সাইফ,আবির তুষারের বন্ধু
সাইফ আবির তুষার দের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে কথা গুলো বলল
তনুজা তাদের দেখে একটু হাসলো সাথে বধহয় লজ্জাও পেলো
সাইফ আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই তুষার চোয়াল শক্ত করে জায়গা প্রস্থান করল
সাইফ,আবির ও তার পিছু নিলো যাওয়ার আগে তনুজাকে বলে গেলো
বায় তনু আবার দেখা হবে ওর বেস্ট অফ লাক
রোজ,অদিতি গাড়ি তে করে তনুজাকে বাড়ির পৌছানোর উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে
রোজ বলল,ছেলেটা কি সুদর্শন দেখতে তাই না অদিতি ও সাথে তাল মিলিয়ে বলল
হুম হট আছে কি বডি কি চেহারা আর চোখ গুলো ওয়াওও
অদিতি কিছু একটা মনে পরতেই সে ব্যাক সিটের থেকে একটু ঝুঁকে সামনের সিটে বসে থাকা তনুজাকে বলল
এই তনু ছেলেটা কে কি তুই চিনিস?যেই ভাবে কথা বলল মনে তো হচ্ছে চিনিস।সাথে ছেলেটার বন্ধুরাও তোর নাম যানে
রোজ ও তনুজার দিকে তাকিয়ে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো
really you know him?
তনুজা সিটের সাথে হেলান দিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ছিলো।দুইটার বকবক শুনে চোখ মেলে তাকালো সামনের রাস্তার দিকে তারপর বলল
that raha's brother
আমার তুষার ভাই,যার নামের সাথে তার কোনো মিল নেই,তুষারপাত হলে ধরলেই কি সুন্দর গলে যায়
And this man is solid ice
যাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটালেও গলে না
রাত প্রায় দুইটা পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ শুধু দেয়ালে টাঙানো ঘড়িটার টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছে
তনুজা সিঁড়ি বেয়ে চুপিচুপি উপরে উঠছিল।হাতে হেলমেট জ্যাকেটটা কাঁধে ঝোলানো
মুখে এমন ভাব যেন পৃথিবীর সবচেয়ে ভদ্র মেয়ে সে
ঠিক তখনই
দাঁড়া
গর্জে ওঠা কণ্ঠটা শুনে তনুজার বুক ধক করে উঠল
ড্রইংরুমের অন্ধকার কোণা থেকে উঠে দাঁড়ালো তুষার
কালো শার্ট এর হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো।চোখমুখ শক্ত
দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেকক্ষণ ধরেই অপেক্ষা করছে
তনুজা শুকনো ঢোক গিলল
এখনো ঘুমাননি?
তুষার ধীরে ধীরে সামনে এলো
তারপর এক ঝটকায় তনুজার হাত থেকে হেলমেট টা নিয়ে সোফার উপর ছুঁড়ে মারল
ধপ্
তুষার তনুজা কে হালকা ধাক্কা মেরে বলল তুই কি নিজেকে মানুষ ভাবিস নাকি উড়ন্ত মিসাইল ভাবিস?
তনুজা কেঁপে উঠল
ধাক্কা মারছেন কেনো?
আর আমি আবার কী করলাম
কি করছিস তুই জানিস না?
তুষারের গলার আওয়াজ এত জোরে উঠল যে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল যেন
ওই স্প্রিড-এ বাইক টার্ন এইসব আজকেই ইস্তফা তোর একটুর জন্য স্কিব করিসনি এক্সিডেন্ট হতো যদি মাথায় কিছু আছে তোর?
তনুজাও এবার ভয় পেয়ে গেলেও মুখ বাঁকালো
আচ্ছা পড়িনি তো!আপনি এতো টেনশন করছেন কেনো যা হওয়ার তো আমার হতো তাই না
তুষার চোয়াল শক্ত করে বলল
পড়লে তারপর বুঝতিস?
আপনি এমন চিল্লাচ্ছেন কেন
তুষার রেগে বলল
আমি চিল্লাব না তো কি তোকে মেডেল দিব?
আপনার সমস্যা কী বলুন তো!সবসময় শুধু আমার পেছনেই লাগে থাকেন
কারণ তুই একটা বেয়াদব
আমি?
হ্যাঁ তুই!একটা মেয়ে রাত দুইটায় করে বেড়াচ্ছে ইলিগ্যাল আন্ডারগ্রাউন্ড রেস এটা নরমাল?
তনুজারও এবার জেদ উঠে গেল
করছি তো করছি আমার ভালো লাগে
চুপ
তুষার এত জোরে ধমকালো যে তনুজা থেমে গেল
ঠিক তখনই উপর থেকে দরজা খোলার শব্দ এলো
রাহা আধো ঘুমে চোখ মলতে মলতে নিচে নামল
তনুজাকে তুষারের সাথে রেস কস্টিউম এ দেখে ভরকে গেল
কি হয়েছে?
তার পিছনে রুবি বেগমও বের হলেন।হামজাও আরোশ সাহেব রুবি বেগম বিরক্ত গলায় বললেন
আবার শুরু করেছিস তুষার
তুষার এবার রাগে তনুজার দিকে আঙুল তুলল
তোমারা জানো তোমাদের আদরের মেয়ে আজ কী করেছে
তনুজা সঙ্গে সঙ্গে বলল
আমি কিছু করি নাই
চুপ থাক তুই
কেন চুপ থাকব?আপনি কি জর্জ নাকি
হামজা ফিসফিস করে রাহাকে বলল
আজকে তো যুদ্ধ লাগবে
রাহা তার হাতে চাপড় মারল
তুষার এবার রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল
আন্ডারগ্রাউন্ড বাইক রেস তাও ওই ভয়ংকর ট্রাক-এ
আরোশ সাহেব চমকে উঠলেন
কি?
সাথে রুবি বেগম ও ভয় ঢুকলো তনুজা তো এমন কোনো কিছু তাকে বলেনি
তনুজা এবার বুঝল বিপদ।কিন্তু তবুও মুখ সামলালো না
আপনিও তো গেছিলেন
পুরো ঘর কয়েক সেকেন্ড চুপ।হামজা কাশি চেপে অন্যদিকে তাকালো রাহার চোখ বড় বড়
রুবি বেগম ধীরে ধীরে তুষারের দিকে তাকালেন
তুইও গেছিলি
তুষার থমকে গেল এক মুহূর্ত তারপর বিরক্ত গলায় বলল
আমি গেছি ওকে ধরতে
তনুজা ফোঁস করে উঠল
মিথ্যুক
কি বললি
আপনি নিজেই রেস করছিলেন
তোরে বাসায় আনার জন্য
আমাকে আনতে গিয়ে নিজেই দ্বিতীয় হইছেন
হামজা এবার হো হো করে হেসে ফেলল।তুষার এমন চোখে তাকালো যে সে সঙ্গে সঙ্গে চুপ।তনুজা এবার হাত কোমড়ে দিয়ে দাঁড়ালো
সবসময় শুধু আমাকেই বকেন কেন?আমি ছোট তাই
কারণ তুই ইম্যাচিউর
আমি ইম্যাচিউর না আমি যথেষ্ট ম্যাচিউর
তাহলে রাত দুইটায় রেস করে বেড়াস কেন
কারণ আমার ভালো লাগে
তোর ভালো লাগা দেখে একদিন সবাই কাঁদবে
কথাটা শুনে তনুজা থমকে গেল কিন্তু পরক্ষণেই আবার জেদ চেপে গেল তার
আপনার এত সমস্যা হলে আমি এই বাসাতেই থাকব না
রুবি বেগম বললেন
তনু
কিন্তু তনুজা থামল না
সবসময় শুধু ধমক আমি মানুষ না যেন অপরাধী
তুষার দাঁত চেপে বলল
হ্যাঁ আজকে তুই অপরাধীই যা চলে যা কোথায় যাবি আমিও দেখবো
ফাইন তাহলে কথা বলবেন না আমার সাথে
আমারও দরকার নেই
তনুজার চোখ টলমল করে উঠল কিন্তু সে কান্না আটকিয়ে রাখল জোর করে
চলবে
পর্ব সংখ্যা —১৭
অচেনা_প্রনয়ের_চিরকুট লেখিকা : তাসনিয়া জাহান