ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

১২তম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

ফোন বের করতেই অরোশ সাহেব তাকে থামালেন।

"না হামজা। তুষার রাগ করবে।

হামজা থেমে গেল।

অরোশ সাহেব আবার বললেন,

"তুমি আগে তুষারের সাথে কথা বলে নাও। আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তুষার রাগ করতে পারে। তাই তুমি ওর সাথে কথ বলো বরং;

হামজার মুখটা সঙ্গে সঙ্গে চুপসে গেল।

সে খুব ভালো করেই জানে। তুষারকে রাজি করানো সহজ না। বিশেষ করে তনুজা আর অফিস

এই দুইটা বিষয় একসাথে হলে তো আরও না।

তবুও সে হাল ছাড়ল না। কিছুক্ষণ ভেবে বলল

"আচ্ছা,তাহলে আমি রাতে তুষার ভাইয়ের সাথে কথা বলব। যদি রাজি করাতে পারি, তাহলে কাল ওদের নিয়ে আসবোই, তখন কিন্তু আর কোনো বাহানা শুনব না। ঠিক আছে?

অরোশ সাহেব মুচকি হেসে বললেন,

"ওকে ইউ রাইট"দেখো চেষ্টা করে"

হামজা সঙ্গে সঙ্গে খুশি হয়ে গেল। কারণ সে জানে তুষারকে রাজি করানো কঠিন। কিন্তু অসম্ভব না।

রাত নামলেই যেন লন্ডন শহরটা নতুন এক রূপ ধারণ করে। রাস্তার দু'পাশে সারি সারি ল্যাম্পপোস্ট সোনালি আলো ছড়িয়ে পুরো পরিবেশটাকে স্বপ্নের মতো করে তুলেছে। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে। মাঝে মাঝে সেই বাতাসে গাছের পাতাগুলো মৃদু শব্দ তুলে দুলে উঠছে, আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে কালচে নীল অন্ধকার, তার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে কয়েকটি ক্ষীণ তারা।

রুবি বেগম আর হামজা রান্না ঘরের সামনে দাড়িয়ে কথা বলছেন কিছু একটা নিয়ে তবে মনে হচ্ছে বেশ দরকারী কথা।

তুষার আর আরোশ সাহেব মাএই বাড়িতে ফিরলেন।

তুষারের মুখে আগের মতোই গম্ভীর ভাব। বাপ ছেলে আসা মাএই রুবি বেগম হাতে করে ঠান্ডা শরবত গ্লাস ভর্তি কেটে নিয়ে আসছেন। তুষারের মুখটা বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে।

আরোশ সাহেব মা ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন

কী নিয়ে এত আলোচনা?

হামজা চোখ চকচক করে উঠে বলল, সে টুপটাপ করে হেটে তুষারের কাছে গেলো।

তুষার সোফায় বসে মাথাটা হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলো। হামজা পিছন থেকে তুষারের দুই বাহু ধরে টিপতে লাগলো। তুষার চোখ খুলল না বন্ধ রেখেই বলল।

"কি বলবি বলে ফেল এই সব আদিখেতা দেখাতে হবে না"

"ভাই আমি ভাবছিলাম রাহা আর তনুকে অফিসে

"না।

"এক সেকেন্ডও সময় নিল না তুষার।

"হামজা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

"আমি তো এখনো শেষই করিনি।

"তবুও না।

"কেন?

"অফিস খেলাধুলার জায়গা না।

"আরে ইন্টার্নশিপ করবে।

"ইউনিভার্সিটিতে পড়ুক।

"ভাই

"না মানে না।

হামজা অসহায়ের মতো আরোশ সাহেবের দিকে তাকাল।

তবে আরোশ সাহেব কিচ্ছু না যানার মতো করে ঘরে যেতে যেতে বল্লেন;

"সম্পুর্ন তোমার চেষ্টার উপরে। আমি আগেই বলেছি।

আরোশ সাহেব ঠোঁট চেপে হাসি লুকালেন।

কারণ তিনি খুব ভালো করেই জানেন

হামজা যতটা রাহা তনুজাকে আনার জন্য আগ্রহী,

তুষার তার চেয়েও বেশি আগ্রহী তনুজা রাহা কে অফিস থেকে দূরে রাখতে।

ভাই একদিন আসলে কী হবে?

তুষার উঠে দাড়াতে দাড়াতে বল্লো;

একদিন আসবে,তারপর দুইদিন আসবে, তারপর পুরো অফিস মাথায় তুলে রাখবে।

তুমি কি তনুর কথা বলছ?

আমি কারও নাম বলিনি।

কিন্তু আমি বলেছি।

তাহলে তুই বুঝে নিয়েছ।

হামজা হো হো করে হেসে উঠল।

নিয়ে যাই কালকে?

না হামজা আমি আর এই বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। নেক্সটাইম আর এই ধরনের কোনো বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসবি না। মাইন্ড ইট;

তুষার চলে যাচ্ছিল নিজের রুমে তবে পিছন থেকে রুবি বেগম বলে উঠলেন;

"নিয়ে যেতে চাইছে যখন যাক এমন করছিস কেনো.?

তুষার সিঁড়ির মাঝখানে যেয়ে দাঁড়িয়ে পিছু ফিরে মার উদ্দেশ্যে বলল;

নিছের বাচ্চা ছেলের সাথে তুমিও ছোটো হয়ে যেও না আম্মু"আর আমি লাস্ট বার বলছি এই বিষয় নিয়ে কোনো কথা হবে না।

রুবি বেগম ও আর কিছু বল্লেন না ;

সে হামজার দিকে তাকালো।

"কি আর বলবো বলতো আমাকে ছোটো বলে গেলো দেখলি "

হামজা মুখখানা চুপসে ছোটো হয়ে গেলো।

"কিরে কি করেছিস.. নিচে তো ঝড় বয়ে গেলো আর তুই এইখানে বই খাতা মেলে নিজেকে বিদ্যাসাগর ভাবছিস..?

রাহা ঘরে আগমন ঘটাতেই এইসব বলল;

তনুজা মাথা ঘুরিয়ে রাহার দিকে তাকিয়ে বলল;

"কেনো কি হয়েছে?

"কি হয়নি বল?তুষার ভাইয়েট কাছে আম্মু ভাইয়া ধোলাই খেলো।

তনুজা কপালটা কুঁচকে ফেললো;

"কেনো সেটা তো বল...

রাহা সব ঘটনা বলল তনুজা কে

কথা গুলো শুনে তনুজা বলল;

"তোমার ভাইয়ের সাথে তার নাম টা একদম মিলেনি বুঝছিস?? তার নাম হওয়া উচিত ছিলো পাথর" সালা আমরা যেনো তার অফিসে গেলে চিড়িয়াখানা বানিয়ে ফেলতাম এমন ভাব করলো। গেলাম না ওই বস্তি তে"

রাহা নিজের পেট ধরে হাসতে হাসতে শুয়ে পরছে যেনো;

"উফফ আল্লাহ কিজে বলিস তুই "উফফ আমার পেট ব্যাথা হয়ে গেলো;

তনুজা পাত্তা দিলো না সে পড়ার টেবিল থেকে উঠে খাটে গিয়ে শুয়ে ফোনটা হাতে নিলো ;

দুপুরের পর থেকে লোকটা কয়েকবারই মেসেজ দিয়ে সরি বলেছে কিন্তু তনুজা রিপ্লে দেয়নি;

আবারো একবার মেসেজ গুলো পরে কিছু লিখতে লাগলো;

হুম মাফ করেচি তবে নেক্সট টাইম লিমিতে থাকবেন..

সময় থেমে থাকে না। কারণ সময়ের কাছে অতীত মানে ফেলে আসা পথ, আর ভবিষ্যৎ মানে নতুন এক যাত্রার শুরু। এটা অধ্যায় শুরুর আগে বা কয়েক মাস/কয়েক সপ্তাহ সময় পার হওয়ার অংশে দিলে খুব সুন্দরদিন গেল দিনের মতোই।

অপরিচিত মানুষটার সাথে কথা হতে থাকল তনুজার।

আর এদিকে তুষারের সাথে যে সে মুখ ঘুরিয়ে ছিল সেটাও আর বদলায়নি। তুষার বহুবার তাকে ডেকেছে।

কখনো নিচে নামার সময়, কখনো খাওয়ার টেবিলে,

কিন্তু তনুজা একবারও ঠিকমতো উত্তর দেয়নি।

তুষারের একটা অভ্যাস কফি খাওয়া। তনুজা রোজ নিজের ইচ্ছে তে এখানে আসার পর থেকেই বানিয়ে খাওয়াতো তারপর থেকে তুষারের ও অভ্যেস হলো তনুজার হাতের কফি খাওয়ার।

কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে যেনো এই নিয়ম টা তনুজার না ভালো লাগার কাতারে পরছে। তুষার মূলত এখন এক প্রকার জোর করেই তনুজাকে কফি বানাতে পাঠায়।

কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে তনুজা সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। তুষারও আর জোর করেনি। তুষার ভেবে পায় না আসলে দোষ টা কার চিলো? সে তো ওর ভালোর জন্যই সাবধান করে দিচ্ছিল তাহলে এখানে দোষ টা কোথায়?

অজানা মানুষটার সাথে দিব্যি কথা চলছে তনুজার। লোকটা ভীষণ নরম স্বভাবের। তনুজা কিছু না বললেও সে বুঝে যায়। মন খারাপ থাকলে টের পেয়ে যায়। রাগ করলে হাসিয়ে দেয়। অকারণে বিরক্ত করে না। ভালোই লাগে তনুজার। লোকটা সেইদিন নিজের আসল নাম বলেনি। বলেছে তার নাম নাকি "প্রেমিক পুরুষ"।

তনুজা বেশ অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলো প্রেমিক পুরুষ আবার কাউর নাম হয় নাকি.? লোক টা বলেছিলো হয়তো এই যে আমার আছে... তনুজার বিশ্বাস হচ্ছিল না সে জিজ্ঞেস করলো এমন অদ্ভুত নাম কে রেখেছে আপনার.?

লেকটা উত্তরে বলেছিলো– আমার বাবার দাদার ছেলের নাতির পুতির ফুপার চাচা রেখেছিল কেনো? নাম টা সুন্দর না বুঝি?

তনুজা মেসেজ দেখে হিসাব করতে লাগলো সম্পর্ক গুলোর তবে তার মাথায় এতো পেঁচ ঘুচ কথা জাগা নেয় না তাই আর না ঘেঁটে বলল;

হ্যাঁ অসম্ভব সুন্দর তাই তো জিজ্ঞেস করলাম কে রেখেছে নাম টা।

অপর ব্যক্তি ঠোঁট বেঁকিয়ে সামান্য একটু হাসলো বধহয়।

সে তনুজাকেও জিজ্ঞেস করেছিলো আপনার নাম টাও বেশ সুন্দর কে রেখেছে তার নাম টা?

তনুজার উত্তর এমন ছিলো;

"আসলে আমি আপনার মতো এতো বেলে থাকি না তো তাই আমার কোন চাচার জেঠার ছেলের নাতি পুতি ফুপা খালু রেখেছে খবর নেওয়ার সময় হয়নি একজন না তো একজন রেখেছেই"

আজ শুক্রবার।

লন্ডন শহরে শুক্রবারে ছুটি নেই, ছুটি রবিবারে।

তবুও শুক্রবারটা এই বাড়িতে অন্যরকম কাটে।

আরোশ সাহেব মূলত শুক্রবার অফিস বন্ধ রাখেন।

জুম্মার নামাজ দুই ছেলেকে নিয়েই পড়েন।

আর সকালটা শুরু হয় ছোটখাটো উৎসবের মতো।

আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তনুজা ভেবেছিল লাইব্রেরিতে যাবে। মূল কারণ তুষারের সামনে না পড়া। কিন্তু রুবি বেগম যেতে দিলেন না।

“আজ না। কাল যাস।”তনুজা মুখ ফুলিয়েই রইল।

ফ্রেশ হয়ে, গোসল সেরে নিচে নাস্তার টেবিলে এসে বসে আছে এখন।

হামজা ইতোমধ্যেই ফুটবল এর শর্ট পেন্ট আর জার্সি পরে নিয়েছে। প্রতি শুক্রবার আরোশ সাহেব, হামজা আর তুষার তিনজন মিলে বাড়ির পাশের মাঠে ফুটবল খেলেন।

আর রুবি বেগম,রাহা আর তনুজা বাগানে-এ বসে তাদের খেলা দেখেন।

হামজা পেছন থেকে এসে তনুজার মাথায় হালকা একটা চাপড় মেরে বলল

“কিরে,খেলবি নাকি ফুটবল, কংকাল? বলেই পরমুহূর্তেই বলল না না থাক বাবা আবার বাতাসে উড়ে গেলে দায় নিবে কে?”

তনুজা সাথে সাথে কপাল কুঁচকালো।

“তোমাকে আমি কিছু বলেছি? মারলে কেন? আমি কি একবারও বলেছি খেলব?”

হামজা নাটকীয় ভঙ্গিতে হাত জোড় করল।

“ওরে বাবা! তনুজা আয়রা আহমেদ রেগে গেছেন! সরি ম্যাডাম, ভুল হয়ে গেছে!

“ঢং বন্ধ করবি তুই হামজা!

রুবি বেগমের ধমকে হামজা সাথে সাথে চুপসে গেল।

মেয়েটাকে না জালালে শান্তি পাস না যেনো।

রাহা চারপাশে তাকিয়ে বলল

“ভাইয়া কোথায় আম্মু?নাস্তা করবে না?”

রুবি বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন

“সকালে ওর রুমে গেছিলাম,পাইনি তো। তোরা দেখিসনি?”

রাহা মাথা নাড়ল।

“না তো”

হামজা তখন মুখ চেপে হাসল।

“তোমার ছেলে কাল রাতেই বাসায় আসেনি। সন্ধ্যায় বের হওয়ার পর থেকে হাওয়া!”

রুবি বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

আরোশ সাহেব বরাবরের মতো নীরব দর্শক।

তিনি জানেন, রুবি বেগম একাই যথেষ্ট।

ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল তুষার।

কাঁধে ঝোলানো কালো জ্যাকেট

চুলগুলো এলোমেলো। চোখ লালচে সারারাত না ঘুমানোর ছাপ স্পষ্ট। নাস্তার টেবিলের সামনে এসে একবার আড়চোখে তনুজার দিকে তাকাল সে।

তারপর রুবি বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলল

“আমার কফিটা দাও আম্মু।”

বলেই চলে যেতে নিল।

রুবি বেগম সাথে সাথে বললেন

“নাস্তা করবি না?”

হামজা জিজ্ঞেস করল

“ফুটবল খেলবে না ভাইয়া?”

রাহা সাথে সাথে হামজাকে চাপড় দিল।

“চুপ!দেখছো না মুড খারাপ?”

তুষার গম্ভীর গলায় বলল

“খেলব নাস্তা করে মাঠে যা আসছি ফ্রেশ হয়ে।”

তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল

“নাস্তা করব না করে এসেছি।”

কথা শেষ করেই সোজা নিজের রুমে চলে গেল সে।

তনুজা ফিরেও তাকাল না।

আরো একটা মেসেজ দিলো সাথে;

আচ্ছা আপনার নাম কি..?

বরং ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে বসে রইল।

গত দুইদিন ধরে অপরিচিত লোকটা ঠিকমতো মেসেজও দেয় না।কিছু নিয়ম মাফিক কয়টা মেসেজ আসে সারাদিনে খেয়েছেন,কি করেন,ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরেছেন।ব্যস।

কাল তো পুরো দিনই কথা হয়নি।রাতেও না।আজ সকালেও ফোন চেক করেছে, কোনো মেসেজ নেই।না চাইতেও মন খারাপ হয়ে গেল তনুজার।পরক্ষণেই নিজেকেই ধমকালো সে।

“ধুর মানুষকে অভ্যাস বানাতে নেই।ভুলে গেছিস?যার দরকার,সে এমনিতেই মেসেজ দিবে।তুই আগে তো মেসেজ দিসনি।সে-ই দিত।এখন চুপচাপ বসে থাকে মেসেজ আসলে তুইও ইগনোর করবি।বুঝেছিস?

নিজের মনকেই কঠিন গলায় বুঝিয়ে দিল সে।

খাওয়াদাওয়া শেষ হলে রুবি বেগম,রাহা আর তনুজা বাগানে-এ চলে গেল।

দুপুরের রান্নার জন্য কিছু সবজি নিয়ে এসেছেন রুবি বেগম। আর মাঠে নেমে গেছে আপাতত আরোশ সাহেব আর হামজা।তুষার এখনো নামেনি।তনুজা ফোনটা পাশে রেখেই সবজি কাটছিল।হঠাৎ ফোনটা কেঁপে উঠল।

নিজের করা শপথ মুহূর্তেই ভুলে গেল সে।তাড়াহুড়ো করে ফোনটা হাতে তুলে নিল।মেসেজ এসেছে;

তনুজার বুকের ভেতর কেমন হালকা একটা অনুভূতি হলো।সে দ্রুত ইনবক্স খুলল।

“কি করেন আয়রা?আমার প্রতি কি অভিমান করেছেন নাকি?

আমাকে ভুলে গেলেন মনে হয়। কেমন আছেন?

তনুজার এবার সত্যি সত্যিই অভিমান হলো।সে ঠোঁট ফুলিয়ে লিখল

“মাফ করেন ভাঙতি নেই।

ওপাশের মানুষটা হেসে ফেলল

“আপনার কি আমাকে ভিক্ষুক মনে হচ্ছে?

তনুজা সাথে সাথে লিখল

“তা নয়তো কী!আগে বাংলাদেশে থাকতে দেখতাম শুক্রবার হলে সকাল সকাল ভিক্ষুক আসত। হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকত।সারা সপ্তাহ কারও খবর থাকত না।এখন আপনিও তাই করছেন।যান তো কাজ করছি।

ওপাশ থেকে উত্তর এলো

“অভিমান জমেছে বুঝি অনেক?

তনুজা এবার আরও গম্ভীর হলো।

“অভিমান করার আমি কে?আপনার সাথে অভিমান করার কোনো অধিকার আছে নাকি আমার?যেখানে আপনার নাম-পরিচয়ই জানি না সেখানে অভিমান করা বেমানান"মি.আগন্তুক"

ওপাশে কিছুক্ষণ টাইপ দেখালো।

তারপর রিপ্লাই এলো

এইমাত্র বললেন অভিমান করার অধিকার নেই।কিন্তু আপনার কথাতেই তো বুঝা যাচ্ছে আপনি ভীষণ অভিমান করেছেন।

আচ্ছা সরি লিটল ফেরি একটু ব্যস্ত ছিলাম তাই মেসেজ দিতে পারিনি।তবে ভেবেছিলাম মেসেজ দিতে এসে অন্তত আপনার একটা মেসেজ তো দেখব।কিন্তু না আমার ইনবক্স-টা খুব রাগ করেছে বুঝলেন?

তনুজা নাক সিটকালো।

“নিজের কথা অন্যকে দিয়ে বলিয়ে দিলেন?বলুন আমার মন অভিমান করেছে। ইনবক্স-কে কেন টানছেন?

আর আমি কেন মেসেজ দিব?দরকার তো আপনার,আমার না।আমিই তো আপনাকে খুঁজে মেসেজ দেইনি,বরং আপনি দিয়েছিলেন।কাজ করছি পরে আসবেন

বলেই ফোনটা পাশে রেখে দিল সে।

ঠিক তখনই পাশ দিয়ে তুষার এসে দাঁড়ালো।

টেবিলের উপর রাখা জুস-এর গ্লাস তুলে এক নিঃশ্বাসে শেষ করল।তারপর আবার মাঠের দিকে চলে গেল হামজাদের সাথে খেলতে।

তনুজার কেন জানি তুষারকে দেখলেই অভিমানটা আরও বেড়ে যায়।

এক সপ্তাহ হয়ে গেল সে লোকটার সাথে একটা কথাও বলেনি।

লোকটার কি একটুও খারাপ লাগে না?

পরক্ষণেই নিজেকেই উত্তর দিল সে

“লাগবে কেন?আমি কি তার আপন বোন নাকি?

মুখ গোমড়া করে আবার সবজি কাটায় মন দিল তনুজা।

বিকেলে রাহা আর সে মিলে বের হওয়ার প্ল্যান হলো।

বাড়ির কাছেই একটা পার্ক আছে"গ্রিনউইচ পার্ক"

দুপুরে নামাজ পড়ে খাওয়ার সময়ই ঠিক করেছে বিকেলে রাহা হামজা তনুজা একসাথে ঘুরতে যাবে।

আরোশ সাহেব আর রুবি বেগম কেও তাদের সাথে যাওয়ার জন্য বলেল তারা মানা করেছে;

তারা নাকি নিজেরা বহুদিন একা বের হয়না তাই তারা আলাদা করে বের হবে কোথাও।তনুজারাও আর কিছু বলেনি।

নিরব দর্শক হয়ে পাঁচজনের কথা শুনছে তুষার আর খাবার খাচ্ছে।তাকে হামজা সেধেছিল তাঁদের সাথে যাওয়ার জন্য সে মানা করেছে তার কোনো ইচ্ছে নেই নাকি তাদের সাথে যাওয়ার।

বিকেলের নরম রোদটা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে।

লন্ডনের আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে চারপাশে।পার্কজুড়ে ছড়িয়ে আছে নানা বয়সী মানুষের আনাগোনা।কেউ পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছে, কেউ বেঞ্চে বসে গল্প করছে,আবার কেউ বা নিজের পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটছে

আজ বিকেল হতেই হামজা,রাহা আর তনুজা বেরিয়েছে বাড়ির পাশের পার্কে। তিনজন পাশাপাশি হাঁটছে।হামজা নিজের স্বভাবমতো একটার পর একটা কথা বলেই যাচ্ছে।আর একটু পর পর ছবি তুলছে।রাহা মাঝেমধ্যে উত্তর দিচ্ছে।আর তনুজা চুপচাপ চারপাশ দেখছে।মনটা আজকাল কেমন যেন খিটখিটে হয়ে আছে তার

ঠিক তখনই

হঠাৎ কোথা থেকে একটা বিশাল টেডি বিয়ার তাদের সামনে এসে দাঁড়াল।তিনজনই একসাথে চমকে উঠল।

"আরে!রাহা অবাক হয়ে বলল

টেডিটা কোনো কথা বলল না

বরং ধীরে ধীরে তাদের সামনে এসে দাঁড়াল।তিন জন কেই হাত নেরে হাই বলল।তনুজার সামনে এসে তারপর মাথা কাত করে হাত বাড়িয়ে দিল।তনুজা প্রথমে কিছুই বুঝল না

হামজা হেসে বলল

"যা না!মনে হয় তোকে পছন্দ হয়েছে

"ধুর

তনুজা মুখ বাঁকালেও শেষ পর্যন্ত হাতটা বাড়িয়ে দিল।

মুহূর্তেই টেডি বিয়ারটা তার হাত ধরে গোল গোল করে ঘুরিয়ে দিল।তনুজা এতটাই অবাক হয়ে গেল যে প্রথমে প্রতিবাদই করতে পারল না।

চলবে;

পর্ব সংখ্যা —১২

#অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট #লেখিকা—তাসনিয়া_জাহান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন