গুঞ্জনের মুখে অজান্তেই তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।
কাউকে শাসন করে বদলে দেওয়া যায় না।
কখনো কখনো শুধু তার ভেতরে একটা প্রশ্ন জাগিয়ে দিতে হয়
আমি আসলে আমার জীবন নিয়ে কী করছি?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করলেই হয়তো পরিবর্তনের প্রথম দরজাটা খুলে যায়।
_________
রাতের নীরবতা ধীরে ধীরে চারপাশটাকে গ্রাস করে নিচ্ছিল।
এশার নামাজ আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত শেষ করেছে গুঞ্জন। বুকের ভেতরটা কেমন যেন শান্ত লাগছিল। তেলাওয়াতের প্রশান্তি নিয়ে সে এসে বিছানার একপাশে বসতেই সাজিয়া নিঃশব্দে এসে তার পাশে বসল।
গুঞ্জন একবার সাজিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
কিছু বলবি?
সাজিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে আজ ভার্সিটিতে যা ঘটেছে, প্রেম মেঘার সামনে তাকে নিয়ে যে কথাগুলো বলেছে সবকিছু খুলে বলল।
একটা কথাও বাদ দিল না সে।সব শুনে গুঞ্জন স্তব্ধ হয়ে বসে রইল।
প্রেম তাকে এতটা ভালোবাসে?তাকে পাওয়ার জন্য এতটা আকুল হয়?
তার জন্য বুকের ভেতর এতটা কষ্ট জমিয়ে রেখেছে ছেলেটা?
গুঞ্জন যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। এতদিন প্রেমের ভালোবাসাকে সে হয়তো জেদ, অধিকারবোধ কিংবা আবেগ বলে এড়িয়ে গেছে। কিন্তু আজ সাজিয়ার মুখে সবটা শুনে সেই ধারণাগুলো কেমন যেন একে একে ভেঙে পড়ছিল।
গুঞ্জনকে নিশ্চুপ দেখে সাজিয়া তার হাতটা আলতো করে চেপে ধরল।
প্রেম ভাইয়া তোকে সত্যিই খুব ভালোবাসে রে। আজ আমি প্রেম ভাইয়ার একদম অন্য একটা রূপ দেখেছি। তুই তো চলে এলি। ছেলেটা তোকে হারানোর ভয়ে কীভাবে ভেঙে পড়েছিল, জানিস? তুই এমন করিস না গুঞ্জন। দেখিস, প্রেম ভাইয়া তোকে সবসময় আগলে রাখবে।
গুঞ্জনের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।কিন্তু মুখে সে কিছুই প্রকাশ করল না।
বরং কঠিন স্বরে বলে উঠল,
এসব কথা বাদ দে তো, সাজিয়া। যা, পড়তে বস গিয়ে।
সাজিয়া মুখ গোমড়া করে উঠে দাঁড়াল।
অভিমানী পায়ে নিজের পড়ার জায়গায় চলে গেল সে।
গুঞ্জনও বই খুলে পড়তে বসে গেল।কিন্তু বইয়ের পাতায় চোখ থাকলেও মনটা যেন সেখানে ছিল না।
বারবার সাজিয়ার কথাগুলো কানে বাজতে লাগল।প্রেম ভাইয়া তোকে সত্যিই খুব ভালোবাসে।
তোকে হারানোর ভয়ে কীভাবে ভেঙে পড়েছিল।
গুঞ্জন বইয়ের ওপর থেকে চোখ তুলে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
কী করবে সে?প্রেমকে কি সত্যিই এতটা কষ্ট দিচ্ছে সে?
কিন্তু ভালোবাসা মানেই কি সবকিছু মেনে নেওয়া?
তার নিজের ভয়, দ্বিধা, অভিমান এসবের কী হবে?
প্রশ্নগুলো একের পর এক মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল।
শেষ পর্যন্ত গুঞ্জন ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল।
তারপর বুকের ওপর হাত রেখে নিঃশব্দে বলল,
ইয়া আল্লাহ... আমায় পথ দেখাও। কোনটা আমার জন্য ভালো, সেটা বুঝিয়ে দাও।
______
অন্যদিকে
প্রেম সেই যে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করেছে, রাত গড়িয়ে প্রায় নয়টা বেজে গেছে। অথচ ঘরের দরজা এখনো খোলেনি।
প্রেমের মা বারবার ছেলের ঘরের দিকে তাকাচ্ছিলেন!
মায়ের মন তো আর সন্তানের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না।
শেষ পর্যন্ত আর বসে থাকতে না পেরে তিনি উঠে ছেলের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।
দরজায় কয়েকবার ধাক্কা দিয়ে ডাকলেন,
প্রেম? বাবা, দরজা খোল।
ভেতর থেকে কোনো সাড়া এলো না,মায়ের কণ্ঠে এবার উৎকণ্ঠা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
প্রেম! কী হয়েছে তোর? দরজা খোল বাবা।
কয়েক মুহূর্ত নীরবতার পর অবশেষে ভেতর থেকে দরজা খোলার শব্দ হলো।
ধীরে ধীরে দরজাটা খুলে গেল।আর ছেলেকে দেখেই প্রেমের মা যেন মুহূর্তের জন্য পাথর হয়ে গেলেন।
এ কি তাঁর সেই ছেলে?
প্রেমের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। চোখ দুটো লাল, যেন দীর্ঘ সময় ধরে কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করেছে। মুখের স্বাভাবিক দৃঢ়তা কোথাও নেই। চেহারাজুড়ে ক্লান্তি আর একরাশ বিধ্বস্ততা।
মা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠলেন।
কাঁপা কণ্ঠে বললেন,
বাবা... তোর কী হয়েছে?
প্রেম কোনো উত্তর দিল না।
শুধু মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল।
সেই চোখের দৃষ্টিতেই যেন লুকিয়ে ছিল অসংখ্য না-বলা কথা, অসহ্য কষ্ট আর একজন মানুষকে হারানোর ভয়।
মায়ের বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।তিনি ধীরে ধীরে ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।
প্রেম, আমাকে বল। কী হয়েছে তোর?
প্রেম এবার চোখ বন্ধ করল।
মায়ের হাতের স্পর্শ পেতেই এতক্ষণ বুকের ভেতর শক্ত করে আটকে রাখা কষ্টটা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল।
সে খুব নিচু স্বরে শুধু বলল,
মা... আমি ওকে হারাতে চাই না।
মা অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
আর প্রেম
সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল যেন ভালোবাসার কাছে হেরে যাওয়া এক অসহায় মানুষ।
চলবে,,,,,,,