ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

১০ম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

সে সত্যিই তো বারান্দায় ছিল!

আর দ্বিতীয় মেসেজটা;

"Good Morning Little Fairy ঘুম ভেঙেছে?"

তনুজা বিস্ময়ে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। এত ডিটেইল এই লোক জানল কীভাবে?

সে তো সত্যিই বারান্দায় ছিল। আর তখন ঘুমিতেও যায়নি। কিন্তু সে তো শুধু কথা থেকে বাচার জন্য মিথ্যে বলেছিল!তাহলে?

তাহলে কি আমার সন্দেহই কি ঠিক লোকটা কি আসলেই আমাকে ফলো করে?নাকি দূর থেকে নজর রাখে?

কিংবা

তনুজার ভেতরটা কেমন অস্বস্তিতে ভরে উঠল।

অনেক ভেবেও কোনো উত্তর পেল না।

শেষ পর্যন্ত শুধু লিখল

"Good Morning."

পাশেই বসেছিল রাহা। সে নিজের ফোন স্ক্রল করছিল। তনুজাকে মেসেজ করতে দেখে জিজ্ঞেস করল

"কিরে? লোকটার পরিচয় পেলি কিছু?

তনুজা মাথা নেড়ে না বোঝাল।

রাহা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল

"দেখ কথা বলতে থাক। সালা খুব চালাক। আমি নিশ্চিত তোকে চিনেই সব খবর নিয়ে তোর সঙ্গে ফাজলামো করছে। দেখিস কোনো পরিচিত মানুষই হবে।

তনুজা চুপ করে রইল।কারণ সত্যি বলতে সেও তো একই কথাই ভাবছে।

কিন্তু সমস্যা হলো

তার পরিচিত মানুষের মধ্যে এমন কেউ নেই যে এত ধৈর্য নিয়ে এত অদ্ভুতভাবে তাকে না চিনিয়েও দিনের পর দিন কথা বলে যেতে পারে।

সব ভাবনা ঝেড়ে ফেলে তনুজা আর রাহা বাস থেকে নেমে ইউনিভার্সিটির দিকে হাঁটা ধরল।

সকালের নরম রোদে পুরো ক্যাম্পাসটা যেন এক অন্যরকম সৌন্দর্যে সেজে উঠেছে। দূরের সবুজ লনে জমে থাকা শিশিরের বিন্দুগুলো সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করছে। হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো দুলে দুলে মৃদু শব্দ তুলছে। সারি সারি ম্যাপল আর ওক গাছের ফাঁক দিয়ে রোদের সোনালি রেখাগুলো পথের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত এক সকাল।

কিন্তু তনুজার মাথার ভেতর তখনও ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন

লোকটা আসলে কে হতে পারে?

ক্লাসে স্যার বেশ মনোযোগ দিয়ে লেকচার দিচ্ছিলেন।

রাহা, তনুজা, রোজ আর অদিতি চারজনই মন দিয়ে শুনছিল। হঠাৎ তনুজার ফোন কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভাইব্রেট করল। সে খেয়ালই করল না।

ক্লাস শেষ হওয়ার পর ব্যাগ গুছাতে গিয়েই ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল নতুন একটি মেসেজ।তনুজা ইনবক্সে ঢুকল।

"ঘুমপরীর তাহলে ঘুম ভেঙেছে?

কি করেন? ক্লাস শেষ নাকি?"

মেসেজটা পড়েই বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে গেল তার।

লোকটার এই অতিরিক্ত লুটুপুটু ধরনের কথা একদমই ভালো লাগে না তার।

কাল থেকে শুরু করেছে অদ্ভুত নাম দিয়ে ঢাকা কখনো লিটিল ফেরি,কখনো জানেমান,কখনো ঘুমপরী,কখনো আবার ম্যাডাম!

উফ!লোকটা আসলেই একটা আজব নমুনা।

তনুজা রিপ্লাই দিতে টাইপ করা শুরু করেছিল।

ঠিক তখনই আরেকটা মেসেজ এসে হাজির হলো।

আর মেসেজটা পড়তেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। সে যেন হঠাৎ জমে পাথর হয়ে গেল।

এদিকে রাহা,রোজ আর অদিতি কথা বলতে বলতে অনেকটা সামনে চলে গিয়েছিল। তারা খেয়ালই করেনি তনুজা পেছনে দাঁড়িয়ে পড়েছে।

কিছুদূর গিয়ে রাহা হঠাৎ পেছনে তাকাল।

তনুজাকে একই জায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনজনই দ্রুত ফিরে এল।

"কিরে কী হয়েছে?

"এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

রাহার কণ্ঠে যেন তনুজা কোনো ঘোর থেকে বেরিয়ে এলো। সে চারপাশে তাকাতে লাগল। ইউনিভার্সিটির প্রতিটা কোণায় মানুষ।

কেউ হাঁটছে। কেউ গল্প করছে। কেউ ক্লাসে ঢুকছে।

কেউ আবার লনের ঘাসে বসে বই পড়ছে। এত মানুষের ভিড়ে নির্দিষ্ট একজনকে খুঁজে পাওয়া কি সম্ভব?

রাহা আবার জিজ্ঞেস করল

এই তনু, কী হয়েছে?কী খুঁজছিস?

তনুজা কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনটা তাদের সামনে ধরল।

রাহা মেসেজটা বিড়বিড় করে পড়তে লাগলো

"সাদা রঙে তো আপনাকে বেশ মানায়। মনে হচ্ছে কোনো তুষারপাত হেঁটে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে। মনে হচ্ছে আকাশের ভেসে থাকা সাদা মেঘগুলো মানুষ হয়ে আপনার রূপ নিয়েছে। ইশ কি যে লাগছে আপনাকে খোলা চুলে মাশাআল্লাহ লাগছে।আপনার এই খোলা চুলের প্রতিটা চুল যেনো আমাকে বেঁধে ফেলছে অনুরোধ রইল

আপনি আমাকে এভাবে মেরে ফেলবেন না আপনার সৌন্দর্যে"

মেসেজটা পড়ে রাহা,রোজ আর অদিতি একসঙ্গে তনুজার দিকে তাকাল।

তারপর আবার চারপাশে তাকাল।

রাহা ফিসফিস করে বলল

"কিরে?

"লোকটা তোকে দেখল কীভাবে?

তনুজা চুপ করে রইল। তার নিজের কাছেও কোনো উত্তর নেই।

অনেকক্ষণ পর শুধু বলল

"জানি না"

এত মানুষের ভিড়ে সেই মানুষটা কে হতে পারে?

কথা শেষ করেই সে দ্রুত টাইপ করল

"আপনি কি আমাদের ইউনিভার্সিটির কেউ?

ওপাশ থেকে উত্তর আসতে খুব বেশি সময় লাগল না। তবে উত্তর নয় এলো আরেকটা প্রশ্ন।

"আপনি আমাকে এভাবে খুঁজছেন কেন তনু ম্যাডাম?

তোর সইছে না নাকি?"

তনুজা হতভম্ব হয়ে গেল। সে দ্রুত লিখল;

"তোর সইবে না কেন? আপনি কি আমার প্রেমিক লাগেন নাকি আজব। এক তো পরিচয়বিহীন কথা বলছেন আমাকে ব্ল্যাকমেল করে। আবার বলছেন তোর সইছে না। যা জিজ্ঞেস করছি সেটা বলুন।

"আপনি কি আমাদের ইউনিভার্সিটির কেউ?"

কিছু সেকেন্ড পর রিপ্লাই এলো

"না,ইউনিভার্সিটির কেউ না। তবে আপনার মনের কেউ হতে চাই।বানাবেন নাকি?"

তনুজার মেজাজ মুহূর্তেই বিগড়ে গেল।

"আপনি আমাকে আর মেসেজ দিবেন না পাগল লোক কোথাকারের"

এই লোক একটা আস্ত পাগল! সে বিরক্ত হয়ে ফোনটা ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলল।

চলবে;

পর্ব সংখ্যা —১০

#লেখিকা-তাসনিয়া_জাহান

#অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন