ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের নির্বসন

১৪তম পর্ব

লেখক: মৃধা মৌনি

#প্রেমের_নির্বাসন - (১৪)

লেখনীতে- #মৃধা_মৌনি

________

চোখজোড়া ডলে ডলে মুছে নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে। কাঁদল না বেশিক্ষণ। কেঁদেকেটে লাভ নেই। ওসমান মির্জার কাছ থেকে এরচেয়ে বেশি ভালো কিছু আশা করাটাও বোকামি। ওর চিন্তা হচ্ছে রোদ্দুরকে নিয়ে। কোথায় ছেলেটা? কেন বাড়ি ফিরছে না? কি করে এসেছে...আর পারল না অভিমানে গূঢ় হয়ে থাকতে। ফোনটা হাতড়ে পাচড়ে কল করল ওই নাম্বারটিতে। হোয়াটসঅ্যাপে নেই। লাইন বন্ধ। কলিং দেখাচ্ছে। কেটে দিয়ে ফোনে ফোন করল এবার। প্রথম সেকেন্ড তিনেক কোনো শব্দই পেল না বিকেল, বুকের ভেতরটা ওর ধকধক করছে, দুরুদুরু কাঁপছে। শরীর খারাপ লাগছে রীতিমতো। ঠোঁট ভেঙে বিড়বিড় করে, 'প্লিজ প্লিজ প্লিজ আল্লাহ।'

এবং সঙ্গে সঙ্গেই রিং বেজে ওঠে। বিকেলের মুখ উজ্জ্বল হয়। যাক, ফোন খোলা আছে। পরমুহূর্তেই একরাশ কালো মেঘের ঘনঘটা এসে জুড়ে বসে ওর পাতলা গড়নের চেহারায়। কেটে গেল, কেউ ধরল না যে! আবারও রিং লাগাল ও, এবারেও সেম- বাজতে বাজতে কেটে যাচ্ছে। ওপাশ থেকে কোনো রেসপন্স নেই। মরিয়া হয়ে উঠল ও।

হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে ভয়েস ম্যাসেজটা অন করল।

তারপর প্রায় এক নিঃশ্বাসে বলে গেল, 'কোথায় তুমি? কি করেছ? কেন করেছ? তোমার জন্য এখন আমায় কত কিছু শোনা লাগতেছে রোদ ভাইয়া। আমি কি বলেছিলাম, আমায় কোচিং বাদ দিয়ে বাড়িতে টিচার ঠিক করে দিতে? তুমিই করেছ আর তুমিই এখন আমাকে এই আ'গু'নে ফেলে দিচ্ছো। শুনে রাখো, যদি এই আ'গুনে আমি পুড়ে ছাঁই হয়ে যাই, তবে সব দায়ভার তোমার একার... একদম তোমার একার!

আর কেউ জানুক, না জানুক, তুমি জানবে- আমার হারানোর পেছনে দায়ী একমাত্র তুমি, তুমি, তুমি।'

ভয়েজটা পাঠিয়ে হাঁপাল ক্ষণকাল। গলায় তেষ্টা পেয়েছে। একগ্লাস পানি এই মুহূর্তে চাই-ই চাই। ঘরে নেই। ফোনটা বিছানার উপর ছুঁড়ে দিয়ে এলোমেলো পায়ে বেরিয়ে এলো তারপর.....

রেহনুমা বেগম গম্ভীর মুখে পাথরের মতো বসে আছেন। ঘরের ভেতরের পরিবেশটা গুমোট, যেন দম বন্ধ করা এক নিঃস্তব্ধতা জেঁকে বসেছে চারপাশের দেয়ালে। তাঁর ঠিক সামনেই আরামকেদারায় বসে অস্থিরভাবে দোল খাচ্ছেন উমেদ মির্জা। দুজনের মন-মেজাজই যে এখন খাদের কিনারে, তা তাঁদের চেহারার দিকে একপলক তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে উমেদ মির্জার ভেতরে যেন ঝড়ের চেয়েও বড় কিছু বইছে।

অশান্তির পারদ তাঁর একটু বেশিই চড়া। কারণ, জীবনের কোনো হিসেবই এখন তাঁর ছক অনুযায়ী মিলছে না। নিজের একমাত্র ছেলেটাকে তিনি আগলে রাখতে চান, দুনিয়ার যাবতীয় ঝামেলা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চান। অথচ সেই ছেলে উল্টো বিপদকে নিজের বুকের সাথে সেঁটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে যেন। উমেদ মির্জা ভেবে পাচ্ছেন না তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত।

অর্পণ ফোন করে যে ভাষায় তাঁকে অপমান করেছে, তা মনে পড়লে তাঁর কান দিয়ে এখনো আগুন বের হতে থাকে। ছোট্ট ছোঁকরা তাঁর মুখের ওপর বলে দিল, সে দেখে নেবে! রোদ্দুরকে যেখানেই পাবে, মেরে হাড়গোড় গুঁড়ো করে গাঙে ভাসিয়ে দেবে। মামলা তো কেবল শুরু, যদি অর্পণের বাবার বড় কোনো ক্ষতি হয়, তবে সে রোদ্দুরের প্রাণের বিনিময়েও শান্তি পাবে না। নিজের ছেলের বয়সী একটা ছেলের কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি শোনার অপমান উমেদ মির্জাকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

আর এই সর্বনাশের মূলে কে? সেই মেয়েটা- বিকেল! উমেদ মির্জার দুশ্চিন্তা এখন ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। তাঁর মনে হচ্ছে, কেন বিকেল সব কথা রোদ্দুরকে জানাতে গেল? বাড়ির বড়রা ছিল, অন্য কেউ ছিল, কাউকে কিছু না বলে রোদ্দুরকে কেন বলা হলো? রোদ্দুরের রক্ত যে ফুটন্ত আগ্নেয়গিরির মতো, ওর মেজাজ বিগড়ে গেলে ও যে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, বিকেল কি তা জানত না?

উত্তেজনা আর অস্থিরতায় উমেদ মির্জা একদণ্ড বসেও শান্তি পাচ্ছেন না। ভেতরের ছটফটানি সইতে না পেরে তিনি হঠাৎ ঝটকা দিয়ে আসন ছেড়ে প্রবল বেগে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর এই আকস্মিক মুভমেন্টে রেহনুমা বেগম চমকে উঠলেন। নিজের দীর্ঘ ভাবনায় ছেদ পড়তেই তিনি বিমূঢ় দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকালেন।

ভয়ার্ত আর জড়ানো কণ্ঠে অস্ফুটে তাঁর মুখ দিয়ে কেবল একটি শব্দই বেরিয়ে এল, 'কী?'

রেহনুমা বেগমের সেই ছোট্ট প্রশ্নটি যেন আগ্নেয়গিরির মুখে শেষ আঘাত হয়ে বিঁধল। উমেদ মির্জা তপ্ত লাভার মতো রাগে ফেটে পড়লেন। গলার শিরা ফুলিয়ে ঘর কাঁপিয়ে গড়গড় করে বলতে লাগলেন,

'বলেছিলাম না? একশো বার বারণ করেছিলাম এই মেয়েকে লাই দিয়ে মাথায় তোলার কোনো দরকার নেই। স্কুলের গণ্ডি পেরোতেই কোথাও বিয়ে দিয়ে বিদায় করলে আপদ চুকত। কিন্তু না! তুমি আর আইরিন মিলে এমন বাঁধ সাধলে যে আমার কোনো কথাই কানে নিলে না। এখন দেখো, এই মেয়েটা আমার ছেলের জন্য কত বড় কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে! শুধু আমার ছেলের জন্য না রেনু, এই মেয়েটা এই বাড়ির শান্তিশৃঙ্খলা- সবার জন্যই আজ মস্ত বিপদ!'

উমেদ মির্জার দীর্ঘশ্বাসে আগুনের হল্কা। তিনি একটু থেমে আক্ষেপের সুরে বললেন, 'ছোট ঠিকঠাক বাড়ি ফেরে না, মেজোটাও দেশের বাইরে আস্তানা গেড়েছে। আমি একা মানুষ এত বড় ঘর-সংসার আর সবার পরিবারকে আগলে রাখি। আমার কি ক্লান্তি লাগে না? ছোট কেন বাড়ি আসে না, তার কারণ কি বোঝো না? একটা ভুলের মাশুল মানুষ কত জন্ম ধরে টানতে পারে রেনু? তবু ওসমান টেনে যাচ্ছে... তবে ওরও এখন ক্লান্তি চলে আসছে। ও আমাকে মুখ ফুটে না বললেও আমি ওর বড় ভাই, ওর চোখের ভাষা আমি ঠিক বুঝি। আজ সেই ভাইয়ের সাথেও কী বিশ্রী ব্যবহারটাই না করলাম। কার কারণে? স্রেফ ওই বিকেলের কারণে! এরপরও কি তুমি ওই মেয়ের পক্ষে সাফাই গাইতে আসবে?'

রেহনুমা কোনো তাৎক্ষণিক জবাব খুঁজে পেলেন না। উমেদ মির্জার অস্থিরতা আর রাগ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। পরিস্থিতির চাপে রোদ্দুরকে তড়িঘড়ি করে খালার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে; আপাতত ওখানেই ও গা-ঢাকা দিয়ে থাকুক। এদিকে পরিস্থিতি একটু ঠান্ডা হলে তারপর ফেরার চিন্তা। কিন্তু একজন বাবার মন কি আর স্থির থাকে? ছেলে বাড়িছাড়া, মাথার ওপর মামলার খাঁড়া ঝুলছে- মানুষটা পাগল না হয়ে যান, সেটাই বড় কথা।

তাঁকে আর উত্তেজিত করা ঠিক হবে না ভেবে রেহনুমা প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করলেন। নরম স্বরে বললেন, 'আপনি শান্ত হোন। দুপুরেও তো দানাপানি কিছু মুখে তোলেননি। কয়েকটা ভাত বেড়ে আনি?'

'রাখো তোমার ভাত-তরকারি! খাওয়া-দাওয়া ছাড়া জীবনে আর কিছু নেই, তাই না?' উমেদ মির্জা প্রায় ভেংচি কেটে উঠলেন।

'এই বাড়িতে এখন পুলিশ ঢুকবে, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই জানবে আমার ছেলে গুণ্ডামি করে বেড়ায়, বাবার বয়সী এক লোককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। আর তার ঘাড়ের ওপর ঝুলছে মার্ডার কেসের তলোয়ার... আহা! কী চমৎকার এক মুখরোচক খবর, তাই না? সবাই হা-হা-হি-হি করবে, আর মির্জা বাড়ির শত বছরের মান-সম্মান এক নিমিষেই ধুলোয় মিশে ছাই হয়ে যাবে। বাহ! এখন আমাকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এসবও দেখতে হবে!'

রেহনুমা বেগম ধীর পায়ে এগিয়ে এসে স্বামীর কম্পিত কাঁধে হাত রাখলেন। প্রবোধ দিয়ে বললেন, 'কিচ্ছু হবে না এমন। আপনি চিন্তা করবেন না।'

ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নিজের গলার স্বরটাও আজ অবাধ্য হয়ে কাঁপছে। নিজের অজান্তেই তাঁর চোখের সামনে এক বীভৎস দৃশ্য ভেসে উঠছে। ছেলেকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, চারপাশের মানুষ তামাশা দেখছে আর আড়ালে হাসছে। মা হয়ে এমন দৃশ্য কল্পনা করতেই তাঁর হৃৎপিণ্ডটা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইল।

মাথা ঝাড়া দিয়ে রেহনুমা নিজেকে শক্ত করলেন। দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, 'কিচ্ছু হবে না। আমার ছেলের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। ও যদি সত্যিই এমন কিছু করে থাকে, তবে তার পেছনে নিশ্চিত কোনো সংগত কারণ আছে।'

'কারণ যে কী, তা আমারও অজানা নয়!' উমেদ মির্জা তীব্র বিদ্রূপ ছুড়ে দিলেন, 'কিন্তু সেই কারণটা কি বিকেল তোমায় বলতে পারত না? আমাকে জানাতে পারত না? এই বাড়িতে অভিভাবক কি আমরা, নাকি আমার ছেলে? আর বিকেলেরই বা কেন রোদ্দুরের সাথে এত ফুসফাস আদানপ্রদান? কেন সবকিছু কেবল ওকেই বলতে হয়?'

'কী বলছেন আপনি? ও তো সম্পর্কে রোদ্দুরের ছোট বোন হয়!'

'বোন না ছাই... উঁড়িয়ে দেখো রেনু! বড্ড বোকা সেজো না। চোখ খোলো, বাস্তবতা খতিয়ে দেখো। একদিন সব যখন হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যাবে, তখন হাজার কাঁদলেও কিন্তু কিচ্ছু ঠিক হবে না।'

রেহনুমা পাথরের মতো নীরব হয়ে রইলেন। উমেদ মির্জা পুনরায় তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন, 'আমার চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো কিছুই এড়ায় না রেনু। তুমি তো ভালো করেই জানো, আমি ভবিষ্যতে কী ভেবে রেখেছি। ভবিতব্য কিন্তু তাই হবে, যা আমার এত বছরের সাধনা। মাঝখান থেকে কারো জীবন নষ্ট হোক, আমি চাই না। তুমি ওকে বোঝাও, পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে যেন বিয়ের পিঁড়িতে বসে। আমি ওসমানকে বলব, পাত্র আমিই খুঁজে আনব। ওকে এই বাড়ি থেকে সরাতে পারলেই আমি একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারি...'

'বড় বাবা।'

আচমকা এই অতি পরিচিত ডাক শুনে উমেদ মির্জা আর রেহনুমা দুজনেই সজাগ হয়ে উঠলেন। ঝড়ের বেগে আলোচনা চলছিল, তাই বিকেলের উপস্থিতি তাঁদের দুজনের কাছেই এক আকস্মিক ধাক্কার মতো এল। দুজনেই তড়িৎ দরজার দিকে তাকালেন। সেখানে জড়োসড়ো ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে বিকেল। তার মাথাটা সামান্য নিচু, যেন এক অপরাধী নিজের শাস্তির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। একটু আগে দুচোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়া নোনাজলের অবশিষ্টাংশ সে প্রাণপণ চেষ্টায় আড়াল করতে চাইছে, কিন্তু ফোলা লালচে চোখগুলো তার মনের খবর ঠিকই ফাঁস করে দিচ্ছে।

সে আবার ক্ষীণ কণ্ঠে ডাকল, 'বড় বাবা।'

উমেদ মির্জা কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি যেন মুহূর্তেই পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেলেন; বিকেলের প্রতি তাঁর যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, তা নীরবতার আড়ালে আরও তীব্র হয়ে উঠল। রেহনুমাই পরিস্থিতি সামাল দিতে হন্তদন্ত হয়ে বলে উঠলেন, 'বল মা, কিছু বলবি?'

বিকেল মাথা কাত করে সম্মতির ইশারা দিল।

'বল, কী বলবি?' রেহনুমুর কণ্ঠস্বরে চাপা উৎকণ্ঠা।

বিকেল এবার মাথা তুলে সরাসরি তাকাল। তার ভেজা চোখ দুটিতে এক অদ্ভুত নিঃস্বতা আর ত্যাগের ছাপ। সে কাঁপাকাঁপা স্বরে বলতে শুরু করল, 'আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি বিষয়গুলো এতটা জটিল হয়ে যাবে। সে যেহেতু রোদ্দুর ভাইয়ের আনা টিচার ছিল, তাই তাকেই জানাতে চেয়েছিলাম। আর... আর কথাগুলো এত বেশি ব্যক্তিগত ছিল যে...'

'তোমার বড় মাকেও বলতে দ্বিধা হলো, অথচ আমার ছেলেকে সব জানাতে পারলে? তার মানে এই বাড়িতে বড় মায়ের চেয়েও রোদ্দুর তোমার বেশি আপন, তাই না?' উমেদ মির্জার শ্লেষাত্মক মন্তব্যটি তীরের মতো বিঁধল বিকেলের বুকে।

এমন অন্যায্য কটাক্ষে বিকেল ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ল, কিন্তু আজ আর সে তর্কে গেল না। নিজের ভেতরের সবটুকু জেদ আর স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে রুদ্ধ কণ্ঠে জানাল, 'সরি বললে তো আর সবকিছু ঠিক হবে না, তাই সরি বলছি না। কিন্তু...' একটু দম নিয়ে সে চূড়ান্ত ঘোষণাটি দিল, 'আমি তোমার সিদ্ধান্তে মত দিলাম বড় বাবা। তুমি যেখানে, যাকেই বিয়ে করে নিতে বলবে- আমি রাজি। আর... আমি এইচএসসি-ও দিতে চাই না। তুমি বাপির সঙ্গে কথা বলে সব ব্যবস্থা করো।'

কথাগুলো শেষ করেই সে আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। নিজের কান্নার বেগ লুকোতে প্রায় ছুটে পালিয়ে গেল ঘর থেকে। পেছনে রেখে গেল এক থমথমে নিস্তব্ধতা। রেহনুমা বেগম হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন; তাঁর বুকের ভেতরটা চিনচিন করে উঠছে। যে প্রলয়ংকরী ঝড়ের আশঙ্কায় তিনি এতদিন তটস্থ ছিলেন, আজ যেন সেই ঝড় বিকেলের একটা সিদ্ধান্তেই আছড়ে পড়ল সংসারটার ওপর।

পাশে ফিরে তাকিয়ে রেহনুমা দেখলেন, উমেদ মির্জা ঝড়ের গতিতে ফোন বের করে কাউকে কল করতে শুরু করেছেন।

★★★

বাংলায় একটি অতি পরিচিত প্রবাদ আছে—‘অভাগী যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়’। আদিবার বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে মনে হয়, নিয়তি বুঝি এই প্রবাদটি তার ললাটেই লিখে দিয়েছিল।

সন্ধ্যার আবছা অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই এক অদ্ভুত অস্থিরতা আর উত্তেজনা আদিবার সারা শরীরে জেঁকে বসেছে। বুকের ভাঁজে, অন্তর্বাসের গভীরে সে পরম মমতায় লুকিয়ে রেখেছে একটি ভাজ করা কাগজ। যেন ওটা কাগজ নয়, বরং সৌম্যর হৃদস্পন্দন। একটু পর পর সে কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে কাগজটি ছুঁয়ে দেখছে; প্রতিটি স্পর্শে মনে হচ্ছে সে যেন হাজার মাইল দূরে থাকা সৌম্যকেই ছুঁয়ে ফেলছে। সেই চিরকুটে খুব বেশি কথা লেখা নেই। কিন্তু প্রতিটি অক্ষরে মিশে আছে আত্মবিসর্জনের এক নীরব হাহাকার।

আদিবা চায়, এই লেখাটি পড়লে সৌম্য যেন বোঝে- এই ত্যাগের প্রতিটি বিন্দু ছিল কেবল তার ভালোবাসার টানে। সৌম্যর নামটুকু হৃৎপিণ্ডে খোদাই করেই সে এই পৃথিবীর মায়া কাটানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক জীবনে সৌম্যর সোহাগে রাঙতে চেয়েছিল সে; কিন্তু ভাগ্য যখন বিমুখ, তখন জীবনটাকেই বিসর্জন দিতে সে অটল। তার শেষ আকুতি এটুকুই, সৌম্য যেন তাকে কোনোদিন ‘প্রতারক’ বলে ঘৃণা না করে। বরং কোনো এক নির্জন গোধূলিতে ওর নাম মনে পড়লে সৌম্যর চোখে গভীর শ্রদ্ধার ছায়া নামে। সে যেন ভেবে নেয়, ভালোবাসার পবিত্রতা রক্ষা করতেই আদিবা দূর আকাশের এক নিঃসঙ্গ তারা হতে চেয়েছে... নীরবে, নিভৃতে।

কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই লগ্নটি আজ বড় বেশি দেরি করছে। আঙুলের কড় গুনে গুনে কতক্ষণ আর সময় কাটানো যায়? আদিবা বদ্ধ জানালার ধারে বসে অন্ধকার আকাশের পানে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। কখনো নোনা জলে গাল ভিজল, কখনো ক্লান্তিতে বুজে এল চোখের পাতা। এভাবে করতে করতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল, কিন্তু দরজায় কোনো সাড়াশব্দ নেই। আসিফ কি তবে আসবে না? আসিফও কি শেষমেশ তাকে ফাঁকি দিল? অভিমানে আর আশঙ্কায় আদিবার চোখের পাতা ভারি হয়।

ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় মৃদু শব্দের গুঞ্জন উঠল। একবার... দুবার... এবং তিনবার!

আদিবা প্রায় ছুটে দরজার কাছে আসে। অবাধ্য এক ফালি হাসি তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল। সে দ্রুত দরজার নিচ দিয়ে সেই কাঙ্ক্ষিত কাগজটি ঠেলে দেয়। ওপাশ থেকে কেউ যেন ছোঁ মেরে তুলে নিল সেটি। আসিফই হবে নিশ্চয়ই!

আদিবা দরজার কাঠে মাথা ঠেকিয়ে একটা হাত রাখে। ওর বুকটা তখন কামারের হাপরের মতো ধুকপুক করছে। মনে মনে ভাবল, কেবল এই একটা রাত... তারপর এই চেনা ঘর, চেনা মানুষের ঘ্রাণ আর ওই জানালা দিয়ে দেখা সন্ধ্যার মায়াবী আকাশ- সবই তার জন্য চিরতরে অদৃশ্য হয়ে যাবে। কোনোদিন আর দেখা হবে না, কোনোদিন না!

ঠিক সেই মুহূর্তে দরজার নবটা ঘুরে ওঠে। আদিবার ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেল; এক অজানা আশঙ্কায় বুকটা ধক করে উঠল তার। আসিফ কি তবে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করছে? কিন্তু ওদের পরিকল্পনায় তো এমন কিছু ছিল না! কথা ছিল নিঃশব্দে কাগজটি আদান-প্রদান করার। কেন যেন এক তীব্র ভীতি আদিবার পুরো শরীরকে অবশ করে দিল। সে তড়িঘড়ি করে দরজা থেকে দুই পা পিছিয়ে সরে দাঁড়ায়।

দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল। কিন্তু দরজার ফাঁক গলে যে অবয়বটি ভেতরে ঢুকল, তাকে দেখে আদিবার পায়ের তলার মাটি সরে যায়। আসিফ নয়, সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং আশফাকুল রহমান। আদিবা থ হয়ে গেল; তার জবান যেন মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে এল। কিন্তু তার চেয়েও বড় ধাক্কাটা সে খেল বাবার হাতের দিকে তাকিয়ে। যে কাগজটি এতক্ষণ পরম যতন আর গোপনীয়তায় নিজের কলিজার কাছাকাছি আগলে রেখেছিল সে, সেই চিরকুটটি এখন আশফাকুল রহমানের হাতের মুঠোয় বন্দি! তিনি সেটি এমনভাবে পিষে ধরে আছেন, যেন কাগজ নয়- মেয়ের হৃৎপিণ্ডটাকেই মুঠোয় ভরে পিষছেন।

আদিবার মনে হলো বুকের ব্যথাটা অসহ্য হয়ে উঠছে। আশফাকুল রহমান এক পা, দু-পা করে মেয়ের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলেন। তাঁর চোখের দৃষ্টিতে আগুনের লেলিহান শিখা। আদিবা ভয়ে পিছিয়ে যেতে যেতে বিছানার কিনারায় গিয়ে ঠেকল। সে মাথা নিচু করে নিজের হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিল; ভেতরে জমে থাকা প্রবল কাঁপুনি থামানোর এক আপ্রাণ চেষ্টা। নিজেকে সাহস জোগানোর জন্য বুক ভরে দম নিল সে। কিন্তু যেই না সে মুখ তুলে বাবার দিকে তাকাতে গেল, অমনি এক প্রচণ্ড চড় এসে সজোরে আছড়ে পড়ল তার বাম গালে।

আদিবা টাল সামলাতে না পেরে ছিটকে বিছানার ওপর গড়িয়ে পড়ে। কানের ভেতর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর গালে অসহ্য জ্বালা নিয়ে সে শুনতে পেল বাবার সেই বিষাক্ত কণ্ঠস্বর। আশফাকুল রহমান প্রতিটি শব্দ দাঁতে দাঁত চিপে উচ্চারণ করছেন, 'কলিজাটা তোর এত বড় হয়ে গেছে তোর? এত বড়!'

'বাবা...'

'খবরদার! তোর অপবিত্র মুখে আমায় বাবা বলে ডাকবি না।' আশফাকুল রহমানের কণ্ঠস্বর বজ্রের মতো ফেটে পড়ে। ঘৃণায় কুঁচকে যাওয়া মুখ নিয়ে তিনি গর্জে উঠলেন, 'এক জন্মজন্মান্তরের নেমকহারাম মেয়ে জন্ম দিয়েছি আমি। চাবকে তোর গায়ের ছাল ছাড়িয়ে দেওয়া উচিত ছিল আমার। বাড়ির মান-সম্মান সব ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে তুই যখন ঢ্যাং ঢ্যাং করে আরেক ছেলের হাত ধরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলি, তখন কি একবারও ভাবলি না? আবার কোন সাহসে তাদের পুরো পরিবার নিয়ে আত্মীয়তা করতে আসিস? লোক হাসাতে চাস তুই, তাই না? এই বাড়ির সম্মান কি তোর কাছে এতটাই ঠুনকো?'

তিনি একটু থামলেন, কিন্তু আগুনের হলকা কমলো না মোটেই।

'এত কিছুর পর আমি তোকে ক্ষমা করে ঘরে তুলেছি, বিনিময়ে শুধু চেয়েছিলাম, এবার তুই আমার কথা মতো চলবি। কিন্তু না! তোর তো ঐ নাগরটার জন্য কলিজা পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। তাকে চিঠি লিখে পাঠিয়ে উদ্ধার করতে চাস... বাপরে বাপ, কী বুদ্ধি! আর শাগরেদ কাকে বানিয়েছিস? আসিফকে? ঐ দুধের বাচ্চা আসিফ, যে এখনো কুকুর দেখলে আহ্লাদে আটখানা হয়... ছিঃ! তোর আর আসিফের এই দুঃসাহসের শাস্তি আমি দেবই দেব। তোদের দুটাকেই জন্মের মতো শিক্ষা দিয়ে ছাড়ব।'

আদিবা ভাঙা গলায় অনুনয় করে বলার চেষ্টা করল, 'বাবা আমি... আমি ভুল করেছি। আসিফ তো কিছু জানে না, ও শুধু আমায়...'

'চুপ! একদম চুপ!' আশফাকুল রহমান হাত উঁচিয়ে তাকে থামিয়ে দিলেন। 'নেহাৎ তুই মেয়ে বলে আর বেশি হাত তুললাম না। ছেলে হলে আজ বুঝিয়ে দিতাম পারিবারিক সম্মান নিয়ে তামাশা করার ফল কী হয়। আমার বংশের মর্যাদা আমার কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই সম্মানের বিনিময়ে তোর মতো একশোটা মেয়েকে আমি কেটে গাঙে ভাসিয়ে দিতে পারি, মনে রাখিস!'

আদিবার ঝাপসা চোখের সামনেই তিনি সেই পবিত্র চিরকুটটিকে ছিঁড়ে কুটি কুটি করে ফেললেন। বাতাসের মতো তুচ্ছ করে ছড়িয়ে দিলেন মেঝেতে। তারপর ঘর কাঁপিয়ে চিৎকার দিলেন, 'মাধবী! মাধবী! ভেতরে এসে তোমার মেয়েকে সাজাও। ওর বিয়ে হবে আজ, এখনই, এই মুহূর্তে! আমি এবার দেখব, বিয়ের পর যদি ও মরে যেতে চায়, তবে মরুক- তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না!'

তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঝড়ের বেগে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। পরক্ষণেই ঘরে ঢুকলেন মাধবী বেগম। তাঁর পেছনে পেছনে বড় চাচী আর দিলরুবা আপাও বিষণ্ণ মুখে প্রবেশ করল। আদিবার পায়ের শক্তি যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে; সে ধপ করে মেঝের ওপর বসে পড়ে। তার কানে এখন বাবার চিৎকার নয়, বরং এক ভয়াবহ দুশ্চিন্তা বাজছে- আসিফ কোথায়? ও কি সুস্থ আছে? নাকি ওর ওপর কোনো চরম আঘাত নেমে এসেছে? এই অশুভ ভাবনায় আদিবার হৃদপিণ্ডটা মুহূর্তের মধ্যে অবশ হয়ে গেল।

★★★

বিশাল এক বটগাছের পুরনো গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে আছে এক কিশোরী; যে সবেমাত্র পূর্ণ যৌবনে পা রাখা এক সুন্দরী রমণী হয়ে উঠছে। তার চুলের গোছা যেমন মোটা, তেমনই দীর্ঘ- ঠিক যেন মেঘবরণ দিঘল কালো চুলের এক রাজকন্যা। যত্ন করে বাঁধা বেণীটি একপাশে অবহেলায় ফেলে রাখা। চিরল ঠোঁট দুটিতে এক চিমটি মিষ্টি হাসি ঝুলে আছে, যা তার পুরো অবয়বে এক মায়াবী শ্রী এনে দিয়েছে। সাজপোশাকে কী দারুণ এক পরিমার্জিত আভিজাত্য!

বিকেল আলতো হাতে ছবির ওপর আঙুল ছুঁইয়ে দিল। তার মা- যাকে সে বাস্তবে কোনোদিন স্পর্শ করতে পারেনি, যার সাথে কাটানো কোনো উজ্জ্বল স্মৃতি তার স্মৃতির মণিকোঠায় জমা নেই। অথচ এই স্থিরচিত্রটিই তার কাছে র'ক্তমাংসের মা। সম্বল বলতে কেবল চারটি ছবি; তার মধ্যে এই ছবিটিই বিকেলের সবচেয়ে প্রিয়। ছবিতে মায়ের বয়স তখন আঠারোও পার হয়নি, অথচ চেহারায় কী অদ্ভুত এক পরিণত নারীর শান্ত স্নিগ্ধ ছাপ!

তাকিয়ে থাকতে থাকতে বিকেলের চোখ ভিজে এল। অ্যালবামের ওপর টুপ করে এক ফোঁটা লোনা জল ঝরে পড়ে। বিকেল তাড়াহুড়ো করে আঙুল দিয়ে জলটুকু মুছে ফেলল। তার মনে হলো, এই চোখের জলটুকু যদি ছবির গায়ে লাগে, তবে ওপারে থাকা মা বুঝি বড্ড কষ্ট পাবেন।

মুছতে মুছতে আওড়াল, 'আমার পাশে আজ তুমি ছাড়া আর কেউ নেই মা। কেউ না। আর কাউকে আমি আশাও করি না। আমি তবু ভাগ্যবতী, জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি...এমনটাই বলে মানুষ। অথচ কি পাইনি, সে হিসেবের লিস্ট যে পাওয়ার লিস্টের চেয়ে লম্বা এবং ভারী- তা কেউ খতায় না। আচ্ছা মা, একটা মেয়ের সবচেয়ে বড় নিরাপদ আশ্রয় কি? তার পরিবার, তাই না? আমার ছোট বুদ্ধিতে তো তাই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আমার সেইটিই নেই! বাদবাকি আর কি আছে না আছে, তা দিয়ে কি করব আমি? তুমি দোয়া করো, আমি যেন একদিন অনেক বড় হতে পারি...অনেক বড়! আর আমার যেন নিজের একটা ঘর হয় মা। ছোট্ট, ছিমছাম তবু নিজের! ওখানে আমায় দুটো কথা শোনানোর কেউ থাকবে না। কষ্ট দেবার কেউ থাকবে না। না কি থাকবে আমার হারানোর ভয়। আর আমি বিধাতার কাছে দোয়া করি, যদি আমার মৃত্যু খুব তাড়াতাড়ি লেখা থাকে তবে যেন কোনোদিন তিনি আমার গর্ভে কোনো সন্তান না দেন.. যদি দেন, তবে যেন আমায় হায়াতে বড় করেন। মা ছাড়া সন্তানদের কি কষ্ট, কি বেদনা...আহ মাঃ আই উইশ, আমি এই মুহূর্তে তোমার বুকের পাজরে তোমায় জড়িয়ে ধরে ঢুকে যেতে পারতাম...

বাইরের এই কোলাহল, এই অশান্তি, সমস্ত বিষাদ ঝাড়তে তোমার গর্ভ আমার খুব প্রয়োজন মা, খুব প্রয়োজন। আই মিস ইউ মা..আই মিস ইউ- সো মাচ!'

তারপর সময় নিয়ে গাঢ় চুমু আঁকলো মায়ের ললাটে...

মুখ তুলে ফিসফিস করে শুধাল, 'ইউ আর সো বিউটিফুল মা, সো বিউটিফুল...' কান্নায় রুদ্ধ হয়ে আসা কণ্ঠ আঁটকে গেলে ছবিটাকে দু'হাতে জড়িয়ে আবারও কল্পনার স্রোতে পাড়ি দিলো সে। যেখানে মায়ের কোলে তার জন্য মাথা রাখা কোনো ব্যাপারই না...

জানালার ওপাশ দিয়ে নিঃশব্দে রাতের প্রহরগুলো ক্ষয়ে যেতে থাকে। আকাশের বুকে আজও একটা চাঁদ উঠেছে ঠিকই, কিন্তু বিকেলের চোখে সেই চাঁদের জোছনা আজ বড় ম্লান, বড় বিষণ্ণ। চরাচর জুড়ে কেমন এক থমথমে কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি- যেন চারপাশের সবকিছুই এক গভীর শোকে পাথর হয়ে আছে। প্রকৃতির বিশাল এই ভাণ্ডারে কত কিছু আছে, অথচ বিকেলের হৃদয়ের অতল গহ্বরে যে শূন্যস্থানটি আজ তৈরি হয়েছে, তা পূর্ণ করার মতো এককণা উপশম কোথাও নেই। সবটাই আজ হাহাকারময় আর অর্থহীন।

(চলবে)

________

৮০০ রিয়েক্ট চাই....❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন