ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

১১তম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

তুষার, হামজা আর অরোশ সাহেব একসাথে অফিসে ঢুকল।

তিনজনকে একসাথে অফিসে খুব কমই দেখা যায়। অরোশ সাহেব আর তুষারই মূলত অফিস সামলায়। হামজাকে দেখা যায় শুধু ইউনিভার্সিটি অফ ডে থাকলে। আর কয়েক মাস পরই তার লাস্ট সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবে। তারপর থেকে সেও নিয়মিত অফিস জয়েন করবে।

আজ তুষারদের একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল।

সেখানেই সবার সামনে নিজের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করছিল তুষার। অফিসের সবাই তাকে বেশ পছন্দ করে। কারণ সে যেকোনো বিষয় খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে পারে। তাই অরোশ সাহেবও প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন তুষারকেই দিয়ে করান।

প্রেজেন্টেশনের শেষ স্লাইডে এসে তুষার বলল,

So that's our presentation. I hope all of you understood the presentation. Thank you.

তার কথা শেষ হতেই পুরো কনফারেন্স রুম হাততালিতে ভরে উঠল।

সামনের সারি থেকে একজন ইংরেজি তে বলে উঠলেন,

"মি. আরোশ, আপনার ছেলে সত্যিই অসাধারণ। আপনাদের সাথে কাজ শুরু করার পর থেকে আমরা অনেক ভালো ফলাফল পেয়েছি। আমি বলতে চাই, তুষার অত্যন্ত বুদ্ধিমান একজন মানুষ। ওর জন্য অনেক কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতি খুব ঠান্ডা মাথায় সামলে নিতে পারে সে।"

অরোশ সাহেব গর্বভরা চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে তিনিও ইংরেজি তে বললেন,

"ধন্যবাদ আমি আমার দুই ছেলেলে নিয়েই গর্বিত"

তুষার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

আব্বু, আমার একটা জরুরি কাজ আছে। আই হ্যাভ টু লিভ নাও"

"কোথাও যাবে এখন?

"একটু কাজ আছে।

"আচ্ছা ঠিক আছে।তবে তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। রাতে ক্লায়েন্টদের সাথে ডিনার আছে।

"ঠিক আছে

তুষার বের হওয়ার জন্য এগোতেই হামজা তাড়াতাড়ি বলে উঠল

ভাই,আমাকেও নিয়ে যাও না!এখানে একা একা বোর হয়ে যাব। আমিও আসি।

তুষার মাথা নেড়ে বলল

না হামজা তোর এখানে থাকা জরুরি অফিসের কাজ বোঝার চেষ্টা কর। আমি ফিরে আসব।

কথা শেষ করেই সে চলে গেল।

হামজার মুখটা সঙ্গে সঙ্গে মলিন হয়ে গেল।

সত্যি বলতে এসব অফিস মিটিং বিজনেস কোনোটাই তার খুব একটা ভালো লাগে না। তার স্বপ্ন অন্যরকম। তার ভীষণ ট্রাভেল করতে ইচ্ছে করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতে ছবি তুলতে নিজের মতো করে জীবনটা উপভোগ করতে।

কিন্তু তার বাবা আর বড় ভাই যখন ব্যবসার দায়িত্ব সামলাচ্ছে, তখন তারও তো ছেলে হিসেবে কিছু দায়িত্ব আছে।সে কখনো বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়ার চেষ্টা করেনি।

তুষার অনেকবার বলেছে

তোর যা ইচ্ছা করতে পারিস।ট্রাভেল করতে চাইলে কর। অফিসে আসতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।

কিন্তু হামজা নিজেই রাজি হয়নি।

সে বলেছে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হওয়ার পর নিয়মিত অফিসে আসবে। তাই এখন আর কেউ তাকে কিছু বলে না।

তবুও আজ অফিসে একা একা থাকতে তার একদমই ভালো লাগছে না। হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। রাহা আর তনুজা থাকলে কেমন হতো? মুহূর্তেই চোখ চকচক করে উঠল তার।

"আচ্ছা আব্বুকে বলে ওদের আনা যায় না?

পরের মুহূর্তেই নিজের মাথায় নিজেই চাপড় মেরে বলল

ইয়েসসসসস;

তারপর আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে অরোশ সাহেবের কেবিনের দিকে দৌড় দিল।

" আব্বু আব্বু!

অরোশ সাহেব তখন মিটিং শেষে নিজের কেবিনে কয়েকজন কলিগের সাথে কথা বলছিলেন। হামজার চিৎকার শুনে সবাই একসাথে তার দিকে তাকাল। অরোশ সাহেব ভ্রু কুঁচকে বললেন

হোয়াট হ্যাপেন হামজা? কী হয়েছে?এভাবে ডাকছ কেন?

হামজা মুখ কাঁচুমাচু করে বলল

"আব্বু আমার অনেক বোরিং লাগছে।

আরোশ সাহেব কয়েক সেকেন্ড চুপ করে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর বললেন,

" তাই নাকি? তাহলে তো পুরো কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

আব্বু মজা করো না। সত্যি বলছি, খুব বোর লাগছে।

তাহলে কাজ করো।

কাজ করতে ভালো লাগে না।

তাহলে বাড়ি যাও।

নাআআ! আমি অফিসেই থাকব। কয়েক মাস পর তো এমনিতেও আসতে হবে। কাজও দেখছি, কিন্তু একা একা ভালো লাগছে না। বাড়ি গিয়েও ভালো লাগবে না।

তাহলে কী চাও?

হামজা একটু কাছে এসে ষড়যন্ত্রমূলক গলায় বলল,

রাহা আর তনুকে অফিসে নিয়ে আসি?

আরোশ সাহেব কফিতে চুমুক দিতে গিয়েও থেমে গেলেন।

অফিসে?

জ্বি।

কেন?

ইন্টার্নশিপ করবে।

ওরা বলেছে?

না।

তাহলে?

আমি বলব।

অরোশ সাহেব এবার কলিগদের দিকে তাকালেন।

তারপর ভদ্রভাবে বললেন,

"আচ্ছা, আমরা পরে কথা বলছি। আপনারা যেতে পারেন।

কলিগরা বেরিয়ে যেতেই হামজা দ্রুত একটা চেয়ার টেনে বসল।

"আব্বু প্লিজ! ওদের ডাকতে দাও না। ওরা আসলে অনেক মজা হবে। আমারও ভালো লাগবে।

অরোশ সাহেব হালকা হেসে বললেন,

না হামজা। ওরা এখন ইউনিভার্সিটিতে আছে। আর ওরা আসলে তোমার কাজে মন বসবে না।

"বসবে আব্বু!

"না, বসবে না। তুমি বরং বাসায় চলে যাও।

"আব্বু, ভাবো তো। অফিসে একটু প্রাণ আসবে। সারাদিন শুধু ফাইল, মিটিং, ক্লায়েন্ট, প্রজেক্ট মানুষ বাঁচে কিভাবে?

আমরা তো বেঁচেই আছি।

আপনারা মানুষ না, রোবট।

হামজা!

আচ্ছা আচ্ছা, সরি।

তুমি বাসায় চলে যাও। কাজ তেমন নেই।

"নাআআ! আমি সব কাজ মন দিয়ে করব। শুধু একদিনের জন্য বলছি। তুষার ভাইও তো নেই। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ওদের ক্লাস শেষ। আমি কল করছি, দাঁড়াও

চলবে;

পর্ব সংখ্যা —১১

#অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট #লেখিকা:তাসনিয়া_জাহান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন