ভোরের প্রথম সূর্যের আলো ধীরে ধীরে লন্ডনের আকাশটাকে আলোকিত করে তুললো। পাখিদের কিচিরমিচির,দূরে কোথাও গাড়ির ক্ষীণ শব্দ আর সকালের হালকা ঠান্ডা বাতাস সব মিলিয়ে নতুন একটা দিনের সূচনা।
কিন্তু এই নতুন দিনের আলো যেন সাদের বাড়িতে কোনো নতুন আনন্দ নিয়ে আসতে পারেনি
আজ সাদের বিয়ের দিন।
বিকেল থেকে শুরু হবে বিয়ের সব আয়োজন। আর রাতেই পড়ানো হবে বিয়ে।সময় এখনো অনেক।
তবুও পুরো বাড়িটা সকাল থেকেই ব্যস্ততায় ভরে উঠেছে। আত্মীয়-স্বজন একেকজন একেক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তবু গত রাতের ঘটনার পর সেই স্বাভাবিক উচ্ছ্বাসটা যেন আর কারও মধ্যে নেই।
আসমা বেগমের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাটা সবার মনেই একটা অদৃশ্য ছায়া ফেলে গেছে। সাথে সাদের বাবার অনুপস্থিতে সবাইকে মন মরা করে রেখেছে আরো।
আসমা বেগম নিজেও আজ খুব চুপচাপ।
মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করছেন ঠিকই,কিন্তু চোখ দুটো বলে দিচ্ছে তিনি ভিতর থেকে কতটা ভেঙে পড়েছেন।
আর সাদ বাড়ির সবাই ভেবেছে,মায়ের অসুস্থতার কারণেই হয়তো ছেলেটার মুখ এত গম্ভীর হয়ে আছে।
তার ভেতরে গত রাত থেকে কী ভয়ংকর যুদ্ধ চলছে।
সারারাত এক ফোঁটাও ঘুমাতে পারেনি। এখন বাড়ির পেছনের গার্ডেনে বসে আছে। তাকে ঘিরে বসে আছে তার কাজিনরা। সবাই গল্প করছে কিন্তু সাদের মুখ দিয়ে দুটো কথাও বের হচ্ছে না। গভীর,নিস্তব্ধ মুখে শুধু বসে আছে।
মাঝে মাঝেই ফোনটা হাতে তুলে নিচ্ছে। বারবার স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে। সকাল থেকে অসংখ্যবার জুমানাকে কল করেছে সে।
কিন্তু জুমানার কোনো খবর নেই। প্রতিবারই ফোন বন্ধ বলছে। এ নিয়ে অবশ্য সাদের মাথাব্যথা নেই। সে শুধু একটা কথাই জানতে চায়। সেই কারণেই জুমানাকে এতবার কল দিচ্ছে।
ভিডিওটা পাওয়ার পর থেকে তনুজার কল লিস্টও তার হাতে এসেছে। সেখান থেকে নম্বর বের করে তনুজাকেও বারবার কল করার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু কল ডুকছেই না। সাদের মাথার ভেতর যেন রক্ত উঠে যাচ্ছে। কিন্তু এত মানুষের সামনে সে নিজের রাগ কষ্ট কিংবা অস্থিরতার একটুও প্রকাশ করতে পারছে না।
★
সকালে রুবি বেগম তাড়াতাড়ি উঠে রাহা আর তনুজাকে ডেকে দিয়ে নিজে চলে গেছেন আসমা বেগমের বাড়িতে।
আজ ইউনিভার্সিটিতে ল্যাব ক্লাস আছে। মিস দেওয়া যাবে না। তাই দুই বোনই সকালে উঠে তাড়াহুড়ো করে রেডি হয়ে নিল। তনুজা প্রতিদিনের মতো আজও ফোনটা হাতে নিল। অভ্যাসবশত ইনবক্সটা খুললো। কোনো মেসেজ নেই। রাহার ফোন থেকে সেই অচেনা নম্বরে আরেকবার কল দিল। কিন্ত আজও একই উত্তর। ফোনটা এখনও বন্ধ। তনুজার মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল।
রাহা এসে ডাক দিল।
"চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে।"
তনুজা আর কিছু না বলে ব্যাগটা তুলে নিয়ে রাহার সঙ্গে ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো।
★
জুমানা ঢুলতে ঢুলতে একটা রুম থেকে বের হলো।
গায়ে ছোট্ট গোল্ডেন রঙের একটা ড্রেস। চুলগুলো সম্পূর্ণ এলোমেলো। এক হাতে জুতা। অন্য হাতে ব্যাগ। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তার বন্ধবি ফিহা।
জুমানার অবস্থা দেখে ফিহা বিরক্ত হয়ে বললো
"এই তোর কি কোনো তাল আছে,নাকি সব গেছে?
"আজকে তোর বিয়ে,কালকে গায়ে হলুদ গেল,আর তুই এখানে মজ-মাস্তিতে পড়ে আছিস?অনেক হয়েছে এখন এগুলো বাদ দে।রাত থেকে আঙ্কেল-আন্টি আমাকে কল দিচ্ছে।
জুমানা পাগলের মতো হেসে বললো
"চিল বিয়ে হয়েছে তো কী হয়েছে?কিছু হবে না।
ফিহা চোখ বড় বড় করে বললো,
"সিরিয়াসলি?সাদ ভাইয়ের মম কালকে অনেক অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। আর তুই বউ মানুষ হয়ে সেখানে ছিলি তো নাই খবর পর্যন্ত নিসনি। এতে তোরই লস। তাদের কিছু হবে না। আঙ্কেল তো তোর ওপর ভীষণ রেগে আছেন।
জুমানার হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।সে তাড়াতাড়ি বললো,
"হোয়াট? কখন হলো এসব?
"কালকে রাতে।
"কী!!এখন কয়টা বাজে?
"দুপুর বারোটা
জুমানা নিজের চুলগুলো মুঠো করে ধরলো।
"উফফ! বেশি ড্রাঙ্ক করে ফেলেছিলাম। আর এই হারামজাদা ছাড়ছিলই না। এখন কী করবো? ডেড আমাকে মেরেই ফেলবে।
ফিহা বিরক্ত হয়ে বললো
"এত কথা বাদ দে চল এখন।
"হুম
দিনের আলো ধীরে ধীরে ফিকে হতে শুরু করলো।
সন্ধ্যার নরম নীলচে আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়তেই সেই আলোকে আরও আলোকিত করে জ্বলে উঠলো সাদের বাড়ির অসংখ্য লাইট। পুরো দুইতলা বাড়িটা আজ আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে। প্রত্যেকে নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত। হলরুমজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এখনও অতিথিরা আসেনি।
তনুজা আলমারি খুলে সেই মানুষটার দেওয়া শাড়িটা বের করলো। সঙ্গে বের করলো চুড়িগুলোও। শাড়িটা হাতে নিতেই তার ঠোঁটে অদ্ভুত মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠলো।
ঠিক তখনই রাহা একই ঘরে ঢুকলো হাতে তার কিছু বক্স।
তনুজাকে মিটিমিটি হাসতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো,
"উমম উমম..."
"প্রেম প্রেম গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না তনু?
তনুজা হঠাৎ কারও উপস্থিতি টের পেয়ে চমকে উঠলো।
"মানে?কি বলছিস?
রাহা হেসে বললো,
"যা বলছি একদম ঠিক বলছি। তুই প্রেমে পড়লি,তাও আমাকে বললি না সোনা এখন বলে ফেল তো কে সেই মহান ব্যক্তিটা?
তনুজা লজ্জা লুকিয়ে বললো
"ধুর! কুসব বলছিস। বস আমি আসছি।
বলেই দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো।
রাহা হেসে ফেললো।
ফোনটা অন করে কাউকে কিছু টাইপ করে পাঠিয়ে দিল।
তারপর নিজেও সাজতে শুরু করলো। আজ সে হালকা পেস্ট রঙের একটা অনারকলি পরেছে। ফর্সা গায়ে দারুণ মানিয়েছে পোশাকটা।
কিছুক্ষণ পর
তনুজা গোসল করে বেরিয়ে এলো। গায়ে একটা শার্ট
ভেজা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে বললো
"রাহা,শাড়িটা পরাতে পারবি?মামনি তো চলে গেছে।
রাহা চুল স্ট্রেট করতে করতে বললো
"কমবেশি পারি। তবে পুরোপুরি হবে কিনা ঠিক নেই।
"আচ্ছা,যতটুকু পারিস পরিয়ে দে। বাকিটা আমি মামনির কাছে গিয়ে পরে নেবো"
রাহা নিজের মতো করে শাড়িটা পরিয়ে দিল। তারপর তনুজা নিজেই সাজতে শুরু করলো। নেভি ব্লু রঙের শাড়ি
তার সঙ্গে ন্যুড কালারের লিপস্টিক। স্মোকি আই মেকআপ।কপালের মাঝে সাদা পাথরের ছোট্ট টিপ।
কোমর ছাড়িয়ে নেমে আসা চুলগুলোকে সুন্দর করে কার্ল করে নিল।
চুড়ির সেট থেকে বেছে বেছে নেভি রঙের চুড়িগুলো পরে নিল। অন্য হাতে সেই ব্রেসলেট আর তার সঙ্গে একটা ঘড়ি। ম্যাচিং গলার আর কানের সেট পরে নিতেই যেন পুরো সাজটা সম্পূর্ণ হয়ে গেল।
রাহা হাঁ করে তাকিয়ে রইলো। তনুজা আয়নায় রাহার সেই হাঁ করা মুখ দেখে চোখ টিপ মারলো। আজ তনুজাকে যেন অপূর্ব সুন্দর লাগছে। সবসময়ই কম সাজে তাকে সুন্দর লাগে।
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যেন কোনো বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় দাঁড় করিয়ে দিলেও পুরস্কারটা তার হাতেই উঠবে। রাহা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে নিজের চোখের কাজল থেকে একটু নিয়ে তনুজার কানের পেছনে লাগিয়ে দিল।
"মাশাআল্লাহ,ট্রাস্ট মি ভাই!তোকে হুরপরী লাগছে।ইশশ কী সুন্দর লাগছে রে তোকে। আমি নিজেই ফিদা হয়ে যাচ্ছি!তোর জামাই তোকে পেলে ওয়ান হান্ড্রেড পারসেন্ট জিতবেই। শাড়িটা কী সুন্দর মানিয়েছে তোকে!
তনুজা লজ্জা পেল। হঠাৎই মনে পড়ে গেল সেই অচেনা মানুষটার চিঠির কথাটা
["শাড়িটা কিনতে গিয়ে বুঝলাম রঙেরও মানুষ পছন্দ হয়। নয়তো শত রঙের ভিড়েও এই রংটাই কেন আপনাকে মনে করাবে!]
তনুজার ঠোঁটে আবারও সেই অচেনা হাসিটা ফুটে উঠলো। এক অচেনা মানুষের নামে ফুটে থাকা হাসি
যার কোনো নাম নেই।
রাহা তনুজার এই পরিবর্তন দেখলো খুব ভালো করে।
তনুজা এবার রাহার কানের পেছনে কাজল দেওয়ার জন্য কাজল খুঁচ্ছে।
"এক মিনিট"
কোথয় গেলো কাজল টা?
রাহা তনুজার পাশ থেকেই কাজল টা হাতে নিয়ে দুষ্টমি মিশিতো কন্ঠ গেয়ে উঠলো,
Cheeze main rakh ke vul jati hoon"
Bekheyali main gun gunati hoon!
Ab akele main mushkurati hoon!!
Badli hui si meri adha hai"
Kuch to huya hai;
Kuch hogeya hai...
রাহা শেষের লািন টা তনুজা কে চোখ টিপ মেরে বলল
তনুজা রাহার গানের লাইন গুলো শুনে থ মেরে দাড়িয়ে ছিলো
তনুজা মুখ ফিরিয়ে নিলো।
"রাহা বলল সুন্দর না গান টা?
তনুজার গাল দুটো লাল হয়ে আছে।
সে কথা ঘুরিয়ে বলল
"তোকে ও আমার সখী হুরপরী লাগছে। তোর জামাই তোকে পেলে বিশ্ব জয় করবে রে রাহু বেবি। তোকে অনেক সুন্দর লাগছে,বিশ্বাস কর।
রাহা লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো
তনুজা দুষ্টু হেসে বললো
"তোর জামাই থাকলে এখন তোকে যেতেই দিতো না বিয়েতে। ঘরের মধ্যে এক রুমে দু'জন বন্দি হয়ে থাকতি হে হে হে
কথাটা বলেই দাঁত বের করে হেসে উঠলো
রাহা লজ্জায় গিয়ে তনুজার হাতে আলতো একটা চাপড় মেরে বললো
"ধুর চেমরি!কী সব বলিস!কই আমি তোকে খেপাবো বাবলাম উল্টো তুই আমাকে লজ্জা দিচ্ছিস?
তনুজা আরও হেসে বললো
"রাহু বাবু লজ্জা পেলি?বিয়ের পর আর এই লাজ-লজ্জা থাকবে না।তখন আমার কথা মিলিয়ে নিস
আয় ছবি তুলি। দু'বোন একসাথে অনেকগুলো সেলফি তুললো।তারপর সবচেয়ে সুন্দর ছবিটা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আপলোড করলো।তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো
বাড়ি থেকে বের হতেই তনুজা রাহা চমকে উঠলো
কারন কালো রঙের গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সাইফ আর আবির।দুইজনই সুট পরে আছে দেখতে দুইজনই মাশা আল্লাহ সুন্দর তুষার ভাইয়ের মতো লম্বা ফেস কাটিংও সুন্দর সাইফের ওয়েভি ব্লো-কাট করা চুলগুলো কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে।আর আবিরের চুলগুলো পেছন দিকে স্লিক-ব্যাক করে আঁচড়ানো।দুইজন কেই সুন্দর লাগছে
তনুজা রাহা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে
"আপনারা এখানে কি করছেন প্রিন্স?
সাইফ ঘাড় হাতিয়ে বলল
"প্রিন্সেস দের নিতে এসেছি তবে প্রিন্স হয় না বডিগার্ড হয়ে"
রাহা হেসে বলল
"আপনাদের দুইজন কে কি আজকে বেশি সুন্দর লাগছে না আবির ভাই?
আবির ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল
"আর কত কাল একলা থাকবো বল তো রাহা তাই আজকে প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়েছে কাউকে না তো কাউকে পেয়ে যাব"
তনুজা এতখন দাঁড়িয়ে তাদোর কথা শুনছিলো
আবিরের চোখ পরলো তনুজার উপরে।হঠাৎ চিৎকার করে মাথায় দুই হাত দিয়ে বলল
"ও মাই গড"
তনুজা রাহা দুইজনই ঝাকি মেরে উঠলো
তনুজা ভয় পেয়ে বুকে হাত দিয়ে বলল
"কি হয়েছে আবির ভাই?আপনি কি মুরগি?মুরগির মতো চিল্লাচ্ছেন কেন ডিম পারবেন নাকি?
রাহা,সাইফ দুইজনই শব্দ করে হেসে ফেলল তনুজার কথা শুনে।
আবির তনুজার কথায় পাত্তা দিলো না সে বরং বলল
"হোয়াট এভার মিস আমি কি আপনার এই সৌন্দর্যের ফিদা হওয়ার একটু অপরাধ কি করতে পারি?
তনুজা হেসে বলল
"এই অপরাধে আপনার ফাঁসি ও হতে পারে মি.আবির ভাই"
আবির ঠোঁট উলটিয়ে বলল
তোমার রুপে ফিদা হয়ে যদি ফাঁসি ও হয় তাও মঞ্জুর কিন্তু আবিরের পর কি ভাই লাগানো খুব দরকার ছিলো তনু?
"জ্বি অবশ্যই ছিলো
"তাহলে আমাকে তোমার পেয়ার এ লাল করে ফেলো তাহলেই আর দরকার পরবে না ভাই ডাকার"
"জ্বি সেই চান্স তো আপনার নেই আবির ভাইইই..
"তাহলে সেই চান্স টা কার শুনি তো তনু পরী?
তনুজা একটা গানের লাইন বলতে বলতে সামনের দিকে হাটা ধরলো রাহার হাত ধরে
"আমার প্রেমের ফাঁদে ফেঁসে যাবে যে মাল রে সে আমার পেয়ারে লাল রে!
আবির,সাইফ দুইজনই তাকিয়ে আছে তনুজাদের যাওয়ার পথের দিকে
সাইফ আবিরের দিকে তাকিয়ে মাথায় চাটটি মেরে বলল
"মার খাওয়ার পাখা গজিয়েছে তোর?
আবির মাথাটা ভুলাতে ভুলাতে বলল।
"তনু কে আগে পেলেই হতো। ইশশ আমি লেট করে পেলেছি রে। পরীর বাচ্চা কে আজকে হুর পরি লাগছে।
"তুষার তোর ঠ্যাং কেটে হাতে দিয়ে দিবে চল এবার
আবার বের হতে হবে টাইম হয়ে গিয়েছে
★
সাদ নিজের রুমে বন্দি হয়ে বসে আছে।সেই সকাল এর পর থেকেই সারাদিন কিছু খায়নি আসমা বেগমও আসেননি তাকে খাওয়াতে বা ডাকতে কিন্তু সাদের কাকি-মামিরা সবাই একবার করে এসে গিয়েছে,কিন্তু সাদ দরজা খোলেনি
রুমটা অন্ধকারে,তিমিরে ঢাকা বারান্দা দিয়ে যতটুকু আলো আসছে তাতেই ঘরটা একটু আবছা আলোয় ভরে আছে
খাটের সাথে হেলান দিয়ে ফ্লোরে বসে আছে সাদ।এক পা ভাঁজ করে তার উপরে একটা হাত রেখেছে,আরেক পা সোজা করে বিছিয়ে রেখেছে মাথাটা নিচু
তনুজা,রাহা,সাইফ,আবির চারজন একসাথে সাদের বাড়িতে ঢুকতেই সাইফ আর আবির তনুজা-রাহাকে খুব কাজের তাড়া দিয়ে চলে গেল।তাদের নাকি খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে কিন্তু যাওয়ার আগে বলে গেল দেখা হবে খুব শিগগিরই
তনুজা-রাহা বিদায় দিয়েছে তাদের। এখান থেকেই সবাই একসাথে রওনা হবে। বাকি পুরুষ মানুষ সবাই আগেই চলে গিয়েছেন হল-এ যেখানে সাদ আর জুমানার বিয়ে হবে
তনুজা-রাহা একটা সোফায় বসে আছে। দুজন ফোনে ব্যস্ত
কিছুক্ষণ বাদে শেরওয়ানির একটা ডালা সাদের কাকি তনুজা-রাহা আর সাদের এক কাজিন আয়শাকে দিয়ে বলল তারা যেন সাদকে দিয়ে আসে নতুন বউয়ের মন জয় করার মতো করে সাজিয়ে যেন দেয় ভাইকে।
রাহা আর সেই কাজিন আয়শা মিলে ডালাটা নিল তনুজা তাদের পিছু নিল সাদের রুমের উদ্দেশে
সাদের রুমের দরজার সামনে এসে তারা কয়েকবার টোকা দিল। কিন্তু সাদের কোনো সাড়াশব্দ নেই
রাহা-আয়শা দুজনেই বেশ কয়েকবার টোকা দিয়ে বললো
সাদ ভাই, দরজা খুলুন। রেডি হয়ে নিন বের হতে হবে তো।
সাদ ভাই...
এবারও ভেতর থেকে কোনো শব্দ এলো না।
রাহা, আয়শার ডাক দেওয়ার পর শেষে তনুজাও কয়েকটা দরজায় টোকা দিয়ে সাদকে ডাকলো
"সাদ ভাই দরজা টা খুলুন। সবাই অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।
সাদ ভাই..
এইবারও কোনো সারা শব্দ না পেয়ে তিনজনই ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই। খট করে দরজাটা খুলে গেল।
অন্ধকার রুম থেকে সাদা টি-শার্ট আর কালো প্যান্ট পরিহিত সাদকে দেখা গেল। চুলগুলো এলোমেলো। মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে।
তনুজা,রাহা,আয়শা পিছু ফিরলো। দেখলো সাদকে।
তনুজার কপাল কুঁচকে উঠলো সাদের এই অবস্থা দেখে।
রাহা তনুজা একে অপরের দিকে চাওয়া-চাওয়ি করলো।
সাদ তনুজার দিকে তাকিয়ে আছে।
তনুজাকে পা থেকে মাথা অবধি দেখলো। তার চোখগুলো লাল হয়ে আছে। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তেমন বোঝা গেল না তা।
আয়শা এগিয়ে এসে হাতে থাকা ডালাটা সাদের দিকে ধরে বললো
"চলো তো রেডি হবে না?সবাই অপেক্ষা করছে।
সাদ এক হাত দিয়ে দরজাটা ব্লক করে দাঁড়ালো।
আয়শা থমকে গিয়ে তাকালো সাদের দিকে।
"কী হয়েছে ভাই?
"তোরা যা। আমি রেডি হয়ে নেব।
আয়শা কপাল কুঁচকালো। সেই সকালে যে তাদের মাঝখান থেকে আসলো আর সাদের দেখা ছিল না। সবাই এসে ডেকেছে,কিন্তু সে কারও সাথে কথা বলেনি। এখন মা পাঠালো তাকে রেডি করতে,আর সে বলছে নিজে হয়ে নেবে।
আয়শা আর দেনা-পাওনা করলো না। সাদের হাতে ডালা দিয়ে চলে যাচ্ছিল। তনুজা এতক্ষণ অসহায় দৃষ্টিতে সাদকে দেখছিল।
লোকটাকে এমন দেখা যাচ্ছে কেন?
কী হয়েছে?
উনি কি পাগল?
উনার মত না থাকলে আগে না করলো না কেন?
উনার মত না থাকারই বা কী আছে?
উনি কি কাউকে পছন্দ করতেন?
যার কারণে সে এই বিয়ে করতে চাইছে না?
নাকি অন্য কোনো কারণ?
রাহা তনুজার হাত ধরে বললো
"চল,নিচে যাই"
তনুজা পা বাড়ালো ফিরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু পিছন থেকে সাদের কণ্ঠ ভেসে এলো।
"তনু, তুমি থাকো। রাহা,আয়শা তোমরা যাও তনু থাকুক"
তনুজা বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকালো।সবাইকে চলে যেতে বলে তাকে কেন থাকতে বলছে?
তনুজা একমনে ভাবলো,এই সুযোগে সাদ ভাইয়ের কী হয়েছে জেনে নিতে পারবে হয়তো। তাই সে রাহাকে ইশারা দিয়ে বললো তাদের যেতে।
রাহা-আয়শা চলে যেতেই সাদ তনুজার কবজিটা ধরে নিজের রুমে এনে দরজা বন্ধ করে দিল তনুজা হঠাৎ এমন হওয়ায় চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলেছে।
তনুজার হাতের দুই কব্জি সাদের দুই হাত দিয়ে চেপে ধরা। যার চাপে তনুজার হাতে থাকা কাঁচের চুড়িগুলো ভেঙে গিয়ে তনুজার হাতে বিঁধছে
তনুজা ব্যথা কুঁকিয়ে উঠলো
আহ্!
তার সাথে হঠাৎ কী হলো বুঝার জন্য চোখ খুলতেই দেখলো,সে সাদের রুমের দরজার সাথে চেপে আছে। তার উপরে সাদ,তনুজা পিটপিট করে দেখার চেষ্টা করল সাদকে।
তারপর বললো
সাদ ভাই,কী করছেন?ছাড়ুন, ব্যথা পাচ্ছি আমি হাতে।
সাদের কোনো হেলদোল হলো না। সে তনুজাকে দেখছে।
তনুজার ভীষণ অস্বস্তি লাগায় সে মোচড়ামোচড়ি করা শুরু করলো।
সাদ ভাই, ছাড়ুন বলছি।
তনুজা খেয়াল করলো রুমটা অন্ধকার সাথে খুব দুর্গন্ধেও ভরা। সিগারেটের হয়তো।
সে একদম সিগারেটের স্মেল নিতে পারে না। তনুজা আরও নাক-মুখ কুঁচকালো।
—সাদ ভাই,আমার ভীষণ অস্বস্তি লাগছে। ছাড়ুন ঘর এমন অন্ধকার কেন?আর এই দুর্গন্ধই বা কেন হয়ে আছে?লাইট জ্বালান।
সাদের হাতটা আস্তে আস্তে নরম হলো। সে তনুজাকে ছেড়ে দিল। দাঁড়ালো সোজা হয়ে।
সাদের হাত সরাতেই ভাঙা কাঁচের চুড়িগুলো ফ্লোরে শব্দ করে পড়লো। তারপর হাত বাড়িয়ে লাইট জ্বালালো।
পুরো রুম আলোয় ভরে গেল।
লাইট জ্বলতেই তনুজার চোখ গেল ভাঙা চুড়িগুলোর উপরে। তার কেন যেন খারাপ লাগছে চুড়িগুলোকে এরুপ দেখে।
সে চোখ তুলে তাকালো সাদের দিকে। সাদও তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। যার কারণে দুজনের চোখাচোখি হলো।
সাদের লালচে চোখগুলো দেখে,তাকে এতটা এলোমেলো দেখে তনুজার কেমন লাগলো সে নিজেও জানে না।
এখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সাদকে। তনুজা একটা শুকনো ঢোক গিললো।
সাদ ভাই...
তনুজা কিছু বলার আগেই সাদ হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো ধপ করে ফ্লোরে। তনুজা বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে আছে সাদের দিকে। কী হচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না।
তনুজা খেয়াল করলো,ফ্লোরে অনেকগুলো সিগারেট আর একটা বোতল পড়ে আছে।
ঘরটার সবকিছু ভাঙাচোরা। তনুজা সাদের দিকে আবার তাকালো।
সাদ ভাই,কী হয়েছে?কিছু তো বলুন। আপনি কি এই বিয়েতে রাজি না?
সাদ হঠাৎ তনুজার কোমর জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কেঁদে ফেললো।
না তনু, না। আমি এই বিয়েতে রাজি না। আমি কোনো মতেই এই বিয়ে করতে পারবো না তনু। আই রিয়েলি লাভ ইউ। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি পাখি। ট্রাস্ট মি আমি তোমাকে সবসময় সুখে রাখবো। কখনো কষ্ট দিবো না। আমার সাথে তুমি চলো তনু। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি পাখি। জান আমার প্লিজ আমি এই অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না।
তনুজা সাদের কোমরে ধরা হাতটা ধরে ছিল।
সাদের কথাগুলো শুনে সে একদম বাকহারা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সাদ তাকে ভালোবাসে?
কবে থেকে?
কই সে তো কখনো বুঝতেই পারেনি!
কী বলছে সাদ তাকে এসব?
তনু,পাখি আমার। তনু আই রিয়েলি লাভ ইউ জান। আই লাভ ইউ সো মাচ। প্লিজ আমার কথাটা বুঝো। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। আম্মুর জন্য আমার এই বিয়েতে না চাইলেও রাজি হতে হয়েছে। আমি তোমার কথা আম্মুকে বলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েই নিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই আম্মু এই সম্বন্ধ এনে আমার মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে।
প্লিজ তনু,প্লিজ তনু। আমার সাথে চলো। আমরা চলে যাই। আমি তোমাকে অনেক সুখে রাখবো।প্রমিস করছি কখনো কষ্ট দিবো না। চলো,আমি তোমাকে সেই প্রথম দেখার পর থেকেই মনের মানুষ বানিয়েছি
এই জীবনে আমি সাদ কখনো কোনো মেয়ের প্রতি এতটা অফসেশন ফিল করিনি তনু আমার কথাটা বুঝো।
আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে ভাবতে পারছি না আমি কত কী সাজিয়ে ফেলেছি ভাবনায়। তোমার-আমার সংসার হবে ভালোবাসার এক পবিত্র বন্ধন হবে। তুমি আমার হবে,শুধুই আমার
আমি তোমাকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছি না তনু জান। প্লিজ চলো আমার সাথে।আমরা এখান থেকে কানাডা যাবো। আমি দুই দিনের মধ্যেই সব রেডি করে ফেলবো। শুধু তুমি রাজি হয়ে যাও
আমি জানি তুমি এসব শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত না।সব বাদ।এখন আমার কথা মানো। তনু, চলো আমরা চলে যাই কেউ আমাদের এক হতে দেবে না প্লিজ চলো।
তনুজা যেন জমে গিয়েছে কী বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না
তার চারদিক যেন ঘোলা হয়ে যাচ্ছে।
সাদ দেখতে বেশ সুন্দর পুরুষ। যে কোনো রমণী দেখলেই মনের ধরে যাবে তাকে কিন্তু তনুজা কখনো সাদকে সেই নজরে দেখেনি সে সর্বদা ভাইয়ের জায়গায়ই দিয়ে এসেছে।
সাদের থেকে এমন কিছু আশা করা কখনো সম্ভবই ছিল না। সাদ একটু ভীতু টাইপ। ঠিক তাও না।সে তার মায়ের খুব বাধ্য ছেলে সে মুখের উপরে কখনো তর্ক করেনি প্রয়োজন ছাড়া সে কখনো কারও সাথে উঁচু গলায়ও কথা বলে না
বেশ শান্ত স্বভাবের রুবি বেগম বেশ পছন্দ করেন সাদকে ছেলে হিসেবে তার কাছে পারফেক্ট লাগে। তনুজার নিজের মনের মতো না একেবারেই তাও না কিন্তু
তনু.. জান শুনছো?
তনুজা হুঁশে ফিরলো যেন
উম্ম.
যাবে আমার সাথে চলো চলে যাই। কখনো কষ্ট দিবো না। তুমি যা ইচ্ছে করতে পারো নিজের লাইফ-এ কখনো বাধা দিবো না আই প্রমিস জান
তনুজা আস্তে করে সাদের হাত তার কমর থেকে নিজেকে ছাড়ালো
সাদও এক পলক তাকিয়ে হাতের দিকে চেয়ে ছেড়ে দিলো। তনুজা কী বলবে ভেবেই পাচ্ছে না
সাদ এবার তনুজার দুই গাল তার দুই হাতের তালুতে নিল।
তনুজার বেশ অস্বস্তি লাগছে এবার।
সাদ ভাই, ছাড়ুন । ভালো লাগছে না...
সাদ ছেড়ে দিতে নিলো সে বুঝলো তনুজার অস্বস্তি লাগছে।
তনুজা খেয়াল করলো সাদ এর দুই হাতের তালু রক্তে লাল হয়ে আছে। সে তো এতখন খেয়াল করেনি। তনুজা আতঙ্কিত হয়ে সাদ এর হাত ধরে বলল
সাদ ভাই, আপনার হাতপ কও হয়েছে। কাটলো কিভাবে?
সাদ তনুজার এ রুপ চিন্তিত দেখে আরো মুগ্ধ হল। তার প্রপ্রতিটা ধাপে শুধু মনে হয় তনুজার চেয়ে বেশি কেউ তাকে বুঝবে না ভালেবাসতে পারবে না।
সাদ তনুজা কে শান্ত করে বলল
"কিচ্ছু হয়নি তনু পাখি। এটা তো কিছু না আমি তোমার জন্য সব করতে রাজি জান। কিন্তু কি বলতো আম্মু ছাড়া যে আমার কেউ নেই। আব্বু চলে যাওয়ার পর আম্মু কে নিয়েই আমার পৃথিবী করেছি। আম্মু কে কষ্ট দিতে চাইনি কিন্তু সেও আমার কোনো কথা না শুনেই তার কসম দিয়ে বলল আমি যেনো বিয়ে টা করেনি। কিন্তু আমি যে তোমাকে ছাড়া আর কাউকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী করতে পারবো না পাখি।
সাদ এর আবারো সেই একই কথা শুনে তনুজা বোঝানোর সুরে বলল।
"আমি কখনো আপনাকে সেই নজরে দেখিনি। আমার মাথায় আসছে না আসলে আপনাকে কী বলবো। আমি এখন এসবের জন্য মোটেও প্রস্তুত না। প্লিজ ইউ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড"
সাদ তনুজা কে তার আরো কাছে নিয়ে এসে বলল
তনু, তনু জানপাখি আমার, আমি তোমাকে চাপ দিতে চাইনি। ডিরেক্ট রুবি আন্টিকে প্রস্তাব দিবো। তারপর আমাদের বিয়ের পর তোমাকে আমার ভালোবাসার কথা বলবো। কিন্তু সেই সুযোগ এখন আর নেই। তাই বলছি, আমাকেও একটু বোঝো।
সাদ ভাই,আসমা আন্টি হয়তো আপনার জন্য ভালোই কিছু চিন্তা করে এই প্রস্তাব এনেছেন। আপনি এতদূর এসে এসব বলে কোনো লাভ আছে কিনা আমি জানি না।
আপনি যদি আমার জন্য আরও এক যুগ পরেও প্রপোজাল দিতেন, আমিও রাজি হতে পারতাম না। কারণ আমি আপনাকে সেই নজরে দেখিনি কখনোই। বোঝার চেষ্টা করুন আপনি।
সাদ পাগলের মতো করছে।সে কিভাবে তনুজাকে বুঝাবে বুঝতে পারছে না সে যানতো তনুজাকে এইসব বুঝানো অনেক কঠিন হবে। কিন্তু ধারণার চেয়ে এখন বেশি কঠিন মনে হচ্ছে।
সে তনুজার দুই বাহু ধরে তার দিকে টেনে এনে বললো
তনু আমার। এমন বলো না। আমি তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারবো না। আমাকে এভাবে কষ্ট দিও না। চলো আমি তোমাকে নিয়ে চলে যাই। অনেক দূর...
তনুজা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।
সাদ ভাই,ব্যথা পাচ্ছি আমি। আপনার কি পাগল হয়ে গেলেন। বিয়ের দিন আপনি এইসব পাগলামো কেনো করছেন?
সাদ তনুজাকে ছেড় নিজের ফোনটা খুঁজলো।
পেয়ে সে ফোন থেকে কিছু একটা বের করে তনুজাকে দেখালো।
এই, এই দেখো। যার সাথে বিয়ে হচ্ছে সে কোথায় কার সাথে শুয়ে বেড়াচ্ছে...
তনুজা ফোনে স্কিন এ কিছুটা সিন দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিল।
সে তো জানেই জুমানা এরকম। প্রথম যেই দিন জুমানার সাথে দেখা হয়েছিল ল্যাবে, সে খুবই অস্বস্তিকরভাবে ছিল এক ছেলের সাথে। জুমানা তনুজা কে দেখে ফেলায় সে তাকে বলেছিলো তনুজা যেনো এইসব পজিটিভলি নেয়। তনুজা কয়েকটা কথা শুনিয়ে ওইদিন বের হয়ে এসেছিলো ল্যাপ থেকে।
জুমানা আর তনুজার সেই দিন থেকেই পরিচয়।
তারপর তো জুমানার ব্যাপারে আরও কী কী শুনেছে সে।
কিন্তু কয়েকদিন আগে ভাবার যে ধারণাটা সে জুমানাকে নিয়ে করেছিল যে বিয়ে হলে হয়তো ভালো হয়ে যাবে তার ধারণায় একদম পানি ফেলে দিয়েছে জুমানা।
বিয়ের দিন এসব করতে একবারও ভাবলো না।
তনুজা এইসব ভাবনার মধ্যেই সাদ হাটু গেড়ে বসে পড়ল। তারপর তনুজা পা চেপে ধরে বলল।
"আমি তোমাকে ছাড়া এই একটা জীবন কিভাবে পারি দিবো তনু বলো?আমি যে তোমাকে ছাড়া আর কাউকে চাইনা।
তনুজা সাদ কে নিজের থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলল
সাদ ভাই আপনি উঠে দাঁড়ান। পা ছাড়ুন আমার।
"না না আমি তেমাকে ছাড়বো না তুমি বলো তমি আমার সাথ যাবে তবেই আমি ছাড়বো
সাদ এর এহেন পাগলামি দেখে তনুজা কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। তার ভাবনার মাঝেই দরজায় কয়েকটা টোকা পরলো।
তনুজা তাকালো দরজার দিকে। তা ভিতর থেকে লাগানে। তনুহা সাদ কে নিজের থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলল।
"সাদ ভাই বাইরে মানুষ জন এসে দাড়িয়েছে আপনি আমাকে ছাড়ুন এইভাবে আমাদের দেখলে সবাই খারাপ ভাববে।
সাদ তনুজার পা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল।
না না। ওরা তোমাকে আমার থেকে নিয়ে যাবে তনু আমি তোমাকে কাউকে দিবে না তুমি শুধু আমার৷ শুধুই আমার। ওরা কেউ চায় না তুমি আমার হও কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে চাই না।
বাইরে একেক জনের কন্ঠ ভেসে আসছে সবাই দরজা খুলতে বলছে।
তনুজা না সাদ কে ছাড়াতে পারছে আর না কিছু বলতে পারছে।
"তুমি তুমি দেখো। তুমি আমার পুতুলের মতো একটা বউ তোমাকে আমি সেই পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভালোবেসে আসছি। আমার ভালোবাসা কি এমনি বিফলে যাবে?সব আশা এভাবে শেষ হয়ে যাবে?চলো না তনু চলে যাই। আমি প্রমিস করছি সবাই যখন আমাদেরকে মেনে নেবে আমি তোমাকে আবার এখানে নিয়ে আসবো সবার কাছে। ততদিনের জন্য হলেও আমার সাথে চলো।
সাদ কথা গুলো বলে উঠে দাড়ালো। তনুজাকে নিজের সাথে একদম মিশিয়ে জড়িয়ে ধরল।
চলবে
পর্ব সংখ্যা —৩৫
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট লেখিকা— তাসনিয়া জাহান