ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

২৩তম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

স্টেডিয়াম থেকে ফিরতে রাহা তনুজা বিকেল করেছে। তখন আর তুষারের খেলা দেখা হয়নি। আর না জুমানার সাথে তর্ক করতে পেরেছে।রাহা,অদিতি,রোজ—তনুজাকে সেখান থেকে এক প্রকার জোড় করে নিয়ে এসেছে।

শহরটার বুকে কালো অন্ধকারে ঢেকে পরেছে।রাত নামলে গ্রিনউইচ যেন দিনের চেনা রূপ বদলে এক অন্য জগতে হারিয়ে যায়।টেমস নদীর কালো জলের ওপর শহরের আলো ঝিলমিল করে,প্রতিটি আলো আর প্রতিটি নীরবতার ভেতরে লুকিয়ে থাকে অজানা কোনো গল্প।

Karle Karle;

Thodi Nadaaniyan

Mujhe Aadhi Raat Ko Sataane

Lage Mujhe Apne Saath

Tadpaane Lage Tu Aaja Paas,

Ye Bulaane Lage Tujhe Chhoona Chaahe Mere Ye, Mere Ye

Mer Pink Lips,Pink Lips,Pink Lips,Pink Lips,Pink Lips,Pink Lips

ল্যাপটপ এ গভীর মনোযোগ দিয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে কিছু দেখছিলো।কিন্তু হেডফোন ভেদ করে গানের আওয়াজ টা কানে ঢোকা মাত্রই।তুষারের চেহারায় বিরক্তির দেখা মিললো।তবে সেই দিকে ধেন দিতে নারাজ সে। কিন্তু তার মনোযোগে বাঁধা পরছে বার বার।না চাইতেও উঠে রুম থেকে বাইরে বের হলো।মুলত গানের শব্দের উৎস খুঁজতে।বের হয়েই বুঝতে পারলো গানের শব্দটা আর কোনো জায়গা থেকে না তার পাশের রুম থেকেই আসছে।

তুষার বিরক্তি নিয়েই।দরজার সামনে গেলো। হালকা ধাক্কা দিতেই দরজা টা খুলে গেলো।

রাহা তনুজা মিলে গানের তালে তালে নাচছে দুইবোনের নাচ-গানের শব্দ নিচ পর্যন্ত কাপিয়ে তুলছে।

ফুল সাউন্ড এ গান বেজেই চলেছে।কার কি হলো তাতে তাদের বিন্দু পরিমান খেয়াল নেই।

রাহা নাচতে নাচতে হঠাৎ দরজার দিলে নজর পরলো।

তুষার হারানো চোয়াল নিয়ে দারিয়ে আছে।বুঝাই যাচ্ছে বেশ বিরক্ত সে।

রাহা নাচা বাদ দিয়ে তনুজাকে হাত বাড়িয়ে ডাক দিলো।

কিন্তু তনুজার কোনো ভাবান্তর হলো না সে নিজের মতো করে নেচেই চলেছে।সাথে গানের কিছু লাইন গাইছে।

রাহা দুইবার ডাক দেওয়াতে তনুজা ঝাড়ি মেরে রাহার হাত সরিয়ে দিয়েবলল।

দূর বিরক্ত করিস না তো"

রাহা তাকে বলতেই যাবে কিছু তার আগেই।তিষার ইশারা দিয়ে তাকে বপর হতে বলল।

রাহা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে।এক বার তনুজার দিকে তাকিয়ে বের হয়ে পরলো।

তনুজা গানের একেক টা শব্দ গেয়েই চলেছে।

"মুঝে আধি রাত কো সাতানে লাগে"মুঝে আপনে সাথ তারপানে লাগে।

"এই গানের লিরিক্স গুলোর মানে জানিস?

তনুজা ভয় পেয়ে পিছু ঘুরে তুষার কে দেখে দুপা পিছিয়ে যায়।

তুষার ফের বলল।

কি জানিস মিনিং গুলো?শুনছিস নাচছিস যেহেতু জানার কথা।তা বল তো আমাকে মিনিং গুলো।

তনুজা তুষারের দিকে তাকাতে পারছে মনেমনে নিজেকে ঝারছে।

"দূর এই বেটা সব দেখে শুনে ফেলেছে"এখন আবার গানের মিনিং বলতে বলছে;ছিঃছিঃ তাকি তাকে বলা যাবেনাকি?

তুষার টাউজার এর পকেটে দুহাত গুঁজে তনুজার সামনে এগিয়ে গিয়ে দারালো।

তনুজা মাথা নিচু করে আর চোখে একবার দেখলো রাহা কোথায়?মেয়েটা তাকে বাঘের খাঁচায় একা রেখে চলে গিয়েছে?দোষ অবশ্য তার মেয়েটা তো তাকেডাক দিয়েছিলোই।সেই নাচার তালে পরে ধেয়ান দেয়নি।

"আপনি কি করছেন আতো কাছে আসছেন কেনো?

তনুজা মাথা নিচু করেই প্রশ্ন টা করলো তখনও গান ফুল ভলিউম এচলেই যাচ্ছে।

তুষার বলল

"না জানলে যেনে রাখিস"ইন ফিউচার দরকার পড়বে তোর"

বলেই চলে গেলো।তনুজা ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকলো আর তুষারের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল

"কি বলে এই লোক গানের মিনিং আবার কাউর ভবিষ্যতে দরকার হতে পরে তা তো শুনেনি?

——————

তনুজার রুমএ শুয়ে আছে রাহা তনুজা,হামজা

তখন তুষার যাওয়ার পর দুই ভাই বোনই তার ঘরে ঢুকেছে। তনুজা আচ্ছা মতো আগে রাহা কে বকেছে তাকে কেনো ডাক দিলো না একা রেখে পালালো কেনো?

সেভয় পেয়েছেনা।রাহা হামজা হাসতে হাসতে লুটুপুটি খেয়ে এখন শুয়ে আছে।

হামজা গান টা চেইঞ্জ করে নিজের পছন্দের গান লাগিয়েছে সাউন্ড বক্সে গান ছেড়ে ফ্লরে শুয়ে আছে।তবে আগের চেয়ে কম সাউন্ড দিয়ে।নয়তো দেখা যাবে এইবার তাদের কে ঘর থেকেই বের করে দিয়ে যাবে।হামজার হাতে ফোন মনোযোগ ফোনে থাকলেও মুখে গানের শব্দ গুলো গেয়ে যাচ্ছে।

Khush numasa hai mera

Betahasha lamhon ka ghera

Dil ibadat se pareshan

Hamqadam—hamqadam

তনুজার সেসবে খেয়াল নেই। বিছানায় শুয়ে হাতে ফোনটা নিয়ে সেই বিকালে পাঠানো অচেনা মানুষটার মেসেজটা দেখলো।বাসায় এসে সময় মেলেনি।সারাদিন কথাও হয়নি তেমন।

অচেনা মানুষটা খুব অদ্ভুত কথা বলে যা তনুজার মাথার উপর দিয়ে যায়।কিন্তু সে ভালোই বুঝে লোকটা যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাকে পটানোর।

সে বলল তার ঠিকানা টা দিতে তাকেও যেনো তনুজা কিছু গিফট দিতে পারে সে তো ফ্রিফ্রি তার দেওয়া গিফট নিবে না। অচেনা মানুষ টার ঠিকানা তো দূর থাক নামি জানে না।ঠিকানা যানা থাকলে নিশ্চয়ই গিফট গুলোফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করত।

লোকটা তাকে রিপ্লে তে কি বলল

"আমার যা কিছু আছে সব তো আপনারই,আর আপনার যা আছে তাও আমারই। তাই না?

তাই আমার কিছু লাগবে না। আপনি খুশি হয়েছেন আমার গিফট পেয়ে তাতেই অনেক।

তনুজা পাশে শুয়ে থাকা রাহা কে ডাকলো—

রাহা"

হুমম

রাহা নিজের ফোনে মগ্ন থেকেই উত্তর দিলো।

দিন তো কম হলো না। এখন বল তো তোর কি মনে হয়। এই অচেনা লোকটা কে হতে পারে??

রাহা নিজের ফোনটা পাশে রেখে উঠে তনুজার মুখো মুখি হয়ে শুলো;

"দেখ যা বলিবো সত্যি বলিবো সত্যি ছাড়া মিথ্যা বলিবো না"

"হুম বলেন"

"আমি যদিও এতো দিন বলেছি যে হয়তো আমাদের চিনা পরিচিতই কেউ হবে। কিন্তু এখন আমার কেনো যানি মনে হচ্ছে। পরিচিত কেউ হবে না হয়তো"

"কেনো এমন মনে হলো কেনো?

তনুজা রাহার কথা শুনে উঠে বসলো।

রাহা বলল;

কারন দেখ সময় কিন্তু অনেক হলো। লোকটার শর্ত মতো তুই কথাও বলেই যাচ্ছিস। কিন্তু লোকটা না নিজের নাম বলল আর না কোনো ভাবে ধরা পরলো। চালাকচতুর লোক খুব সাবধানে সব কিছু করছে। পরিচিত কেউ হলে এতো দিনে কোনো না কোনো ভাবে ধরা পরে যেতো। মেইনলি বলি লোকটার নাম্বার লন্ডনের। যদি বাংলাদেশের ও হতো তাও সন্দেহ হতো সে সময় ভাবতে পারতাম সহজ ভাবে যে চিনাপরিচিত কেউই এরকমটা করছে তাই না??

তনুজা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলো কথাগুলো।

হুমমমম,,,হুমমমমম

এক সাথে দুইজনই হুমম বলে উঠায় পাশ ফিরে তাকালো তনুজা রাহা। হামজা খাটের সাইডে হাত রেখে মাথা ঠেকিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

হামজা একটা মেকি হাসি দিলো তাদের দিকে তাকিয়ে।

ভালো কথা বলেছে আমার বোন তাই না তনু??

তুমি একটু পরে কথা বলো হামজা ভাই। আমাকে বলতে দেও"

"হুম হুমম বল বল কি বলবি"

তনুজা রাহার দিকে তাকিয়ে বলল;

"আমার কয়েকজনের উপরে বেশ সন্দেহ হচ্ছিল"

"কাদের উপরে?

দু'ভাই বোন এক সাথেই বলে উঠলো

তনুজা বলল

প্রথম মত হচ্ছে—জ্যাক!

রাহা বলল নাক ছিটকানি দিয়ে বলল

জ্যাক??

"ওই হাঁদারাম এর কথা মাথায় আসলো কেনো তোর?

"ওর ফোলাটিং লেবেল এতো হয়ে যাচ্ছে যে ভাবতে বাধ্য হয়েছি"

রাহা বলল আরে না;

ও হলে বাংলায় কথা বলতো না আর তোর সাথে এই রকম করার ও ওর সাহস হবে না প্লাস এরকম করার কারন নেই ও তোর সাথে সরাসরিই যা করার করে ফেলে।

হামজা তাদের কথা মাঝখান দিয়ে বলল

আরে রাখতো জ্যাক ট্যাক।পরেরটা বল

তনুজা কিছুক্ষণ ভেবে বলল

"সাদ ভাই"

হামজা বলল

সাদ?ওর না বিয়ে ঠিক?ওর কথা ভাবলি কেনো??

সাদ আর হামজা বয়সে সমান যার সুবাদে হামজা সাদকে তুই' বলেই সমর্থন করে।

রাহাও কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে তনুজার দিকে।

তনুজা বলল

ওইদিনের কথা মনে আছে রাহা। সাদ ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার পর ওনার কথার ধরন ভালো ছিলো না সাথে উনি যেই সময় উঠে নিজের রুম এ চলে গেলো ঠিক সে সময়ই আমার কাছে মেসেজ আসেছিল।

আমার মন খারাপ কিনা জিজ্ঞেস করছে তারপর আমি রাতরে বারান্দায় থাকি এইসব ও যানে অপরিচিত লোকটা। কত কি বলে। আমার বেপারে এতো কিছু জামা সহজ বেপার তো না।

তাই ভেবেছিলাম। যেহেতু বাসার সামনে থাকে আমাকেও চিনে।

তো পরে আর মনে হয়নি? হামজা বলল;

না কারন তারপর এরো দুজনের কথা মনে এসেছে

আবার কে??

আবির ভাই আর সাইফ ভাই ওনারা আমার সাথে সবসময় মজা করে। হয়তো হতে পারে তারাই আমার সাথে মজা করছে?

হামজা রাহা দুইজনই গড়াগড়ি খেয়ে হাসা শুরু করলো।

তনুজা বুঝলো না এই দুইজন কে কখন কুকুর কামর মারলো;

কুত্তা মরার মতো হাসছো কেনো তোমরা আমার কথটা তো শুনো;

হামজা হাসতে হাসতে পেট ধরে উঠে বসলো।

খুব কষ্ট করে বলল

আরো কেউ নেই আমাকে আর তুষার ভাইকে বাদ দিলি কেনো তার নামটাও নে;

তনুজার কপাল কুঁচকেয়ে এলো

এই লোক?ইম্পসিবল কখনো না। এই অপরিচিত লোকটা যা রোমান্টিক আর যা রসিকতার মানুষ। তোমার ভাইয়ের মধ্যে সেসবের প্রথম অক্ষর টাও নেই;

রাহা তনুজা কে এক কিল মেরে বলল।

আমার ভাই যথেষ্ট রোমান্টিক হ্যাঁ হয়তো রসিকতা টা নেই। তাই বলে আমার ভাইকে অপমান করবি??

"উফফফ... মারিস কেনো তোরা ভাই বোনরা মিলে আমাকে??

আমি অপমান কই করলাম বললাম উনি এরকম না।

হামজা বলল তা তুই যাদের নাম বললি

সেখান থেকে কেউই হবে না আমার মনে হচ্ছে।

যেহেতু লোকটা নিজের নাম পরিচয় কিছু দিচ্ছে না। তাই তুই ও কথা বন্ধ করে দে;

তনুজা হামজার দিকে তাকালো। মুখ ভেংচি মেরে বলল।

যখন লোকটা প্রস্তাব দিলো রেগুলার কথা বললে সে তার সব বলবে তখন তো আমি রাজি ছিলাম না। তোমরাই তো বললে কথা বললে আর কি এমন হবে। আমি না পারলে তোমরা শায়েস্তা করবে। এখন এই কথা বলছো কেনো।

"আহা তখন কি বুঝেছিলাম লোকটা গিরিঙ্গিবাদ। কথা দিয়ে কথা রাখবে না"

তনুজার কেনো যেনো খুব বিরক্ত কাজ করলো হামজা রাহার কথায়।

"এই গুলো কি গান লাগিয়েছো যাও তো তোমরা আমার রুম থেকে বের হও আমি ঘুমাবো"

হামজা রাহা কে একপ্রকার জোর জবরদস্তি করে বের করলো তনুজা। তারপর আবার ফিরে বিছানায় টান হয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলো অপরিচিত লোকটার কথা। তারপর হাতে ফোন নিয়ে মেসেজ টাইপ করলো;

আপনি কি আপনার পরিচয় টা দিবেন না? না দিলে বলুন আমি কথা বন্ধ করে দিবো। আপনার সাথে ফালতু কথা বলে আর লাভ দেখছি না আমি"

তার পর কখন ঘুমিয়ে পরেছে টের পায়নি সে।

এই কথার মানে কি হতে পারে তনুজা ভেবে পাচ্ছে না। লোকটা এইরকম ধরনের কথা কেনোবলল?

Tujhse Door Main Ek Hi Wajah Ke Liye Hoon Kamzor Ho Jaata Hoon Main

Tujhse Door Main Ek Hi Wajah Ke Liye Hoon Aawara Ban Jaata Hoon Main

Tujhe Chhu Loon Toh Kuch Mujhe Ho Jayega

Joh Main Chahta Na Ho Mujhko Tujhe Milke Yeh Dil Mera Beh Jayega

Issi Baat Ka Darr Hai Mujhko

ঘরের নিস্তব্ধতার মাঝে গানটা ধীরে ধীরে বাজছে।সাথে কেউ একজন গানের শব্দের সাথে নিজেও গেয়ে উঠচ্ছে। মনে হচ্ছেসে শুধু গান নয় নিজের অনূভুতি প্রকাশ করছে গানের মাধ্যমে।চারপাশে শুধু গানের মায়াবী সুর আর রাতের নীরবতা

তনুজা গভীর ঘুমেডুবে ছিল।

হঠাৎ যেন কোনো অচেনা অনুভূতিতে ঘুমের মাঝেই চমকে উঠলো সে।ঘুমঘুম চোখে ধীরেধীরে চোখ মেললো।

চোখ দুটো এখনো পুরোপুরি খোলেনি।ঝাপসা দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে রইলো

আর তখনই দেখতে পেলো

তার সামনে কেউ একজন ঝুঁকেআছে

আবছা আলোয় সেই পরিচিত অবয়বটা ধীরেধীরে স্পষ্ট হলো

"তুষার"

তনুজার ঘুম ঘুম চোখেও অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটেউঠলো

খুব আস্তে করে নামটা উচ্চারণ করলো সেতবে সামনে সব কিছু স্পষ্ট নয়।সে সব কিছুই ঘুমের ঘরে ঝাপসা দেখছে

তুষার ভাই

তুষার তার দিকে তাকিয়েশান্ত গলায়বললো

"হুম বল"

তনুজা যেনো এখনো স্বপ্নের মাঝেই আছে।চোখআধো বন্ধ করেই শিশুর মতো অভিমানী কণ্ঠেবললো

"আপনি আমাকে একটুও আদর করেন না"

কথাটা বলার সময় ছোট বাচ্চাদের মতোঠোঁট ফুলিয়ে ফেললো সে

তুষারের চোখে এক মুহূর্তের জন্যকোমলতা ফুটে উঠলো।

খুব ধীরে বললো

করবো সময় হোক।

তনুজা সঙ্গে সঙ্গে অভিমানী গলায় বললো

সবাই আমার সাথে কেনো এমনকরেন?সবাই ভুলে যাও আমাকে সবসময় বকো

সময়?আমি মরে গেলে হবে আপনার?

তনুজা কথা গুলোবলতে বলতে চোখের দুই স্টার্নিশ বেয়ে নোনাজল গড়িয়েপরল।

কথাটা মুখ থেকে বের হতেই তুষারের মুখেরভাব বদলে গেলো।

সে কঠিন গলায় বললো

"শাটআপ,তনু।কী বলছিস এগুলো?

কিছুক্ষণ থেমে আবার বললো

"আর কোনোদিন যেন এই শব্দটা তোর মুখথেকে না শুনি শুনেছিস?

তনুজা পিটপিট করে চোখগুলো ঝাপটানো।

তনুজার চোখের পানি গুলো তার বিধ আঙ্গুলদিয়ে মুছতে মুছতে তুষার বলল;

"কি সুন্দর করে এক অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলছিস দিনের পর দিন"

ভয় হয় না তোর?

আবার গিফট ও নেওয়া হয়!

আগে তো ফুলের টোক্কা লাগলেও আমার কাছে আসতিস।

কথা খানা শেষ করা মাএই তুষার—তনুজার গালে তার শক্ত হাতের থাপ্পর মারলো।তবেতা খুবজোরে ছিলনা।

তনুজা ঝটকা খেলো বধহয়।কিন্তু ঘুম পরিরচোখে এতোঘুম সে তার ঘুমের রাজ্য থেকে বেরই হলোনা।

শুধুই ফুপিয়ে উঠলো;

"আপনি আমাকে মারলেন তুষার ভাই?

হ্যাঁ মারলাম"

তুষার তার নরমকন্ঠ বজায় রেখেই বললো

"এখন আদর করে দিন"

"দিবো সব সুদে আসলে পুষিয়ে দিবো"

তুই রেডি হয়ে থাক শুধু;

কিন্তু আর কোনো উত্তর এলো না।

তুষার কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলো তার দিকে।

আর তনুজা তখন আবার গভীর ঘুমেরমধ্যে হারিয়েগেছে

তুষার শুধু নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলো তারদিকে।

তারপর বলল।

এই ভাবে ঘুম পারিয়ে রাখা যায়না তোকেসারাদিন কোনো ভাবে?

তুষার আসতে আসতে তনুজার উপরেআরো ঝুঁকতে লাগলো।

তনুজা লাফিয়ে উঠলো হঠাৎ হৃদপিণ্ডটা অস্বাভাবিকভাবে ছুটছে।

তার চোখ দ্রুত ঘরেরপ্রতিটা কোণখুঁজে বেড়ালো।

কিন্তু কোথাও কেউনেই।

তনুজার বুকের ভেতর হঠাৎ একটা অজানাভয়ঢুকে গেলো।সবটাই কি স্বপ্ন ছিল?

নাকি সত্যিই কেউ ছিল এখানে?

তারপর হঠাৎ মাথায় আরেকটা চিন্তা এলো।নাকি ঘরে অন্য কিছু আছে?

ভূত-টুত কিছু নাতো?

নিজের চিন্তাতেই একটু কেঁপে উঠলো তনুজা।

তারপর দ্রুত ফোনটা হাতে নিলো।সময় দেখেচোখ বড় হয়ে গেলো।রাত সাড়ে তিনটা

এই সময়ে একা একা থাকা তার জন্য মোটেও ভালো আইডিয়া না।তনুজা ধীরেধীরে বিছানাথেকে নামলো। ফোনটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরহয়ে রাহার রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো।

টক টক টক

কোনো উত্তর নেই।তনুজাভ্রু কুঁচকালো।

আগে রাহা আরসে একসাথেই ঘুমাতো।কিন্তু গত সাত-আট মাসধরে মেয়েটা হঠাৎ করে আলাদাঘুমায়

কেনো কে জানে!

তনুজা আবার দরজায় শব্দ করলো

টক টক টক

এবার ভেতর থেকে নড়াচড়ার শব্দ পাওয়াগেলো

কিছুক্ষণ পর দরজা খুললোরাহা

এলোমেলো চুল আরভয় পাওয়া মুখনিয়ে দরজার খুলে দাঁড়িয়ে রইলোসে

তনুজাকে রাহা কে দেখে কিছুটা অবাক হয়েগেলো

রাহা কথা জড়িয়ে বললো

"কি কিরে?এত রাতে তুই?

তনুজা ঠোঁট ফুলিয়ে বললো

"আমার ভয় করছে ভীষণ।তোরসাথে ঘুমাতেদিবি?

রাহা কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো

"হ্যাঁ হ্যাঁ আয়।এর জন্য আবার জিজ্ঞেস করতে হয় নাকি?পাগল নাকি?

বলেই রুমের ভেতরে চলে গেলো।তনুজাও পেছনে পেছনে ঢুকলো।কিন্তু হঠাৎ রাহাকে ভালো করেলক্ষ্য করলো

"তুই এমন ঘেমে গেছিস কেন?

রাহা একটু থমকে গেলো

"কি?নাতো"

তনুজা চোখ ছোট করে তাকালো

"না তো মনে হচ্ছে না।চেহারার অবস্থা এমন লাগছেযেন ম্যারাথন দৌড় দিয়ে এসেছিস।নাহয় চোর ধরাপড়ে গেছিস

রাহা জোর করে হাসার চেষ্টা করলো

"আরে ধুর!হঠাৎ ঘুমের মধ্যে দরজায় শব্দ হইছে তো ভয় পেয়েগেছিলাম"

তনুজা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো

রাহার কথা বিশ্বাস হলো কি না,সে নিজেও জানে না

তবে আর কিছু বললো না।চুপচাপ গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো

কিন্তু তার মাথার ভেতর তখনো ঘুরছে লাগলো

সেটা কি সপ্ন ছিলো?

চলবে;

পর্ব সংখ্যা —২৩

লেখিকা —তাসনিয়া জাহান

অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন