এই কারণেই লোকটাকে মাঝে মাঝে তার অসহ্য লাগে
তুষার ধীরে ধীরে হেলমেট টা কোমরে চেপে ধরে তনুজার দিকে হাঁটা শুরু করল। আর তনুজার মনে হলো
তার জানটাই বুঝি আজ বের হয়ে যাবে।
“আল্লাহ বাঁচাও এইবারের মতো”
মনে মনে লাখবার দোয়া পড়তে লাগল সে
“বিয়ে করে অন্যের ঘরে যাওয়ার আগ পর্যন্তই এই লোকের হাত থেকে বাচিয়ে নেও।এখন শুধু এইবারটা বাঁচিয়ে নাও!এত মানুষের সামনে ধমক দিলে বা কিচ্ছু বললে মান সম্মান সব মাটিতে গড়াগড়ি খাবে।
তুষার এসে ঠিক তার সামনে দাঁড়াল
কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নিচু গলায় বলল
“কংগ্রাচুলেশন মিস.তনুজা আয়রা”
তনুজা ঢোক গিলল তুষার আবার বলল
“অনেকদিন ধরেই শুনছিলাম আন্ডার গ্রাউন্ড এর ফেমাস বাইক রাইডার নাকি আপনি
আর আসার পর লাস্ট ছয় মাস ধরে নাকি ফার্স্ট পজিশনএ অন্য কাউকে উঠতেই দেন না”
সে একটু থামল তারপর ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত এক হাসি টেনে বলল;
“ফাইনালি আজ দেখা হয়েও গেল”
রোজ অদিতি তাদের ফেন দের সাথে ছবি তুলছিল।হঠাৎ তনুজাকে নতুন এক রাইডারের সাথে কথা বলতে দেখে দু’জনেই এগিয়ে এলো।অদিতি ভ্রু নাচিয়ে বলল
“হ্যালো আই এম অদিতি ইসলাম"নিউ রাইডার?
তুষার অদিতির দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি টেনে বলল
“নাইস টু মিট ইউ অদিতি"ইয়েস নিউ রাইডার এন্ড দিস ইস দা ফার্স্ট টাইম
"অনেস্টলি,উই কেম মেইনলি টু সি দ্য ফেমাস রাইডার তনুজা আয়রা ম্যাম।এ ফিউ অব মাই ফ্রেন্ডস কেম টু। উই থট ইট উড বি অ্যান অ্যামেজিং অপরচুনিটি টু রেস অ্যালংসাইড সাচ আ রিনাউন্ড রাইডার।সো,উই কুডন্ট মিস দ্য চান্স অ্যান্ড জয়েনড দ্য রাইড"
(সত্যি বলতে,আমরা মূলত বিখ্যাত রাইডার তনুজা আয়রা ম্যাডামকে দেখতেই এসেছিলাম।আমার কয়েকজন বন্ধুও এসেছিল।আমরা মনে করেছিলাম এমন একজন খ্যাতনামা রাইডারের সাথে রাইড বা রেস করার সুযোগ পাওয়া অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা হবে তাই সুযোগটা হাতছাড়া না করে আমরাও রাইডে যোগ দিয়েছিলাম)
তনুজা চোখ বড় বড় করে তুষারের দিকে তাকালো
লোকটা এমন ভাব করছে যেন কিছুই জানে না
এর মাঝেই রোজও সামনে এসে দাঁড়ালো
“Hi,I’m Rose And you?
“Hello I'm Tushar Haider Mirza”
তুষারের শান্ত গলায় বলা নামটা কেমন যেন ভারি লাগলো চারপাশের শব্দের মাঝেও।রোজ হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে দিল
“Nice to meet you,Tushar”
রোজ পাশ ফিরতেই দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটা পরিচিত দৃষ্টি চোখে পড়ল তার।জ্যাক
জ্যাক সম্পর্কে তার সৎ ভাই হয়
ছেলেটা কয়েক বছর ধরে এই আন্ডারগ্রাউন্ড রেসের পরিচিত মুখ।বহুবার জিতেছে বহু রাইডারকে হারিয়েছে। কিন্তু তনুজা আসার পর যেন সব হিসাব বদলে গেছে আশ্চর্যের ব্যাপার তাতে জ্যাকের আফসোস নেই
বরং সে অপেক্ষা করে থাকে কখন তনুজা রেস-এ নামবে
তনুজা জিতলে ছেলেটার চোখে বিরক্তির বদলে এক অদ্ভুত মুগ্ধতা ফুটে ওঠে যেন হারলেও সে খুশি।আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। কিন্তু তুষারকে তনুজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার ভেতরে কেমন একটা অস্বস্তি খেলে গেল
রোজ অনেক আগেই বুঝে গেছে। জ্যাক তনুজাকে পছন্দ করে।যদিও জ্যাক কখনো সেটা মুখে বলেনি।রোজের সাথে চোখাচোখি হতেই জ্যাক দৃষ্টি সরিয়ে নিল।তারপর ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে তনুজাদের সামনে এসে দাঁড়ালো
মুখে সেই চেনা আত্মবিশ্বাসী হাসি
“Hey, beautiful girl Congratulations.
আজকের রাইডটা সত্যি আগের চেয়েও ভয়ংকর ছিল। বিশেষ করে তোমার লাস্ট টার্ন টা
সে মাথা নেড়ে হেসে বলল
“You were amazing”
কথা বলতে বলতেই জ্যাক হাত বাড়িয়ে তনুজার কপালের সামনে উড়ে থাকা চুল সরাতে যাচ্ছিল
তনুজা সাথে সাথে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল
“দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলেন তো সামনে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে দেখছেন না?
জ্যাক ভ্রু কুঁচকালো
তনুজা আরো গম্ভীর হয়ে বলল
“আপনাট বুঝা উচিত উনি আমার কে হন
বন্ধু হতে পারে, ভাই হতে পারে, প্রেমিক হতে পারে এমনকি বাবা পর্যন্ত হতে পারে
পরের মুহূর্তেই ঠাস করে তুষারের একটা চাপড় পড়ল তনুজার মাথায়
“আমি তোর বাপ লাগি? ইডিয়েট একটা!এক চড় মেরে বোবা বানিয়ে দিব”
তনুজা সাথে সাথে মাথা চেপে ধরে মুখ বাঁকালো।
“উফফ মারো কেন খালি? সরকারি পাইছো আমাকে? যখন তখন মারো”
তারপর জ্যাকের দিকে আঙুল তুলে বলল
“দেখছো না লোকটা কেমন অসভ্যতা করছিল আমি কী বলব বলব উনি আমার খালাতো ভাইয়ের চাচাতো ভাই লাগে?
তুষার এবার বিরক্ত নিয়ে তাকালো।
“কি সব আবোলতাবোল বলিস তুই?
তনুজা গজগজ করতে লাগল
“তা না হলে কি বলব? নিজেদের পরিচয়টাই তো পরিষ্কার না মানুষ কে কিভাবে বুঝাবো আসলে তুৃমি আমার কি হও"
জ্যাক বাংলা পুরোটা না বুঝলেও তাদের ঝগড়া দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সম্পর্কটা সাধারণ না।তারা হয়তো একে অপরকে চিনি।
রোজ তনুজা আর অদিতির সাথে এতদিন থাকতে থাকতে অনেক বাংলা বুঝে ফেলেছে।দু’জনেই মুখ চেপে হাসছে
জ্যাক নিরব চোখে শুধু তাকিয়ে আছে তুষারের দিকে
কেমন যেন অদ্ভুত একটা চাপা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হচ্ছে দু’জনের মাঝে
"হেই তনু মাই গার্ল কি ডেঞ্জারাস বাবা তুমি আমি এতদিন শুধু তুষারকেই ডেঞ্জারাস ভাবতাম। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।ইউ আর জিনিয়াস গার্ল।
চলবে;
পর্ব —১৬
অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট লেখিকা : তাসনিয়া জাহান