ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

১৪তম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

আর অদিতি পড়াশোনার জন্য লন্ডন-এ এসেছে

ফাস্ট ইয়ারে-এ রাহা আর তনুজা-র সাথে পরিচয় তারপর রোজ-এর সাথে।রোজের সুবাদেই জগতে ঢোকা।তবে এই ব্যাপারটা রাহা ছাড়া কেউ জানত না।কারণ রাহা এসব ভয় পায়।আর রুবি বেগম জানতে পেরেছিলেন এক এক্সিডেন-এর পর।সেদিন ব্যথা নিয়ে বাসায় ফিরতেই ধরা পড়ে যায় সব প্রথমে অনেক বকেছিলেন তিনি।কিন্তু পরে আর কিছু বলেননি।তনুজা সবচেয়ে ভয় পেয়েছিল একটাই জিনিস

“তুষার ভাই যদি জেনে যায়?

কিন্তু এতদিন কিছু হয়নি। তাই সে ভেবেছিল ব্যাপারটা চাপাই পড়ে গেছে। কিন্তু সেদিন হঠাৎ তুষার সব জেনে গেল কীভাবে। এখনো সেটা বুঝে উঠতে পারেনি সে।

তনুজা আজ পুরো কালো পোশাকে রেডি হয়ে গিয়েছে।

কালো জেকেট, কালো স্কিন ফিট জিন্স হাতে গ্লোফস।

রাস্তার এদিক-ওদিক তাকিয়ে দ্রুত গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল সে। গাড়ি স্টার্ট হলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

কিন্তু তাদের অজান্তেই

আরেকটা কালো রঙের একটি গাড়ি ধীরে ধীরে ফলো করতে লাগল তাদের।

________________

রেস স্পোর্ট-এ কমপক্ষে পঞ্চাশ থেকে ষাট জন মানুষ উপস্থিত। মাসে তিনবার হয় এই আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেস।

যারা মূলত বাইক,স্পিড আর রেসিং ভালোবাসে তারাই মাঝরাতে সব ফেলে এখানে আসে। চারপাশে নিয়ন লাইট

বাতাসে পেট্রোল-এর গন্ধ। দূরে লাউড মুজিক বাজছে।

তনুজারা গাড়ি থেকে নামল।

নিজের BMW S1000RR bike-এর কাছে গিয়ে দাঁড়ালো তনুজা। হেলমেট পরে বাইক স্টার্ট করতেই ভয়ংকর গর্জে উঠল ইঞ্জিন। সে ধীরে ধীরে লাইন-এর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ডান পাশে আরও চারটা বাইক।

বাম পাশে পাঁচটা মোট দশটা বাইক মুলত রেসিং এ অংশগ্রহণ করেছে। তনুজা হেলমেট ঠিক করতে করতে বাম পাশে তাকালো।

আর পরের মুহূর্তেই বজ্রপাতের মতো কেঁপে উঠল সে।

এই চোখ… এই চাহনি… এই দৃষ্টি সে হাজার মানুষের মাঝেও চিনবে। কারণ এই চোখের দিকেই তো সে প্রতিদিন তাকিয়ে থাকে। তার বুক ধড়াস করে উঠল।

“ তুষার ভাই!”

হায় আল্লাহ!

এক সপ্তাহ আগে যেই কারণে তার উপর ঝড় বয়ে গেল

আজ সেই মানুষটাই তার পাশে দাঁড়িয়ে রেস করতে এসেছে!

তনুজার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল।

“আজকে আমার শেষ দিন…”

ওদিকে তুষার হেলমেট -এর ভেতর থেকেই তার ভয় পাওয়া চোখ দুটো দেখে হেসে ফেলল।

ঠিক তখনই mike-এ অ্যানাউন্সমেন্ট ভেসে এলো

“Riders ready?”

চারপাশে চিৎকার শুরু হয়ে গেলো।

"ইইয়েয়য়য়সসসস"

কাউন্টডাউন শুরু হলো।

10

9

8

তনুজা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না। তার বুকের ভিতর ধুকপুক শব্দ হচ্ছে। আর তুষার?

সে ধীরে ধীরে একচোখ টিপে ইশারা করল

“Focus on the race.”

তনুজা শুকনো ঢোক গিলল। তারপর শক্ত করে হ্যান্ডেল চেপে ধরল।

3…

2…

1…

“START!”

একসাথে সবগুলো বাইক গর্জন তুলে সামনে ছুটে গেল।

চারপাশের চিৎকার, বাইকের বিকট শব্দ আর রাতের ঠান্ডা বাতাস সব মিলিয়ে পুরো জায়গাটা যেন আগুন হয়ে জ্বলছে।

লাল আলো জ্বলে উঠতেই একসাথে সবগুলো বাইক সামনে ছুটে গেল বজ্রপাতের গতিতে। তনুজার বুক ধড়ফড় করছে। হাত কাঁপছে সামান্য। তার মাথায় এখন রেস না একটাই চিন্তা।

“তুষার ভাই এখানে কী করছে!”

হেলমেটের ভেতর শুকনো ঢোক গিলল সে।

কিন্তু পরের মুহূর্তেই নিজের মাথা ঝাঁকালো।

না!

এখন ভয় পেলে চলবে না। তুষার ভাইকে সামলানো পরে হবে আগে রেস শেষ করতে হবে। সে এক্সিলারেটর আরও ঘুরিয়ে দিল। বাইকটা শব্দ তুলে সামনে ছুটল। পাশ দিয়ে একটার পর একটা বাইক ওভারটেক করছে।

কারও হেলমেট এ নিয়ন লাইট, কারও জেকেট এ আগুনের ডিজাইন।

রাতের রাস্তা জুড়ে শুধু গতির নেশা।

তনুজা এবার পুরো মনোযোগ দিল সামনে।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে দুইটা বাইক পেছনে ফেলে দিল।

দূর থেকে ভেসে আসছে মানুষের চিৎকার।

"Ayraaa, Ayraaa"

“COME ON GIRL!”

“WOOOH!”

তনুজার ভেতরের ভয়টা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগল।

তার জায়গা দখল করল পুরোনো সেই নেশা।

স্প্রিট এর নেশা। এই সময়টায় সে সব ভুলে যায়।

কে কী বলল, কে রাগ করল, কে বকা দিল কিছুই মনে থাকে না। শুধু মনে হয় সে উড়ছে।

তুষার একটু পেছনেই ছিল।

সে একদৃষ্টিতে তনুজার বাইক কনট্রোল দেখছিল।

হেলমেটের ভেতর তার চোখে অদ্ভুত একটা অনুভূতি ফুটে উঠল। রাগ? হয়তো। কিন্তু তার থেকেও বেশি ভয়।

কারণ এই মেয়েটা বেপরোয়া একদম পাগল।

সে তনুজার সাথে তাল মিলিয়ে বাইক এর স্পিড বাড়ালো।এক সময় তনুজার সমান সমান রেস করতে লাগলো।

রাস্তার ডেঞ্জারাস বাঁকটা সামনে আসতেই তুষারের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। সে জানে এই টার্ন-টাই সবচেয়ে রিস্কি।

সামনের দুইটা বাইক স্প্রিট কমালেও তনুজা কমাল না।

তুষার নিচু গলায় বলল ;

" stupid" reduce you speed a little

(বোকা তোর স্প্রিট কিছুটা কমা)

কিন্তু তার কথা তো তনুজা শুনতে পাবে না। পরের মুহূর্তেই তনুজা বাইক কাত করে ভয়ংকর শার্প একটা ড্রিফট নিল। চারপাশে হৈচৈ পড়ে গেল।

“OH SHITTT!”

“DAMNNN!”

চলবে ;

পর্ব সংখ্যা —১৪

অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট লেখিকা :তাসনিয়া জাহান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন