ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা প্রনয়ের চিরকুট

৩৬তম পর্ব

লেখক: তাসনিয়া জাহান

সাদকে নিজের থেকে ছাড়ানোর জন্য তনুজা জোরাজোরি করছে। অপরদিকে দরজায় করা আঘাত দ্বিগুণ হয়েছে। মনে হচ্ছে কেউ নিজের সর্বশক্তি দিয়ে দরজাটা ভাঙার চেষ্টা করছে।

তনুজা সাদের সঙ্গে কোনোভাবেই পেরে উঠতে পারছে না।

"সাদ ভাই প্লিজ ছাড়ুন আমার রাগ লাগছে এখন"

সাদ যেন তার কথাই শুনছে না। বরং আরও শক্ত করে তাকে আঁকড়ে ধরে বলল

"না আমার কেন যেন মনে হচ্ছে তোমাকে ছাড়লেও তুমি হারিয়ে যাবে আমি তোমাকে কিছুতেই গোমাকে হারাতে চাই না"

সাদ ভাই দরজার বাইরে সবাই দাঁড়িয়ে...

বলতেই দরজাটা প্রচণ্ড আওয়াজে খুলে গেল।

তনুজা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো দরজার দিকে।

তনুজার চোখ গিয়ে আটকে গেল সেই এলোমেলো পুরুষটির ওপর। তুষারকে দেখে ভয় পেযলো সে।

তুষার একদম এলোমেলোভাবে চুলগুলো ভিজে আছে। পরনে কালো শার্ট, হাতার অংশগুলো কনুই পর্যন্ত গুটানো। সঙ্গে কালো প্যান্ট। চোখ দুটো দিয়ে যেন আগুনের ফুলকি ঝরছে। হাতের পেশিগুলো ফুলে আছে, হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। তুষারকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে, প্রচণ্ড রেগে আছে সে।

তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে সবাই।

সাদের সঙ্গে সে আবারও জোরাজুরি করে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল।

তুষার বড় বড় কয়েকটা কদমে সাদের সামনে এসে এক ঝটকায় তাকে তনুজার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিল।

সঙ্গে সঙ্গেই সাদের কলার চেপে ধরে তার গালে সজোরে ঘুষি মারল। তনুজা আতঙ্কিত হয়ে তুষারের হাত ধরে বলল,

"কি করছেন ছাড়ুন উনাকে!

কিন্তু তুষার তনুজার কথায় কোনো পাত্তাই দিল না।

সে সাদকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করল

"হাউ ডেয়ার ইউ"ওর গায়ে হাত দিয়েছিস কোন সাহসে বল,বাস্টার?ওকে কোন সাহসে ছুঁয়েছিস বল!

তুষার রাগে,ক্ষোভে কথাগুলো বলে সাদকে মারছে।

তুষারের এমন রূপ দেখে সাইফ,আবির,হামজা সাদের ভাইরা সবাই তাকে থামাতে চাইছে। তনুজাও বারবার তুষারকে বলছে সাদকে ছেড়ে দিতে। কিন্তু তুষার কে ছাড়াতে পারছে না কেউ যেন কারও কথাই শুনছে না।

তনুজার বার বার সাদের জন্য মিনতে করতে দেখে একবার তনুজার দিকে বস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার সাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে মারতে যাবে। ঠিক তখনই তুষারের চোখ গেল তনুজার গালে।

মুহূর্তেই তুষারের চোখের রাগের সঙ্গে মিশে গেল বিচলিত ভাব।

সে তনুজার দুটো গাল নিজের দুই হাতের তালুতে নিয়ে চিন্তিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল

"এই...এই কী হয়েছে তোর?ও তোকে আঘাত করেছে? কীভাবে কাটল,দেখি!

তনুজা তুষারের দিকে তাকিয়ে আছে সে বুঝলো তুষার তার গালে থাকা রক্তের কথা বলছে তুষারের হাতে থাকা হাতের ওপর নিজের হাত রাখল। তারপর ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল

"আমার কিছু হয়নি সাদ ভাইয়ের হাত কেটে গেছে"

তুষারের হুশ ফিরলো চোখ আবার সাদের দিকে গেল। রাগ যেন মুহূর্তেই আবার মাথায় উঠে গেল সে আবার সাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে মারতে যাবে

তখনই আসন্ন বিপদ বুঝে আসমা বেগম দৌড়ে এসে সাদের সামনে বসে পড়লেন।

"আর মেরো না ওকে! ও দোষ করেছে আমি মানি কিন্তু ওকে আর মেরো না বাবা। ওকে আমি বুঝাবো। ছেড়ে দাও ওকে।

তুষারের রাগ কমল না। কিন্তু আসমা বেগম সামনে এসে দাঁড়ানোয় সে সিদ্ধান্ত বদলালো।

তুষার সাদের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল

"ফাস্ট এন্ড লাস্ট ওয়ার্নিং ওর থেকে দূরে থাকবি। ওর আশেপাশে তোর ছায়া পড়লেও সেখানে পুঁতে রেখে দেবো মাইন্ড ইট"

সাদ তুষারের কাছ থেকে বেধম মার খাওয়ার ফলে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। শরীরটাও অবশ হয়ে আসছে তবুও সে রাগে জোর গলায় বলল

"ও আমার শুধু আমার। আমি ওকে ছুঁব ধরব আমার করব। আমি ওর থেকে কখনো দূরে যাব না। ওকে আমার করেই...

তুষার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সাদের কথা শেষ হতে না দিয়ে। সে তেড়ে এসে আবারও সাদকে সজোরে একটা ঘুষি মারল সবাই আবারো তুষার কে ধরতে নিলে তার আগেই তুষার সাদ কে আগাত করে ফেলেছে।

তনুজা তুষারের এক হাত শক্ত করে ধরে আছে। কিন্তু তুষারের সঙ্গে পেরে ওঠার মতো শক্তি তার নেই আসমা বেগম আবারও মিনতি করে বললেন

"সাদ চুপ কর বাবা অনেক তামাশা করে ফেলেছিস আর না। আল্লাহর দোহাই লাগে চুপ কর"

"আম্মু তনুতো আমার ভালোবাসি।

তুষার কে সাইফ ধরে রেখেছ। সে জানতো এমনই কিছু হবে। তাই কাল সাদ তার মাকে বলা কথা গুলো সব তুষার কে জানালে সে সব ফেলে লন্ডন আসার প্রস্তুতি নিয়ে রওনা দিয়ে দিয়েছিলো।

তনুজার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে

সে বুঝতে পেরছে,এতক্ষণ সাদ বলা প্রতিটি কথাই সত্যি ছিলো সাদ তাকে ভালোবেসে ফেলেছে। এই যন্ত্রণা সেও একদিন পুহিয়েছে। সে বুঝতে পারছে কিন্তু কী করার?

সে তো সাদকে সেই চোখে কখনোই দেখতে পারেনি। সাদ কে সে মানতে পারছে না জোর করে কি ভালোবাসা যায়?

তুষার সাইফ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে। তনুজার শাড়ী ভেত করে উম্মক্ত কোমরের দিকে হাত পেঁচিয়ে তাকে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে দাঁড় করাল

তনুজার শরীরে যেনো কারেন্টের শট লাগলো। সে কেপে উঠেছে

তুষারের দিকে তাকালো

তুষার আসমা বেগমের উদ্দেশ্যে বলল

"ওকে বোঝান ও না বুঝলে ওকে কীভাবে বোঝাতে হয় আমি ভালোই জানি। আর আমি আমার মতো করে বোঝালে সেটা ভালো হবে না বলে দিলাম"

বলেই তুষার তনুজাকে সেইভাবেই নিজের সঙ্গে নিয়ে চলে যেতে লাগল।

পেছন থেকে সাদ চিৎকার করে বলতে লাগল,

"আমার তনুকে নিয়ে যেও না! ও শুধু আমার! ওকে ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচব? তুষার ভাই, ওকে দিয়ে যাও! ওকে আমার কাছে দিয়ে যাও!"

দরজার বাইরে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে।

সাদের মামি,কাকি,বোন রুবি বেগম,রাহা বাড়ি তে অতিথি সহ উপস্থিত প্রায় সবাই।

কেউ কেউ ফিসফিস করে সাদ আর তনুজাকে ওই অবস্থায় দেখে সবাই হতভম্ব

*মেয়েটার কোনো লাজলজ্জা কিচ্ছু নেই কিভাবে সাদ কে জোরিয়ে ধরে ছিলো। নিশ্চয়ই মেয়েটা সাদকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিল। সাদ এমন করার ছেলেই না। দেখো বেচারা কেমন করছে। এই সব মেয়েদের জন্যই এখনকার যুগ খারাপ হয়েছে। যেই মেয়েটার সঙ্গে বিয়ে মেয়েটার কপাল পুড়লো বুঝি। ইশশ মেয়েটা কে দেখলেই বুঝা যায় একদম ভদ্র ঘরের সন্তান দেখলেই মায়া লাগে আহারে।

সাদের এক ভাই পাশ থেকে নরম স্বরে আসমা বেগমকে বলল,

"কাকি মা,আব্বু কল দিচ্ছে কী বলব?মেয়েবাড়ির সবাই এসে পড়েছে..."

"আসমা বেগম কি বলবে বুঝে উঠতে পারছেন না। এই অবস্থায় কিছু করা কি সম্ভব?

তুষারের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে উঠল। মহিলাদের কানাঘুষা শুনে।

সে ভারী কণ্ঠে সবার উদ্দেশ্যে বলল,

তুষার একে একে জুমানার সব কুকীর্তির কথা খুলে বলতে শুরু করল।

"যেই মেয়েকে নিয়ে আফসোস করছেন সেই মেয়ের কুকীর্তি শুনলে মাটি ফাক ফাঁক করে ঢুকে যেতে চাইবেন না তো?এত আফসোস হচ্ছে তাহলে বলেই দেই।

তুষার কাল রাতে জুমানা কোথায় ছিল,কার সঙ্গে ছিল জুমানার আগের পরের সব রেকর্ড বলল।

আর আপনারা এই পবিত্র ফুলের সঙ্গে সেই পতিতা*লয়ের মেয়ের তুলনা দিচ্ছেন?

তুষারের মুখ থেকে কথাগুলো বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাড়িটা মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কারও মুখে কোনো কথা নেই।

তুষার বলল,

“ওই নোংরা মেয়ের সঙ্গে আমার তনুর তুলনা দেওয়ার আগে জিভটা সামলে কথা বলবেন। আমার পবিত্র ফুলটার দিকে কাদা ছোড়ার চেষ্টা করলে সেই জিভটা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে দ্বিতীয়বার ভাবব না। আমার তনুর দিকে আঙুল তোলার আগে মনে রাখবেন। এরপর পরিনীতি খারাপ ছাড়া ভালো হবে না"আই রিপিট ভালো হবে না"

তনুজা সহ সবাই তুষারের দিকে তাকিয়ে আছে। রাহা তো ভয়ে একাকার। তার ভাইের রাগ উঠলে কোনো হুশ থাকে না। এত মাত্র শুরু আগে আরো কি হবে কে জানে। আসমা বেগম ও এক কোনা দাঁড়িয়ে আছেন। তার কিছু বলার নেই। তার কথা তার ছেলে বলে দিয়েছে। তনুজার উপরে আগুল তুলার সাহস হয় কিভাবে এই মহিলাদের। সে ভালো করে তার মেয়ে চিনে। তনুজা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তুষারের দিকে।

তার মনে হলো। ছোটবেলায় যে তুষারকে সে চিনত,সেই তুষারটাই যেন আবার ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে আসমা বেগম যেন একদম জমে বসে আছেন।

জুমানার কথা চিন্তা করে তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।

সে কী করতে যাচ্ছিল?

নিজের হাতেই নিজের ছেলের জীবনটা এভাবে নষ্ট করে দিতে যাচ্ছিল! এমন একটা বন্ধনে সে তার ছেলেকে জোর করে বাঁধতে চেয়েছিল।

কারণ সে খুব অসহায় হয়ে এই বিয়ে করানোর জন্য লেগেছিল। তার স্বামী নেই। যে কোনো সময় তিনিও মহান রব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে পারেন।

তখন তার একমাত্র সন্তান সাদ একা হয়ে যাবে। সাদকে একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে দেখে যেতে চেয়েছিল সে।

তার নিজের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ হোক এইটুকুই তো তার চাওয়া ছিল। তাই নাজমুল হোসাইনের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন সেই আশাতেই।

নাজমুল হোসাইন বলেছিলেন,জুমানা আর সাদের বিয়ের পর সাদের নামে একটা পুরো কোম্পানি লিখে দেবেন। সেই কোম্পানির মালিক হবে সাদ নিজেই। ছেলের জীবনটা সেটেল হয়ে যাবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।

মা হিসেবে আস্মা বেগম আর কী-ই বা চাইতে পারতেন?

কিন্তু জুমানা যে এমন মেয়ে, সেটা তিনি জানতেন না।

খুব ছোটবেলায় মাত্র একবার তাকে দেখেছিলেন।

তখন তারা প্রথম প্রথম লন্ডনে এসেছিলেন।

নাজমুল হোসাইন সাদের বাবার সঙ্গে এই লন্ডন শহরেই একসঙ্গে কাজ করতেন। সময়ের ব্যবধানে নাজমুল হোসাইন অনেক বড় নামকরা ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন।

সাদের বাবা মারা যাওয়ার পরও তিনি এবং তার স্ত্রী প্রায়ই তাদের খোঁজ নিতে আসতেন। সেই সুবাদে তাদের সঙ্গে পরিচিতিটাও অনেক গভীর ছিল।

তাই নাজমুল হোসাইনের প্রস্তাব তিনি ফেলতে পারেননি।

কিন্তু জুমানাকে তিনি কখনো ঠিকমতো চিনতেন না।

আর নাজমুল হোসাইন ও তার স্ত্রীও যথেষ্ট ভালো মানুষ হওয়ায় তাদের মেয়েও নিশ্চয়ই ভালো হবে এটাই ভেবেছিলেন। বিদেশের মাটিতে বসে আর কার কাছেই বা মেয়েটার খোঁজ নিতেন?

তুষারের মুখ থেকে কথা গুলো না শুনলে হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করে ফেলতেন তিনি।

কিন্তু এখন?এখন তিনি তার সাদকে কী করবেন?

যে ছেলে তনুজার জন্য এমন পাগলামি করছে!

তুষার নিজের কথা শেষ করে বাড়ির বাইরে চলে এলো তনুজাকে নিয়ে।

তনুজা হিল পরার কারণে তুষারের পায়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে হাঁটতে পারছে না। বারবার হোঁচট খাচ্ছে।

তুষারের তিন কদমের সমান যেন তনুজার এক কদম।

তনুজার এক হাত শক্ত করে তুষারের মুঠোর মধ্যে বন্দি।

তনুজা কোনোভাবে তাল মেলাতে না পেরে আবার হোঁচট খেতে নিতেই।

তুষার থেমে পেছনে ফিরে তাকাল।

তার চোখে রাগ এখনো স্পষ্ট। তনুজাও তাকালো তার দিকে।

মুখটা মলিন করে মিনমিন করে বলল

"হাতটা ছাড়ুন। আমি আপনার সঙ্গে হাঁটতে পারছি না পড়ে যাচ্ছি।

কথাটা বলা মাত্রই তুষার তনুজার হাত ছেড়ে দিল

তনুজা ভাবল,এবার হয়তো স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে।

তুষার তনুজার সামনে এক হাটু ভর দিয়ে রাস্তায় বসলো।

তনুজা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে তুষারের দিকে সে কি করতে চাইছে?বুঝতে পারছেনা

তুষার তনুজার হিল জুটার বেল্ট এ হাত দিলে তনুজা দুই কদম পিছিয়ে যায়।

"কি করছেন"

"এই দিকে আয় জুটো খুলছি।

"আম আমি পারবো খুলতে আপনি উঠে দাঁড়ান।

তুষার কোনো কথাই শুনলো না সে তনুজা পা টা ধরে জুটা খুলে হাতে নিলো।

তনুজা কিছু বুঝবে তার আগেই তুষার তাকে কোলে তুলে কোনো কথা না বলে হাঁটা ধরল। তনুজা ভয় পেয়ে তুষারের গলা জড়িয়ে ধরল।

"কী করছেন?নামান বলছি আমাকে!আমি আপনাকে কোলে তুলতে বলিনি। হাত ছাড়তে বলেছিলাম।

তুষার গম্ভীর কণ্ঠে বলল

"যাস সাট আপ"

তনুজা রাগে মুখ ফুলিয়ে মনে মনে বলল

এই লোকটা একটা নাম্বার একের ঘাড়ত্যাড়া লোক!

তারপর মুখে বলল

"আপনার সাট আপ আপনার পকেটে রাখুন। আপনি আমাকে নামান।

তুষার রাগী দৃষ্টিতে তাকালো তনুজার দিকে। তনুজা মুহূর্তেই চুপসে গেল। চুপচাপ সেইভাবেই তুষারের সঙ্গে মিশে রইল।

তুষারের শার্টের ওপরের কয়েকটা বোতাম খোলা।

তার কারণে ফর্সা,লোমহীন বুকের কিছুটা দেখা যাচ্ছে।

তনুজা একবার সেদিকে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই চোখ সরিয়ে নিল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর না চাইতেও আবার চোখ চলে গেল সেদিকে। নিজের ওপরই বিরক্ত হয়ে গেল সে।

তারপর তুষারের বুকের দিকে যেন আর চোখ না যায় সেজন্য তুষারের গলার কাছে,কাঁধের ওপর নিজের মাথাটা রেখে দিল।

তুষার ভারী কণ্ঠে বলল

"আমাকে সিডিউস করে নিজেই এখন সিডিউস হচ্ছিস? গ্রেট

তনুজা সঙ্গে সঙ্গে মাথা তুলে তাকালো তুষারের দিকে।

তার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল

"ছিঃ কিসব বলছেন?আমি আবার আপনাকে সিডিউস করলাম কখন?

তুষার কোনো উত্তর দিল না।

শুধু ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ একটা হাসি ফুটিয়ে সামনে তাকিয়ে হাঁটতে লাগল।

তনুজা বিরক্ত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল

কিন্তু তুষারের বুকের কাছে মাথা রেখে তার হৃদস্পন্দনের শব্দটা কানে আসতেই কেন যেন তার বুকের ভেতরটাও অদ্ভুতভাবে ধুকপুক করতে লাগল।

ভাবতে লাগলো ভিতরে বলা কথা গুলো তুষারের।

সাদ-এর রুমে সবাই জড়ো হয়েছে এখনও। আসমা বেগম সাদের মাথা ভুলিয়ে দিচ্ছেন সাদ অপলক সে তাকিয়ে আছে অজানা কোনো দিকে আসমা বেগম খুব করে ছেলের কাছে মাফ চেয়ে বুঝাচ্ছেন

তনুজার কথা যেন সে ভুলে যায়। তনুজা যথেষ্ট ভালো ভদ্র মেয়ে। ওকে আমার ছেলের বউ করতে কোনো সমস্যা নেই কিন্তু মেয়েটা তো নিজেই ছোট। আর আমি তো শুধু তোর একটা সুন্দর ভবিষ্যতের চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু কাউকে প্রেম-ভালোবাসা কিংবা বিয়েতে জোর করতে নেই এগুলো জোর করে হয় না।

সাদ তার মায়ের কথার উত্তরে বলল

"সে-ও তো তাকে জোর করে জুমানার সাথে বিয়ে দিচ্ছিল। আজকে যদি এই বিয়ের ঝামেলা না হতো তাহলে সে আস্তে আস্তে তনুজার মনে ঠিকই জায়গা করে নিত। আর তাকেই বিয়ে করে নিজের অর্ধাঙ্গিনী করতে পারত। সে এখন নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে সে কিছুতেই সেই মায়াবী কন্যাকে ভুলতে পারবে না। তার সর্বাঙ্গ জুড়ে গিয়েছে। তনুজার সেই হাস্যোজ্জ্বল চেহারা তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে

আসমা বেগম আর পারলেন না। তার ছেলের সামনে বসে বের হয়ে আসলেন। বাকি সবাইও যে যার মতো করে যার যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।

রুবি বেগম আর সাদের কাকি-মামিরা গেলেন আসমা বেগমের পিছু।

সাদের ঘরে রয়ে গেল শুধু কয়েকজন হামজা সাইফ আবির,রাহা আর সাদের ভাই-বোনেরা।

সবাই চুপ হয়ে আছে। সাদের এমন রূপ তারা কখনো দেখেনি। হামজা সাদের কাঁধে হাত রেখে বলল

"এত ভালোবাসতি তাহলে আগে বললি না কেন?আগে বলে দিলে এই দিন নিশ্চয়ই দেখা লাগতো না হলে।

সাদ হামজার দিকে তাকালো লালচে চোখজোড়া দিয়ে। হামজার খারাপ লাগল কিন্তু এখানে সাদের বা তনুজার কারওই দোষ নেই।

ভালোবাসা ইচ্ছে করে হয় না।হয়ে যায়। সময়ের ব্যবধানে শুধু বাড়ে,কমে না।

তবে এর দুটো সাইড ইফেক্ট আছে। একটা যাকে ভালোবাসি,সেও যদি সেই ভালোবাসা বুঝে তাকে ভালোবেসে জীবন পার করে দেয়,তাহলে হ্যাপি। আর দ্বিতীয়টা যাকে আমরা ভালোবাসি,সে যদি না বোঝে অথবা তার মনের মধ্যে আমাদের জন্য কোনো ফিলিংসই তৈরি না হয়,তাহলে জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক পার্টটা হলো সেটা।

তবে এখানে সেই মানুষকেও আমরা দোষ দিতে পারি না। ওই যে,ভালোবাসা তো জোর করে হয় না না হলে জোর করা যায় না। সবাই যদি সবাইকে চাওয়া মাএই পেয়ে যেতো তাহলে হয়তো দুনিয়ায় বিচ্ছেদ নামক কোনো শব্দই তৈরি হতো না।

সাদ হামজার দিকে তাকিয়ে বলল

"তোকে বোনকে সেই প্রথম দিন দেখার পর থেকেই ভালোবাসি। এক হাসিতে আমাকে সর্বহারা করে দিয়েছিল। ওকে মূলত সেই দিন মন ধরেনি,ধরেছিলাম আমার ধ্বংস"

বলেই সে হাসতে লাগল।

"তোর বোনের সাথে সুখ-দুঃখ ভাগ করতে লাগলাম আমি। সময় গেল,তার প্রতি আসক্তি বাড়ল,কমল না শুধু নতুন করে ভালোবাসা বাড়ল

মজার ছলে দুষ্টু-মিষ্টি আলাপ করতে করতে তোর বোন আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেল তোর বোন কোথায় যায় না যায় সব জায়গায় যেতাম আমি খবর রাখতাম

তোর বোন রেস করে গত ছয় মাস ধরে আমি জানি একমাত্র।তোরা জানিস কিনা জানা নেই।তবে যেদিন প্রথম রেসে নামে,আমি সেই দিন থেকে ওর রেস দেখতে মধ্যরাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। বাড়ি থেকে বের হওয়া নিয়ে ফেরা আসা অবধি ওর পিছু থাকতাম

তোর বোন যেই রাগী,তবে তা প্রকশ পায় না সহজে আমি যদি ওর মনে আমার জন্য কেমন ফিলিংস কাজ করে তা না জেনেই ওকে আমার মনের খবর বলে দিতাম তাহলে কী হতো কে জানে!আজকে যা হয়েছে,তা তো আমার এক্সেপশনের চেয়েও বাইরে ছিল তাহলে ভাব যদি এমন মোমেন্টে এমন করে আমাকে না করে দিতে পারে,তাহলে স্বাভাবিক থাকলে কী করত?

আমি ভয়ে বলিনি। আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আম্মুকে বলার জন্য যেন তোদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাবটা নিয়ে যায় এখন ও স্টাডি করছে,ওর স্বপ্ন আছে,ও পূরণ করুক সমস্যা নেই আমাদের আপাতত আংটি বদল হলেও চলবে।তাহলে আজ ওকে নিজের করে বলে দিতে পারতাম

কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।আমার বুঝি তাকে আর পাওয়া হলো না রে হামজা

হামজা সব শুনল সে বলল

"ও না করেছে মানে না-ই থাকবে ওর উত্তর।তুই আর ভাবিস না ওকে নিয়ে। নিজের জীবনটা গুছিয়ে নে এবার ওর আশা করিস না সাদ,ও আমার বোন আমি ওর সাইড কিংবা তোর সাইড নিয়ে কিছু বলছি না।এসব ব্যাপারে কাউকে জোর করতে নেই যদি কখনো তনুজা ভাবে যে তুই ওর জন্য বেটার অপশন,ওর মনেও তোর জন্য ভালোবাসা উঁকি দেয়,তাহলে ও নিজের থেকেই আসবে ততদিনে তুই নিজেকে সেটেল করে ফেল

সাদ ক্ষীণ হাসল

★

তনুজা তুষারের কাধে মাথা রেখে তুষারের দেওয়া“ডিওর সোভাজ পারফিউম এর গ্রান নিচ্ছিল তার পারফিউম এর গ্রানটা খুব পছন্দের

তুষার তনুজার করা কান্ড সবই দেখছিলো তবে কিছু বলল না।তনুজা কে নিয়ে বাড়ির দরজায় পাসওয়ার্ড টাইপ করে ঢুকতেই মুলান খামচি মেরে তুষারের পা ধরে ঝুলল

তনুজা এখনও তার বাহু ধরে লেগে আছে তনুজা আর তুষার দুজনেই তাকালো মুলানের দিকে

এত দিন পর মুলান তুষারকে দেখে ছটফট করছে কোলে ওঠার জন্য

তুষার মুলানকে ছাড়াতে চাইলে তবুও মুলান ছাড়ছে না

তুষার মুলান এর দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে ইচ্ছে মতো ধুয়ে দিলো এইসময়ে তার কাজে ব্যাঘাত হয়ে দাঁড়ানোর জন্য সে মুলান কে মাথা নেড়ে ইশারা করলো তাকে ছাড়তে

মুলান তুষারের পা ছেড়ে সোফার উপরে উঠে বসে পরলো যেনো মনে হলো সে তুষারের মনের কথা বুঝতে পেরেই ছেড়ে দিয়েছ

মুলাম তুষার কে ছাড়তেই।তুষারের ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ একটা হাসি ফুটিয়ে সামনে তাকিয়ে হাঁটতে লাগল

তনুজা তুষারের দিকে তাকিয়ে বলল

"আমাকে নামান ওকে নিন বাড়ি তো এসেই পড়েছি"

তুষার বলল

"নো নিড ওকে পরে নেওয়া যাবে

বলেই সে দরজা আটকে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল

সে সোজা নিজের রুমে ঢুকল।তনুজাকে নামিয়ে জুতাগুলো ফ্লোরে রাখল

তনুজা ছাড়া পেতেই দৌড়ে নিজের রুমে যাওয়ার জন্য দরজার হাতল ধরেছিল

ওমনি তুষার এক ঝটকায় তনুজার কোমর পেঁচিয়ে ধরে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিল

"আহ্...কী করছেন?ছাড়ুন,আমি রুমে যাব

"কোথাও যাওয়া হবে না তোর এখানেই থাকবি

"আমি এখানে থাকব না কী শুরু করেছেন আপনি? ছাড়ুন আমাকে ওই বাড়ি থেকে কেন নিয়ে এলেন?

তুষারের চোখ দুটো মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেল

"কেন?সাদের কলিজায় ঢুকে থাকতে ভালো লাগছিল বুঝি?আমি নিয়ে আসাতে ভালো লাগায় ব্যাঘাত ঘটেছে?

তনুজা বিরক্তিতে কপাল কুঁচকাল

"কী বলছেন?মাথা ঠিক আছে?

"তুই কোন সাহসে ওকে ছুঁতে দিলি তোকে?জবাব দে ইডিয়ট!

তনুজা নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তুষারের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করল তাকে পুরোপুরি সরাতে না পারলেও ধাক্কা দিয়ে দুই-এক কদম পিছিয়ে যেতে বাধ্য করল

তুষার নিজে থেকেই তনুজাকে ছেড়ে দিল

ছাড়া পেয়েই তনুজা রাগে রি রি করতে করতে বলল

"একদম বাজে কথা বলবেন না বলে দিলাম সেখানে সবার সামনে আমাকে পবিত্র বলে,আর এখন নিজেই আমার চরিত্রে আঙুল তুলছেন?

তুষারও রেগে আছে তনুজার কথায় তার রাগ আরও বেড়ে গেল

"এক দিবো ঠাটিয়ে!আমি চরিত্রের কথা বলেছি?ও তোর সঙ্গে জোরাজোরি করার পরও তুই প্রতিবাদ করিসনি কেন?সেটা বলেছি!

তনুজা রাগ নিয়েই বলল

"আপনি যা ভাবছেন,ভুল ভাবছেন সাদ ভাইয়ের সেরকম কোনো ইনটেনশন-ই ছিল না। ওনার মানসিক অবস্থা আমি বুঝতে পারছিলাম। উনি আমাকে ভালোবাসেন হয়তো খুব বেশি যার কারণে এতদিন কথাগুলো বলতে না পেরে আজ সুযোগ পেয়ে এরকম উন্মাদের মতো করছিলেন। তবে ওনার কোনো খারাপ চিন্তাধারা ছিল না উনি শিধুই নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করছিলো। আমাকে একা ঘরে পেয়েও উনি খারাপ কোনো ধারণা রাখেননি৷ তাই আমি মোটেও উনাকে আগাত করার কথা ভাবিনি।

তুষার মাঝপথেই থামিয়ে দিল

"ভালোবাসা?ওটা ভালোবাসা ছিল?ভালোবাসা বুঝিস তুই?

তনুজা থমকে গেল। কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে শান্ত গলায় বলল

"আমি যথেষ্ট বড় হয়েছি। সব বুঝি। ভালোবাসা যদি কেউ না বুঝে থাকে,তাহলে সেটা আপনি।"

তুষার ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

"ওয়াও গ্রেট!তুই যদি সব বুঝতিই তাহলে তো হয়েছিলোই। তো এখন কী করবি?ও তোকে ভালোবাসে, ওর কাছে চলে যাবি?

তনুজার বিরক্তির মাত্রা আরও বেড়ে গেল।

এই লোকটা কখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না। বিশেষ করে তার সঙ্গে তো একদমই না।

"আপনি কিন্তু এখন বেশি বেশি বলছেন। আর আপনার কী তাতে?আমি যার সঙ্গে ইচ্ছে যাই। সাদ ভাই যথেষ্ট ভালো মানুষ গেলে ক্ষতি কী?"

"এক থাপ্পড় মারব..."

তুষার কথাটা বলেই রাগের মাথায় হাত তুলেছিল।

তনুজা ভয় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চোখ-মুখ কুঁচকে নিজের হাতটা চেহরার সামনে ধরেছিলো।

কিন্তু হাত উঠার আগেই তুষার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলল। ধীরে ধীরে হাতটা নামিয়ে নিল সে। তনুজা কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নিজেকে স্বাভাবিক করলো। সাথে ভয়ও পেলো। মেয়ে টা মুহুর্তেই চুপসে গেলো।

মনে মনে ভাবল,

কী এমন খারাপ বললাম আমি?

তুষার আর কিছু না বলে এগিয়ে গেল দরজার দিকে।

দরজার পাশে থাকা ডিজিটাল লকের কিবোর্ড-এ কয়েকটা বোতাম চাপল। সেটিংসে ঢুকে নতুন একটি পিন সেট করল। তারপর নতুন পাসওয়ার্ড কনফার্ম করে দরজাটা একবার খুলে আবার বন্ধ করে পরীক্ষা করে নিল। তনুজা তার ডোর পাসওয়ার্ড যানতো যার কারনে এখন বদলানো লাগলো।

তনুজা ঠাই দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।

তুষার নিজের কাজ শেষ করে ঘুরে দাঁড়াল। আলমারি থেকে একটা তোয়ালে তুলে নিল। তারপর ওয়াশরুম-এর দিকে যেতে যেতে গম্ভীর গলায় বলে গেল,

"কোনো চালাকি করে এই রুম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করবি না। বের হলে পরিণতি ভালো হবে না মনে রাখিস।

তুষার আর কোনো কথা না বলে ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকে গেল।

তনুজা হতভম্ব হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল।

তার মনে হলো,তুষার যেন কোনো কিডনিভার জোর করে তাকে এখানে নিয়ে এসে আটকে রেখেছে,তার ওপর আবার পালিয়ে না যাওয়ার জন্য সাবধান করে শাসিয়ে গেল!

কী আজব মানুষ!

কিডন্যাপার কথাটা মাথায় আসতেই হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল সেই প্রেমিক পুরুষ অচেনা মানুষ টার কথা। তনুজা একদিন তার নাম জিজ্ঞেস করলে নিজের নাম বলেছিল"প্রেমিক পুরুষ।

তনুজা ঠিক করেছে,এখন থেকে সে মানুষটাকে ওই নামেই ডাকবে।

কিন্তু মানুষটা কোথায় গেল?সে কি আর ফিরবে না?

তনুজা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে তুষারের বিছানার এক কোণে গিয়ে বসে পড়ল

মনের মধ্যে একদিকে তুষারের অদ্ভুত আচরণ,অন্যদিকে সেই অচেনা মানুষটার কথা সবশেষে মনে পরলো সাদ এর কথা। মনে মনে ভাবলো।

"সাদ ভাই আপনি হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করে ফেলেছেন আমার মতো মেয়েকে অসীম মাত্রায় ভালোবেসে। আমি পারলে আপনাকে আপনার মতো ভালো না বাসতে পারলেও অন্তত আপনার সাথে এই জীবন টা পারি দিয়ে দিতাম।সরি সাদ ভাই রেলি রেলি সরি। আমি আগে জানলে আপনাকে আগেই নিষেধ করতাম এই রাস্তায় চলার জন্য।কিন্তু এখন আমার কিছু করার নেই।

★

রুবি বেগম নিজের ঊরুর উপরে আসমা বেগম এর মাথা রেখে হাত ভুলিয়ে দিচ্ছেন সাথে বুঝাচ্ছেন

"ভাবি আপনি শান্ত হোন সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনি এইভাবে কান্না করলে আপনার শরীর খারাপ করবে তো

আসমা বেগম সেই থেকে কেঁদেই চলেছেন। সে কিছুতেই নিজেকে মাফ করতে পারছে না আর না নিজের ছেলের এই অবস্থা দেখতে পারছেন।

"ভাবি আমার ছেলেটার কি হয়ে গেলো। ওতো এমন না। আমি শান্ত হয়ে গেলেও আমার ছেলেটা কে কি করে শান্ত করবো। আমি খুব বড় ভুল করে ফেলেছি ভাবি। ওর ওই চোখ জোরা আমি দেখতে পারছি না।

সাদের কাকি মামি সবাই আসমা বেগম কে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। আর সাদের সাথে হামজা,রাহা,আর তার কাজিনরা আছে।

আসমা বেগম ছোখ মুখ মুছে। রুবি বেগম এর দিকে তাকিয়ে তার দুই হাত খানা তার হাতের মুঠোয় নিলো।

"ভাবি ছেলে তো আপনার ও আছে। আমার এই কষ্ট আপনি নিশ্চয়ই বুঝবেন। আমি.. আমি যদি আপনার থেকে আপনার তনুকে চাই আপনি আমাকে দিবেন ভবি আমার ছেলের জন্য?আমার ছেলেটার তনুকে পেলেই হবে ভবি আমি তনুকে নিজের মেয়ের মতো করে রাখবো কখনো কোনো অভিযোগ পাবেন না। আপনি আপনার তনু টা কে আমার ছেলের জন্য দিয়ে দেন ভাবি।

রুবি বেগম আসমা বেগমের আবদার শুনে কি বলবেন ভাবছেন। তার ও সাদের জন্য খারাপ লাগছে কিন্তু এই আবদার রাখা যে তার পক্ষের সম্ভব না।

তিনি আসমা বেগম কে বোঝানোর সুরে বললেন।

"ভাবি আমি আপনার কষ্ট বুঝতে পারছি কিন্তু আপনার এই আবদার যে আমি রাখতে পারবো না। তনুজার তো মা-বাবা আছে।আমি কি করে অন্যের মেয়েকে আপনার হাতে তুলে দেই বলুন হ্যাঁ তনুজা ছোট থেকে এই পর্যন্ত আমার কাছেই বেশি রয়েছে।আমিই ওকে পেলে এতোটুকু করেছি কিন্তু যতই হোক ওর তো বাবা মা আছে তাদের কে কিছু না বলে আমি কি করে আপনার আবদার রাখবো বলুন। আর রইলো কথা তনুজার।ও অন্য রকম৷ ওর যদি মত থাকে সাদ কে বিয়ে করতে তাহলেও আমার কিছু বলার নেই আর যদি না করে তাও কিছু বলার নেই।

এই বিষয়ে কোনো ভাবে ওকে জোর করতে পারবো না।

চলবে!

পর্ব সংখ্যা —৩৬

অচেনা প্রনয়ের চিরকুট লেখিকা— তাসনিয়া জাহান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন