ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

৫ম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

তনুজা উত্তর পাওয়ার আশায় তাকিয়ে রইল।

দুই বাঁদরই ভরসা দিল শর্ত মানতে।

হামজা বলল;

“আরে কি আর শর্ত দিবে এমন! রাজি হয়ে যা। অন্তত ওর পরিচয় তো পাবি। বল হ্যাঁ। আর যদি বেশি তিরিং বিরিং শর্ত রাখে, তুইও একটা রাখবি। নে নে রিপ্লে দে।”

তনুজা একটু আশ্বাস পেয়ে লিখতে লাগল

“ঠিক আছে, মানব। কি শর্ত বলুন। কিন্তু কোনো আজেবাজে শর্ত হলে আমি মানতে পারব না।”

অপরিচিত মানুষটা বেশ মজা পেল। একমনে দুষ্টুমিভরা কিছু ভাবল, পরমুহূর্তেই ভাবল না, রিস্ক হয়ে যাবে। তনুজা মানবেও না।

তারপর লিখল

“আস্তে আস্তে পরিচয় হই। এত তাড়াতাড়ি কি পরিচয় হওয়া যায় নাকি বলেন? শর্ত একটাই আপনি আমার সাথে ডে বায় ডে কথা বলবেন এবং পরিচিত হবেন। আর যদি এই শর্ত না মানেন তাহলে তো কথাই নেই, আমি আরও অসভ্যতামি শুরু করব, দেখেন কি করবেন।

তনুজা আবারও রাহা আর হামজার দিকে তাকাল। তাদের দু’জনেরই শর্তটা পছন্দ হয়েছে, কিন্তু তনুজা রাজি না। সে তো এই লোকটার হাত থেকে মুক্তি পেতে চাচ্ছে, আর এখন প্রতিদিন কথা বলে পরিচয় হতে হবে!

হামজা বুঝাল তনুজাকে ;

“পরিচয় হওয়ার পর তুই কথা বন্ধ করে দিবি।” তোর কাজের কাজ ও হয়ে যাবে আর কথাও বলতে হবে না। তবে এখন যদি কথা বন্ধ করে দিস। তাহলে কিচ্ছুটিই হবে না এই লোক আরো তোকে জব্দ করে ধরবে।

রাহাও যোগ দিল

“আমরা তো আছিই তোর সাথে। তুই না পারলে আমরা হেল্প করব ওকে সাইজ করতে।”

তনুজা বেশ কিছুক্ষণ ভেবে অবশেষে রাজি হলো। তারপর মেসেজ দিল

“ঠিক আছে মানলাম। কিন্তু আপনি যে অসভ্যতামি করেন, তা করলে আমি আপনাকে পুলিস এ দিব এই বলে যে আপনি আমাকে কিডন্যাপ করতে চান।”

ওপাশে থাকা মানুষটা বেশ মজা পাচ্ছে।

সে মনে মনে বলল;

“কিডন্যাপ তো তুই করেছিস অত্যাচারী নারী কোথাকার! আমার মনকে কিডন্যাপ করে হাজতে বন্দি করে এখন এসেছে পুলিশ -এ দিবে আমাকে, ওকে কিডন্যাপ করার অপরাধে! আমার মন যে চুরি করেছিস, এই বিচার আমি কাকে দিব?”

তারপর আবার লিখল;

“Okay madam তাহলে বলেন তো, কেমন আছেন?”

হামজা থাবা মেরে ফোনটা নিয়ে নিল এবার। তারপর তনুজাকে বলল

“এবার আমার উপর ছাড়। শালাকে আমি দেখছি।”

সে রিপ্লে দিতে থাকল

“আগে আপনি বলেন, আপনি কেমন আছেন?”

অপরিচিত মানুষটার ভ্রুজোড়া কুঁচকে গেল। তবুও রিপ্লে দিল;

“এই তো মোটামুটি আছি। এবার আপনি বলেন তো মেডাম, আপনি কেমন আছেন?”

হামজা দুষ্টুমিভরা হাসি দিয়ে লিখতে থাকল;

“হ্যাঁ, আমি ও আছি চিকনা চিকনি "

অপরিচিত মানুষটা বেশ বুঝল এটা তনুজা নয়। সেও মজা নিল। তবে মনে মনে কিছু ভেবে একটু রাগও করল।

তারপর লিখল

“ওহ হ্যাঁ, সেটা তো আপনাকে দেখলেই বোঝা যায়। আপনি ঠিক কতটা চিকনা চিকনি! শরীর তো নয়, যেন কঙ্কাল হাঁটে রাস্তায়। সাবধানে চলাফেরা করবেন মেডাম, না হয় কখন বাতাস এসে আপনাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় ঠিক নেই। তারপর আমার কি হবে?”

মেসেজটা পড়ে তনুজা রেগে গেল।

সে রাহাকে জিজ্ঞেস করল

“কিরে, আমি আসলেই এত চিকন? বাতাস এসে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে?”

তারপর নিজেই বলতে লাগল

“কই, কখনো তো আমি উড়তে পারলাম না বাতাস আসার পর! ওইদিনই তো বেশ বাতাস ছিল বাইরে, আমি হেঁটে হেঁটেই আসলাম। কই, উড়লাম না তো! কি বলে এই লোক মাথা খারাপ করে দিচ্ছে আমার।”

হামজা আরও কিছু লিখতে নিচ্ছিল, তখনই দরজায় টোকা পড়ল।

তিনজনই ভয় পেয়ে গেল।

দরজা খুলে দাঁড়ালো তুষার।

ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে, মাত্রই ফুটবল খেলে ফিরেছে। হাতে একটা ফুটবল নিয়ে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর তিন বাঁদরের উদ্দেশ্যে বলল

“তোদের কোনো কাজ নেই? পড়ালেখা কি চুলোয় তুলে বসে আছিস? যা, ঘরে যা। এইখানে কি?”

বেশ জোরেই ধমক দিল তুষার।

কথাগুলো মূলত রাহা আর হামজাকেই বলল সে।

দু’জনেই যে যার ঘরে যাওয়ার জন্য উঠে পড়ল। যাওয়ার আগে হামজা তনুজার ফোনটা তার কোলের উপর ফেলে দিয়ে দৌড় লাগাল।

ঘর খালি হওয়ার পর তুষার তনুজার দিকে তাকাল।

তনুজাও এতক্ষণ তার দিকেই তাকিয়ে ছিল।

চোখাচোখি হতেই তনুজা নিজের বত্রিশ পাটি দাত বের করে একটা হাসি দিলো।

তুষার গম্ভীর গলায় বলল

“তোকে কি দাওয়াত দিতে হবে পড়তে বসার জন্য?”

তনুজা মাথা নেড়ে “না” বোঝাল।

আর মনে মনে মিনমিন করে বলল;

“এই গোমড়া মুখো লোককে কে বলবে এখন এসে বাগড়া দিতে"

“আমি বাগড়া দিয়েছি?”

তুষারের কথায় তনুজা চমকে উঠল। সে তার মিনমিন করা কথাটা শুনে ফেলেছে।

তনুজা সাথে সাথে মাথা তুলে তার দিকে তাকিয়ে দুই পাশে মাথা নেড়ে “না” বোঝাল।

তুষার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চলে যেতে যেতে বলল

“আমার রুম এ কফি নিয়ে আয় জলদি।”

তনুজা কপাল কুঁচকে বল্লো ;

মাএ-ই না বল্লে পড়তে বসতে? এখন কফি বানাতে বলছো। পড়তে বসতে দেড়ি হবে না?

তুষার বিরক্তকর চেহারায় তাকিয়ে বল্লো ;

যা বলেছি তা কর? আমি আসার আগে পরতে বসিসনি কেন?

বলেি সে চলে গেলো নিজের রুমে।

তনুজা পা বাড়াল রান্নাঘরের দিকে।

এটা তার নিত্যদিনের কাজ।

অভ্যাস হয়ে গেছে।

চলবে ;

পর্ব সংখ্যা —৫

#লেখিকা—তাসনিয়া_জাহান

#অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন