তনুজা ঠোঁট কামড়ে আবার লিখল
"আপনি একটা ভীতু লোক নয়তো নিজের আসল রূপে না এসে টেডি বিয়ার সেজে আসবেন কেন?
"আমি যদি নিজের আসল রুপেই তোমার সামনে আসতাম তাহলে কি আমাকে জড়িয়ে ধরতে?
"না কখনো না"
"তাই তো বলিনি।
তনুজা বিরক্তিতে চোখ উল্টালো।
"আপনি আসলেই একটা ফাজিল লোক।
"আপনি আমাকে ফলো করা বন্ধ করুন বিষয় টা খুব খারাপ দিকে যাচ্ছে এখন
ওপাশ থেকে কয়েক সেকেন্ড কোনো উত্তর এলো না।
তারপর শুধু একটা লাইন
—————
তনুজা থমকে গেল।অদ্ভুত মানুষ এগুলো কি?কি বলতে চান?
"আমি তো লাইন মারছিলাম"
তনুজা কপাল কুঁচকালো।
লোকটা কি ছোট বেলায় মাথায় আঘাত পেয়েছিল?
তনুজাও কিছু স্টার টাইপ করলো
************
একি তুমি আবার কি দিলে তুমিও কি লাইন মারছো নাকি?কিন্তু এগুলো তো লাইন না"
"ঠিক ধরেছেন এগুলা লাইন না" নিনআমিও আপনার জন্য আকাশ থেকে তারা নিয়ে আসেছি"
"ভেরি ফানি তনু তুমি ফ্লার্টিংও করতে পারো দেখা যায় আমি আরো ভাবি তুমি এখনো ছোটই যাক বেপার না বড় হও তাতে আমারই সুবিধা"
"মানে?আপনার সুবিধা অসুবিধা হতে যাবে কেন আমার বড় ছোট দিয়ে?
"আছে ওসব আবার তুমি বুঝবে না সময় হোক নিজ চোখেই দেখে নেবে কেমন"
"আপনি খুব অদ্ভুত লোক আমি আপনাকে বুঝে উঠতে পারি না"
"এটাই তো সমস্যা তুমি আমাকে বুঝো না"
লোকটা আসলে খারাপ না।সে লোকটার সাথে কথা বলে বেস ফ্রেশ ফিল করে।লোকটা খুব চেষ্টা করে যেনো সে হাসে।কিন্তু তনুজা এতো সহজে কাউর মিষ্টি কথায় গলে যাওয়ার মানুষ না।
"আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে"
আমার জন্য?
"হুম শুধুই আপনার জন্য"
"সারপ্রাইজ?আপনি দয়া করে আর উল্টাপাল্টা কোন কাজ করবেন না।
"আরে উল্টাপাল্টা কাজ না আই এম সিওর তোমার সেটা খুব পছন্দ হবে"
তনুজা এবার সত্যিই বিরক্ত হয়ে গেল।এই লোক তার জন্য কেনো এতো কিছু করছে আলস মতলব টা কি?
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো।বিরক্তির মাঝেও তার হাসি পাচ্ছে।
তনুজার লোকটা কে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। লোকটা আসলে কেমন?পাগল?ফাজিল?
নাকি
তার তুষার ভাইয়ের মতো রুক্ষ বদমেজাজি রাগী?
নাকি একেবারেই অন্যরকম?সে নিজেও বুঝতে পারছে না।
আর ঠিক তখনই
রাহা পাশ থেকে তার কাঁধে চাপড় মেরে বলল
"কিরে?একা একা হাসছিস কেন?
আসমা আন্টি কোথায় চল চলে যাই?
তনুজা নিজের ভবনা থেকে বের হলো।
সে ভুলেই বসেছিল সে যে কোনো জায়গায় আসেছিল সামনে কেউ আছেও নাকি নেই। সে ভাবলো কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল সে?
"কিরে কি হলো?
"হুম;কি বল?
রাহা চোখ গুলো ছোট ছোট করে তাকালো তনুজার দিকে
"তনু দেখতো কিছুর গন্ধ পাচ্ছিস কিনা?
তনুজা রাহার কথা মতো নাক উচু করে শুকতে লাগলো
"কই না তো পাচ্ছি না! কিসের গন্ধ পাচ্ছিস তুই?
"আরে গন্ধ না ভুল বলেছি প্রেম প্রেম গ্রান পাচ্ছি!
তুই পাচ্ছিস না? তুই পাবি কোথা থেকে" নিজের পা'দের গন্ধ কি কেউ পায়?
"ছিঃ কি বলছিস এসব?মাথাটা কি গেছে?কিসের প্রেম প্রেমের আবার গ্রান হয় নাকি?
রাহা অপলক তনুজার দিকে তাকিয়ে রইল;
আমাকে শিক্ষাতে এসেছিস তোর হার ঘোর সব চিনা আমার,প্রেমে পুরোপুরি করিস নি কিন্তু পড়তে কতক্ষণ?
এই যা তো ফালতু কথা ছাড় বাসায় যাবো চল তাড়াতাড়ি
হ্যাঁ হ্যাঁ চোর চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলে কত কি অজুহাত দেখায়?
তনুজার বিরক্ত লাগলো রাহা কি বলছে সে এই সম্পর্কে কিছুই বুঝছে না;
আসমা বেগম থেকে বিদায় নিয়ে তারা বাড়ির পথে হাঁটা শুরু করলো"
বাড়িতে ফিরে তনুজা আর রাহা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিল।
ঠিক তখনই রুবি বেগম ডাক দিলেন
"এই তনু!
তনুজা নিচে তাকাল।
"জি মামনি?"
"তোর পার্সেল এসেছে।
তনুজা অবাক হলো সে তো কোনো কিছু অর্ডার করেনি।
"আমার পার্সেল?
"হ্যাঁ।
"ওই টেবিলের উপর রাখা।
তনুজা নিচে নেমে এলো সাথে রাহা ও।
টেবিলের উপর মাঝারি সাইজের একটা বক্স রাখা।
প্রেরকের নাম নেই
শুধু তার নাম আর ঠিকানা লেখা
তনুজার ভ্রু কুঁচকে গেল।
"আজব
সে বক্স টা হাতে তুলে নিল।
রাহাও কৌতূহলী হয়ে পাশে এসে দাঁড়ালো।
"খুল খুল!দেখি কে পাঠাইছে।
তনুজা ধীরে ধীরে র্যাপিং পেপার খুলল
তারপর বক্স এর ঢাকনা সরাতেই দুজনেই অবাক হয়ে গেল।
ভেতরে সুন্দর করে সাজানো একটা বুক বুকে।
মোট সাতটা উপন্যাস এর বই! তনুজার মাথায় আসছে না কিছুই। সে সচারাচর নিজের উপন্যাস এর বই গুলো পড়া শেষ হলে। নতুন বই খুজে লিস্ট বানিয়ে তুষারকে দেয়। এখানে এইসব উপন্যাসের বই পাওয়া যায় না।তুষারের এক বন্ধুর বাংলাদেশে লাইব্রেরী আছে সে সেখান থেকেই এগুলো অর্ডার করে কুরিয়ার করে পাঠায়।
এইবার ও লিস্ট বানিয়ে রেখেছিল।কিন্তু তুষারের সাথে মনোমালিন্যের জন্য বলার দেওয়ার সময়ই হচ্ছিল না।
তনুজার অবাকের উপরে অবাক হচ্ছে।সে বই গুলো সাইডে রেখে বক্সের ভিতরে নজর দিল সেখানে একটা আরো একটা বক্স আছে সে সেটা বের করে খুলতেই। চোখ গুলো বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো।
একটা নেভিব্লু রংঙের সিল্কের শাড়ি সাথে চুড়ি আছে কয়েক রংঙের।
পাশে ছোট্ট একটা ভাজকরা নোট
তনুজা নোট টা খুলল;
—অচেনা প্রনয়ের চিরকুট—
চলবে
পর্ব সংখ্যা —২০
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট লেখিকা— তাসনিয়া জাহান