তনুজা এবার সত্যিই রেগে গেল।
“বের হও তোমরা আমার রুম থেকে!”
রাহা এবার একটু নরম হয়ে তার হাত জড়িয়ে ধরল।
“আচ্ছা ঠিক আছে, আর হাসব না। প্রমিস তনুজা মুখ ফিরিয়ে রইল।
ঠিক তখনই আবারও টুং করে ফোনে মেসেজ আসার শব্দ হলো।
তিনজনের চোখ একসাথে ফোনের দিকে গেল।
তনুজার বুক ধক করে উঠল।
সে তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে তুলে নিল। কিন্তু তার আগেই হামজা সন্দেহভরা চোখে বলল;
“কার মেসেজ?”
“কারও না।”
“কারও না হলে এত লুকাচ্ছিস কেন?”তোর হাবভাব ভালো ঠেকছে না। রাহা চোখ ছোট ছোট করে তাকাল।
কিছু লুকাচ্ছি না!”
“তাহলে ফোনটা দে।”
“দিব না!”
রাহা এবার সত্যিই সন্দেহ করে ফেলল।
সে আচমকা তনুজার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ফোনটা নেওয়ার চেষ্টা করল।
“রাহা! খবরদার!”
“দেখতে দে না! বয়ফ্রেন্ড জুটিয়েছিস নাকি আবার ?”
“চুপ! আজেবাজে কথা বলবি না!”
দু’জনের ধস্তাধস্তিতে হামজা হেসে কুটিকুটি অবস্থা।
“ওহহহ… ব্যাপার তাহলে সিরিয়াস.?
তনুজার গাল লাল হয়ে উঠল।
“কিছু না বলছি তো!”
তনুজা কি করবে বুঝতে পারছে না এই বাদর দুইটাকে বললে তার মাথা খেয়ে ফেলবে ;
শেষমেশ অনেক কষ্টে ফোনটা বাঁচিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল সে। কিন্তু ফোনের স্কিন টা বুকের সাথে না লাগিয়ে উলটা করে ঘুরিয়ে ধরেছে সে। রাহার সাথে ধস্তাধস্তি করার সময় খেয়ালি করেনি।
ঠিক তখনই হামজার চোখ পড়ে ফোনের স্ক্রিনে ভেসে থাকা শব্দটার উপর।
"আননোন নাম্বার "
তার হাসিটা একটু থেমে গেল।
'আননোন নাম্বার?” সে ভ্রু কুঁচকে বলল।
আননোন নাম্বার দিয়ে কার সাথে ইটিসপিটিস করছিস দেখা না হলে ভাইয়াকে বলে দিবো বলে দিলাম।
তনুজাও থমকে গেল। একদম চুপসে গেলো তার মুখখানি। অসহায়ের মতো করে তাকালো হামজার দিকে।
রাহা এবার আর মজা না করে সিরিয়াস গলায় বলল;
“কে রে? বলতো?
তনুজা ঠোঁট কামড়ে ফোনের দিকে তাকাল।
সে নিজেও জানে না মানুষটা কে। মাথা দুই পাশে নেড়ে বুঝালো সে চিনে না।
হঠাৎ করেই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করতে লাগল তার। ভয় নাকি অন্য কিছু?
সে ভাবলো দুই বাদর যেমন মজা করায় ওস্তাদ তেমন তাকে এখন সাহায্য ও করতে পারবে এই বিষয়ে। সে আর দ্বিধা না করে বললো সকাল থেকে শুরু করে সব।।
রাহা হামজা দুজনেই শুনলো সব কিছু। তারা বেশ অবাকি হলো। ঠিক তখনই ফোনটা আবারও কেঁপে উঠল।
তনুজা ধীরে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
কি করছেন আয়রা? আর রিপ্লে দিলেন না যে? ভয় পেয়েছেন বুঝি? আরে কিছু দেখাবো না চিল। এগুলো আমার বউয়ের সম্পদ। আপনাকে দেখিয়ে দিলে আমার বউ রাগ করবে না বুঝি?
মেসেজটা পড়তেই তনুজার বুকটা ধক করে উঠল।
“আয়রা” নামটা খুব কম মানুষই জানে।
আর সেই নাম ধরে তাকে ডাকেও না। তবে এই লোক এই নাম কিভাবে পেলো।?
সে ভাবতে ব্যস্ত হল ;
নাম যানা স্বাভাবিক ব্যাপার, কিন্তু সেটা যদি হতো এমন কোনো নাম যেটা সব জায়গায় ব্যবহার করে তাহলে বিষয়টা স্বাভাবিক লাগত। অথচ তার চৌদ্দ গুষ্টির মানুষও হয়তো তার পুরো নাম বলতে পারবে না। সবাই তাকে “তনুজা" বলেই ডাকে, আর “আয়রা” নাম শুধুই তার স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে ব্যবহার করা। তবে কেও যানে না তেমন। তাই খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এই নামটা জানে। সে হিসাব করতে লেগলো। মামনি, ছোট বাবা, আর তুষার ভাই, হামজা ভাই,রাহা, তন্ময় ভাই, আম্মু -আব্বু এর বেশি মানুষ যানার কথাই না।
তনুজার ভীষণ রাগ হলো। রাগ নিয়েই টাইপ করতে লাগল;
“কি সমস্যা আপনার বলুন তো? সেই থেকে শুরু করেছেন, বলেছি না পরিচয় দিতে? আর বেশ ভালোই বুঝতে পারছি আপনি আমাকে চিনেই ফাজলামো করছেন। এবার না বললে কিন্তু বেশ খারাপ হয়ে যাবে বলছি।”
অপরিচিত মানুষটা বুঝল তনুজা বেশ রেগে গেছে।
“ও relax relax janeman… এত রাগ করছ কেন? তোমাকে ভালো করে চিনবো না তাকি হয় নাকি। চিনি বলেই কথা বলছি। আর থাক না কিছু অপরিচিত মানুষ… পরিচয় হওয়া লাগবেই এমন তো কোনো কথা নেই, তাই না?”
তনু এবার বেশ রেগে গেল। সাথে সাথেই আননোন নাম্বারটায় কল দিল, কিন্তু ওপাশের মানুষটা ধরল না।
আবারও টাইপ করা শুরু করল তনুজা
“আপনার সাহস তো কম না। কোন অধিকারে আমাকে তুমি করে বলছেন? আবার janeman বলছেন? আর অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলা মানে কি চ্যাটে খানিক কথা? আপনি যদি কোনো চোর-ডাকাত, স্মাগলার কিংবা কিডন্যাপার হন? আমাকে ফাঁসাতে চান? আমি কীভাবে বিশ্বাস করব আপনি ভালো মানুষ?”
তনুজা বেশ বড়সড় একটা রচনা লিখে ফেলল অপরিচিত মানুষটার জন্য।
মেসেজটা পেয়ে লোকটা বেশ মজা পেল। মনে মনে বলল, "ইডিয়েট কোথাকার!”
তারপর লিখল
“আচ্ছা তাহলে আমার একটা শর্ত আছে। যদি মানেন তাহলে সব বলব, না হলে তো না… এভাবেই ডিস্টার্ব করব। কি, মানবেন শর্তটা?”
তনুজা ভ্রু কুঁচকে রাহা আর হামজার দিকে তাকাল। দু’জনই বেশ মনোযোগ দিয়ে মেসেজগুলো পড়ছিল। তনুজার চাহনি দেখে তারাও তাকাল ওর দিকে।
চলবে;
পর্ব সংখ্যা —৪
#লেখিকা—তাসনিয়া_জাহান
#অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট