পরের মুহূর্তেই নিজের অজান্তে হেসে ফেলল।অনেকদিন পর এমন প্রাণখোলা হাসি।টেডি বিয়ারটা আবার দুই হাত তুলে অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচ শুরু করল
রাহা আর হামজা হো হো করে হেসে উঠল।
"এইটা তো পুরো পাগল হামজা বলল।
তনুজাও এবার হাসতে হাসতে টেডিটার সাথে তাল মিলিয়ে দু-এক পা নাচল।কিছুক্ষণ পর টেডিটা ইশারা করে তাদের পার্কের ভেতরের আইসক্রিম স্টলের দিকে নিয়ে গেল।তনুজা ভ্রু কুঁচকে বলল
"এখন আবার কী?
কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো কয়েক মিনিট পর সেই টেডি বিয়ারটাই হাতে তিনটা আইসক্রিম নিয়ে ফিরে এল।একটা তনুজার দিকে বাড়িয়ে দিল।একটা রাহার দিকে।আরেকটা হামজার দিকে
হামজা অবাক হয়ে বলল
ওরে টেডিরাও বুঝি ফ্রী তে আইসক্রিম খাওয়ায় এ তো আমার চেয়েও ভালো মানুষ!
রাহা হেসে ফেলল।তনুজা আইসক্রিমটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ টেডিটার দিকে তাকিয়ে রইল টেডিও তার দিকে তাকিয়ে রইলো টেডি বিয়ারের বড় মাথার আড়ালে মুখটা দেখা যাচ্ছে না
তবুও তার মনে হলো এই মানুষটার উপস্থিতি অদ্ভুতভাবে তার মন ভালো করে দিচ্ছে
এক সপ্তাহ ধরে জমে থাকা বিরক্তি,রাগ,মন খারাপ সবকিছু যেন একটু একটু করে হালকা হয়ে যাচ্ছে টেডিটা হঠাৎ এক কান্ড ঘটিয়ে ফেলল
মাথাটা হালকা জুকে তনুজার গালে একটা ছোটো স্পর্শ করলো তারপর তনুজাকে জরিয়ে ধরলো
হামজা রাহা দুইজনই অবাক হয়ে গিয়েছে তবে তনুজার ভাবান্তর হলো না তার যেনো আরো মন ভালো হয়ে গেলো।হামজা বিষয় টাকে ভালো ভাবে নিলো না সে সামনে এসে দাড়িয়ে বলল
হেই হোয়াট আর ইউ ডুইং?
টেডি টা দূরে দাড়ালো তারপর কিছু একটা ইশারা করে হামজা কে সরি বলল
দূরে দাঁড়িয়ে টেডি বিয়ারটা দুই হাত নেড়ে বিদায় জানাল।
তারপর মানুষের ভিড়ের মধ্যে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল
তনুজা অনেকক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইল
কেন যেন মনে হচ্ছিল
এটা শুধু একটা সাধারণ টেডি বিয়ার ছিল না আজ মন ভালো করার অন্য রকম উপায় হয়ে হাজির হয়েছিল
ঘুরে ফিরে করে মাত্রই সবাই নিজ নিজ ঘরে ঢুকলো ফ্রেশ হতে কিন্তু তনুজার ভাগ্যে সেটা জুটল না সাথে সাথে অর্ডার পড়ল ঘাড়ের উপর
তুষার নিজের ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল
“তনু,কফি নিয়ে রুমএ আয় ফাস্ট
তনুজার জেনো কানে টিক শুনলো না সে তুষারের যাওয়ার পানে আহাম্মকের মতো তাকিয়ে রইলো
তুষার পিছ ফিরে ফের বলল কি বলেছি শুনতে পাসনি?
তনুজা এখনও ভাবছে সে কি সপ্ন দেখছে এই লোক তার সাথে কথা বলছে তাকে কফি বানানোর অর্ডার দিচ্ছে?
প্রথমে রাগ করলেও পরে কিছু একটা ভেবে আর রাগ ধরে রাখতে পারেনি সে।তাই এবারও রাগ উঠেও উঠল না।নিজের রুম-এ না ঢুকে সোজা রান্নাঘরের দিকে গেল কফি বানাতে
কফি বানাতে বানাতে হঠাৎ তার কিছু একটা মনে পড়ল
মগের ভিতর চামচ নেড়েচেড়ে সে আচমকা থেমে গেল
“ও সিট আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম
বলেই কফি হাতে দৌড় লাগাল তুষারের রুম-এর দিকে
“তুষার ভাইইই
“তুষার ভাই
দুইবার ডাক দিয়েও কোনো সাড়া পেল না।তাই ধীরে ধীরে রুম-এর ভেতরে ঢুকল সে। বাথরুম থেকে পানির শব্দ আসছে। মানে তুষার গোসলে ঢুকেছে
এই লোকের কি কোনো টাইম সেন্স নেই যখন না তখনই গোসলে ডুকে পরে।
তনুজা কিছুক্ষণ কফি হাতে দাঁড়িয়ে রইল
তারপর সাইট টেবিল এর উপর মগটা রেখে দ্রুত বেরিয়ে গেল রুম থেকে
নিজের ঘরে ঢুকেই ঘড়ির দিকে তাকাল।রাত নয়টা এিশ
সে আর এক সেকেন্ডও নষ্ট করল না তাড়াহুড়ো করে ফোন হাতে নিয়ে কাউকে একটা মেসেজ দিল তারপর আলমারি খুলে ভেতর থেকে কালো একটা পোশাক বের করল।মুহূর্তের মধ্যেই ওয়াশরুম-এ ঢুকে গেল।এদিকে তুষার গোসল শেষ করে বের হলো
কোমরে জড়ানো সাদা টাওয়াল কাঁধে আরেকটা টাওয়াল দিয়ে চুল মুছছে।ভেজা সফেদ শরীরে পানির ছোট ছোট ফোঁটা চিকচিক করছে
জিম করা শরীরটাকে আরও বেশি শার্প লাগছে
চোখ গেল খাটের সাইট টেবিল-এর উপর রাখা কফি মোগ-টার দিকে। তার ভ্রু কুঁচকে গেল।একবার বন্ধ দরজার দিকে তাকালো।তারপর এগিয়ে গিয়ে কফি টা হাতে নিল।দুই সিপ খেয়েই লম্বা একটা নিশ্বাস ছাড়ল
“এই জন্মে আর আমার গরম কফি খাওয়া হবে না
ঠিক তখনই খাটের-এর উপর রাখা ফোন বাইব্রেট করতে শুরু করল তুষার কফির নামিয়ে ফোন হাতে নিল
কল রিসিভ করতেই ওপাশের মানুষটা দ্রুত উত্তেজিত গলায় কিছু বলতে লাগল। তুষারের মুখের ভাব মুহূর্তেই বদলে গেল। চোখ দুটো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল।সে চুপচাপ সব শুনল তারপর শুধু বলল
“ওকে থ্যাংকস”
কল কেটে দিয়েই কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল
তারপর ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে হালকা হাসল
“আজ তোর খবর আছে"
তনুজা বাসা থেকে বের হয়েছে।রাস্তা একটু দূরে একটা গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোজ আর অদিতি
এখান থেকে তারা সোজা যাবে রেস স্পোর্ট-এ এই দুইজনই তার রাইডিং পার্টনার। অদিতি ইন্ডিয়ান কলকাতার আর রোজ লন্ডন-এর নাগরিক।কলেজ লাইফ থেকেই পরিচয় তাদের।রোজ ছোটবেলা থেকেই বাইক রাইড করে তার বাবা মূলত বাইক রাইডার ছিলেন সেই থেকেই রোজ ও রাইড করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেটা তার নেশায় পরিণত হয়েছে।
চলবে;
পর্ব সংখ্যা —১৩
অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট লেখিকা—তাসনিয়া জাহান