ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

২২তম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

রবিবারের সকালগুলো লন্ডনে যেন একটু ধীর গতিতে এগোয়।ব্যস্ত শহরটাও এই একটা দিনে কিছুটা শান্ত হয়ে যায়।জানালার কাঁচ ভেদ করে আসা মৃদু রোদ পুরো ঘরটাকে আলোকিত করে তুলেছে

কালো রঙের তনুজা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুলগুলো ঠিক করছিল

আজকে তার পরনে ছিল সাদা রঙের একটা ওবার সাইজ শার্টের ভিতরে কালো রঙের টোপ,আর হালকা নীল ডেনিম জিন্স।চুলগুলো খোলা,শুধু সামনের কিছু চুল কানের পেছনে গুঁজে দিয়েছে।সাজগোজে খুব বেশি কিছু না করলেও তার মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যটাই যেন যথেষ্ট।

আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকেই দেখে একটু বিরক্ত হলো।রবিবারের সকালটা তার প্রায় ঘুমিয়েই পার হয়

কিন্তু এসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বলে সকাল সকালই বের হতে হবে

ধুর

ইউনিভার্সিটি থেকে বের হওয়ার সময় দুপুর দিকে আকাশটা একটু মেঘলা হয়ে এসেছিল।তনুজা,রাহা রোজ আর আদিতি একসাথে হাঁটছিল

এসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার কাজ শেষ।এখন তাদের মাথায় শুধু একটা চিন্তা কোথাও গিয়ে একটু সময় কাটানো।ঠিক তখন রাহার ফোন বেজে উঠল

তোরা দাঁড়া,আমি এক মিনিট আসছি

বলেই সে একটু দূরে সরে গেল

তনুজা,রোজ আর আদিতি অপেক্ষা করতে লাগল

তখনই

একটা কালো রঙের গাড়ি এসে তাদের সামনে থামল।

তনুজা ভ্রু কুঁচকালো।অদিতিও অবাক হয়ে তাকালো।

কিন্তু রোজের মুখে কোনো অবাক ভাব নেই।গাড়ির দরজা খুলে একজন নামল

নীল জিন্স এর সাদা টিশার্ট।লম্বা,ফর্সা মুখ।বাদামি চুলগুলো হালকা এলোমেলো।বিরাল চোক্ষুর ঝিলিক।জ্যাক

সে গাড়ির দরজা বন্ধ করে হাসতে হাসতে তাদের দিকে এগিয়ে এলো।তনুজা মনে মনে বলল

আবার শুরু করবে এখন।রোজ নিচু গলায় বলল

“কাল বাবা ওকে এই গাড়িটা কিনে দিয়েছে

তনুজা তাকালো

ওহ তাই আজ প্রদর্শনী চলছে?

জ্যাক সামনে এসে বলল

হেই গার্লস,হোয়াটস আপ?

আদিতি ভদ্রভাবে উত্তর দিল

“উই আর গুড

জ্যাক গাড়িটার দিকে তাকিয়ে বলল

“গেস হোয়াট? ডু ইউ লাইক মাই নিউ কার?

আদিতি চোখ ঘুরিয়ে বলল

“সো ইউ কেইম হিয়ার জাস্ট টু শো ইউর কার?

জ্যাক হাসল

ইয়াহ, ইউ আর রাইট ডার্লিং

বলেই মজা করে চুমু দেওয়ার ভঙ্গি করল

আদিতি সাথে সাথে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল

তনুজা ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে বলল

“তাহলে গাড়ি দেখানো শেষ?নাকি আরো কিছু দেখানোর বাকি আছে?

জ্যাক এবার তার দিকে তাকালো।সেই আগের মতো

মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকানো।তনুজার বিরক্তি লাগলো।

কারণ জ্যাক যখনই তার সামনে আসে তখনই এরকম ভাবে আপাদমস্তক সব দেখবে

জ্যাক একটু কাছে এসে হাসল

“ইয়াহ বেবি,আই ওয়ান্ট টু শো ইউ এভরিথিং অ্যান্ড আই ওয়ান্ট টু সি ইয়োরস টু

তনুজা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বাংলায় একটা গালি দিলো।যেটার মানে জ্যাক বুঝল না।কিন্তু বুঝল এটা কোনো প্রশংসা না।তবুও সে হেসে উঠল

"ইউর বেঙ্গলি ইনসাল্টস আর কিউট

তনুজা চোখ উল্টালো।এই লোকের কখনো অপমানবোধ হয় না?

ঠিক তখনই

পেছন থেকে আরেকটা গাড়ির শব্দ ভেসে এলো সবাইয়ের দৃষ্টি সেদিকে চলে গেল।গাড়িটা এসে থামতেই দরজা খুলে নামল আরেকজন পুরুষ।বিদেশিদের বয়স বোঝা কঠিন।তবে দেখে মনে হচ্ছে ত্রিশের কাছাকাছি বয়স হবে।লম্বা গড়ন।পরিপাটি পোশাক।চোখে এক ধরনের আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টি

তনুজা,রোজ,আদিতি তিনজনই তাকিয়ে রইল

কিন্তু এইবার রোজের কপালে হালকা ভাঁজ পড়ল

তারপর তনুজা আদিতিকে বলল

“জ্যাক এর মামা লোকটার দৃষ্টি ভলোনা

এতবছর শুধু শুনেছেই এই লোকের নাম তবে তনুজা রাহা আদিতির সামনাসামনি দেখার সুযুগ হয়নি

আদিতি অবাক চোখে তাকালো।তনুজা আদিতি কে হাত দিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল।সেক্সি মামা

অদিতি ঠোঁট টিপে হাসলো

এর মধ্যেই লোকটা সামনে এগিয়ে এলো

আর তাকে দেখেই জ্যাক-এর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল

অ্যালেক্স

বলেই জ্যাক এগিয়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল

আ্যালেক্স হাসতে হাসতে জ্যাক-এর পিঠ চাপড় দিল

“হেই বাডি

অ্যালেক্স আর জ্যাকের বয়সের পার্থক্য পাঁচ বছরের মতো তাদের দুজনের সম্পর্ক বন্ধুের মতো।কিন্তু আপন মামা নয়

তারপর পরিচয় করিয়ে দিল

“গাইজ,মিট মাই আঙ্কেল অ্যালেক্স

অ্যালেক্স এর দৃষ্টি ঘুরে এলো রোজ এর দিকে। কিন্তু সেই দৃষ্টিতে ছিল না কোনো স্বাভাবিকতা।ছিল অস্বস্তিকর এক ধরনের মুগ্ধতা

রোজ সেটা বুঝতে পারলো।কারন সে অভস্ত্য এইসবে

না চাইতেও সে জিজ্ঞেস করলো অ্যালেক্স কে

“হাউ আর ইউ,আঙ্কেল অ্যালেক্স?হোয়েন ডিড ইউ কাম টু লন্ডন?

অ্যালেক্স নিজের দৃষ্টি সরিয়ে আনলো ধিরে সুস্থে

তারপর মুচকি হেসে বলল

“আই’ম গুড সুইটহার্ট।হোয়াট অ্যাবাউট ইউ?

কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল

“ইউ লুক ডিফারেন্ট,আই মিন,ইউ হ্যাভ বিকাম মোর দ্যান সেক্সি বিফোর

রোজ অস্বস্তি লুকানোর চেষ্টা করল।কিন্তু তনুজা সেটা লক্ষ্য করল।কারণ অ্যালেক্স এর কথার চেয়েও বেশি।

জ্যাক তখনো কিছু বুঝতে পারেনি।কারণ রোজ তার সৎবোন।তাদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো সে এভাবে ভাবেনি

বরং এইসব কথায়ও তার কোনো ভাবভাবান্তর দেখা গেলো না

তনুজা তার দিকে তাকাতেই দৃষ্টি তে দৃষ্টি মিলল।জ্যাক তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো

তারপর মুখে হাসি রেখেই চোখ সরিয়ে অ্যালেক্স এর দিকে তাকালো কিন্তু

অ্যালেক্স এর দিকে দৃষ্টি যেতেই জ্যাক-এর মুখের হাসি মিলিয়ে গেল

কারণ অ্যালেক্স এইবার নজর দিয়েছে তনুজার উপরে।

অ্যালেক্স এর কুদৃষ্টি সম্পর্কে জ্যাকের অজানা নয়।

রোজ তৎক্ষণাৎ অ্যালেক্স এর দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বলল

“ডোন্ট ডু দিস

অ্যালেক্স অবাক হয়ে তাকালো।

রোজ দাঁত চেপে বলল

এই ধরনের আচরণ সে পছন্দ করে না। আর যদি তুমি আবার এভাবে তার দিকে তাকাও, তাহলে আমি শপথ করে বলছি যে আমি তোমার চোখ উপরে ফেলব

আর জ্যাক?

তার মাথায় যেন রক্ত উঠে গেল।

পরের মুহূর্তেই সে অ্যালেক্স এর কলার ধরে ফেলল।

“ডোন্ট লুক অ্যাট হার।”

তার গলা ঠান্ডা। কিন্তু ভয়ংকর

“শি ইজ মাইন।”

অ্যালেক্স কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল।

তারপর হেসে ফেলল।

“রিল্যাক্স, জ্যাক। আমি কেবল তার সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করছিলাম। তুমি তো মাইন্ড করলে বাডি।

জ্যাক-এর চোখ তখনো কঠিন।সে বলল

ওকে নিয়ে কোনো মজা নয়! মাইন্ড ইট অ্যালেক্স।

তনুজা এগিয়ে এসে শান্ত গলায় বলল

ভাগ্য ভালো আপনার। কারণ আমি একজন নির্দিষ্ট মানুষের জন্য নিজের সীমার মধ্যে থাকি। নয়তো আপনাদের মতো মানুষ কে নাচানো আমার কাছে কোনো ব্যাপারই ছিল না।”

অ্যালেক্স কথাটা শুনেই এক গাল হাসলো।

জ্যাক তাকে ছেড়ে দিল। তারপর রাগী গলায় বলল

"তোমাকে আমার এখানে নিয়ে আসাটাি ঠিক হয়নি"

অ্যালেক্স এর দিকে তাকিয়ে বলল

“কাম উইথ মি”

সে চলে যেতে শুরু করল।

কিছুদূর গিয়ে অ্যালেএক্স আবার পিছনে তাকালো।

এবার তার চোখ পড়ল আদিতির দিকে।

আদিতি সেটা বুঝতেই মুখ বাঁকিয়ে বলল

"তোর নজর ঠিক করতে আমার এক মিনিট ও সময় লাগবে না সালা।একদম জায়গা মতো এমন এক লাথি মারবো যেটার জন্য এইভাবে শকুন নজরে তাকাচ্ছিস তা আর কাজিই করবে না।

অ্যালেক্স ঠোঁট কামড়ে হাসল।তারপর যেতে যেতে বলল

“সি ইউ সুন সেক্সি গার্লস”

এতক্ষণ চুপ থাকা তনুজা এবার,রোজ এর দিকে তাকিয়ে একটা চোখ টিপে বলল

তোর মামার জন্য একটা গান মনে আসলো বলবো?

তিনজন একে অপরের দিকে তাকালো।

তারপর একসাথে গাইতে শুরু করল

“I'm your girl

I'm your girl

I'm your mama

Come on boy

Don't be shy

Don't want drama”

Belladonna;

“Sexy mamaa

শেষের লাইনটা তিনজনই হাসতে হাসতে শেষ করলো।

রাহা নিজের কথা শেষ করে এসে দেখে তারা তিন জনই পাগলের মতো হাসছে।

"কিরে তোরা পাগল হয়ে গেলি আমাকে ছেড়েই

আমি আসতে আসতে একটু অপেক্ষা হলো না তোদের?

তনুজার হাসি যেনো থামছেই না। সে হাসতে হাসতে লুটপাট হয়ে যাচ্ছে যেনো।

খুব কষ্ট করে হাসি থামিয়ে বলল

"সেক্সি মামা"

রাহার কপাল কুঁচকালো।

কি বলছিস?

রাহা তাদের হাসির কারন খুঁজছে;

অনেক কষ্টের পর হাসি থানিয়ে তাদের প্লান হলো তারা “মাইল এন্ড পার্ক লেজার"যাবে আজ যেহেতু রবিবার তাই সেখানে খেলা হবে একেক রকমের।

তাদের ইউনিভার্সিটির থেকে খুব কাছেই যেহেতু তাই হেটেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত হল—

মাইল এন্ড পার্ক লেজার-এ পৌঁছানোর পর চারপাশের পরিবেশটা যেন তনুজার মনটাকেও কিছুটা শান্ত করে দিল। সবুজে ঘেরা বিশাল জায়গা। দূরে মানুষের হাঁটাহাঁটি। কোথাও বাচ্চাদের হাসির শব্দ।

আর একটু দূরেই খোলা জায়গায় ফুটবল খেলার জন্য তৈরি করা টার্ফ। বিভিন্ন খেলা হয়ে থাকে এই জায়গায়।

তনুজা, রাহা, রোজ আর আদিতি হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যাচ্ছিল।

রোজ আর আদিতি, রাহা সামনে এগিয়ে গেল।

তনুজা ফোন এ অপরিচিত মানুষটাকে মেসেজ করতে করতে আগিয়ে যাচ্ছে তাদের পিচু কিছুটা পিছনে পড়ে গেল সে।

"আপনি এত্ত গুলো গিফট দিলেন কেনো??

আপনিও আপনার এড্রেস বলেন আমিও আপনাকে কিছু দিতে চাই। আমি কাউর কিছু এই ভাবেই ফ্রি তে নিতে পারি না। সময় করে নিজের এড্রেস টা দিবেন।

ঠিক তখনই

তার নাকে একটা পরিচিত গন্ধ এসে লাগলো।খুব পরিচিত। যে গন্ধটা তার ভীষণ প্রিয়।

তনুজা থেমে গেল।“ডিওর সোভাজ পারফিউম।”এর গ্রান।

চারপাশে তাকাতে লাগলো।মনে হলো কোথাও যেন এই গন্ধটা লুকিয়ে আছে। তার চোখ গিয়ে থামলো একটা বেঞ্চের দিকে। বেঞ্চের উপর একটা ব্যাগ রাখা।

তার উপর কিছু জামাকাপড়। আর সবার উপরে একটা সাদা রঙের টি-শার্ট। তনুজার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠলো।

সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে টি-শার্টটা তুলে নিলো।কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলো।তারপর অজান্তেই চোখ বন্ধ করে গন্ধটা নিলো। আর খুব আস্তে করে ফিসফিস করে বলল;

"তুষার ভাই?

বল"

পেছন থেকে গম্ভীর কণ্ঠ শুনে তনুজা চমকে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে চোখ খুলে পেছনে তাকালো। আর মুহূর্তেই থেমে গেল।তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে তুষার।

রবিবারে অফিস বন্ধ থাকায় তুষারের নিয়মিত রুটিন থাকে। তার বন্ধুের সাথে ফুটবল খেলা। তারা সকাল থেকে ফুটবল ম্যাচ খেলায় যায় তা বিভিন্ন জায়গায় হয়ে থাকে।তনুজা ভেবেছিল আজও হয়তো কোথাও গিয়েছে কে যানতো এইখানেই এই ডিপজল এর সাথে দেখা হয়ে যাবে।

তুষারের ভেজা চুল কপালের ওপর পড়ে আছে। গায়ের ফুটবল জার্সিটা ঘামে ভিজে গেছে। তার ফোর্সা মুখটা ক্লান্ত লাগছে।তবুও সেই চেনা গম্ভীর ভাবটা মুখে রয়ে গেছে।

তনুজা কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়েই রইলো।

তুষার তার গলার কাছে একটু ঝুঁকে তাকিয়ে বললো

এই ভাবেই যার না তার টিশার্টের গ্রান নিস?

তুষারের ভেজা চুল কপালের ওপর পড়ে আছে।গায়ের ফুটবল জার্সিটা ঘামে ভিজে গেছে।ফোর্সা মুখটা ক্লান্ত তবুও সেই চেনা গম্ভীর ভাবটা মুখে রয়ে গেছে

তুষার তার গলার কাছে একটু ঝুঁকে তাকিয়ে বললো

"এই ভাবেই যার না তার টিশার্টের গ্রান নিস?

এভাবে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

তনুজা সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো

সে নিজেকে স্বাভাবিক করে ঘুরে দাঁড়ালো।তারপর পেছনে তাকালো।মাঠে ফুটবল খেলা চলছে

সাইফ আর আবিরও আছে।কিন্তু তার চোখ আটকে গেলো আরেকজনের দিকে

"জুমানা

তনুজার ভ্রু কুঁচকে গেলো

সে আবার তুষারের দিকে তাকালো।তুষার তার রাস ভারী কন্ঠেই বলে উঠলো

"এখানে কি করছিস?বাসায় যা

তনুজা চোখ বড় করলো

এভাবে শিং ওয়ালা ষারের মত চিলাচ্ছো কেনো?ভালো ভাবে কথা বলতে পারো না?এমন ভাব করছো যেন আমি তোমার দাদার সম্পত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছি

তুষারের মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠলো

"ইডিয়েট

তনুজা থামলো না

"আমার জানা মতে ফুটবল খেলায় দুই পক্ষ একই রকম হয়। কিন্তু এখানে তো নতুন কিছু দেখছি

তুষার ব্যাগ থেকে তোয়ালে বের করে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে তনুজার তাক করা দৃষ্টির দিকেই তাকালো

তুষার বুঝলো তনুজা কিসের কথা বলছে তবে বুঝেও না বুঝার ভান করে জিজ্ঞেস করলো

কিসের কথা বলছিস?

তনুজা চোখ সরু করলো

আপনি কি ছোট বাচ্চা?যে পানি কে মাম মাম বলছেন?

তুষার কপাল কুঁচকে তাকালো

আমি বাচ্চা?

"তাই তো মনে হচ্ছে

তনুজা মাঠের দিকে তাকিয়ে বললো

ফুটবল খেলতে নামলে দুই পক্ষই ছেলে হবে,না হয় দুই পক্ষই মেয়ে হবে।এখানে ছেলে-মেয়ে একসাথে কী করছে?

তুষার ঠোঁটের কোণে অল্প একটা হাসি ফুটলো

কিন্তু সেই হাসির মানে বোঝা গেলো না

তুষার শান্ত গলায় বলল

"ছেলে-মেয়ে একসাথে কী করে?

তনুজা দ্রুত তার দিকে তাকালো।চোখে চোখ পড়তেই সে একটু থেমে গেল।অস্বস্তিকর অনুভব হলো তার

"কি বলছেন আপনি?

"তুই যা বলছিস

তুষার হালকা হাসল

আমি বলছিলাম যেকোনো খেলায় দেখা যায় দুই পক্ষে হয় ছেলে নয় মেয়েরা খেলে কিন্তু এখানে তার উল্টো।ওই মেয়ে এখানে কি করে?

তুষার এক চোখ মেরে শুধু বললো

দেখতে থাক

বলেই আবার মাঠের দিকে চলে গেলো।

তনুজা সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল

মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট

রাহা,রোজ আর আদিতি বিল্ডিং এর ভিতরে ঢুকে আবার বের হয়ে আসলো তনুজাকে তাদের সাথে না পেয়ে তনুজাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এলো

"কিরে?এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?ভিতরে যাবি না?

তনুজা বিরক্ত গলায় বলল

না এখানেই বস খেলাধুলা হচ্ছে

বলেই বেঞ্চে বসে পড়ল

রাহা,রোজ,আদিতি একে অপরের দিকে তাকালো

তনুজা তাদের কে ইশারা করে বসতে বলল।তনুজার এই অদ্ভুত আচরণের কারণ কেউ বুঝতে পারল না

মাঠে জুমানা কালো জার্সি পরে দাঁড়িয়ে আছে

সাথে তার কিছু বন্ধু।জুমানা তনুজাদের ইউনিভার্সিটিরই ছাত্রী,তবে তাদের থেকে দুই ব্যাচ সিনিয়র।মেয়েটাকে তনুজা বেশ ভালোই চেনে

চেনার কারণও আছে

পুরো ইউনিভার্সিটিতে জুমানার নাম কম নয়।ছেলেদের সাথে অতিরিক্ত মেশা,একজনের পর আরেকজনের সাথে ঘুরে বেড়ানো,এসব নিয়েতার পরিচিতি আছে

তনুজার চোখ বারবার সেদিকেই আটকে যাচ্ছে

মেয়েদের ফুটবল খেলা নিয়ে তার কোনো সমস্যানেই কিন্তু ব্যাপারটা হলো

এখানে আর কেউ ছিল না?ওছেলেদের খেলার মধ্যে কি করছে?তারাই বা কেনো ওকে নিলো?

তনুজার বিরক্তির মাঝেই হঠাৎ রাহা চিৎকারকরে উঠল

তুষার ভাই"

তনুজা চমকে তাকালো।সাথে রোজ,অদিতিও

রাহা উঠে দাঁড়িয়ে বলল

আমি এখানে নাই ভাই,গেলাম

বলেই চলেযেতে চাইছিল সে

কিন্তু তনুজা সাথে সাথে রাহার হাত ধরে বসিয়ে দিল

কোথায় যাচ্ছিস?

রাহা অসহায় মুখকরে তাকালো

আরে তুষার ভাই

তনুজা ভ্রু কুঁচকে বলল

হ্যাঁ তো?

রাহা মুখ বাঁকালো

বকবে।বলবে ক্লাস রেখেএখানে ঘুরাঘুরি করছি

তনুজা বিরক্ত হয়ে চোখ উল্টালো

যা বলার আমাকে বলে চলে গিয়েছে তোর ভাই আমাকে বলার পর আর কিছু রাখেতোদের বলার জন্য?

তারপর মাঠের দিকে তাকিয়ে দাঁত চেপে বলল

তোর ভাই লুশুপুশু করছে মেয়েদেরসাথে,দেখতে পাচ্ছিস না?

রাহা এতক্ষণে জুমানার দিকে খেয়াল করল

চোখ দুটো পিটপিট করেতাকিয়ে রইল তনুজার দিকে

তারপর ফিসফিস করে বলল

এই বাবা!এই মেয়ে আমার ভাইয়ের সাথে কী করছে? সর্বনাশ!আমার ভাইটাকেউ শেষে ছাড়লো নাএই হারামজাদি?

তনুজা বিরক্ত চোখে তাকালো

চুপ করবি তুই?

রাহা এবার সত্যিই চুপ করেগেল।বাকি দুজনও নিজেদের ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়েপড়ল

একপর্যায় জুমানা তাদের দিকেই উঠে আসতে লাগল

তুষারের পাশের ব্যাগটা জুমানার।তনুজার চোখ সেই ব্যাগের দিকে যেতেই মনে মনেভাবল

আগে জানলে আগুন লাগিয়ে দিতাম

জুমানা নিজের ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করল পানি খেতে খেতে টার্ফ এর দিকে তাকালো

মুখে হাসি।তনুজা সবকিছুই লক্ষ্যকরছিল

সে উঠে দাঁড়িয়ে জুমানার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো

গলা খাঁকারি দিয়ে বলল

উমম হুমম

"তোমাকে ছেলেদের মন নিয়ে খেলা করাই মানায়।এইসব খেলায় না।তোমার সাথে একদম যাচ্ছে নাবিশ্বাস করো"

জুমানা পাশ ফিরে তাকিয়ে রইল তারপর ভালো করে তনুজার দিকে তাকালো মেয়েটাকেসে চিনে

তনুজা আয়রা,রাইট?

তনুজা মাথা নাড়ল

হুম

জুমানা মৃদু হাসল

এখানে কী করছো?

তনুজা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল

তোমার নাটক দেখছিলাম

চলবে;

পর্ব সংখ্যা —২২

অচেনা প্রনয়ের চিরকুট লেখিকা— তাসনিয়া জাহান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন