ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

১৮তম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

যা ইচ্ছে কর যা অত্যাচারী কোথাকারের

চেহারা দেখাতে আসবি না আমার সামনে তুই

তুষার জচজচ করতে করতে কথাগুলো বলেই নিজের রুমে চলে গেল।

তনুজা রাগে রি রি করছে।

“শুধু শুধু এই লোক খালি বকে কোনো কাজটাজ নেই, শুধু আমার পিছনেই পড়ে থাকে!

“মামনি কী বলে গেল? তোমার ছেলে চেহারা দেখাতে না!

আমার বয়েই গেছে আমার চাঁদ মুখ ওনাকে দেখাতে। রাক্ষস কোথাকার!”

সেও বলতে বলতে নিজের রুমে চলে গেল।

রুবি বেগম এই দুইজনকে নিয়ে আর পারেন না।

কী বাচ্চাদের মতো লেগে গেল! না তুষার কম না তুষারের চেয়ে কম তনুজা।

হামজা ফট করে উঠে বলল

ওদের বিয়ে করিয়ে দাও।দুইটাকে বেশ নামাবে বুঝলে।

ওদের এমন খোল্লামখুল্লা ঝগড়া দেখতে ভালো লাগে না। বিয়ে করিয়ে দিলে নিজেদের চার দেয়ালের মাঝেই করবে যা করার।”

রুবি বেগমের কথার অপেক্ষা না করেই আরোশ সাহেব বলে উঠলেন

“এখন তো তাও সহ্য করা যায়। তখন এই ঘরটা WWE এর ময়দান হয়ে যাবে।

একজন ভাগ্নি, আরেকজন শিংওয়ালা ষাঁড়! কাকে রেখে কাকে ধরব?”

তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললেন

“এইসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। ওদের সাথে এইসব হবে না। ভাবি আর ভাইজানের মতো অবস্থা দ্বিতীয় ভারের মতো দেখার জন্য মোটেও কেউ প্রস্তুত না।

আমি আমার মেয়েটাকে একটা ভালো ঘরে বিয়ে দিব। যেখানে ও অনেক সুখে থাকবে। বুঝলে?

রুবি বেগম স্বামীর কথা শুনলেন। সেও একমত।

কারণ এই দুইজনের বিয়ে হলে এই বাড়িতে টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়বে তাদের।

অন্যদিকে তন্ময় অনেকক্ষণ ধরে কাকে যেন কল করেই যাচ্ছে।

কিন্তু ওপাশের মানুষটার ধরার নামই নেই।

সে বিরক্ত মুখে আবারও কল দিল।

“ইশশ কী একটা জল্লাদ বাবা!এতটুকু কথার জন্য কেউ এতক্ষণ রাগ করে থাকে নাকি? ধুর!

বিছানায় হেলান দিয়ে বিরক্ত গলায় বলল সে

“আসলেই মেয়ে মানুষ মানেই ঝামেলা। কিছু তো একটা করা লাগবে,নয়তো ম্যাডামের রাগ ভাঙাব কীভাবে!

একটু থেমে নিজেই বিড়বিড় করল

“কে যে বলেছিল আমাকে প্রেমে পড়তে ধুরো!

ঠিক তখনই তার ফোনে কল এলো।

তন্ময় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল।

“এই সময় তনুজা কখনো কল দেয় না। কী ব্যাপার?”

সে তাড়াতাড়ি কলটা ধরল।

আজ ভিডিও কল নয়,বরং অডিও কল দিয়েছে তনুজা।

তন্ময় কল রিসিভ করে কানে ধরতেই আবার ফোনটা কানের থেকে একটু দূরে সরিয়ে নিল।

তনুজা রাগের বশে খুব জোরে চিৎকার করে কথা বলা শুরু করেছে।

যার কারণে তন্ময় কান ফেটে যাওয়ার উপক্রম।

তন্ময় আবার ফোনটা কানে ধরে বলল

রিল্যাক্স, মাই প্রিন্সেস কী হয়েছে?

আস্তে করে বল

আমার কানটা তো ফাটিয়ে ফেললি। কে কী বলেছে বল কিসের জন্য এত রাগ আমার পরী বোনের, শুনি?

তনুজা নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

“আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও! রাইট নাউ

আমি আর এখানে থাকব না এক মুহূর্তও না।

আর যদি থাকতে বাধ্য করো আমাকে, আমি সব কয়টাকে কুত্তার দৌড়ানি খাওয়াব বলে দিলাম!”

তন্ময় বুঝল, তার বোন ভালোই রেগে আছে।

ভালো কারণ আছে বটে, নয়তো তনু সহজে এত রাগ করে না।

সে শান্ত গলায় বলল

“কী হয়েছে আগে সেটা তো বল আর এখন আমি কীভাবে তোকে ওইখান থেকে নিয়ে বাংলাদেশ আসব বল তো?

তনুজা ঝাঁঝালো স্বরে বলল

“আমি বাংলাদেশ যাব একবারও বলেছি তোমায়?

না নিতে পারলে তা বলো। আমি নিজেই যেখানে ইচ্ছে চলে যাব। তোমাদের কাউকে লাগবে না আমার!”

বলেই কলটা কেটে দিল।

তন্ময় কয়েক সেকেন্ড ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ বেঁকা মুখে হেসে ফেলল।

“শুধু রাগটাই ঝাড়ার জন্য কল দিয়েছিলি বললেই হতো।

শুধু শুধু চিৎকার করে আমাকে বয়রা করার কোনো মানে হয় নাকি? আজব!

তারপর বালিশে মাথা রেখে বলল

“এখনো বিয়ে করিনি আমি। বয়রা আমিকে কে নিবে।হুম?

বলেই ঘুমের প্রস্তুতি নিতে লাগল।

এদিকে তনুজা এখনো রাগে গজগজ করছে।

“সে আমাকে এত কিছু বলার কে?নিজেকে কী মনে করে সে? প্রায় মিনিস্টার নাকি বিচারককারী?

বালিশে ঘুষি মেরে আবার বলল

“সালা ফাজিল কথাকার আমার সাথেই কেন এমন করে!

তনুজা চোখ কুঁচকে ভাবল।

“শুধু আমাকে বকার ধান্দা খুঁজে এই লোক!

অন্যদিকে তুষার রুমে এসে সশব্দে দরজা বন্ধ করে দিল।

বিছানায় শুয়ে মাথাসহ চোখ দুটো দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না।

বারবার তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে তনুজার বাইক চালানোর দৃশ্যটা।

শেষ বাঁকে যেভাবে বাইকটা স্লাইড করেছিল, তখন কয়েক সেকেন্ডের জন্য সত্যিই তার বুক কেঁপে উঠেছিল।

তুষার বিরক্তিতে উঠে দাঁড়াল।

“ইডিয়েট কোথাকারের।

রাগ কমানোর জন্য সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেল সে।

এই মুহূর্তে একটা ঠান্ডা শাওয়ার তার খুব দরকার।

আর তনুজা

রাগে নিজের সাথে কথা বলতে বলতেই শুয়ে মাথা বালিশেরর সঙ্গে চেপে। উল্টো হয়েছিল। হঠাৎ খাটে লাফ দিয়ে উঠে আসলো।

তুলোর মতো নরম ক্রিম রঙের লোমে ঢাকা ছোট্ট বিড়ালটা,গোল গোল কালো চোখ আর ঝাঁকড়া লেজ নিয়ে যেন এক টুকরো জীবন্ত পুতুল।ক্রিম রঙের তুলতুলে বিড়ালটা গোল চোখে চারপাশ দেখছিল,তার ঝাঁকড়া লেজ আর শান্ত চাহনিতে ছিল অদ্ভুত এক মায়া

তনুজার গা ঘেঁষে বসলো। তনুজার শরীরের উষ্ণতা পেয়ে। তনুজার বুকের পাশে শুয়ে পরলো

তনুজা মাথা টা উঁকি দিয়ে দেখলো একবার প্রানীটা কে

নাম তার মুলান

চলবে!

পর্ব সংখ্যা —১৮

অচেনা প্রনয়ের চিরকুট লেখিকা— তাসনিয়া জাহান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন