হেই জ্যাক,সি দিস গার্ল.লুকিং ভেরি সেক্সি,রাইট?
অ্যালেক্স জ্যাককে ডাক দিয়ে দেখাতেই জ্যাকের কপালে ভাঁজ পড়লো।
সে তাকিয়ে দেখলো অ্যালেক্স যার কথা বলছে সেআর কেউ না,রাহা
হেই অ্যালেক্স,শি ইজ তনুজা'স কাজিন রাহা
অ্যালেক্স হেসে বললো
“ওহ জ্যাক,কাম অন বয় আই হোপ তোর কোনো সমস্যা হবে না এই ফুলের দিকে আমার নজর পড়লে। প্রমিস আমি তোর ফুলের দিকে তাকাবো না,ওকে?”
জ্যাক কোনো ভাবনা ছাড়াই সম্মতি দিলো।
তার তো শুধু তনুজাই চাই। বাকি কার সাথে কী হলো সেটা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই
অ্যালেক্স উঠে দাঁড়িয়ে বললো
ওকে'দেখি এই ফুলটাকে কীভাবে গাছ থেকে ছিঁড়ে নিজের করে নেওয়া যায়।
জ্যাক শুধু মাথা নেড়ে তাকে যেতে ইশারা করলো।
অ্যালেক্স চলে যাওয়ার পর জ্যাকও একটা গ্লাস হাতে নিয়ে তনুজার দিকে এগিয়ে গেলো।
“হেই সুইটহার্ট,দিস ইজ ফর ইউ।
হাতের গ্লাসটা তনুজার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো জ্যাক।
তনুজা কপাল কুঁচকে তাকালো তার দিকে
তারপর শান্ত গলায় বললো
“নো থ্যাঙ্কস
জ্যাক আবার গ্লাসটা এগিয়ে দিলো
“প্লিজ সুইটহার্ট,টেক দিস
"তুমি আমাকে এইসব ফালতু নামে ডাকা বন্ধ করো
ঠিক আছে আমি আর তোমাকে বিরক্ত করবো না।এটা একটা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো
না আমি ড্রিংকস করি না
“নো ডার্লিং,ইট’স নট অ্যালকোহল ইট’স অ্যান অ্যাপল জুস
জ্যাক!
ওও সরি"
”তনুজা মাথাটা একটু কাত করে জ্যাকের দিকে তাকালো
“নিজেকে খুব চালাক ভাবেন তাই না?
তারপর চোখ সরু করে বললো
আমি সিওর,এতে কিছু মেশানো আছে।
জ্যাক হেসে কথাটা উড়িয়ে দিলো
ওকে ওকে তোমাকে খেতেই হবে
অন্যদিকে অ্যালেক্স ডান্স করা ছেলে-মেয়েদের ভিড়ে ঢুকে গেলো।
সে একটা মেয়ের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো
মেয়েটার সাথে নাচতে নাচতে ধীরে ধীরে বেশি কাছে চলে আসলো
একসময় তার হাত মেয়েটার কোমরের পাশে চলে গেলো।
মেয়েটা কিছু একটা বুঝতে পেরে সাথে সাথে সরে গেলো।
অ্যালেক্স যেনো হতাশার নিঃশ্বাস ছাড়লো।
জ্যাক তনুজার সাথে এদিক-ওদিকের অনেক কথা বলার চেষ্টা করলো তনুজা তেমন ইন্টারেস্ট না দেখে।
কিছুক্ষণ পর সে উঠে চলে যেতেই তনুজা কী মনে করে যেন জ্যাকের দেওয়া জুসটা থেকে কয়েকটা চুমুক খেলো।
ঠিক তখনই
পাশে রাখা একটা ফোন বেজে উঠলো
তনুজার বসে থাকা সোফার পাশেই রাখা আরেকটা ফোন বাজছে
সে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো
"আম্মু
তনুজা বুঝলো এটা রাহার ফোন।সে কলটা ধরলো
"হ্যালো মামনি
ওপাশ থেকে রুবি বেগমের কণ্ঠ ভেসে এলো
কোথায় আছিস তোরা?বেশি দেরি করিস না।তোর ছোট বাবাকে আমি বলিনি তোরা বের হয়েছিস।তাড়াতাড়ি চলে আয়।আমি গেট খোলা রেখেছি।
কিন্তু চারপাশের গানের শব্দ আর ভিড়ের কারণে তনুজা শেষের কথাগুলো ঠিকমতো বুঝতে পারলো না
"হ্যালো! হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছে"
তনুজা ফোনটা নামিয়ে রাহাকে খুঁজতে লাগলো
এত মানুষের ভিড়ে কোথাও দেখতে পেলো না
না পেরে সে আবার সবাই যেখানে নাচছে সেই ভিড়ের মধ্যে ঢুকে গেলো।
কিন্তু সেখানেও রাহা নেই।সে রোজকে হাত ধরে টেনে বের করে আনলো
“আমি চলে যাবো।মামনির কল এসেছে।রাহাকে ডাক দে।
রোজ অবাক হয়ে বললো
“রাহা তো অনেকক্ষণ আগেই তোর কাছে যাবে বলে বের হলো”
তনুজা অবাক হয়ে তাকালো
“কি বলিস?ওতো আমার কাছে আসেনি!
রোজ বললো
“আচ্ছা আমি দেখছি
তনুজাও বললো
“আমিও দেখছি
তনুজা নিজের জায়গায় ফিরে এসে দেখলো রাহা নেই।
সে দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো।তার মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে।শরীরটাও কেমন অস্বস্তি লাগছে।
সে রাহাকে খুঁজতে ক্লাবের ভেতরের দিকে গেলো।সাথে রোজ আর অদিতিও গেলো।তিনজন খুঁজতে লাগলো।
রোজ জিজ্ঞেস করলো
“ওয়াশরুমে দেখেছিস?
তনুজা বললো
“তোরা অন্য জায়গায় দেখ।আমি ওয়াশরুমে দেখে আসি।
রোজ আর অদিতি অন্যদিকে চলে গেলো।তনুজা নিজের ঝিমঝিম করা মাথা নিয়েই ওয়াশরুমের সামনে এসে দাঁড়ালো।
পুরো ওয়াশরুম খালি।সে একবার ডাক দিলো
রাহা
কোনো উত্তর নেই সে আবার ডাক দিলো
রাহা
তবুও কোনো শব্দ নেই।তনুজা বুঝলো এখানে কেউ নেই।
সে বের হতে যাবে,ঠিক তখনই কিছু একটা পড়ার শব্দ পেলো।তনুজা ভ্রু কুঁচকে পিছনে তাকালো
এনিওয়ান হিয়ার?
কোনো সাড়া এলো না।তনুজার বুক ধুকপুক করতে লাগলো।সে ধীরে ধীরে আবার ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকলো।পাশে একটা পরিষ্কার স্টিলের লাঠি পড়ে ছিল
সে সেটা হাতে তুলে নিলো।তারপর একেকটা দরজার কাছে গিয়ে কান পেতে শুনতে লাগলো
একদম শেষের টয়লেট থেকে গোঙানোর মতো শব্দ পেলো।তনুজার বুকের ধুকপুকানি আরও বেড়ে গেলো
সে দ্রুত নিজের ফোন বের করে রোজকে মেসেজ করলো
“তারাতারি ওয়াশরুমে আয়
তারপর আবার দরজার কাছে কান লাগালো।এখনও শব্দ আসছে।তনুজা আর দেরি করলো না।নিজের সব শক্তি দিয়ে দরজায় লাথি মারলো।একবারে কাজ হলো না।তৃতীয়বারের মাথায় দরজাটা খুলে গেলো
আর দরজা খুলতেই
তার চোখের সামনে যা দেখলো,তাতে তার মাথা ঘুরে উঠলো
রাহা মেঝেতে পড়ে আছে।চোখ আধো আধো বন্ধ
তার পা বাঁধা।আর অ্যালেক্স তার মুখের উপর হাত রেখে চেপে বসে আছে।তনুজার মাথাটা ভোঁভোঁ করতে লাগলো
রাগে তার মাথা চারা দিয়ে উঠলো।হাতে থাকা স্টিলের লাঠিটা দিয়ে সোজা অ্যালেক্সের মাথায় আঘাত করলো
অ্যালেক্স চমকে উঠে তনুজাকে থামাতে হাত বারিয়েছিল
জানোয়ার**
অ্যালেক্স মাথায় সজোরে আঘাত পেয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো।রাহা অচেতন হয়ে পড়ে আছে।নিঃশ্বাস চলছে ঠিকই,কিন্তু শরীরে কোনো শক্তি নেই
তনুজার হঠাৎ করেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল।তার সন্দেহটাই ঠিক ছিল।জ্যাক যে জুসটা দিয়েছিল,তাতে নিশ্চয়ই কিছু মেশানো ছিল।নয়তো কয়েক চুমুক খাওয়ার পর থেকেই কেন তার মাথাটা এমন ঝিমঝিম করবে?
তবে ভাগ্য ভালো,পুরো গ্লাসটা শেষ করেনি সে।তাই জুসটা তাকে পুরোপুরি কাবু করতে পারেনি
এতক্ষণ যে মাথা ঘোরা,ঝিমঝিম ভাব আর অস্বস্তি হচ্ছিল সবকিছু যেন মুহূর্তেই রূপ নিলো দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা রাগে।
রক্ত যেন মাথায় উঠে গেছে।অ্যালেক্স কাতরাতে কাতরাতে উঠে বসার চেষ্টা করতেই তনুজা আর এক মুহূর্তও দেরি করলো না।হাতে থাকা স্টিলের লাঠিটা দুই হাতে শক্ত করে ধরে সজোরে আবার আঘাত করলো
প্রতিটা আঘাতের সঙ্গে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসতে লাগলো রাগে কাঁপা শব্দ
"কুত্তার বাচ্চা
"কলিজা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো তোর
"কোন সাহসে ওর গায়ে হাত দিয়েছিস?
অ্যালেক্স হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল
ঠিক তখনই পিছন থেকে কেউ তনুজাকে শক্ত করে জাপটে ধরলো
জ্যাক
"তনুজা স্টপ!স্টপ
"ছাড়ো ওতো মরে যাবে
কিন্তু আজ যেন তনুজার শরীরে অন্য এক শক্তি নেমে এসেছে।সে ঝাঁকুনি মেরে জ্যাকের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।তারপর এক মুহূর্ত দেরি না করে লাঠিটা এবার জ্যাকের উপর চালাতে শুরু করলো।
তুই বড় জানোয়ার
আমার সাথে চালাকি করিস?
কি মিশিয়েছিলি ড্রিংকসে?
বল
বল কুত্তার বাচ্চা
প্রতিটা কথার সঙ্গে সঙ্গে লাঠির আঘাত পড়তে লাগলো
জ্যাক নিজেকে খুব একটা বাঁচানোর চেষ্টা করলো না
শুধু হাত দিয়ে আঘাতগুলো ঠেকানোর চেষ্টা করছে
তনুজা এবার লাঠিটা ফেলে দিয়ে জ্যাকের কলার চেপে ধরলো
চোখ দুটো লাল হয়ে আছে
তোরা দুই জানোয়ার মিলে এসব প্ল্যান করেছিলি তাই না?
"আমি তোকে এমনিতেই অপছন্দ করি
"শালা কুত্তার জাত
আই হেট ইউ
আই জাস্ট হেট ইউ,জ্যাক
"তোকে আমি কখনো ভালো মানুষ ভাবিনি।কিন্তু এতটা জঘন্য হবি,সেটা কোনোদিন কল্পনাও করিনি
তোদের এত বড় সাহস?
আমার রাহার দিকে নজর দিয়েছিস?
কথা শেষ করেই আবার অ্যালেক্সের দিকে ফিরে গেলো সে
মেঝেতে পড়ে থাকা অ্যালেক্সকে লাথি মারতে শুরু করলো।এদিকে রোজ আর অদিতি ওয়াশরুমের সামনে পৌঁছাতেই দেখলো বাইরে ছোটখাটো ভিড় জমে গেছে
কী হয়েছে,সেটা বোঝার আগেই দু'জন দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়লো
ভেতরের দৃশ্য দেখে তারা দু'জনই থমকে গেল
একদিকে রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যালেক্স।অন্যদিকে জ্যাক
আর মাঝখানে রাগে উন্মত্ত তনুজা
রোজ দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে তনুজাকে জড়িয়ে ধরলো
"তনু থাম
"প্লিজ থাম
অন্যদিকে অদিতি ছুটে গেল রাহার কাছে
কষ্ট করে তাকে উঠিয়ে বাইরে নিয়ে এলো
পাশের বেসিন থেকে পানি এনে মুখে ছিটিয়ে দিল
কিন্তু রাহার কোনো সাড়া নেই
রাহাকে ওই অবস্থায় দেখে তনুজা আবার রোজের হাত ঝাঁকিয়ে ছাড়িয়ে নিল।সে দৌড়ে গিয়ে অ্যালেক্সের শার্টের কলার চেপে ধরলো
কুত্তার বাচ্চা
বল
ওকে কি করেছিস বল
ওর জ্ঞান ফিরছে না কেন?
অ্যালেক্সের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে
কপালও ফেটে গেছে
কাঁপা কাঁপা গলায় সে বললো
"প্লিজ ছেড়ে দাও
"আমি,আমি আর কোনোদিন তোমাদের সামনে আসবো না
তনুজা সজোরে একটা ঘুষি বসিয়ে দিল তার গালে।
"ওকে কী খাইয়েছিস বল
"ড্রাগস
কাশতে কাশতে কোনোরকমে বললো অ্যালেক্স
"তবে বেশি ডোজ না
"জ্ঞান এসে যাবে
কথা শেষ হওয়ার আগেই তনুজা একসাথে চার-পাঁচটা ঘুষি বসিয়ে দিল
অ্যালেক্স এবার পুরোপুরি অচেতন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো
ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়াশরুমে ঢুকলো জাস্টিন
তার সঙ্গে কয়েকজন বডিগার্ডও ছিল
চারপাশে তাকিয়ে কঠিন গলায় বললো
"হোয়াট দ্য হেল ইজ গোয়িং অন হিয়ার?
তনুজা রাগে কাঁপতে কাঁপতে আঙুল তুলে অ্যালেক্স আর জ্যাককে দেখালো
তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বললো
"ওদের পুলিশে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন
"নাহলে আমি নিজেই ওদের বিরুদ্ধে রেপ অ্যাটেম্পটের অভিযোগ করবো
"আর যদি আমার অভিযোগ করা লাগে তাহলে আপনি জানেন ভালোই আপনার কোনো রেপুটেশন থাকবে না
পুরো ওয়াশরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল
জাস্টিনের একবার অ্যালেক্সের দিকে,একবার জ্যাকের দিকে তাকিয়ে বডিগার্ডদের নির্দেশ দিল
"ওদের কেউ এখান থেকে যেনো না নড়তে পারে
এরপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না তনুজা
অদিতি আর রোজকে নিয়ে রাহাকে ধরে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গেল সে
তার বুকের ভেতর এখনও আগুন জ্বলছে
আর সেই আগুনের তাপে তার পুরো শরীর কাঁপছে
রাহাকে ক্লাবের কাছেই থাকা একটি ছোট্ট ইমার্জেন্সি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলো
চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা করে জানালেন অতিরিক্ত ডোজ না হওয়ায় আপাতত বড় কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।ড্রাগসের প্রভাবে সে অচেতন হয়ে পড়েছিল জ্ঞান ফিরে আসবে।তবে পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে
ডাক্তারের কথা শুনেও তনুজার বুকের ধুকপুকানি কমলো না
সে একবার রাহার নিস্তেজ মুখটার দিকে তাকালো তারপর ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে নিল
যদি আজ সে একটু দেরি করে পৌঁছাত
বাকিটা আর ভাবতেও পারলো না
প্রায় এক ঘণ্টা পর,রাহাকে সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি ফিরলো তনুজারা।
চলবে!
পর্ব সংখ্যা —২৬
লেখিকা_ তাসনিয়া জাহান
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট