ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের নির্বসন

২৬তম পর্ব

লেখক: মৃধা মৌনি

#প্রেমের_নির্বাসন - (২৬)

লেখনীতে - #মৃধা_মৌনি

__________

চারদিকে ঘন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। রাস্তার স্ট্রিট লাইটগুলো মিটিমিটি আলোয় যেন কোনো গোপন কথা বলছে। জনশূন্য রাস্তা দিয়ে একটি রিকশা চলে গেল; তার চালক কেন জানি অকারণেই দুবার টুংটাং করে বেল বাজাল। সেই শব্দের রেশ কাটতে না কাটতেই সিঁড়ির দরজায় এসে দাঁড়াল একটি দীর্ঘ ছায়া।

লম্বাটে, পাতলা গড়নের মেয়েটি— তৃপ্তি।

ছাদে পা রাখতেই দৃশ্যটা তার চোখে পড়ে। মুহূর্তেই শিরদাঁড়া বেয়ে গড়িয়ে পড়ল এক হিমশীতল স্রোত। লজ্জায় মুখখানা আরক্ত হয়ে উঠল তৃপ্তির। এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজেকে আড়াল করতে সে সিঁড়ি ঘরের অন্ধকারে পিছিয়ে দাঁড়ায়। বুকের ধুকপুকানি থামিয়ে, হাত মুঠো করে নিজেকে কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করল সে। তারপর সেখান থেকেই গলা উঁচিয়ে ডাকল বিকেলকে।

ডাকটা শুনেই বিকেল যেন সম্বিত ফিরে পায়। হতবাক দেখালো তাকে। হতভম্ব হয়ে একপাশে সরে গেল রোদ্দুরও। দুজনেই সিঁড়ি ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখল তৃপ্তি অস্বস্তিতে উশখুশ করছে। খানিকটা উঁকি দিয়ে তাকিয়ে দু'জনকে আলাদা দেখে তারপর পা ফেলল ছাদে। রোদ্দুর আরও খানিকটা সরে গেল। সিগারেট ধরালো একটা। বিকেল জড়তায় ঘন হয়। চোখ তুলে তাকাতেও একরাশ লজ্জা লাগছে এই মুহূর্তে। নাকের ডগায় কলঙ্ক জমে।

এগিয়ে আসতে আসতে এক চিলতে হাসি ছুঁড়ে দিলো তৃপ্তি, অকারণেই- পরিবেশটাকে স্বাভাবিক করতে চাইছে সে। বিনিময়ে পালটা হাসির ফোয়ারা সৃষ্টি করে বিকেল ও। দু'জনার দূরত্ব আরও খানিকটা মিটিয়ে আঁড়চোখে একবার রোদ্দুরকে দেখে নিলো সে। বিকেলের দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে ওঠে, 'বড় মা ডাকছেন।'

'আমায়?' বিকেল একটু অবাক হলো যেন।

তৃপ্তি উপর-নীচ মাথা দুলিয়ে বলল, 'হ্যাঁ, তোকে।'

'কেন?'

'তা বলতে পারব না। তোর রুমে খুঁজে না পেয়ে আমায় বলল ছাদে খোঁজ করতে। তাই এলাম।'

সরাসরি রোদ্দুরের চোখের দিকে দৃষ্টিপাত করে মেয়েটা৷ একরাশ অস্বস্তি এসে ভর করেছে তার আঁখিপাতে। রোদ্দুর কিছু বলে না তবে। আপন মনে সিগারেট ফুঁকে চলে, দৃষ্টি নিপাত করল আকাশের বুকটায়।

তৃপ্তি তাড়া দিল, 'চল। যাই।'

অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর জানাল বিকেল, এগিয়ে গেল তৃপ্তির সঙ্গে। রোদ্দুর একাই রইল তারপর ও অনেকক্ষণ। সময়টা উপভোগ করছে সে। মেয়েটা নিচে নেমে গেছে অথচ মনে হচ্ছে এই যে, পাশেই...গায়ের নরম ঘ্রাণটা এখনো নাকে ভাসছে। ঠোঁটে স্পর্শ হচ্ছে মখমলের ন্যায় ঠোঁট জোড়ার আভা। আর তো ক'টা দিন, তারপর কত দিনের জন্য উপোস দিতে হবে তাকে! ভাবতে ভাবতে সিগারেট ফুরিয়ে আসে একসময়। ফের আরেকটা ধরায় রোদ্দুর। তবে হৃদয়ের পোড়া নিকোটিন পোড়ায় কমে না বিন্দু পরিমাণ... বরং তৃষ্ণা বেড়েই চলে ছেলেটার।

একসময় বিরক্ত হয়ে আধখাওয়া সিগারেটটাই ছুঁড়ে ফেলে পায়ের তলায় পিষে রোদ্দুর। দু'হাতে জিন্সের পকেটটায় গলিয়ে নেমে আসে ফটাফট ছাদ থেকে। আকাশটা গাঢ় অন্ধকারে ছেয়ে, আজ কোনো চাঁদ নেই।

বড় কাঠের আলমারির দু’পাল্লা হাঁ করে খোলা। পুরোনো কাঠের গায়ে সময়ের ছাপ, ভেতর থেকে ভেসে আসছে ন্যাপথলিন আর ধোয়া কাপড়ের মিশ্র গন্ধ। আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে রেহনুমা মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা খুঁজছেন। কখনো শাড়ির ভাঁজ উল্টে দেখছেন, কখনো নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। তাঁর মুখটা দেখা যাচ্ছে না, তবু ভঙ্গিমায় অদৃশ্য ক্লান্তির রেখা স্পষ্ট।

এই সময় দরজার চৌকাঠে এসে থামে বিকেল।

তৃপ্তি নেই। আসবার পথে একবার নিজের ঘরের দিকে উঁকি দিয়েই সে সরে গেছে। এমনটা আগে কখনো হয়নি। বড় মায়ের ঘর মানেই ছিল এক অদ্ভুত টান, এক আশ্রয়ের নিশ্চিন্ত উষ্ণতা। কথার পর কথা, হাসির পর হাসি- দু’জনের মধ্যে ছিল এক অন্যরকম সখ্যতা। অথচ ইদানীং… ঠিক কবে থেকে যে সেই স্বাভাবিক সহজতাটা হারিয়ে গেছে, তা নিজেও বলতে পারে না বিকেল।

একটা অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে গেছে মাঝখানে। কথাবার্তা হয়, কিন্তু শব্দগুলো আর আগের মতো নরম থাকে না। চোখে চোখ পড়লে কেমন অকারণ জড়তা কাজ করে। ভেতরে ঢোকার জন্য এক পা বাড়িয়েও থেমে যায় বিকেল। বুকের ভেতর হালকা ধুকপুকানি। দরজার গায়ে হাত রেখে সে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর চাপা স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে ডাকে, 'আসবো, বড় মা?'

রেহনুমা সম্বিত ফিরে পাবার মতোই চমকে উঠলেন সামান্য। পরমুহূর্তেই নিজেকে ধাতস্থ করে শান্ত শীতল কণ্ঠে জবাব দিলো, 'আয়।'

তারপর আলমারির পাল্লা আঁটকে নিজেও বিছানায় গিয়ে বসেন। হাতের ইশারায় বিকেলকেও বসতে বলা হলো। কিন্তু ও বসে না। বিক্ষিপ্ত হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকে খাটের এক পাশে এসে। গলার স্বর বুঁজিয়ে প্রশ্ন ছোঁড়ে, 'ডাকছিলে?'

রেহনুমা ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বললেন, 'হুম। কোথায় ছিলি তুই?'

এমনিতেই অস্বস্তির চূড়ান্ত, রেহনুমার কণ্ঠস্বর শুনে তা যেন আরও এক ধাপ উপরে উঠে গেল। বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল তার। কী বলবেন বড় মা - এই ভাবনায় দু’সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল সে। যেন শব্দ বেছে নিতে চাইছে, নাকি নিজের ভেতরের ভয়টাকে সামলাতে- বোঝা গেল না ঠিক।

কিন্তু সে বিরতির আগেই রেহনুমা ফিরে তাকালেন। চোখেমুখে এক অদ্ভুত স্থিরতা। তারপর ধীরে, কিন্তু স্পষ্ট স্বরে বললেন, 'তোর সঙ্গে জরুরি কথার দরকার ছিল।'

কথাটা শুনে বুকের উপর থেকে একটা ভার নেমে গেল বিকেলের। অজানা আশঙ্কার জায়গায় এলো কৌতূহল। অন্তত জড়তাটুকুন কাটছে অন্তত!

সে অল্প একটু এগিয়ে এসে খাটের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়াল। আঙুল দিয়ে খাটের চাদরের কিনারা মুচড়ে ধরে বলল, 'বলো?'

রেহনুমা বললেন, 'তোর মা আসতেছে, শুনছিস কিছু?'

চমক পৃষ্ঠ হলো না বিকেল, অথচ রাজ্যের অবাক হওয়ার কথা ছিল তার। রেহনুমা বুঝতে পারলেন, মেয়ের কানে আরও আগেই খবর খানা পৌঁছে গিয়েছে। কেমন নির্লিপ্ত দেখালো ওই চোখ দু'জোড়া।

রেহনুমা নিজে থেকেই বিকেলের দিকে একটা হাত বাড়িয়ে তাকে টানলেন। সব উশখুশানি এক পাশে সরিয়ে রেখে বিকেল ও চলে এল আলিঙ্গনে। পাশে বসে পড়ল চুপটি করে। ওর চিবুক ছুঁইয়ে দিয়ে রেহনুমা জানতে চাইলেন, 'মন খারাপ হলো?'

বিকেল উপর-নীচ মাথা নাড়লো, 'নাহ, মন খারাপের কি আছে।'

'এইতো, ছোট্ট মেয়েটা বড় হয়ে গেছে। সবকিছু বুঝতে শিখেছে। তোর বাবার নিজের ও তো একটা জীবন আছে, তাই না?'

'হুঁ।'

'সেই জীবনে তার ও একজন বন্ধুর দরকার আছে। আর স্ত্রীর চেয়ে বড় বন্ধু কে হয় পুরুষ মানুষের? শুনেছি, ও ঘরে তোর একটা ভাই ও আছে নাকি। মিলেমিশে থাকবি। দেখবি, তোর সাপোর্ট পেলে তোর বাবার সব মনঃদ্বন্দ্ব কেটে যাবে। তোর প্রতিও আগ্রহ চলে আসবে। ভালোবাসবে।'

বিকেল সামান্য হেসে বলল, 'যে ভালোবাসা পেতে হলে আমার তার মন জুগিয়ে চলা লাগবে, অমন ভালোবাসা আমি চাই ও না বড় মা। আমরা তো তোমাদের সন্তান, আমাদের নিঃস্বার্থ ভাবে তোমরাই ভালোবাসবে আগে, তারপর না পৃথিবীর অন্য কেউ....অথচ সেই তোমাদের কাছেই যদি এত হিসেব, নিকেষ- এত নিয়ম কানুন মেনে নিয়ে ভালোবাসার জন্য হাত পাততে হয়, তবে আমি....'

বাকি কথাটুকু শেষ করে না বিকেল। হঠাৎ করেই চুপসে গেল সে। রেহনুমা ভারী অবাক হলেন। এইটুকুনি মেয়ের কি গাঢ় অভিমান! কি কথার শব্দ বুনন!

বিকেল উঠে পড়ল চটপট করে, 'আমি যাই বড় মা। মাথাটা বড্ড ধরেছে। তাছাড়া তোমরাও তো বের হবে, না?'

রেহনুমা ঘাড় নাড়লেন, 'হুম। যাবো।'

'ঠিক আছে। আমি চলে গেলাম।'

'শোন?'

'বলো?'

রেহনুমা যন্ত্রের স্বরে বললেন, 'তৃপ্তিকে একটু ডেকে দিয়ে যাস তো। ও-ও যাবে।'

স্তব্ধ দেখালো বিকেলকে।

নাকি হতভম্ব - ঠিক বুঝতে পারলেন না ভদ্রমহিলা। তবে মন আকাশের কালো মেঘ গুলি গুণতে পারল ঠিকই!

একটা অবিশ্বাস্য দৃষ্টি নিয়ে কেন যেন সেকেন্ড তিনেক চেয়ে রইল মেয়েটা। পর মুহূর্তে রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞেস করল, 'তোমাদের সাথে যাবে?'

রেহনুমা মুখ দিয়ে একটি শব্দ ও উচ্চারণ করতে পারলেন না আর। কেবল মাথা বাকিয়ে হ্যাঁ জানালেন, বিকেল মলিন হাসি ফুটিয়ে তুলল ঠোঁটের কোণে, 'ডেকে দিচ্ছি।' বলে বেরিয়ে এল তারপর।

রেহনুমা স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলেন বিছানার উপর। কেমন একটা খারাপ লাগা কাজ করছে তার বুকের মধ্যিখানটায়। কিন্তু আফসোস — মেয়েটির জন্য কিছু করবার পরিস্থিতি তার সাধ্যে নেই!

নিজের ঘরেই ছিল তৃপ্তি। কাবার্ড থেকে একটা সুন্দর নীল থ্রিপিস বের করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ট্রায়াল দিচ্ছিল সে। ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো এক অস্থিরতায় টলমল করতে করতে বিকেল ঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়াল। ওর চোখেমুখে স্পষ্ট মেঘ জমে আছে। তৃপ্তি হকচকিয়ে উঠল; কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠে শুধালো, 'তুই?'

বিকেল কিছুক্ষণ নীরবে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর খুব নিরাসক্ত কণ্ঠে জানাল, 'বড় মাদের সঙ্গে তুইও যাচ্ছিস, এটা কি তুই জানতিস?'

তৃপ্তি ঘাবড়ে গেল কি না বোঝা গেল না, তবে তার মধ্যে একটা অস্বস্তি দানা বেঁধেছে। হাতের জামাটা পাশে রেখে ধীরপায়ে এগিয়ে এসে সে বিকেলের মুখোমুখি দাঁড়ায়। অত্যন্ত নরম সুরে স্বীকার করল, 'জানি।'

'গ্রেট! ঘুরে আয় তাহলে,' বলেই বিকেল গটগট করে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।

সাথে সাথে বিকেলের হাতটা টেনে ধরল তৃপ্তি। অনুনয় মাখা গলায় বলল, 'এই যে তুই অমনি রেগেমেগে চলে যাচ্ছিস, ঠিক এই কারণেই তোকে জানাতে চাইনি।'

বিকেল নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টা করে বলল, 'না না, আমার আবার অসুবিধে কীসের! রাগেরও তো কিছু নেই।'

'সবই আছে বিকেল। আমি তোকে বুঝতে পারছি। কিন্তু বড় বাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিশিকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আমাকেই যেতে হবে। তুই তো জানিস বড় বাবার সাথে তোর সম্পর্কের সমীকরণটা ঠিক কেমন। না হলে তো তোকেই নিতেন তিনি। আমি মা’কে না ও করেছিলাম, কিন্তু মা জোর করলেন। বিশ্বাস কর, আমি একদম বাধ্য হয়ে...'

বিকেল ওর হাতটা হালকা ঝামটা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, 'ইটস ওকে! আমি যাওয়ার জন্য মোটেও পাগল হয়ে যাইনি। তুই যা, ঘুরে আয়। আমি একদম ঠিক আছি।'

তৃপ্তি একটু বিদ্রূপের হাসি হেসে বলল, 'তুই কতটা ঠিক আছিস, তা তোর চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।'

'বেশি বুঝবি না একদম।'

'আচ্ছা ঠিক আছে, বুঝব না। তাহলে একটা সত্যি কথা বল তো...'

'কী?'

'আমার ওপর কি তুই রেগে আছিস?'

বিকেল কোনো উত্তর দিল না। দু’হাত ভাঁজ করে গাল ফুলিয়ে অভিমানে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রইল।

তৃপ্তি এবার বেশ বিরক্ত হলো। বিছানায় ধপাস করে শরীরটা ছেড়ে দিয়ে আধশোয়া হয়ে গজরগজর করতে লাগল, 'এই যে, এই কারণেই আমার কিছুই ভালো লাগে না! আমি কী দোষটা করলাম বল? সব সময় আমার ওপর দিয়েই তোর ঝাল ঝাড়তে হয়। অযথাই ভুল বুঝবি আর রেগে থাকবি। ধুত... আমি যাবোই না কোথাও!'

তৃপ্তির এই অসহায় রাগ দেখে বিকেল কিছুটা নরম হয়ে আসে। পা ফেলে কাছে এসে বসল বিছানার এক কোণে। কণ্ঠস্বর নিচু করে বলে, 'সরি।'

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল পরপর, অসহায়ত্ব নিয়ে আওড়ে চলে, 'জানিস তৃপ্তি, আমার কিছুই ভালো লাগছে না। চারপাশটা কেমন এলোমেলো আর ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মানুষটা চলে যাবে — আমি ভাবতেই পারছি না। ওকে ছাড়া আমি থাকব কী করে, বল তো?'

তৃপ্তি উঠে বসে বিকেলের কাঁধে হাত রাখল এ পর্যায়ে। সান্ত্বনা দিয়ে বলল, 'শোন, তুই তাকে নিয়ে এতটা পসেসিভ আগে তো ছিলি না, পরে হয়েছিস। এখন সে চলে যাচ্ছে বলে তোর যেমন কষ্ট হচ্ছে, কিছুদিন গেলে আবার তাকে ছাড়াই থাকতে শিখে যাবি। মাঝে মাঝে একটা দীর্ঘশ্বাস হয়তো পড়বে, কিন্তু বুক ভাঙা কষ্টটা আর থাকবে না।'

বিকেল ভ্রু কুঁচকে তাকাল, 'তুই ঠিক কী বোঝাতে চাইছিস?'

তৃপ্তি ধীর স্থির গলায় বোঝালো, 'মানুষ সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই সয়ে নিতে পারে বিকেল। কেউ যখন অভ্যাস হয়ে যায়, তখন যেমন মায়া বাড়ে, তেমনি আবার সেই অভ্যাস ভেঙে ফেলতেও মানুষ জানে। তুই অযথাই চিন্তা করছিস। একটু বাস্তববাদী হ, দেখবি সব ইজি মনে হচ্ছে।'

কথাগুলো বিকেলের মনে কোনো প্রলেপ লাগাতে পারল না, উল্টো বুকের ভেতরটা কেমন খচখচ করে উঠল। কোনো প্রতিবাদ না করে সে শুধু গুমোট মুখে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। এক অদ্ভুত শূন্যতা তাকে গ্রাস করছে। এখন যেন কোনো কিছুই আর ভালো লাগার মতো অবশিষ্ট নেই। একটা বোমা দিয়ে দু-তিনটে এলাকা উড়িয়ে দিতে পারলে হৃদয়ে একচিলতে শান্তি মিলতো, বোধহয়!

বিকেল আর ঘর থেকে বেরোলো না। একরাশ অন্ধকারকে সঙ্গী করে বিছানায় উবু হয়ে পড়ে রইল পুরোটা সন্ধ্যা। মনের ভেতর চলছে ভাঙাগড়ার শব্দ, যেন এক অদৃশ্য জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসছে তার দিকে। ঠিক তখনই নিচের প্রধান ফটকের সামনে থেকে হইহুল্লোড়ের শব্দ ভেসে আসে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক দুর্নিবার আকর্ষণে সে উঠে দাঁড়াল বারান্দায়। অন্ধকারের আড়ালে নিজেকে এমনভাবে লুকিয়ে রাখল, যেন বুনো লতাগুল্মের আড়ালে কোনো আহত পাখি ডানা গুটিয়ে বসে আছে। কেউ যেন বুঝতে না পারে, এই চলে যাওয়ার মিছিলে তার বুকের ভেতরটা এক বিষাদসিন্ধু হয়ে উঠেছে।

জল টলমল চোখে সে নিচে তাকিয়ে একবার দেখে নিল সবাইকে। বড় বাবা, বড় মা, মিশি, রোদ্দুর, মেহেরজান আর তৃপ্তি। দূর থেকে দৃশ্যটাকে তার মনে হলো এক নিখুঁত ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ — সুখী পরিবারের জীবন্ত ফ্রেম। অথচ এই ফ্রেমের কোথাও বিকেলের কোনো ঠাঁই নেই। এই শব্দটা বিষাক্ত তীরের মতো তার মস্তিষ্কে এসে হানা দিল সহসাই।

গাড়ি স্টার্ট হলো। একে একে মিশি, মেহেরজান, রেহনুমা আর বড় বাবা গিয়ে বসলেন যান্ত্রিক সেই খাঁচায়। বিকেলের বুকের ভেতরটা অবাধ্য ঢাকের মতো ধুকপুক করছে অজান্তেই। অজানিত এক আশঙ্কায় তার দৃষ্টি স্থির হয়ে রইল পরের দৃশ্যগুলোর ওপর। গাড়ির কাঁচ নামিয়ে উমেদ মির্জা রোদ্দুরকে কিছু একটা নির্দেশ দিলেন, যা ওপর থেকে শোনা গেল না।

কিন্তু ঠিক পরমুহূর্তেই বিকেলের ছোট্ট হৃদপিণ্ডের ওপর এক সহস্র মণের পাথর আছড়ে পড়ল মনে হয়। দেখল, রোদ্দুরের বাইকের পেছনের সিটে বেশ আয়েশ করে চেপে বসেছে তৃপ্তি। বিকেলের সন্দিহান ও প্রেমাতুর চোখে মনে হলো, তৃপ্তি বুঝি একটু বেশিই ঘনিষ্ট হয়ে বসেছে। মুহূর্তেই চাকার শব্দ তুলে ধুলো উড়িয়ে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল সবাই।

বিকেলের শরীরটা অসাড়, পাথরের মতো ভারী। এক অসহ্য চাপা কষ্ট ধীরে ধীরে তার মনের কার্নিশে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। বুকের আকাশে এতক্ষণ ধরে যে কালো মেঘেরা চক্কর কাটছিল, তারা অবশেষে বিজয়ী হলো। বাঁধভাঙা শ্রাবণের মতো দু’চোখ ছাপিয়ে বৃষ্টি নেমে এল মেয়েটার।

নিজেকে আর সামলাতে পারল না বিকেল। দু’হাতে মুখ ঢেকে অন্ধকার বারান্দায় দাঁড়িয়ে হু হু করে কেঁদে উঠল সে।

★★★

আইরিন বিরামহীন হাতে রাতের আহারের আয়োজন সাজিয়ে চলেছেন। সময়ের পলেস্তারা খসে খসে তাঁর মনের দেয়ালে এখন কিছুটা প্রলেপ পড়েছে। জেদ বা অভিমানগুলো এখন ফিকে হয়ে আসা বিকেলের রোদের মতো ম্লান। আপ্রাণ চেষ্টা করেন ছেলে আর তপ্ত রোদের মতো আসা নতুন পুত্রবধূকে আপন করে নেওয়ার এক চিলতে শীতল ছায়া হতে। আদিবার সঙ্গে যখনই পথে বা অলিন্দে দেখা হয়, আইরিন কথা বলার জন্য দু-একটি শব্দের সুতো ছাড়েন; কিন্তু আদিবা বুঝি একলা দ্বীপের বাসিন্দা, বড্ড বেশি ঘরকুনো।

সারাদিন নিভৃত কুঠুরিতে বসে সে কী মায়া বুনে চলে, আইরিন তা বুঝে উঠতে পারেন না। এমনকি খাওয়ার সময়টুকুতেও সে নিজেকে আড়াল করে রাখে ঘরের চার দেয়ালের আবরণে। তবে মেয়েটির নৈপুণ্য নিয়ে আইরিনের মনে গোপন বিস্ময় আছে। যতবার ওদের ঘরের চৌকাঠ মাড়িয়েছেন, সবকিছুকে এক অদ্ভুত জাদুকরী শৃঙ্খলায় বাঁধা দেখেছেন। তাঁর মনে ক্ষণিক মেঘের মতো একটা জিজ্ঞাসা উঁকি দেয়, 'শামুক যেমন তার খোলসটুকু পরিপাটি রাখে, এই মেয়েটিও কি তবে তাই?' তবে সংসারের বৃহৎ যজ্ঞে সে কেন একটুখানি ঘৃতাহুতি দেয় না? অবশ্য আইরিন আগ বাড়িয়ে কোনো শব্দের জাল বোনেন না। যার ইচ্ছে হবে সে আপন তাগিদেই শিখা হয়ে জ্বলবে, অন্যথায় এ বাড়ির বিশাল হেঁশেলের চাকা তো কারো অপেক্ষায় থমকে থাকার পাত্র নয়।

এ বাড়ির রান্নাঘরটা এক বিশাল নাট্যমঞ্চ। দুটি বিশাল কক্ষকে একীভূত করে গড়ে তোলা এই অন্দরমহলে সবার হাঁড়ি আলাদা হলেও আগুনের উৎস একই। এখানে ধোঁয়া আর মশলার গন্ধে ইতিহাস রচিত হয় রোজ।

আইরিন গভীর মনোযোগে কাঁচামরিচ বাছছিলেন; সবুজ ঝালের তীক্ষ্ণ ঘ্রাণে চারপাশ ম ম করছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আদিবা গুটিগুটি পায়ে এসে আগলে দাঁড়াল হেঁশেলের বিশাল প্রবেশদ্বার। তার উপস্থিতিটা যেন নিস্তরঙ্গ দিঘির জলে হঠাৎ খসে পড়া এক নীলপদ্ম। আইরিন মুখ তুলে তাকাতেই সম্বিৎ হারালেন। তাঁর আজন্ম লালিত গাম্ভীর্য ভেদ করে বিস্ময়মাখা এক অস্ফুট সুর বেরিয়ে এল,

'আরে, তুমি?'

অস্বস্তিতে গাঢ় হয়ে আদিবা মাথা ঝাঁকাল, 'জি আম্মা।' পরমুহূর্তেই অনুমতি চায়, 'ভেতরে আসব?'

'এসো এসো। কিছু প্রয়োজন?'

আদিবা দু'দিকে মাথা ঝাঁকিয়ে উত্তর করে, 'জি না আম্মা।'

'তাহলে?'

এবার একটু সময় নেয় মেয়েটা। সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেবার বদলে কীভাবে সহজে এখানে আসার কারণটি উল্লেখ করা যায়, তাই ভেবে চলে মনে মনে। তারপর নিস্তব্ধতা কাটিয়ে শ্বাশুড়ির চকিত মুখপানে চেয়ে নরম করে শুধায়, 'আপনার কাজে সাহায্য করতে চাই।'

এ কথায় ভদ্রমহিলা খুশি হলেন না নারাজ; ঠিক আন্দাজ করা গেল না। তিনিও নীরবে মাথা ঝাঁকালেন। কণ্ঠে নমনীয়তা রেখে বললেন, 'কি সাহায্য করতে পারবে? ঘরের সব কাজকর্ম শিখেছ?'

আদিবা জড়তার খোলস ছেড়ে ধীরপায়ে আরও কিছুটা এগিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বর ছেপে ভোরের শিশিরের মতো এক প্রকার নম্রতা বিরাজমান, 'জি, মোটামুটি পারি। বাড়িতে মা আর চাচীদের সঙ্গে প্রায়ই হাতের কাজ করতাম।'

'তাই নাকি? তবে তো বেশ হলো! জানো, আমার একটা কন্যাসন্তানের বড় বেশি হাহাকার ছিল মনে। আজ মনে হচ্ছে, সেই অপূর্ণতার মেঘ বুঝি এবার কাটতে শুরু করেছে।'

আদিবা এই ভারী কথার পিঠে কোনো শব্দ খরচ করল না; কেবল ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির এক রেখা ফুটিয়ে তুলল। আলগোছে পড়ে থাকা বেগুনগুলোর গায়ে আঙুল বুলিয়ে শুধাল, 'এগুলো কি আজ রান্না করবেন?'

আইরিন ঘাড় ঘুরিয়ে সস্নেহে তাকালেন, 'হ্যাঁ, ভাজি করব। সৌম্যর ভীষণ পছন্দ।'

'আমি তবে কেটে দিই?'

'গোল করে কাটলে দেখতে ভালো লাগে।'

আদিবা বটি নিয়ে বসল। তাক থেকে দুটো পেঁয়াজও তুলে নিল সে; বেগুন ভাজির সাথে মুচমুচে পেঁয়াজ আর শুকনো মরিচ পোড়া — জমে যাবে পুরোই! ঠিক তখনই হেঁশেলের দরজায় এক দীর্ঘ ছায়া পড়ে। লতা ভেতরে ঢুকলেন। আইরিন অবাক হয়ে চাইলেন, 'কি ব্যাপার! তুমি যাওনি?'

কর্মরত আদিবার উপর আঁড়চোখা দৃষ্টিপাত নিক্ষেপ করলেন তিনি। তারপর নির্লিপ্ত গলায় বললেন, 'না। ওরা পারিবারিক ভ্রমণে যাচ্ছে, সেখানে আমি যাবো কোন দুঃখে।'

আইরিন ভ্রু কুঁচকালেন, 'সেকী! তৃপ্তিকে তো দেখলাম যেতে। আমি ভেবেছিলাম তোমরা সবাই মিলে যাচ্ছ।'

'সবাই হলে তো তোকে বলতামই। তৃপ্তি কি আর আমার বাড়ির মেয়ে আছে? সে তো অনেক আগেই ওই বাড়ির স্থায়ী বাতি হয়ে গেছে।'

আইরিন কথার গূঢ় অর্থ বুঝতে পেরে নীরব হয়ে গেলেন। লতা সিঙ্কে রাখা এঁটো থালাবাসন ধুতে শুরু করলেন। আদিবা সবজি কাটা শেষ করে পাশের সিঙ্কে পানি ছাড়ল। নিস্তব্ধতা ভাঙতে আইরিন আবারও বলে উঠলেন, 'তবু, রোদ্দুরের মতামতটা একবার খতিয়ে দেখা উচিত ছিল তোমাদের।'

এ যেন তপ্ত তেলে জলের ছিটে! লতা ঝামটা দিয়ে উঠলেন, 'ওর আবার মতামত কিসের? ও কি ভালোমন্দের হদিশ পায়? বড় ভাইজান কবে থেকে কথা দিয়ে রেখেছেন। এখন বিদেশ-বিভুঁই থেকে ফিরে এসে সে ভেজাল মেনে নেবে নাকি? ও সেখানে পড়ে আছে কি সাধ করে?'

আইরিন শান্ত স্বরে পালটা উত্তর দিলেন, 'তবু, দুটো প্রাণের একত্রে ঘর বাঁধার প্রশ্ন। দিনশেষে ওরা যদি মনে শান্তি না পায়, তবে আমাদের জেদের কী ফায়দা?'

'ভালোই থাকবে,' লতার কণ্ঠে তিরের তীক্ষ্ণতা প্রকাশ পেল, 'মতিভ্রম হয়েছে ওর, কদিন বাদে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি তো আর ফেলনা কিছু গছিয়ে দিচ্ছি না। একটু সময়ের অপেক্ষা শুধু। আর আইরিন, তুই বরং নিজের সংসারে মন দে। ভালো ছেলেটার মাথা চিবিয়ে কী এক উটকো ঝামেলা এসে জুড়ে বসল, আর তোরা হাসিমুখে মেনে নিলি! একবারও ভাবলি না এর পরিণতি? সৌম্যটা কেমন বদলে গেছে দেখছিস? যে ছেলে চোখ তুলে কথা বলত না, সে এখন মুখে মুখে তর্ক করে...'

আইরিন দমে গেলেন। লতার প্রতিটি কথা অদৃশ্য চাবুকের মতো আদিবার পিঠে এসে লাগল। মেয়েটা মাথা নিচু করে নিজের অস্তিত্বকে ছোট করে ফেলল; লজ্জায় আর অপমানে তার ভেতরে র:ক্তক্ষরণ হতে লাগল। আইরিন পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে চোখের ইশারায় আদিবাকে চলে যেতে বললেন।

আদিবা মুক্তি পেল। হেঁশেল ছেড়ে বেরিয়ে সে বড় একটা নিঃশ্বাস টেনে নেয়। বুকটা তার কাঁপছে। অপমানের তিতা স্বাদ ছাপিয়েও মন বাড়িতে এক অদ্ভুত কু ডাকে- এই বিশাল দালানের চাকচিক্যের অন্তরালে কোনো এক গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে।

★★★

বারান্দার চৌকাঠে হঠাৎ এক দীর্ঘ ছায়া আছড়ে পড়ে। বিষণ্নতার অতলে ডুবে থাকা বিকেল সেই ছায়া দেখে চমকে উঠল; বুকের ভেতরটা মুহূর্তের জন্য থমকে গেল তার। অবিশ্বাস মাখা কাঁপা গলায় মেয়েটা শুধাল, 'আপনি?'

অন্ধকারের বুক চিরে আগন্তুকের ফিসফিসানি ভেসে এল, 'চুপ!' পরক্ষণেই একটি হাত বাড়িয়ে দিয়ে আদেশের সুরে ডাকল, 'উঠে আয়।'

বিকেলের বিস্ময় কাটার নয়। সে পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে রইল, বাড়িয়ে ধরা আশ্রয়ের হাতটি স্পর্শ করার কথা তার স্মরণেও এল না। আগন্তুক কিছুটা বিরক্তই হয় বুঝি। ঝড়ের বেগে এগিয়ে এসে ফ্লোর থেকে টেনেহিঁচড়ে তোলে বিকেলকে। ভড়কে যাওয়া বিকেল যখনই কিছু বলতে চাইল, অমনি এক বলিষ্ঠ থাবা তার ওষ্ঠাধর চেপে ধরল। কানের কাছে মুখ নামিয়ে তপ্ত শ্বাসে বলে উঠল সে, 'একদম চুপচাপ বাইরে বেরিয়ে আয়। তোর হাতে মাত্র এক মিনিট সময়! এই সময়ের ভেতর না এলে আমায় আর কোনোদিন কোথাও খুঁজে পাবি না, কোনোদিন না।'

পরপরই থেমে চিকন সুরে আওড়ালো আগন্তুক,

'এতো প্রেমে তুমি জড়ালে

এমন ভালো কেউ বাসবে না

এতো মায়া তুমি ছড়ালে

তোমার পরে কেউ আসবে না...'

'মানে কী!' বিকেলের প্রশ্নটা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই আগন্তুক যে পথে এসেছিল, ঠিক সে পথেই মিলিয়ে গেল অন্ধকারের গহীনে।

বিকেল কয়েকবার অস্ফুটে ডাকল, কিন্তু নিস্তব্ধতা ছাড়া কোনো উত্তর মিলে না। এক অদ্ভুত সম্মোহনী মায়ার টানে সে দিশেহারা বোধ করে। বিছানা থেকে চাদরটা টেনে নিল দ্রুত হাতে, তাড়াহুড়োয় ওড়না পরার কথা মাথায় এল না। সেই চাদরটাই গায়ে-মাথায় কোনোমতে পেঁচিয়ে পিছু নিল সেই ছায়ার।

পেছনে পড়ে রইল অগোছালো ঘর আর হাট করে খোলা দরজা। আদিবা এসেছিল বিকেলের খোঁজে, কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে আবিষ্কার করে, এ ঘরে কেউ নেই! পুরোপুরি শূন্য!

(চলবে)

______

বেশি বেশি রেসপন্স করুন!

৯০০ রিয়েক্ট হয়ে গেলেই পরের পর্ব পেয়ে যাবেন, ইনশা আল্লাহ, এছাড়াও সুন্দর সুন্দর মন্তব্য চাই ❤️🥀

এই পোস্টটা সবাই দেখবেন দয়া করে - https://www.facebook.com/share/p/1AhXrCT1mX/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন